আরবের দেশে দেশে যে গণবিক্ষোভের ঢেউ লেগেছে তা নিশ্চয়ই আপনারা ফলো করছেন। বাংলা পত্র-পত্রিকা-ব্লগ-ম্যাগাজিনগুলোতে এই ঘটনার 'খবর' ছাড়া আর কোন গভীর বিশ্লেষণ আমার চোখে পড়েনি। সম্ভবত আমি মিস করে গেছি। কিন্তু ব্যাপক আলাপ-আলোচনা হলে নিশ্চয়ই তা চোখ এড়াতো না।
এর মানে কি বাংলাদেশে এই ঘটনার কোন ইম্পলিকেশন নেই? বাংলাদেশের গণমানুষের মনে কোন প্রভাব পড়ছে না বা পড়বে না এর? এত বড় একটা চলমান ঘটনা, বাংলাদেশের মতো দেশে যেখানে ৪৯.৮% মানুষ প্রতিদিন খাদ্যাভাবে থাকে, সেখানে কোন প্রভাব না ফেলেই পারে না। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, মনোপলি পুঁজির কুক্ষিগত মিডিয়া মানুষের মানসপটে এর ছোঁয়া লাগতে দিতে নারাজ।
তিউনিসিয়া ও মিশরের দুর্দান্ত অভ্যুত্থানের পর এবার লিবিয়ায় শুরু হয়েছে 'বিদোহ'। পশ্চিমা বিশ্ব একে গৃহযুদ্ধ বলে প্রচার করতে প্রাণপাত করছে। জাতিসংঘ ও ইইউ ইতিমধ্যেই স্যাংকশন ইম্পোজ করেছে। পশ্চিমা দেশগুলো বাজেয়াপ্ত করতে শুরু করেছে তাদের দেশে থাকা লিবিয়ার সম্পদ। পূর্বাঞ্চলের একাংশ বিদ্রোহীদের দখলে। সরকারী বাহিনী তা পুনঃরুদ্ধারের জন্য আজ থেকে পাল্টা-আক্রমণ শুরু করেছে।
কেমন যেন অস্বাভাবিক মনে হচ্ছে। বিপ্লবের নায়ক গাদ্দাফি কি নিজ দেশের নাগরিকদের এভাবে সাপ্রেস করবেন? যেই লোক ঔপনিবেশিক প্রভুদের হাত থেকে মুক্ত করে লিবিয়াকে ঐক্যবদ্ধ করলেন, ব্যাপক সংস্কার করলেন রাষ্ট্রীয় অর্থনৈতিক নীতি, অর্জন করলেন অভূতপূর্ব হিম্যান ডিভালাপমেন্ট ইন্ডেক্স রেটিং, এ্যাক্টিভলি সমর্থন করলে দেশে দেশে স্বাধীকারের আন্দোলন, নিজের দেশের রাজতন্ত্র হটিয়ে চালু করলেন ডিরেক্ট ডেমোক্রেসী - তাকে কি ডিক্টেটর বলা চলে? তাকে কি ধাই করে বলা যায় বিদায় হও? প্রসঙ্গতঃ আপনার নিশ্চয়ই অবগত আছেন যে গাদ্দাফি প্রেসিডেন্টও নন প্রধানমন্ত্রীও নন, সুতরাং কোথা থেকে চলে যাবেন তিনি?
এদিকে আমেরিকার যুদ্ধবিমানবাহী নৌবহর সুয়েজ খালের কাছাকাছি চলে এসেছে। ব্রিটেইনের মিলিটারি একেবারে প্রস্তুত, ফ্রান্স ইতিমধ্যেই ঢুকে পড়বে পড়বে করছে। জাতিসংঘ হঠাৎ ব্যাপক তৎপর হয়ে উঠেছে, হিউম্যান রাইটস কাউন্সিলে লিবিয়ার সদস্যপদ স্থগিত করেছে। পশ্চিমা বিশ্ব আরেক ইরাক যুদ্ধের দিকে যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। আরবদেশগুলোতে গণবিক্ষোভের ঢেউ কাঁপিয়ে দিয়েছে সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলোর 'স্ট্যাবিলিটির' ধারণা। কিন্তু এত সহজে হটে যাবার কোন কারণ নেই গত শতকজুড়ে কয়েকশ' যুদ্ধ বাঁধানো সাম্রাজ্যবাদের।
এখানে আরো একটা বিষয় মাথায় রাখা দরকার - পিক অয়েল। সভ্যতার শক্তির মূল উত্স অনবায়নযোগ্য খনিজ পেট্রোলিয়ামের উৎপাদন এখন কমতির দিকে, এই গ্রহের অভ্যন্তরের থাকা তেলের সর্বোচ্চ উৎপাদন ক্ষমতা ছাড়িয়ে এসেছি আমরা। এ নিয়ে তোলপাড় চলছে পশ্চিমা বিশ্বে। এতদিন স্বীকার না করলেও আমেরিকাও এখন স্বীকার করছে পিক অয়েলের কথা। ব্রিটেইন একটি সংসদীয় কমিটি করেছে।
এ অবস্থায় তেল উৎপাদনকারী আরব দেশগুলোতে যদি গণতান্ত্রিক শক্তির উত্থান ঘটে তাহলে তা প্রবল মাথাব্যাথার কারণ বটে। সুতরাং তেলের সরবরাহ নিশ্চিত রাখতে হবে। এ নিয়ে বেয়াড়া লিবিয়াকে আয়ত্ব করার জন্য 'গন-অভ্যুত্থানের' মোড়ক ব্যবহার কথা সাম্রাজ্যবাদী শক্তি না ভেবেই পারে না।
বিক্ষোভ শুরুর দিনই বিক্ষোভকারীরা কি করে মেশিনগান নিয়ে রাস্তায় নেমে গেল, কোথায় পেল এন্টি-এয়ারক্রাফট অস্ত্র যা দিয়ে মিলিটারীর বিমান ভূপাতিত করলো, কেন পশ্চিমা মিডিয়া তোলপাড় শুরু করলো মানবাধিকার মানবাধীকার বলে - এসব প্রশ্নের ফয়সালা হওয়া জরুরী।
বন্ধু ব্লগার "প্রশ্নোত্তর" এভাবে ভেবেছেন। আর আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে আমরা কে কিভাবে ভাবছি সেটা প্রশ্নোত্তর জানতে চাইছেন। আমি লেখাটি হুবহু পোস্ট করলাম। এখানে আমার মতামত দেয়া হলো না। আমার যে যে ক্ষেত্রে দ্বিমত আছে তা আমি পোস্টে একর পর এক আপডেট করতে থাকব ব্রাকেট বন্দী করে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


