somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

লিবিয়ার গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আমেরিকা-ব্রিটেন-ফ্রান্সের স্বার্থ কি? তিউনিসিয়া-মিশরে নিশ্চুপ, এখানে সরব কেন?

১০ ই মার্চ, ২০১১ রাত ১২:১১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আরবের দেশে দেশে যে গণবিক্ষোভের ঢেউ লেগেছে তা নিশ্চয়ই আপনারা ফলো করছেন। বাংলা পত্র-পত্রিকা-ব্লগ-ম্যাগাজিনগুলোতে এই ঘটনার 'খবর' ছাড়া আর কোন গভীর বিশ্লেষণ আমার চোখে পড়েনি। সম্ভবত আমি মিস করে গেছি। কিন্তু ব্যাপক আলাপ-আলোচনা হলে নিশ্চয়ই তা চোখ এড়াতো না।

এর মানে কি বাংলাদেশে এই ঘটনার কোন ইম্পলিকেশন নেই? বাংলাদেশের গণমানুষের মনে কোন প্রভাব পড়ছে না বা পড়বে না এর? এত বড় একটা চলমান ঘটনা, বাংলাদেশের মতো দেশে যেখানে ৪৯.৮% মানুষ প্রতিদিন খাদ্যাভাবে থাকে, সেখানে কোন প্রভাব না ফেলেই পারে না। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, মনোপলি পুঁজির কুক্ষিগত মিডিয়া মানুষের মানসপটে এর ছোঁয়া লাগতে দিতে নারাজ।

তিউনিসিয়া ও মিশরের দুর্দান্ত অভ্যুত্থানের পর এবার লিবিয়ায় শুরু হয়েছে 'বিদোহ'। পশ্চিমা বিশ্ব একে গৃহযুদ্ধ বলে প্রচার করতে প্রাণপাত করছে। জাতিসংঘ ও ইইউ ইতিমধ্যেই স্যাংকশন ইম্পোজ করেছে। পশ্চিমা দেশগুলো বাজেয়াপ্ত করতে শুরু করেছে তাদের দেশে থাকা লিবিয়ার সম্পদ। পূর্বাঞ্চলের একাংশ বিদ্রোহীদের দখলে। সরকারী বাহিনী তা পুনঃরুদ্ধারের জন্য আজ থেকে পাল্টা-আক্রমণ শুরু করেছে।

কেমন যেন অস্বাভাবিক মনে হচ্ছে। বিপ্লবের নায়ক গাদ্দাফি কি নিজ দেশের নাগরিকদের এভাবে সাপ্রেস করবেন? যেই লোক ঔপনিবেশিক প্রভুদের হাত থেকে মুক্ত করে লিবিয়াকে ঐক্যবদ্ধ করলেন, ব্যাপক সংস্কার করলেন রাষ্ট্রীয় অর্থনৈতিক নীতি, অর্জন করলেন অভূতপূর্ব হিম্যান ডিভালাপমেন্ট ইন্ডেক্স রেটিং, এ্যাক্টিভলি সমর্থন করলে দেশে দেশে স্বাধীকারের আন্দোলন, নিজের দেশের রাজতন্ত্র হটিয়ে চালু করলেন ডিরেক্ট ডেমোক্রেসী - তাকে কি ডিক্টেটর বলা চলে? তাকে কি ধাই করে বলা যায় বিদায় হও? প্রসঙ্গতঃ আপনার নিশ্চয়ই অবগত আছেন যে গাদ্দাফি প্রেসিডেন্টও নন প্রধানমন্ত্রীও নন, সুতরাং কোথা থেকে চলে যাবেন তিনি?

এদিকে আমেরিকার যুদ্ধবিমানবাহী নৌবহর সুয়েজ খালের কাছাকাছি চলে এসেছে। ব্রিটেইনের মিলিটারি একেবারে প্রস্তুত, ফ্রান্স ইতিমধ্যেই ঢুকে পড়বে পড়বে করছে। জাতিসংঘ হঠাৎ ব্যাপক তৎপর হয়ে উঠেছে, হিউম্যান রাইটস কাউন্সিলে লিবিয়ার সদস্যপদ স্থগিত করেছে। পশ্চিমা বিশ্ব আরেক ইরাক যুদ্ধের দিকে যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। আরবদেশগুলোতে গণবিক্ষোভের ঢেউ কাঁপিয়ে দিয়েছে সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলোর 'স্ট্যাবিলিটির' ধারণা। কিন্তু এত সহজে হটে যাবার কোন কারণ নেই গত শতকজুড়ে কয়েকশ' যুদ্ধ বাঁধানো সাম্রাজ্যবাদের।

এখানে আরো একটা বিষয় মাথায় রাখা দরকার - পিক অয়েল। সভ্যতার শক্তির মূল উত্স অনবায়নযোগ্য খনিজ পেট্রোলিয়ামের উৎপাদন এখন কমতির দিকে, এই গ্রহের অভ্যন্তরের থাকা তেলের সর্বোচ্চ উৎপাদন ক্ষমতা ছাড়িয়ে এসেছি আমরা। এ নিয়ে তোলপাড় চলছে পশ্চিমা বিশ্বে। এতদিন স্বীকার না করলেও আমেরিকাও এখন স্বীকার করছে পিক অয়েলের কথা। ব্রিটেইন একটি সংসদীয় কমিটি করেছে।

এ অবস্থায় তেল উৎপাদনকারী আরব দেশগুলোতে যদি গণতান্ত্রিক শক্তির উত্থান ঘটে তাহলে তা প্রবল মাথাব্যাথার কারণ বটে। সুতরাং তেলের সরবরাহ নিশ্চিত রাখতে হবে। এ নিয়ে বেয়াড়া লিবিয়াকে আয়ত্ব করার জন্য 'গন-অভ্যুত্থানের' মোড়ক ব্যবহার কথা সাম্রাজ্যবাদী শক্তি না ভেবেই পারে না।

বিক্ষোভ শুরুর দিনই বিক্ষোভকারীরা কি করে মেশিনগান নিয়ে রাস্তায় নেমে গেল, কোথায় পেল এন্টি-এয়ারক্রাফট অস্ত্র যা দিয়ে মিলিটারীর বিমান ভূপাতিত করলো, কেন পশ্চিমা মিডিয়া তোলপাড় শুরু করলো মানবাধিকার মানবাধীকার বলে - এসব প্রশ্নের ফয়সালা হওয়া জরুরী।

বন্ধু ব্লগার "প্রশ্নোত্তর" এভাবে ভেবেছেন। আর আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে আমরা কে কিভাবে ভাবছি সেটা প্রশ্নোত্তর জানতে চাইছেন। আমি লেখাটি হুবহু পোস্ট করলাম। এখানে আমার মতামত দেয়া হলো না। আমার যে যে ক্ষেত্রে দ্বিমত আছে তা আমি পোস্টে একর পর এক আপডেট করতে থাকব ব্রাকেট বন্দী করে।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই ডিসেম্বর, ২০১৬ রাত ১১:৩৭
২৪টি মন্তব্য ২৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

লিখেছেন নতুন নকিব, ১১ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০৩

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

মানুষের জীবন মূলত অসংখ্য ছোট-বড় সিদ্ধান্তের সমষ্টি। প্রতিটি বাঁকে, প্রতিটি মোড়ে আমাদের কোনো না কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

লিখেছেন আঘাত প্রাপ্ত একজন, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

[সম্ভাবনার ক্রমানুসারে নয়ঃ]

আর্জেন্টিনা: আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ তার ডিফেন্স আর ইনজুরি । ৩৮ বছরের তরুণ(!) সেন্টারব্যাক ওতামেন্দি আর কমপক্ষে এক হালি হাফ-ফিট ফুটবলার নিয়ে ১৯ জুলাই পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ শরৎ বন্দনা

লিখেছেন ইসিয়াক, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:৫৯


শরৎ এলেই আকাশ জুড়ে সাদা মেঘের ভেলা
দিনমণি আর মেঘমালার লুকোচুরি খেলা।

রুম ঝুমঝুম নূপুর পায়ে ছুটছে নদীর ঢেউ
ভাটিয়ালি গাইছে গান অচিন সুরে কেউ।

বিলে ঝিলে শাপলা পদ্ম... ...বাকিটুকু পড়ুন

×