এক শিক্ষকের উষ্মাঃ 'একুশ ফেকুশ বুঝিনা,ওসব আমার করেজে চরবে না...'
০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ দুপুর ১:৫২
ঘটনাটি ঘটেছে গত শনিবার সকালে। একুশের প্রথম প্রভাতে একটি সংকলন বের করবে এবং তার জন্য লেখা আহবান করে কক্সবাজারের একটি সাংস্কৃতিক সংগঠন জেলার বিভিন্ন স্কুল কলেজে পোস্টার প্রকাশ করে।যথারীতি চকরিয়া উপজেলার দুলাহাজারা কলেজের কিছু আগ্রহী শিক্ষার্থী একুশের এই প্রকাশনার ব্যাপারে সহযোগিতা করতে আসে এবং তারা কলেজটির দেয়ালে একটি পোস্টার সেঁটে দেয় যাতে আগ্রহী বন্ধুদের চোখে পড়ে। পোস্টারটি লাগানো মাত্রই কলেজের উপাধ্যক্ষ ফিরোজ আহমদ এসে নিজের হাতে তা ছিড়ে ফেরেন এবং ছাত্রদের উদ্দেশ্যে নানা কটুক্তিপুর্ণ মন্তব্য করেন। ঘটনার আকস্মিকতায় উপস্থিত ছাত্র ছাত্রীরা বিস্মিত,কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েন। কলেজের অধ্যক্ষ বাইরে থাকায় বিক্ষুব্ধ ছাত্র ছাত্রীরা বিষয়টি স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমকে অবহিত করে। সংবাদ পেয়ে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে ওই শিক্ষকের সাথে ফোনে আলাপ হলে একুশে সম্পর্কে তিনি তার ব্যক্তিগত আক্রোশ প্রকাশ করেন ঠিক এই ভাবে-'একুশে ফেকুশে বুঝিনা,ওসব আমার কলেজে চলবে না'।
এই উক্তি কিসের ইংিগত দেয়? তিনি ঐ উক্তি করেই কেবল ক্ষান্ত হননি, তিনি সাংবাদিককে জানিয়েছেন, তার কলেজের যারা ঐ একুশের প্রকাশনা এবং পোস্টার লাগানোর সাথে সম্পৃক্ত তাদেরকে তিনি দেখে নিবেন।
ঘটনার পরদিন তিনি সত্যি সত্যিই সংশ্লিষ্ঠ ছাত্র ছাত্রীদের তার কক্ষে ডেকে পাঠান এবং সাশিয়ে দেন। সেই সাথে ছাত্রদের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেন।
এসব ঘটনা স্থানীয় পত্র পত্রিকায় প্রকাশের পর জেলা ব্যাপী নিন্দার ঝড় উঠেছে। স্থানীয় সাহিত্য সংস্কৃতি কর্মীরা বিষয়টিকে মোটেই মেনে নিতে পারছেন না। তারা বলেছেন মহান ভাষার মাসে ভাষা দিবস নিয়ে ওই শিক্ষকের এমন কটুক্তিপুর্ণ বক্তব্য ভাষা আন্দোলন পক্ষান্তরে আমাদের মুক্তিযুদ্ধেরই বিরুদ্ধাচরণ। এই ঘটনা অত্যন্ত ন্যাক্কার জনক ঘটনা।
বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পরও প্রশাসন এ ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ নেয়নি। অথচ সচেতন মহল ওই শিক্ষকের শাস্তি দাবী করেছে।
আসুন আমরাও এর নিন্দা জানাই। ওই শিক্ষকের শাস্তি দাবী করি।রক্ত দিয়ে অর্জিত মহান ভাষা আন্দোলনের বিজয় প্রিয় মাতৃভাষার অবমাননা কোন ভাবেইহতে পারে না। ভুলুণ্ঠিত হতে পারে না আমাদের চেতনার আধার।
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): একুশে ;
অরুনাভ বলেছেন:
এদের শাস্তি হওয়া উচিৎ.........
নরাধম বলেছেন:
এই সরকারের আমলেই রাজাকারদের এমন আস্ফালন কেন বুঝিনা।
রাশেদ বলেছেন:
শালাদের বাড় বেশি বাড়ছে এই সরকারের সময়ে।
তৌফিক বলেছেন:
এইমাত্র চকরিয়ায় ফোন করলাম। ঘটনা সত্যি। উপাধ্যক্ষ ফিরোজ আহমদ জামায়াতের লোক বলে জেনেছি। স্থানীয় দৈনিকগুলোতে খবরটি আসলেও জাতীয় দৈনিকে সম্ভবত আসেনি। প্রথম আলোর স্থানীয় প্রতিনিধিকে বলেছি, এ বিষয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট করতে।
মানবী বলেছেন:
মনোজ মুকুট, আপনাকে একটি অনুরোধ জানাতে এসে পোস্টটি পড়া হলো।রাহেলা হত্যামামলার সুবিচারের দাবীতে কিছু কর্মসূচির বিষয়ে সম্ভব হলে জরুরী ভিত্তিতে ঠিকানায় আমাদের সাথে যোগাযোগের অনুরোধ রইলো।
পোস্টে অপ্রাসঙ্গিক মন্তব্যের জন্য দুঃখিত।


















