somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নারীদের প্রচলিত বোরখা পরিধান কোরআন সম্মত নয়

১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১১ বিকাল ৪:১৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দেশে প্রচলিত যে বোরখা পরিধান করা হয় তা কোরআন সম্মত নয়। পর্দা একটি ফার্সী শব্দ, যা আরবী ‌‍'হিজাব' শব্দের প্রতিশব্দ। পর্দা সম্পর্কে কোরআনে স্পষ্ট বলা আছে। আমরা নাবোঝার কারনে আজ ভুলণ্ঠিত, পথভ্রষ্ট। আমরা সাধারণত রাস্তা-ঘাটে যে বোরখা দেখতে পায় তা কি আদৌ শরিয়ত সম্মত? আল্লাহ কোরআনে কি বলেছেন সেটা দেখি। সূরা নূর ২৪:৩১ আয়াত
وَقُل لِّلْمُؤْمِنَاتِ يَغْضُضْنَ مِنْ أَبْصَارِهِنَّ وَيَحْفَظْنَ فُرُوجَهُنَّ وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَلْيَضْرِبْنَ بِخُمُرِهِنَّ عَلَى جُيُوبِهِنَّ وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا لِبُعُولَتِهِنَّ أَوْ آبَائِهِنَّ أَوْ آبَاء بُعُولَتِهِنَّ أَوْ أَبْنَائِهِنَّ أَوْ أَبْنَاء بُعُولَتِهِنَّ أَوْ إِخْوَانِهِنَّ أَوْ بَنِي إِخْوَانِهِنَّ أَوْ بَنِي أَخَوَاتِهِنَّ أَوْ نِسَائِهِنَّ أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُنَّ أَوِ التَّابِعِينَ غَيْرِ أُوْلِي الْإِرْبَةِ مِنَ الرِّجَالِ أَوِ الطِّفْلِ الَّذِينَ لَمْ يَظْهَرُوا عَلَى عَوْرَاتِ النِّسَاء وَلَا يَضْرِبْنَ بِأَرْجُلِهِنَّ لِيُعْلَمَ مَا يُخْفِينَ مِن زِينَتِهِنَّ وَتُوبُوا إِلَى اللَّهِ جَمِيعًا أَيُّهَا الْمُؤْمِنُونَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ
অর্থ: ঈমানদার নারীদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে নত রাখে এবং তাদের যৌন অঙ্গের হেফাযত করে। তারা যেন যা সাধারণতঃ প্রকাশমান, তা ছাড়া তাদের সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে এবং তারা যেন তাদের মাথার ওড়না বক্ষ দেশে ফেলে রাখে এবং তারা যেন তাদের স্বামী, পিতা, শ্বশুর, পুত্র, স্বামীর পুত্র, ভ্রাতা, ভ্রাতুস্পুত্র, ভগ্নিপুত্র, স্ত্রীলোক অধিকারভুক্ত বাঁদী, যৌনকামনামুক্ত পুরুষ, ও বালক, যারা নারীদের গোপন অঙ্গ সম্পর্কে অজ্ঞ, তাদের ব্যতীত কারো আছে তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে, তারা যেন তাদের গোপন সাজ-সজ্জা প্রকাশ করার জন্য জোরে পদচারণা না করে। মুমিনগণ, তোমরা সবাই আল্লাহর সামনে তওবা কর, যাতে তোমরা সফলকাম হও।

কোরআন বলছে নারীরদের পর্দা করতে হবে তবে যা দৃশ্যমান তা যেন তাদের দেখা যায়। দৃর্শমান বলতে আমরা কি বুঝবো? একটি নারী তার নিজ বাড়ীতে সাভাবিক অবস্থায় থাকলে, চলা ফেরা করলে যা দেখা যায়;সেটায় দৃশ্যমানন; যেমন দুই হাত, পায়ের কনুই পর্যন্ত এবং পুরো মূখমন্ডল এই গুলি'ই দৃশ্যমান। এই গুলি'ই দৃশ্যমান বলেই অজু করার সময় কেবলী দৃশ্যমান স্থান গুলি ধৌত করতে হয়। কারন এই গুলিতে কাজ কর্মের সময় সাধারণত ময়লা মাটি পড়ে। কিন্তু আমাদের দেশে নারীদের পায়ে মোজা, হাতে মোজা, এক কথায় আপদমস্তক ঢেকে রেখে কেবল চোখ দুটি দেখা যায়। শুধু যদি চোখ দুটি দেখা যাওয়ার কথা থেকে থাকে কোরআনে তাহলে অজুর সময় মেয়েদের জন্য কেবল চোখ ধোয়ার কথাই থাকতো, কারণ চোখ ছাড়া তাদের অন্য স্থান গুলিতে ময়লা পড়তো না। নূর সূরাটি স্পষ্ট বলে যা দৃশ্যমান তা ছাড়া তাদের অন্য্ সৌন্দর্য যেন তারা প্রদর্শন না করে। তাহলে আমরা দৃশ্যমান স্থান গুলি কেন পর্দা করি? মূখমন্ডল খোলা রাখার সম্পর্কে কেন বলা হয়েছে সে সম্পর্কে আগে ভালো করে জানতে হবে। চলূন সূরা আহযাব ২৫:৫৯ আয়াত দেখি কি বলে দেখি
يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ قُل لِّأَزْوَاجِكَ وَبَنَاتِكَ وَنِسَاء الْمُؤْمِنِينَ يُدْنِينَ عَلَيْهِنَّ مِن جَلَابِيبِهِنَّ ذَلِكَ أَدْنَى أَن يُعْرَفْنَ فَلَا يُؤْذَيْنَ وَكَانَ اللَّهُ غَفُورًا رَّحِيمًا
অর্থ:হে নবী! আপনি আপনার পত্নীগণকে ও কন্যাগণকে এবং মুমিনদের স্ত্রীগণকে বলুন, তারা যেন তাদের চাদরের কিয়দংশ নিজেদের উপর টেনে নেয়। এতে তাদেরকে চেনা সহজ হবে। ফলে তাদেরকে উত্যক্ত করা হবে না। আল্লাহ ক্ষমাশীল পরম দয়ালু।

এই সূরায় চাদরের কিয়দংশ নিজেদের উপর টেনে নেয়ার কথা বলেছে। এতে করে যেন তাদের চেনা সহজ হয় বলে উল্লেখ আছে; আবার বলেছে তাদের কেউ উত্যক্ত করা হবে না। তাহলে নারীকে চেনা গেলে উত্যক্ত করা হবে না বলতেকি তার সর্ব শরীর ঢেকে রাখতে বলেছে? নিশ্চয় নয়। এবার বলুন যতি কোন নারী পর্দা করতে তার মূখ মন্ডল ঢেকে কেবল চোখ দুটি বের করে রাখে তাহলে তাকে দেখেকি চেনা সম্ভব? আহযাবের এই আয়াতে চেনার কথা বলা হয়েছে। চোখ বাদে সব স্থান গুলি ঢাকলে একটি মানুষকে কি করে চেনা সম্ভব? আসলে একটি মানুষকে চিন্তে না পারলে বিপত্তিও হতে পারে। যেমন ধরুন কোন ব্যাক্তি নতুন বিয়ে করেছে তার বৌ এবং শালিকার একই উচ্চতা, দুই বোনেএকই রংয়ের বোরখা পরিধান করে কেবল চোখ বাদে পুরো শরীর ঢেকে রেখে চলা ফেরা করে। আবার দুই জনে একসঙ্গে বাইরে থেকে বাড়ী ফিরে এসে ঘরে প্রবেশ করলো এমন সময় সদ্য বিবাহিত স্বামী ভুল করে ভালো বেসে বৌ মনে করে শালিকাকে জড়িয়ে ধরতে পারে। আবার সমস্ত শরীর মূখ মন্ডল ঢেকে রাস্তা দিয়ে হাটছেন এমন সময় না চিনে নিজের পরিচিত জন'ই তাকে উত্যক্ত করতে পারে। যেমন আহযাব সূরায় এই আয়াতে বলা আছে, তাদের চেনা গেলে তাদেরকে উত্যক্ত করা হবে না। এই চেনা বলতে কি বোঝাচ্ছে কোরআন? নিশ্চয় চোখ বাদে পুরো মূখ মন্ডল ঢাকাকে বোঝায়নি? পুরো মূখ মন্ডল ঢাকলে কাউকে সহজে চেনা যায় না। আসলে কোরআন কে ভালো ভাবে অনুধাবন করতে হবে। কোরআনে একটি কথা অনেকবার বলেছে যে, এই কোরআন জ্ঞানিদের জন্য, এই কোরআন বোদ্ধাদের জন্য, এই কোরআন চিন্তাশীলদের জন্য। এখান থেকে জ্ঞনীদের জ্ঞান নেয়ার আছে, চিন্তাশীলদের চিন্তা করার আছে। আসলে কোরআন বুঝে পড়তে হবে সকলকে, তার চেয়ে বেশী পড়তে হবে আলেম ওলামাদের যারা চলতে ফিরতে মিলাদ মাহফিল, ওয়াজ নসিয়ত করতে গিয়ে মানুষকে বোঝান, তবেই সঠিখ পথের সন্ধান মিলবে। কোরআন বাদ দিয়ে অন্য গ্রন্থ্য নিয়ে চর্চা করলে কিংবা মূল গ্রন্থ বাদ দিয়ে অন্য কিতাব দিয়ে ফয়সালা করলে বিপত্তি থাকবে'ই। কোরআন বাদে অন্য কিতাব চর্চা করা কোরআন সম্মত নয় সূরা মায়েদা একটু দেখে নেই
সূরা মায়েদা ৪ঃ৪৪ হতে ৪৯ আয়াত
تَشْتَرُواْ بِآيَاتِي ثَمَنًا قَلِيلاً وَمَن لَّمْ يَحْكُم بِمَا أَنزَلَ اللّهُ فَأُوْلَـئِكَ هُمُ الْكَافِرُونَ
অর্থঃ যেসব লোক আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন, তদনুযায়ী ফায়সালা করে না, তারাই কাফের।

আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন বলতে আল্লাহ তার কিতাবের কথা;ই বলেছেন। আমাদের ফায়সালা করতে হবে আল্লাহর বিধান দিয়ে, অন্য কিতাব দিয়ে নয়। অন্য কিতাব কেবল গোমরাহ্ করবে কিন্তু সঠিক পথের সন্ধ্যান দিতে পারবে না। আসুন আল্লাহ আমাদের সবাইকে কোরআন বুঝে পড়ার তৌফিক দিক---আমিন
১৫টি মন্তব্য ১৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×