somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কি চমতকার দেখা গেল!এই নাকি বিশ্ববিদ্যাল ক্যাম্পাস আর তার ক্লাসরুম!

২৯ শে মার্চ, ২০১০ রাত ৮:১৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বিষয়টা নতুন নয়।তবে চমকপ্রদ।আমাদের দেশে গজিয়ে উঠেছে আজ হাজারখানেক প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যাল্যয়।যার না আছে কোন ক্যাম্পাস,না আছে সুস্থ পরিবেশ মানষিক বিকাশের।ক্যাম্পাস বলতে ঐ বিল্ডিংটা বা যে শপিং কমপ্লেক্সে সেটা গড়ে ঊঠেছে সেই শপিং কমপ্লেক্স এবং তার সিড়ি।

আর ক্লাসরুম?একটা উদাহরণ দিই।ড্যাফোডিলস ইন্টারন্যাশনাল য়ুনিভার্সিটি বেশ পরিচিত একটি বিশ্ববিদ্যালয়।দেশের প্রথম ৫টি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যাল্যের মধ্যে ১টি।এই বিশ্ববিদ্যালয়টির কোন ক্লাস রুমে কোন জানালা নেই।যদি বিদ্যুত চলে যায় চর্মচোখে কিছু দেখার উপায় নেই।অন্ধকারে কিচ্ছু দেখা যাবে না।জেনারেটর বা আইপিএস না চালানো পর্যন্ত।

গিয়েছিলাম এই য়ুনিভার্সিটির কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি (সিইসি)বিভাগের ক্লাস রুমে।গিয়ে খানিকটা তাজ্জব বনে গেলাম।

১টা অভিজ্ঞতার কথা বলি।বহুদিন আগে পুরান ঢাকার ইসলামপুর এলাকার কিংগাডারগার্টেন ১টা স্কুলে কয়েকদিন পড়িয়েছিলাম।স্কুলটা অনেক ভাল ছিল।যেসব বাচ্চাদের বর্নপরিচয় করান হয় মানে যারা কেজিতে পড়ে তাদের খুব যত্ন সহকারে পড়ান হয় সেখানে,তাদের ক্লাসরুমে আছে ১টা কম্পিটার।সিডি চালিয়ে পড়ান হয়।“অ” তে অজগরটি আসছে তেড়ে...বললে কম্পিউটারে সত্যি ই অজগরকে তেড়ে আসতে দেখা যায়।

ড্যাফডিলসের সিএসসির ক্লাস রুম দেখে ইসলামপুরের সেই বাচ্চাদের ক্লাস রুমের কথা মনে পড়ে গেল।১টা পার্থক্য ছাড়া আর কোন পার্থক্য নেই।পার্থক্যটা হল বাচ্চাদের ক্লাস রুমে ১টা কম্পিঊটার ছিল কিন্তু ড্যাফোডিলসের সিএসসি ক্লাস রুমে কোন কম্পিঊটার ই নেই।অদ্ভুত পরিস্থিতি।১জন শিখখার্থীকে ভর্তি হবার সময় প্রায় ৪ থেকে ৫ লক্ষ টাকা পরিষোধ করতে হয়।তাদের কি নূন্যতম মূল্যমানের ১টা কম্পিঊটার প্রাপ্য নয়?কিংবা ১টা সার্বক্ষনিক প্রযেক্টর?
কি হাস্যকর।আরো নির্মম হাস্যকর ব্যাপার হল শিক্ষার্তিদের সে চাহিদাও নেই।
এর মানে কি!১টা প্রশ্নের উত্তর জানলে ই এর মানে জানা যাবে।কেন শিক্ষার্থিরা বিশেষ করে যাদের বাবা মায়ের টাকা আছে তারা প্রাইভেত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি হয়?

উত্তরঃ
১।অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সেশন জট।
২।প্রায় না পড়াশুনা করে(যতটুকু না পড়লেই না,বিষয়ের গভিরে না গিয়ে)১টা ভাল পয়েন্ট নিয়ে বের হওয়া যায়।শিক্ষকদের উপর নির্দেশ ই থাকে কাউকে বি+ এর নিচে দেয়া যাবে না।
৩।ইচ্ছে করলে বেশি ক্রেডিট নিয়ে ৪ বছরের আগে কোর্স শেষ করা যায়।
৪।টাকা যে আছে সেটা লোকজনকে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়া।মানে রথ দেখাও হল কলা বেচাও হল।

কিন্তু এতে সামগ্রিকভাবে তারা বা দেশ কতটুকু লাভবান হচ্ছে!কোনভাবে ই দেশ বা তারা লাভবান হচ্ছে না।তাদের জীবন থেকে অনেক সময় বেচে যাচ্ছে ঠিক ই।কিন্তু তাদের অধিত বিষয়গুলো সম্পর্কে যতটুকু জানার কথা ছিল ততটুকু সম্পর্কে তারা জানল না।ফলে দেশে এমন কিছু মানুষ তৈরি হল যারা পাব্লিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্তিদের সমমর্যাদার হলেও সম যোগ্যতার নয়।এ পরিস্থিতিতে ১টা অসাম্য তৈরি হয়।

এছাড়াও এদের ১টা মিথ্যা অহং বোধতো আছে ই।আর সেটা হল টাকার।
এবং আছে ওয়েস্টার্ন কালচারের প্রতি অন্ধ আনুগত্য।পশ্চিমাদের অনুকরনে সব কিছু করাকেই এরা সভ্যতার চরম ঊতকর্ষতা(স্মার্টনেস)মনে করে।গভির চিন্তা ও বাঙ্গালি মূল্যবোধ কী জিনিস এরা বেশিরভাগ ই জানে না।জানলেও যে প্রতিষ্ঠান এবং পরিবেশ থেকে এরা উঠে আসে সে বাতাবরন তাদের তা ধারণ করা তো দূরের কথা শ্রদ্ধা করতেও শেখায় না।
অনেক ভাল মানুষ নিয়ে ই তৈরি হয় ১টা ভাল সমাজ।কিন্তু ভুল ব্যাবস্থাপনার স্বীকার এই মানুষগুলকে নিয়ে যে অসাম্য সমাজ তৈরি হল তার কী পরিনতি হবে?



২৩টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×