somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাউল নাকি ফাউল!(কিছু প্রাসংগিক প্রশ্নের উত্তর)

২৫ শে এপ্রিল, ২০১১ রাত ১০:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এক বিশিস্ট জ্ঞানী দেখলাম কিছুক্ষন আগে বাউলদের নিয়ে এই পোস্টখানা দিল......

Click This Link

লেখাটা পড়ে সাদা চোখে মনে হয় নিছক সত্য কথাই লেখা হল।কিন্ত আসলেই কী তাই?নাকী উদ্দেশ্যপ্রনোদিত??আমার কাছে সেটাই মনে হল।আজকাল ইসলামিক প্রপাগান্ডা এত বেশি বেড়েছে যে শেষ পর্যন্ত তার আঁচ বাউলদের উপর ও পড়ছে।

এই বিশিস্ট ব্যক্তি বাউল ধর্মের উৎস ও ইতিহাস এবং ধর্মটি কতটা ভাল বা মন্দ সে বিষয়ে ব্যাপক গবেষনা করেছেন।তিনি বাউলতত্ত্ব নিয়ে যে মত বা রেফারেন্স দিয়েছেন তা ভুল না কিন্তু যারা এসব মতামত দিয়েছে তারা কতটা সঠিক? আসলে সেটা নিয়ে কথা নয়।কথা হচ্ছে তার বিশ্লেষন নিয়ে।

তিনি বলেছেন,"মূলতঃ বিকৃত যৌনাচারে অভ্যস্ত ভেকধারী এসব বাউলরা তাদের বিকৃত ও কুৎসিত জীবনাচারণকে লোকচক্ষুর অন্তরালে রাখার জন্য বিভিন্ন গানে মোকাম, মঞ্জিল, আল্লাহ, রাসূল, আনল হক, আদম-হাওয়া, মুহাম্মদ-খাদিজাসহ বিভিন্ন আরবী পরিভাষা, আরবী হরফ ও বাংলা শব্দ প্রতীকরূপে ইচ্ছাকৃতভাবেই ব্যবহার করেছে।"

বিকৃত যৌনাচার কী সব বাউলদের মাঝে?নিশচয়ই না।যেমন নয় সব হুজুরদের মাঝে।কোন ধর্ম নির্ভুল নয়।তিনি বাউল ধর্মের যে নেতিবাচক দিকগুলো এনেছেন,তার চেয়ে বড় নেতিবাচক দিক আছে ইসলাম ধর্মে।এখানে তো চারজন পর্যন্ত স্ত্রী জায়েজ।সেবিকাকে বা দাসীকেও চাইলে জোর জবরদস্তির মাধ্যমে ব্যাবহারের অনুমতি দেয়া হয়েছে।

Click This Link

আবার ইসলাম ধর্মের চেয়েও বেশি নেতিবাচক দিক আছে হিন্দু ধর্মে।

আমার কথা হচ্ছে,ধর্মীয় আচার আচারনের ভিন্যতা থাকতেই পারে।যেকোন ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা বজায় রাখার ক্ষমতা এবং সহিষ্নুতা প্রত্যেকের থাকা উচিত।সমস্যা হল এই ব্লগারের মত ইসলাম সেবকরা সেটা পারেনা বলেই ইসলাম এখন বিপন্ন।যার ফল বাউল নির্যাতন এবং তার এই বিষাক্ত পোস্ট। বাউলদের উপর যে বর্বর আক্রমন হয়েছে সেটা কোনোভাবে কী গ্রহনযোগ্য?এই ব্লগার যেভাবে বাউল ধর্মকে বিশ্লষন করেছেন তাতে তো বাউল ধর্মকেই নিষিদ্ধ করা উচিত।কিন্তু সেটা গনতন্ত্র নয়।

এবার আসি মূল যুক্তিতে,তিনি বলেছেন,"ইসলাম, ইসলামী আকিদাহ্ যা এদেশের আপামর মুসলিমের অন্তর্নিহিত বিশ্বাসের সাথে বাউল সম্প্রদায়ের ধর্মীয় বিশ্বাসের দূরতম সম্পর্ক নেই এবং তা পুরোপুরি ষাংঘর্ষিক। শুধু তাই নয়, বিশ্বাসে পৌত্তলিক, আচার-আচরণে ভয়ঙ্কর কুসংস্কারাচ্ছন্ন, বিকৃত জীবানাচারণ ও অবাধ যৌনাচারে অভ্যস্ত বাউল সম্প্রদায় কোনভাবেই এদেশের মানুষের কৃষ্টি-কালচার বা আত্বপরিচিতির বন্ধনমূল হতে পারেনা"

কোন ধর্মের আচার আচারণ কতটা খারাপ বা ধ্বংসাত্বক তা নির্ভর করে তা কতটা সমাজকে প্রভাবিত করছে এবং কীভাবে করছে।বাউলরা গাজা ভাং খায় প্রাচীনকাল থেকে সেটা আমরা সবাই জানি,কিন্তু আমাদের যুবসমাজকে মাদকের দিকে ঠেলে দিতে তার ভূমিকা কতটুকু?আর তাদের যে যৌনাচারের কথা বলেছেন,সেটা তাদের সম্প্রদায়ের মাঝে সীমাবদ্ধ বলেই তা সাধারন্যে অজানা।কোন ধর্মে জীবনাচারনের এই স্বাধীনতা থাকতেই পারে,যেমন আছে পশ্চীমাদের কিংবা আফ্রিকান কোন কোন গোস্ঠীর মাঝে।সেটা যদি বাউল বহির্ভূত সমাজকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত না করে তাহলে সমস্যা কী?এই বিশিস্ট ব্লগারের মত ইসলামসেবকদের এ্যাত অন্তর্জালা কেন বোঝা গেল না।

শরীফ উদ্দীন সবুজ নামক একজন ব্লগারের কাছ থেকে কিছু বিষয় জেনে উপকৃত হলাম।তার বরাদ দিয়ে বলছি,

"বাউলদের সম্পর্কে এটি একটি খন্ডিত পোষ্ট। নিজেদের বিশ্বাস ধর্ম সম্পর্কিত তথ্য বাউলরা অত্যন্ত যত্ন করে গোপন রাখে। ‌‌'দ্যা ভিঞ্চি কোড' যারা পড়েছেন বা দেখেছেন বা পড়েছেন তারা এ গোপনীয়তাটি কিছুটা অনুধাবন করতে পারবেন। ভিঞ্চি তার সম্প্রদায়ের কোড লুকিয়ে রেখেছিলেন ছবিতে। বাউলরা লুকিয়ে রাখে তাদের গানে। বাঙ্গালী জাতি যে এক হাজার বছরেরও বেশি পুরনো তার প্রমান কি? লিখিত প্রমান হচ্ছে দোহা বা চর্যাগীতি বা চর্যাপদ। এ চর্যাপদ কি? চর্যাপদ হচ্ছে বাউলদের সাধন সংকেত। গানের ভেতর লুকিয়ে রাখা তাদের গোপন বার্তা। এক হাজার বছর আগেও বাউল ছিলো। আর তাদের গানের ভেতর লুকিয়ে রাখা গোপন লিখিত বার্তাটি-ই বাঙ্গালী জাতি হিসেবে আমাদের প্রাচীনত্বের প্রমান। একারনেই বাঙ্গালীর ইতিহাস মানেই বাউলের ইতিহাস।
যৌনাচার সম্পর্কে যেটি এ পোষ্টে বলা হয়েছে সেটি উদ্দেশ্যমূলক। বাউলদের সাধনার চূড়ান্ত পর্যায় হচ্ছে নারী বা পুরুষ এর বিচ্ছিন্ন হয়ে স্রষ্টার সাথে মিলে যাওয়া। নারী পুরুষের সম্পর্ক তুচ্ছ করতে না পারলে সাধনার চূড়ান্ত পর্যায়ে যাওয়া যায়না। কে আমরা? কোত্থেকে এসেছি? কোথায় ফিরে যাবো? অতি প্রাচীন এসব প্রশ্ন ভাবুক মাত্রই মনে হাহাকার তৈরী করে। বাউলরা এ প্রশ্নের উত্তর খঁজেছেন নিজস্ব পন্থায়। উত্তরও লুকিয়ে রেখেছেন সযত্নে। সাধারন বাঙ্গালী মুসলমানের সাথে বাউলদের মিল ঐ জায়গায় জীবনের কোন না কোন স্তরে আমাদের মনেও এসব প্রশ্ন হাহাকার তোলে। এ বাংলার প্রকৃতি এজন্য দায়ী। পৃথিবীর সব প্রান্তের মানুষের মধ্যে এসব প্রশ্ন সমানভাবে আলোড়ন তৈরী করে না। যেমন করে আমাদের। এই দার্শনিক বোধ বাঙ্গালী ও বাউলকে একাত্ম করেছে।"


আমার ব্যক্তিগত মত হল,আপাতদৃস্টিতে অবশ্যই মুসলিম অন্তর্নিহিত বিশ্বাসের সাথে বাউল ধর্ম যায় না এবং তা পুরোটাই সাংঘর্ষিক।কিন্তু তবুও আমরা শত শত বছর ধরে কেন এ্যত বেশি সহানুভূতিশীল তাদের প্রতি,বলতে পারেন?কারন ঐ যে বলেছেন এদেশের বেশিরভাগ মানুষ পরধর্ম মতে সহনশীল।এবং ঠিক এ কারনেই,অবশ্যই তারা আমার,একজন বাংগালীর আত্বপরিচিতির সাথে সম্পৃক্ত।শত শত বছর ধরে যে বাউল হিন্দু মুসলিম বুদ্ধ খৃস্টান নির্বিশেষে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি প্রকাশ পায় এমন গান গেয়ে যায় বাংলাদেশের হাজার হাজার গ্রামের আনাচে কানাচে এবং বলে"সবার উপর মানুষ সত্য,তাহার উপর নাই"সে অবশ্যই আমার কৃস্টি-সংস্কৃতি-আত্মপরিচয়ের অংশ।যতই থাক তার সাথে বার কোটি মুসলমানের ধর্মীয় আচারনের অমিল।বরং তার ভূমিকাই আমাদের পরধর্ম মতে সহনশীল হতে সহায়তা করেছে বহুলাংশে।আর যেখানে আসছে দেশের ঐতিহ্য,দেশ,সংস্কৃতি ও কৃস্টির কথা,মানে বিষয়টা যেহেতু সামগ্রীক তাই ধর্মীয় পরিচয় সেখানে গৌন।হামিদা হক,কবির চৌধুরীরা বাউল ধর্মের সাথে নয়, কর্ম এবং শত শত বছর ধরে সমাজে তাদের ভূমিকার সাথে বাংগালীর আত্মপরিচয়ের সংযোগের কথাই বলেছেন।

সর্বপরি,এই ব্লগার বাউল ধর্মের যে জন্ম ইতিহাস তুলে ধরেছেন সেটাই প্রমান করে যে তারা কতটা ইতিবাচক,কারন সেখানে সাম্প্রদায়িক অন্ধত্বের কোন ঠাই নেই,বরং সর্ব ধর্মের মিলন।আর যে নেতিবাচক বিষয়গুলো বলেছেন সেরকম অনেক নেতিবাচক দিক কোন ধর্মে না আছে?

তাই অনুরোধ এভাবে কোন গোস্ঠির বিপকখে উষ্কানমূলক পোস্ট দিয়ে সাধারণ পাঠককে বিভ্রান্ত করবেননা আর কোন ব্লগার।কেননা ইসলামকে ব্যাবহার করে এভাবে গোস্ঠিগত বিদ্বেষ ছড়ালে তা শুধু বিভ্রান্তকারীর ধর্মীয় পরিচয়কেই ছোট করবে।সবচেয়ে বড় কথা কারো সাথে আমার মত ও পথের অমিল থাকতেই পারে কিন্তু যতক্ষন না পর্যন্ত তা আমার জন্য বা আর কারো জন্য ক্ষতিকর না হয় ততখন পর্যন্ত তার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকাই সর্বোচ্চ মানবিকতা ও গনতন্ত্র।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে এপ্রিল, ২০১১ রাত ১০:৫৭
১৩টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অভিনব প্রতারনা - ডিজিটাল প্রতারক

লিখেছেন শোভন শামস, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:১৮



একটি সাম্প্রতিক সত্য ঘটনা।
মোবাইল ফোনে কল আসল, একটা গোয়েন্দা সংস্থার ছবি এবং পদবী সহ। এই নাম্বার সেভ করা না, আননোন নাম্বার। ফোন ধরলাম। বলল আপনার এই নাম্বার ব্যবহার করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আগে নিজেকে বদলে দিন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৪১



"আমার স্বামী সংসারের কুটোটাও নাড়ান না। যেখানকার জিনিস সেখানে রাখেন না। মুজা খুলে ছুঁড়ে যেখানে সেখানে ফেলে দেন। নিজেকে পরিষ্কার রাখতে বারবার ভুল করেন! এতো বছর বিবাহিত জীবন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প

লিখেছেন রাজীব নুর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৪:২৪



একসময় আমাদের গ্রামটা খাটি গ্রাম ছিলো।
একদম আসল গ্রাম। খাল-বিল ছিলো, প্রায় সব বাড়িতেই পুকুর ছিলো, গোয়াল ঘর ছিলো, পুরো বাড়ির চারপাশ জুড়ে অনেক গাছপালা ছিলো। বারো মাস... ...বাকিটুকু পড়ুন

×