আমাদের-বাঙালীদের জীবনে এক একটা উৎসব নাকি অনেক রং নিয়ে আসে।ভালবাসার,শান্তির,সহমর্মীতার অথবা বন্ধনের।কিন্তু এসব কথা আমার কাছে কাব্যিক মনে হয়।বাস্তবতা শুধুই অন্ধকারে হুজুগের বশে হাতরে বেড়ানো।
বাস্তবে দেখা যায়,এক একটি উৎসব মানেই ব্যাবসায়ীদের জচ্চুড়ি,সরকারের ঠগবাজী,ধনীদের অমিত অপব্যয়,মধ্যবিত্তের মুখ বুজে নিয়ম রক্ষা আর গরীবের পাহার সমান কষ্ট।
যেমন ধরুন পহেলা বৈশাখ,যে ইলিশ মাস ২০০ টাকায় মেলে তখন তা ১২০০ টাকায় ও মেলেনা।দোকান রেস্টুরেন্ট সবখানে প্রতিকী পোষাক পরিহিত লোক আর ঐতিহ্যবাহী খাবারে থৈ থৈ।খাবারের দাম শুনেও মূর্ছা যেতে হয় তবু সেখানে লোক ধরেনা।
আজ চান রাত।বাজার করতে গেলাম।নানা কারণে আগে করে উঠতে পারিনি।সেমাইয়ের জন্য মিল্কভিটা কিনতে গিয়ে দাম শুনে আমার আক্কেল গুড়ুম অবস্থা।প্যাকেটের গায়ে যেখানে লেখা ৫২ টাকা সেটা কিনতে হল ৭০ টাকায়।সবকিছু প্যাকেটের গায়ে লেখা দামের চেয়ে সর্বনিম্ন ৫ টাকা থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেশি।কেন?কারন কাল ঈদ।নিলে নেন,না নিলে যান।
মাছ কেনার সময় মসজিদ থেকে বার্তা এল চাঁদ দেখা গেছে।সবাই খুশিতে উল্লাসধ্বনী দিল।পরক্ষনেই আবার জচ্চুরিতে মন দিল।এই হল বাঙালীর ঈদ।
আর রমজান মাসে সব জিনিসপত্রের দাম বাড়িয়ে নেয়া তো আছেই।
পোষাক কেনার বেলায় দাম আর লোকদের হুমড়ী খাওয়া অবস্থা দেখে ইচ্ছে হয় মরে যাই।দামটা বাড়াবাড়ি রকম বাড়িয়ে নেয় ব্যাবসায়ীরা।মেজাজটা খারাপ হয় আরও যখন দেখি সেটা কেনার জন্য আবার লোকজন হুমড়ি খেয়ে পড়ে।
রমজানেই ঈদের পোষাক কিনতে হবে এমন দিব্বী ঢাকা শহরের লোকজনদের কে দিয়েছে সৃস্টিকর্তাই জানেন।ঈদের শপিং করার জন্য গাউছিয়া আর নিউমার্কেটে প্রায় পদপিস্ঠ আর দেহপিস্ঠ হবে তবু শপিং করা চাই ই চাই রমজানে কিংবা ঈদের ২/৩ দিন আগে।কেন এর আগে ঝামেলা মুক্তহীনভাবে শপিংটা সেরে ফেললে কী সমস্যা?
ঈদের মত বড় বড় উৎসবগুলোতে মননশীল বন্ধনচর্চার চেয়ে টাকা পয়সার প্রদর্শন চর্চাই বেশি হয় মূলত।এক একটি উৎসব যেন শুধু উৎসব নয়,যেন আসলে একটা ব্যাবসা।বাংগাল মাতে হুজুগে আর সেই সুযোগে ব্যাবসায়ীদের ও হয় পোয়াবারো।অনৈতিকভাবে সবার পকেট কাটছে কিন্তু দেখার কেউ নেই।সরকার আর ব্যাবসায়ীরা যেন একে অন্যের মাসতুতো ভাই । সত্যি ই সেলুকাস!কী বিচিত্র এই দেশ আর কী বিচিত্র এই দেশের মানুষ!!
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে আগস্ট, ২০১১ রাত ১২:৫৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



