somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এই হল আমাদের ঈদ!!ঠগ আর জচ্চুরীর উৎসব!!!

৩১ শে আগস্ট, ২০১১ রাত ১২:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অনেক দিন পরে ব্লগে লেখার জন্য কীবোর্ড ধরলাম।না লিখে আর পারলাম না।কারণ আজ চানরাতে এমন কিছু অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হলাম যা না প্রকাশ করে পারছিনা।

আমাদের-বাঙালীদের জীবনে এক একটা উৎসব নাকি অনেক রং নিয়ে আসে।ভালবাসার,শান্তির,সহমর্মীতার অথবা বন্ধনের।কিন্তু এসব কথা আমার কাছে কাব্যিক মনে হয়।বাস্তবতা শুধুই অন্ধকারে হুজুগের বশে হাতরে বেড়ানো।

বাস্তবে দেখা যায়,এক একটি উৎসব মানেই ব্যাবসায়ীদের জচ্চুড়ি,সরকারের ঠগবাজী,ধনীদের অমিত অপব্যয়,মধ্যবিত্তের মুখ বুজে নিয়ম রক্ষা আর গরীবের পাহার সমান কষ্ট।

যেমন ধরুন পহেলা বৈশাখ,যে ইলিশ মাস ২০০ টাকায় মেলে তখন তা ১২০০ টাকায় ও মেলেনা।দোকান রেস্টুরেন্ট সবখানে প্রতিকী পোষাক পরিহিত লোক আর ঐতিহ্যবাহী খাবারে থৈ থৈ।খাবারের দাম শুনেও মূর্ছা যেতে হয় তবু সেখানে লোক ধরেনা।

আজ চান রাত।বাজার করতে গেলাম।নানা কারণে আগে করে উঠতে পারিনি।সেমাইয়ের জন্য মিল্কভিটা কিনতে গিয়ে দাম শুনে আমার আক্কেল গুড়ুম অবস্থা।প্যাকেটের গায়ে যেখানে লেখা ৫২ টাকা সেটা কিনতে হল ৭০ টাকায়।সবকিছু প্যাকেটের গায়ে লেখা দামের চেয়ে সর্বনিম্ন ৫ টাকা থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেশি।কেন?কারন কাল ঈদ।নিলে নেন,না নিলে যান।

মাছ কেনার সময় মসজিদ থেকে বার্তা এল চাঁদ দেখা গেছে।সবাই খুশিতে উল্লাসধ্বনী দিল।পরক্ষনেই আবার জচ্চুরিতে মন দিল।এই হল বাঙালীর ঈদ।

আর রমজান মাসে সব জিনিসপত্রের দাম বাড়িয়ে নেয়া তো আছেই।

পোষাক কেনার বেলায় দাম আর লোকদের হুমড়ী খাওয়া অবস্থা দেখে ইচ্ছে হয় মরে যাই।দামটা বাড়াবাড়ি রকম বাড়িয়ে নেয় ব্যাবসায়ীরা।মেজাজটা খারাপ হয় আরও যখন দেখি সেটা কেনার জন্য আবার লোকজন হুমড়ি খেয়ে পড়ে।

রমজানেই ঈদের পোষাক কিনতে হবে এমন দিব্বী ঢাকা শহরের লোকজনদের কে দিয়েছে সৃস্টিকর্তাই জানেন।ঈদের শপিং করার জন্য গাউছিয়া আর নিউমার্কেটে প্রায় পদপিস্ঠ আর দেহপিস্ঠ হবে তবু শপিং করা চাই ই চাই রমজানে কিংবা ঈদের ২/৩ দিন আগে।কেন এর আগে ঝামেলা মুক্তহীনভাবে শপিংটা সেরে ফেললে কী সমস্যা?

ঈদের মত বড় বড় উৎসবগুলোতে মননশীল বন্ধনচর্চার চেয়ে টাকা পয়সার প্রদর্শন চর্চাই বেশি হয় মূলত।এক একটি উৎসব যেন শুধু উৎসব নয়,যেন আসলে একটা ব্যাবসা।বাংগাল মাতে হুজুগে আর সেই সুযোগে ব্যাবসায়ীদের ও হয় পোয়াবারো।অনৈতিকভাবে সবার পকেট কাটছে কিন্তু দেখার কেউ নেই।সরকার আর ব্যাবসায়ীরা যেন একে অন্যের মাসতুতো ভাই । সত্যি ই সেলুকাস!কী বিচিত্র এই দেশ আর কী বিচিত্র এই দেশের মানুষ!!




সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে আগস্ট, ২০১১ রাত ১২:৫৭
১৩টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৬


শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×