ভেজা কালো অন্ধকারে গা এলিয়ে দিয়ে বসে আছি বহুক্ষণ। নিস্পৃহ চাঁদ বেশ কয়েকবার জানালায় উঁকি দিয়ে দিয়ে চলে গেছে। একটা টিকটিকির টিক টিক শব্দে বিরক্ত লাগছে খুব। তারউপর মাথার ভিতরে শুনতে পাচ্ছি একঝাঁক ঝিঁ ঝিঁ পোকার ডাক। রাত্রি গভীর হচ্ছে বুঝতে পারছি। ঘুমানো দরকার। কিন্তু ঘুম আসছে না। কি করা যায় বুঝতে পারছি না। মাথাটা কেমন ভারি ভারি লাগছে। সৃষ্টিকে মনে পরছে খুব। গত ডিসেম্বরের ২ তারিখে সৃষ্টির বিয়ে হয়ে যায় বড়লোক বাপের একমাত্র ছেলের সঙ্গে। বিয়ের অনুষ্ঠান হতে হঠাৎ সাকিবের ফোন। ফোনে জানালো, বিয়ের সাঁজে সৃষ্টিকে খুব সুন্দর লাগছে। আমি আসবো কিনা জানতে চাইল। আমি বললাম, না। সজীব, রাহাত, সোমা, রিতা সবাই এসেছে শুধু আমি বাদে। বলতে বলতে সাকিব ফোনেই কেঁদে ফেলল। আমিও কেঁদেছিলাম অনেকক্ষণ। সৃষ্টির জন্য শেষ কান্না। এরপর আর সৃষ্টির জন্য কাঁদিনি কখনো। আজ অনেকদিনপর সৃষ্টির কথা মনে পড়ছে। তেমন কিছু না, শুধু কিছু অবান্তর জিজ্ঞাসা মাথায় ঘুরাঘুরি করছে। কেমন আছে সৃষ্টি ?
জীবন সূর্যের বিদায়ে বহুদিন হলো দিনের আলোয় দেখা হয় না পৃথিবী। নীল উজ্জ্বল আকাশ এখন আর ডাকে না আমায়। রাত্রির স্থায়ী বন্ধু হয়ে অন্ধকারের কোলে মাথা রেখেই সময় কাঁটে আমার। ভালোই আছি আমি। চিন্তা নেই ভাবনা নেই, নেই জীবন যাপনের দৈনন্দিন বোঝাপড়া। জীবনের রাক্ষসী নদী এখন আর নাগাল পায় না আমার। এখন আমি সকল দুঃখ, কষ্ট আর ব্যথার সাম্রাজ্যের অনেক দূরে। নিঃস্বার্থ স্মৃতি এখন আর কাঁদাতে পারে না আমায়। কবরের শান্ত-স্নিগ্ধ-হিম আলোয় বড় ভালো আছি এখন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

