somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আসুন বর্জন করি জামাত শিবিরের এইসব প্রতিষ্ঠান

১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ সকাল ১০:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

নব জাগরণের সূতিকাগার শাহবাগের প্রজন্ম চত্বর থেকে জামায়াতের আজকের (মঙ্গলবার) বিক্ষোভ কর্মসূচী প্রতিহত করার ডাক দেয়া হয়েছে। বলা হয়েছে যদি কোন জামায়াত-শিবির কর্মীকে রাজপথে দেখা যায়-তাহলে তাদের রক্ষা নেই। তারা গৃহযুদ্ধের ডাক দিয়ে গৃহে লুকিয়েছে। তাদের আর কোন দিন রাস্তায় নামতে দেয়া হবে না। জাগ্রত জনতাই তাদের প্রতিরোধ করবে। সারাদেশে নতুন প্রজন্মের মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়েছে। বাঁধ ভাঙ্গা জোয়ারের মতো মানুষের ঢল নেমেছে। এই ঢলের তোড়ে জামায়াত-শিবিরের বিক্ষোভ ভেসে যাবে। একই সঙ্গে গণজাগরণ মঞ্চ থেকে জামায়াতীদের ৪৮টি প্রতিষ্ঠান বয়কট করারও ঘোষণা দেয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি তালিকা গণজাগরণ মঞ্চের পেছনে টাঙ্গিয়ে দিয়েছেন ব্লগার
এ্যান্ড অনলাইন এ্যাক্টিভিস্ট নেটওয়ার্কের সদস্যরা।
এ্যাক্টিভিস্ট নেটওয়ার্কের সদস্যরা বলেন, আমাদের আন্দোলন ওরা যদি বন্ধ করতে পারে তাহলে নামুক। জনতা ওদের দাঁত ভাঙ্গা জবাব দেয়ার জন্য প্রস্তুত হয়ে আছে। সারাদেশে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এই জোয়ারে তারা ঘরের কোণে লুকিয়েছে। চট্টগ্রামের মতো জায়গায় তারা নামতে সাহস পায়নি। সারাদেশে তারা কিভাবে নামে সেটা জনতাই বুঝবে। জাগ্রত জনতার মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আবার ফিরে এসেছে। জয় বাংলা সেøাগানটি এখন সর্বজনীন রূপ নিয়েছে। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রেরণা এ সেøাগানটিকে দীর্ঘকাল আওয়ামী লীগের সেøøাগান হিসেবে চালানোর অপচেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু এই সেøাগানটি যে দেশের সব মানুষের তা রাজাকার আলবদর আল শামস ও বিএনপি কৌশলে আওয়ামী লীগের সেøাগান হিসেবে চালিয়েছে। নতুন প্রজন্ম তাদের সেই অপচেষ্টা ভেঙ্গে দিয়ে ‘জয় বাংলা’ সেøাগানটিকে আবার সর্বজনীন করে তুলেছে।
একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি লেখক সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির জনকণ্ঠকে বলেন, জয় বাংলা সেøাগানের ভিত্তি করেই দেশের মুক্তিযুদ্ধ পরিচালিত হয়েছে। ওটাই তো ছিল মুক্তিযুদ্ধের মূল স্পিরিড। শহীদ জননী জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে আমরা স্বাধীনতার ২১ বছর পর আবার এই সেøাগানটিকে জনগণের সামনে তুলে নিয়ে এসেছি। ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির ১১ জন সদস্য এ সেøøাগান না দেয়ায় তাদের কমিটি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। জয় বাংলা সেøাগানটি আবার নতুন প্রজন্ম সর্বজনীন করে তুলেছে।
এ্যাক্টিভিস্ট নেটওয়ার্কের সদস্যরা যুদ্ধাপরাধী ও তাদের তাঁবেদার জামায়াত-শিবির পরিচালিত প্রতিষ্ঠানগুলো বর্জনের আহ্বান জানিয়েছেন। যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে আন্দোলনের ৭ দিনের ক্লান্তিহীন আন্দোলনে এক বিন্দু ছেদ পড়েনি। সব কিছুই চলছে সুশৃঙ্খলভাবে। অনেকেই স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে খাবার সরবরাহ করছে। সেই খাবার এ্যাক্টিভিস্ট নেটওয়ার্কের সদস্যরা সবার হাতে হাতে পৌঁছে দিচ্ছেন। ’৮০ দশকের ব্যান্ড চাইমের অন্যতম সদস্য আল আমিন বাবু শাহবাগের প্রজন্ম চত্বরের আন্দোলনের সঙ্গে একাত্ম হয়ে কাজ করছেন শুরু থেকেই। তিনি বলেন, আমি আমেরিকা প্রবাসী নতুন প্রজন্মের মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিতে সুদূর আমেরিকা থেকে ছুটে এসেছি। আমিও একজন এ্যাক্টিভিস্ট। নিজ হাতে এফবিসিসিআইয়ের সরবরাহ করা খাবারের প্যাকেট প্রজন্ম চত্বরে সমবেত মানুষের হাতে তুলে দিচ্ছেন।
এ্যাক্টিভিস্ট নেটওয়ার্কের সদস্য তন্ময় আহমেদ জনকণ্ঠকে বলেন, সাইবার যুদ্ধে জামায়াত-শিবিরকে ঘায়েল করে ফেলা হয়েছে। তাদের এখন আর সাইবার স্পেসে তেমন কোন জায়গা নেই। এক শ’ বেশি এ্যাক্টিভিস্ট প্রতি সেকেন্ডে আন্দোলনের আপ গ্রেড দিচ্ছেন। আন্দোলনস্থলে একটি মিডিয়া সেন্টার খোলার ইচ্ছা থাকার পরেও টাকার অভাবে সেটি সোমবার নাগাদ খোলা সম্ভব হয়নি। অল্প কিছু টাকা হলেই শাহবাগের প্রজন্ম চত্বরে মিডিয়া কর্মীদের সুবিধার্থে একটি মিডিয়া সেল খোলা হবে। আমাদের অনেকেই অনেকভাবে সহযোগিতা করছেন। কিন্তু মিডিয়া সেল খোলার বিষয়ে এখনও কেউ এগিয়ে আসেননি। এ্যাক্টিভিস্টদের কর্মকা- জানাতে হলে মিডিয়া সেলের প্রয়োজন জরুরী হয়ে পড়েছে।
জামায়াতের ৪৮টি প্রতিষ্ঠান বর্জন করার জন্য এ্যাক্টিভিস্টরা যে তালিকা প্রকাশ করেছেন তাতে ব্যাংক, বীমা ও কোচিং সেন্টারসহ আট ক্যাটাগরির প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
ব্যাংক বীমার তালিকা ॥ ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড, ইসলামিক ফাইন্যান্স এ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড, ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, ইসলামী ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড ও তাকাফুল লাইফ ইন্স্যুরেন্স।
সংবাদমাধ্যম ॥ নয়া দিগন্ত, সংগ্রাম, আমার দেশ, দিগন্ত টেলিভিশন ও সোনার বাংলা অনলাইন।
কোচিং সেন্টার ॥ ফোকাস, রেটিনা, কনক্রিট, প্রবাহ, অপটিমাম, সাকসেস, রেডিয়াম, ইনডেক্স।
চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান ॥ ইবনে সিনা হাসপাতাল, ইবনে সিনা ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ইবনেসিনা ফার্মা, ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল, আল খতিব মেডিক্যাল ট্রাস্ট।
ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান ॥ কেয়ারী সিন্দবাদ, মেট্রো শপিং সেন্টার, কোরাল রিপ মিলন ডেভেলপারস, ইন্টিমেন্ট হাউজিং, সোনারগাঁও হাউজিং, লালমাটিয়া হাউজিং, সিলভার ভিলেজ হাউজিং, ওয়ান ও অবসর সিটি।
বাস সার্ভিস ॥ গ্রীন লাইন, পাঞ্জেরী, আবাবিল সার্ভিস।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ॥ নর্দার্ন ইউনিভার্সিটি, ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি, ইন্টারন্যাশনাল ইসলামী ইউনিভার্সিটি, এশিয়া ইউনিভার্সিটি, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ টেকনোলজি কলেজ, গ্রীন ইউনিভার্সিটি ও লাইসিয়াম কিণ্ডাররগার্টেন।
ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান ॥ কোরাল রিফ মিশন ডেভেলপারস, আবাসন সিটি, লালমাটিয়া হাউজিং ও ওয়ান সিটি।
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য ফোকাস কোচিং সেন্টার, মেডিক্যাল কোচিং সেন্টারে ভর্তির জন্যে রেটিনা কোচিং ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্যে কনক্রিট কোচিং সেন্টার পরিচালনা হয়। কোচিংয়ে বিভিন্ন সময়ে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি দলীয় আদর্শের বই সরবরাহ করা হয়। কর্মীদের বিভিন্ন সরকারী মেডিক্যালে ভর্তির জন্য ১৯৮০ সালে রেটিনা কোচিং সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা হয়। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে কনটেস্ট, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে রেডিয়েন্ট, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে সোনালিকা, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে সাকসেস, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে রেডিয়াম কোচিং সেন্টার গড়ে ওঠে। এছাড়া জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বিভিন্ন নামী দামী কলেজকে ঘিরে গড়ে তোলা হয় কনসেপ্ট কোচিং সেন্টার।
এ্যাক্টিভিস্ট নেটওয়ার্কের সদস্যরা বলেন, কোচিং সেন্টারের বাইরে রয়েছে জামায়াতের বড় বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে দলীয় কর্মী ছাড়া অন্য কাউকে নিয়োগ দেয়া হয় না। দরিদ্র মেধাবী ছাত্রদের টার্গেট করে জামায়াত-শিবির নেতারা তাদের অর্থের লোভ দেখিয়ে দলে ভিড়ায়। একবার যদি কেউ শিবিরের ফাঁদে পা দিয়ে ফেলে তার আর বের হওয়ার কোন পথ থাকে না। যদি কেউ বের হয়ে আসতে চান তাহলে তাকে জীবিত ফেরত দিলেও সারাজীবনের জন্য পঙ্গু করে দেয়া হয়। আবার অনেককে মেরেও ফেলে রগ কাটা গলা কাটা শিবির।
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মাতৃভূমিকে ছোট করে প্রতিবেশী দেশকে মহান দেখানোর উদ্দেশ্য কি?

লিখেছেন ভুয়া মফিজ, ০৮ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:২১



বহুদিন ব্লগে ঘোরাঘুরি করা হয় না। গত সপ্তাহে কি মনে হলো, ভাবলাম একটু ঘোরাঘুরি করি। তো ঘুরতে ঘুরতে কিছু পোষ্ট পড়লাম; কিছু মন্তব্যও নজরে আসলো, বিশেষভাবে দুইটা মন্তব্য।... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ নিত্য তোমার অন্বেষণে

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ০৮ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:২২

জানি,
তুমি ছড়িয়ে আছো চতুর্দিকেই,
তবুও,
মন খারাপে তাকাই আমি আকাশপানেই
দিনে তাকাই, রাতেও তাকাই,
আলোয় তাকাই , কালোয় তাকাই,
তাকাই মানে তোমায় খুঁজি,
খুঁজতে খুঁজতে চোখ বুঁজি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ১৯৩

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৫০



আর্জেন্টিনা দুই গোল খেয়ে গেছে!
মেসি পেনাল্টি মিস করেছে। এদিকে খেলা অর্ধেক শেষ। তখনও আমি বলেছি, আর্জেন্টিনা জিতবে। কোনো চিন্তা নাই। প্যারা নাই। চিল। হ্যা আমার কথাই সত্য হয়েছে। আর্জেন্টিনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

এদেরকে না রুখলে চড়া মূল্য দিতে হবে

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৮ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৬



মাহবুব আজিজ, আনিস আলমগীর, সোমা ইসলাম, শাওন, মঞ্জুরুল পান্না, শম্পা রেজা, কালচারাল ফ্যাসিস্ট ফরিদুর রেজা শাইখ সিরাজ এদেরকে এখনই বন্ধ করতে হবে না হলে বাংলাদেশকে চড়া মূল্য দিতে হবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

সব দোষ গাজী সাহেবের!

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০৯ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ২:৫৩



ধরেন, এখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে। শেখ হাসিনা সংসদ ভবনের সামনে ভারতের স্বাধীনতা দিবস জাঁকজমক করে পালন করলেন। ভারতের শীর্ষ নেতা এলেন, ভারতের পতাকা উড়ল...

এখন চুপ করে থাকা পাকিস্থানপন্থীরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×