somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার প্রিয় ছবি : টাইটানিক

০৮ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১০:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মুক্তিকাল : ১৯৯৭
দৈর্ঘ : ১৯৪ মিনিট
রঙ : রঙিন
ভাষা : ইংরেজি
দেশ : আমেরিকা
চিত্রনাট্য ও পরিচালনা : জেমস ক্যামেরুন
প্রযোজনা : জেমস ক্যামেরুন, জন লেন্ডন
চিত্রগ্রহণ : রাসেল কার্পেন্টার
সম্পাদনা : কনরেড বাফ, জেমস ক্যামেরুন, রিচার্ড এ হ্যারিস
অভিনয় : লিওনার্দো ডি ক্যাপ্রিও, ক্যাট উইন্সলেট, বিলি জেন, ক্যাথি বেটস, বিল প্যাক্সটন, গ্লোরিয়াস স্টুয়ার্ট, ফ্রান্সি ফিসার, বানার্ড হিল
সঙ্গীত : ফ্রেড ফিশার, জেমস হর্নার

কাহিনী সংক্ষেপ : গুপ্তধন সন্ধানী একটি দল ডুবে যাওয়া টাইটানিক জাহাজের খোঁজ করতে থাকে। তারা এক তরুণী চিত্রকলা খুঁজে পায়। বৃদ্ধা রোজ ডসন বলেন, ছবির ব্যক্তিটি তিনিই। বৃদ্ধা রোজের মুখ থেকে ফ্ল্যাশব্যাকে বাকী গল্পটা শোনা যায়। পৃথিবীর অন্যতম মূল্যবান, জাক-জমকপূর্ণ জাহাজ টাইটানিকের যাত্রী হয়েছিলো রোজ। তার সঙ্গে ছিলো হবু স্বামী ক্যাল হকলি। জুয়া খেলায় একটি টিকেট কেটে এই বহুল আলোচিত জাহাজে ওঠার একটি মূল্যবান টিকেট পেয়ে যান চিত্রকর জ্যাক। জাহাজেই পরিচয় হয় জ্যাক ও রোজের। ক্রমশ সে পরিচয় প্রেমের দিকে পরিণতি নেয়। দরিদ্র এক চিত্রকর আর উচ্চবিত্ত রোজের অসম প্রেম ক্যালের নজরে পড়ে। সে রোজকে চোখে চোখে রাখে। কিন্তু তারা লুকিয়ে দেখা করতে থাকে। এমনকি জ্যাক একদিন রোজের ন্যুড ছবিও আঁকে। যে জাহাজ কোনদিনও ডুববে না বলে কোম্পানি ঘোষণা দিয়ে ছিলো সেই জাহাজই সবাইকে হতবাক করে একটা বিশাল আইসবার্গের সাথে বাড়ি খেয়ে ডুবতে থাকে। জাহাজে পানি ঢুকতে থাকে। লাইফ বোটে ওঠার জন্যে সবার কাড়াকাড়ি শুরু হয়। কিন্তু জ্যাককে রেখে রোজ কিছুতেই লাইফ বোটে উঠবে না। এদিকে জাহাজ ডুবতে থাকে। অবশেষে রোজকে অনেক বুঝিয়ে লাইফবোটে উঠানো হয়, জ্যাক সেই লাইফোটের কোনা ধরে সমুদ্রে ভাসতে থাকে। কিন্তু তীব্র ঠান্ডা কখন সে মরে যায় রোজ টেরও পায় না। রোজ তার ভালবাসাকে হারিয়ে যেতে দেখে শীতল সমুদ্রের তলে। সেই হারানো ভালবাসা বৃদ্ধ রোজের কাছে ফিরে আসে অনুসন্ধানী ডুবরিদের উদ্ধার করা ছবির মাধ্যমে।

বিশেষত্ব : টাইটানিক বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ব্যবসা সফল এবং জনপ্রিয় ছবি। ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জাহাজকে কেন্দ্র করে চিরকালের অসম প্রেমকাহিনীকে জেমস ক্যামেরুন ভীষণ জাকজমকের সাথে চিত্রায়িত করেছেন। এ ছবির নির্মাণ কাল থেকে কড়া গোপনীয়তা রক্ষা করা হলেও, ছবি মুক্তির পর পরই একে নিয়ে আলোচনার ঝড় উঠে। বিগ বাজেটের এই ছবির শূটিং টেকিনিক থেকে এর সম্পাদনা, সঙ্গীত সবকিছুই আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে। টাইটানিক অস্কারে ১৪টি নমিনেশন পায়, একমাত্র অল এবাউট ইভ ছবিটি এতোগুলো নমিনেশন পেয়েছিলো। শেষ পর্যন্ত ১১টি অস্কার পায় টাইটানিক।

বিশেষ তথ্য : ১. স্টুডিও জ্যাকের চরিত্রে ম্যাথিও ম্যাকানিকে চেয়েছিলো, কিন্তু জেমস ক্যামেরুন ডি ক্যাপরিওকে নেন। রোজের জন্য গুয়েনিথ পালট্রোকে বলা হয়েছিলো।
২. নোভা আইসকটিয়ায় আইসবার্গ শ্যূট করার সময় গোপনীয়তা রক্ষা করতেই জেমস ক্যামেরুন সবাইকে বলেছিলেন, প্লেনেট আইস নামের একটি ছবির জন্য এ দৃশ্যগুলো ধারণ করা হচ্ছে।
৩. রোজের যে ছবিটি আবিস্কৃত হয়, সিনেমায় সেটি জ্যাকের আঁকা। কিন্তু বাস্তবে এ ছবিটি একেছেন ক্যামেরুন নিজে। শুধু তাই নয়, জ্যাকের স্কেচ বুকের সব ছবিই ক্যামেরুনের আঁকা।
৪. জাহাজের করিডোর ভেঙে সমুদ্রের পানি ঢুকছে এ দৃশ্যটি ধারণ করতে ৪০ হাজার গ্যালন পানি তীব্র বেগে ছাড়া হয়। কিন্তু ক্যামেরুন এ দৃশ্য নিয়ে সন্তুষ্ট হননি। তিনি এর তিনগুণ পানি আরও জোরে ব্যবহার করতে বলেন। এবং সেটকেও আরও শক্তিশালী করে বানান।
৫. এ ছবিতে স্যালেন ডিওনের গাওয়া মাই হার্ট উইল গো এন ভীষণ হিট হয়। ক্যামেরুন প্রথম থেকেই ছবিতে কোন গান ব্যবহার করতে রাজী ছিলেন না, এমনকি শেষ ক্রেডিটের সময়ও না। সুরকার জেমস হার্নার গোপনে গীতিকার উইল জেনিংস এবং সেলেন ডিওনের সঙ্গে বসে এ গানটি রেকর্ড করে ক্যামেরুনকে দেন। গানটি শোনার পর পরই ক্যামেরুন এটি সংযোজন করতে রাজী হয়ে যান।
৬. এ ছবি বানাতে খরচ হয়েছে ২০০ মিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে, যা টাইটানিক জাহাজ তৈরির খরচের চেয়ে বেশি। ১৯১০-১৯১২ সালে টাইটানিক জাহাজ তৈরি করতে খরচ হয়েছিলো ৭.৫ মিলিয়ন ডলার, যার মূল্যমান ১৯৯৭ সালের বিবেচনায় ১২০ থেকে ১৫০ মিলিয়ন ডলার।
৭. স্টুডিও বাজেট বেড়ে যাওয়ায় ক্যামেরুন তার ডিরেক্টর সš§ানী ৮ মিলিয়ন ডলার এবং তার অংশিদারিত্বের অর্থটুকু দিয়ে দেন।
৮. শ্যূটিয়ের পর পুরো সেটটি বাতিল মাল হিসাবে বিক্রি করে দেয়া হয়।
৯. ক্যাট উইন্সলেট যখন প্রথম জানতে পারে যে ছবিতে তাকে ডি ক্যাপ্রিওর নগ্ন হতে হবে তখন নিজেকে ও ক্যাপ্রিওকে সহজ করার জন্য প্রথম দেখার পর সে ডি ক্যাপ্রিওর সামনে নগ্ন হয়ে যায়।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ৮:৩৮
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ক্লাস ফাকি দিয়ে তারা আড্ডা মারছে। এই দিকে পিতা মাতা হয়তো মনে করবে যে আমার মেয়ে ক্লাস করতে গিয়েছে।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:২৫



ক্লাস ফাকি দিয়ে তারা আড্ডা মারছে। এই দিকে পিতা মাতা হয়তো মনে করবে যে আমার মেয়ে ক্লাস করতে গিয়েছে। এই স্থানটি খুবই নিরিবিলি। দেশের আইন-শৃঙ্খলার অবস্থা খুবই খারাপ। এমন ফাকা... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলা সাহিত্যে জায়গা পাচ্ছেন ওসমান হাদী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:১৭


সংবাদপত্র যা বলছে
জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০ জুন ২০২৬ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যবই পরিমার্জন-সংক্রান্ত কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকসহ... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

×