

মুক্তি : ২০০১
দৈর্ঘ : ১৩৬ মিনিট
রঙ : রঙিন
দেশ : যুক্তরাষ্ট্র
ভাষা : ইংরেজি
পরিচালনা : রন হাওয়ার্ড
প্রযোজনা : ব্রায়ান গ্রেজার, রন হাওয়ার্ড
চিত্রনাট্য : সিলভিয়া নাসার (উপন্যাস), আকিভা গোল্ডসম্যান
অভিনয় : রাসেল ক্রো, এড হ্যারিস, জেনিফার কোনেলি, ক্রিস্টোফার প্লামার, পল বেটানি, জুড হির্স, এডাম গোল্ডবার্গ
সঙ্গীত : জেমস হর্নার
চিত্রগ্রহণ : রজার ডিয়াকিনস
সম্পাদনা : ড্যানিয়েল পি হ্যানলে, মাইক হিল
কাহিনী সংক্ষেপ : সিলভিয়া নাসার-এর পুলিৎজার মনোনয়ন প্রাপ্ত বেস্টসেলিং উপন্যাস আ বিউটিফুল মাইন্ড খ্যাত উপন্যাস অবলম্বনে এ ছবি তৈরি হয়েছে। অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী জন ন্যাসের জীবনীই এ গল্পের ভিত্তি। ১৯৪৭ প্রতিভাবান তরুণ জন ন্যাস প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ে গ্র্যাজুয়েট করতে আসেন। অংকের জন্যে পুরস্কার প্রাপ্ত ন্যাস তার রুমমেট হিসাবে সাহিত্যের ছাত্র চার্লস হারম্যানকে পায়। এখানে তার পরিচয় হয় মার্টিন হ্যানসেন, রিচার্ড সোল, এইনসেল, বেন্ডারের মতো অঙ্ক ও বিজ্ঞানের প্রতিভাবান ছাত্রদের সাথে দেখা হয়। কিন্তু এদের সঙ্গে ন্যাসের তেমন সুম্পর্ক গড়ে ওঠে না। চার্লসকে ন্যাস বলে, সে মানুষের চেয়ে সংখ্যার সঙ্গে আরাম বোধ করে বেশি। যাহোক পড়ালেখা শেষ করে ন্যাস ম্যাসাচুট ইন্সটিট্যুট অব টেকনোলজি (এমআইটি)-তে সম্মানজনক একটি পদ পায়। এখানে সোল ও বেন্ডারও তার সাথে যোগ দেয়। কিন্তু এমআইটিতে নিয়মিত ক্লাস নেয়ার চেয়ে ছাত্রদেরকে ব্ল্যাকবোর্ডে জটিল সব সমস্যা দিতে পছন্দ করেন তিনি। এদিকে তিনি ডিলিউশনে ভূগতে থাকে। একদিন এলিসিয়া নামের এক ছাত্রী তার সঙ্গে দেখা করতে আসে। এলিসিয়া তাকে ডিনারের আমন্ত্রণ জানায়। এমনকি তাদের মধ্যে প্রেম হয়, তারা বিয়েও করে। ন্যাসকে পেন্টাগনের সিক্রেট ডিপার্টমেন্ট অব ডিফেন্স আমন্ত্রণ জানা শত্র“ পক্ষের একটি টেলিকমিউনিকেশনের কোড ভেঙে দেয়ার জন্যে। ন্যাস তখনই তা ভেঙে দেয়। সবাই বিস্মিত হয়। এখানে উইলিয়াম পার্চারের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পার্চার তাকে সংবাদপত্র ও ম্যাগাজিন ঘেটে বিশেষ একটি প্যাটার্ন বের করার কাজ দেয়, যার আড়ালে সোভিয়েতদের একটি গোপন পরিকল্পনা লুকায়িত আছে। সোভিয়েত এক এজেন্ট ন্যাসকে তাড়া করে, তাকে গুলি করে। ন্যাস প্রাণে বেঁচে যায়, কিন্তু প্রচন্ড মানসিক চাপে অপ্রকৃত ব্যবহার শুরু করে। এলিসিয়া মানসিক হাসপাতালে খবর দেয়। হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে এক লেকটার দেয়ার সময় সে লক্ষ্য করে তাকে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ন্যাস সরে যেতে চাইলে তাকে জোর করে মানসিক কেন্দ্রে পাঠানো হয়। ন্যাস মানসিক চিকিৎসককে সোভিয়েত কিডনাপার মনে করে। এলিসিয়া মেইল বক্স খুলে ন্যাসের টপ সিক্রেট তথ্যাদি দেখে ফেলে। ন্যাসকে এন্টিসাইকোথিক ওষুধ নেয়ার শর্তে ছেড়ে দেয়া হয়। কিন্তু এই ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ায় স্ত্রীর সাথে তার যৌন ও আবেগী সম্পর্কের অবনতি ঘটায় এবং সর্বোপরি তার মেধার ক্ষতিও করে। হতাশ ন্যাস ওষুধ খাওয়া বন্ধ করে দেয়। ন্যাসের মানসিক অস্থিরতা বাড়তে থাকে। এমনকি এর ফলে একবার তাদের সন্তান মরতে বসে। কিন্তু এলিসিয়া থাকে সাহায্য করে যায়। ন্যাস ক্রমশ বৃদ্ধ হতে থাকে। এ সময় সে তার এক সময়ের অপছন্দের মার্টিন হ্যানসেনের কাছে যায়। সে এখন প্রিন্সটনের অঙ্কের প্রধান। সে তাকে লাইব্রেরি ও অডিট ক্লাসে যাওয়ার অনুমতি দেয়। কিন্তু তার ডিল্যুশন চলতে থাকে। ১৯৯৪ সালে ন্যাস ক্লাস নেয়ারও সুযোগ পায়। অন্যান্য অধ্যাপকরা অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পেতে যাচ্ছে বলে তার গেইম থিওরির জন্যে তাকে সম্বর্ধনা দেয়। সেখানে ন্যাস চার্লস, মার্সের সাথে পার্চারকেও দেখে। এলিসিয়াকে পাশে নিয়ে জন ন্যাস সিজনোফ্রেনিয়া মতো মানসিক বৈকল্য কাটিয়ে সুস্থ হয়ে ওঠে এবং নোবেল পুরস্কার পায়।
বিশেষত্ব : ২০০২ সালে এ ছবি সেরা চলচ্চিত্র, সেরা পরিচালনা, সেরা রূপান্তরিত চিত্রনাট্য এবং সেরা পার্শ্ব চরিত্র অভিনেত্রী বিভাগে অস্কার পায়। বাফটায় সেরা অভিনতো ও সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার পায় এ ছবি।
বিশেষ তথ্য : স্কুলের পড়ার সময় জন ন্যাসের এক শিক্ষক বলেছিলেন, সে দুটো মগজ আর অর্ধেক হৃদয় নিয়ে জন্মগ্রহণ করেছে। গণিত ও অর্থনীতির জগতে কিংবদন্তী তুল্য ন্যাসের জীবনে এ কথা সত্য প্রমাণিত হয়। অসাধারণ মেধাবী জন ন্যাস মানুষের সঙ্গে মিশতে পারতেন না, সমাজের আচার রীতির সাথে একাত্ম হতে পারতেন না। এলিসিয়া যেন তার অর্ধেক হৃদয়কে পূর্ণ করে দেয়। ভালবাসা আর সহানুভূতি দিয়ে ন্যাসের মানসিক বৈকল্য মোকাবেলা করতে সাহায্য করে। একজন আপাত ফুরিয়ে যাওয়া মানুষ আবার জীবনের স্বাভাবিক স্রোতে ফিরে আসে। সেরা ছবি, সেরা পরিচালক, সেরা রূপান্তরিত চিত্রনাট্য এবং সেরা পার্শ্ব চরিত্রের জন্যে এ ছবি অস্কার পুরস্কার পায়।
১. ন্যাসের জীবনকে সঠিকভাবে চিত্রিত না-করায় এ ছবি নিয়ে সমালোচনা হয়। পরিচালক অবশ্য বারবার বলেছেন, এটি ন্যাসের জীবনের আক্ষরিক অনুকরন নয়। ছবিতে ন্যাসকে প্যান্টাগনের জন্যে কাজ করতে দেখা যায়, যা কখনোই তিনি করেননি। ১৯৬৩ সালে এলিসিয়ার সাথে তার বিবাহ বিচ্ছেদ হয় এবং ২০০১ সালে আবার বিয়ে করে যা ছবিতে দেখানো হয়নি।
২. ব্র“স উইলিস, কেভিন কস্টনার, জন ট্রাভোল্ট, টম ক্রুজ, জনি ডেপ, ব্রাড পিটের মতো অভিনেতাদের জন ন্যাস চরিত্রের জন্যে ভাবা হয়েছিলো। টম ক্রুজ এ চরিত্র পাওয়ার জন্যে যথেষ্ট চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু গ্ল্যাডিয়েটর দেখার পর রন হাওয়ার্ড রাসেল ক্রো-কেই এই চরিত্রের জন্যে চূড়ান্ত নির্বাচন করেন।
৩. নোবেল পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানটির শুটিং করা হয় নিউ জার্সি পারফর্মিং আর্টস সেন্টারের প্র“ডেনসিয়াল হলে। এই দৃশ্যটি শ্যুট করতে আট ঘণ্টা সময় লাগে।
৪. জন ন্যাস স্বয়ং সেটে এসেছিলেন। যেভাবে তিনি হাত নাড়িয়ে ছিলেন তা রাসেল ক্রোকে মুগ্ধ করে। রাসেল ক্রো পরে ছবিতে তেমনিভাবে হাত নাড়েন।
৫. এলিসিয়া চরিত্রের জন্যে সালমা হায়েককে ভাবা হয়েছিলো, কারণ সেও এল সালভাদর থেকে এসেছে।
৬. চিত্রনাট্যকার আকিভা গ্লোডসম্যান এ ছবির জন্যে যথার্থ ছিলেন। কারণ আগে তিনি দীর্ঘদিন চাইল্ড কাউন্সিলার ছিলেন এবং এ সময় মানসিক স্বাস্থ্য সেবাকর্মীদের জন্যে একটি পদ্ধতির আবিষ্কার করেন। তার বাবা-মা বাড়িতে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত শিশুদের জন্যে একটি দল তৈরি করেছিলেন।
৭. বানার্ড কলেজের অধ্যাপক ডেভ বায়ার ছবিতে এক অঙ্ক উপদেষ্টা হিসাবে কাজ করেছেন। যে সব দৃশ্যে রাসেল ক্রো অঙ্ক করেছে সে সব দৃশ্যে তার হাত দেখানো হয়েছে।
৮. রাসেল ক্রো যাতে ঠিক মতো চরিত্রটির মানসিক বিকাশ ঘটাতে পারে সে জন্যে ছবিটি চিত্রনাট্যের ধারাবাহিকতায় শুটিং করা হয়।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


