নোংরা মেয়ে
১৪ ই মে, ২০০৮ দুপুর ১২:২৪
আমাকে চিনতে পারছো তো অনিন্দ্য!!
রোজ যাকে বাসে করে অফিসে যেতে দেখ
কখনো দাঁড়িয়ে রড ধরে হেলে দুলে
তুমিও দাঁড়াও আমার গা ঘেসে,
কখনো নিজেকে সামলে রাখতে না পেরে আমার ওপরই ঝাঁপিয়ে পড়ে উল্টো আমাকেই গালমন্দ করতে থাকো,
আমি কেন আমাকে সামলে চলতে পারিনি।
অথচ চালকের আচমকা ব্রেক কষলে যেন তোমার সুবিধাই হয় আরেকটু। হাত দুখানা চলে যায় জায়গামতো; কখনো সরি বলো
কখনো বা বিজয়ী হাসি। আমি তখনো কিছু বলতে পারিনি তোমাকে;
পাছে আমাকেই একজন বাজে মেয়ে সাব্যস্ত হতে হয়,
চোখে-মুখে গিলে খাওয়া অর্ধশত পুরুষদের সামনে।
আবার আমিই যখন বসে থাকি অনেক দুর্লভে পাওযা কোন সিটে,
তুমি তখন আমারি গা ঘেসে দাঁড়িয়ে দেখতে থাকো
আমার বুকের অনাবৃত অংশ।
কল্পনায় তখন আমাকে নিয়ে তুমি অন্য জগতে।
কখনো বা মনে মনে ফুঁসতে থাকো
কামিজের গলাটা এতো চাপা হলো কেন
পারতো তো আরেকটু প্রসারিত হতে
তাহলে আর এতটা কষ্ট করতে হতোনা
না চাইতেই তোমার সুস্বাদু খাবারের সন্ধ্যান পেয়ে যেতে।
আমাকে কি এখনো চেনোনি, অনিন্দ্য!!
যাকে তুমি একবার রবি ঠাকুরের লাবণ্য নামেই বেশী ডাকতে,
কখনো আবার বনলতা সেন কিংবা সুনীলের বরুনা অথবা নীরা!
যখন যা ডাকতে ইচ্ছে করতো তাই ডাকতে।
মনে পড়ে বাংলা ডিপার্টমেন্টের সামনে
কতো অপ্রয়োজনে এসে দাঁড়িয়ে থাকতে।
শ'খানেক প্রেমের কবিতা একদম মুখস্ত করে ফেলেছিলে
শুধু আমাকে শোনাবে বলে।
তোমার কণ্ঠে আবুত্তি করা কবিতাগুলো মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে শুনতাম।
এত দরাজ কণ্ঠে কি করে করো! আমি তাজ্জব বনে যাই।
বারবার ছুটে যাই তোমার কণ্ঠে কবিতা শুনতে।
তুমি আমাকে জড়িয়ে ধরে রাখো সারাদিন
কখনো গভীর রাত নেমে আসে
তোমার লোমশ বুকে মাথা রেখে, নাক ঘষে তোমার বুকে কখনো
মনে হতো তোমার ঐ বুকটাই আমার নিরাপদ আশ্রয়।
এরপর তুমিও বেসামাল হয়ে পড়তে
নিঃশ্বাস নিতে ঘনঘন
আদরে আদরে আমাকে পাগল করে তুলতে
কপাল থেকে শুরু করে চোখ নাক কান থুতনি এবং ঠোঁট;
ওখানে এসে তুমি থেমে যেতে, যেন যাত্রা বিরতি।
রঙ না মাখা আমার গোলাপী ঠোঁট দুটোই তোমার সবচেয়ে প্রিয় ছিল।
এরপর এবং এরপর তুমি আর থেমে থাকতে না।
আমি যেন তোমাকে বাঁধা দিতে চাইতাম
কিন্তু ঐ বাঁধাটা কখনো তেমন জোরালো হতোনা।
এখনো আমাকে চিনতে পারলেনা, অনিন্দ্য!
যমুনা ব্রিজ দেখানোর কথা বলে
আমাকে নিয়ে গেলে যমুনার পারে, নতুন গড়ে ওঠা যমুনা রিসোর্টে
নিজেই ড্রাভিং করে এলে ঢাকা থেকে এতো দূর!
তোমার সে কি উচ্ছ্বাস!
আমার একটু স্পর্শ পাওয়ার জন্য তোমার সে কি ব্যাকুলতা!
সারাটা পথ আবৃত্তি আর গানে আমাকে মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখলে।
তোমার যেন আর তর সইছিলোনা!
গাড়িতেই কয়েকবার জড়িয়ে ধরতে চাইলে
রিসোর্টে গিয়েও তোমার উৎসাহের কোন কমতি দেখিনি।
চমকে দিলে হীরের আংটি পরিয়ে বেশ আত্মবিশ্বাসের সাথে।
সারাটা দিন আমাকে ভরিয়ে দিলে আদরে আদরে।
আমিও নিজেকে সঁপে দিলেম তোমার কাছে
সবকিছু উজার করে তোমাকে ভালো বাসলাম।
আর প্রতিদান হিসেবে তুমি ফেরার সময় বললে, ছিঃ! বাজে মেয়ে।।
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): কবিতা ;
রাফা বলেছেন:
চিরন্তন সত্য বিপরিত লিঙ্গের প্রতি আমাদের এই আকর্ষন।একে কখনো অস্বিকার করা যায় না।
সোনারমানুষ বলেছেন:
খুউবই বড় কবিতা। কিন্তূ চমৎকার হয়েছে। কবিতাটি পড়ে পুরুষ হিসেবে মাথা হেট হয়ে আসে। তবে মুনমুন, আপনার কবিতার অনিন্দ্য'র মতো কিন্তু সব পুরুষ নয়। অনেকেই প্রেমের দাম দিতে পারে। অনেকেই হয়তো সুপুরুষ। তেমন কারো সন্ধান পেলে আপনার কবিতা হয়তো অন্য রকম হতে পারতো।
রণক ইকরাম বলেছেন:
ভালোবাসা, আবেগ অনভিূতি সব কিছুর সম্মিলিত শক্তির চেয়ে বাস্তবতার শক্তি অনেক অনেক বেশি.......আর তাছাড়া অনিন্দ্যরা এমনই হয়!!!
""শ্রাবণী"" বলেছেন:
হুমমম...
মুনমুন বলেছেন:
ধন্যবাদ আপনাদের। তবে এরকম বাস্তবেও ঘটছে।
হিমু রুদ্র বলেছেন:
কবিতা ভালো হয়েছে এবং পুরুষদের রিয়েল স্বভাব-চরিত্র নিয়েই লেখা হয়েছে !এরকম আরো লিখুন ...
যা হোক... হিমুকে নিয়ে জরিপ চলতেসে.. আর আপনি বসে আসেন ক্যানো ?
জলদি যোগ দিন হিমু উৎসবে -
Click This Link
রবিউলকরিম বলেছেন:
এটা তো কৃষ্ণকলির ছবি। এখানে আসলো কেমন করে?কবিতা না বলে একে অনুভূতিমালা বলা যায়- পুরুষ সম্পর্কে।
ভালো লাগল।
ফরিদুল ইসলাম শাওন বলেছেন:
সবাই আনিন্দ্য হতে চায়না, আবার কেউ আনিন্দ্যকে ধারন করে নারী পুরুষের ভালোবাসায় বিশ্বাস নষ্ট হওয়াটা যে বড় কষ্টের
নামহীন মানব বলেছেন:
দারুন হয়েছে। তবে কৌশিকদা এর সাথে সুর মিলিয়ে বলতে চাই, সব করলো দুজনে মিলে আর দোষ হল মেয়ের। এই আমাদের সমাজ।
বৃত্তবন্দী বলেছেন:
হুমমম....পুরূষের এমন কাছের, এমন ভিতরের চিন্তা গুলো এই মেয়ে কিভাবে তুলে আনলো?
বিচ্ছিরী।
সাথে +++++
ইলা বলেছেন:
সব ব্যাপারে ছেলেদের বাড়া বাড়ি। ওরা যখন ভালবাসে তখন এর তুলনা হয় না। ঘৃনার ক্ষেত্রে আরো বেশী।
না লেখা খারাপ হয় নাই।
মু্ক্ত মানব বলেছেন:
ভালো লাগলো কবিতা। ভালো লাগেনি অনিন্দ্যর 'খেলা খতম , পয়সা হজম' মার্কা মন্তব্য।
প্রেমিক বলেছেন:
এই ফটুক কি আপনের?
লেখক বলেছেন: জ্বিনা। এটা আমার ছবি না। এটা কৃষ্ণকলির ছবি।
হাবীব ইমন বলেছেন:
ভালো লাগছে। দীর্ঘ। ধারাবাহিকতা অসাধারণ।
তবে শব্দগত আরো সৌন্দর্য আশা করছিলাম।
রূপক অর্থ অভাব আছে।
শুভ কামনা আপনার জন্যে . . .
মুনমুন বলেছেন:
ধন্যবাদ ইমন। আমি সাবলিলভাবেই আসলকথাটা বলতে চেয়েছি। সেখানে কোন অশালীনতা আনিনি। আমরা বাস্তবে আরো অনেক অশালীন শব্দ ব্যবহার করে থাকি। তাছাড়া বাস্তব আরো কঠিন। আমি আর কঠিন করতে চাইনি।
উধাও ভাবুক বলেছেন:
প্রথমেই + দিলাম।
বাস্তবে হয়েছে বলেই হয়তো এতটা হৃদয়স্পর্শী লেগেছে (আমার কাছে, অন্যেরটা বলতে পারবোনা)।
আর লেখার শুরু আর শেষের মধ্যে যে একটা ধারাবাহিকতা তাতেই সত্যতা ফুটে ওঠে।
আর কি বলবো সহমর্মিতা জানাবো না কি করবো ভেবে পাচ্ছিনা। কারন সমাজে এমন অসংখ্য কাহিনী আর অনিন্দ্য আছে।
তবে আপনি প্রশসংসার দাবীদার সাবলিলভাবে প্রকাশ করার জন্য।
পারভেজ বলেছেন:
অসাধারন.......
মেসবাহ য়াযাদ বলেছেন:
এতোক্ষনে অরিন্দম !!! বেয়াইন, ভালো আছেন ????
মুনিয়া বলেছেন:
বুঝলাম না, প্রিয়তে শো করছে না কেন?
মদন বলেছেন:
সোন্দয্য হইসে...
রুখসানা তাজীন বলেছেন:
কবিতা একটা গল্প হয়ে উঠলো নিমেষে, দারুণ নাড়িয়ে।ভালো লিখেন, থাকবেনও ভালো। শুভকামনা।
মুনমুন বলেছেন:
আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ। শুভ কামনা।
অরুনাভ বলেছেন:
ভালো লেগেছে........
মুহিব বলেছেন:
মনে হল যেন আমাকেই বলছেন। অদ্ভূত!!!
পথিক!!!!!!! বলেছেন:
উফফফপপপপপপপপ দারুন
সাঁঝবাতি'র রুপকথা বলেছেন:
অসাধারন.......
তৃিষত বলেছেন:
''+''
তানজু রাহমান বলেছেন:
মারাত্মক দারুন!
পারভেজ বলেছেন:
চমৎকার, নিটোল- পরিপূর্ণ কবিতা। তবে শুরুর মধ্যবিত্তভিত্তিক রেশ টা পরে আর পেলাম না! যদিও তাতে কাব্যরস ক্ষুন্ন হয়নি মোটেও
কালপুরুষ বলেছেন:
ভাল লাগলো। কবিতাটা অনেকদিন আগে একবার পড়েছিলাম। তখনো ভাল লেগেছিল। এখনো ভাল লাগলো।
সাংবাদিক বলেছেন:
আপনার পোস্ট করা লেখাগুলো আজকে একবার চোখ বুলালাম........ আপনি কি আসলে ছেলেদের এতোটা হীন দৃষ্টিতে দেখেন কেন?
সব ছেলে তো এর এক নয়, একটু ভেবে দেখুন মেয়েদের মধ্যেও কিন্তু এহেন চরিত্রের অনেকেই আছেন।..........
বিস্তারিত হয়তো বুঝে নিতে পারবেন..................


















