somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

তিনি এবং তার বোতলেরা

৩০ শে জুলাই, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:০৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অতঃপর তিনি হাতের বোতলটা একটু দুরে রেখে কলমটা তুলে নিলেন। কাগজে খসখস করতে লাগলেন
আমার ঘরে অনেকগুলি বোতল ও শিশি
রাত যদি হয় নিশি

একটু থেমে ঘড়িটার দিকে তাকালেন। রাত ততটা নিশি হয়নি। প্রহরের হিসাবে দ্বি-প্রহর। অদূরে রাস্তার বাস ট্রাকের শব্দ যথারীতি কানে আসছে। যদিও গলির কুকুরটা একটানা ডেকেই চলছে। বাড়ছে গলির নিরবতা সাথে দু'চারজনের ব্যস্ত চলাচল। আর ঘরের মধ্যে মশাদের উড়াউড়ি। তিনি যথারীতি ভেবে চলছেন। আবার বোতলগুলোর দিকে তাকান। তিনি লিখতে শুরু করেন

আমি ওদের সাথে খুব আনন্দে মিশি
খেলি
আর খুলে খুলে খাই; সব দেশি
যদিও মাঝেমাঝে কিছু বিদেশি
তারপর
এইযে বোতল শিশি খেলা
শিশি বোতলের মেলা
আমি ভালোবাসি
খুব
আর শেষে বোতলেরা নাচে
আর বোতলের কাঁচে
ভাসে
আমার মুখ ও ছবি

অতএব আমি একজন কবি...

তারপর মেলায় জমজমাট বোতলের মধ্য থেকে নৃত্যরত একটি বোতল তিনি টেনে নেন। একবারে সম্পূর্ণ কুমারী একটি বোতল। বোতলটির কুমারীত্ব হরণ করে তিনি এর জন্মের পূর্ণতা দেন। আর অস্পষ্ট ভাবে উচ্চারণ করতে লাগলেন

''DEATH BY COMMERCIALISM
AND
DEATH BY THE CORRUPTION
WHITCH SURROUNDED US.''

উচ্চারিত শব্দগুলোকে নিয়ে তিনি হাত বাড়ালেন নরকের দিকে। ধীরে ধীরে পেড়ে আনলেন নরকের রোজনামচার কয়েক টুকরো। তিনি কাগজ রেখে ডায়রিতে লিখতে শুরু করলেন

''সেই মূহুর্ত অবস্থানের জন্য মিথ্যের মায়া টিকতে পারে,
আমি পালানোর পন্থা বানাচ্ছি,
আমি আমার রক্তের জোরে হুরমুড়িয়ে যাচ্ছি
যে কোন ভুল পথের দিকে।''

তিনি বোতল, কলম সবই রেখে দিলেন। মেঝেতে নৃত্যরত বোতলগুলোর দিকে তাকালেন। ছাব্বিশটা বোতল। একবারও তাল কাটছে না। একতালে নাচছে বোতলগুলো। সবকটা বোতলেই তার প্রতিচ্ছবি ভাসছে। ছাব্বিশটা তিনি, তার সামনে দাঁড়িযে নৃত্যকলায় রত। ছাব্বিশটা নৃত্যরত তিনির সামনে একা তিনি দাঁড়িয়ে। তিনি মিশবেন কিনা ছাব্বিশটা তার সাথে...ভাবছেন! শেষবারের মতো কিংবা মাঝামাঝি কোন বারে কিংবা সবকিছু ভুলে প্রথমবারের মতো। একটু দ্বিধা তৈরি হল এই মূহুর্তে। তিনি উচ্চারণ করলেন

''তুমি এক অস্থির, রহস্যপূর্ণ, চলমান পিয়ানো। তোমাকে জানতে হবে চাবিগুলো কোথায়।''

অতঃপর তিনি চাবি খোঁজায় মগ্ন হলেন। পিয়ানোতে সুর তুলবেন। তিনি হাতড়াচ্ছেন। খুঁজে চলছেন চারিদিক। সুটের পকেট। টেবিলের ড্রয়ার। বালিশের নিচে। বইয়ের ভাঁজে। কমোডের ফাঁকে। চুলার আগুনে। চালের বস্তায়। ময়লার ঝুড়িতে। জুতার ভিতরে। কোথাও মিললনা চাবি। তিনি সুর তুলতে পারলেন না। হঠাৎ কেন যেন তার মনে হল চাবি বোধহয় তার বীর্যে। তিনি বীর্য স্খলনের কথা ভাবলেন। ভাবলেন মাস্টারবেশনের কথা। কিন্তু তিনি তার লিঙ্গটিকে কিছুতেই দৃঢ় করতে পারলেন না যাতে বীর্যের স্খলন ঘটে। তিনি চোখ বুঁজলেন। একটি মুখ আঁকতে চাইলেন অন্ধকারে। হয়তো তার প্রেমিকার। তারপর পুরো শরীর গড়তে চইলেন। প্রেমিকার স্তন, নিতম্ব কিংবা যোনীর অবয়ব দেখতে চাইলেন যাতে তার লিঙ্গটি দৃঢ়তা পায়। চোখবন্ধ তিনি। কিন্তু কিছুতেই প্রেমিকার পুরো অবয়ব গড়তে পারলেন না। একটা স্তন গড়লে আর একটা স্তন ভেঙে যাচ্ছে। কিংবা স্তন গড়া হলে নিতম্ব উধাও হয়ে যাচ্ছে। আবার নিতম্ব পেলেও যোনী পাচ্ছেন না। কেমন যেন বিদঘুটে হয়ে যাচ্ছিল সবকিছু। যার ফলাফল দাঁড়ালো লিঙ্গটি দৃঢ়তার বদলে কোমলতা পেল খুব বেশি। অতএব চাবির সন্ধান কিছুতেই মিলল না। সুরও উঠলো না। তিনি বে সুর রইলেন কিন্তু অসুর হলেন না। আর একটা ঘ্রাণ অনুভব করতে চাইলেন। ভাবতে চাইলেন এই ঘ্রাণটা তার খুব পরিচিত। তিনি তার এই ভাবনাটা পেয়ে সবাইকে প্রমাণ দিতে চাইলেন...

যারা তাকে কবি বলে উপহাস করে।
যারা তার কবিত্বকে অস্বীকার করে।
যারা তার কবিতা না পড়ে অবজ্ঞা করে।

সেই সব বাটখারাদের তিনি প্রমাণ দিতে গিয়ে আবার পুনরাবৃত্তি করলেন নরকের রোজনামচা


''আমি এক মানুষ এবং আমার হাত এবং পা দিয়ে,
আমার সাহস, আমার মাংস হৃদপিণ্ড, পাকস্থলি
যাদের গিঁটগুলো আমার জীবনের পচনে আমায় জাপটে রেখেছে।''

৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×