অতঃপর তিনি হাতের বোতলটা একটু দুরে রেখে কলমটা তুলে নিলেন। কাগজে খসখস করতে লাগলেন
আমার ঘরে অনেকগুলি বোতল ও শিশি
রাত যদি হয় নিশি
একটু থেমে ঘড়িটার দিকে তাকালেন। রাত ততটা নিশি হয়নি। প্রহরের হিসাবে দ্বি-প্রহর। অদূরে রাস্তার বাস ট্রাকের শব্দ যথারীতি কানে আসছে। যদিও গলির কুকুরটা একটানা ডেকেই চলছে। বাড়ছে গলির নিরবতা সাথে দু'চারজনের ব্যস্ত চলাচল। আর ঘরের মধ্যে মশাদের উড়াউড়ি। তিনি যথারীতি ভেবে চলছেন। আবার বোতলগুলোর দিকে তাকান। তিনি লিখতে শুরু করেন
আমি ওদের সাথে খুব আনন্দে মিশি
খেলি
আর খুলে খুলে খাই; সব দেশি
যদিও মাঝেমাঝে কিছু বিদেশি
তারপর
এইযে বোতল শিশি খেলা
শিশি বোতলের মেলা
আমি ভালোবাসি
খুব
আর শেষে বোতলেরা নাচে
আর বোতলের কাঁচে
ভাসে
আমার মুখ ও ছবি
অতএব আমি একজন কবি...
তারপর মেলায় জমজমাট বোতলের মধ্য থেকে নৃত্যরত একটি বোতল তিনি টেনে নেন। একবারে সম্পূর্ণ কুমারী একটি বোতল। বোতলটির কুমারীত্ব হরণ করে তিনি এর জন্মের পূর্ণতা দেন। আর অস্পষ্ট ভাবে উচ্চারণ করতে লাগলেন
''DEATH BY COMMERCIALISM
AND
DEATH BY THE CORRUPTION
WHITCH SURROUNDED US.''
উচ্চারিত শব্দগুলোকে নিয়ে তিনি হাত বাড়ালেন নরকের দিকে। ধীরে ধীরে পেড়ে আনলেন নরকের রোজনামচার কয়েক টুকরো। তিনি কাগজ রেখে ডায়রিতে লিখতে শুরু করলেন
''সেই মূহুর্ত অবস্থানের জন্য মিথ্যের মায়া টিকতে পারে,
আমি পালানোর পন্থা বানাচ্ছি,
আমি আমার রক্তের জোরে হুরমুড়িয়ে যাচ্ছি
যে কোন ভুল পথের দিকে।''
তিনি বোতল, কলম সবই রেখে দিলেন। মেঝেতে নৃত্যরত বোতলগুলোর দিকে তাকালেন। ছাব্বিশটা বোতল। একবারও তাল কাটছে না। একতালে নাচছে বোতলগুলো। সবকটা বোতলেই তার প্রতিচ্ছবি ভাসছে। ছাব্বিশটা তিনি, তার সামনে দাঁড়িযে নৃত্যকলায় রত। ছাব্বিশটা নৃত্যরত তিনির সামনে একা তিনি দাঁড়িয়ে। তিনি মিশবেন কিনা ছাব্বিশটা তার সাথে...ভাবছেন! শেষবারের মতো কিংবা মাঝামাঝি কোন বারে কিংবা সবকিছু ভুলে প্রথমবারের মতো। একটু দ্বিধা তৈরি হল এই মূহুর্তে। তিনি উচ্চারণ করলেন
''তুমি এক অস্থির, রহস্যপূর্ণ, চলমান পিয়ানো। তোমাকে জানতে হবে চাবিগুলো কোথায়।''
অতঃপর তিনি চাবি খোঁজায় মগ্ন হলেন। পিয়ানোতে সুর তুলবেন। তিনি হাতড়াচ্ছেন। খুঁজে চলছেন চারিদিক। সুটের পকেট। টেবিলের ড্রয়ার। বালিশের নিচে। বইয়ের ভাঁজে। কমোডের ফাঁকে। চুলার আগুনে। চালের বস্তায়। ময়লার ঝুড়িতে। জুতার ভিতরে। কোথাও মিললনা চাবি। তিনি সুর তুলতে পারলেন না। হঠাৎ কেন যেন তার মনে হল চাবি বোধহয় তার বীর্যে। তিনি বীর্য স্খলনের কথা ভাবলেন। ভাবলেন মাস্টারবেশনের কথা। কিন্তু তিনি তার লিঙ্গটিকে কিছুতেই দৃঢ় করতে পারলেন না যাতে বীর্যের স্খলন ঘটে। তিনি চোখ বুঁজলেন। একটি মুখ আঁকতে চাইলেন অন্ধকারে। হয়তো তার প্রেমিকার। তারপর পুরো শরীর গড়তে চইলেন। প্রেমিকার স্তন, নিতম্ব কিংবা যোনীর অবয়ব দেখতে চাইলেন যাতে তার লিঙ্গটি দৃঢ়তা পায়। চোখবন্ধ তিনি। কিন্তু কিছুতেই প্রেমিকার পুরো অবয়ব গড়তে পারলেন না। একটা স্তন গড়লে আর একটা স্তন ভেঙে যাচ্ছে। কিংবা স্তন গড়া হলে নিতম্ব উধাও হয়ে যাচ্ছে। আবার নিতম্ব পেলেও যোনী পাচ্ছেন না। কেমন যেন বিদঘুটে হয়ে যাচ্ছিল সবকিছু। যার ফলাফল দাঁড়ালো লিঙ্গটি দৃঢ়তার বদলে কোমলতা পেল খুব বেশি। অতএব চাবির সন্ধান কিছুতেই মিলল না। সুরও উঠলো না। তিনি বে সুর রইলেন কিন্তু অসুর হলেন না। আর একটা ঘ্রাণ অনুভব করতে চাইলেন। ভাবতে চাইলেন এই ঘ্রাণটা তার খুব পরিচিত। তিনি তার এই ভাবনাটা পেয়ে সবাইকে প্রমাণ দিতে চাইলেন...
যারা তাকে কবি বলে উপহাস করে।
যারা তার কবিত্বকে অস্বীকার করে।
যারা তার কবিতা না পড়ে অবজ্ঞা করে।
সেই সব বাটখারাদের তিনি প্রমাণ দিতে গিয়ে আবার পুনরাবৃত্তি করলেন নরকের রোজনামচা
''আমি এক মানুষ এবং আমার হাত এবং পা দিয়ে,
আমার সাহস, আমার মাংস হৃদপিণ্ড, পাকস্থলি
যাদের গিঁটগুলো আমার জীবনের পচনে আমায় জাপটে রেখেছে।''

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


