মেয়েদের কাছে নাকি স্বামী মানেই আসামি। তাই তো তারা স্বামীকে সবসময় চোখে চোখে রাখেন। বিলেতে জমকালো পার্টিতে স্বামী সস্ত্রীক গেছেন। হঠাৎ স্ত্রী দেখেন স্বামী আশপাশে কোথাও নেই। তিনি মরিয়া হয়ে স্বামীকে খুঁজতে লাগলেন। পরিচিত এক মহিলা তাকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘আপনি কি আপনার স্বামীকে খুঁজছেন?’ তিনি একগাল হেসে জবাব দিলেন, ‘না, একটু আগে যে সুন্দরী যুবতীটি ট্রেতে করে সবাইকে ড্রিংক সার্ভ করছিল আমি তাকে খুঁজছি; তাকে পেলেই আমার স্বামীকে পাওয়া যাবে।’
আর হাসপাতালের কেবিনে চিকিৎসাধীন রোগিণী তার বান্ধবীর সঙ্গে আলাপ করছিলেন, ‘আজ বিকেলে যখন ডাক্তার আমাকে পরীক্ষা করছিলেন, তখন আমি নার্সকে ডেকে আমার কাছে রেখেছি।’ ‘সেকি!’ বান্ধবী বিস্মিত হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, ‘তুমি কি একাকী ডাক্তারকে বিশ্বাস করতে পারছ না?’ প্রত্যুত্তরে রোগিণী বললেন, ‘ডাক্তারকে বিশ্বাস করতে পারব না কেন? আসলে আমি নার্সের সঙ্গে রিসেপশনে একা বসা আমার স্বামীকে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না।’
আরও আছে। বাচ্চা ছেলের স্কুলের রিপোর্ট কার্ডে শিক্ষয়িত্রী লিখে দিয়েছেন : ‘লেখাপড়ায় ভালো। তবে সে মেয়েদের ব্যাপারে বেশি মনোযোগী। আমরা অবশ্য চেষ্টা করছি তার এই অভ্যাসটি পালটাতে।’ ছেলের মা অভিভাবকের মন্তব্য কলামে লিখে দিলেন, ‘সফলতা লাভ করলে আমাকে জানাবেন; আমি পদ্ধতিটা ওর বাপের ওপর প্রয়োগ করব।’
অবশ্য এই অবিশ্বাস তথা সন্দেহপ্রবণতার শুরু সেই আদিম দম্পতি আদম ও হাওয়া থেকেই। আদিমানব আদমের বাঁ-দিকের একটি পাঁজর থেকে আদিমানবী হাওয়ার সৃষ্টি- যে কারণে বলা হয়ে থাকে যে, বাবা আদম কোনও কাজে বাইরে বেরম্নলে ঘরে ফিরতেই মা হাওয়া তার পাঁজরগুলো গুনে নিশ্চিন্ত হতে চাইতেন। আর এটার একটা ধনাত্মক দিকও আছে। একজন স্বামী একবার বলেছিলেন, ‘আমি আমার স্ত্রীর ব্যাপারে খুব উদ্বিগ্ন। তিনি কি আমাকে আর আগের মতো ভালবাসেন না? কেননা তিনি আর আমাকে আগের মতো সন্দেহ ও বকাঝকা করেন না।’
তবে এই অবিশ্বাস ও সন্দেহপ্রবণতা কেবল স্ত্রীদের বেলায়ই নয়, বহু স্বামীর বেলায়ও প্রযোজ্য। শোনেন তাহলে গল্প : পরলোকে স্বর্গের দ্বারে তিনজন স্বামীর মধ্যে কথাবার্তা হচ্ছিল, কে কীভাবে মারা গেলেন। তো একজন বললেন, ‘আমি হার্ট-অ্যাটাকে মারা গেছি। বহুদিন যাবত সন্দেহ করছিলাম আমার বউ পরকীয়া করছে, কিন্তু হাতেনাতে ধরতে পারছিলাম না। একদিন অসময়ে বাড়ি ফিরে বেডরম্নমে এসট্রেতে জ্বলন্ত সিগারেটের টুকরো দেখেই ভাবলাম, শয়তানটা ঘরের মধ্যেই লুকিয়ে আছে। কিন্তু সারা ঘর তন্নতন্ন করে খুঁজেও কাউকে না পেয়ে রাগের মাথায় ঘরের ফ্রিজটা বাইরে ছুড়ে মারি; আর এই অমানুষিক পরিশ্রমেই আমার হার্ট-অ্যাটাক হলো।’
দ্বিতীয় জন তখন বললেন, ‘আমি রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলাম, হঠাৎ কোত্থেকে একটা ফ্রিজ ছুটে এসে আমার মাথায় আঘাত করায় মৃত্যু ঘটে। এখন বুঝতে পারছি, ওই ফ্রিজটা আপনিই ছুড়ে মেরেছিলেন।’
এবারে তৃতীয় জন প্রথমোক্ত ব্যক্তিকে উদ্দেশ করে বললেন, ‘আপনি ঘরের সব জিনিস খুঁজলেন, কিন্তু ফ্রিজের ঢাকনাটা তুলে দেখলেন না। তাহলে তো আজ আমরা তিনজনেই বেঁচে থাকতাম।’
আর আমাদের ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেই গল্পটি আশা করি সবার জানা : ভানু বাসে দন্ডায়মান অবস্থায় ঝাঁকি সহ্য করতে না পেরে ছিটকে হঠাৎ মহিলা যাত্রীর কোলে বসে পড়লে তৎক্ষণাৎ দাঁড়িয়ে দুঃখ প্রকাশ করলেও মহিলার পাশে বসা স্বামীকে সারাক্ষণ গজরাতে দেখে তিনি নামার বেলায় নিজের ঠিকানা সংবলিত ছাপানো কার্ড স্বামীর হাতে গুঁজে দিয়ে বলেছিলেন, ‘আপনি সময়-সুযোগ মতো আমার বাসায় গিয়ে যতক্ষণ খুশি আমার বউয়ের কোলে বইসা আইসেন; তাতে আপনার ক্ষোভ হয়তো খানিকটা কমবে।’
সে যা হোক। স্ত্রীকে ভয় করেন না, সংসারে এমন স্বামীর সংখ্যা বোধকরি হাতেগোনা। এ সংক্রান্ত সবচাইতে মুখরোচক গল্পটি সৈয়দ মুজতবা আলী সাহেবের কল্যাণে বিদগ্ধ পাঠক-পাঠিকাদের জানা থাকারই কথা- সেই যে ‘রাজ্যের সব তাগড়া তাগড়া জোয়ান স্বামীরা স্ত্রীদের ভয় পান আর তুমি একা ভয় না পাওয়ার দলে দাঁড়িয়ে আছ, এটা কেমন কথা’, মন্ত্রীর এবংবিধ মন্তব্যের প্রেক্ষিতে হালকা-পাতলা স্বামী লোকটি বলে উঠেছিল, ‘হুজুর অতশত বুঝি না; আমি এখানে আসার সময় আমার বউ বলে দিয়েছে, যে দিকে মানুষের ভিড় দেখবা সেদিকে যাবা না।’
গল্পটার আধুনিক আমেরিকান সংস্করণও কম চিত্তাকর্ষক নয় : আমেরিকার এক খামখেয়ালি কোটিপতি নাকি একবার সে দেশের গ্রামাঞ্চলে তার এক প্রতিনিধি পাঠালেন। প্রতিনিধিকে দায়িত্ব দেওয়া হলো, তিনি প্রতিটি পরিবারে স্বামীর সাক্ষাৎকার নেবেন এবং স্বামী স্ত্রৈণ নয় প্রতীয়মান হলে একটি ঘোড়া উপহার দেবেন, অন্যথায় একটা মুরগি। তো সর্বত্রই মুরগি দিতে হলো, কেবল একটি খামারবাড়িতে একজন স্বাস্থ্যবান স্বামীর কথায় বিশ্বাস করে প্রতিনিধি জানালেন, ‘আমার কাছে দুই রঙের ঘোড়া আছে; আপনি কোন রঙের নেবেন সেটা আপনিই স্থির করবেন।’ স্বামীটি তখন অদূরে দন্ডায়মান ক্ষীণকায় স্ত্রীকে লক্ষ্য করে গলার স্বর মোলায়েমপূর্বক বললেন, ‘মার্থা, এই ভদ্রলোক আমাদের একটা ঘোড়া দিতে চাইছেন। আমি কোন রঙেরটা নেব?’ প্রতিনিধি তৎক্ষণাৎ বলে উঠলেন, ‘তাহলে আপনি ঘোড়া নয় একটা মুরগি পাচ্ছেন।’
তা এই প্রসঙ্গে কে যেন একবার বলেছিলেন- বহু লোক আছেন যারা তাদের কর্মস্থলের বসকে বাড়িতে নিয়ে আসেন না এ কারণে যে, বাড়িতেও তো একজন বস আছেন; এবং যে লোকটি দাবি করে যে সে বাড়িতেও বস তার সম্পর্কে সতর্ক থাকুন, কারণ সে অন্যান্য ব্যাপারেও মিথ্যা দম্ভোক্তি করতে পারে। আর হাসির রাজা মার্ক টোয়েনকে যখন জিজ্ঞেস করা হয়েছিল খ্রিস্টধর্মে একসঙ্গে দুই স্ত্রী রাখা কেন নিষিদ্ধ, তখন তিনি নাকি জবাব দিয়েছিলেন, ‘কোনও মানুষের পক্ষেই দুজন মনিবের অধীনে থাকা সম্ভব নয়।’ মনিব বলতে তিনি এ ক্ষেত্রে স্ত্রীকেই বুঝেছিলেন। প্রসঙ্গত, আমেরিকায় নাকি বলা হয়ে থাকে যে, সুপ্রিম কোর্ট স্বামীকে স্ত্রীর অসাক্ষাতে তার চিঠিপত্রাদি খোলার অধিকার দিয়েছে বটে; কিন্তু খোলার সাহস দেয়নি। আর এই সাহস দেয়নি বলেই জনৈক স্বামী ছয় মাস আগে স্ত্রীকে তালাক দিলেও তাকে জানাতে সাহস পাননি।
অনেকে অবশ্য চাপাবাজির দ্বারা ব্যাপারটাকে চাপা দিতে চেষ্টা করেন, সেটা অনেকটা শাক দিয়ে মাছ ঢাকার মতো হয়ে যায়। উদাহরণস্বরূপ, এক স্বামীপ্রবর একবার বলছিলেন, ‘আমার পরিবারে আমিই বস। আমার স্ত্রী রুটিন ও মাইনর ডিসিশন্স তথা ছোটখাটো সিদ্ধান্তসমূহ নিয়ে থাকেন আর আমি নিই মেজর ডিসিশন্স। এই যেমন আমরা কোন বাড়িতে থাকব, বাইরে কোথায় বেড়াতে যাব, বাচ্চাকে কোন স্কুলে ভর্তি করাব ইত্যাদি বিষয় আমার স্ত্রী দেখেন। আর আমি নিই বিরাট ও মৌলিক বিষয়ে সিদ্ধান্ত; যেমন কোন পার্টি সরকার গঠন করবে, জাতিসংঘের বৈঠক কবে হবে ইত্যাদি।’ ভদ্রলোকের স্ত্রীভাগ্য ভালোই বলতে হবে।
আর স্বামী কর্তৃক স্ত্রী অত্যাচারিত ও নিগৃহীত হওয়ার খবর পত্রিকার পাতায় অহরহই ছাপা হয়, কিন্তু স্ত্রী কর্তৃক স্বামী নিগৃহীত হওয়ার ঘটনা মোটেই দুর্লভ নয়। বিলেতের এক গির্জায় রবিবারের প্রার্থনা সভায় নাকি পাদ্রী সাহেব বিষয়টির অবতারণা করে কে কে স্ত্রী দ্বারা অত্যাচারিত জানতে চাইলে একজন ব্যতিরেকে বাদবাকি সবাই উঠে দাঁড়ালেন। অতঃপর পাদ্রী ভদ্রলোককে ‘সৌভাগ্যবান’ বলে আখ্যায়িত করে প্রশংসা শুরু করলে তিনি বিনীতভাবে জানালেন, ‘আমি পক্ষঘাতের রোগী, হুইল চেয়ার থেকে উঠতে পারছিনে; নতুবা সবাইর আগে উঠে দাঁড়াতাম।’ আরেকজনকে কবরস্থানে একটি কবরের পাশে ‘আপনি কেন মারা গেলেন, আপনি কেন মারা গেলেন’ বলে বিলাপ করতে দেখে জনৈক পথচারী সান্ত্বনা দিতে গিয়ে কবরবাসী নিশ্চয়ই আপনার খুব কাছের লোক ছিলেন বলাতে লোকটি কান্না থামিয়ে বলে উঠল, ‘আমি তাকে কোনওদিন দেখিইনি। তিনি আমার স্ত্রীর প্রথম স্বামী।’
আরও আছে। বিয়ের দশ বছরপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত ঘরোয়া অনুষ্ঠানে স্বামীকে ম্লানমুখে একপাশে চুপচাপ বসে থাকতে দেখে জনৈক আত্মীয় কারণ জিজ্ঞেস করাতে তিনি সখেদে বলতে লাগলেন, ‘বিয়ের আগে আমার বউয়ের সঙ্গে পার্কে বসে প্রেম করার এক পর্যায়ে আমার পুলিশ-অফিসার শ্বশুর হঠাৎ আবির্ভূত হয়ে বললেন- তুমি যদি অবিলম্বে আমার মেয়েকে বিয়ে না কর, তাহলে প্রেম করার মজা বুঝিয়ে দেব, এমন চার্জ এনে লালঘরে ঢোকাব যে দশ বছরের আগে বেরোতে পারবে না। এই মুহূর্তে ভাবছি, সে দিনের তার সেই কথায় যদি ভয় না পেয়ে তার মেয়েকে বিয়ে না করতাম তাহলে আজ অনত্মত মুক্তির স্বাদ পেতাম।’
পাশ্চাত্যে অপর দুই বিবাহিত বন্ধুতে কথাবার্তা হচ্ছিল। একজন অপরজনকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘আমি বুঝতে পারি না কেন একজন পুরুষ আইনত একাধিক স্ত্রী রাখতে পারবে না।’ অপরজন তখন বললেন, ‘যারা নিজেদের রক্ষা করতে অসমর্থ, আইন তাদের রক্ষা করে থাকে।’ আরেক স্বামী একবার বন্ধুদের উদ্দেশে বললেন, ‘মহাকবি শেক্সপিয়ার বলেছেন, পৃথিবীটা একটা নাট্যশালা এবং আমরা সবাই যার যার ভূমিকায় অভিনয় করে চলেছি। তা আমার বিশ্বাস, এই অভিনয়ের ক্ষেত্রে স্বামীর ভূমিকা গৌণ আর স্ত্রীর ভূমিকা মুখ্য।’
আর হ্যাঁ, যে বিবাহিত দম্পতি দাবি করেন যে তাদের বিবাহিত জীবনে কোনও তর্কাতর্কি বা ঝগড়াঝাটি হয়নি, হয় তাদের স্মৃতিশক্তি দুর্বল না হয় তারা খুব একঘেয়ে জীবনযাপন করছেন। এ ক্ষেত্রে সেই অশীতিপর বৃদ্ধের দৃষ্টান্তই অনুকরণীয়, যিনি তার দীর্ঘজীবন লাভের কারণ বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছিলেন, ‘আমার বিয়ে হয়েছিল ২৫ বছর বয়সে এবং বাসর রাতেই বউয়ের সঙ্গে আমার বোঝাপড়া হয়েছিল এই মর্মে- তর্কাতর্কি তো লাগবেই, যিনি হারবেন তিনি বাড়ির বাইরের মাঠে মুক্ত বাতাস খেতে বেরিয়ে যাবেন। আমার মনে হয়, আমি যে বিগত বছরগুলোতে বাইরে বেরিয়ে মুক্ত বাতাস সেবন করেছি সে জন্য আমার আয়ু বেড়ে গেছে।’
তা স্ত্রীর কাছে পরাজয়টা স্পের্টিংলি নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। এক স্বামী তার বন্ধুবান্ধবদের উদ্দেশে বলছিলেন, ‘আমাদের বিবাহিত জীবন খুব সুখের। আমার স্ত্রী মাঝে-মধ্যে আমার দিকে খাবার প্লেট কিংবা গ্লাস ছুড়ে মারে- আমার গায়ে লাগলে তিনি খুশি, না লাগলে আমি খুশি।’ আরেকজনকে তার বন্ধু জিজ্ঞেস করেছিল, ‘গতরাতে তুমি আর তোমার স্ত্রীর যে ঝগড়া হয়েছিল সেটার নিষ্পত্তি হলো কীভাবে?’ ‘কীভাবে আর হবে, তিনি জবাব দিলেন, ‘শেষমেশ তাকে আমার কাছে হামাগুড়ি দিয়ে আসতে হলো।’
‘অতঃপর কী হলো?’ বন্ধু ব্যগ্রকণ্ঠে শুধালেন।
‘অতঃপর তিনি আমাকে বললেন- খাটের নিচ থেকে বেরিয়ে এস, মুখপোড়া।’ স্বামীপ্রবর একগাল হেসে নিয়ে জবাব দিলেন।
এবারে শুনুন স্বামী সংক্রান্ত সবচাইতে ‘কমন’ গল্পটি : স্ত্রীকে খুশি করার জন্য স্বামী বললেন, ‘তুমি হঠাৎ মারা গেলে আমি পাগল হয়ে যাব।’ স্ত্রী ভেংচি কেটে বললেন, ‘ইস! দুদিন যেতে না যেতেই আরেক বিয়ে করবে। পুরুষ মানুষদের আমার জানা আছে।’ এবারে স্বামীপ্রবর বললেন, ‘তা পাগলে কি না করে!’
আর শহরের রাসত্মা দিয়ে একটি শোকমিছিল যাচ্ছিল, মিছিলের পুরোভাগে একটি শবাধার আর পেছনে পুরুষের লম্বা লাইন। একজন পথচারী কৌতূহলবশত শবাধারের ঠিক পেছনের ভদ্রলোককে প্রশ্ন করে জানতে পেলেন যে, ওটার ভেতরে ওনার স্ত্রীর লাশ এবং ওনার পোষা এলসেশিয়ান কুকুরের কামড়ে তিনি মারা গেছেন। পথচারী এক মিনিট কী চিন্তা করে জিজ্ঞেস করলেন, ‘আপনার ওই কুকুরটা কি আমি একদিনের জন্য ধার নিতে পারি?’
‘তাহলে আপনাকে এই লাইনের একেবারে শেষ প্রান্তে দাঁড়াতে হবে’, শোকাহত স্বামী জবাব দিলেন, ‘এঁরা সবাই তাই-ই চাইছেন।’
পরিশেষে হবু স্বামীদের উপকারার্থে পারস্য সাহিত্যের রত্নভান্ডার থেকে আহরিত চমকপ্রদ গল্পটি : প্রচুর বিত্ত-বৈভবের মালিক দুই বোন ঘোষণা দিল যে তারা প্রত্যেকে রোজ সকালে স্ব স্ব স্বামীকে পঞ্চাশটা করে জুতোর বাড়ি মারবে, এই শর্তে বিয়ে করতে রাজি। চালচুলোহীন দুই ভাই তাতেই রাজি এবং বিয়ে সম্পাদিত হলে দুজনে আলাদা হাবেলিতে অবস্থান করতে লাগল। বেশ কিছুদিন পর দুই ভাইতে সাক্ষাৎ ঘটলে বড় ভাই দেখেন যে, ছোট ভাইয়ের মাথাভর্তি চুল অক্ষত অথচ জুতোর বাড়ি খেতে খেতে তার মাথার চুল সব পড়ে গেছে। জিজ্ঞাসিত হয়ে ছোট ভাই বলল, ‘আমি তো প্রথম রাতেই বিড়াল মেরেছি। ডিনার খাওয়ার সময় স্ত্রীর প্রিয় পোষা বিড়ালটি ‘মিঁয়াও’ বলতেই তরবারির এক কোপে তাকে দ্বিখন্ডিত করায় স্ত্রী ভয় পেয়ে আর জুতো মারার চিন্তাও করেননি।’ বড় ভাই শুনে বললেন, ‘তাহলে আজ রাতে আমিও তাই করব।’
কিন্তু তিনি এটা করে আরও বিপদগ্রস্ত হয়ে পড়লেন। ‘বুঝেছি’, বউ বলল, ‘পঞ্চাশ ঘায়ে তোমার উচিত শিক্ষা হয়নি। আগামীকাল থেকে ওটা ডবল করা হবে।’
অতএব সাধু সাবধান! বিড়াল মারিতে হইলে বিবাহের প্রথম রাত্রিতেই মারিতে হইবে বৈকি!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


