মোনাজাত উদ্দীন - আমাদের চারণ সাংবাদিক - আপনার জন্য ভালবাসা

০৬ ই মে, ২০০৮ সকাল ১০:২৭

শেয়ার করুন:                   Facebook

যেদিন প্রথম শুনলাম মোনাজাত উদ্দীন আর নেই আমি কেঁদেছিলাম। বোধহয় ওটাই প্রথম 'চিনি না' কারো জন্য কান্না।

দৈনিক সংবাদে যখন উনি লিখতেন তখন থেকেই তাঁর লেখা পড়ি। 'পথ থেকে পথে', 'কানসোনার মুখ', পায়রাবন্দের শেকড়ের কথা', 'ছোট ছোট খবর'..... কী অসাধারন লেখা! এমন দরদ দিয়ে এখন কেউ লেখে কিনা কে জানে? ঐ 'দুই পয়সা' মানুষগুলোর জন্য কার এত মাথাব্যথা? অনুসন্ধানী লেখা পাওয়া খুব মুশকিল। মাইলের পর মাইল চটি পায়ে একটা ব্যাগ কাঁধে নিয়ে গ্রামকে গ্রাম নিউজ কভার করা - দেশ বা মানুষের জন্য ভালবাসা-মমতা না থাকলে সম্ভব না। নেশা ছিল কি তাঁর মানুষকে ভালবাসবার?

ছয়ফুট উচ্চতার মেদহীন একজন মানুষ ছিলেন মোনাজাত উদ্দীন। কিভাবে যমুনাতে পড়ে গিয়ে মারা যায়! নদী কি এত নির্দয় হয়?

সত্য রিপোর্টের কারনে অজস্র শত্রু তৈরী করেছিলেন কি? তাঁর মৃত্যুর কারন নিয়ে সাংবাদিকরাও খুব একটা ঘাটাঘাটি করেননি! খুব স্বাভাবিকভাবেই সবাই মেনে নিলেন! কেন? মানুষটি কি নিঃসঙ্গ ছিলেন? মানা যায় না। তবে কি স্ব-পেশার মানুষদের বিরাগভাজন হয়েছিলেন খুব ঘনিষ্টতা না রাখার জন্য? সরাসারি কথা বলার জন্য? কেন তাঁর মৃত্যুর কারন নিয়ে আপনারা এগোলেন না? কেন এটাকে 'স্বাভাবিক বা দুর্ঘটনায় মৃত্যু' মনে করলেন?

আমি যতদূর জানি মোনাজাত উদ্দীন 'প্রেস ক্লাব'-এর সদস্যপদের জন্য খুব বেশী মরিয়া ছিলেন না এবং 'সদস্য'-টুকুও ছিলেন না।

যে বহুযুগ পরে শেখাল নিরস সংবাদকেও সাহিত্যে উত্তরণ করা যায়,
যে আমাদের শেখাল 'গ্রাম সাংবাদিকতা',
যে চিনিয়ে দিল গ্রামকে যেখানে আমাদের সবারই নাড়ী পোঁতা,
যে দেখিয়ে দিল সমাজের ভন্ডদের,
যে খবরের ভিতরের খবর বের করে আনতো অতি সাধারন মানুষের স্বার্থে - তাঁকে আমরা মনে রাখিনি! তাঁর পরিবারের কে কোথায় আছেন কেউ জানি না-খোঁজ নিই না? জানি তাঁর ছেলেটি প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে পড়তে আত্মহত্যা করেছিল, কি দুঃখে তা আর জানা হয়নি। কিন্তু আর অন্য সদস্যরা?

..............আমরা বারবার প্রমান করছি, এ দেশকে যারা ভালবেসেছে সেই মানুষগুলো বড়বেশী অপ্রয়োজনীয় - তাই না? আমরা কি অলক্ষ্যে আমাদেরকে জাতি হিসাবেই এমন প্রমান করছি? উদাসীন, নির্বোধ? ভাবতে কখনোই ভাল লাগে না আমরা তেমন, কিন্তু....?
নাকি ঐ মানুষরা যা করছে আমরা সেগুলোকেই Granted ধরে নিচ্ছি? তাহলে তো কৃতজ্ঞতা থাকা উচিৎ। তার লক্ষণই বা কই?

আমি জানি আর বিশ্বাস করি পল্লীর সেই কিষানী বউ, হাটের ছোট্ট দোকানী বা সেই প্রাকৃতজনেরা আপনাকে হয়ত আপনার নামে নয় - আপনার কাজকে ভালবাসবে আজীবন। মনে রাখবে আর আনমনে জিজ্ঞাসা করবে 'একজন ছিল যে আমাদের কথা বলত, সেই মানুষটা কই'? আপনার অভাব কি পূরণ হবার?

মোনাজাত উদ্দীন আপনি আমার ভালবাসা গ্রহন করুন।

 

প্রকাশ করা হয়েছে: আমার ডায়েরি  বিভাগে ।

 

  • ১৪ টি মন্তব্য
  • ২১১ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ৬ জনের ভাল লেগেছে, ০ জনের ভাল লাগেনি
১. ০৬ ই মে, ২০০৮ সকাল ১০:৩৯
comment by: এস্কিমো বলেছেন: মোনাজাত উদ্দীনের প্রতি রইল গভীর শ্রদ্ধা !
২. ০৬ ই মে, ২০০৮ সকাল ১০:৫৩
comment by: ধোয়াটে বলেছেন: আপনাকে ধন্যবাদ: অকৃতজ্ঞ জাতীর কিছুটা দায় মোচন কেরেছেন। পলি মাটিতে স্মৃতির দাগ থাকে - মুছে যায় সহসা, তার মাঝে মাঝে রোদে পুড়ে মাটি শক্ত কঠিন হয়ে থাকে কোথাও কোথাও, কষ্টের স্মৃতিগুলি তাই বাঙালি জীবনের জন্য ভালো - কাদামাটিতে পথ নির্দেশের জন্য - মোনাজাত উদ্দীন বিস্মরণ থেকে তুলে আনা তেমন পাথর
৩. ০৬ ই মে, ২০০৮ সকাল ১১:৩৪
comment by: মানবী বলেছেন: সাংবাদিক মোনাজাত উদ্দীনের লেখা পড়েছি কিনা বিশেষভাবে মনে নেই, তবে তাঁর মৃত্যু সংবাদ জেনে আমার বাবা খুব মন খারাপ করেছিলেন। তাঁর কাছেই জেনেছি, মোনাজাত উদ্দীন প্রত্যন্ত অন্চলের অবহেলিত মানুষের কথা তুলে ধরতেন। মৃত্যুর পর তাঁর নাম জানি, এবং কিছুদিন পর রহস্যজনক ভাবে তাঁর একমাত্র পুত্র আত্মহত্যা করায় খুব খারাপ লেগেছিলো পরিবারটির জন্য।


দোয়া করি, যেখানেই আছেন তাঁরা যেন ভালো থাকেন।

পোস্টটির জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ মোস্তফা আমিন।
০৬ ই মে, ২০০৮ দুপুর ১:৩১

লেখক বলেছেন: @ মানবী, আপনাকে ধন্যবাদ। মোনাজাত উদ্দীনের লেখা পড়তে হলে আপনি এই লেখার শুরুতে যে বইগুলোর উল্লেখ আছে সেগুলো পড়তে পারেন - 'পথ থেকে পথে', "কানসোনার মুখ', 'পায়রাবন্দের শেকড় সংবাদ', 'ছোট ছোট খবর' এগুলো পড়তে পারেন - প্রকাশক - "মাওলা ব্রাদার্স"।

৪. ০৬ ই মে, ২০০৮ দুপুর ১:৪৩
comment by: একরামুল হক শামীম বলেছেন: মোনাজাত উদ্দীনের প্রতি রইল গভীর শ্রদ্ধা !
৫. ০৬ ই মে, ২০০৮ দুপুর ২:০৪
comment by: মনজু রুল করিম বলেছেন: আমিন ভাই, আপনাকে ধন্যবাদ - কাদামাটির এই সৃজনশীল সাংবাদিক মানুষটাকে গভীর শ্রদ্ধাভরে সরণ করার জন্যে ।
উত্তরবংগের এই মানুষটা মৃত্যুর আগ পর্যন্ত চেষ্ঠা করেছেন উত্তরবংগের খেটে খওয়া মানুষদের জীবন ছবি তুলে আনতে ।
তার কিছু বই আমি পড়েছি, অসাধরন তার লিখনি শক্তি যা তাকে মনুষের মনে স্হায়ী আসন করে নিতে বাধ্য করবে ।
মোনাজাত উদ্দীনের প্রতি রইল গভীর শ্রদ্ধা !
৬. ০৬ ই মে, ২০০৮ বিকাল ৩:৫৩
comment by: মোস্তফা আমিন বলেছেন: মোনাজাত উদ্দীনকে কাছের থেকে একবারই দেখেছিলাম - রাজশাহী ইউনিভার্সিটির কোন এক অনুষ্ঠানে - খুব সম্ভবতঃ স্বননের অনুষ্ঠানে। চোখে তাঁর খুব তীব্র দৃষ্টি ছিল। অনেক গভীরে দেখতে পেতেন - মনে হয়।
৭. ০৬ ই মে, ২০০৮ বিকাল ৪:০৪
comment by: সারওয়ার জামান চন্দন বলেছেন:

ভাইয়া আপনার লেখা পড়ে ভাল লাগল।

মোনাজাত উদ্দীন এর 'পথ থেকে পথে' বইটি পড়েছি। অসাধারন।


৮. ০৬ ই মে, ২০০৮ বিকাল ৪:১৫
comment by: নিশিভৈঁরো বলেছেন: মোনাজাত উদ্দিন আমার হিরো।তাকে নিয়ে লেখায় আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
০৭ ই মে, ২০০৮ সকাল ৯:৫১

লেখক বলেছেন: আপনাকেও ধন্যবাদ। আপনি সাংবাদিক হলে খুব খুশী হব এই জেনে যে একজন সাংবাদিক তাঁকে হিরো হিসাবে নিয়েছেন অর্থ্যাৎ আমরা আপনার কাছেও তেমন লেখা পাব।
ভাল থাকুন।

৯. ০৬ ই মে, ২০০৮ রাত ১০:৫৮
comment by: মু্ক্ত মানব বলেছেন: সংবাদে মোনাজাতউদ্দিনের লেখাগুলো পড়তাম নিয়মিত। তাঁর রহস্যজনক মৃত্যুর কয়েকদিন পরে আমাকে যমুনাপাড়ি দিয়ে যেতে হয়েছিলো রেলযোগে। রেলফেরীর জানালার দিকে তাকিয়ে ভাবছিলাম এরকমই কোন ফেরী থেকে 'পড়ে গিয়ে' মারা গিয়েছিলেন এই চারন সাংবাদিক। মরহুমের পরিবারের মৃত এবং জীবিতদের জন্য শ্রদ্ধা। মনে পড়ছে, সে বছরেই কয়েকদিনের ব্যবধানে পশ্চিম বাংলায় পানিতে ডুবে মারা যান এক জনপ্রিয় গীতিকার ..নাম টা মনে পড়ছে না, তবে নামের আদ্যাক্ষর সম্ভবত: স ।
১০. ০৬ ই মে, ২০০৮ রাত ১১:৩৫
comment by: বাফড়া বলেছেন: মোনাজাত উদ্দিন যখন মারা যান তখন ছোট ছিলাম। উনি মারা যাবার পর প্রথম উনার নাম শুনি....... বইগুলো পেলে পড়ার চেষ্টা করব.....

@ মুক্ত মানব- আপনি সম্ভবত পুলক বন্ধোপাধ্যায়ের কথা বলছেন; মান্না দে'র বেশীর ভাগ গান উনার লেখা ছিল।
১১. ২৮ শে জুন, ২০০৮ দুপুর ১২:৩৭
comment by: মানবী বলেছেন: পোস্টটিকে প্রিয় পোস্টে যোগ করলাম।

১২. ৩০ শে জুলাই, ২০০৮ সকাল ১১:০৩
comment by: মোস্তফা আমিন বলেছেন: মানবী, আপনাকে ধন্যবাদ লেখাটাকে প্রিয়তে রাখার জন্য আর দুঃখিত এতদিন পর উত্তর দেবার জন্য।

 



 


পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

সর্বমোট হিট

 ৭২৭১