অনুসন্ধান:
cannot see bangla? সাধারণ প্রশ্ন উত্তর বাংলা লেখা শিখুন আপনার সমস্যা জানান ব্লগ ব্যাবহারের শর্তাবলী
অর্থহীন কমলালেবুর পিঠে ঘরকুনো গাছ
আর এস এস ফিড

আমার প্রিয় পোস্ট

mostafizripon@gmail.com

ফরহাদ মজহারঃ নাস্তিক মোল্লা

২২ শে এপ্রিল, ২০০৮ সকাল ১১:৩৬ |

শেয়ারঃ
18 0

চিরদিনই মূল স্রোতের বিপরীতে সাঁতার কেটেছেন ফরহাদ মজহার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে যুক্ত হয়েছিলেন বাম রাজনীতির সাথে। আর সত্তুরের দশকের শুরুতে ভারতের নকশাল আন্দোলনে অনুপ্রাণিত হয়ে সিরাজ সিকদারের নেতৃত্বে যুক্ত হয়েছিলেন বাংলাদেশের সর্বহারা বিপ্লবে। এরপর আমেরিকাতে প্রায় এক দশক স্বেচ্ছা-নির্বাসন শেষে দেশে ফিরে এসে মাওবাদী দলগুলোকে এক করার উদ্দেশ্যে গঠন করেছিলেন 'ঐক্য প্রক্রিয়া'। কিন্তু বাংলাদেশে সমাজতন্ত্রীদের ঐক্য স্বপ্নই থেকে গেছে। ইতিহাসের স্বপ্নভঙ্গের মতোই ফরহাদ মজহারের সমাজতান্ত্রিক আদর্শের মোহভঙ্গ ঘটেছে।

মূল স্রোতের যতই বাইরে সাঁতার কাটুন না কেন- ফরহাদ মজহার সবসময়ই ছিলেন উচ্চকিত, একরোখা আর নিজ যুক্তিতে অটল। ফরহাদ মজহার এখন দলীয় রাজনীতির সাথে জড়িত না থাকলেও তিনি বরাবরের মতোই রাজনীতির আঙ্গিনাতেই শয্যা পেতে আছেন। ১৯৯৪ সালে, বিএনপি শাসনামলে বাংলাদেশে আনসার বিদ্রোহের সমর্থনে তার নিজের পত্রিকা 'পাক্ষিক চিন্তা'য় একটি নিবন্ধ রচনা করে কারাবন্দী হন। তিনি আনসার বিদ্রোহে 'শ্রেণী সংগ্রাম'-এর মৌলিক উপাদানগুলো লক্ষ্য করেছিলেন। আন্তর্জাতিক চাপে ফরহাদ মজহারকে দ্রুত মুক্তি দিতে বাধ্য হয় বাংলাদেশ সরকার। ফরহাদ মজহার বিএনপি'র ডান ঘেঁষা রাজনীতির তীব্র সমালোচনা করেছেন এককালে। আর গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নামে আওয়ামী লীগের সাথে জামায়াতে ইসলামীর আঁতাতকে কচুকাঁটা করেছেন তাঁর কলামগুলোতে। ফরহাদ মজহার অনেক ঘাটের জল ঘোলা করে এখন ইসলামী বিপ্লবের স্বপ্ন দেখছেন। তাঁর আজকের এই অবস্থান কি স্ববিরোধী, নাকি যেকোন উপায়ে সামাজিক পরিবর্তনকে দেখতে চাওয়ার আজন্ম স্বপ্ন?

সাম্রাজ্যবাদী মার্কিন মুল্লুকে এক দশক পার করলেও ফরহাদ মজহারের মনে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী একটি চেতনা দিন দিন দানা বেঁধেছে। বাম রাজনীতির সুবাদে সাম্রাজ্যবাদ বিরোধীতায় তাত্ত্বিক জ্ঞানের অভাব ঘটেনি তাঁর। ফরহাদ মজহারের এই সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী মানসিকতা এতোটাই প্রকট আকার ধারন করেছে যে, উচ্চ ফলনশীল ধানবীজ কিংবা বাংলাদেশে বার্ড-ফ্লু'র বিস্তারকেও দাতাদেশগুলোর চক্রান্ত বলে মনে করেন তিনি। বাংলাদেশের ধর্মীয় মৌলবাদের বিস্তাররোধে যে মূহুর্তে খুব জরুরী ভূমিকা গ্রহন করা উচিত- ফরহাদ মজহার তখন 'মাদ্রাসার এতিম ছাত্রদের' নিয়ে স্বপ্ন দেখেন মার্কিন আগ্রাসন প্রতিরোধ করার। আর এরই সূত্রধরে, যে ব্যক্তি নারী মুক্তির জন্য উবিনিগ, প্রবর্তনা, নারীগ্রন্থ প্রবর্তনা'র মতো প্রতিষ্ঠানের জন্ম দিয়েছেন- তিনি সম্পদে নারীর সমঅধিকার দানকে উস্কানীমূলক বলে প্রচার করেন। বেশ কিছুদিন ধরে চালবাজ কাঠমোল্লাদের সাথে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশে ইসলামী শাসন কায়েমের স্বপ্নও বুনছেন ফরহাদ মজহার। আর অবাক করা কাণ্ড, আমি নিশ্চিত যে ফরহাদ মজহার নিজেও বুঝতে পারছেন না তাঁর 'এবাদতনামা' তিনি নিজেই উল্টোদিক থেকে পাঠ শুরু করেছেন হঠাৎ।

ফরহাদ মজহার সাম্রাজ্যবাদ বিরোধীতার নামে মৌলবাদকে ধারন করেছেন, মৌলবাদকে উৎসাহিত করছেন এবং মৌলবাদের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছেন প্রচার মাধ্যমে। শুধু তাই নয়, তিনি মনে করছেন যে সকল ব্যক্তি বাংলাদেশে ধর্মনিরপেক্ষতায় বিশ্বাসী তারা বুশ-ব্রাউনের এজেণ্ট। ফরহাদ মজহারের ভাষায়, 'এদেরকে ধর্মনিরপেক্ষ বলা আর গলায় সাপকে ফুলের মালা বলা একই কথা'। বাংলাদেশের হাজার বছরের সাংস্কৃতিক চেহারা, আর্থ-সামাজিক আচার, আর ধর্মীয় চেতনা আর যাই হোক পাশ্চাত্য থেকে আমদানী হয়নি। ফরহাদ মজহার আজ যাদের সাপ বলে অভিহিত করতে চাইছেন, তারাই তাঁর এককালের ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশ বিনির্মানের সহযোদ্ধা ছিলেন। ইউরোপের চার্চ থেকে পৃথক হওয়া রাষ্ট্রীয় শাসনব্যবস্থাকে ফরহাদ মজহার ঐতিহাসিক বিবেচনায় সমর্থন করলেও- বাংলাদেশে আসন্ন ইসলামী বিপ্লবের অনিবার্যতাকে তিনি এড়াতে পারেন না। তিনি ধর্মনিরপেক্ষতাকে কিছুটা ঘুরিয়ে ফ্যাসিবাদ বলে ভাবেন এবং মনে করেন, বাংলাদেশে ইসলামের যুদ্ধটা এই ফ্যাসিবাদ আর পরাশক্তির সমর্থকদের সাথেই ঘটবে।

ফরহাদ মজহার একটি জনযুদ্ধের স্বপ্ন দেখছেন আজীবন। সব কিছু দেখে শুনে মনে হয়- তাঁর কাছে আজ যুদ্ধটিই একটি প্রধান বিষয়। তিনি ভুলে গেছেন, যে বাম মতাদর্শকে আজ তিনি পচনশীল মনে করছেন এবং কাল্পনিক প্রতিপক্ষ দাঁড় করে ইসলামী বিপ্লবের স্বপ্ন দেখছেন সেটি তাঁর অসংখ্য চিন্তার বৈপরিত্যের নমুনামাত্র। একদিন তিনি জোর গলায় ঠিক এর উল্টোই প্রচার করেছেন। একথা সত্য যে, বাংলাদেশে মৌলবাদীদের মনোরঞ্জনে তিনি এখন অদ্বিতীয়; আর মৌলবাদের প্রথম শিকারটিও তিনিই হবেন।

 

বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 


১২৩টি মন্তব্য

২২ শে জুন, ২০০৯ দুপুর ১২:৪৬

লেখক বলেছেন: কথা সত্য। বাংলাদেশে ধর্ম হচ্ছে টেক্কা, রাজনীতির সবচেয়ে শক্তশালী পূঁজি।

মজার ব্যাপার হলো, পাকিস্তানের সব রাজনৈতিক দল প্রকট মৌলবাদী হলেও- সেখানে ইসলাম রক্ষার নামে রাজনীতি চলে। এই দলের চেয়ে ওই দল এককাঠি বেশী ধার্মিক আরকি! বাংলাদেশেও একই অবস্থা। পাকিস্থানের এককালের প্রগতিশীল বুদ্ধিজীবিরাও কার চেয়ে কে বেশী মৌলবাদী সেই প্রতিযোগিতায় নেমেছে এখন। বাংলাদেশে সেই হাওয়া লেগেছে।

১০১. ২২ শে জুন, ২০০৯ দুপুর ১:০৭

বায়লোজি বলে আমি নাকি ছেলে!! বলেছেন: @ গৌতম রায় ও লেখক:
সলিমুল্লাহ খান কি করে ফরহাদ মজহারের লগে যুক্ত য়েকটু ব্যখ্যা করেনতো...আমার জানামতে তারা য়েক দুনিয়ার দুই রীতির বাসিন্দা।
আপনেরা কেমনে য়েক বাক্যে য়েক করে দিলেন?!!!

১০২. ২২ শে জুন, ২০০৯ দুপুর ১:২২

মোস্তাফিজ রিপন বলেছেন: সলিমুল্লাহ খান আর ফরহাদ মজহারের 'যুক্ত' হওয়ার বিষয়টি, আমার কাছে, তাদের এককালের বৃহৎ গণমুখী আচরনের সাথে সংশ্লিষ্টতা বলে মনে হয়েছে। দুই রীতির বাসিন্দা হতে দোষ নেই। রীতিতে অমিল থাকুক, থাকেও।

১০৩. ২২ শে জুন, ২০০৯ দুপুর ১:৩৯

কাঙ্গাল মুরশিদ বলেছেন: আদর্শিক বৈপরিত্ব থাকলেই কি তা দোষনীয়?
আমার তা মনে হয় না।
ফরহাদ মাজহারের লেখা কলামগুলো আমি নিয়মিত পড়ি।
এদেশের স্বাধাণ মানুষ এবং শ্রেনী চেতনার ব্যাপারে তাকে সবসময়ই আন্তরিক মনে হয়।
হতে পারে একসময় তিনি সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবকে গনমানুষের মুক্তির পথ মনে করতেন আর আজকে মনে করছেন ইসলামী বিপ্লবের মাধ্যমেই আসবে সেই মুক্তি। এখানে তার চাওয়াটাকে আমার কাছে মুখ্য বিষয় মনে হয়। সেই গনমানুষের মুক্তি সমাজতন্ত্রের মাধ্যমে এলো না ইসলামী বিপ্লবের মাধ্যমে সেটা মুখ্য বিষয় নয়।

আপনার লেখা পড়ে মনে হল আপনি এ'ব্যাপারে নিশ্চিত যে ফরহাদ মাজহার যে ইসলামী বিপ্লবের মাধ্যমে গনমানুষের মুক্তির স্বপ্ন দেখছেন তা তার মতিভ্রমের বা বিভ্রান্তির ফল। আপনার এই মনোভাব এই লেখাটাকে একপেশে করে ফেলেছে। আপনার মতই যদি কেউ মনে করে সমাজতন্ত্রই ছিল ভুল পথ তাহলে সে বলবে ফরহাদ মাজহার সারা জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে এটাই শিখেছেন যে গনমানুষের মুক্তি একমাত্র ইসলামের মাধ্যমেই সম্ভব।

২৩ শে জুন, ২০০৯ সকাল ১০:৩৩

লেখক বলেছেন: আদর্শিক বৈপরিত্যে আমি দোষ দেখিনা।

আপনি বলেছেন, আমি মনে করছি- ফরহাদ মাজহার যে ইসলামী বিপ্লবের মাধ্যমে গণমানুষের মুক্তির স্বপ্ন দেখছেন তা তার মতিভ্রমের বা বিভ্রান্তির ফল।

আমি আসলে ফরহাদ মজহারের বিভিন্ন অসংলগ্ন এবং দায়িত্বহীন বক্তব্য প্রসঙ্গে মন্তব্য করেছি। তাকে 'গণমানুষের মুক্তির' স্বপ্নদাতা হিসেবে দেখিনি এবং আদৌ তাকে এত বড় স্বপ্নদ্রষ্টা মনে করিনা।

ফরহাদ মজহার জামায়াতে ইসলামী এবং প্রকটভাবে সুবিধাবাদী ডানপন্থী একটি রাজনৈতিক চক্রের সাথে কাজ করছেন। যাদের আক্ষরিক অর্থেই কোনো ধর্ম নেই; ওরা ধর্মের বাকল পরে শকুনের মতো রাষ্ট্রযন্ত্রের ঘাড়ে বসে আছে।

ফরহাদ মজহার প্রসঙ্গে আমার সমস্যাটি এখানেই।

১০৪. ২২ শে জুন, ২০০৯ রাত ৮:১৯

গৌতম রায় বলেছেন: বায়োলজি বলে আমি নাকি ছেলে!!!, নিশ্চয়ই উত্তর পেয়েছেন।

কাঙ্গাল মুরশিদ, গণমানুষের মুক্তি কখনোই কোনো ধর্মের মাধ্যমে আসা সম্ভব না। ধর্ম সেটাকে অনুমোদনও করে না। কেউ সত্যিকারের মুক্তি চাইলে ধর্মটাকে এর বাইরে রেখেই চাইতে হবে। আমরা স্বীকার করি বা না করি, ধর্ম সবসময়ই গণমানুষের বিপক্ষেই অবস্থান নেয়। পিতৃতান্ত্রিক রীতির সর্বোচ্চ পৃষ্ঠপোষকতাকারী হিসেবে প্রতিটি ধর্মই তার ডমিনেটিং ক্যারেক্টারগুলো দুর্বলের ওপর চেপে বসে। না হলে সেটা আর ধর্ম থাকে না।

২৩ শে জুন, ২০০৯ সকাল ১০:৪১

লেখক বলেছেন: রাজনীতিতে ধর্মীয় সংগঠন, আর পৌরসভার নিবন্ধনহীন কসাইখানা-- কোনো তফাৎ নেই।

১০৫. ২৩ শে জুন, ২০০৯ সকাল ১০:৪৩

শয়তান বলেছেন: এত মাইনাস কেন ?

২৩ শে জুন, ২০০৯ সকাল ১১:২৯

লেখক বলেছেন:
আদর করে দিল সবাই... :P

১০৬. ২৩ শে জুন, ২০০৯ সকাল ১১:৪০

বায়লোজি বলে আমি নাকি ছেলে!! বলেছেন: @গৌতম রায় ও লেখক:
আপানাদের মনে হলো বলেই কোন ধরনের বিচার বিশ্লেষন ছাড়াই ফরহাদ ও সেলিমকে য়েক কইরা দিলেন?!!

সলিমুল্লা খানও যদি ফরহাদের লগে যোগ দিয়া থাকে তাইলে ব্যাখ্যা করে দেখান...যেমনটা ফরহাদরে করে দেখানোর চেষ্টা করছেন।
য়েককালের আচরন দেখে আপনাদের মনে হলো আর অমনি ফরহাদের লগে সেলিমরেও মৌলবাদি সার্টিফিকিট দিয়া দিলেন?!!

পারলে সলিমুল্লা খানের কর্মকান্ড বিচার কইরা দেখান..সে কি করে মৌলবাদি/ফরহাদের মত নাস্তিক মোল্লা...আর নাইলে য়েভাবে মনে হওয়া থেকে সার্টিফিকিট দেওয়া বন্ধ করেন।

আমি আশা করছি আপনারা বিশ্লেষন করবেন।

আর গৌতম রায় আপনি কি করে ফরহাদ আর সেলিমের মত ২ জন চিন্তকের সাথে ফরাসি চাগলা বাদুড় য়েবাদুর রহমানরে য়েক কইরা দিলেন?!!!

১০৭. ২৩ শে জুন, ২০০৯ সকাল ১১:৪৭

শয়তান বলেছেন: বায়লোজি ক্ষেপসে :)

১০৮. ১৬ ই জুলাই, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:৫৭

শওকত হোসেন মাসুম বলেছেন: বড় দেরিতে পড়লাম। একমত।

১০৯. ২৭ শে জুলাই, ২০০৯ ভোর ৬:২৯

আবদুর রাজ্জাক শিপন বলেছেন:

প্রায় দেড় বছর পর লেখাটি চোখে পড়লো । পড়লাম ।
জানা হলো ।

১১০. ২৮ শে জুলাই, ২০০৯ বিকাল ৪:২৪

মাইদেশ বলেছেন: ফরহাদ মজহার বিষয়ে লেখাটি সময়পোযোগী। ধন্যবাদ বিষয়টা সামনে নিয়ে আসার জন্যে। ফম বেশ কয়েক বছর মৌলাবাদের ছায়াতলে আছেন সম্ভবত রিটায়ের্ড লাইফের সুযোগরে জন্যে কিছু কামানোর ধান্ধায় ব্যস্ত।

১১১. ১৩ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ২:১৩

রঙধনু বলেছেন: লেখক ফরহাদ মঝার বিষয়ে ভূল সিদ্বান্তে উপনীত হয়েছেন।

১১২. ১৬ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ১২:৫২

রাহিদুল সামান্না রকি বলেছেন: বাংলার ভাবান্দোলন নিয়ে ফহোদ মযহারের চিন্তা-ভাবনার পরিধি, তার পঠন-পাঠন বা দার্শনিক বিশিষ্টতা এবং অসাধারন বিশ্লেষন ক্ষমতাকে অস্বীকার করার উপায় কারো নেই। বিশেষ করে শ্রীচৈতন্য, লালন এবং রাজনীতির মার্কসকে একটা ঐক্যে গড় করে পড়ার ট্রেডিশন তৈরী করতে পেরেছেন যা বাংলাদেশের সংস্কৃতির জন্য জন্য একটি অভূতপুর্ব বিষয়।


অন্যদের মত বিশ্লেষণ করছেন ভাল বলতে পারছি না। আপনার অভিযোগগুলো কিছু অংশ আমরা অন্যরকম মনে হল নিচে দিলাম। আশা করি সময় পেলে স্পষ্ট করবেন।

১. ফরহাদ মজহারের এই সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী মানসিকতা এতোটাই প্রকট আকার ধারন করেছে যে, উচ্চ ফলনশীল ধানবীজ কিংবা বাংলাদেশে বার্ড-ফ্লু'র বিস্তারকেও দাতাদেশগুলোর চক্রান্ত বলে মনে করেন তিনি।

হ্যাঁ এতে আপনার মতামত কী?আপনি কী দাতাপন্থী?


2. চিরদিনই মূল স্রোতের বিপরীতে সাঁতার কেটেছেন ফরহাদ মজহার।

আপনি কী স্রোতের পক্ষে সাঁতার কাটছেন? ফ.ম বিপরীত সাতাঁর কাটার যুক্তি আমরা সবাই দেখছি এবং তা স্পষ্ট।


3. ১৯৯৪ সালে, বিএনপি শাসনামলে বাংলাদেশে আনসার বিদ্রোহের সমর্থনে তার নিজের পত্রিকা 'পাক্ষিক চিন্তা'য় একটি নিবন্ধ রচনা করে কারাবন্দী হন।

হ্যাঁ উনি ভাল কাজ করেছেন।আপনি কী এর বিরোধীতা করনে? আমার ধারণা উনি দেশের সবচেয়ে সাহসী কাজটি করেছিলেন। আমরা অনেকেই বিষয়টি নিয়ে গোপনে বিরোধীতা করেছি বলার সাহস পাইনি তার বিরোধীতা অযৌক্তিক মনে হয় কিনা তা স্পষ্ট করেন।

৪. 'মাদ্রাসার এতিম ছাত্রদের' নিয়ে স্বপ্ন দেখেন মার্কিন আগ্রাসন প্রতিরোধ করার।

হ্যাঁ তাতে খারাপ কী? আমরা সবাই যখন কোট-টাই পড়ে নিজেদের বিক্রি করে দিয়েছি মার্কিন সাম্রাজবাদের কাছে তখন ওদের দিয়ে তো প্রতিরোধ কার্যকর হবে।

আপনার কী মনে হয় করপোরেট দালালদের দিয়ে বিপ্লব হবে?


অনেক দেরিতে পড়লাম। জানি না আলোচনা চালিয়ে যাওয়া যাবে কিনা?

ফ.ম সাথে আমাদের অনেকেরই কিছু অংশে বিরোধ হয়ছে। তার অর্থ আপনি যা তুলে ধরলেন তা না।

১১৩. ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০০৯ ভোর ৬:২০

কার্ল মার্কস বলেছেন: অনেক দেরীতে পাইলাম।

মানুষ মারা গেলে পঁচে যায় আর বেচে থাকলে বদলায়।

এবাদত নামা আপনার পড়া আছে ধরে নিচ্ছি। তবে উপরোক্ত বেশীর ভাগ কথাই চায়ের টিবিলের আলোচনা টাইপের।
তারচেয়ে ভালো হয় আপনি যদি ফরহাদের তত্ত্বীয় বিষয়ে একাডেমিক আলোচনা করে দেখান কোথায় কি সমস্যা।

ইন্টালেকচুয়েল প্রেশার সবাই সইতে পারে না। ফরহাদ কে জামাতিরা মিস রিডিং দিচ্ছে। প্রেশার ওভার কাম কইরা আলোচনা হইলে উপরের বহুত ব্লগার কাইত মারবো। তবে আলোচনা জরূরী।

মানস ভাইরে ধন্যবাদ।

১১৪. ১৯ শে এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ১২:১৩

সিনসিয়ার বলেছেন: পাক্কা দুই বছর পরে চোখে পড়লো আলোচনাখানা....ফরহাদ মাজহারকে নিয়ে আলোচনা আসলেই জরুরী (উবিনিগ/প্রবর্তনার জন্মদাতা বলে তার প্রতি আমার পক্ষপাত আছে)....

সত্যিই মানুষ মরে গেলেও তার পাপগুলো (লেখাগুলো) থেকে যায় মানুষের স্মৃতিতে....

১১৫. ২৪ শে অক্টোবর, ২০১০ বিকাল ৩:৫৪

অর্ক হাসনাত কুয়েটিয়ান বলেছেন: তিনি বিভ্রান্ত.....এই বয়সেও জানেন না তিনি কি করতে চান

১১৬. ২৪ শে অক্টোবর, ২০১০ বিকাল ৪:০২

সুবিদ্ বলেছেন: তবে এধরনের পণ্ডিতদের অনুসরণ করা বিপজ্জনক।
তার জ্ঞানভাণ্ডার থেকে কিছু সেঁচে নেবার কাজটিও করতে হয় সতর্কতার সাথে, সেজন্য ব্যক্তির নিজস্ব বুদ্ধি ও দর্শন থাকা চাই। ----একমত ফাহমিদুল হকের সাথে...

১১৭. ৩০ শে এপ্রিল, ২০১২ রাত ৯:১৯

জামিনদার বলেছেন: আপনার সবগুলো পোস্ট প্রিয়তে রাখার মত।

এত সুন্দর আলোচনা, শ্রদ্ধা সব মিলিয়ে অন্যরকম।

এভাবে চলতে থাকলে বাংলাদেশে যে কোনা ধরণের বিপ্লবে এখান থেকে বড়ধরণের একটা সহযোগিতা পাওয়া যেত।

১১৮. ১৬ ই ডিসেম্বর, ২০১২ রাত ১০:৪০

শাশ্বত স্বপন বলেছেন: নাস্তিক যদি আস্তিক হয়,তবে তা ভয়াবহ...!
আসলে, মজহার, কবি আল মাহমুদের মত হতে চায়, সুবিধা চায়......... এবং পাচ্ছেও।

১১৯. ০৩ রা মার্চ, ২০১৩ রাত ১:৩১

কুঙ্গ থাঙ বলেছেন: পাঁচ বছর আগে আমারই দেয়া কমেন্ট দেখে হাসি পেয়ে গেল। লোকটা এতো দ্রুত পচে যাবে ভাবতে পারিনি। সে এখন পুরাপুরি বুদ্ধিবেশ্যায় পরিণত হইছে।

 

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল‍্যাটফমর্। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...

 

© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি | বিজ্ঞাপন