আমার প্রিয় পোস্ট

mostafizripon@gmail.com

ফরহাদ মজহারঃ নাস্তিক মোল্লা

২২ শে এপ্রিল, ২০০৮ সকাল ১১:৩৬

শেয়ার করুন:                   Facebook

চিরদিনই মূল স্রোতের বিপরীতে সাঁতার কেটেছেন ফরহাদ মজহার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে যুক্ত হয়েছিলেন বাম রাজনীতির সাথে। আর সত্তুরের দশকের শুরুতে ভারতের নকশাল আন্দোলনে অনুপ্রাণিত হয়ে সিরাজ সিকদারের নেতৃত্বে যুক্ত হয়েছিলেন বাংলাদেশের সর্বহারা বিপ্লবে। এরপর আমেরিকাতে প্রায় এক দশক স্বেচ্ছা-নির্বাসন শেষে দেশে ফিরে এসে মাওবাদী দলগুলোকে এক করার উদ্দেশ্যে গঠন করেছিলেন 'ঐক্য প্রক্রিয়া'। কিন্তু বাংলাদেশে সমাজতন্ত্রীদের ঐক্য স্বপ্নই থেকে গেছে। ইতিহাসের স্বপ্নভঙ্গের মতোই ফরহাদ মজহারের সমাজতান্ত্রিক আদর্শের মোহভঙ্গ ঘটেছে।

মূল স্রোতের যতই বাইরে সাঁতার কাটুন না কেন- ফরহাদ মজহার সবসময়ই ছিলেন উচ্চকিত, একরোখা আর নিজ যুক্তিতে অটল। ফরহাদ মজহার এখন দলীয় রাজনীতির সাথে জড়িত না থাকলেও তিনি বরাবরের মতোই রাজনীতির আঙ্গিনাতেই শয্যা পেতে আছেন। ১৯৯৪ সালে, বিএনপি শাসনামলে বাংলাদেশে আনসার বিদ্রোহের সমর্থনে তার নিজের পত্রিকা 'পাক্ষিক চিন্তা'য় একটি নিবন্ধ রচনা করে কারাবন্দী হন। তিনি আনসার বিদ্রোহে 'শ্রেণী সংগ্রাম'-এর মৌলিক উপাদানগুলো লক্ষ্য করেছিলেন। আন্তর্জাতিক চাপে ফরহাদ মজহারকে দ্রুত মুক্তি দিতে বাধ্য হয় বাংলাদেশ সরকার। ফরহাদ মজহার বিএনপি'র ডান ঘেঁষা রাজনীতির তীব্র সমালোচনা করেছেন এককালে। আর গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নামে আওয়ামী লীগের সাথে জামায়াতে ইসলামীর আঁতাতকে কচুকাঁটা করেছেন তাঁর কলামগুলোতে। ফরহাদ মজহার অনেক ঘাটের জল ঘোলা করে এখন ইসলামী বিপ্লবের স্বপ্ন দেখছেন। তাঁর আজকের এই অবস্থান কি স্ববিরোধী, নাকি যেকোন উপায়ে সামাজিক পরিবর্তনকে দেখতে চাওয়ার আজন্ম স্বপ্ন?

সাম্রাজ্যবাদী মার্কিন মুল্লুকে এক দশক পার করলেও ফরহাদ মজহারের মনে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী একটি চেতনা দিন দিন দানা বেঁধেছে। বাম রাজনীতির সুবাদে সাম্রাজ্যবাদ বিরোধীতায় তাত্ত্বিক জ্ঞানের অভাব ঘটেনি তাঁর। ফরহাদ মজহারের এই সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী মানসিকতা এতোটাই প্রকট আকার ধারন করেছে যে, উচ্চ ফলনশীল ধানবীজ কিংবা বাংলাদেশে বার্ড-ফ্লু'র বিস্তারকেও দাতাদেশগুলোর চক্রান্ত বলে মনে করেন তিনি। বাংলাদেশের ধর্মীয় মৌলবাদের বিস্তাররোধে যে মূহুর্তে খুব জরুরী ভূমিকা গ্রহন করা উচিত- ফরহাদ মজহার তখন 'মাদ্রাসার এতিম ছাত্রদের' নিয়ে স্বপ্ন দেখেন মার্কিন আগ্রাসন প্রতিরোধ করার। আর এরই সূত্রধরে, যে ব্যক্তি নারী মুক্তির জন্য উবিনিগ, প্রবর্তনা, নারীগ্রন্থ প্রবর্তনা'র মতো প্রতিষ্ঠানের জন্ম দিয়েছেন- তিনি সম্পদে নারীর সমঅধিকার দানকে উস্কানীমূলক বলে প্রচার করেন। বেশ কিছুদিন ধরে চালবাজ কাঠমোল্লাদের সাথে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশে ইসলামী শাসন কায়েমের স্বপ্নও বুনছেন ফরহাদ মজহার। আর অবাক করা কাণ্ড, আমি নিশ্চিত যে ফরহাদ মজহার নিজেও বুঝতে পারছেন না তাঁর 'এবাদতনামা' তিনি নিজেই উল্টোদিক থেকে পাঠ শুরু করেছেন হঠাৎ।

ফরহাদ মজহার সাম্রাজ্যবাদ বিরোধীতার নামে মৌলবাদকে ধারন করেছেন, মৌলবাদকে উৎসাহিত করছেন এবং মৌলবাদের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছেন প্রচার মাধ্যমে। শুধু তাই নয়, তিনি মনে করছেন যে সকল ব্যক্তি বাংলাদেশে ধর্মনিরপেক্ষতায় বিশ্বাসী তারা বুশ-ব্রাউনের এজেণ্ট। ফরহাদ মজহারের ভাষায়, 'এদেরকে ধর্মনিরপেক্ষ বলা আর গলায় সাপকে ফুলের মালা বলা একই কথা'। বাংলাদেশের হাজার বছরের সাংস্কৃতিক চেহারা, আর্থ-সামাজিক আচার, আর ধর্মীয় চেতনা আর যাই হোক পাশ্চাত্য থেকে আমদানী হয়নি। ফরহাদ মজহার আজ যাদের সাপ বলে অভিহিত করতে চাইছেন, তারাই তাঁর এককালের ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশ বিনির্মানের সহযোদ্ধা ছিলেন। ইউরোপের চার্চ থেকে পৃথক হওয়া রাষ্ট্রীয় শাসনব্যবস্থাকে ফরহাদ মজহার ঐতিহাসিক বিবেচনায় সমর্থন করলেও- বাংলাদেশে আসন্ন ইসলামী বিপ্লবের অনিবার্যতাকে তিনি এড়াতে পারেন না। তিনি ধর্মনিরপেক্ষতাকে কিছুটা ঘুরিয়ে ফ্যাসিবাদ বলে ভাবেন এবং মনে করেন, বাংলাদেশে ইসলামের যুদ্ধটা এই ফ্যাসিবাদ আর পরাশক্তির সমর্থকদের সাথেই ঘটবে।

ফরহাদ মজহার একটি জনযুদ্ধের স্বপ্ন দেখছেন আজীবন। সব কিছু দেখে শুনে মনে হয়- তাঁর কাছে আজ যুদ্ধটিই একটি প্রধান বিষয়। তিনি ভুলে গেছেন, যে বাম মতাদর্শকে আজ তিনি পচনশীল মনে করছেন এবং কাল্পনিক প্রতিপক্ষ দাঁড় করে ইসলামী বিপ্লবের স্বপ্ন দেখছেন সেটি তাঁর অসংখ্য চিন্তার বৈপরিত্যের নমুনামাত্র। একদিন তিনি জোর গলায় ঠিক এর উল্টোই প্রচার করেছেন। একথা সত্য যে, বাংলাদেশে মৌলবাদীদের মনোরঞ্জনে তিনি এখন অদ্বিতীয়; আর মৌলবাদের প্রথম শিকারটিও তিনিই হবেন।

 

 

  • ৯৩ টি মন্তব্য
  • ১০১৩ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ১২ জনের ভাল লেগেছে, ১০ জনের ভাল লাগেনি
১. ২২ শে এপ্রিল, ২০০৮ সকাল ১১:৫১
comment by: রিয়াজ শাহেদ বলেছেন: ভালো লিখেছেন রিপন ভাই।

একটা ব্যাপার খেয়াল করলাম- ইদানিং ছাত্রশিবিরের কাছে ফরহাদ মজহার বেশ আদরণীয় হয়ে উঠেছেন। এমনকি এক শিবির নেতা আমাকে এও বলেছে যে, ফরহাদ মজহারই জামাতের বাইরে শিবিরের সবচেয়ে বড় শুভাকাঙ্ক্ষী, তার বই পড়ে শিবির অনেক কিছু শিখছে।
২২ শে এপ্রিল, ২০০৮ দুপুর ১২:০০

লেখক বলেছেন:
মৌলবাদীরা ফরহাদ মজহারের শাঁসটুকু শুষে নিচ্ছে। তাদের প্রয়োজন শেষ হলে ফরহাদ মজহারের ছোবড়া দিয়েই নরকের আগুন বানাবে। জামায়াতের চেয়ে বেশীমাত্রায় ইসলাম প্রেমী হওয়া ফরহাদ মজহারকেই মানায়; যদিও জামায়াত জানে ইসলামের প্রেমে তাদের ধারেকাছে কেউ নেই, ফরহাদ মজহার তো নয়ই!

২. ২২ শে এপ্রিল, ২০০৮ দুপুর ১২:০৪
comment by: রাফা বলেছেন: চমৎকার বিশ্লেষন ।এরাই আমাদের মূল সমস্যা কোনকিছুরই সমাধান নেই এদের কাছে।
২২ শে এপ্রিল, ২০০৮ দুপুর ১২:১০

লেখক বলেছেন:
একধরনের মনোবিকারে আক্রান্ত ফরহাদ মজহার। তিনি নিজেকে বদলাচ্ছেন বারবার। চরম বাম, প্রকট ডান- এমন করেই প্রায় চার দশক পার করলেন। বেঁচে থাকলে আরও নতুন কিছু হয়তো দেখতে পাব।

৩. ২২ শে এপ্রিল, ২০০৮ দুপুর ১২:১৩
comment by: সামী মিয়াদাদ বলেছেন: তিনি বিভ্রান্ত.....এই বয়সেও জানেন না তিনি কি করতে চান
২২ শে এপ্রিল, ২০০৮ দুপুর ১২:২০

লেখক বলেছেন:
আপনার ইমোশন সিম্বলগুলো আমাকে বিভ্রান্ত করছে। আপনার লেখা আর সিম্বলের হাসিমুখ দেখে আমি বুঝতে পারছিনা আপনি কি বোঝাতে চাইছেন।

যাহোক, শুভ কামনা রইল।

৪. ২২ শে এপ্রিল, ২০০৮ দুপুর ১২:১৪
comment by: মাহবুব সুমন বলেছেন: উনার স্পস্টবচন ভালো লাগে
২২ শে এপ্রিল, ২০০৮ দুপুর ১২:১৭

লেখক বলেছেন:
তিনি বচনে উচ্চকিত এবং সরাসরি মতামত জানাতে পছন্দ করেন। পরস্পর বিরোধী বচনেও তিনি অপ্রতিদ্বন্দ্বী।

৫. ২২ শে এপ্রিল, ২০০৮ দুপুর ১২:২৪
comment by: সামী মিয়াদাদ বলেছেন: ইমোটিকনে বিভ্রান্ত কেন?

মাহবুব সুমনের মন্তব্যের উত্তরে আপনি যা বলেছেন আমি তা ই বোঝাতে চেয়েছি...তিনি কন্ট্রাডিকটরি

আর আমার যে কোন মন্তব্যের পর একটি হাসিমুখ থাকে
২২ শে এপ্রিল, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:০২

লেখক বলেছেন:
তাই বলুন!

:)

৬. ২২ শে এপ্রিল, ২০০৮ দুপুর ১২:২৪
comment by: মৃদুল মাহবুব বলেছেন: ভালো বিশ্লেষণ। ভালো লেগেছে

ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীরা সাম্রাজ্যবাদী শক্তির দালাল। কিছু ক্ষেত্রে ঠিক। কারন আমেরিকাপন্থী বাম-ডান সবই আছে আমাদের। এখন যারা ধর্মের দোহাই দিয়ে ইসলামী বিপ্লবের কথা ভাবেন তাদের দিকেও সন্দেহের চোখ যায়। এরাও সাম্রাজ্যবাদীদের ইসারায় জল ঘোলা করছে । এমনই মনে হয়। এরা হলো আমেরিকাপন্থী ইসলামী দল। এই জাতীয় বুদ্ধিজজীবিদের কথা মানতে ভয় হয়। এরা নিরপেক্ষতাবাদী বা ইসলামী যাই হোক এদের মদদ আছে বাইরে থেকে। কোন কোন ভাবে এরা সাম্রাজ্যবাদকেই অগ্রসর করার পায়তারা করে। ফলে এই ইসলামী বিপ্লবের আশাবাদের সাথে সাম্রাজ্যবাদের গোপন আতাত থাকা অসম্ভব কিছু নয় বোধ হয়।
২২ শে এপ্রিল, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:১১

লেখক বলেছেন:
ফরহাদ মজহারের বিষয়টিকে আমার সাম্রাজ্যবাদের গোপন আঁতাত বলে মনে হয়না। তিনি তার ব্যক্তি বিশ্বাসের স্থান থেকেই হয়তো ইসলামী বিপ্লবের আশায় আছেন, যেমন এককালে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের স্বপ্ন দেখতেন। এটি স্ববিরোধীতা। বামদলগুলো ফরহাদ মজহারের কাছে থেকে কি নিতে পেরেছে জানিনা, কিন্তু ইসলামী সংগঠনগুলো জঙ্গীবাদ লালনের নৈতিক শক্তি লাভ করবে- তাতে সন্দেহ নেই।

৭. ২২ শে এপ্রিল, ২০০৮ দুপুর ১২:২৫
comment by: সামী মিয়াদাদ বলেছেন: আপনার লেখা ভাল লেগেছে

আপনার প্রতিও শুভকামনা রইলো
২২ শে এপ্রিল, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:১২

লেখক বলেছেন:
ধন্যবাদ সামী ভাই।

৮. ২২ শে এপ্রিল, ২০০৮ দুপুর ১২:২৭
comment by: সামী মিয়াদাদ বলেছেন: মৃদুল@ ইসলামের সাথে কি সাম্রাজ্যবাদের কোন বিবেধ আছে? আমার তো কোন কালেই তা মনে হয়নি। ইসলাম সাম্রাজ্যবাদ বিদ্ধেষী না
৯. ২২ শে এপ্রিল, ২০০৮ দুপুর ১২:৪০
comment by: নেমেসিস বলেছেন:
সামী মিয়াদাদ বলেছেন: তিনি বিভ্রান্ত.....এই বয়সেও জানেন না তিনি কি করতে চান

>> একমত । আমার মতে বাংলাদেশের ষাটউর্দ্ধ মানুষগুলোর কথার দাম দেয়া বোকামি ।
২২ শে এপ্রিল, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:১৭

লেখক বলেছেন:
নেমেসিস, (আপনাকে কানে কানে বলছি), তোমারও বয়স হবে আশি।

ফরহাদ মজহার ষাটে পৌঁছানোর আগে থেকেই বিভ্রান্তি নামক মনোবিকারে আক্রান্ত।

১০. ২২ শে এপ্রিল, ২০০৮ দুপুর ১২:৪০
comment by: আলফ্রেড খোকন বলেছেন: মোস্তাফিজ রিপন, ফরহাদ মজহারের চিন্তাযাপন এখন কমবেশি সবাই জানে। হয়তো মুখ খোলে না। তবে আপনি খুললেন। আর সামী বলেছেন, তিনি বিভ্রান্ত। পচনশীল চিন্তাবিদরা অবশ্য তা মনে করেন না। তিনি কি বিভ্রান্ত না এটাই তার জার্নি? আগে আমি তাকে কিছুটা বিভ্রান্ত মনে করতাম। এখন করি না। কারন তার খোলসটার ভেতরটাও অনেকটা তার জ্ঞাতে ও অজ্ঞাতে পরিষ্ফুটিত । অভিনন্দন!
২২ শে এপ্রিল, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:২৩

লেখক বলেছেন:
আলফ্রেড খোকন, আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

১১. ২২ শে এপ্রিল, ২০০৮ দুপুর ১২:৪০
comment by: কুঙ্গ থাঙ বলেছেন: বাংলার ভাবান্দোলন নিয়ে ফহোদ মযহারের চিন্তা-ভাবনার পরিধি, তার পঠন-পাঠন বা দার্শনিক বিশিষ্টতা এবং অসাধারন বিশ্লেষন ক্ষমতাকে অস্বীকার করার উপায় কারো নেই। বিশেষ করে শ্রীচৈতন্য, লালন এবং রাজনীতির মার্কসকে একটা ঐক্যে গড় করে পড়ার ট্রেডিশন তৈরী করতে পেরেছেন যা বাংলাদেশের সংস্কৃতির জন্য জন্য একটি অভূতপুর্ব বিষয়।
২২ শে এপ্রিল, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৩০

লেখক বলেছেন:
ফরহাদ মজহারের লেখার সাহিত্যমান নিয়ে আমি কোন বিতর্কের অবকাশ দেখিনা। আর বিভিন্ন স্টাডি সার্কেলের সাথে যুক্ত থাকায় তিনি সুপণ্ডিতও হয়ে উঠেছেন নানা বিষয়ে। বিতর্কটি সেখানেও নয়।

ফরহাদ মজহারের রাজনৈতিক দর্শনের ডান-বাম খুব স্বাভাবিক নয়।

১২. ২২ শে এপ্রিল, ২০০৮ দুপুর ১২:৪৩
comment by: মৃদুল মাহবুব বলেছেন: সামী মিয়াদাদ ভাই,

আমি তো সেই কথাই বলছি। ইসলামের নামে যারা সাম্রাজ্যবাদ বিরোধীতার কথা বলে তারা আসলে ভেতরে ভেতরে সাম্রাজ্যবাদকেই লালন করে। আমাদের ইসলামী বিপ্লবীদের টাকা কোথা থেকে আসে? ফলে এরা যত কথাই বলুক যে তারা ইসলাম দিয়ে সাম্রাজ্যবাদ রুখবে তা আমার বিশ্বাস হয় না। আসলে এরা চায় ক্ষমতার হাত বদল। কোন একটা তকমা দিয়ে নিজেদের আন্দোলনটাকে জায়েজ করতে চায়। জনগনকে কূটকৌশলে পক্ষে আনতে চায়। সাম্রাজ্যবাদ বিরোধীতা একটা নাম মাত্র এদের কাছে।
১৩. ২২ শে এপ্রিল, ২০০৮ দুপুর ১২:৫১
comment by: সামী মিয়াদাদ বলেছেন: মৃদূলদা, এটাই। এখানে সবকিছু নামেমাত্র ব্যবহার হয়। ইসলামের ইতিহাস কিন্তু অনেকটা সাম্রাজ্যবাদী...তাই আমার এমন মনে হয়েছে।

খোকন ভাই, তাকে আমার বিভ্রান্ত মনে হয়। একসাথে অনেকগুলো ধারা নিজের মাঝে লালন করা সত্যিই কষ্টকর। আমার কাছে আদর্শিগত পরিবর্তন অনেকটা ভন্ডামী মনে হয়....আজ এই ধারাতো কাল ঐ ধারা। যখন যেখানে সুবিধা
১৪. ২২ শে এপ্রিল, ২০০৮ দুপুর ১:২৭
comment by: জিয়াউল ইসলাম শাহীন বলেছেন: মোস্তাফিজ রিপন সাহেবকে ধন্যবাদ স্রোতের বিপরীতে লেখবার জন্য। স্রোতের বিপরীতে এজন্য লিখলাম যে, ফরহাদ মজহার সাহেব গত কয়েকমাস যাবত যে প্রতিবাদধর্মী লিখা লিখছেন তার একটা বিরুদ্ধ টাইপের লেখা দেখলাম আপনার লেখনীতে। যারা পত্র পত্রিকাতে লেখালেখি করেন তাদের প্রত্যেকের ব্যাক্তি জীবনের ইতিহাস হয়তো আমাদের সন্তুষ্ট না্ও করতে পারে কিন্তু সেসব বিষয়ে অগ্রাধিকার না দিয়ে আমরা মূলত লেখার দিকেই লক্ষ করি। এই সাধারণ কথাটাকে না মেনে জনাব মোস্তাফিজ রিপন যে ব্যাক্তি চরিত্র হননের চেস্টা করলেন তা নিশ্চয়ই খুশি হ্ওয়ার মতো কোন ব্যপার নয়। আজকে বাংলাদেশ যে রকম পরিস্থিতিতে চলছে সে ক্ষেত্রে মিডিয়াগুলোতে সত্যি কথা বলার মতো লোক খুবই কম পা্ওয়া যাচ্ছে। দেশের বেশিরভাগ মানুষই বিভিন্ন কারণে দুঃখ কস্টের মধ্যে দিয়ে থাকল্ওে তা প্রকাশ করতে পারছেননা জরুরী অবস্থার কারণে। ব্যাতিক্রম গুটি কয়েক ব্যাক্তি। এই গুটি কয়েক ব্যাক্তি সরকারের প্রকাশ্য সমালোচনা করছেন, সরকারের ভুল ত্রুটিগুলি ধরিয়ে দিচ্ছেন নির্মমভাবে। সমস্যাটা আসলে এখানেই শুরু।

আমার সন্দেহ যে, জনাব মোস্তাফিজ রিপন উদ্দেশ্যমূলকভাবে ফরহাদ মজহার এর পিছু লেগেছেন। এই কথা বলা কারণ হলো তিনি ফরহাদ মজহার এর অতীত ইতিহাস তুলে ধরে তাকে আঘাত করতে চেয়েছেন এবং তার লেখনীকে দূর্বল করতে চেয়েছেন নগ্নভাবে। যদি ফরহাদ মজহার এর কোন লেখার উপর রিপন সাহেবের ক্ষোভ থাকতো তাহলে তিনি লাইন বাই লাইন যু্ক্তি প্রদর্শন করতে পারতেন। তাতে রিপন সাহেবর বিচক্ষনতার বহিঃপ্রকাশ ঘটতো। তা না করে যেভাবে তিনি ব্যাক্তি ফরহাদ মজহার এর বিভিন্ন কর্ম নিয়ে যেভাবে আক্রমনাত্বক লেখা লিখলেন তাতে মনে হ্ওয়া সাভাবিক যে, ফরহাদ মজহার এর প্রতি তার ব্যাক্তিগত ক্ষোভ আছে অথবা তিনি ফরহাদ মজহার এর বিরুদ্ধে লবিস্ট হিসাবে কাজ করছেন।

আর মজার ব্যপার হলো আমাদের কিছু ব্লগার আছেন যারা মৌলবাদি, জামাত, ইসলামী শাসন ইত্যাদি কথা কোন লেখার মধ্যে পেলেই দু কলম লিখে ফেলেন। তাদের কলম দিয়ে তখন আগুন বের হয়। একধরনের এলার্জিতে ভোগেন তারা। কিন্তু তাদের এই এলার্জির ব্যারাম তখন হয়না যখন জাতির বৃহত্তর স্বার্থের কথা আসে। গঠনমূলক আলোচনা বা স্বপ্রণেদিত হয়ে কল্যাণকর কোন বিষয়ে তাদের কোন লেখা আমরা দেখিনা। দেখল্ওে সেটা এতো কম যে, চোখে পড়ার মতো না।

কারো ব্যাক্তিগত চরিত্র হনন, কাউকে নাস্তিক মোল্লা টাইপের ফতোয়া দেয়াটা নিশ্চয়ই কোন ভাল কাজ হতে পারেনা। অধ্যপক কবির খানকে যে, অনেকে নাস্তিক বলে এটাকি সবাই মেনে নিতে পারেন। এগুলি যারা দেয় তারা নিজেরা্ও কি জানেনা যে, এক মুসলমান আরেক মুসলমানে নাস্তিক বলতে পারেনা। জানার পর ্ও যারা এগুলি করে তারা নিজের সাথে নিজে কনট্রাডিক্ট করে। আজিব দুনিয়া, আজিব মানুষ আমরা সবাই।

২২ শে এপ্রিল, ২০০৮ রাত ৮:০৫

লেখক বলেছেন:

একথা সত্য যে, ফরহাদ মজহারের চিন্তার বৈপরিত্য আরও অনেকের মতো আমাকে হতাশ করে। কারো চিন্তা আর তার প্রকাশ ব্যক্তি চরিত্রের একটি প্রধান অংশ হিসেবে বিচার্য হলে- আমি ফরহাদ মজহারের চরিত্র হনন করেছি বলা যায়। লেখাটি পাঠ করেও বিষয়টি আপনি অবগত হয়েছেন। নাস্তিক মোল্লা কথাটি বেশ যুতসই মনে হয় ফরহাদ মজহারের জন্য। (যদিও আমি এর উদ্ভাবক নই)। আপনি খুব সমম্ভতঃ নাস্তিক মোল্লা কথাটির সাথে পূর্ব পরিচিত নন।

অনেক ব্লগারের জামায়াত এলার্জি আছে একথা ঠিক। আমিও তাদের বাইরে নই। এই এলার্জির একটি যৌক্তক কারনও আছে বৈকি! তবে ব্লগারদের ইসলাম বা ধর্ম বিষয়ক এলার্জি আছে- আমার তা মনে হয়নি। জামায়াত-'ফিলিয়াতে' আক্রান্ত ব্যক্তিরা ইসলামকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে প্রতিটি ক্ষেত্রে তার নজির অসংখ্য।

শুধু সরকারের ভুল ত্রুটির দিকে ফরহাদ মজহার দৃষ্টি দিলে বলার কিছুই ছিলনা। তিনি বাংলাদেশের ধর্মনিরপেক্ষ চেহারা নিয়ে কটুক্তি করছেন- এটি একটি বিশাল সমালোচনাসাপেক্ষ বিষয়।

১৫. ২২ শে এপ্রিল, ২০০৮ দুপুর ১:৩০
comment by: দ্বিতীয়নাম বলেছেন: ঐ সব কিছু না, প্রচারের আকাঙ্খা আর সেলিব্রেটি হওয়ার প্রয়াসে এই সব ভং। খুব সম্ভবত ঢাকায় নতুন ফ্লাটের টাকার জন্য নতুন ধান্দাবাজী।
২২ শে এপ্রিল, ২০০৮ রাত ৮:০৮

লেখক বলেছেন:
আপনি খুব চালাক, আমার কারসাজি ধরে ফেলেছেন।
(আচ্ছা, টাকা আমাকে কে দেবে বলতে পারেন?)

১৬. ২২ শে এপ্রিল, ২০০৮ দুপুর ২:৫২
comment by: রিয়াজ শাহেদ বলেছেন: জিয়াউল ইসলাম শাহীন বলেছেন: "অধ্যপক কবির খানকে যে, অনেকে নাস্তিক বলে এটাকি সবাই মেনে নিতে পারেন?"

শাহীন ভাইতো সাংবাদিক মানুষ, যদ্দূর জানি। "অধ্যাপক কবির খান" নামে নিশ্চয়ই বিখ্যাত কেউ একজন আছেন, যদিও আমি কখোনো এরকম কোনো নাম শুনিনি; সাংবাদিক ভাই হয়তো শুনে থাকবেন!
১৭. ২২ শে এপ্রিল, ২০০৮ বিকাল ৩:২৪
comment by: তাকা বলেছেন: জিয়াউল ইসলাম শাহীনএর কমেন্টে উত্তম জাঝা

মাজুদার দুইদিন আগের জামাত ঠেঙ্গানী একটা লেখা যদি কেউ এখন পোস্টাইত, তাইলে শাহীন সাহেব কি কইত ঐডাই চিন্তাইতেছি (অট্টহাসি)

আসলে, একটা বিশেষ দেশের এজেন্ট কিছু তোতাপাখী সবদেশেই পুষে এবং সব মতবাদেরই যেমন ধরেন ডান, বাম এমনকি সুশীল। ফরহাদ সাহেবরেও ঐরকমই মনে হয়। কারণ উনারা না লিখলে মাসোহারাটা একাউন্টে ঠিকমত ট্রান্সফার হয় না
১৮. ২২ শে এপ্রিল, ২০০৮ বিকাল ৩:৩১
comment by: জিয়াউল ইসলাম শাহীন বলেছেন: রিয়াজ শাহেদ ধন্যবাদ আপনাকে। নামটি লিখতে ভূল করেছি আমি, কবির চৌধুরী হবে। অফিসে একটু ব্যাস্ত ছিলাম তাই তাড়াহুরো করতে গিয়ে ভূল হয়েছে, আমি দুঃখিত।
২২ শে এপ্রিল, ২০০৮ রাত ১০:৪২

লেখক বলেছেন:
জিয়াউল ইসলাম শাহীন, আপনি সাংবাদিকতার সাথে জড়িত? জানানো যাবে আপনি কোন পত্রিকার সাথে কাজ করছেন?

২২ শে এপ্রিল, ২০০৮ রাত ১০:৪৫

লেখক বলেছেন:
কবির চৌধুরীকে জামায়াতীরা মুরতাদ ঘোষনা করেছিলো, তাই না শাহীন?

১৯. ২২ শে এপ্রিল, ২০০৮ বিকাল ৩:৪৩
comment by: রিয়াজ শাহেদ বলেছেন: ঠিক আছে শাহীন ভাই, ধন্যবাদ।
২০. ২২ শে এপ্রিল, ২০০৮ বিকাল ৪:০৭
comment by: সারওয়ারচৌধুরী বলেছেন:


ফরহাদ মজহারের উপর সুবিচার করলেন বলে মনে হলো না।
আমি কোথাও পাই নি তিনি তথাকথিত 'ইসলামী বিপ্লবের' স্বপ্ন দেখছেন বলে।


নারী নীতি ইস্যুতে তাঁর বক্তব্য, পাইকারীভাবে কাটমোল্লাদের পক্ষেও যায় নি। বরং তিনি তাদের বুঝিয়েছেন, ইরান তুরষ্কের দৃষ্টান্ত উল্লেখ করে। এবং সরকারের অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন।

তাছাড়া সমসাময়িক বিভিন্ন ইস্যুতে ফরহাদ মজহার কথা বলেন বিশ্বের মানচিত্রকে সামনে রেখে। আর তাঁর কঠোর সমালোচনা যারা করেন, তারা পূর্ণ বাংলাদেশের মানচিত্রের উপর নজর রাখেন কি না সন্দেহ হয়।

যে আমেরিকা সোভিয়েতকে মার দেয়ার জন্যে, কমিউনিষ্ট বিপ্লবকে ধ্বংস করার জন্যে , জেহাদী বানিয়েছিলো দিকে দিকে। সেই আমেরিকাই মৌলবাদের সূতিকাগার বলেই মনে হয়।

সমগ্র বিশ্ব এখন করপোরেট ম্যাগনেটদের কূটচালে দিশেহারা। ছোট ছোট জাতি-রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব হুমকীর মুখে। অর্থনৈতিকভাবে পর মুখাপেক্ষি করে রাখার সূদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে ওরা।

ফরহাদ মজহারের বিপক্ষে আপনার উত্থাপিত অভিযোগগুলো খুবই হালকা উপরি উপরি কিসিম মনে হলো।
অভিযোগগুলো যথার্থ নয়।
২২ শে এপ্রিল, ২০০৮ রাত ১০:১৫

লেখক বলেছেন:
ফরহাদ মজহারের চিন্তার রৈখিক বিশ্লেষনটি সরল বা সহজবোধ্য নয়। তিনি যখন যে মতাদর্শে অথবা যে ধরনের কাজের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন- তার পক্ষে 'প্রবল' শ্রম ব্যয় করেছেন। ফরহাদ মজহারের 'প্রথম আলোর' দিনগুলো লক্ষ্য করুন, বা হালের 'নয়া দিগন্তের' দিকে তাকান উত্তর মিলবে। এ কথা সত্য যে, ফরহাদ মজহার ইস্যুভিত্তিক লেখনিতে বিশ্বের মানচিত্র খোলা রাখেন, কিন্তু সেগুলোর বিশ্লেষনে তাঁর নিজের চিন্তাটি কতখানি খোলামেলা তা প্রশ্ন সাপেক্ষ। এর ছোট্ট একটি প্রমান- বাংলাদেশ আর ইউরোপের শাসন ব্যবস্থা সম্পর্কে তাঁর অভিমত।

আমার অভিযোগগুলো হালকা মনে হয়েছে আপনার; তবে ফরহাদ মজহারের বর্তমান অবস্থান থেকে মৌলবাদীচক্রই মোটাদাগে লাভবান হবে তা বলার অপেক্ষা রাখেনা।

২১. ২২ শে এপ্রিল, ২০০৮ রাত ৮:২৯
comment by: স্ট্যানলি কুবরিক বলেছেন: শেষ বয়সে মানুষ ধর্মকর্মে নিদান খুজে, ফ.মাও হয়তো তাই খুজতেছেন। তার এই বিভ্রান্তিরে লুফে নিছে জামাতিরা। মজার ব্যাপার জলিল থেকে শুরু করে ওসমানীরা সবাই শেষ কালে মধ্যপ্রাচ্যের ভোগে দেবপুজোর যে আমলনামায় অভ্যস্ত হইছিলেন তা আসলে আমাদের রাজনৈতিক দৈন্যতা বুঝায় কিনা আমি তাতে বিভ্রান্ত। তবে ফরহাদ মাজহার একজন এটেনশন সিকার টাইপের মানুষ। স্রোতের বিপরীতে কণ্ঠ ছাড়ে মানুষের নজর কাড়তে, পরিনামে দুয়োই জুটে
২২ শে এপ্রিল, ২০০৮ রাত ১০:৩৬

লেখক বলেছেন:
ফরহাদ মজহার ধর্ম-কর্ম করছেন কিনা নিশ্চিত নই। তবে তিনি মৌলবাদীদের দ্বারা বিশেষ আদৃত হচ্ছেন- তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। কাঠমোল্লাদের পছন্দের তালিকায় তিনি অগ্রাধিকার পাবেন, কারন ফরহাদ মজহারের গায়ে এখনও 'নাস্তিক' এবং 'বাম' শব্দদুটো জ্বলজ্বল করছে; কিন্তু তিনি কথা বলছেন এদেরই বিপরীতে। মজাটা এখানেই। লক্ষ্য করবেন, জামায়াতপন্থী ব্লগাররা ফরহাদ মজহারকে নাস্তিক-বাম ইত্যাদি 'বিশেষনে ভূষিত' করে তাঁর মৌলবাদের পক্ষে যায় এমন সব লেখার রেফারেন্স টানেন। তাদের ভাবখানা এই- ফরহাদ মজহারের মতো 'ভেটেরান' মানুষই একথা বলেছেন, এবার যাবে কোথায়!

২২. ২২ শে এপ্রিল, ২০০৮ রাত ৮:৪৬
comment by: স্ট্যানলি কুবরিক বলেছেন: সারওয়ার চৌধুরী একটা বলদ টাইপের লেখক। তার মন্তব্যকে গুরুত্ব দেয়ার কিছু নাই
২৩. ২২ শে এপ্রিল, ২০০৮ রাত ১০:৩১
comment by: এস্কিমো বলেছেন: রেন্টুর পর মৌলবাদীদের প্রপাগান্ডার বড় সহায়ক হবে ফরহাদ মযহার।

বিশ্বাস হয় না - বাজী ধরবেন?
২২ শে এপ্রিল, ২০০৮ রাত ১০:৫২

লেখক বলেছেন:
এখন আর বাজী ধরার কিছু নেই, ফরহাদ মজহার এর মধ্যেই জায়গাটি নিয়ে নিয়েছেন। তবে দীর্ঘদিন এককাজ চালিয়ে যাওয়ার মানুষ তিনি নন। ফরহাদ মজহারের নতুন চমক দেখার লোভ সামলাতে পারছিনা।

আচ্ছা, এই 'রেণ্টু' কে?

২৪. ২২ শে এপ্রিল, ২০০৮ রাত ১০:৩৩
comment by: নেমেসিস বলেছেন: হাহাহা ।

নারে ভাই । পরিচিত সবাই জানে ৫০ এর উপরে বাঁচতে চাই না আমি :)
২২ শে এপ্রিল, ২০০৮ রাত ১০:৫৬

লেখক বলেছেন:
বাঙ্গালীদের গড় আয়ু বেড়েছে জানেন তো? দীর্ঘজীবী হোন- গড় আয়ুর চেয়েও।

২৫. ২২ শে এপ্রিল, ২০০৮ রাত ১১:০৭
comment by: মোস্তাফিজ রিপন বলেছেন:
সাম্প্রতিক যারা ব্লগ দেখেছেন
* মানস চৌধুরী
* অবকাশ
___________________________________________

পাঁচ নম্বর মাইনাসটা দিলেন কে?
২৬. ২২ শে এপ্রিল, ২০০৮ রাত ১১:১২
comment by: রিয়াজ শাহেদ বলেছেন: ধুর মিয়া মহান মতিউর রহমান রেন্টুর নাম শুনেন্নাই? উনার একটা বিখ্যাত বই আছে "আমার ফাঁসি চাই"।
২২ শে এপ্রিল, ২০০৮ রাত ১১:৫১

লেখক বলেছেন:
আসলেই শুনি নাই। এই রেণ্টু সাহেবের আর কোন পরিচয় আছে? তবে বই-এর নামটা কিন্তু জোশ- 'আমার ফাঁসি চাই'। (এরশাদ সিকদার, আর জয়নাল হাজারীর মতো হইছে।) :)

২৭. ২২ শে এপ্রিল, ২০০৮ রাত ১১:২০
comment by: ফাহমিদুল হক বলেছেন: ফরহাদ মজহারের মতো পণ্ডিত লোক আমি একালে বাংলাদেশে তেমন দেখিনা। আমি তার লেখা থেকে অনেক কিছুই শিখেছি।

আর কেবল পত্রিকার কলাম দেখেই অনেকে তাকে মূল্যায়ন করেন, তাই তার মূল্যায়নটা যথার্থ হয়না। আপনি তেমনভাবে করেছেন তেমন বলছি না। বরং তিনি এবাদতনামার উল্টোপাঠ করছেন, আপনার এই মন্তব্যটি পছন্দ হলো। তিনি এক আলোচনায় যেভাবে মার্কস ও মাওলানা বা জিহাদ ও শ্রেণীসংগ্রামকে আনেন, উভয় গোষ্ঠীর জন্যই তাতে ম্যালা শিক্ষণীয় থাকে।

তবে এধরনের পণ্ডিতদের অনুসরণ করা বিপজ্জনক।
তার জ্ঞানভাণ্ডার থেকে কিছু সেঁচে নেবার কাজটিও করতে হয় সতর্কতার সাথে, সেজন্য ব্যক্তির নিজস্ব বুদ্ধি ও দর্শন থাকা চাই।
বস্তুবাদ ও ভাববাদের সম্মিলনের জন্য তার দার্শনিক চর্চা পর্যন্ত ঠিক ছিল, কিন্তু তিনি যেভাবে মোল্লাতন্ত্রের দিকে ঝুঁকছেন, তা তাকে পতনের দিকেই টেনে নিয়ে যাচ্ছে। হিজবুত তাহরীরের পাঠচক্রপ্রয়াসী ছেলেদের প্রতি বেশ দরদ ছিল, এখন তিনি শিবিরের ছেলেদের পিঠ চাপড়ে দিচ্ছেন কিনা জানিনা। ইদানীং তার লেখা তেমন পড়া হয়না। নয়া দিগন্ত পড়া হয়না একেবারেই।

বিডিনিউজের আর্টসে সম্প্রতি তার পুরনো একটা লেখা পড়লাম, বেদের মেয়ে জোসনা নিয়ে, সাংঘাতিক ভালো লেখা।
২২ শে এপ্রিল, ২০০৮ রাত ১১:৫০

লেখক বলেছেন:
বেদের মেয়ে জোসনা নিয়ে লেখাটি আমি পুনর্বার পাঠ করলাম বিডি নিউজে। আমার ভালো লাগেনি ফরহাদ মজহারের বিশ্লেষন প্রক্রিয়াটি। সত্য কথা বলতে কি, চিত্র পরিচালক শহীদুল ইসলাম খোকনও এমন করেই বাংলা চলচিত্র বিষয়ক আলোচনা করেন। এতে কোনো পক্ষ উপকৃত হয়না; শুধু বিরুদ্ধবাদীদের ওপর ঝাল মেটানো যায় এ প্রক্রিয়ায়।

ফরহাদ মজহারের বিষয়ে আমার আগ্রহ দীর্ঘদিনের। এটি নানা কারনেই তৈরী হয়েছে আমার মধ্যে। তিনি সুলেখক, ভালো সংগঠক, শিক্ষা অনুরাগী- তাঁর এসব গুণাবলীর সাথে আমি বাল্যকাল থেকেই পরিচিত। তাঁর প্রতি আগ্রহ আরও বেড়েছিল, যখন আমি জেনে ছিলাম- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমি যে বিষয়টিতে অধ্যয়ন করেছিলাম ফরহাদ মজহারও সে বিষয়ে পড়াশুনা করেছেন। যাহোক, ফরহাদ মজহারকে সেঁচে নেবার কাজটি আমি মনযোগী পাঠকের মতোই করেছি। আমি জানি, আমার ক্ষুদ্রতা ফরহাদ মজহারকে পুরোপুরি ধারন করতে দেয়নি।
এগুলো অন্যকথা; তার সাহিত্য বা শিল্পমান বিচারে আমি নিতান্তই অকিঞ্চিতকর।

ব্যক্তি ফরহাদ মজহার মোল্লাতন্ত্রে বিশ্বাসী হয়ে উঠলে কোন সমস্যা নেই; কিন্তু এতে তিনি উৎসাহিত করে তুলছেন অনেকই- যা বিপজ্জনক।

২৮. ২২ শে এপ্রিল, ২০০৮ রাত ১১:২৩
comment by: মুকুল বলেছেন: হু ম ম
২৯. ২২ শে এপ্রিল, ২০০৮ রাত ১১:২৯
comment by: প্রশ্নোত্তর বলেছেন:
আমার মতে এ সপ্তাহের সেরা লেখা এটা।
২৩ শে এপ্রিল, ২০০৮ রাত ১২:৩২

লেখক বলেছেন:
লেখাটি প্রসঙ্গে আমি জানিনা, তবে অসাধারন অনেক মন্তব্য এসেছে।

৩০. ২২ শে এপ্রিল, ২০০৮ রাত ১১:৩১
comment by: মানস চৌধুরী বলেছেন: স্ট্যানলি কুবরিক সারওয়ার চৌধুরীকে 'বলদ টাইপের' বলাতে আমার রক্ত হিম হয়ে গেল। ফলে এখন 'ছাগল টাইপের' গালির সম্মুখিন থেকেই আমার লেখা হচ্ছে। কী করা! কপালে থাকলে...

মোস্তাফিজ রিপন, আমি সামান্য মানুষ। ফরহাদ মজহারের সঙ্গে বিরোধ/সংশ্লেষ দুয়ের জন্যই আমি ক্ষুদ্রকায়। তথাপি তাঁর সঙ্গে একাধিক বিষয়ে মতবিরোধ আছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে, লালন আখড়া আন্দোলন নিয়ে, তাঁর হরে দরে "ব্রাহ্মণ্যবাদ" চিহ্নিতকরণ প্রকল্পে "হিন্দুবিদ্বেষ" ছড়ানো নিয়ে। এর কিছু আমাদের আলাপের সুযোগ হয়েছিল; কিছু আমাদের দুজনের বিস্তর প্রাজ্ঞতার মতপ্রকাশ-ফোরাম পার্থক্যের কারণে কখনো সুযোগ হয়নি। কিন্তু তারপরও আমি মনে করি, এই নিবন্ধে ফরহাদ মজহারকে অনুধাবন তাঁর প্রতি অনেক যত্নশীল কিংবা প্রসঙ্গবিচারে যথার্থ হয়নি।

এখানে দুয়েকটা জিনিস খেয়াল রাখতে আমি বিনীত অনুরোধ করি। প্রথম বিষয় হলো, ইসলামকে একটা রাজনৈতিক প্রপঞ্চ হিসেবে অনুধাবন এবং "জামাত-শিবির" সমর্থন এক কথা নয়। হবার কোনো সুযোগও নেই। দ্বিতীয়ত, আমাদের মাথায় জামাত-শিবির এর যেরকম চিত্রই থাকুক না কেন। জামাত আর শিবির নিজেরা একটা অখণ্ড জায়গায় নেই। অন্ততঃ ৮০'র দশক পর্যন্ত যতোটা ছিল। একটা ইয়ং ব্রিগেড হিসেবে শিবিরের অনেক নেতা-কর্মী এদের মুরুব্বিদের লাগাতার আমেরিকার পা বা পাছাচাটা ভূমিকা নিয়ে যারপরনাই ক্ষুব্ধ। তাঁদের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা হলো ইসলামী বিশ্বের অনেক দেশের শিক্ষার্থীদের মতো তাঁদের এজেন্ডার মুখ্য জায়গা নিক সাম্রাজ্যবাদ বিরোধিতা। এসব কারণে বহু আগে থেকেই সৌদিপন্থী এবং ইরানপন্থী একটা বিভাজন ছিল। সেটা আগের কথা। সাম্প্রতিককালে আফগান হামলার পর জামাত নেতৃবৃন্দের মুখে-কুলুপ এঁটে ছ্যাঁচরামির ভূমিকা নেবার সময়ে বাস্তবে এই অংশের হতাশা ও ক্ষোভ বিপুল আকার ধারণ করে। এই তরুণ তুর্কীদের বাগে আনতে সেই কালে জামাতী ধুরন্ধর নেতাদের বিস্তর কাঠখড় পোড়াতে হয়। উল্টোদিকে, জামাতী নেতাদের পক্ষে ঐতিহাসিকভাবেই মার্কিন স্বার্থের বিরুদ্ধে কথা বলার উপায় নেই। এবং বড়জোর একটা সাজানো প্রতিবাদ তারা করতে পারে। সেটাও, সরকারে থাকার কারণে, তারা করতে চায় নাই। এসব কথা বলে আমি বলতে চাইছি যে ফরহাদ মজহারের কোনো বিশ্লেষণ বিশেষ কোনো ইসলামপন্থী অংশের মনোপূত হলে সেটা একটা অখণ্ড জামাতী হবার কোনোই সম্ভাবনা নেই।

একজন মন্তব্যকার যা বলেছেন তাতে বাংলাদেশে জামাতী আরও সংহত হলে ফ.ম. পয়লাদিকের টার্গেট হবেন। এ বিষয়ে আমারও সন্দেহ কম। ইরানের বিপ্লবে কম্যুনিস্ট এবং খোমেনীপন্থী ইসলামবাদীরা এক কাতারে লড়েছেন। ক্ষমতায় এসে খোমেনী প্রথমেই বিপ্লবের সহযোদ্ধাদের খতম করা শুরু করলেন। কথিত যে ৪০০০০ কম্যুনিস্ট খুন হন। এদের সন্তান সন্ততিরা এখনো রাষ্ট্রীয় পাহারাদারিত্বের মধ্যে আছেন। এটা একটা বাস্তবতা।

সাম্রাজ্যবাদ মোকাবিলা প্রশ্নে মার্ক্সবাদী ও ইসলামপন্থী বিপ্লবীদের ঐক্য হঠাৎ করে ঘটেনি। একটা লম্বা সময় ধরে হিজবুল্লাহতে তুরস্কের মার্ক্সবাদীদের একাংশ কাজ করেছে। সাম্প্রতিককালে ব্রিটেনে মার্ক্মবাদী ও ইসলামপন্থীরা একত্রে ব্লেয়ারের যুদ্ধনীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছিলেন। বিষয় হলো, ফরহাদ মজহারের কার্যপদ্ধতি, হাওয়াভবনের সঙ্গে দহরম মহরম কিংবা একটা উচ্চকিত (যেটা মোস্তাফিজ রিপন বললেন) প্রকাশভঙ্গি, কখনো কখনো তাঁর অসহিষ্ণু জবান -- এগুলো আমাদের পছন্দের না হতে পারে। দুর্বোধ্য মনে হতে পারে কিংবা কারো কারো হঠকারীও মনে হতে পারে। তার মানেই এই নয় যে তিনি জামাতীদের জন্য কাজ করছেন। এটা তাঁর রাজনীতি বুঝতে সাহায্য তো করবেই না, একটা বিশ্বব্যাপী মিলিটারি-কর্পোরেট শাসন পরিমণ্ডলের মধ্যে আমাদেরও নানান ধরনের মিত্র সম্ভাবনার পথ রুদ্ধ করবে।

একান্ত
-মানস
২৩ শে এপ্রিল, ২০০৮ রাত ১২:২৫

লেখক বলেছেন:
মানস, আপনার সযত্নে লিখিত মন্তব্যের জন্য কৃতজ্ঞতা রইল।

আমি লেখাটিতে বলেছি- ফরহাদ মজহার এখন রাজনীতির সাথে জড়িত না হলেও রাজনীতির আঙ্গিনাতেই শয্যা পেতেছেন। এটি তার আজন্ম লালিত দিন বদলের চেতনা দিয়ে মোড়া। কিন্তু কি প্রসঙ্গে, কাদের মাধ্যমে বা সমর্থনে দিন বদলের কথা বলা হচ্ছে তা কিন্তু উপেক্ষা করা যায়না।

ফরহাদ মজহারকে এখন লুফে নিচ্ছেন মৌলবাদীচক্র; যেমন এক সময়ে লুফে নিয়েছিলেন বাম তাত্ত্বিকেরা। ফরহাদ মজহারকে নিয়ে এই প্রথম দলটির আগ্রহ বিপদজ্জনক। কারন, এরা মানুষের মৌলিক অধিকারে বিশ্বাসী নন। যেহেতু এই চক্রটি কোন অখণ্ড স্থানে দাঁড়িয়ে নেই- সমস্যাটিও তাই আরও প্রকট হয়ে উঠছে প্রতিদিন।

ফরহাদ মজহারের রাজনীতি বোঝাটা সত্যিই দুরূহ হয়ে উঠেছে। তিনি নিজেকে এতবার এতভাবে ভেঙ্গেছেন যে- তাঁর বিশ্বাসের সন্তরণে দুর্বোধ্য হয়ে উঠেছেন তিনি নিজেই। আর যাই হোক, আপাতভাবে জামায়াতীরাই ফায়দা লুটবে ফরহাদ মজহারের নতুন 'এবাদতনামা'য় তা বলার অপেক্ষা রাখেনা।

৩১. ২২ শে এপ্রিল, ২০০৮ রাত ১১:৩১
comment by: প্রশ্নোত্তর বলেছেন:
চিরদিনের মতই ফ.ম. সাহেবের যুদ্ধের (ইসলামী) আশংকা মিথ্যে প্রমাণিত হবে, বলাই বাহুল্য - প্রচন্ড সম্ভনাময় অথচ আগাগোড়া ব্য্ররথ একজন মানুষ ফরহাদ মজহার।
৩২. ২২ শে এপ্রিল, ২০০৮ রাত ১১:৩৩
comment by: মানস চৌধুরী বলেছেন: রিপন, একটা অনুরোধ করি। এই মাইনাস-প্লাস গুণতে থাকলে কোনো আলাপই আগাবে না। প্রসঙ্গত, আমি কাউকেই মাইনাস বা প্লাস দিই না। কিছু বলার থাকলে, সময় ও বুদ্ধিতে কুলালে লেখার চেষ্টা করি। মাইনাস-প্লাস প্রীতি-ভীতি থেকে বেরিয়ে আসুন সম্ভব হলে।
২৩ শে এপ্রিল, ২০০৮ রাত ১২:৩০

লেখক বলেছেন:
মাইনাস-প্লাস প্রীতি-ভীতি থেকে বেরিয়ে আসা যাবে না, এটি মজ্জায় ঢুকে গেছে। ভাল না লাগলে কেউ মাইনাস দিতেই