আমার প্রিয় পোস্ট
- কিছু দেশের গান (রিঃপোষ্ট) - একলা একজন
- চার পাঁচ হাজার পিঁপড়ার দুঃখ - সরকার আমিন ১৯৬৭
- বিদ্যাকূটে যাওয়া না-যাওয়া নিয়ে একটা গল্পের ভণিতা - সুমন রহমান
- ক্রমশ নির্মীয়মান দৃশ্য কিংবা চরিত্রের গল্প - ছন্নছাড়ার পেন্সিল
- নেশা অথবা নিশির টান; বাইসন... এইসব - মাজুল হাসান
- 'আমরা দুজনে মিলে শূন্য করে চলে যাব জীবনের প্রচুর ভাঁড়ার' - আহমাদ মোস্তফা কামাল
- জীবনানন্দ দাশ : কবিতায় খুঁজি বাংলার রূপ - একরামুল হক শামীম
- চিলেকোঠার সানাই - আজহার ফরহাদ
- শুয়ে থাকার কাল - মানস চৌধুরী
- আরিফুল হোসেন তুহিনের অসামান্য উদ্যোগে সামান্য ভূমিকা রাখতে চাচ্ছি - রিয়াজ শাহেদ
- আজ রাতে কোথায় ঘুমাবো? - মাহবুব মোর্শেদ
- `রবীন্দ্রচর্চার জন্য সবার আগে প্রেমিক হতে হবে'- আবদুল মান্নান সৈয়দ - েফরদৌস মাহমুদ
- আমি পান্ডিত্যের কাঁফনে মোড়া এক শাস্ত্রীয় শকুন - সামী মিয়াদাদ
- খেরোখাতার আসন্ন পৃষ্ঠাটি - রহমান হেনরী
- মুক্তিযুদ্ধের কিছু প্রামান্য বইয়ের তালিকা - ফারহান দাউদ
- মনে হয় যেন লেখার সময় অন্য কারো করতলে ছিলাম-- মাহমুদুল হক - আহমাদ মোস্তফা কামাল
- ভিনদেশী কবিতা : হাহাকার, তবু এক অচিন-আনন্দময় যাত্রা-১ - মাজুল হাসান
- আমার ছবি কইবে কথা যখন আমি থাকবো না---- (উৎসর্গ : প্রথম আর দ্বিতীয় হওয়া সকল পরীক্ষার্থী) - মেহরাব শাহরিয়ার
- নবীনদের জন্য - নাদান
- কেন লেখেন? - আহমাদ মোস্তফা কামাল
- আস্তিক-নাস্তিক-সংশয়ী এবং তাদের ঈশ্বর - আহমাদ মোস্তফা কামাল
- "গণহত্যা": এ্যান্থনি মাসকারেনহাসের অবশ্যপাঠ্য প্রতিবেদন, ৩য় অংশ (বিদেশী পত্রিকায় মুক্তিযুদ্ধ, পর্ব ৩২) - ফাহমিদুল হক
- সিদ্ধার্থ, নির্বাণের পথ (সিরাতুল মোস্তাকিম) নিজেকেই খুঁজে নিতে হয়। - নাজিম উদদীন
- জল প্রিজমের গান - মৃদুল মাহবুব
- এসো ৭১ এর গল্প শোনাই সবাই মিলে - জ্বিনের বাদশা
- আমাদের টমি আর শের আলীর গল্প - এস্কিমো
- পাকিস্থানি কুলাংগারদের বর্বরতা-একটি ঐতিহাসিক ভিডিও ক্লিপ - না বলা কথা
- না এলেই ভালো হতো...! - আহমাদ মোস্তফা কামাল
- "চলচ্চিত্র সমাজ পরিবর্তন করতে পারে না, কখনো করেও নি" -- সত্যজিৎ রায়ের সাক্ষাৎকার - ফাহমিদুল হক
- বীভৎস যৌন নির্যাতন, কিন্তু এড়িয়ে গেছেন সবাই - শেরিফ আল সায়ার
- "পুরনো পাকিস্তানের সমাপ্তি": বিদেশী পত্রিকায় মুক্তিযুদ্ধ, পর্ব ১৩ - ফাহমিদুল হক
- জীবন একটা গম্ভীর বিদ্রুপ! - আহমাদ মোস্তফা কামাল
- আমার নিরন্তর মুসলমান হয়ে ওঠা - সামী মিয়াদাদ
আল মাহমুদঃ ছায়াহীন বৃক্ষ
২৭ শে এপ্রিল, ২০০৮ দুপুর ১:৪২
এক
তিনি মিটিমিটি হাসছেন, চোখ দু'টো বুজে আছে সে হাসির রেনু ছড়িয়ে দিতে শশ্রুমণ্ডিত মুখমণ্ডলে। তিনি বাংলা কবিতার এসময়ের মহীরূহ- আল মাহমুদ। তাঁর সাহিত্যের দিপ্তী কবিতার গেরস্থালি পেরিয়ে গল্পে-উপন্যাসে সুগভীর শেকড় বিস্তার করেছে- তাও অনেক দিন। ছোটখাট সমসাময়িক কড়চার অর্কিড শোভা বাড়িয়েছে তাঁর লেখালেখির বাগানবাড়ীর। যদিও বয়সের ভার, স্মৃতি কাতরতা, দৃষ্টিক্ষীণতা, স্বজনের প্রতারনা, অনুমান নির্ভর ইতিহাসচারন- সেই বাহারী গুল্মের কীটদষ্ট পাতার মতো কখনো কখনো। 'প্রধান কবি'র গালভারা শব্দটি আল মাহমুদের ভাগ্যে জোটেনি। কবি ভ্রুকুটি করেন এ তকমা; আবার ভুলেও থাকতে পারেন না। নিজের আর্থিক দীনদশার কাহিনীর পাশে এই না-পাওয়াটিরও একটা দীর্ঘশ্বাস বাজারের ফর্দের মতো দশ দিগন্তের এক কোণে পড়ে থাকে। রাজনীতির নেকাবও দুলে ওঠে দশ দিগন্তের ঈশান-অগ্নী কোণে। নেকাবের আড়ালে যে মুখটি, সে অনুযোগ করে অন্যের নামে- লোকে তাঁকে মৌলবাদী বলেন। আবার প্রতিপক্ষকে মোক্ষম জবাবও দেয় সে মুখোশ- আমিতো মৌলবাদী!
'বাংলাদেশ থাকলে আপনিও থাকবেন'- আল মাহমুদ জানিয়েছেন আমাদের। আমরা মায়ের সোনার নোলক হারিয়েছি একদিন, এবার বুঝি মা'কেই হারানোর ভয় পাচ্ছেন কবি। কারা ভাবেন বাংলাদেশ না থাকলেও তারা থাকবেন? আল মাহমুদ জানান, 'তথাকথিত নাস্তিক আর প্রগতিবাদীরাই এ ধরনের চিন্তা করে চলেছে'। কবির 'সেই সত্য রচিবে যা তুমি'- কলামিস্টের বাণী হয়ে গেলে অন্য রকম শোনায়। কবির পক্ষ থাকে, পক্ষপাতও থাকে- প্রতিপক্ষ থাকেনা। কখনোই না। দশ দিগন্তে উড়ালের অধিকার কবিরই জন্য, কলামিস্ট সেখানে বড়ই বেমানান।
'কোন নাস্তিক্যবাদী আদর্শই বাংলাদেশের অস্তিত্বের গ্যারাণ্টি নয়। বাংলাদেশ টিকতে পারে শুধু ইসলামী আদর্শের পতাকা তলে ঐক্যবদ্ধ হয়েই'- আল মাহমুদ যখন একথা বলেন, আমি সেখানে কবিতা খুঁজে পাইনা- কেবল এক অ-কবির আস্ফালন দেখি। বাংলাদেশের অস্তিত্বের গ্যারাণ্টি হিসেবে 'নাস্তিক্যবাদ' কে উপহার দিয়েছে? কেউ দেয়নি। তাহলে ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশের যারা স্বপ্ন দেখেন তারা কি নাস্তিক? আল মাহমুদের কাছে ধর্মনিরপেক্ষতাই কি নাস্তিক্যবাদ? তিনি আরো বলেছেন, 'এ দেশের ওইসব কুচক্রী শয়তানকে হজম করে ফেলার শক্তি যে বাংলাদেশের আছে, তা একবার দেখিয়ে দিলে মন্দ হয়না।' আমার শিরদাঁড়া বেয়ে নেমে যাওয়া শীতল এক অনুভূতি টের পাই। একজন কবি বলছেন এ কথা! আমি অবাক হই, হতাশাও আমার করোটির মধ্যে পেরেক ঠুকে দেয়না- আল মাহমুদ তরবারী হাতে সেখানে যে বসে!
আল মাহমুদের এই গোষ্ঠীটি শক্তি যে একেবারে প্রদর্শন করছে না তাতো আর নয়! ছায়ানটের বর্ষবরণে হামলা হয়েছে- হত্যা করা হয়েছে উৎসব দেখতে আসা কয়েকজন সাধারন মানুষকে, আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলা হয়েছে- খুন করা হয়েছে তেইশজনকে, ময়মনসিংহের সিনেমা হলে বোমা মেরে মানুষ হত্যা হয়েছে, সিপিবি'র মিটিং-এ বোমা হামলা হয়েছে, উদিচি'র অনুষ্ঠানে বোমা হামলা হয়েছে, আদালতে কর্মরত বিচারকে হত্যা করা হয়েছে, সারাদেশে একসাথে বোমা ফাটিয়ে আতংক তৈরী করা হয়েছে- আল মাহমুদ এতেও তুষ্ট নন! ২০০৮-এ প্রস্তাবিত নারী নীতির বিপক্ষে মরিয়া প্রতিক্রিয়াশীল যে গোষ্ঠীটি তাণ্ডব চালিয়ে যাচ্ছে সারা দেশে তাতেও কি আল মাহমুদ নিশ্চিত হতে পারছেন না যে, তাঁর 'নাস্তিকেরা' যথেষ্ট জ্ঞান লাভ করেছেন উদিয়মান এই যমদূতদের সম্পর্কে?
আল মাহমুদের ভাষায়, 'বাংলাদেশ একটি মুসলিম দেশ। এখানকার ধর্ম আর ভাষা এক। আশা-আকাঙ্ক্ষাও এর অনুকূলেই থাকতে হবে। তা না হলে এর অস্তিত্ব অনিশ্চিত হয়ে পড়বে'। বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিরোধীদের বক্তব্যটি এত নিখুঁতভাবে আল মাহমুদ কবে রপ্ত করলেন? ধর্মের দোহাই দিয়ে কীটের মত যে গোষ্ঠীটি টিকে আছে বাংলাদেশে, তাদের অনুরনন এতোটাই অবিকৃতভাবে তিনি করছেন যে, কখনো কখনো মনে হয় যুদ্ধাপরাধীর কোন প্রেতাত্মার কথা শুনছি। ভাবতেও অবাক লাগে আল মাহমুদ একদিন এদেরই বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন।
আল মাহমুদ শারীরিক দৃষ্টিশক্তির ক্ষীণতার সাথে সাথে নিজের নৈতিক শক্তির অবলোপ ঘটিয়েছেন। বার্লিন প্রাচির ভেঙ্গেছে আর সাথে সাথে এককালের বামপন্থী অনেকের মতই তিনিও চরম ডানপন্থীতে রূপান্তরিত হয়েছেন। এ যেন এক তামাশাপূর্ণ ডিগবাজী প্রতিযোগিতা- সার্কাসের সঙরাই যা এককালে দেখাতো।
দুই
ছেলেবালায়- যে বয়সে মানুষ সুতোছেঁড়া ঘুড়ির পেছনে দৌঁড়ায়, পুষবে বলে পাখি ধরে আনে জঙ্গল থেকে- সে বয়সে আমি আর আমার বয়সী অনেকে- গলায় রশি দিয়ে আত্মহত্যা করেছে এমন এক মানুষের লাশ দেখতে গিয়েছিলাম। আমরা দূরে দাঁড়িয়ে দেখেছিলাম লাশটি তখনও গাছে ঝুলে আছে। ভয় পেয়েছিলাম বাড়ী ফেরার পথে, অনেক বয়সেও আত্মঘাতী সেই মানুষটিকে আমি দুঃস্বপ্নে দেখতাম। যে গাছে মানুষটি নিজেকে ঝুলিয়ে দিয়েছিল কোন এক ঝিম ধরা দুপুরে- সে গাছটিকে পুরোপুরি কেউ কেটে ফেলেনি; শুধু একটি ডাল কেটে দিয়েছিল- যেখানে সে ঝুলে ছিল পরের দিন পুলিশ আশা অব্দি। অন্ধকার মতো সেই ভূতেধরা জংলা জায়গাটিকে আমরা এড়িয়ে যেতাম; তবু সে আমাদের পিছু নিত প্রতিটি নির্জন দুপুরে, নিঃসঙ্গ সন্ধ্যায় আর প্রতিটি দুঃস্বপ্নের রাতে।
আল মাহমুদের সৃজনশীলতা কি আমার ছেলেবেলার 'শুধু একটি ডাল কেটে নেয়া' সেই বৃক্ষের মতো? আমি জানি না। দশ দিগন্তে উড়াল দিয়ে আল মাহমুদ কোন পালক ফেলে রেখে যাচ্ছেন আমাদের জন্য?
আলফ্রেড খোকন বলেছেন:
মহীরুহ গাছটার একটা ছবি দেখাইতে পারেন? এহনও দেখি নাই তো!
লেখক বলেছেন:
ভালো বলেছেন।
মো: খায়রুল বাসার বলেছেন:
আমার প্রিয় কবিদের একজন আল মাহমুদ । আস্তিক বা নাস্তিক বা অত্যাচারিত করে একজনের লেখা বন্ধ করতে পারবেন না ।
লেখক বলেছেন:
আল মাহমুদের লেখা বন্ধ করার প্রশ্ন আসছে কেন?
লেখক বলেছেন:
তাতো বটেই!
লেখক বলেছেন:
এ কি কোন শিশুকে প্রবোধ দেয়া?
লেখক বলেছেন:
আমি ওভাবে কথাটা নেই নি কিন্তু! ক্ষমা প্রার্থনার কিছু নেই।
প্রসঙ্গটা যেহেতু আল মাহমুদকে নিয়ে, তাই বিষয়টি অনেকখানিই অন্যরকম। তিনি সু-কবি আবার প্রতিক্রিয়াশীল জঙ্গীবাদে উদ্বুদ্ধ। বাংলাদেশ কাকে গ্রহন করবে?
রিফাত হাসান বলেছেন:
আপনি খুব দরদ দিয়ে লিখেছেন মনে হল। প্রায় পুরোটাই।একটা খুব মজার ব্যাপার আমি খেয়াল করেছি, আল মাহমুদ বিষয়ে হালের সাহিত্যপাতা এবং গণমাধ্যমগুলোতে দরদ দিয়ে কিছু বলেছে তার পুরোটা না পড়ে বা না শুনে অই আলোচনার গন্তব্য বুঝা যায় না। ভাবটা প্রতারণামূলক- এটা এমন যে, ইশশ এত্ত ভাল মানুষটি যারে একটু আগে এত ভাল বললাম তারে আসলে খাঁটি ঘেন্না ছাড়া কিছুই দেয়া যাচ্ছে না! এটা খাঁটি ভন্ডামি ছাড়া কিছুই নয়। একজন মানুষ যখন সমাজের পরিচিত একটা ভাষায় কথা বলছে তারে সেই ভাষায় এবং যুক্তি তর্কের মাধ্যমে মোকাবেলা করার পরিবর্তে গালাগালি করাটা প্রতিক্রিয়াশীলতার ভয়াবহ রূপ। এবং পলায়নপরতা।
আল মাহমুদের সাম্প্রতিক কবিতাপ্রচেষ্টা বিষয়ে আমার অনেক কিছু বলার আছে। সেটা তার ধর্মনিরপেক্ষতা থেকে ধর্মে উত্তরণের বিষয়ে শুধু নয়। কবিতা, একই সাথে তার শিল্প এবং রাজনীতির দায়, বাঙালী মুসলমানের মনোকাংখা, - এসবের দিক থেকে আল মাহমুদের সাহিত্য বিচার এখনো বড় আকারে করা হয়নি। সেটা খুবই দরকার।
কিন্তু সেটা এখানে আলোচ্য নয়। আপনার গন্তব্য ছিল অন্য।
ধর্মনিরপেক্ষতা নামে এক অদ্ভুদ জিনিশ- যা সম্পর্কে খুবই আগ্রহী দেশের স্বল্প কিছু শহুরে লোক, যারা মন ও মননে শহর এবং শহুরে ন্যাকামীর বাইরে যেতে পারে না। এর ভয়াবহ রূপ হলো ধর্মবিদ্বেষ। এবং নির্লজ্জ রূপ হলো সাম্রাজ্যবাদ তোষণ। আর একটা মজার ব্যাপার হলো, যাদের ধর্ম নেই, তারাও নিজেদের জন্য একটা ধর্মের প্রয়োজন অনুভব করে। বর্তমানে বামপন্থার ধর্ম হল সেকুলারিজম- যার অনুশাসনগুলি ধর্মীয় মানুষের ঐশি কেতাবের চেয়ে কম পবিত্র নয়।
তাই ধর্মনিরপেক্ষতা একই সাথে বুদ্ধিবৃত্তির দৈনতা এবং বৈশ্বিক রাজনীতির পরিমণ্ডলে দেখলে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের অন্যতম হাতিয়ার এখন।
ধর্মনিরপেক্ষতা (এটা কী জিনিশ) শব্দটার যাবতীয় ঐতিহাসিক অর্থসহ এটা বর্তমান সময়ের বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে একটি ষড়যণ্ত্রতত্ত্বের যাবতীয় উপাদান হাজির করে আমাদের সামনে। দেশে যেহেতু সংখ্যাগরিষ্ট সম্প্রদায় মুসলিম এবং বর্তমান বিশ্বের ক্ষমতার রাজনীতির সাথে ইসলাম নামটা ওঁতপ্রোতভাবে জড়িত, তাই এখানে ধর্মনিরপেক্ষ নামের প্রতিতী এবং প্রত্যয়টা ওর যাবতীয় মুখ-মুখোশসহ ইসলাম এবং সাধারণ ধর্মপ্রাণ মুসলিমের ধর্মবিশ্বাসের বিরুদ্ধে ব্যয়িত হয়।
এটা খুবই ভয়ঙকর একটি ব্যাপার।
এইটা ভেবে দেখা এইজন্য গুরুত্বপূর্ণ যে, ধর্মনিরপেক্ষতা এমন এক চিজ গ্রামের সাধারণ কৃষকরা যা ছাড়াই চলতে পারে। কিন্তু ধর্ম এমনই গুরুত্বপূর্ণ তাদের জীবনে, যা ছাড়া তাদের জীবন কল্পনাই করা যায় না।
আপনি শহুরে বুদ্ধিজীবী, আপনার জীবনাচরণের পুরোটাই সাম্রাজ্যবাদ নিজের প্রয়োজনে ফ্যান্টাসি বানিয়ে দিয়েছে। এই মেকি জায়গায় দাঁড়িয়ে ধর্ম আসলেই গুরুত্বহীন, কোম্পানি স্বার্থও ধর্মের বিরুদ্ধে, যেহেতু ধর্ম কোম্পানি স্বার্থের কোন কাজে লাগে না। ধর্ম আপনার মেয়েকে ফেয়ার এণ্ড লাভলির বিজ্ঞাপনের পণ্য হতে দেবে না, এমনকি ভোক্তা হতেও নিষেধ করবে। আপনি শহরে বসে বুদ্ধিজীবিতার ভাষায় যে কথা বলেন সেই বুদ্ধিজীবিতায় আমাদের গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর যথেষ্ট সন্দেহ তৈরী হওয়া স্বাভাবিক। দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষের অনুভূতি এত মূল্যহীন না যে তাদের ধর্মানুভুতিকে মুর্খামি বলে আপনি একা শহুরে মধ্যবিত্ত্বর বুর্জোয়ামি চালিয়ে যাবেন এবং তাদেরকে রাষ্ট্রশক্তি দিয়ে দমিয়ে রাখবেন।
আর একটা কথা, এই ধর্মনিরপেক্ষ বুদ্ধিজীবীতা একটা আইডেন্টিটি ক্রাইসিসের আউটপুট বলেও আমার মনে হয়েছে- যেটা আমাদের দেশে এসেছে সাম্রাজ্যবাদী নগরায়নের মাধ্যমে- কোম্পানি স্বার্থ যখন পৃথিবীতে যুদ্ধ বাধিয়ে দিল।
লেখক বলেছেন:
শুরুতেই দীর্ঘ মন্তব্যের জন্য আপনাকে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। আমি খুটিয়ে খুটিয়ে কয়েকবার পাঠ করলাম আপনার লেখাটি, আপনি গুছিয়ে উত্তর দিতে জানেন।
আপনি কি লক্ষ্য করেছেন, আপনার বক্তব্যটি আল মাহমুদ-এর চিন্তা, আর তার ব্যক্ত করার ধরন মোটামুটি অভিন্ন? আপনার অবচেতনেও ঘটতে পারে এটি। আপনি বলেছেন, 'ধর্মনিরপেক্ষতা নামে এক অদ্ভুদ জিনিশ- যা সম্পর্কে খুবই আগ্রহী দেশের স্বল্প কিছু শহুরে লোক, যারা মন ও মননে শহর এবং শহুরে ন্যাকামীর বাইরে যেতে পারে না। এর ভয়াবহ রূপ হলো ধর্মবিদ্বেষ। এবং নির্লজ্জ রূপ হলো সাম্রাজ্যবাদ তোষণ।' জামায়াতে ইসলামীর 'ধর্ম নিরপেক্ষতা মানে ধর্মহীনতা' শ্লোগান বেশ পরিশীলিত রূপে আপনি বয়ান করেছেন। আপনার কথাটি শুধু 'ধর্মহীনতার' মাঝেও সীমাবদ্ধ থাকেনি- আপনি আরও এক ধাপ এগিয়ে একে বলেছেন, 'ধর্মবিদ্বেষ'।
ধর্মবিদ্বেষের যে বিষ ছড়ানো হচ্ছে চারদিকে সেটির আপাতত একচেটিয়া মালিকানা বাংলাদেশের ধর্মান্ধ মৌলবাদী দলগুলোর; আল মাহমুদের মতো কতিপয় বুদ্ধিজীবী যার শেকড়ে পানি ঢেলে যাচ্ছেন। 'এ দেশের ওইসব কুচক্রী শয়তানকে হজম করে ফেলার শক্তি যে বাংলাদেশের আছে, তা একবার দেখিয়ে দিলে মন্দ হয়না'- যে ব্যক্তি দায়িত্বহীন অর্বাচীনের মতো এ কথাটি বলতে পারেন, তাঁকে আর যাই হোক ধার্মিক বলা যায়না- ইসলামের সংজ্ঞায় তো নয়ই। এই ধরনের কীটদষ্ট কথা চরমোনাই পীর বললে অশিক্ষিতের মূর্খতা বলে চালিয়ে দেয়া যায়; কিন্তু আল মাহমুদকে আমি মূর্খ ভাবিনা। তিনি ভণ্ড- ইসলামের নামে তিনি ভণ্ডামী করছেন। যে গোষ্ঠীর পক্ষে তিনি কথা বলছেন, একদিন ওরা ধর্মের নামে ত্রিশ লক্ষ মানুষ হত্যা করেছে।
ধর্মনিরপেক্ষতাকে এক ধরনের আইডেন্টিটি ক্রাইসিস বলে মনে হয় আপনার। আপনার (নাকি বাজারে অনেক আগে থেকেই চালু?) এই বাণীটি জনপ্রিয়তা লাভ করবে বলে মনে হচ্ছে।
আজহার ফরহাদ বলেছেন:
মেধাবী মানুষদের ভন্ডামীও একটা শিল্পরূপ পায়। আর যদি কবি হন তো সাতখুন মাফ। তাকে আলোচনার কোন বিষয় হিসেবে এইমুহূর্তে ভাবতে পারছি না। তার মত এত স্ববিরোধী আর মনস্তাত্বিক ডিগবাজি খাওয়া ভালো মানুষ আর দেখিনি। যদিও প্রিয় কবির একজন বটে।
তাকে নিয়ে এই মুহূর্তে সবচেয়ে ভালো আলোচনা করতে পারেন সাঈদী সাহেব এটাই তার কাম্য আপাতত বেঁচে থাকাকালীন। আমরা না হয় কবরবাসী হলে মেতে উঠব।
লেখক বলেছেন:
'মেধাবী মানুষদের ভন্ডামীও একটা শিল্পরূপ পায়। আর যদি কবি হন তো সাতখুন মাফ।' নিখুঁত পর্যবেক্ষন।
হ্যারি সেলডন বলেছেন:
বুড়া বয়সে মানুষের ভীমরতিতে ধরে। আল-মাহমুদ পারফেক্ট উদাহরণ। তাছাড়া তার টাকা-পয়সারও তো দরকার আছে। বুড়া বয়সে একটু ভালমতে থাকতে চায়। এতে দোষের কিছু নেই!!!
লেখক বলেছেন:
খেয়ে-পরে বেঁচে থাকার জন্য মানুষের নৈতিকতা বিসর্জন না দিলেও চলে- এটি আল মাহমুদ জানেন।
আল মাহমুদ মানসিক বৈকল্যের শিকার।
মনুমনু বলেছেন:
মনু ইজ হ্যাপি
রন্টি চৌধুরী বলেছেন:
ভাল লাগার মতই তো লিখেছেন। মাইনাসগুলো বোধহয় অটোমেটেড। এ ব্লগে কিছু মাইনাস অটোমেটিক পড়ে।
লেখক বলেছেন:
ভালো থাকবেন।
মাজুল হাসান বলেছেন:
বিষয়টা আমি দেখি ভিন্ন ভাবে, মাহমুদ ভালো কবি, আগের কথা বাদ দিলেও এখন বাংলাদেশেযতগুলো প্রবীন কবি আছেন তাদের মধ্যে তিনিই ক্রিয়েটিভিটি ধরে রেখেছেন। কিন্তু মাহমুদের আস্তক্কবাদ যা অনেক সময় প্রবল পুরুষতান্ত্রিক ও রক্ষণশীলের মতো হয়ে উঠে। তিনি নিজেকে সাচ্চা মোসলমান প্রমান করতে চান। এক্ষেত্রে আমার অবজারভেসন হচ্ছে, আজ থেকে ৫০ বছর পর আল মাহমুদ থাকবে না, তার ধর্মীয় গোড়ামীর অবস্থানও থাকবে না; থাকবে সোনালি কাবিন, মায়াবি পর্দা দুলে ওঠো... ইত্যাদি। তাই তার সৃষ্টিকে অশ্রদ্ধা করার জায়গা নেই।
আর আল-মাহমুদের দ্বৈতসত্তার কথা বলছেন। তা তো আছে। বিষয়টা এই রকম, আমি ভাই পাক্কা মুষমান ব্যক্তিগত জীবনে, আমি ভাই কিছু সরিয়ত মানা লাইফকে পছন্দ করি। কিন্তু আমার লেখায় চরিত্রগুলো বাস্তব আশ্রয়ী। বাস্তবে তারা যা করে আমি তা তুলে আনি।
আল মাহমুদ ঘোষনা দিয়ে এই অবস্থান নিয়েছেন। অন্যদিকে যে ধর্ম নিরেপক্ষতার রাজনৌতিক আদর্শ সংশ্লিষ্ট কবি বা সুশীল সমাজের অবস্থান তাদের আচরনেও বহু দ্বৈততা আছে। থাকতে বাধ্য। আমি কাউকেই বড়-ছোট করছি না। কেবল বলতে চাই সাহিত্য চলে কলমের বলে, আর যে কোনো সাহিত্যক চলেন কলমবেচা মানে রেপুটেসনের উপরে।
বড় আলোচনা। কথাগুলো তেমন আঙুলে আসছে না। ভালো থাকবেন।
লেখক বলেছেন:
ব্যক্তিগত জীবনে শরিয়ত মেনে চলা, বা না মেনে চলাতে কিন্তু কোন সমস্যা নেই- আমি অন্ততঃ এতে কোন দোষ-গুণের কোন কিছু খুঁজে পাই না। কিন্তু কেউ যদি ব্যক্তিগত বিশ্বাসে ভর করে অন্যকে আঘাত করেন, হেয় করেন, কিংবা উস্কানি দেন- তাতে আমার আপত্তি আছে। মওলানা ফজলুল করিম প্রস্তাবিত নারীনীতি বাতিল না হলে 'দেশে গৃহযুদ্ধে বেঁধে যাবে' ঘোষনা দিলে এটিকে সবাই বললেন- মৌলবাদের আস্ফালন, হেন-তেন আরো কত কি! আল মাহমুদ যখন বললেন শয়তানদের দেখিয়ে দিলে মন্দ হয়না, আমরা তখন সাহিত্যকের দ্বৈতসত্ত্বা খুঁজলাম। অথচ মওলানা সাহেব আর আল মাহমুদের কথা দু'টি প্রায় অভিন্ন। স্পটতই আল মাহমুদের সাহিত্য কর্ম বিচার্য ছিলনা আমার, ওই কাজটির যোগ্য লোকটিও আমি নই। আমি বলতে চেয়েছি-আল মাহমুদের 'দেখিয়ে দেয়ার' হুমকি শুভ পরিনাম বয়ে আনবে না কারো জন্য।
আচ্ছা আপনি কি জানেন, আল মাহমুদের এই নাস্তিকেরা কারা? আল মাহমুদ নিশ্চিত হয়েছেন এদের চক্রান্তের ব্যাপারে, কিন্তু জানান নি এরা কারা। ধর্মনিরপেক্ষ বা নাস্তিক গোষ্ঠী কারা বাংলাদেশে?
মাজুল হাসান মন্তব্য রাখার জন্য ধন্যবাদ।
প্রণব আচার্য বলেছেন:
আল মাহমুদ শারীরিক দৃষ্টিশক্তির ক্ষীণতার সাথে সাথে নিজের নৈতিক শক্তির অবলোপ ঘটিয়েছেন। ...প্রতিক্রিয়তাশীলতা তাঁর মধ্যে প্রথম দিক থেকেই ছিল
চমৎকার লেখা
এরকম একটা লেখা প্রয়োজন ছিলো...
লেখক বলেছেন:
ধন্যবাদ প্রণব। আপনার এই 'অ্যাভাটার'টা ভালো হইছে।
রিফাত হাসান বলেছেন:
জনাব মোস্তাফিজ রিপন, 'ধর্মনিরপেক্ষতা' বিষয়ে আমার বলা কথাগুলো জামাতের- এটা প্রমাণ করার চেয়েও, আমার কথাগুলোর তাত্ত্বিক এবং সাংস্কৃতিক মোকাবেলা আপনার জন্য আরো জরুরী। কেউ যদি ধর্মের নামে মানুষ হত্যা করে- সেটির বিপরীতে ধর্মবিদ্বেষ বা ধর্মহীনতা কাজের কথা নয়। পৃথিবীতে অধর্ম এবং কোম্পানী স্বার্থ প্রতিষ্ঠার জন্যই সবচে বেশী মানুষ খুন হয়েছে। যদি খেয়াল না করে থাকেন ব্যাপারটা, তাহলে চোখ কান খোলা রেখে একবার আপনার চারপাশের পৃথিবীটা দেখুন।আল মাহমুদের কবিতা বিষয়ে আপনি যদি মূল্যায়নমূলক পোস্ট দেন সেখানে তার কবিতা বিষয়ে আমার ভাবনাগুলো জানাবো, আশা রাখি।
লেখক বলেছেন:
বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে ফতোয়াবাজ কাঠমোল্লাদের বিরুদ্ধে যারা কথা বলছেন তাদের নামে 'ধর্মবিদ্বেষী' বা 'ধর্মহীন' অথবা 'নাস্তিক' কিংবা এধরনের শব্দগুলো জুড়ে দেয়া হচ্ছে। আমাদের দেশে মৌলবাদী রাজনীতির এটিই চালু সংস্কৃতি।
ধর্মের নামে মানুষ হত্যার কোন তাত্ত্বিক বা সাংস্কৃতিক ব্যাক্ষ্যা হয় কিনা আমি জানিনা। তবে যেটুকু আন্দাজ করতে পারি, তাহলো- এগুলো ফৌজদারী অপরাধ। কবি আল মাহমুদকে এই অপরাধে দোষী প্রমানিত করবার যথেষ্ট তথ্য এবং প্রমান রয়েছে।
আপনার আগের মন্তব্যে আপনি বলেছেন, 'দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষের অনুভূতি এত মূল্যহীন না যে তাদের ধর্মানুভুতিকে মুর্খামি বলে আপনি একা শহুরে মধ্যবিত্ত্বর বুর্জোয়ামি চালিয়ে যাবেন এবং তাদেরকে রাষ্ট্রশক্তি দিয়ে দমিয়ে রাখবেন।' দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষের প্রতিনিধি হয়ে বেশ একহাত দেখিয়ে দিয়েছেন আমাকে। যদিও এ প্রসঙ্গে আমি কিছুই বলিনি আমার লেখায়। আপনি একথাগুলো কেন বলেছেন জানেন? আল মাহমুদের পক্ষে কিছু বলার ইচ্ছে থাকলেও আপনি খুব ভালো করেই জানেন, তাঁর কথাগুলো শুধু ভায়াবহ আর অমানবিকই নয়, একটি রাষ্ট্রের শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে দুষ্ট।
তারপরও যদি তত্ত্ব খুঁজতে হয়, তাহলে বলব, কারো বিশ্বাস-অবিশ্বাসে, আস্তিকতায়-নাস্তিকতায় কিছু এসে যায় না, যতক্ষণ অন্যের বিশ্বাসের জন্য তা নিরাপদ থাকে।
আজহার ফরহাদ বলেছেন:
রিফাত হাসান বলেছেন: পৃথিবীতে অধর্ম এবং কোম্পানী স্বার্থ প্রতিষ্ঠার জন্যই সবচে বেশী মানুষ খুন হয়েছে। রিফাত কথাটি কি আরেকটু পরিষ্কার করবেন?
আমার জানামতে পৃথিবীতে এ যাবত ঘটে যাওয় বন্যা, ঝড়, ভুমিকম্প, মহামারী এ জাতীয় প্রাকৃতিক দূর্যোগেও এত মানুষ মারা যায়নি যতটা ধর্মের কারণে।
আমাদের ইতিহাস তেমনই বলে।
লেখক বলেছেন:
রিফাতের 'কোম্পানি স্বার্থে যুদ্ধ' কথাটা বা তত্ত্বটা অস্পষ্ট আমারও কাছে।
রিফাত হাসান বলেছেন:
দেখুন রিপন, ব্যক্তি আল মাহমুদের পক্ষে বা বিপক্ষে বলার মতো ব্যক্তিত্ব তিনি নন, অন্তত আমার কাছে। আর যেটুকু বুঝেছি, সম্ভবত আপনি এবং আরো অনেকের কাছেও এটা সত্য। তাই এ বিষয়ক আলোচনা গুরুত্ত্বহীন। কিন্তু আমার পক্ষে এটা ভাণ করাও সম্ভব না যে, আল মাহমুদকে ছাড়াই বাংলা কবিতাকে পড়তে পারব। তাই এটা আমি করি না।আমার কাছে ব্যক্তি আল মাহমুদ যেমন গুরুত্ত্বহীন, তেমনি অন্যান্য অনেক প্রতিষ্ঠিত কবি সাহিত্যিক আছেন শুধু ব্যক্তি নয়, সাহিত্যের জায়গায়ও গুরুত্ত্বহীন। এটাও সম্ভবত আপনি এবং আরো অনেকের কাছে একইরকম সত্য। ব্যক্তিজীবনে আল মাহমুদ ক্রমশই ধার্মিক হয়ে উঠছেন- এবং সেটার উচ্ছাস তিনি যত্রতত্র ঘটান। সেটার দলীয় রূপটা অসুন্দর। কখনো কখনো মতিভ্রমমূলকও। কিন্তু ধর্মীয় রূপটা কবিতায় প্রকাশ হয় এবং পাঠককে রূপকথার জগতে নিয়ে যায়। যেমন: মায়াবী পর্দা দুলে উঠো।
কিন্তু কথা হলো সেটাও আমার আলোচ্য বিষয় ছিল না। কবিতা বিষয়ে অন্য কোথাও হবে।
আমার আপত্তি ছিল অন্য জায়গায়। আল মাহমুদের সমালোচনা করতে গিয়ে ধর্মনিরপেক্ষতার সাফাই গাওয়া। ধর্মনিরপেক্ষতা এখন বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে বিশ্বব্যাপি সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের একটা ডিসকোর্স- আপনি স্বীকার করুন আর নাই করুন। সেটার আলোচনা উপরে করেছি।
আর আজহারকে বলছি: উপরোক্ত কবি একটা কবিতা লিখেছিলেন- ঈগল থাকবে ইতিহাস থাকবে না। এমন একটা সময়ে লেখা যখন অধর্ম এবং কোম্পানি স্বার্থের যুদ্ধ আফগানিস্তান ইরাকে পাখির মতো মানুষ হত্যা করছিল আর আমাদের এখানে এসে 'মানবাধিকার', 'মৌলবাদ', 'টেররিজম' এবং 'ইনফিনিট জাস্টিস' শিখাচ্ছিল। এবং দেশীয় বুদ্ধিজীবীরা তার সমর্থনে ধর্মনিরপেক্ষতা। সেই যুদ্ধ এবং ডিসকোর্সের কাল এখনো কি শেষ হয়েছে?
লেখক বলেছেন:
রিফাত আপনি বলেছেন, 'ধর্মনিরপেক্ষতা এখন বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে বিশ্বব্যাপি সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের একটা ডিসকোর্স'। যদি শব্দটি হয় 'ডিসকোর্স' তাহলে বলব- শুধু বাংলাদেশ কেন, সারাবিশ্বেই আজকে আন্তর্জাতিক রাজনীতির প্রধান 'ডিসকোর্স' আমেরিকা পরিচালিত এই কথিত সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ। এই যুদ্ধের পক্ষে আর যেখানেই হোক বাংলাদেশে অন্ততঃ কথা বলার কেউ নেই, কেউ বলেও নি। তবে, একই সাথে এটাও সত্য যে, কয়েকটি মৌলবাদী পত্রিকা বাদে অন্য পত্রিকাগুলো এটিকে 'মুসলিম উম্মার' জন্য বিবেচনা না করে অন্য রাষ্ট্রের সমস্যা হিসেবে দেখছে। এমনটিই হওয়া উচিত ছিল। আমেরিকার ইরাক আগ্রাসন বা আফগানিস্তান যুদ্ধের পক্ষে সঙ্গতঃ কারনেই কেউ সমর্থনসূচক কথা বলেননি; আপনার কাল্পনিক 'ধর্মনিরপেক্ষ' ব্যক্তিবর্গও নন।
আর আপনার 'কোম্পানি স্বার্থে যুদ্ধ' প্রসঙ্গটি এখনও পরিষ্কার নয়।
প্রণব আচার্য বলেছেন:
রিফাত হাসান বলেছেন: পৃথিবীতে অধর্ম এবং কোম্পানী স্বার্থ প্রতিষ্ঠার জন্যই সবচে বেশী মানুষ খুন হয়েছে। যদি খেয়াল না করে থাকেন ব্যাপারটা, তাহলে চোখ কান খোলা রেখে একবার আপনার চারপাশের পৃথিবীটা দেখুন।আমি তার উল্টোটা দেখি:
কোম্পানী স্বার্থটা ধর্মের সাথে অঙ্গাঙ্গি ভাবে জড়িত। কারণ এমন
কোন কোম্পানী মালিক পাবেনা না যে নাস্তিক। বরং উল্টোটা পাবেন।
সেটা যে ধর্মেরই হোক। ব্যাবসায়ী এবং শোষকের সাথে ধর্মের কখনওই বিরোধ ঘটেনি।
আর বাকীটা আজহার ফরহাদ সাহেবের সাথে একমত।
লেখক বলেছেন:
রিফাতের 'কোম্পানী স্বার্থে' যুদ্ধ কথাটা রাষ্ট্রবিজ্ঞানের নয়া শক্তিশালী তত্ত্ব বলে মনে হচ্ছে।
রিফাত হাসান বলেছেন:
যদি ভুল না বলে থাকি ১৭৫৭ সালে আমরা প্রথম স্বাধীনতা হারালাম একটি কোম্পানি, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কাছে, কোন রাষ্ট্রের কাছে নয়। আমাদের প্রেক্ষাপটে স্বাধীনতা হারানো এবং রক্ষার লড়াই মানেই তাই কোম্পানি স্বার্থের সাথে লড়াই। সেই থেকে আজ পর্যন্ত কোম্পানীর চরিত্র একটুও বদলায় নি। এখনো যেসব যুদ্ধটুদ্ধ চলছে পৃথিবীতে সেসবেরই শুরু কোম্পানি স্বার্থের থেকে। আফগান যুদ্ধ বলুন, আর ইরাক যুদ্ধ বলুন। তেল এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক সম্পদের মালিকানার লড়াই। আমেরিকা এখন একটি মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি। দেশ নয়, যেটা আন্তর্জাতিক আইনের কাছে দায়বদ্ধ। অথবা দেশ হলেও জাতিরাষ্ট্রের কোন মহত্তর অর্থ আমার কাছে নেই। বৃটেনও তাই। এটা বুঝার জন্য রাষ্ট্রবিজ্ঞানের নয়া শক্তিশালী তত্ত্ব দেয়ার দরকার হয় না।
লেখক বলেছেন:
'আমাদের প্রেক্ষাপটে স্বাধীনতা হারানো এবং রক্ষার লড়াই মানেই তাই কোম্পানি স্বার্থের সাথে লড়াই'- বলেছেন বেশ। কোম্পানি স্বার্থের কথা বলাতে ভারত ভাগের পর পশ্চিম পাকিস্তান কর্তৃক পূর্ব পাকিস্তানকে শোষনের কথা মনে পড়ে গেল। ধর্মের নামে মানুষ হত্যার কথাও মনে পড়ে গেল।
কোম্পানি স্বার্থ বড়ই জটিল, তাইনা রিফাত?
লেখক বলেছেন:
নৈতিকতা আর যুক্তির দ্বারটি উন্মুক্ত রেখে নিজেকে একই প্রশ্ন করুন, উত্তর পায়ে যাবেন আশাকরি।
মুসতাইন জহির বলেছেন:
অালোচনা যদি করতে না চান তাহলে তো কিছু করার নাই। আপনি 'ধর্মনিরপেক্ষতা' বলতে যা চালাইতে চান তার লগে তত্ত্ব ও ইতিহাসের মিল-অমিলগুলা পরখ কইরা দেখতে অনিচ্ছুক হন তো হইতে পারেন, হয়তে সেটাই আপনার নৈতিকতা আর যুক্তি'। কিন্তু ভাইজান, বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদের লগে ধর্মনিরপেক্ষতারে অভেদ কইরা তালগোল কইরেন না। ইহা পুরানা রাজনীতি, আমরা চিনি, সময় সময় যুক্তি-বুদ্ধিহীন ফ্যসিস্ট রূপ ধারণ কইরা বাইরায়া পড়ে।
লেখক বলেছেন:
আপনি তো জ্ঞানগর্ভ উপসংহার টেনেই দিয়েছেন। যদিও আপনার প্রথম কমেণ্টে দেখে এমন আশঙ্কাই করেছিলাম।
আপনার ব্লগার পরিসংখ্যানটিও বেশ মজার-
পোস্ট করেছেন: ১টি
মন্তব্য করেছেন: ৮টি
মন্তব্য পেয়েছেন: ৪টি
ব্লগ লিখছেন: ১ বছর ১০ মাস
আমি ধর্মনিরপেক্ষতা বলতে কি বোঝাতে পারি, সেটি কল্পনা করে কি লিখেছেন আপনি! আমার রাজনীতিটিও বেশ ধরে ফেলেছেন। অসাধারন! কিছু বলার আগেই দেখি সব বুঝে ফেলেন! মাশাল্লাহ!
আমার ব্লগে শেষ মন্তব্যটি লেখার পর- সেটি কি পড়ে দেখেছিলেন? নিজের লেখাটি পড়ুন। শুধু লেখা নয়, আপনার মন্তব্য করার স্টাইলটিও অরুচিকর।
মুসতাইন জহির বলেছেন:
পরিসংখ্যান দিয়া কি বুঝাইতে চাইলেন?আমি যা ধরছি তার বাইরে কিছু থাকলে বলেন। তখন না হয় ছাইরা দিমুনে। আসল কথা না বইলা আমার স্টাইলের মইধ্যে রুচি খুঁজতাছেন ক্যান? আপনার রুচিবোধ আমারে গিলতে অইবো?
লেখক বলেছেন:
আমার রুচিবোধ আপনাকে গিলতে হবে- এমন কথা আসছে কেন? আপনার রুচিবোধ আপনার নিজের বিষয়- যা ভালো হলেই অন্যের জন্য মঙ্গলজনক।
আপনার লেখার স্টাইলটি আমার কাছে অরুচিকর মনে হয়েছে।
মন্তব্য করার আগে আপনার কয়েকটি লেখা আমি পড়তে চেয়েছিলাম, যা দিয়ে আপনার মানসিক গড়নটি সামান্য হলেও আমি আন্দাজ করতে পারতাম। প্রায় দু' বছর ধরে আপনি সা.ইন-এর সদস্য অথচ পোষ্ট একটি! সে প্রেক্ষিতেই আপনার পরিসংখ্যানটি উল্লেখ করেছি।
আমি আবারো বলছি- কোন কিছু পোষ্ট করার আগে পড়ুন। ব্লগে মন্তব্য করাটা হচ্ছে 'আয়নার' মতো। আপনি যেমন আপনার প্রতিবিম্বটি তেমনই হবে।
আপনার সাথে কথা শুরু করেছিলাম- আপনার ধর্মনিরপেক্ষতা প্রশ্নের জবাবে। আমি ধর্মনিরপেক্ষতার উত্তরটি দিয়েছিলাম- নৈতিকতা আর যুক্তি; আপনি যা খেয়াল করেননি বা বোঝেন নি।
যাহোক, আপনার মঙ্গল কামনা করছি।
মুসতাইন জহির বলেছেন:
খুশি হইছি, আপনারে ও মোবারকবাদ ।নৈতিকতা দ্বারা ধর্মনিরপেক্ষতা বুঝবার কোন তরিকা আছে কিনা তা আমার জানা নাই । আর যুক্তি কোন ব্যক্তিগত বিষয় না, তাই পদ্ধতিগত দিক থেকে আপনার কাছে আমার সওয়াল ছিল বিষয়টারে বিচার-বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে আপনার পদ্ধতি ও ফয়সালা কি। সেটাই জানতে আমি আগ্রহি ছিলাম, এখনো তা বজায় রাখছি।
আমি রাষ্ট্র ও রাজনীতির বিচারের লগে একে সর্ম্পকিত মনে করি। অবশ্যই 'আধুনিক রাষ্ট্র' বলে কথিত জিনিসটার জায়গায় খাড়ায়া।
লেখক বলেছেন: কি এক অজ্ঞাত কারনে মনে হচ্ছে- আপনার সাথে এই তর্কে কি-বোর্ডের বোতাম চাপাচাপি ছাড়া আর কোন লাভ নেই।


















