আমার প্রিয় পোস্ট

mostafizripon@gmail.com

গল্পঃ যে বছর গ্রামে পাখিবৃষ্টি হয়েছিল

২১ শে জুন, ২০০৮ ভোর ৪:৫৩

শেয়ারঃ
0 0 0

এক
সকালের অলস ঘুম চোখে নিয়ে এগাঁয়ের মানুষেরা যখন জেগে ওঠে- তখন গগন শিরিষের গাছ দু'টোতে পাখিদের হুটোপুটি, কিচির-মিচির কিংবা আমপারা পাঠের জমাট আসর। বাঁশঝোপের আঁড়াল ঘেঁষে পানাপুকুরে নতুন বৌ-ঝিদের প্রাতঃস্নান, রাস্তার পাশে শুকাতে দেয়া টিয়া রঙের শাড়ী, আর ভেঁজা পাটের গন্ধ পার হলেই পায়েচলা সরুপথ- এ গ্রাম ছেড়ে বেড়িয়ে গেছে আধপাকা ধানক্ষেতের মাঝ দিয়ে। সে আঁকা-বাঁকা পথ ধরে কিছুদূর হাঁটলে ভূঁইফোঁড় রোগা কয়েকটি বাবলা গাছ দৃষ্টিপথ আটকে দাঁড়ায়। ওখানে চাষের মৌসুমে খড়ের বেনীতে পিনপিনে আগুন জ্বলে, ক্ষেতে কাজ করা পুরুষেরা দু'দন্ড বিশ্রাম নেয়, আর তামাক টানে। এখান থেকেই দিগন্তরেখায় মিশে যাওয়া জংলা ভিটাটি চোখে পড়ে, এ গাঁয়ের মানুষেরা যাকে দেখেও-দেখেনা; এড়িয়ে চলে। শুধু ঘুমাতে দেরী করা শিশুদের ভয় দেখানো ছাড়া ওটিতে তাদের কোন প্রয়োজন নেই- দরকার পড়েনি। অদরকারের জঙ্গলে ফনিমনসা-তেতুল-চালতা কিংবা সেগুনের গায়ে গায়ে বসত। এগাছের বাহার ওগাছের কাঁধে লেপ্টেছে, গলায় ঝুলেছে, কোমরে জড়িয়েছে। গাছেদের বেহায়াপনায় পাখ-পাখালিরও মাথা খারাপ, তাদের কোরাসে ওখানে পরী নাচে মাঝদুপুরে। এ জঙ্গলের অনেক দুর্নাম।

জংলা ভিটায় রশিদ মিয়া যখন পা রাখলেন তখন পুবের আসমান লালচে হয়েছে, বাসক গাছের ঘনপাতার নীচে টুকরো ঘুমঘুম অন্ধকার। তিনি জঙ্গলে ঢুকে বুক ভরে শ্বাস নিলেন- কোথাও বুনো লেবুগাছে ফুল এসেছে। রশিদ মিয়া প্রতিদিন এপথে এই নির্জন বনভূমিতে প্রবেশ করেন, তবুও এখানে আজো নারীর সিঁথীর মতো কোন পদচিহ্ন গড়ে উঠেনি। একলা মানুষ পদচিহ্ন গড়তে পারে না। তবুও পথটি তার চেনা। গাছগুলো তার চেনা। গাছের প্রতিটি শাখা তার আশৈশব বন্ধু, এমনকি পাতারাও। তুলশী ঝোঁপের কাছে এসে রশিদ মিয়া হাটু মুড়ে বসেন, গাছের কাছে কয়েকটি তুলশীদানা ভিক্ষে চান, বলেন- 'দিবি নাকি?' তিনি হাত পেতে বসে থাকেন। বাতাসে পাতা কাঁপে। কৃপনের দানের মতো একটি তুলশীদানা তার হাতের তালুতে খসে পড়ে, রশিদ মিয়া গাছের সাথে ঠাট্টা করেন, বলেন- 'জংলা কিপ্পন।' সে জানে এই কৃপনতা ভালবেসে সব ঢেলে দেয়ার শুরুমাত্র। আরো কয়েকটি মিহিদানা হাতে জমা হলে রশিদ মিয়া সোজা হয়ে দাঁড়াতে দাঁড়াতে তুলশী গাছে হাত বুলিয়ে দেন, ওদের বিদায় জানান, বীজগুলো জিভের ডগায় ভিজিয়ে রাখেন। তারপর তার বসবার জায়গাটিতে পৌঁছালে জিভ থেকে আঙ্গুলে তুলে বীজগুলোকে মাটিতে পুঁতে দেন।

একসময় সূর্যের আলো পাতার ফাঁক দিয়ে এই জংলা ভিটাতে ঢুকে পড়ে, গাছের পাতায় চিকচিকে আলো ছড়ায়, মাটিতে বরফি কাটে, সরু সরু আলোর নল এখানে ওখানে কাটাকুটি খেলে। সবচেয়ে অলস লতানো গাছও আড়মোড়া ভেঙ্গে কামরাঙ্গা গাছের কোমর জড়িয়ে ধরে এ সময়। রশিদ মিয়া ওদের পাতায় হাত রাখেন, জমে ওঠা মাকড়সার জাল দরদ দিয়ে খুলে দেন, ভয় পাওয়া অষ্টপদী প্রাণীগুলোকে হাসতে হাসতে বকাবকি করেন। এভাবে বেলা বাড়ে, রশিদ মিয়ার ভাললাগাও বাড়ন্ত হয়। পাখির মমতা, খসেপড়া পাখির পালক কিংবা হলুদ পাতার অভিমান, লতানো গাছের আকর্ষির আদর তাকে গভীরে টানতে থাকে- বুকের অন্তহীন গভীরে। রশিদ মিয়ার চোখ পড়ে সেগুন গাছটার দিকে। তিনি ওটির গুড়িতে হেলান দিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকেন। সেগুলের বড় বড় পাতারা বাতাসে দোল খায়, রোদের সাথে উবু-দশ-বিশ খেলে। 'তুই এ জংলার রূপ বাড়াবি', রশিদ মিয়া সেগুন গাছের সাথে কথা বলেন, 'আবার অনেক ঝামেলাও আনবি।'
'কে ঝামেলা বাড়াইব?'
রশিদ মিয়া জোড়ে হেসে ওঠেন, বলেন- 'তুই!' তারপর তিনি সেগুনের কান্ডে হাত বুলিয়ে দেন। 'কার সাথে কথা কও?' রশিদ মিয়া এ প্রশ্নে বিভ্রান্ত বোধ করেন; কে কথা বলে? সেগুনের ডালে বসে থাকা কি একটা পাখি ফুরুৎ করে উড়ে যায়, শিলকড়ই গাছের তলায় বেড়ে ওঠা ঘাসে সরসর শব্দ হয়। 'পাগল হইয়া ভালোই হইছে তোর', কেউ একজন মানুষের স্বরে রশিদ মিয়াকে ঠাট্টা করে। তিনি চমকে পেছেন ফেরেন। হারুন মন্ডল দাঁড়িয়ে আছে।

রশিদ মিয়া ধরমর করে উঠে বসেন, হারুন মন্ডলের দিকে তাকিয়ে বোকার মতো হাসেন- কি করবেন বুঝে উঠতে পারেন না। এ বনভূমিতে সে মিশে থাকে শিলকড়ই-এর বেড়-না-পাওয়া স্ফিত কান্ডে, বাড়ন্ত হিজলের লিকলিকে ডালে, ঘাসে বা পাখির ধুসর পালকে- সেখানে মানুষ নেই, তিনিও যেন মানুষ নন- মানুষের প্রচ্ছায়া মাত্র। হারুন মন্ডলের উপস্থিতিতে বড়ই অকিঞ্চিৎকর হয়ে ওঠেন রশিদ মিয়া। তার ডানা গুটিয়ে আসে, চামড়ার নীচে তলিয়ে যায় পালক, বদলে যায় বুকের ভেতর পাখালী ধুকপুক- রশিদ মিয়া মানুষ হয়ে ওঠেন- বৈশিষ্ঠ্যহীন, শীর্ণ, সামন্য মানুষ।

'কি কর এই জঙ্গলে?' হারুন মন্ডল জিজ্ঞাসা করে। রশিদ মিয়া এই প্রশ্নের উত্তর জানেননা, তিনি চুপ থাকেন। হারুন মন্ডল দু'বার চোখ নাচায়, প্রশ্নের উত্তর চায়। রশিদ মিয়া বামাল ধরা-খাওয়া অপরাধীর মতো দাঁড়িয়ে থাকেন। 'পাগল হইয়া বেশ ভাল আছ তুমি', হারুন মন্ডল ঠাট্টার সুরে কথা বলে, গাছগাছালি দেখে, নিশিন্দার পাতা ছেড়ে, 'কয় বিঘা জমি হইব এই জঙ্গলে- কোন আন্দাজ আছে তুমার?' রশিদ মিয়া মাথা চুলকায়। হারুন মন্ডল বলে চলে, 'বিঘা পঞ্চাশেক হইতে পারে, কি বল? মেহগনি গাছ কয়টা আছে জান নাকি?' রশিদ মিয়ার মাথা চুলকানো থামেনা, অবিন্যস্ত চুল হাস্যকর হয়ে ওঠে। এত বছর তিনি এই জঙ্গলে ঘুরে বেড়িয়েছেন তবু এর হিসাব-নিকাশ জানেন না; তিনি ফেল করা ছাত্রের মতো পায়ের বুড়ো আঙ্গুলে মাটি খোঁড়েন, মাটিতে লাল পিপঁড়ের সারির দিকে তাকিয়ে থাকেন।

রশিদ মিয়া নামের অর্থহীন ছায়াসঙ্গীকে নিয়ে হারুন মন্ডল ঘুরে ঘুরে জঙ্গলটা দেখে, নিজের মনে কথা বলে। রশিদ মিয়া ভেবে পায়না এতদিনের পতিত জংলাটায় হারুন মন্ডলের হঠাৎ এত আগ্রহের কারন কি। কথাটা তার জিজ্ঞাসাও করা হয়না। হারুন মন্ডলের আছে বলেই জঙ্গলটাকে খুব সাধারন বলে মনে হয় তার, শিমুল গাছের পাশে বাসক ঝোঁপটিকে নিতান্ত বেমানান আর অর্থহীন লাগে। তার খিদে পায়, বুকে তেষ্টা জমে- সাধারন মানুষের মতো। জংলা ভিটে ঘুরে দেখা শেষ হলে হারুন মন্ডল বলে, 'গাছগুলারে পাহারা দিবা, মানুষের নজর লাগছে। পারবা না?' রশিদ মিয়া মাথা চুলকে লাজুক জবাব দেয়, 'পারুম।' হারুন মন্ডল বাড়ীর পথে পা বাড়ায়, রশিদ মিয়া পেটে খিদে নিয়ে সেদিকে তাকিয়ে থাকেন।

তিনি বাসক ঝোঁপের কাছে ফিরে আসেন। শিমুলের কান্ডে হেলান দিয়ে বাসকের গাঢ় সবুজ পাতার দিকে তাকিয়ে থাকেন, নিজেকে অপরাধী মনে হয়- এতক্ষণ তিনি ওদের ভুলে ছিলেন। তিনি বাসকের সরু শাখায় হাত বুলিয়ে আদর করে দেন, একগোছা পাতা গালে চেপে ধরেন, বিরবির করে কথা বলেন। বাতাসে গাছের শাখারা দুলে ওঠে, যেন ওরা বলে- 'এতকাল তুমি আমাদের ভুলে ছিলে!' রশিদ মিয়া হাতজোড় করে মাটিতে বসে পড়েন, বনভূমির কাছে নত মস্তকে সারাটা বিকেল পার করে দেন। তার ক্ষুধা-তৃষ্ণা উবে যায়। সন্ধ্যায় পাখিরা ঘরে ফেরা শুরু করলে রশিদ মিয়া পৃথিবীর সকল গ্লানি বুকে নিয়ে গাঁয়ের পথে পা বাড়ান; পেছনে পড়ে থাকে পাখিদের সান্ধ্য-কোরাস, নিশ্চুপ বৃক্ষরাজি।


দুই
পানাপুকুরে রশিদ মিয়া হাতমুখ ধুয়ে ঘাটের কোণায় জমে-ওঠা শেওলার দিকে অকারন তাকিয়ে থাকেন। একটা ঢোরা সাপ একেবেঁকে পুকুর পাড়ি দেয়, আয়েশা বানুদের কয়েকটা পাতিহাঁস পানি ছেড়ে ডাঙ্গায় উঠে আসে, একটা রাতচরা পাখি পুকুর পাড়ে এসে বসে- তার ভাল লাগে।

'রশিদ নাকি? এট্টু শুইনা যাও।' আমিন মন্ডল রশিদ মিয়াকে ডাকে। আমিন মন্ডলের ডাকে রশিদ মিয়া আবার শীর্ণ মানুষে রূপান্তরিত হন। সারাদিন না-খাওয়া পেটে ক্ষুধা মোচর দিয়ে ওঠে, তেষ্টা পায়। রশিদ মিয়া লুঙ্গীতে হাত-মুখ মুছেন, লুঙ্গির গিঁট খুলে আবার শক্ত করে বাঁধেন, ঘাটেপাতা তালেরগুড়িতে ডলে ডলে পা ঘষেন, তারপর পুকুরের ঢাল বেয়ে রাস্তায় উঠে আসেন। 'আইজ এত দেরী যে', আমিন মন্ডল রশিদ মিয়াকে জিজ্ঞাসা করেন, 'সারাদিনে খাইছো কিছু?' রশিদ মিয়া ডানেবায়ে মাথা নাড়ান। 'বাড়িতে আসো, তুমার সাথে কথা আছে।' আমিন মন্ডলের 'কথা আছে' কথাটিতে এলোমেলো চুল-দাড়ির রশিদ মিয়া গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠেন।

'হারুন নাকি আইজ তুমার জংলা ভিটায় গেছিলো?'
'হ।'
'কি কয় সে?'
'জমির হিসাবপাতি করল।'
'ওই জমির মালিক কে তুমি জানো?'
'ওইটাতো এজমালী জমি।'
'সরকারি জমি। হারুন নাকি লিজ নিবো। কিছু কইলো নাকি?'
'আমারে গাছ-গাছালি দেখভাল করতে কইলো।'
'তহশীল অফিসে ঘুষ খাওয়াইছে। আমার কাছে খবর আছে।' রশিদ মিয়া চোখ বড় বড় করে আমিন মন্ডলের কথা শোনেন- কিছু কথা তিনি বুঝতে পারেন, কিছু দুর্বোধ্য লাগে। তারপর মন্ডল বাড়ীর কাচারী ঘরের মেঝেতে বসে ধোঁয়া ওঠা গরম ভাতে ঝোল মাখতে শুরু করলে আমিন মন্ডল বলেন, 'গরমেন্ট ওই জমির আসল মালিক না। আসল মালিক কিডা জানো?'
'এই না কইলেন ওইডা সরকারি জমি!'
'জমি যে ভোগ করে সেই মালিক। গরমেন্ট তো আর ওই জমির আম-জাম খাইতে আসেনা! ওই জমির ফল-ফালালির মালিক তুমি, জমির মালিকও তুমি।'

আমিন মন্ডলের জমি বিষয়ক সহজ সমাধান রশিদ মিয়ার মাথায় ঢোকেনা। এ গ্রামের সবাই হারুন আর আমিন মন্ডলের বিবাদের কথা জানে, রশিদ মিয়াও জানেন। তবু সবকিছু নিয়ে দুই ভাইয়ের মারমুখি ঝগড়া-ফ্যাসাদের কারন রশিদ মিয়া ঠিক বুঝে উঠতে পারেন না। আমিন মন্ডল তাকে বোঝায় হারুন কেন আজ জংলা ভিটায় গিয়েছিল। রশিদ মিয়া চুপ করে সব কথা শুনেন। মুখে-পোরা ভাত তিনি চিবাতে ভুলে যান। হঠাৎ করে তিনি জঙ্গলটার জন্য কাতর বোধ করেন, বুকটা খাঁ খাঁ করে ওঠে। রশিদ মিয়া হাতের আঙ্গুলে ভাত মাখেন, নাড়েন, নিখুঁত গোলাকার নলা বানান, আবার ভেঙ্গে ফেলেন। আমিন মন্ডল রশিদ মিয়ার কাঁধে মৃদু ঠেলা দেন, বলেন- 'আমি ছোটবেলা থিকা তুমারে ওই জঙ্গলা ভিটায় দেখি। ওইখানে সময় কাটাও বইলা তুমারে সবাই পাগল কইয়া ডাকে। ওই জমি তুমার না হইলে আর কার?'

এক সময় 'খিদা নাই' বলে পাতের ভাত শেষ না করেই রশিদ মিয়া উঠে পড়েন। আমিন মন্ডল বলেন, 'কই যাও? তুমার তো আর ঘরদুয়ার নাই- রাইতটা এখানেই কাটাইয়া দেও।' রশিদ মিয়ার বুকের কাছে একদলা কান্না জমে, আয়েশা বানুর কথা মনে হয়, কচি সেগুন গাছটার কথা মনে হয়। তার ভেতরের কষ্টগুলো বাষ্প হয়ে চোখের কোণে জমতে থাকে, বুকটা হু হু করে। তিনি জানেন এ কষ্ট তাকে পেতে হবেই- তিনি যে আজ বনভুমিতে ডুবে থেকেই তাকে বিস্মৃত হয়েছিলেন, অবহেলায় পা রেখেছিলেন স্নেহাস্পদের বুকে! 'আসি' বলে রশিদ মিয়া হন হন করে পথে পা বাড়ান।

রশিদ মিয়া ফিরে আসেন জংলা ভিটার জমাট অন্ধকারে- যেখানে নিঃশব্দে পাখিদের সাথে সাথে গাছেরাও ঘুমাচ্ছে। এই প্রথম রাতের চাদরে শরীর ঢেকে তার বনভূমিতে আসা। বনভূমিকে অন্যরকম লাগে তার, এ যেন অসংখ্য প্রাণ জড়াজড়ি করে একটি জীবে রূপান্তরিত হয়েছে এখানে। এখন তাল কিংবা হিজল গাছের সাথে একাকার হয়ে মিশে গেছে লাল পিপঁড়ে আর বউ-কথা-কও পাখির জীবন। এই জীবনের সাথে রশিদ মিয়াও মিশে যান টুপ করে। একটি আকাশমনীর বেড়ে ওঠা শরীর জড়িয়ে তিনি দাঁড়িয়ে থাকেন। হাতের আঙ্গুলগুলো সরু আকর্ষির মতো আকাশমনীর গা জড়িয়ে বেড়ে উঠতে থাকে। তিনি যেন এক লতানো গাছ, এ বৃক্ষের অবলম্বন ছাড়া তিনি অসহায়, অচল। রশিদ মিয়া নিঃশব্দে কেঁদে ওঠেন- এ বনভূমি তার। এ বৃক্ষরাজি, নিশিন্দার ঝোঁপে ইতস্তত উড়ে বেড়ান জোনাকিরা তার। ভাবতে ভাবতে রশিদ মিয়া পাখি হয়ে যান- পালকহীন, ডানাহীন এক বিরাট পাখি, যার শরীরে ভেতর জন্ম নিতে থাকে ছোট ছোট আরো অসংখ্য বিহঙ্গ। কিলবিল করে উড়তে থাকে তারা- পায়ের আঙ্গুল থেকে মাথায়, বুক থেকে হাতের তালুতে। যেন তারা সব ছিঁড়ে-ফুঁড়ে বেড়িয়ে আসতে চায়, শরীর থেকে ঝরে পড়তে চায় অবিরাম বর্ষনের মতো। পাখিবৃষ্টির অবিরল প্রাণ জন্ম নিতে থাকে তার শরীরে।


তিন
'রশিদ, মাইনষে কয়- তুমি নাকি আমারে দেইখা নিবা? তুমারে আমি জুতাপিটা করতে পারতাম। তুমি পাগল-ছাগল মানুষ বইলা মাফ পাইলা। তুমারে বুদ্ধি কিডা দেয় আমি জানি। সেই খবিশের নাম কও, তারে আমি জুতা পিটাকরি!' হারুন মন্ডল ভরা মজলিশে রশিদ মিয়ার বিচার শুরু করে। এ কথা সত্য যে, রশিদ মিয়া গ্রামের কাউকে কাউকে বলেছেন জংলা ভিটার একটা গাছের গায়েও তিনি হাত দিতে দিবেন না। গ্রামের মানুষেরা পাগলের এ কথায় আমোদ পেয়েছে, রশিদ মিয়ার আরো পাগলামি দেখার জন্য উস্কানি দিয়েছে। গ্রামের প্রায় সব ঘরেই রশিদ মিয়ার খাবার জোটে, উঠানের কোণে ঘুমানোর জায়গাও। এত মানুষের সামনে রশিদ মিয়া রুক্ষ মাথা আর দাড়িতে চুলকানো ছাড়া আর কোন কাজ খুঁজে পান না। রশিদ মিয়াকে এ অবস্থায় দেখে সবাই মজা পায়। মজমা জমে ওঠার আশায় মানুষগুলোর নড়েচড়ে বসে। আমিন মন্ডল বলে, 'আরে পাগল মানুষ, কি কইতে কি কইছে, ওরে ছাইড়া দেও। ওর মাথার ঠিক আছেনি!'
'পাগলের বুদ্ধি জুগায় কে?' হারুন মন্ডল আমিনকে প্রশ্ন ছুড়ে দেয়; তাকে ভস্ম করে দেবার জন্য অগ্নিদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে।
'সরকারী জমির লিজ নিয়া পাগলে কি বুঝবো?'
'পাগলে না বুঝলেও অন্যরা তো ঠিকই বুঝে! আমি রশিদের কাছে জিগাই- কিডা তারে বুদ্ধি দেয়?'

মজলিশ সত্যি সত্যি জমে ওঠে। রশিদ মিয়াকে ঘিরে দুই ভাইয়ের ঝগড়া সপ্তমে চড়ে। মুরুব্বিরা বলেন, 'তুমাগো বিবাদ তুমরা মিটমাট কর।' বিবাদ মিটেনা, ঘেয়ো কুকুরের অসুস্থ চামড়ার মতো দগদগে হয় ওঠে- তাতে অন্যরা জড়ায়, কামড়া-কামড়ি করে। সব কিছুর শেষ থাকার মতো এই বিবাদও এক সময় শেষ হয়। রশিদ মিয়ার দিকে চোখ পড়ে সবার, অর্বাচিন মানুষটি তখন পায়ের বুড়ো আঙ্গুলে মাটিতে আঁকিবুকি করছিলেন। বিচারে খুব লঘু দন্ড হয় তার, সবার কাছে মাফ চেয়ে কানে ধরে ওঠ-বস করতে হবে পঞ্চাশবার। রশিদ মিয়া দাঁতকেলিয়ে হাসেন। কেউ একজন তাকে ধমক দেয়, কান ধরতে বলে। রশিদ মিয়া কানে হাত দেন, নিজের কানকে নিজের কাছে অচেনা লাগে তার- ওগুলো যেন মান্দারের কাঁটাওয়ালা বাকল। রশিদ মিয়া চোখ বন্ধ করেন। তার বুকের ভেতরে কেমন যেন এক মমতা জেগে মান্দারের রুখু কাঁটাগুলোর জন্য। মজলিশ থেকে দূরে দাঁড়ান শিশুরা হাততালি দেয়, রশিদ মিয়া ওঠ-বস শুরু করেন।


চার
সে রাতেই হারুন মন্ডল খুন হয়েছিল। পানাপুকুরের ঘাটে তার লাশ পড়েছিল পুলিশ আসা অব্দি। ভাইয়ের মৃত্যুতে আমিন মন্ডল পাগলের মতো চিৎকার করতে করতে খুনের বদলা নেবে প্রতিজ্ঞা করেছিল। আমিন মন্ডলের লোকেরা জংলা ভিটায় রশিদ মিয়াকে পিটিয়ে মেরেছিল শোধ নিতে। কেউ দেখতেও যায়নি সে লাশ। শুধু খুটি উপড়ানো একটা সাদা গরু দড়ি টানতে টানতে সে জঙ্গলে মাঝদুপুরে ঘাস খেতে এসেছিল। আর কেউ ওমুখো হয়নি অনেক দিন।

আমিন মন্ডলের নামে জংলা ভিটার লিজ পাকাপোক্ত হওয়ার পর একদিন কয়েকজন মানুষ এসে দু'টো মান্দার গাছ কেটে নিয়ে গেল। গাছ কাটতে কাটতে ওরা বলাবলি করল- দু'টো খুনই নাকি আমিন মন্ডলের কাজ। অবশ্য কেউ কেউ আবার তা বিশ্বাসও করল না। যারা বিশ্বাস করল না তারা বলল, এই ভিটার অভিশাপ পড়েছিল হারুন মন্ডলের ওপর।

সে বছর গ্রামে পাখিবৃষ্টি হয়েছিল। অচেনা ছোট ছোট পাখি ঝরে পড়েছিল আকাশ থেকে। মন্ডল বাড়ীর টিনের চালায়, আয়েশা বানুদের উঠোনে, গ্রাম থেকে বের হওয়ার সরু আলপথে, পানাপুকুরের ঘাটে অবিরল পাখিবর্ষণে পা ফেলার জায়গাও ছিলনা।

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): গল্পমোস্তাফিজ রিপনযে বছর গ্রামে পাখিবৃষ্টি হয়েছিল ;
প্রকাশ করা হয়েছে: গল্প  বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ২১ শে জুন, ২০০৮ সকাল ১০:০২ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

২১ শে জুন, ২০০৮ সকাল ৭:১৬

লেখক বলেছেন: (ভাগ্যিস গল্প লিখি!)

গল্পটি কেমন লেগেছে?

২১ শে জুন, ২০০৮ সকাল ৮:৪৫

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ শান্ত।

৩. ২১ শে জুন, ২০০৮ সকাল ৯:০৯
নেমেসিস বলেছেন: চমৎকার সুখপাঠ্য মাটির স্বাদের গল্প । সাত-সকালে মনটা ভাল থেকে আরও ভাল হল । ধন্যবাদ ।
২১ শে জুন, ২০০৮ সকাল ৯:৩০

লেখক বলেছেন: আজ দিন কাটুক গানে।

৪. ২১ শে জুন, ২০০৮ সকাল ৯:২৬
রিয়াজ শাহেদ বলেছেন: রিপন ভাই, এবারের গল্পটি কিন্তু আমি আর পাঠক হিসেবে নয়, সমালোচক হিসেবেই পাঠ করেছি; যদিও সমালোচনার বদলে স্রেফ প্রশংসাই করতে হচ্ছে! খারাপ লাগার মতো কিছু আমি অন্তত পাইনি, কেউ পেয়ে থাকলে সে বলুক।

এই ব্লগে শত শত ব্লগারের মাঝে হাতেগোণা অল্পকজন ভালো গল্পকার আছেন (বেশিরভাগই অবশ্য অনিয়মিত এখন), আমার বিচারে আপনি সে তালিকার ওপরের দিকে থাকার যোগ্য রিপন ভাই।

তবে আপনার এবারের গল্পটির নামকরণ অত্যন্ত চমৎকার হয়েছে, আমার ধারণা শুধুমাত্র নামের চমৎকারিত্বের কারণেই অনেকে গল্পটির ওপর অন্তত চোখ বুলিয়ে গেছেন।

কোনোই মিল নেই, তারপরও আপনার গল্পটি পড়ে আহমদ ছফার "পুষ্প, বৃক্ষ ও বিহঙ্গ পুরাণ" উপন্যাসটির কথা মনে পড়ে গেছে; কেনো কে জানে!

ধন্যবাদ; ভালো থাকবেন, ভালো লিখবেন।
২১ শে জুন, ২০০৮ সকাল ৯:৩৭

লেখক বলেছেন: 'পুষ্প, বৃক্ষ ও বিহঙ্গ পুরাণ'ও যে প্রকৃতির ভালবাসা নিয়ে লেখা। বিভূতি ভুষনের (বানানটা ঠিক আছে তো!) 'আরণ্যক' পড়া আছে? ওটাও প্রকৃতি কে নিয়ে অসাধারন ভালবাসার গল্প।

আপনার প্রশংসা পেয়ে নিজেকে অকিঞ্চিতকর অর্বাচিন মনে হচ্ছে। বেশী লাই দিয়েন না, একদিন মাথায় চড়ে বসব।

রিয়াজ, আপনার মঙ্গল কামনা করছি।

২১ শে জুন, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:১০

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

৬. ২১ শে জুন, ২০০৮ বিকাল ৩:০৩
রবিউলকরিম বলেছেন: খুব ভালো লাগল। মণ্ডল বাড়ির উপর মাদারের কাঁটা পড়লে আরো ভালো হতো।
গল্পটার কি প্রকাশিত? যদি না হয় তবে কিন্তু বিপদ আছে। আমি ব্লগে এ নিয়ে লিখেছি অনুগ্রহ করে একটু দেখে নিবেন।
২১ শে জুন, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:১৬

লেখক বলেছেন: গল্পটি ভাল লেগেছে জেনে আনন্দিত হলাম।
অপ্রকাশিত গল্পের কি বিপদ এখানে? খোয়া যাওয়ার ভয়?

২২ শে জুন, ২০০৮ সকাল ৮:২৯

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

২২ শে জুন, ২০০৮ সকাল ৮:৩০

লেখক বলেছেন: হু ধন্যবাদ।
কি খবর তোমার?

২৩ শে জুন, ২০০৮ রাত ৮:৪৯

লেখক বলেছেন: প্লিজ।

১০. ২৩ শে জুন, ২০০৮ রাত ১১:৫১
মাজহারুলইসলাম বলেছেন: আপনি এখন ব্লগে লগইন আছেন। সাধারণত আপনি কখন কখন ব্লগে লগইন থাকেন।
২৪ শে জুন, ২০০৮ রাত ১২:১৮

লেখক বলেছেন: ঘুমাইতে যাও মিয়া; কাল অফিস নাই!

১১. ২৪ শে জুন, ২০০৮ ভোর ৬:৫৫
রন্টি চৌধুরী বলেছেন: সমালোচনা করার আগে বলে নেয়া ভাল যে এই গল্প আমার পড়া এ ব্লগের সেরা গল্পের তালিকার একেবারে উপরের সাড়িতে। এটি নিয়ে যে কথা বলার সুযোগ পাচ্ছি তাকে আমার নিজের সৌভাগ্য মনে হচ্ছে। একটুও বাড়িয়ে বলছি না।

গল্পের প্রথম প‌্যারার বর্ণনা মনছুয়ে গেছে..এর শেষ লাইন''এ জঙ্গলের অনেক দুর্নাম' এ এসে পুরো পুর্নতা পেয়েছে বর্ননা। তারপর জঙলার সাথে রশিদ মিয়ার সম্পর্ক বর্ননা..কি বলব! আর নাই বলি।

শেষ পরিচ্ছেদে''সে রাতেই হারুন মন্ডল খুন হয়েছিল। পানাপুকুরের ঘাটে তার লাশ পড়েছিল পুলিশ আসা অব্দি। ভাইয়ের মৃত্যুতে আমিন মন্ডল পাগলের মতো চিৎকার করতে করতে খুনের বদলা নেবে প্রতিজ্ঞা করেছিল। আমিন মন্ডলের লোকেরা জংলা ভিটায় রশিদ মিয়াকে পিটিয়ে মেরেছিল শোধ নিতে। কেউ দেখতেও যায়নি সে লাশ। শুধু খুটি উপড়ানো একটা সাদা গরু দড়ি টানতে টানতে সে জঙ্গলে মাঝদুপুরে ঘাস খেতে এসেছিল। আর কেউ ওমুখো হয়নি অনেক দিন।'' এ অংশটুকু গল্পের বাদবাকী অংশের সাথে যায় না। এ অংশটি একটু সাদামাটা হয়ে গেছে।
''গাছ কাটতে কাটতে ওরা বলাবলি করল- দু'টো খুনই নাকি আমিন মন্ডলের কাজ।'' এ লাইনটা না দিলেই বরং ভাল হত। পাঠকের নিশ্চই তা বুঝে নেয়ার কথা।

অসাড় সমালোচনা করলাম একটি শ্রেষ্ঠ গল্পের। এ গল্পের শেষে প্লাস মাইনাস রেটিং অবান্তর।
২৪ শে জুন, ২০০৮ সকাল ৭:৫৩

লেখক বলেছেন: রন্টি আপনার মন্তব্যটি পাঠ করে আনন্দিত হলাম। আপনার সমালোচনাটি অসাড় নয়। অনেক কাজে দেবে আপনার মন্তব্যটি।

আপনার নতুন গল্প কবে পাচ্ছি?

১২. ২৪ শে জুন, ২০০৮ সকাল ৭:১৫
েমঘপুত্র বলেছেন: ভালো একটি গল্প পাঠ করলাম। ধন্যবাদ লেখক
২৪ শে জুন, ২০০৮ সকাল ৭:৪৮

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে।

১৩. ২৪ শে জুন, ২০০৮ সকাল ৭:৫৮
দ্যা গ্রীম রিপার বলেছেন: ভাইজান আপনার প্রবচন গুলান
আমার ব্লগে পোষ্ট করেন
আমরা এটা নিয়া একটা ফিচার বানাইতে চাই

amarblog.com
২৪ শে জুন, ২০০৮ সকাল ১০:৩৫

লেখক বলেছেন: ঠিক আছে। তবে কয়েকদিন পর একটা পরীক্ষা আছে, ওটা যাক, তারপর।

১৪. ২৪ শে জুন, ২০০৮ সকাল ১০:৩৮
ইফতেখার ইনান বলেছেন: অসাধারন। প্রিয় পোস্টে রাখলাম। শুভেচ্ছা লইবেন।
২৪ শে জুন, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৪৭

লেখক বলেছেন: আপনাকেও শুভেচ্ছা।

১৫. ২৪ শে জুন, ২০০৮ সকাল ১১:২২
মাজুল হাসান বলেছেন: গল্পের মূল বৃক্ষপ্রেমী চরিত্রটি ফুটেছে দারুন। ভাষা পোয়েটিক, ডায়ালোগ জুতসই, তবে বুনন পূর্বপরিকল্পিত মনে হয়েছে।

পাখি বৃষ্টি তো জাদুবাস্তব বয়ান। এই ঘটনাটিতে আরো আকষ্মিকতা আরো ঘোর সৃষ্টি করতে পারতেন, সেক্ষেত্রে গল্পটিত প্রথম থেকে একটি জাদু-আবহের সুত্র রাখতে পারতেন।

তারপরেও সব মিলিয়ে ভাল বলতেই হবে।

আমি কেবল জাদুবাস্তবতা'র টেকনিকটাকে আরো ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা বোধ করছিলাম।

+++++

শুভেচ্ছা।
২৪ শে জুন, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৫৪

লেখক বলেছেন: মাজুল ভাই, আপনার মন্তব্যটি খুব কাজে দেবে। আমি আসলে এত অকাট মূর্খ যে, জাদুবাস্তব বিষয়গুলো ঠিক বুঝে উঠতে পারিনা। আপনি আগ্রহ নিয়ে গল্পটি পাঠ করেছেন জেনে খুব আনন্দিত হয়েছি।

১৬. ২৪ শে জুন, ২০০৮ দুপুর ১২:১৮
নাজিম উদদীন বলেছেন: কোন ক্যটাগরিতে না ফেলে বলব, গল্প সুন্দর হয়েছে।

আপনার লেখা আমি সব সময় পড়ি।

গল্পটা লগ-ইন না করেই পড়েছি।
২৪ শে জুন, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৫৫

লেখক বলেছেন: নাছোড় বেশরমের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা রইল।

১৭. ২৪ শে জুন, ২০০৮ দুপুর ১২:৩১
মাহবুব মোর্শেদ বলেছেন: পাখি বৃষ্টি কথাটা কইলে শাহরিয়ার ভাইয়ের কথা মনে হয়।
যাই হউক, আয়োজন দেখে মনে হইতেছিল আরও বড় হবে গল্পটা। পড়তে পড়তে দ্যাফেন দু মরিয়েরের বার্ডসের কথাও ভাবছিলাম।
শেষ পর্যন্ত সামান্য হতাশ হইছি।
তথাপি সুন্দর।
২৪ শে জুন, ২০০৮ রাত ৮:১৯

লেখক বলেছেন: শাহরিয়ার ভাইয়ের 'পাখি বৃষ্টি' কথাটি আমার মধ্যে অনেকদিন থেকেই ঘুরছে। পাখি বৃষ্টি কথাটি মনে হলেই অন্যরকম এক অনুভূতি হয় আমার- যা খুব নিকট-অতীতের ধরা-অধরার কষ্ট দিয়ে বোনা। আয়েশা বানুদের পাতিহাঁসগুলো দেখে যা এক মূহুর্তের জন্য রশিদ মিয়ার কাছে জমা হয়, আবার উবে যায়।

মাহবুব ভাই, আপনার মন্তব্য পেয়ে খুশি হয়েছি।

১৮. ২৪ শে জুন, ২০০৮ বিকাল ৪:২৭
বাফড়া বলেছেন: চমতকার, এঝ ইউঝুয়াল। মাজুল হাসানের মন্তব্য টা বেশ পছন্দ হয়েছে আমার... তবে প্রথম প্যারায় গ্রামের আবহের বর্ণনা পড়ে বেশ ভাল লেগেছে।

পাখি বৃষ্টির আইডিয়া টা বেশ ভয় জাগানিয়া।

{শেষ লাইনটা কোন সমালোচনা নয় (টু টেল দ্য ট্রুথ , আমার মন্তব্য টাই তো আসলে সমালোচনা নয়, বরং মুগ্ধতার বয়ান), এইটা আমার ব্যক্তিগত কিছু ''ভয়'' থেকে বলা{

আরে করলাম কি ব্র্যাকেটের মাঝে ব্র্যাকেট দিয়া দিলাম!!!
২৪ শে জুন, ২০০৮ রাত ৮:২৩

লেখক বলেছেন: ব্রাকেটের মাঝে ব্রাকেট বসুক।
বাফড়া বলুনতোঃ
'বলছি আমি ব্রাকেটে
কয়টা টুপি বানানো যায়
একটা মাত্র ব্রা কেটে?'

১৯. ২৪ শে জুন, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৪৭
(অ)গাণিতিক বলেছেন: গল্পের সমালোচনা করতে ভাল লাগেনা। তাই শুধুই মুগ্ধতা জানিয়ে গেলাম।
অসাধারণ!! আজথেকে আপনি আরেকজন নিয়মিত পাঠক পেয়ে গেলেন।
:)
২৪ শে জুন, ২০০৮ রাত ৮:২৬

লেখক বলেছেন: জেনে আনন্দিত হলাম।

২০. ২৪ শে জুন, ২০০৮ রাত ৮:০৮
অিনেকত বলেছেন:
গল্পটার শুরুটা দারুন, মাঝখানে এসে হঠাৎ করে তাড়াহুড়া করে শেষ করা গল্পের মতো লাগলো । তবে পাখি বৃষ্টির ব্যাপারটা দারুন আর ভালো লেগেছে প্রকৃতির বর্ননা ।
২৪ শে জুন, ২০০৮ রাত ৮:৩২

লেখক বলেছেন: আপনার পর্যবেক্ষনটি চমৎকার, আমার কাজে লাগবে।

২৪ শে জুন, ২০০৮ রাত ৮:৩৩

লেখক বলেছেন: বুলবুল, আপনার জন্য শুভেচ্ছা রইল।

২২. ২৫ শে জুন, ২০০৮ সকাল ৮:৪৪
রন্টি চৌধুরী বলেছেন: মাজুল হাসানের বক্তব্য পড়ে একটু দ্বিমত পোষন করছি। এই গল্পে জাদু বাস্তবতা আনার কোন দরকার ছিল না। পাখিবৃষ্টির ব্যাপারটাও অপরিহার্য ছিল না। তবুও এসেছে যখন তখন তাকে জাদুবাস্তবতা হিসেবে দেখাটা অপরিহার্যনা। একে কাকতালীয় প্রকৃতিকর্ম ভাবলেই হয়।
২৫ শে জুন, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৩২

লেখক বলেছেন: গল্পটি লেখার সময় জাদুবাস্তবতা বা এ জাতীয় কোন চিন্তা আমার মাথায় আসেনি। আবার এটিও অস্বীকার করার উপায় নেই যে, রশিদ মিয়া চরিত্রের বর্ণনাতে এর অবিকশিত কিংবা প্রচ্ছন্ন একটি ছায়া আছে; যা শুধুই তার অনুভূতি প্রকাশে ব্যবহার করা হয়েছে। অতিলৌকিক কোন চরিত্র নয় রশিদ মিয়া, আবার বনভূমির কাছাকাছি এলে তার ব্যক্তিত্ব পাল্টে যায়- সে নির্জনে একান্ত আপনজন ভাবে একে।

জাদুবাস্তবতা সম্পর্কে আমি ব্যক্তিগতভাবে বিশদ জানতে আগ্রহী। ল্যাটিন আমেরিকার সাহিত্যে এ বিষয়টি ব্যপকভাবে এসেছে, প্রশংসিত হয়েছে।

রন্টি, আপনার মতো মনোযোগী পাঠক পেলে আনন্দিত হই, উৎসাহ জাগে। আপনার নতুন গল্প কবে পাচ্ছি?

২৩. ২৭ শে জুন, ২০০৮ সকাল ১১:২৯
প্রণব আচার্য্য বলেছেন:
পদধূলি দিতে এসে ;) পদধূলি(লেখকের) নিয়ে গেলাম;

আর লেখাটাও নিয়ে গেলাম প্রিয়তে...


:):):)
২৭ শে জুন, ২০০৮ রাত ৯:২২

লেখক বলেছেন: :)

২৪. ০৩ রা জুলাই, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৫০
বাফড়া বলেছেন: 'বলছি আমি ব্রাকেটে
কয়টা টুপি বানানো যায়
একটা মাত্র ব্রা কেটে?'

=====

''আমিও বলছি ব্রাকেটে
টুপি বানিয়েছি ব্রা কেটে
ঝুলিয়ে দিয়েছি এর দুটো
দেয়ালে ঝুলানোর ব্রাকেটে''

@ মোস্তাফিজ রিপন
০৩ রা জুলাই, ২০০৮ রাত ১১:১৭

লেখক বলেছেন: :)

০৭ ই জুলাই, ২০০৮ রাত ৯:০৩

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ দ্বিধা।

২৬. ০৯ ই জুলাই, ২০০৮ সকাল ৮:৪০
মোস্তাফিজ রিপন বলেছেন: রন্টি, বানরের হাতে লোহা থাকলে যা হয়..., আমি মাতুব্বরি করতে গিয়ে আপনার মন্তব্যটা মুছে ফেলেছি। :( অকান্ডের জন্য ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।

কাল আর পরশু পরীক্ষা। যন্ত্রণাটা শেষ হোক, লিখব। আপনার নতুন গল্পটাও তখন আয়েশ করে পড়ব।
২৭. ১৫ ই জুলাই, ২০০৮ দুপুর ১২:৫২
সারওয়ার জামান চন্দন বলেছেন:
+++ আপনার নিয়মিত পাঠক হয়ে গেলাম...
১৫ ই জুলাই, ২০০৮ রাত ১১:৪৩

লেখক বলেছেন: চন্দন ভাই, অনেক ধন্যবাদ। আমি কিন্তু আপনার লেখা নিয়মিত পড়ি, ভাল লাগে।

২৮. ১৮ ই আগস্ট, ২০০৮ সকাল ৭:২৭
শফিউল আলম ইমন বলেছেন: রন্টির লেখা প্রথম মন্তব্যটির সাথে একমত।
ব্লগে দেখা এখন পর্যন্ত সেরা গল্পগুলোর একটি।
সমালোচনা করার প্রশ্নই আসেনা কারণ তেমন কিছু চোখে পড়েনি।

রন্টির সাথে এই জায়গাতে একমত ''গাছ কাটতে কাটতে ওরা বলাবলি করল- দু'টো খুনই নাকি আমিন মন্ডলের কাজ।'' এটা না লিখলেও চলে। আমার মনে হলো।:)

বৃক্ষমানব নামে হুমায়ুন আহমেদ এর একটা গল্পের কথা মনে পড়লো।
১৮ ই আগস্ট, ২০০৮ সকাল ৮:৪১

লেখক বলেছেন: ইমন, ভাল লাগল আপনার মন্তব্য পেয়ে। রন্টি আর আপনার পর্যবেক্ষণ ভাবনার খোরাক হলো আমার।

আপনার নতুন গল্প কবে আসছে?

২০ শে আগস্ট, ২০০৮ রাত ৩:১৬

লেখক বলেছেন: সময় পেলে মেইল করবেন, প্লিজ।

২৯. ১৮ ই আগস্ট, ২০০৮ সকাল ৮:৫৬
বিডি আইডল বলেছেন: দূর্দান্ত হয়েছে..প্রিয়তে রাখছি
১৮ ই আগস্ট, ২০০৮ সকাল ৯:২০

লেখক বলেছেন: শুভাশিষ রইল।

৩০. ২৬ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১২:০০
রাজর্ষী বলেছেন: অসাধারন। এ ধরনের গল্প আমার ভালো লাগে।
২৬ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১২:৪০

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ। অনুপ্রাণিত হলাম আপনার মন্তব্যে।

 

মোট সময় লেগেছে ১.১৩২৯ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
অর্থহীন কমলালেবুর পিঠে ঘরকুনো গাছ
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ