আমার প্রিয় পোস্ট

mostafizripon@gmail.com

গল্পঃ দেয়ালের ওপাশে

৩১ শে জুলাই, ২০০৮ রাত ২:৫৯

শেয়ার করুন:                   Facebook


দেয়ালের ওপাশে আমার বাবা-মা, এপাশে আমি। গতকালও যে বালিশে আমি ঘুমিয়েছি, যার গায়ে নাম না জানা কী একটা সুতোর ফুল আমার গালে লেপ্টে ছিল, আমি তাকে কোন এক পেট-মোটা বাক্সে লুকিয়ে দেয়ালের এপাশে দাঁড়িয়ে আছি। বাবার দিকে চোখ পড়ল এক ঝলক। আমি যত এগিয়ে যাচ্ছি অলৌকিক জাহাজের দিকে, বাবা ততই দেয়ালের কাঁচ বেয়ে এগিয়ে চলছেন, যেন আমার সুখে থাকা নিশ্চিত করতেই তার এই দেয়াল-যাত্রা। আমি থামি, এখানে-ওখানে ঝোলানো নোটিশগুলো দেখি। আমি না দেখেও বুঝি, খাটো-লম্বা ঘাড়ের চিলতে ফোঁকর দিয়ে বাবা আমাকে দেখছেন।

যখন এয়ারপোর্ট লাউঞ্জে আমি ঢুকলাম, শুনলাম দূরে কে যেন বাঁশী বাজাচ্ছে। কোন এক আব্দুল আলীম কুমড়ো ডগার মতো বাতাসে দুলে উঠছেন। বাঁশিওয়ালা হলুদিয়া পাখি ওড়াচ্ছেন একাঁধে-ওকাঁধে। এক সময় পেটমোটা বাক্স আর চোখের পানির সাথে পাখিটি দেয়ালের এপাশে আসে। অনভ্যস্ত কোটে সোনা-বরণ পাখিটি বোতাম হয়ে ঝুলে থাকে।

দেয়ালের ওপাশে কিছু মানুষ চাদর বিছিয়ে শুয়ে-বসে আছে। ওরা দীর্ঘ সময় ওখানে থাকবে। ওদের বিয়ে করা নতুন বউয়েরা লাল শাড়ির আঁচলে চোখ মুছবে। ওদের কান্নায় শব্দ হয়, যেন ব্যথা পেয়েছে। ওদের রোগা শরীরে কটকটে টি-শার্ট, তাতে প্রমান সাইজের কোন সাংকেতিক চিহ্ন। ওরা দল বেঁধে ঘুরবে, রাস্তায় বসে কেডসের ফিতেয় বিষগেঁড়ো দেবে, যেন এজন্মেও তা ঢিলে নাহয়ে যায়। ওদের পায়ের জুতোগুলো মরা মাছের মতো ভেসে থাকে। আমরা সহযাত্রী; জলদস্যুর দূরবিন চোখে আমাদের। শস্যদানা-মুখে উড়ে-যাওয়া পায়রার গোপন পৃথিবীতে আমরা যেন প্রেরিত পুরুষ।

জুতো পড়ার আগমূহুর্তেও যাদের পায়ে কাদামাটি লেগেছিল, আর আমরা যারা এক পুরুষ আগে জুতো চিনেছি- তারা গন্তব্য-ঠিকানায় অচেনা পোষ্টকোড বসাই। তমোহর সেইসব সংকেত ডুবন্ত ব-দ্বীপে নক্ষত্রের মতো জ্বলে ওঠে। দেয়ালের এপাশে আমরা দশ হাজার কাছিম দীর্ঘ জীবনের আশায় কলম্বাস হয়ে ওঠি। ওপাশের বাতাসে বুক ভরে সিসা টানে আমাদের পরম স্বজন।

একটি হাওয়াই জাহাজ পাখি হয়ে আমার পায়ের কাছে এসে থামে, নাকি উড়ে যায়- আমি শব্দ শুনে অনুমানের অভিধান খুজি। ওপাশ থেকে দু' জোড়া চোখ আমাকে খোঁজে, কিংবা মোটা কাঁচের দেয়াল ডিঙ্গিয়ে পাঠ করে আমার মুখের রেখা।

দেয়ালের এপাশটা যেন মহাভারতের রক্ষাচক্র। ওপাশের দশমুখো রাবনের হাত থেকে বাঁচিয়ে দেবে আমাদের মতো অলৌকিক চিঠিওয়ালাদের। সুখে থাকার ঐশ্বরিক আদেশ আমরা হাতে নিয়ে ঘুরছি। ওপাশের থতমত প্রিয়মুখ ঝাঁপসা চোখে আমাদের দেখে। আমাদের ধকল-পোহানো চেহারা আর পেটমোটা বাক্সগুলোর ছায়াপথে লেপ্টে থাকে সে দৃষ্টি। আমরা ডানে যাই, ওদের আগ্রহের চুম্বক ডানে ঘুরে যায়; আর বায়ে গেলে বায়ে। ওপাশের মানুষেরা কাঁচের গায়ে হাত রাখলে, এপাশে আমাদের হাত ছুটে যায় সেখানে। শেষবারের মতো স্পর্শ করি ওপাশের উষ্ণতা; নাকি দেয়ালটাকে ছুঁয়ে বোঝার চেষ্টা করি কত দূরে এলাম?

আমি আবার দেয়ালটির কাছে এগিয়ে যাই। মা আঁচলে মুখ চেপে রেখেছেন। 'তোমরা এবার যাও', আমি মাকে বলি। মা কি যেন বলেন। এপাশে শব্দ পৌঁছেনা। বাবা আমাকে হারিয়ে ফেলেছিলেন, কিংবা ভীড় ঠেলে আসতে দেরী হলো তার, তিনিও হাত নেড়ে কিছু একটা বলেন। আমি মাথা ঝাঁকাই, যেন বুঝতে পেরেছি। বাবা আবারো কি যেন বলেন, দেয়ালে দু'বার ফু দেন। দরুদের ভালবাসা কাঁচের গায়ে মেঘ হয়ে জমে। দেয়ালের এপাশে, হাওয়াই জাহাজে, আর চিরসুখের দেশে এ মেঘ ঠিকই আমার অমঙ্গলকে তাড়া করবে, আমি জানি। কয়েক অনুপলের সাদা মেঘ কি কুয়াশা কেটে গেলে বাবার চোখ স্পষ্ট হয়।

বাবা ঠোঁটের রেখায়, হাতের জ্যামিতিক সংকেতে পাসপোর্ট আর টিকেটের কথা মনে করিয়ে দেন। আমি নিরাপদ জীবনের সন্ধানে ততোধিক নিরাপদে ওগুলো জমা রেখেছি বুকের খুব কাছাকাছি, বুকপকেটে। শ্বাস টানলেই যার স্পর্শে বেজে উঠছে সুবেশী-সুখী জীবন, আর অধরা স্বপ্নের কর্নেট।

কোথায় যেন বাঁশি বাজে। আব্দুল আলীম নাকি আব্বাস উদ্দীন বাঁশির লতানো সুরে দেয়ালে-দেয়ালে আছড়ে পড়েন; বরফ-কুচি হয়ে তৃষ্ণার জলে ভেসে থাকেন। কখনো কাজে লাগবে ভেবে জ্যামিতি বক্সে যে কিশোর টুকরো কাগজ জমায়, তার মতো কে যেন বাঁশির সুর গুজে দেয় আমার করোটিতে।

জীবন একটা জ্যামিতি বক্সের মতো; সূক্ষ্ম কাঁটা-কম্পাসের সাথে সাথে সেখানে টুকরো কাগজও জমে।

সিমেনার শেষ দৃশ্যের মতো ইচ্ছে করে- দেয়ালের ওপাশে বের হয়ে আসি; চোখে কান্না নিয়ে, কিংবা কান্না চেপে যারা তাকিয়ে আছে এদিকে, অবাক করে দেবার জন্য ওদের পেছনে সন্তর্পণে দাঁড়াই। আমি জানি, মুখ ফেরালেই সাতান্নটি মোমবাতি আলো ছড়াবে ওই চোখগুলোতে।

আমি সিদ্ধান্ত নিই- নাটকই হোক।

দেয়ালের ওপাশে যারা দাঁড়িয়ে আছে, যারা আমার পরম স্বজন, তাদের ছেড়ে আমি কোথায় যাব, কোন পরবাসে? ড্রয়িং-রুমের সেই সবুজ রং-এর ফ্যানের নীচে, খাওয়ার টেবিলে, বুজে যাওয়া পুকুর ঘাটে, দেয়ালের বেঢপ তক্ষকটাকে দেখে, আর আজন্ম চেনা বৃষ্টিজলে না হয় কেটে যাক আমাদের অনিরাপদ জীবন। বালতি জলে ভিজিয়ে রাখা শাড়ীর মতোই না-হয় সাতার কাঁটব সুখে-অসুখে! আমি বাইরে আসি। এবার কাঁচের এপাশ থেকে ওপাশের মানুষদের দেখি, যাদের সবুজ বইয়ের কোন এক পাতায় সুখের ছাড়পত্র।

মা আমাকে লক্ষ্য করেনি। আমি তার পাশে দাঁড়াই। বাবা কোথা থেকে ছুটে আসেন। চোখে রাজ্যের দুশ্চিন্তা নিয়ে প্রশ্ন করেন, 'কিরে খোকা?' মা অবাক হয়ে আমার দিকে তাকায়। আমি হাসি। মা হেসে ওঠেন; ভারী চশমার পেছনে তার চোখও হাসে। বাবার হাত আমার কাঁধে এসে থামে। তার দুশ্চিন্তা চোখ থেকে আঙ্গুলে এসে জমা হয়। আঙ্গুলগুলোও আমাকে প্রশ্ন করে, 'সব ঠিক আছে খোকা?' আমি বাবার দিকে তাকিয়ে হাসি। যারা আনন্দ কিংবা কষ্টের সশব্দ রূপ দেন, তাদের মতো করে বাবা আমাকে বুকে জড়িয়ে ধরেন। মা আমার মাথায় হাত রাখেন। চোখ ঝাপসা হয়ে উঠলে, যে মানুষগুলো আমাদের দেখছিলো- তারা পিকাসোর পায়রা হয়ে শস্যমুখে ইতিউতি উড়ে যায়। স্বজনের স্পর্শ পায়রার পালকের মতো আমার গায়ে লেগে থাকে।

'যেতে ইচ্ছে করেনা?' মা জানতে চান। মায়ের কথায় কি যেন গলার কাছে আটকে থাকে আমার। 'বাড়ী ফিরে যাবি?' বাবা আমাকে ছোটবেলার মতোই পড়তে পারেন। মুখের রেখাগুলো এত পাঠযোগ্য করে কোথায় লুকাব আমি! 'বাড়ী চল', বাবা আমার পিঠ চাপড়ে দেন। আমি পাসপোর্ট আর টিকেট মায়ের কাছে দেই। মা যেভাবে যত্ন করে উলবোনে, সেলাই করে, তেমন করে সেসব ঐশী কাগজগুলো ধরে রাখেন। আমি পকেট হাতড়াই। ছেঁড়া দু' টাকার একটা নোট খুঁজে পাই টুকরো কাগজের জঙ্গলে। সেটি বাবাকে দিয়ে বলি, 'যে লোকটা বাঁশি বাজাচ্ছিল, তাকে দিও।'

গেয়ো কোন সুরে বাঁশিটি বেজে ওঠার আগেই আমি ফিরে আসি কাঁচ ঘেরা দেয়ালের এপাশে।

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): গল্পদেয়ালের ওপাশেমোস্তাফিজ রিপন ;
প্রকাশ করা হয়েছে: গল্প  বিভাগে ।

 

  • ৮৪ টি মন্তব্য
  • ৪৭৮ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ২১ জনের ভাল লেগেছে, ০ জনের ভাল লাগেনি
১. ৩১ শে জুলাই, ২০০৮ রাত ৩:২১
comment by: ছন্নছাড়ার পেন্সিল বলেছেন: কী অদ্ভুত আবেশ ছড়িয়েছেন! আমি অনেককুলো মুহূর্ত নিঃশ্বাস নিতে পারি নাই। গল্প মাঝে মাঝে হয়ত জীবনের চেয়েও বাস্তব। দেয়ালের ওপাশে একটা অন্য পৃথিবীর হাতছানি দিলেন!!
৩১ শে জুলাই, ২০০৮ রাত ৩:২৮

লেখক বলেছেন: আপনার মন্তব্যটি সুন্দর। শুভাশিষ রইল।

২. ৩১ শে জুলাই, ২০০৮ রাত ৩:২৩
comment by: ছন্নছাড়ার পেন্সিল বলেছেন: অনেকগুলো*
৩১ শে জুলাই, ২০০৮ রাত ৩:৩০

লেখক বলেছেন: আপনার কবিতাগুলো অনেক সুন্দর। এত সুন্দর লেখা, নিজের নামে লিখেন না কেন?

৩. ৩১ শে জুলাই, ২০০৮ রাত ৩:৩৮
comment by: ছন্নছাড়ার পেন্সিল বলেছেন: প্রথমে যখন ঢুকেছি কেন জানি এই নামটা লিখেছিলাম! আর নিজের লেখা নিয়ে সবসময়ই বড়সড় সন্দেহ কাজ করে। সেজন্যই ছদ্মতা। তবে আজকালে সেটাকে সয়ে নিয়েছি। আপনার প্রশংসা পেয়ে খুবই খুশি হলাম!
৩১ শে জুলাই, ২০০৮ রাত ৩:৪৪

লেখক বলেছেন: আবারো শুভেচ্ছা।

৪. ৩১ শে জুলাই, ২০০৮ রাত ৩:৪৪
comment by: ফারহান দাউদ বলেছেন: দেয়ালের এপাশে, হাওয়াই জাহাজে, আর চিরসুখের দেশে এ মেঘ ঠিকই আমার অমঙ্গলকে তাড়া করবে, আমি জানি।
মুগ্ধ হলাম বলাটা পুরনো হয়ে গেছে এখন,আমি শুধু পড়ে ঈর্ষাই করি।
৩১ শে জুলাই, ২০০৮ রাত ৩:৪৮

লেখক বলেছেন: আমি শুধু ঈর্ষাই করিনা, শিখি। (নতুন লেখা কবে পাচ্ছি?)

৫. ৩১ শে জুলাই, ২০০৮ রাত ৩:৫৯
comment by: একরামুল হক শামীম বলেছেন: গেয়ো কোন সুরে বাঁশিটি বেজে ওঠার আগেই আমি ফিরে আসি কাঁচ ঘেরা দেয়ালের এপাশে।

মুগ্ধ করার মতো একটা লেখা।
৩১ শে জুলাই, ২০০৮ ভোর ৬:৩২

লেখক বলেছেন: শামীম ভাই, শুভেচ্ছা জানবেন। আপনার মন্তব্যে প্রাণিত হলাম।

৬. ৩১ শে জুলাই, ২০০৮ ভোর ৪:১৬
comment by: ফারহান দাউদ বলেছেন: একটা সময়,মনে হয় কিশোর বয়সে,বা তারুণ্যের প্রথম প্রহরে,স্বপ্ন দেখতাম,সব জ্যামিতিক ফর্ম ভেঙে বের হয়ে আসবো।সমস্যা কি জানেন,গল্পের নায়কদের মত আমরা আসলে বৃত্ত ভেঙে বের হয়ে আসতে পারিনা,আমাদের সারাজীবনই কাচের দেয়ালের ওপাশে গিয়ে নায়কদের দিকে ঈর্ষার চোখে তাকিয়ে থাকতে হয়।
৩১ শে জুলাই, ২০০৮ ভোর ৬:৪৩

লেখক বলেছেন: নির্মলেন্দু গুণের একটা কবিতার কথা মাঝে মাঝে মনে পড়ে-
'দুঃসাহসে কিনে ফেলি/ না হলে কিছুই সম্ভব হতো না জীবনে।' (জানিনা কবিতাটির বারোটা বাজলো কিনা!) দেয়ালের ওপাশের যে জীবন, সে জীবন ঈর্ষার। আসলে বৃত্তের কোথায় যে আমরা দাঁড়িয়ে আছি, জীবনের কোন স্পর্শক যে কোথায় ছুঁয়েছে সে বৃত্তকে-- আমরা জানিনা; নায়কেরাই জানেন শুধু।

তারপরেও- দুঃসাহসে কিনে ফেলি...

৭. ৩১ শে জুলাই, ২০০৮ ভোর ৪:২৬
comment by: মানবী বলেছেন: অসাধারন সুন্দর পোস্ট!!!

লেখাটি পড়ার সময় "কি যেন গলার কাছে আটকে' যাচ্ছিলো'!
ভাবনার গভীরতে মন ছুঁয়ে গেলো! খুব ভালো লেগেছে লেখাটি পড়ে, ধন্যবাদ মোস্তাফিজ রিপন।


আপনার বাবা মা যেন ভালো থাকেন, ভালো থাকুন আপনিও।



+


৩১ শে জুলাই, ২০০৮ ভোর ৬:৪৪

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ মানবী। শুভাশিষ রইল।

৮. ৩১ শে জুলাই, ২০০৮ ভোর ৪:৩২
comment by: আহমাদ মোস্তফা কামাল বলেছেন: আপনার লেখা এর আগেও পড়েছি, কিন্তু মন্তব্য করেছি বলে মনে পড়ে না। আজকে কিছু কথা বলা যাক।

প্রথমত : আপনার গদ্যভঙ্গি খুবই চমৎকার। যে কোনো লেখাই একটানে পড়ে ফেলা যায়। ঋজু ও স্মার্ট। কোথাও এতটুকু টোল খায় না, কোথাও দাঁড়িয়ে পড়তে হয় না।

দ্বিতীয়ত : চমৎকার গদ্যভঙ্গি থাকা সত্ত্বেও অনেকের লেখার মধ্যে ভাবনার খোরাক থাকে না, আপনার লেখায় সেটি থাকে। আপনার 'ছোট বচন' রীতিমতো অসাধারণ।

তৃতীয়ত : গল্প বলার ক্ষেত্রে আপনার একটি বিশেষ গুণ-- বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করা। (এই গল্পেও সেটি হয়েছে)। অর্থাৎ একটি 'কাল্পনিক' ঘটনাকে একটি বিশ্বাসযোগ্য 'গল্প' হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার কৌশল আপনি রপ্ত করে ফেলেছেন।

চতুর্থ : আপনার গদ্য ও উপস্থাপনভঙ্গির মধ্যে আমি একজন পরিপূর্ণ লেখক হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা দেখতে পাই।

শুভেচ্ছা ও শুভকামনা রইলো।
৩১ শে জুলাই, ২০০৮ সকাল ৭:০৬

লেখক বলেছেন: আপনার কোন এক লেখায় আমি মন্তব্য করেছিলাম, 'ব্লগ আমার কাছে আনন্দময় ভ্রমন। 'কতটুকু বিশ্বাস, আর কতখানি উচ্ছ্বাস থেকে কথাটি বলেছিলাম মনে নেই। কিন্তু একথা সত্য আমি প্রাণিত হয়েছিলাম আপনার লেখাটি পাঠ করে। আমি ঘুরে ফিরে কতবার যে আপনার লেখাগুলো পড়েছি ইয়ত্তা নেই। আমি মনোযোগী ছাত্রের মতো অনেকের ব্লগে পড়ে থাকি, শিখি, জানার চেষ্টা করি। যদি আমার লেখাটি পাঠ করে ভাল লাগে, জানবেন- এর অংশীদার আপনিও।

শ্রদ্ধা জানাচ্ছি, শুভেচ্ছাও।

৯. ৩১ শে জুলাই, ২০০৮ ভোর ৪:৩৪
comment by: পুতুল বলেছেন: খুব ভাল লাগল আপনার গল্প!
৩১ শে জুলাই, ২০০৮ সকাল ৭:০৬

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ পুতুল।

১০. ৩১ শে জুলাই, ২০০৮ ভোর ৪:৩৯
comment by: আহমাদ মোস্তফা কামাল বলেছেন: "আমি শব্দ শুনে অনুমানের অভিধান খুঁজি। ওপাশ থেকে দু' জোড়া চোখ আমাকে খুঁজে.." --- প্রথম বাক্যের শেষে 'খুজি' ঠিক আছে, দ্বিতীয় বাক্যের 'খুঁজে' টা হবে 'খোঁজে'। এটা আপনার স্লিপ অব পেনও হতে পারে। সামান্য ভুল, তবু ঠিক করে নেবেন।

এবং দয়া করে এই মন্তব্যটি মুছে দেবেন। ব্লগে আমি 'মাস্টারি' করতে আসিনি।

আরেকটা কথা। আপনি কি শুধু ব্লগেই লেখেন, নাকি পত্রপত্রিকায়ও লেখেন? পত্রপত্রিকায় লেখা উচিত বলে মনে করি আমি। বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষের কাছেই ইন্টারনেট ব্যাপারটা এখনও অপরিচিত, ব্লগ তো আরো অপরিচিত। পাঠক গোষ্ঠী ছড়িয়ে আছে দেশজুড়ে, তাদের কাছে পৌঁছাতে হলে প্রিন্ট মিডিয়ার লেখা ছাড়া উপায় নেই।

আবারও বলছি, এই মন্তব্যটি মুছে দেবেন, প্লিজ।
৩১ শে জুলাই, ২০০৮ সকাল ৭:২৩

লেখক বলেছেন: 'খুঁজে' আর 'খোঁজে'র পার্থক্যটা আমি জানতাম না। থাকুক না আপনার মন্তব্যটা! আমার বিশ্বাস, আমার মতো অনেকেরই কাজে লাগবে আপনার মন্তব্যটি। সেদিন তারিক স্বপন (আকাশচুরি)-এর ব্লগে আপনার মন্তব্যটি থেকে কয়েকটা বিষয় জেনেছি। খুব কাজের ওগুলো।

আমি পত্রিকায় এখনো লিখিনি। আপনার কথায় অনেক উৎসাহিত হলাম।

আপনার মন্তব্যটা রেখে দিচ্ছি। মাস্টারির দরকার আছে। আমি শিখতে চাই।

আবারো শুভেচ্ছা।

১১. ৩১ শে জুলাই, ২০০৮ ভোর ৫:৩৯
comment by: কঁাকন বলেছেন: মন ছুঁয়র গেল
৩১ শে জুলাই, ২০০৮ সকাল ৭:২৩

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ কাঁকন।

১২. ৩১ শে জুলাই, ২০০৮ ভোর ৬:৩৮
comment by: আবুল বাহার বলেছেন: অসম্ভব ভালো লাগলো গল্পটি ।
শুভেচ্ছা রইলো ।
৩১ শে জুলাই, ২০০৮ সকাল ৭:২৪

লেখক বলেছেন: আপনার জন্যও শুভেচ্ছা।

১৩. ৩১ শে জুলাই, ২০০৮ সকাল ৭:০০
comment by: আসিফ আহমেদ বলেছেন: রিপন ভাই আসলেই অসাধারণ আপনার লেখনি। বুনন মারাত্নক। আমার কাছে মনে হয় আমি গদ্য কবিতা পড়ছি। প্রতিটা লাইনে কল্পনার মহা সমারোহ। খুব ভালো লাগলো।

ভালো থাকবেন।
৩১ শে জুলাই, ২০০৮ সকাল ৭:২৮

লেখক বলেছেন: গল্প লিখে কবিদের প্রশংসা পাওয়া কপালের ব্যাপার:)। খুব খুশি হলাম আপনার মন্তব্যে। শুভেচ্ছা রইল।

১৪. ৩১ শে জুলাই, ২০০৮ সকাল ৭:৩৭
comment by: আসিফ আহমেদ বলেছেন: আমি কবি না তো রে ভাই, আমি বহুমুখি প্রতিভা :) :)
৩১ শে জুলাই, ২০০৮ সকাল ৭:৫৫

লেখক বলেছেন: সে তো দেখতেই পাই। যারা কবিতা লিখেন, কেন জানিনা, তাদের গদ্যের হাতও চমৎকার হয়। আপনি দু'টোই করেন। তার সাথে ছড়াও লিখছেন। সোনার দোয়াত-কলম হোক আপনার।

১৫. ৩১ শে জুলাই, ২০০৮ সকাল ৮:৩৬
comment by: ফাহমিদুল হক বলেছেন: রিপন আপনার গল্পগুলো ভাল লাগছে।
ইমেজারি সৃষ্টির অসাধারণ ক্ষমতা আছে আপনার।
আরও লিখুন। আমিও মনে করি, আপনার ব্লগের পাশাপাশি জাতীয় দৈনিক বা লিটল ম্যাগাজিনেও লেখা উচিত।
আপনার জন্য একটা ভালো সম্ভাবনা অপেক্ষা করছে।
৩১ শে জুলাই, ২০০৮ সকাল ৯:৪৩

লেখক বলেছেন: ফাহমিদ ভাই, আপনার মন্তব্য পেয়ে ভাল লাগছে। অনেক খুশি হয়েছি। পত্রিকায় লেখা পাঠাব শিগগির।

আসছে বইমেলায় আপনার 'মুক্তিযুদ্ধ প্রসঙ্গে বিদেশী পত্রিকার রিপোর্ট'-এর সংকলন আশা করছি।

শুভেচ্ছা রইল।

১৬. ৩১ শে জুলাই, ২০০৮ সকাল ৯:০৯
comment by: শফিউল আলম ইমন বলেছেন: মোস্তাফিজ ভাই চমৎকার লিখেছেন। আমি শুধু মুগ্ধ হয়ে ভাবছি। এতোটা আবেগ দিয়ে এতো চমৎকার লেখনি কম পড়েছি।
অনেক ভালো লাগল।
ভালো থাকুম।
৩১ শে জুলাই, ২০০৮ সকাল ৯:৪৬

লেখক বলেছেন: ইমন ভাই, আপনার লেখার হাতও কিন্তু চমৎকার।
শুভাশিষ রইল।

১৭. ৩১ শে জুলাই, ২০০৮ সকাল ৯:১৫
comment by: সুলতানা শিরীন সাজি বলেছেন: কেনো যে পড়লাম...............।;(
মনটা এমনি খারাপ............আরো খারাপ হয়ে গেলো।
প্রথম যেদিন দেশ ছেড়ে এসেছিলাম.......।সেই দিনট ামনে পড়ে গেলো।এয়ারপোর্ট এ বাবার মুখটা শেষ বার দেখেছিলাম........আর দেখা হলো না।

অসাধারণ লেখনী..........
রিপন লেখা চলুক।অনেক শুভকামনা আর শুভেচ্ছা।
৩১ শে জুলাই, ২০০৮ সকাল ৯:৫০

লেখক বলেছেন: সাজি আপা, কয়েকদিন আগে আপনার একটি কবিতা পড়ে আমিও বিষন্ন হয়েছিলাম। এবার হয়ত মন খারাপ আর বিষন্নতায় কাটাকাটি হলো।

ভাল থাকুন। আপনার জন্যও শুভাশিষ রইল।

১৮. ৩১ শে জুলাই, ২০০৮ সকাল ৯:২৩
comment by: মনির মুনতাহা বলেছেন: অসম্ভব সুন্দর । আমার চোখে পানি এসে গিয়েছিল। আমি আমার মনের ভাষা হারিয়ে ফেলেছিলাম। চলিয়ে যান।
৩১ শে জুলাই, ২০০৮ সকাল ৯:৫২

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ মুনতাহা। কেমন লাগছে সা.ইন-এ?

১৯. ৩১ শে জুলাই, ২০০৮ সকাল ৯:৪৩
comment by: প্রণব আচার্য বলেছেন: গেয়ো কোন সুরে বাঁশিটি বেজে ওঠার আগেই আমি ফিরে আসি কাঁচ ঘেরা দেয়ালের এপাশে।
....


চমৎকার!


শুভ সকাল!
৩১ শে জুলাই, ২০০৮ সকাল ৯:৫৬

লেখক বলেছেন: 'কার্পেটে ধুলো জমে- ধুলোর বন্ধন'
সুপ্রভাত, ভাল আছেন?

২০. ৩১ শে জুলাই, ২০০৮ সকাল ৯:৫৯
comment by: রিয়াজ শাহেদ বলেছেন: হুমম... যাদেরকে দেয়ালের এপাশওপাশ করতে হয়েছে, তারা আপনার এ গল্পটি পড়লে আবেগে পুরো পাগল হয়ে ভেসে যাবে রিপন ভাই!
৩১ শে জুলাই, ২০০৮ সকাল ১০:৩৫

লেখক বলেছেন: আজ কুয়েত, আর সৌদি আরব থেকে বহিস্কৃত হওয়া বাঙ্গালীদের খবর পড়ে মনটা এত খারাপ হল!

২১. ৩১ শে জুলাই, ২০০৮ সকাল ১০:৩২
comment by: শান্তির দেবদূত বলেছেন: পাতা উল্টাতে উল্টাতে আপনার লেখাটা চোখের পরলো !!!!!!!!! অসাধারন.......... আপনি যে আবেগ এইগল্পে ফুটিয়ে তুলেছেন তা এক কথায় অসাধারন !!!!! অনেকগুলো +
৩১ শে জুলাই, ২০০৮ সকাল ১০:৩৮

লেখক বলেছেন: দেবদূত, আপনার মন্তব্য পেয়ে খুশি হলাম। অনেক খুশি। (আসলে অনেকগুলো প্লাস তো!) কেমন আছেন আপনি?

২২. ৩১ শে জুলাই, ২০০৮ সকাল ১১:৪৩
comment by: শান্তির দেবদূত বলেছেন: সুপারভাইজারের -------"তোমাকে দিয়ে কিচ্ছু হবে না, আরও খটতে হবে, আরও কষ্ট করতে হবে, দিন রাত ল্যাবে পড়ে থেকতে হবে" ------- এই ডায়ালগ শুনতে শুনতে কান ঝালা পালা।

ঐ দিকে বৌ বলে -------- "আমি নাকি কেয়ারিং না :("

বন্ধুরা বলে , -------- "কি দোস্ত ভুলে গেলি নাকি , কোন খবর টবর নাই"

আমি বলি, -------- "আমি বেশ আছি...... আমার সুখের জন্য বেশি কিছুর দরকার নেই ..... আমি সুখে আছি এইটা ভাবতে পারলেই আমি খুশী....." :)
৩১ শে জুলাই, ২০০৮ দুপুর ১২:০১

লেখক বলেছেন: ঘরে ঘরে একই অভিযোগ। ;)
আপনার কথা শুনে নচিকেতার একটা গান মনে পড়ল-
'এই বেশ ভাল আছি
ভাবার সময় আছে
তবুও ভাবনা নেই...

গিন্নীর রাগ নেই
তেলে-বেগুন হয়ে
জ্বলে ওঠা নেই...'
:)

সুখে আছে যারা, সুখে থাক তারা...। ভাল থাকুন।

২৩. ৩১ শে জুলাই, ২০০৮ দুপুর ১২:০৭
comment by: রাতিফ বলেছেন: অসাধারণ লেখনি!

আবেগের নিপুণ বহিঃপ্রকাশ!

চমৎকার একটি গল্প!


শুভেচ্ছা।
৩১ শে জুলাই, ২০০৮ দুপুর ১২:১৭

লেখক বলেছেন: আপনিও শুভেচ্ছা জানবেন রাতিফ।

২৪. ৩১ শে জুলাই, ২০০৮ দুপুর ২:৩৫
comment by: লুকার বলেছেন: অসাধারণ!
৩১ শে জুলাই, ২০০৮ রাত ৮:৪২

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

২৫. ৩১ শে জুলাই, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৩৮
comment by: শফিউল আলম ইমন বলেছেন: আপনার মতো এতো সুন্দর লিখেতে পারলে তো হতই।:(
গতকাল বিকেলের দিকে এক বন্ধুর সাথে কথা বলছিলাম। তো আমি তাকে বলছিলাম দেশ ছেড়ে আসার সময় ঠিক কখন বুকের ভেতরের পাঁজর ছিড়ে বের হয়ে আসে। প্লেনে উঠে বসলেও তেমন কষ্ট হয় না কিন্তু প্লেন যখন রানওয়েতে সচল হয় আস্তে আস্তে করে সামনের দিকে চলতে থাকে তখন ভেতরে চিনচিনে একটা ব্যাথা অনভূত হয়। তারপর যখন প্লেনের ডগা উপরের দিকে উঠতে থাকে এবং একসময় ডানা মেলে পাখির মতো উড়াল দেয় ঠিক তখন মনে হয় এই বুঝি কেউ পাঁজরটা ছিরে ফেললো। প্লেন যতো উপরের দিকে উঠতে থাকে ততই আমি নিচের দিকে তাকিয়ে থাকি। দেখি আমার মানচিত্র আস্তে আস্তে পেছন থেকে পেছনে পড়ে যাচ্ছে।
ঠিক এ ধরণের অনুভূতিটাই আপনি এখানে লিখে দিয়েছেন। কিভাবে বুঝতে পারলেন যে আমি এটা নিয়ে লেখার চিন্তা করছিলাম???
যাইহোক, এই গল্পের জন্য আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ।
গল্পটি প্রিয়'তে না নিয়ে পারছি না।
ভালো থাকুন।
আপনার সাথে অবশ্যই কথা হবে।

৩১ শে জুলাই, ২০০৮ রাত ৮:৫১

লেখক বলেছেন: ইমন, আপনিও লিখুন। সবাই তো আর একই ভাবে দেখেনা দৃশ্যমান জীবনকে। প্রতিটি দেখাই সত্য, প্রতিটি অনুভবই তীব্র।

ভাল থাকুন। (আপনার লেখার স্টাইলটি আমার খুব পছন্দ।)

২৬. ৩১ শে জুলাই, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৪৭
comment by: রুখসানা তাজীন বলেছেন: রিপন, আমার ব্লগজীবন যে কজনের লেখা পড়ে সার্থক হচ্ছে, আপনি তাদের একজন।
৩১ শে জুলাই, ২০০৮ রাত ৮:৫৬

লেখক বলেছেন:
ধন্যবাদ তাজিন। শুভাশিষ রইল।

২৭. ৩১ শে জুলাই, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:০০
comment by: সাগর সরোয়ার বলেছেন: কেবল দারুন বলবো না। খুবই দারুন। অফিসে কাজের ফাকে পড়ে নিয়েছি। আমি গল্প লিখতে ভালোবাসি, পড়তেও। কবিতা লিখতে খুব কষ্ট হয়, তারপরেও লিখি।
এত সুন্দর করে লেখেন কি করে? একটা লেখা লিখতে আপনাকে আগে থেকে ভাবতে হয় না? প্লট তৈরী করে একবারেই বসেন, নাকি আমার মত লিখতে শুরু করেন, লেখা যেখানে নিয়ে যায় সেই পথেই হাটতে থাকেন?
ভালো একটি লেখা উপহার দেয়ার জন্য ধন্যবাদ।
৩১ শে জুলাই, ২০০৮ রাত ৯:২২

লেখক বলেছেন: সাগর সারোয়ার, আপনি কিন্তু ভাল লিখেন। এই যে আপনার শেষ গল্পটায় ছোট ছোট বাক্যে কাহিনী বর্ননা করেছেন, যা সত্যিই অনেক সুন্দর।

লেখা শুরু করার আগে ভাবি কিনা? কখনো কখনো ভাবি। বিষয়টি এ ধরনের- কোন দৃশ্য, বা কোন ঘটনা, কিংবা শ্রেফ একটি শব্দ থেকে, বলা ভাল- কোন কিছুকে উপলক্ষ্য করে মাথার ভেতরে সব সময়ই আমরা গল্প তৈরী করি বা নির্মিত হতে থাকে। আর লিখতে বসলে গল্পের ডাল-পালা, ছানা-পোনা বাড়তে থাকে, হাটতে থাকে...। খুব সম্ভবতঃ সবাইকে এভাবেই হাটতে হয় গল্পের বুননে।

২৮. ০১ লা আগস্ট, ২০০৮ সকাল ৯:৩৫
comment by: রন্টি চৌধুরী বলেছেন: সারাজীবন আদরে মানুষ। সবার ছোটটি। ন্যাকাপুকু। কখনও কোনদিন বাইরে গিয়ে থাকেনি কোনদিন। কত ছেলে বাড়ি ছেড়ে পালায়..তা সে চিন্তাও করতে পারত না। বাড়ি, মা, বাবা, নিজের শহর পরিবার সবকিছু প্রবলভাবে টানত। ছেলেবেলা থেকেই তার অল্পতে ভেঙে পড়ার অভ্যাস দেখে অভ্যস্থ সবাই। সেই ছেলে একদিন সবছেড়েছুড়ে চলে এল অনেক দুরে দেয়ালের অপাশে। আর সেকি ভীষন অভিনয়, মুখে সারাক্ষন হাসি...সবাই যখন বিদায় দিতে বাড়ির বারান্দায়..তার তখন খবরদারী..না...কোন হিন্দী ড্রামা সিরিয়াল চলবে না...না..হলে অনেক খারাপ হবে...ড্রাইভার ফেরত পাঠিয়ে দেব..ফ্লাইট মিস করে দেব...
পাগলাটে ছেলে..সবাই জানে...টলটল চোখে বাধ্য হয়ে সবাইকে জল আটকাতে হয় ছেলে গাড়িতে উঠা পর্যন্ত। অবুঝ, দুর্বল, আবেগী ছেলে কি অদ্ভূত নিষ্ঠুরতায় কাচ তুলে দেয়, দেবার আগে এক টুকরো খুব স্বাভাবিক হাসি...তারপর চলে যাওয়া...এয়ারপোর্ট...দেয়ালের অপাশে...

শ্বাস আটকে বসে আছে একটা ছেলে...তার সমস্ত অক্সিজেন জমা দেয়ালের আরেকপাশে...সব আবেগ...সব স্বপ্ন...সব কান্না...সমস্ত অস্তিত্ব...শ্বাস আটকে বসে থাকা ছেলে একদিন ছাড়বে আটকে রাখা শ্বাস..তারপর শুধুই সুবাতাস...


মোস্তাফিজভাই, এই লেখাটি শক্তি দিল ছেলেটিকে আরও একটু।
০১ লা আগস্ট, ২০০৮ সকাল ১০:৩৪

লেখক বলেছেন: রন্টি ভাই, কেউ দেশের বাইরে যাবে শুনলে এক সময় আমি বলতাম, নিরাপদ জীবনের বিনিময়ে ঈশ্বর ওদের দেশ কেড়ে নিচ্ছে। ঠাট্টা করেই বলতাম। দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকা আমার বাবাকেও কথাটা বলেছিলাম। কথাটা শুনে তিনি অনেকক্ষন তিনি চুপ করে ছিলেন, শেষে বলেছিলেন, অভিশাপ। একটা দেশ পেয়েও তাকে না চেনার অভিশাপ।

শহীদ কাদরীর 'সঙ্গতি' কবিতাটির কথা মনে আছে?

বন্য শূকর খুঁজে পাবে প্রিয় কাদা
মাছরাঙা পাবে অন্বেষণের মাছ,
কালো রাতগুলো বৃষ্টিতে হবে শাদা
ঘন জঙ্গলে ময়ূর দেখাবে নাচ

প্রেমিক মিলবে প্রেমিকার সাথে ঠিক-ই
কিন্তু শান্তি পাবে না, পাবে না, পাবে না...

২৯. ০১ লা আগস্ট, ২০০৮ সকাল ৯:৫৯
comment by: রিয়াজ শাহেদ বলেছেন: কী রিপন ভাই, কইছিলামনা দেয়ালের ওপাশের ব্লগাররা আপনের গল্প পইড়া আবেগে এক্কেরে ভাইস্যা যাইবো? দেখেননা রন্টিদারে, মাথা পুরা আউলাঝাউলা হয়া গেছেগা!
০১ লা আগস্ট, ২০০৮ সকাল ১০:৪৪

লেখক বলেছেন: ওহে দুষ্ট বালক, পরীক্ষা করে দেখা গেছে, প্রাণরসায়নে পড়াশুনা করে এখন যারা অন্যের 'ভাইস্যা' যাওয়া নিয়ে রসিকতা করছে, তারাও GRE, TOEFL-এর বই হাতে 'ভাইস্যা যাওনের' গোড়ায় দাঁড়িয়ে আছে।

;)

৩০. ০১ লা আগস্ট, ২০০৮ সকাল ১০:৪৪
comment by: রন্টি চৌধুরী বলেছেন: দেশপ্রেম কিনা জানি না রিপনভাই।
কিন্তু আমি যেখানে বেড়ে উঠেছি, যেখানে আমার সব স্বপ্নেরা তাদের জাল বুনেছে, যেখানকার বাতাসের সাথে আমার ফুসফুসের নাড়ীর সম্পর্ক সেখান থেকে দুরে থেকে কিভাবে শান্তি পাই?

আজও কঘন্টা আগেও কল্পনায় দেখলাম, প্লেনের বাইরে সিড়িতে পা রাখছি আমি মুখ খুলে চোখ মেলে তাকিয়ে আছি বাইরের দিকে। একেবারে চলে এসেছি দেশে। সেইদিনটার অপেক্ষায় কাটিয়ে দিচ্ছি। সেদিন বেশী দুরে নয়।

যতই ভাল থাকি এখানে দুর পরবাসে, তবুও তো এটা আমার নিজের কিছু নয়। অন্যের। আমি এখানে পরাশ্রয়ীর মত। এ মাটি, এ বাতাস, মাথার উপরে এ নীল তো আমার নয়।
০১ লা আগস্ট, ২০০৮ সকাল ১০:৫৬

লেখক বলেছেন: আমার চেয়ে এ সত্য আর কে ভাল জানে!

আমরা এখন যেখানে থাকি, মানে আমার বাপের বাড়ী, সেখান থেকে আমাদের গ্রামের বাড়ীর দূরত্ব বড়জোর বিশ কিলোমিটার। একেবারে পদ্মার গা ঘেঁষে সে গ্রাম। আমার বাবাকে সব সময় বলতে শুনতাম, রিটায়ার করলে গ্রামে ফিরে যাবেন। কিন্তু বাবার ফিরে যাওয়া হয়নি।
গুণের সেই কবিতাটির মতো-- 'মাঝে মাঝে ভাবি যাব, ফিরে যাব/ কিন্তু ফিরে যাওয়া হয়না/ কেন হয় না?/ নানা কারনেই হয়না'...

এ এক অদ্ভুত যন্ত্রনা!

৩১. ০১ লা আগস্ট, ২০০৮ সকাল ১০:৫৬
comment by: এস্কিমো বলেছেন: যে লেখা পড়ে মন খারাপ হয়ে যায় তা না পড়ারই চেষ্টা করি। আপনার লেখাটা পড়ে মন খারাপ হলো।

দারুন লিখেছে। অভিনন্দন।

০১ লা আগস্ট, ২০০৮ সকাল ১১:০১

লেখক বলেছেন: এস্কিমো, রহমান হেনরীর এই কবিতাটি শুনুন, মন ভাল হয়ে যাবে-

বাউলিকাটা হাওয়ায় উড়ছে ধুলা
কুলায় উড়ছে ধান ও ধানের চিটা
ভিটায় উড়ছে ঘুঘুর নির্জনতা-

জনতাও উড়ছে যে যার মতো
ক্ষতজুড়ে উড়ছে বিপুল মাছি...

পৌছে গেলাম ঝড়ের কাছাকাছি !


কবিতাটির নাম 'দিনলিপি'। সুন্দর না!

৩২. ০১ লা আগস্ট, ২০০৮ সকাল ১১:১৫
comment by: এস্কিমো বলেছেন: সুন্দরতো অবশ্যই।

কুলায় উড়ছে ধান ও ধানের চিটা
ভিটায় উড়ছে ঘুঘুর নির্জনতা-


লস্টালজিক করে ফেলে।

ধন্যবাদ।
০১ লা আগস্ট, ২০০৮ সকাল ১১:২৬

লেখক বলেছেন: 'হাত বাড়ালেই মুঠো ভরে যায় ঋণে
অথচ আমার শস্যের মাঠ ভরা।
রোদ্দুর খুঁজে পাই না কখনো দিনে,
আলোতে ভাসায় রাতের বসুন্ধরা।'...

'রাত জেগে এত পড়বেন না, চোখ যাবে'।...

৩৩. ০১ লা আগস্ট, ২০০৮ সকাল ১১:২৩
comment by: রিয়াজ শাহেদ বলেছেন: লেখক বলেছেন: ওহে দুষ্ট বালক, পরীক্ষা করে দেখা গেছে, প্রাণরসায়নে পড়াশুনা করে এখন যারা অন্যের 'ভাইস্যা' যাওয়া নিয়ে রসিকতা করছে, তারাও GRE, TOEFL-এর বই হাতে 'ভাইস্যা যাওনের' গোড়ায় দাঁড়িয়ে আছে।

অতীব সত্য কথা রিপন ভাই; আমি ঐ দলে পড়িনা অবশ্য! ছাত্র খুব একটা ভালো নই আমি, দেশেই কোনোমতে একটা চাকরিবাকরি জোটানোর ধান্ধায় আছি; এইতো এইমুহূর্তেই সিভি রেডি করছি, আর ব্লগাচ্ছি!
০১ লা আগস্ট, ২০০৮ সকাল ১১:৩৪

লেখক বলেছেন: রিয়াজ ভাই, ভয়ে ভয়ে বলি, এই ধাক্কায় এমবিএ-টা সেরে ফেলুন। (ব্লগে ব্যবসায় প্রশাসনকে তুলাধুনা করলেও এটি বেশ কাজের জিনিস, আমি সাক্ষী।)

৩৪. ০১ লা আগস্ট, ২০০৮ সকাল ১১:৪২
comment by: কোলাহল বলেছেন: অসাধারন!!
০১ লা আগস্ট, ২০০৮ সকাল ১১:৪৩

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ কোলাহল।

৩৫. ০১ লা আগস্ট, ২০০৮ রাত ১১:০৯
comment by: আহমাদ মোস্তফা কামাল বলেছেন: প্রিয় মোস্তাফিজ রিপন,

মাহমুদুল হকের সম্পূর্ণ সাক্ষাৎকার ব্লগে পোস্ট করার অনুরোধ করেছিলেন, কিন্তু এত দীর্ঘ সাক্ষাৎকার এখানে পোস্ট করাটা ঠিক হতো না। নিচের লিংক থেকে পুরোটা পড়ে নিতে পারেন। আশা করি এটা আপনার এবং আপনার প্রজন্মের আরো অনেকের খুব কাজে লাগবে।

লিংক : http://arts.bdnews24.com/?p=1772


আর হ্যাঁ,এই ব্লগে মাস্টারির দায়ে যদি আমাকে কেউ অভিযুক্ত করে তাহলে তার দায়দায়িত্বও আপনাকে এবং আপনার বন্ধুদেরকে নিতে হবে, যারা আমার অনুরোধ সত্ত্বেও 'মাস্টারি' মার্কা মন্তব্য মুছে দিতে চান না!! :(
০২ রা আগস্ট, ২০০৮ সকাল ১০:১৯

লেখক বলেছেন: ভাইয়া, আপনাকে আবারো অসংখ্য ধন্যবাদ। বিডিনিউজে মাহমুদুল হকের সাক্ষাৎকারটা পড়লাম। ভাল লেগেছে।

মাস্টারির দায়ে কেউ অভিযুক্ত হয়নাকি? এ দোষে অভিযুক্ত হওয়া ক'জনের কপালে আছে বলুন? ঘরের খেয়ে বনের মোষ ক'জন পারে তাড়াতে?

আমি আর আমার বন্ধুরা সানন্দে দায়িত্ব নিলাম।

৩৬. ০১ লা আগস্ট, ২০০৮ রাত ১১:১৬
comment by: হনলুলু বলেছেন: অসাধারন একটা লেখা ..........
০২ রা আগস্ট, ২০০৮ সকাল ১০:৪৬

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

৩৭. ০১ লা আগস্ট, ২০০৮ রাত ১১:৪৫
comment by: নির্বাসিত বলেছেন: ভাই-আপনি কি ছবিও আঁকতে পারেন? কেন জানি মনে হয়, আপনি পারেন। কি সুন্দর ভাবেই না আপনি শব্দ দিয়ে ফুটিয়ে তুলেছেন ছবির মতো একটি গল্পকে। মাঝে মাঝে মনে হয়েছে এটি যেন একটি কবিতা। এমনই নরম, এমনই কোমল।
আমরা যারা বিদেশে থাকি তারা প্রত্যেকেই লেখাটি পড়ে গোপনে চোখ মুছবে। ভাববে-আমি কি তাহলে ভুল করেছিলাম?
ভাল থাকুন। ঈশ্বর আপনাকে সুন্দর একজোড়া চোখ দিয়েছেন যা দিয়ে আপনি অনেককিছুই দেখতে পান যা আমাদের বোধের অতীত। ঈশ্বরকে ধন্যবাদ যে তিনি সেইসাথে আপনাকে দিয়েছেন লেখার ক্ষমতা।
লিখুন। সব সময়ে লিখুন।
০২ রা আগস্ট, ২০০৮ সকাল ১১:০২

লেখক বল