আমার প্রিয় পোস্ট

mostafizripon@gmail.com

গল্পঃ জলের রঙে জলছবি

০৪ ঠা আগস্ট, ২০০৮ দুপুর ১২:৪২

শেয়ার করুন:                   Facebook


এক

কাকচক্ষু জল ছিল, আর ছিল হেলেঞ্চার গায়েপড়া বসত। কলমীর বেগুনী ফুলও ছিল জল ছুঁয়ে। জলের ওপর পাথরকুচি ঢেউ, ঢেউয়ের মাথায় পানি-মাকড়সা আর দু'টো হলদে পাতা। হিজল গাছের পানি-ছোঁয়া ডালে একটা মাছরাঙা পাখিও ছিল হয়ত। হেরা-গুহার ধ্যানীর মতো শান্ত দুপুর। দুপুর জড়ানো সাদা-তুলোট মেঘ। মেঘ পেরিয়ে নীল আকাশ, আর তার নীচে সদ্য নারী হয়ে ওঠা একটা পানপাতা-মুখ। আর কেউ ছিলনা সেখানে, এমনকি ঘুঘুর ডাকও।

এটাই বুঝি জলের আরশি!

পানপাতা-মুখ জলের আয়নায় চোখ রাখে, হাতের আঙ্গুলে নকশা কাটে পানিতে। চারটে পাপড়ীর কী একটা ফুল, আর একটা পাখি আঁকা শেষ হলে সেগুলো মুছে দেয়, যেভাবে বর্ষা মুছে দেয় বৃষ্টির দাগ। জলের দাগ মুছে গেলে, কিংবা একটা ফড়িং কলমী ডগায় স্থির-বসে-থাকে বলেই মেয়েটির কেমন যেন লাগে। এ যেন বেদনা চেপে 'পথের পাঁচালী' পাঠের আনন্দ। হয়তো এও নয়; এরচেয়ে বেশী কিছু।

মুখের আলপনায় দৃষ্টি ফেরায় মেয়েটি। নিজেকে দেখে। ভ্রু-পল্লব আর অলক-চূর্ণ গীতবিতানের মিলিত অক্ষর যেন। বোগেনভিলার মতো একগুচ্ছ চুল চোখের ওপর নেমে এলে মেয়েটি বুড়ো রবীন্দ্রনাথের মুখোমুখি বসে গেয়ে ওঠে- 'আকাশমুখর ছিল যে তখন ঝরঝর বারিধারা'। মাস্টার মশাই বলেন, 'আকাশ দেখেছো কখনো?' জানালার বাইরে মেয়েটি আকাশ দেখে। মাস্টার মশাই বলেন, 'চোখ মেলে নয়, চোখ বুজে দেখ'। মাস্টার মশাই হারমোনিয়ামটি কাছে টানলে তার আঙ্গুল মেয়েটির হাত ছুঁয়ে যায়। আর মেয়েটির গালে ত্বরিত বিদ্যুৎ খেলে যায় বলেই, চোখে আদিগন্ত লজ্জা নামে। তার দৃষ্টি আনত হয়, যেন চোখ পড়লেই বুড়ো মানুষটির কাছে ধরা পড়ে যাবে সে। রবীন্দ্রনাথ তখনো চোখবুজে আকাশ দেখছিলেন বলেই মেয়েটির মন কেমন করে, ব্রীড়া-অবনত-চোখে জল জমে, অসহ্য লাগে সবকিছু। মাস্টার মশাই 'গোধূলি গগনে মেঘে'র অস্থায়ীতে ফিরে যখন চোখ মেললেন, দেখলেন তার কিশোরী ছাত্রীটির চোখে জল। চোখের জলে কী পাঠ করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ কে জানে, তিনি আর কাউকে গান শেখাননি।

মেয়েটি কি জানে, অমন ঘুম না-ভাঙ্গা গান-শেখা-ভোরে সলতে হাতে আগুন সে খোজে নি, নিজেই দাহ্য হয়ে উঠেছিল ভেতরে ভেতরে? তবুও বুড়ো গানের মাস্টার তারে দাঁড় করে দিয়েছে অগম বৃষ্টি-ধারায়। কখনো আকাশ মুখর হলে সুদূর অতীত থেকে গানের মানুষটি বুড়ো রবীন্দ্রনাথ হয়ে সামনে এসে বসেন, আর হাত ছুঁয়ে দিয়ে মিলিয়ে যান জলরেখায়। আর জলরেখায় কেউ মিশে থাকে বলেই, পানপাতা-মুখ নিজেরে দেখে জলের আয়নায়।

মেয়েটি হাতবালা খুলে ভাসিয়ে দেয় পুকুর জলে। শ্যাওলা পিছল ঘাটে লুকিয়ে থাকা কয়েকটা ডানকিনে আড়মোড়া ভাঙ্গে, ঢেউ হয়ে ওঠার আগেই মিইয়ে যাওয়া অনুচ্চ জলের দোলা ক'টি ঘূর্ণীপোকাকে নাগরদোলায় চড়ায়। তারপর আবার সব মৌনব্রত পালন করে বোধীদ্রুম বৃক্ষতলে। আকাশের তুলো-মেঘ বর্ণমালার বইয়ে হাশেম খান হয়ে উঠলে মেয়েটি জলের গায়ে লিখে- আকাশলীনা। লীনা আপুকে কি নামে ডাকে তার স্বামী?

ভালবাসলেই রক্তজবা নারীর গ্রীবায় ফুটে থাকে প্রায়ই।

লীনা আপু আকাশে বিলীন সন্ধ্যার মুখে কার জন্য অধীর বসে থাকত? আর ঘরে ফিরলে গলা আর বুকের মোরগজবা ফুল ওড়নায় কোন উষ্ণতা ছড়াত চোখে আর আঙ্গুলের নাচের মুদ্রায়? লীনা আপু লাল পাতাবাহারের মতো অমন ফুটে উঠেছিল বলেই মায়ের ঘুম হতোনা, বাবা ঘনঘন ডাক্তার ডাকতেন। সন্ধ্যার সেই মানুষটিকে লীনা আপু পায়নি বলেই তার গ্রীবায় আর কখনো কোন লাল ফুল ফুটে ওঠেনি। আর কোন ফুল ফোটেনা বলেই কি পিঠে কালসিটে দাগ জমে? কালসিটে বাড়ন্ত হয় বলেই মাঝরাতে কে যেন ফুঁপিয়ে কাঁদে। লীনা আপু, যে ছেলেটি তোকে আকাশলীনা নামে ডেকেছিল, সেও কি আর কোনদিন নারীর গ্রীবায় ওষ্ঠ ছোঁয়ায়নি? অন্যকোন পিঠের ইজেলে সেও কি কালসিটে আঁকে, সংসার সাজায়?

পানপাতা-মুখ জলের আয়নায় চোখ মেলে আবার। কেউ সাবধান করেনি বলেই কি সে রুমাল কিনেছিল কারো নামে? সুদীপ্ত না আর কারো চোখে তাকাবে বলেই কাজল এঁকেছিল সে? কাঁচ-ভাঙ্গার শব্দে বড় ভাইয়ের বাল্য-সহচর সুদীপ্ত যেদিন হেসে উঠেছিল মেয়েটির কথায়, তার বুকের ভেতর মাস্টার মশাইয়ের ভৈরবী বেজে ছিল। সেদিনের বিদ্যুত-চমকে নয়, মোমের আলোয়- দেখা না-দেখার আবছায়ায় মেয়েটি থমকে দাঁড়িয়ে থাকে কোন এক সুদীপ্তের হাত ছোঁবে বলে; যেন কেউ ছুঁয়ে দিলেই পুনর্জন্ম ঘটে যায়। আর হয়ত ভালবেসে কিশোরীটি কারো জন্য রুমাল কিনেছিল বলেই, সুদীপ্তদের এপারের বসতভিটার নটে গাছ মুড়োয়। ওপারে আশ্রিত হয় এপাড়ার তুলশী গাছ।

অলকচূর্ণ চুলের আড়ালে গুজে দিতেই মেয়েটির কানেরদুল হাতের তালুতে এসে থামে এবং এক সময় পানপাতা মুখের জল-বালিকার নোলক হবে বলে সেগুলো পানিতে ডুব দেয়। মেয়েটি গভীর চোখে তাকিয়ে থাকে জলের অতলে। জলের ভেতরে মুছে যাওয়া জলছবির মতো ডানকিনে মাছ সাঁতরায়। আরো গভীরে কিছু প্রিয় মুখ সবুজ শ্যাওলার গায়ে কানাকানি করে। কোরান শেখানো মওলানার বেতের মতো সপাং করে একটা মাছরাঙ্গা পাখি জলে ঝাঁপ দেয়। তার ঠোঁটে কী একটা মাছ ঝুলে থাকে। মওলানার সপাং-বেত গৌতম বুদ্ধের মতো আবার হিজলের ডাল খুঁজে নেয়; ধ্যানমগ্ন হয়।

জোহরের নামাজ শেষ হলে মেয়েটি যখন আরবী শিখত, আর সাথে থাকত এপাড়ার উঠতি বয়সী কিশোরীরা, ওরা কেন অমন করে তার দিকে তাকিয়ে থাকত? তার চিবুকে তিল ছিল বলে? নাকি হায়েজ-নেফাজ না-কি সব বুঝিয়ে হুজুর তাকে লজ্জা দিলেও সে বোকার মতো হেসেছিল বলে? বুকে বড় ওড়না-টানা মেয়েরা যখন এর-ওর গা ঠেলাঠেলি করছিল, আর লজ্জায় মাটির সাথে মিশে যাচ্ছিল, তখন পানপাতা-মুখ অবাক হয়ে দেখছিল মসজিদের শীতল বারান্দায় রক্তের দাগ। তখনো সে কিছু বোঝেনি। হুজুরের লকলকে বেত কুৎসিত গালির সাথে পিঠে, বুকে, আর রক্তমাখা পাজামায় সপাং সপাং নেমে এলে মেয়েটি চড়ুই পাখির মতো ছটফট করেছিল মসজিদের এ-মাথা থেকে ও-মাথা, করিবর্গা আর মিনারের ঘুলঘুলিতে। পানপাতা-মুখ বাড়ী ফিরে লতার মতো মাকে জড়িয়ে ধরে। বাবা লজ্জায়-মাথা-হেট করে কিশোরী কন্যার অস্পৃশ্যতা মুছে দিয়ে আসে মসজিদের সিঁড়ি থেকে কোরানের গিলাফ অব্দি।

শরীরটা এতখানি অচ্ছুত বলেই বুঝি ভীড়ের মাঝে কালকেউটে হাত গায়ে উঠে আসতে চায়; উঠে আসে!


দুই

ভালবাসার আড়ালে মানুষের বিপন্ন-বোধ কি জলের রঙে জলছবি আঁকে? বর্ষায় বৃষ্টির দাগ মুছে গেলেও জলের গভীর অতলে কেউও কি প্রথম বৃষ্টিপাতের কথা মনে রাখেনা? কেউ হয়ত রাখে, কেউ হয়ত রাখেনা। কোমল-গোপন-অতীতের মতো বিষন্ন নিঝুম দুপুরে মেয়েটি যেন মেয়েটিরই সহচর। যেমন মধ্যদুপুরে ছায়ার পার্শ্বচর একলা মানুষ। ঝিমধরা দুপুরে শ্যাওলা জমা দীঘির গভীরে প্রিয় কোন মুখ লুকিয়ে থাকে বলেই মানুষ রুমালে নকশা আঁকে। আর তাকে আলিঙ্গনের তীব্র বাসনা জাগে বলেই মানুষ ডুব সাঁতার দেয়। এই ডুব সাঁতার শেষে কেউ কেউ ঘরে ফিরে, কেউ কেউ ফেরেনা। যারা ঘরে ফিরে- তারাও একদিন ফিরবে না বলে জলের কাছে ফিরে আসে।

পানপাতা-মুখ জলের সিঁড়িতে পা ডোবায়। যে মাছেরা এতক্ষণ তাকে দেখছিল আড়চোখে- তারা যেন খবর রটাতে এদিক ওদিক ছুটতে থাকে। মেয়েটির বিষন্নতা সব ধুয়ে নেয়া দীঘির জলে তীব্র আলিঙ্গনের মতো হাসফাঁস করে। হিজলের মৌন মাছরাঙ্গা ঘাড় বাঁকা করে সে দৃশ্য দেখে। জল-মাকড়সাটা রণপায়ে তারে পথ ছেড়ে দেয়। ঢেউয়ের মাথায় চড়বে বলেই হেলেঞ্চা ঝোঁপ দুলে ওঠে। আর মেয়েটি নামতে থাকে গভীর থেকে গভীরে।

দূর থেকে কে যেন ডাকেন, 'বেনু, আবার পুকুর ঘাটে গেলি নাকি! আর কতবার বারন করলে ওখানে যাওয়া বন্ধ হবে তোর?'

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): ছোট গল্পজলের রঙে জলছবিমোস্তাফিজ রিপন ;
প্রকাশ করা হয়েছে: গল্প  বিভাগে ।

 

  • ৭২ টি মন্তব্য
  • ৪০২ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ১২ জনের ভাল লেগেছে, ১ জনের ভাল লাগেনি
১. ০৪ ঠা আগস্ট, ২০০৮ দুপুর ১:১২
comment by: আকাশচুরি বলেছেন: ++++++

:)
০৪ ঠা আগস্ট, ২০০৮ রাত ৮:০৫

লেখক বলেছেন: মন্তব্যের আরেকটু বিস্তার কি ঘটানো যায়?

২. ০৪ ঠা আগস্ট, ২০০৮ দুপুর ১:৩৫
comment by: ছন্নছাড়ার পেন্সিল বলেছেন: কী চমৎকার জল কেটে কেটে লেখার শরীর তৈরি করেছেন! আমি অনেকটা সময় নিয়ে পড়লাম। ভাল লাগার কথা প্রকাশে আমি অত পটু নই। কিন্তু অনেকদিন পর গল্পপাঠে এরকম শান্ত স্নিগ্ধ আবেশ পেলাম!
০৪ ঠা আগস্ট, ২০০৮ রাত ৮:১১

লেখক বলেছেন: আপনার মন্তব্য পেয়ে বেঁচে গেলাম। ভাবছিলাম, সবাই এটা থেকে পালিয়ে বাঁচল কি-না! :)

৩. ০৪ ঠা আগস্ট, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:০৩
comment by: রিয়াজ শাহেদ বলেছেন: ওরে বাপরে! ওরে বাপরে!
০৪ ঠা আগস্ট, ২০০৮ রাত ৮:১২

লেখক বলেছেন: হায় হায়!

৪. ০৪ ঠা আগস্ট, ২০০৮ রাত ৮:১২
comment by: প্রণব আচার্য বলেছেন: সকালেই দেখেছিলাম; লগইন করিনি;

শুধু পড়েছিলাম; এখন বলতে এসেছি:


অনন্য +
০৪ ঠা আগস্ট, ২০০৮ রাত ৮:১৪

লেখক বলেছেন: ভাল লাগল প্রণব দা। আপনার মন্তব্য পড়ে অনেক ভাল লাগল।

৫. ০৪ ঠা আগস্ট, ২০০৮ রাত ১১:৪৩
comment by: সূর্য পুত্র ও চাঁদ কন্যা বলেছেন: বাব্বাহ তুমি এত্ত কঠিন লেখা লিখতে জানো?

চাঁদকন্যা
০৫ ই আগস্ট, ২০০৮ ভোর ৬:২২

লেখক বলেছেন: তাইতো দেখছি!

৬. ০৪ ঠা আগস্ট, ২০০৮ রাত ১১:৪৮
comment by: রিয়াজ শাহেদ বলেছেন: এইবার আমি কড়া সমালোচনা শুরু করতাছি- এহেম এহেম...

প্রিয় রিপন ভাই, আপনার গল্পগুলো অনবদ্য সৃষ্টি এতে সন্দেহ নেই কারো একফোঁটা, তবে একটা ব্যাপার খেয়াল করছি- আপনার গল্পগুলোর (অন্তত সাম্প্রতিকগুলোর) কাঠামো মোটামুটি একইরকম থেকে যাচ্ছে, ভ্যারিয়েশন খুব বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছেনা; মাধ্যমটি ব্লগ বলে হয়তো ব্যাপারটা পাঠকের (হয়তো কোনোভাবে আপনারও) গোচরে আসেনি সেভাবে, কারণ এখানে গল্পগুলো বেশ কদিন পরপর একটি একটি করে পড়ার সুযোগ হয় পাঠকের; একটি গল্প সংকলন থাকলে ব্যাপারটা বোঝা সহজ হতো, কারণ সেক্ষেত্রে একবারেই সবকটি গল্প পড়ার সুযোগ পাঠকের থেকে যাচ্ছে; তবে আশার কথা হলো এখনো পর্যন্ত ব্যাপারটা একঘেয়েমির পর্যায়ে পৌঁছোতে পারেনি।

আপনার গল্পের অগণিত ইতিবাচক দিকগুলোর ভেতর যেটা আমি মনে করি মূল, তা হচ্ছে মুগ্ধতা; ভাষার বুননটি আপনার অত্যন্ত বেশি মাত্রায় শক্তিশালী, পাঠকের মননে মুগ্ধতার আবেশ ছড়ানোর পক্ষে যথেষ্টেরও বেশি; এই কারণেই আপনার গল্পের একমাত্র নেতিবাচক দিকটিও মুগ্ধতাই, কারণ এর আধিক্য আপনাকে (হয়তো আপনার অজান্তেই) কিছু প্রয়োজনীয় উপাদান (বিশেষ করে নাটকীয়তা) গল্পে মেশাতে বাধা দিচ্ছে। মধুর যন্ত্রণা সন্দেহ নেই!

ভাষার গাঁথুনি ঠিক রেখে (কিংবা কিছুটা হালকা করে হলেও) এক বা একাধিক নাটকীয় মুহূর্তে সমৃদ্ধ একটি গল্প লিখে ফেলেই দেখুননা রিপন ভাই, কেমন হয়!

ধন্যবাদ।
০৫ ই আগস্ট, ২০০৮ সকাল ৭:০১

লেখক বলেছেন: রিয়াজ ভাই, আমার ইদানিংকার লেখায়, বিশেষ করে এই গল্পটিতে, আমি একটি পরীক্ষা চালিয়েছি। আর এটি হচ্ছে, কবিতার ঢঙে গল্প সাজানো। আমি গল্পটি বলার চেষ্টা করেছি গদ্য কবিতার ফর্মে। কয়েকটি উদাহরন দেয়ার লোভ সামলাতে পারছিনা।

'কাকচক্ষু জল ছিল, আর ছিল হেলেঞ্চার গায়েপড়া বসত। কলমীর বেগুনী ফুলও ছিল জল ছুঁয়ে।...

চারটে পাপড়ীর কী একটা ফুল, আর একটা পাখি আঁকা শেষ হলে সেগুলো মুছে দেয়, যেভাবে বর্ষা মুছে দেয় বৃষ্টির দাগ।...

জলের ভেতরে মুছে যাওয়া জলছবির মতো ডানকিনে মাছ সাঁতরায়।...

তো, এই কাজগুলো করেছি আমি সচেতন ভাবে। বুঝে শুনে। কিছুদিন হলো, আমি লোভও সামলাতে পারছিনা এ ধরনের বাক্যের; এগুলো বিশেষভাবে আমাকে টানে।

'কোমল-গোপন-অতীতের মতো বিষন্ন নিঝুম দুপুরে মেয়েটি যেন মেয়েটিরই সহচর। যেমন মধ্যদুপুরে ছায়ার পার্শ্বচর একলা মানুষ।'... আমি লোভ সম্বরন করতে পারছিনা এ ধরনের বাক্য আর শব্দের সম্মিলনে।

একথাও আমি জানি, দুর্বোধ্য শব্দের জটিলতায়- কে হায় ব্লগ পড়িতে চায়? খুব হাতেগোনা কয়েকজনই আছেন এমন। আট-দশ কি বিশ-তিরিশ লাইনের কবিতাকে ছেড়ে দেয়া যায়, কিন্তু দীর্ঘ লেখায়, যেখানে সহজ দৃষ্টিগ্রাহ্য বিশেষ কোন ঘটনা নেই, তাকে ব্লগে কে আহ্লাদ করবে? আর আমিতো ব্লগের চুনো-পুটি।

যাহোক, মুডটি থাকতে থাকতে এ ঘরানার আরো কিছু কাব্য-গল্প (;)) লিখব। আমার নিজের একটি ঘরানা পোক্ত করার জন্য আরো কিছু এক্সপেরিমেন্ট দরকার মনে হচ্ছে।

আপনার 'ভাষার গাঁথুনি ঠিক রেখে নাটকীয় গল্পের' আইডিয়াটি আমার খুব পছন্দ হয়েছে। আমি লিখব। দোয়া করবেন, যেন লিখতে পারি।

ওহে, (প্রাণ)রাসায়নিক যুবক, শুভেচ্ছা রইল আপনার জন্য।

৭. ০৫ ই আগস্ট, ২০০৮ রাত ১২:২৫
comment by: ফারহান দাউদ বলেছেন: প্রতিটা শব্দ মনোযোগ দিয়ে পড়তে হয় আপনার লেখার।
০৫ ই আগস্ট, ২০০৮ সকাল ৭:০৩

লেখক বলেছেন: ফাঁকিবাজ পাঠকের পানিশমেন্ট এইটা। ;)

৮. ০৫ ই আগস্ট, ২০০৮ সকাল ৯:৫৮
comment by: রিয়াজ শাহেদ বলেছেন: ওহ আপনি এক্সপেরিমেন্ট করছিলেন? তাহলে ঠিক আছে; এক্সপেরিমেন্টও ভালোই হচ্ছে।
০৫ ই আগস্ট, ২০০৮ সকাল ১০:৩৩

লেখক বলেছেন: 'বাই-পোলারডিপ্রেশন'-এ আক্রান্ত একটি মানুষ কিভাবে চিন্তা করে; তাদের চিন্তার বিস্তৃতি এবং স্থায়িত্ব কেন বদলে যায়; এদের আত্ম-হননের চিন্তা কিভাবে এবং কোন ধরনের পরিবেশে তৈরী হতে পারে... এসব চিন্তা থেকেই গল্পটি লিখেছি।

নীচের কথাগুলো আবার পড়ুন, এবার হয়ত ভাল লাগবে।

'ভালবাসার আড়ালে মানুষের বিপন্ন-বোধ কি জলের রঙে জলছবি আঁকে?'

'ঝিমধরা দুপুরে শ্যাওলা জমা দীঘির গভীরে প্রিয় কোন মুখ লুকিয়ে থাকে বলেই মানুষ রুমালে নকশা আঁকে। আর তাকে আলিঙ্গনের তীব্র বাসনা জাগে বলেই মানুষ ডুব সাঁতার দেয়। এই ডুব সাঁতার শেষে কেউ কেউ ঘরে ফিরে, কেউ কেউ ফেরেনা। যারা ঘরে ফিরে- তারাও একদিন ফিরবে না বলে জলের কাছে ফিরে আসে।'

___________________________________________

ওই মিয়া, এক্সপেরিমেন্টের নাম কইলাম বইলা সাত-খুন মাফ কইরা দিলেন! যদি কইতাম, এক্সপেরিমেন্ট করি নাই...? (:)

৯. ০৫ ই আগস্ট, ২০০৮ সকাল ১০:৩২
comment by: আসিফ আহমেদ বলেছেন: একটু কঠিন কঠিন লেগেছে, কিন্তু ভালো লেগেছে অনেক....
০৫ ই আগস্ট, ২০০৮ সকাল ১০:৩৭

লেখক বলেছেন: কঠিন! কি বলেন আসিফ ভাই! গল্পে কোন শিশি-বোতল ছিলনা তো! :)
(ঠাট্টা করলাম। সুকুমার রায়ের হ-য-ব-র-ল পড়েছেন?)

আসিফ ভাই, আপনার মন্তব্যে খুশি হয়েছি।

১০. ০৫ ই আগস্ট, ২০০৮ সকাল ১০:৪২
comment by: আসিফ আহমেদ বলেছেন: শিশি বোতল থাকলেও এত কঠিন হতোনা, যতোটা না আপনার বাংলা ভোকাবুলারিতে হয়েছে :) (আমার ভান্ডার খুবই সীমিত)

পড়েছি বেশ আগে, ভালো করে মনে নেই। ব্লগে কে যেন ইদানিং পোস্ট করছিলো ধারাবাহিক, বড় লেখা পড়তে পারছিনা সময়ের কারনে।

ভালো থাকবেন।
০৫ ই আগস্ট, ২০০৮ সকাল ১০:৫১

লেখক বলেছেন: 'হ-য-ব-র-ল' পড়ে নেবেন, দারুন। আক্ষরিক অর্থেই দারুন।

শুভেচ্ছা আপনার জন্য।

১১. ০৫ ই আগস্ট, ২০০৮ দুপুর ১:১৩
comment by: রিয়াজ শাহেদ বলেছেন: "আমার নাম হিজিবিজবিজ, আমার মায়ের নাম হিজিবিজবিজ, আমার বাপের নাম হিজিবিজবিজ, আমার ছেলের নাম হিজিবিজবিজ..."

"তার চেয়ে বলে দিলেই পারো তোমার চোদ্দগুষ্টির নাম হিজিবিজবিজ!"

"নাহ তা তো নয়। আমার জ্যাঠার নাম তকাই, আমার শ্বশুরের নাম তকাই, আমার পিসির নাম তকাই..."

হাসতে হাসতে মরে গেছি কতোবার, রিপন ভাই, হ-য-ব-র-ল পড়ে; লুই ক্যারলের অমর সৃষ্টি এলিস ইন ওয়ান্ডারল্যান্ডের আদলে সুকুমার রায় লিখেছিলেন এটি।

আমার ধারণা সুকুমার রায়ের সৃষ্টিগুলো এক বসাতে পড়ে কেউ শেষ করতে পারবেনা, কারণ হাসতে হাসতে পেট এতো ব্যথা করবে যে পড়া থামাতেই হবে!
০৫ ই আগস্ট, ২০০৮ রাত ৮:৩৮

লেখক বলেছেন:
কাঁপবে ভয়ে ব্যাংগুলো আর ব্যাঙাচি
ঘামতে ঘামতে ফুটবে তাদের ঘামাচি...

একসময় আমি একটি আবৃত্তি সংগঠনের সাথে কাজ করতাম। ওখানে আমরা 'হযবরল'র শ্রুতি-নাট্য রূপ দিয়েছিলাম। দারুন কাজ ছিল ওটা। পুরো হযবরল মুখস্ত ছিল আমার।

একের পিঠে দুই
চোউকি চেপে শুই
শান বাঁধানো ভূঁই
গোবর জলে ধুই...

ইচ্ছে আছে, সুযোগ হলে ওটার অডিও বানাবো।

আপনি সুমনের 'আমাকে ভাবায় সুকুমার রায়' গানটা শুনেছেন?

১২. ০৫ ই আগস্ট, ২০০৮ রাত ৯:১২
comment by: শান্তির দেবদূত বলেছেন: একটু দৌড়ের উপর আছি একটা লেখা নিয়ে :( .......... প্রথম লাইনটাতেই আটকে আছি ৩/৪ দিন :( ........ তাই পরে পড়বো......... শুধু একটু ঠুকোর দিয়ে জানান দিয়ে গেলাম ........ তবে প্রথম প্যারা পড়েই +++++++++
০৫ ই আগস্ট, ২০০৮ রাত ১০:১৭

লেখক বলেছেন: :)

১৩. ০৫ ই আগস্ট, ২০০৮ রাত ১০:২৮
comment by: ফারহান দাউদ বলেছেন: আমি খুবই মনোযোগী পাঠক।
সুকুমার রায় শুনে মনে পড়লো ২টা লাইন--
"সদাই কেন বোম্বাগড়ের রাজা,
ছবির ফ্রেমে ঝুলিয়ে রাখেন আমসত্ত্ব ভাজা"
০৫ ই আগস্ট, ২০০৮ রাত ১১:০১

লেখক বলেছেন: জটিল। জটিল।

'ভূত যদি না থাকবে তবে কোত্থেকে হয় ভূতের ভয়?
মাথায় যাদের গোল বেধেছে তাদের কেন 'পাগোল' কয়?'...

'কারুর যদি দাঁতটি নড়ে
চারটি টাকা মাসুল ধরে
কারুর যদি গোঁফ গজায়
একশো আনা ট্যাকসো চায়
খুঁটিয়ে পিঠে গুঁজিয়ে ঘাড়
--সেলাম ঠেকায় একুশ বার'...

সুকুমার রায়। সুকুমার রায়।

১৪. ০৫ ই আগস্ট, ২০০৮ রাত ১১:১৬
comment by: মেঘলা মানুষ বলেছেন: উৎসাহ নিয়ে চালিয়ে যান।

ভাল থাকবেন।
০৫ ই আগস্ট, ২০০৮ রাত ১১:৫৮

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

১৫. ০৬ ই আগস্ট, ২০০৮ রাত ১২:১৭
comment by: মেহরাব শাহরিয়ার বলেছেন: যথারীতি জবাব নেই
০৬ ই আগস্ট, ২০০৮ রাত ১২:৪১

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ মেহরাব ভাই।

১৬. ০৬ ই আগস্ট, ২০০৮ ভোর ৬:০৬
comment by: রামীম গিফরান বলেছেন: ভালো লাগলো আপনার গল্প। চমৎকার ভাবনা
০৬ ই আগস্ট, ২০০৮ ভোর ৬:৪০

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ রামীম।

১৭. ০৬ ই আগস্ট, ২০০৮ ভোর ৬:৪৭
comment by: রন্টি চৌধুরী বলেছেন: এইখানে তো অনেকিছু হয়ে যাচ্ছে।
এক্সপিরিমেন্ট, কবিতা, গল্প সব।

পরে পড়ব। আপাতত ঘরের লাইটটা ফিউজ হয়ে গেছে। একেবারে ঘুমের পরিবেশ। খেয়ে ঘুমে চলে যাচ্ছি। লাইনের কি হল কে জানে, গত তিনমাসে চারটা বাতি বদলালাম, খালি ফিউজ হয় :(
০৬ ই আগস্ট, ২০০৮ ভোর ৬:৫৫

লেখক বলেছেন: এইবার ফিলিপস বাতি লাগান। বাত্তির রাজা ফিলিপস।

১৮. ০৬ ই আগস্ট, ২০০৮ ভোর ৬:৫২
comment by: শফিউল আলম ইমন বলেছেন: চমৎকার শুরু করে অসাধারণ শেষ করেছেন।
চোখের পলক পড়ার আগে পড়ে ফেললাম। আপনার গল্প বলে কথা।:)
আপনার লেখা পড়ে প্রতিনিয়ত মুগ্ধ হই আর ঈর্ষা করি।:)
গদ্য কবিতার ফর্মে সাজানো গল্পের ষ্টাইল অসম্ভব পছন্দ হয়েছে।
লিখতে থাকুন।
ভালো থাকুন।
০৬ ই আগস্ট, ২০০৮ সকাল ৭:০১

লেখক বলেছেন: ইমন, গল্পটি আপনার ভাল লেগেছে জেনে আনন্দিত হয়েছি। লেখার ফর্মটা নিয়ে আরো কিছু মন্তব্য/পর্যবেক্ষন পেলে ভাল লাগত।

আপনিও ভাল থাকুন। শুভেচ্ছা রইল।

১৯. ০৬ ই আগস্ট, ২০০৮ সকাল ৭:০৭
comment by: শফিউল আলম ইমন বলেছেন: আরো কিছু মন্তব্য/পর্যবক্ষণ কি আমার কাছ থেকে নাকি অন্য ব্লগারদের???
আমি এখন ঘুমিয়ে পড়ব। সকালে আবার কাজ আছে। তাই ইচ্ছে থাকা স্বত্ত্বেও পর্যবেক্ষণ ভালোভাবে জানাতে পারলাম না। তবে, সন্ধ্যায় বাসায় এসে জানাচ্ছি। কথা দিলাম।:)
এখন ঘুমুতে গেলাম।
কথা হবে শীঘ্রই।
০৬ ই আগস্ট, ২০০৮ সকাল ৭:১১

লেখক বলেছেন: সময় আর ইচ্ছে হলে আপনার পর্যবেক্ষনগুলো জানাবেন প্লিজ।
নাইট নাইট, স্লিপ টাইট :)

২০. ০৭ ই আগস্ট, ২০০৮ রাত ৩:২৪
comment by: নির্বাসিত বলেছেন: আমি আপনার আগের একটি লেখা পড়ে জানতে চেয়েছিলাম যে আপনি লেখার সাথে সাথে ছবিও আঁকেন কিনা? কারণটি ছিল যে আপনার লেখার ভংগীমাতে শুধু ছবি আর ছবি। যেন একটি শর্টফিল্ম দেখছি। কলমকে আপনি ব্যবহার করছেন ক্যামেরার বিকল্প হিসেবে। বর্ণনায় উঠে আসছে নানারকম চিত্রকল্প। সেটি ভাল অবশ্যই, কিন্তু আমার বিশ্বাস যে গল্পটির কথা পাঠক ভুলে যাবে কিছুদিন পর যদিনা সেখানে কোন কাহিনী না থাকে। সেদিকে আপনার একটু মনোযোগ দেওয়া দরকার।
আপনার লেখাতে কবিতার প্রভাব অনস্বীকার্য। একটি জোরালো কাহিনীর অভাবে আপনার গল্পটি কখনো কখনো একটি দীর্ঘ কবিতা হয়ে যাবে গল্প না হয়ে।
পরিশেষে, আপনার ভাষা এবং বর্ণনা রীতিমত ইর্ষনীয়। অভিনন্দন তার জন্যে।
ভাল থাকুন।
০৭ ই আগস্ট, ২০০৮ সকাল ১০:২৯

লেখক বলেছেন: এ কথা সত্য যে, আমার গল্পে তেমন কোন কাহিনী নেই, আবার যা-ও আছে তা বর্ণনার নীচে চাপা পড়ে গেছে। এরপর থেকে কাহিনী আর বর্ণনাকে একসাথে রেখে গল্প লেখায় সচেষ্ট হব।

আপনার পর্যবেক্ষনটি চমৎকার।

২১. ০৮ ই আগস্ট, ২০০৮ সকাল ১১:৫২
comment by: কোলাহল বলেছেন: উপমাগুলো খেয়াল করলাম মনোযোগ দিয়ে।
০৮ ই আগস্ট, ২০০৮ দুপুর ১২:০৩

লেখক বলেছেন: গল্পটি কেমন লাগল?

২২. ০৮ ই আগস্ট, ২০০৮ দুপুর ১২:১২
comment by: কোলাহল বলেছেন: সে আর বলতে হয়!! দারুন।
০৮ ই আগস্ট, ২০০৮ রাত ৯:০১

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

২৩. ০৮ ই আগস্ট, ২০০৮ রাত ৯:২০
comment by: সিহাব চৌধুরী বলেছেন:
অনবদ্য । সৌন্দর্য্যলোভীরা কাঞ্চনত্যাগী ও দিন-উদাসী । বেনুর আর কি দোষ ?
০৮ ই আগস্ট, ২০০৮ রাত ১০:২৩

লেখক বলেছেন: সুন্দর বলেছেন!

২৪. ০৯ ই আগস্ট, ২০০৮ ভোর ৬:১৮
comment by: শফিউল আলম ইমন বলেছেন: স্যরি সেদিন আসবো বলে আসা হয়নি। যাইহোক, আমি যে কথাগুলো বলতাম ঠিক সেকথাগুলো নির্বাসিত ভাইয়া বলে দিয়েছেন। আপনার লেখাগুলোতে একটা গল্প থাকে না। এটা খুবই খাঁটি কথা যে গল্প না থাকার কারণে মানুষ খুব বেশীদিন আপনার লেখাটিকে মনে রাখবে না। তবে, আমার কাছে যে দিকটা ভালো লাগছে সেটা হলো সাধারণ একটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে কিংবা সামান্য একটা ব্যাপার নিয়ে আপনি অসাধারণভাবে পৃষ্টার পর পৃষ্টা লিখতে পারেন। এটা আপনার অনেক বড় একটা গুণ। এটা খুব কম লেখকরা পারেন। এ ধরণের লেখা খুব কম চোখে পড়ে। তাই আমার কাছে খুব ভালো লেগেছে।
আপনার লেখায় একটা বিষয় খেয়াল করেছি সেটা হলো আপনার পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা অসাধারণ। অসম্ভব ধরণের ভালো।
> নীচে সদ্য নারী হয়ে ওঠা একটা পানপাতা-মুখ।
> একটা ফড়িং কলমী ডগায় স্থির-বসে-থাকে বলেই মেয়েটির কেমন যেন লাগে।
> আকাশের তুলো-মেঘ বর্ণমালার বইয়ে হাশেম খান হয়ে উঠলে মেয়েটি জলের গায়ে লিখে- আকাশলীনা।
> ভালবাসলেই রক্তজবা নারীর গ্রীবায় ফুটে থাকে প্রায়ই।
> ঘরে ফিরলে গলা আর বুকের মোরগজবা ফুল ওড়নায় কোন উষ্ণতা ছড়াত চোখে আর আঙ্গুলের নাচের মুদ্রায়।
> লীনা আপু লাল পাতাবাহারের মতো অমন ফুটে উঠেছিল বলেই মায়ের ঘুম হতোনা।
> কোরান শেখানো মওলানার বেতের মতো সপাং করে একটা মাছরাঙ্গা পাখি জলে ঝাঁপ দেয়।
> মওলানার সপাং-বেত গৌতম বুদ্ধের মতো আবার হিজলের ডাল খুঁজে নেয়; ধ্যানমগ্ন হয়।

উপরে অনেকগুলো পর্যবেক্ষণের কিছু তুলে দিলাম মাত্র।

দূর থেকে কে যেন ডাকেন, 'বেনু, আবার পুকুর ঘাটে গেলি নাকি! আর কতবার বারন করলে ওখানে যাওয়া বন্ধ হবে তোর?' এ লাইনে আসার পরে পাঠক বুঝতে পেরেছে মেয়েটি আর কেউ নয় সে বেনু। একটা লেখায় এর চেয়ে চমৎকার শেষ আর কি হতে পারে?

রিপন ভাই আমি খুব ভালো লেখক তো নয়ই, ভালো পাঠক ও হয়তো এখনো হতে পারিনি। তাই আমার মতো করে কিছু বিষয় তুলে ধরলাম। আপনার পরের লেখাগুলোয় গল্প থাকুক সেটা যেমন কাম্য আবার এই ফর্মে ভবিষ্যতে আরো লেখা চালিয়ে যাবেন সেটাও কাম্য। আপনি লেখায় সুন্দর গল্প দিতে পারেন কিংবা পারবেন সেটা বুঝতে কারো অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। এক্সপেরিমেন্ট এর ও দরকার আছে কিন্তু।
আপনার সাথে কথা বলতে চাইবো। ব্যস্ততার কারণে ব্লগে কম আসা হয়। তবে, আপনার সাথে যোগাযোগের কোন সুযোগ থাকলে খুব ভালো লাগত।:)
ভালো থাকুন। লেখা চালিয়ে যান। সবসময় এই অধমকে সাথে পাবেন।
১০ ই আগস্ট, ২০০৮ রাত ১২:৫১

লেখক বলেছেন: ইমন, আপনার সুন্দর মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ। আপনার লেখার হাত চমৎকার। আপনার পর্যবেক্ষনগুলো কাজে লাগবে আমার।

আমার ই-মেইল অ্যাড্রেস ব্লগে দেয়া আছে। আপনার মেইল পেলে খুশি হব।

শুভেচ্ছা রইল। ভাল থাকবেন।

২৫. ০৯ ই আগস্ট, ২০০৮ ভোর ৬:৪৯
comment by: রাশেদ বলেছেন: আপনার লেখার প্রথম এক বা দুই প্যারা কেন জানি আমারে টানে না তেমন। :(


লেখাটা ভালো লাগছে। গল্পের থেকে কবিতা বেশি মনে হইছে। ভিন্নধর্মী স্ট্রাকচার লেগেছে আমার কাছে।

আসল কথা হইলো ভালো লাগছে। :)
১০ ই আগস্ট, ২০০৮ রাত ১২:৫৫

লেখক বলেছেন: রাশেদ ভাই, এরপর থেকে প্রথম দুই প্যারা বাদ দিয়ে দেব। কসম। নেক্সট গল্পেই দেখবেন। :)

ইদানিং আপনি অনেক কম আসেন ব্লগে। ব্যস্ত?

২৬. ০৯ ই আগস্ট, ২০০৮ সকাল ৯:২৩
comment by: রন্টি চৌধুরী বলেছেন: মাস্টার মশাই বলেন, 'চোখ মেলে নয়, চোখ বুজে দেখ'।


ইমনভাই অনেকগুলা লাইন তুলে এনেছেন। যেগুলো একেবারেই তুলে আনার মত। একটা ছোট্ট গল্পে এতগুলো নিখুত, সতন্ত্র, সাবলীল উপমাযুক্ত অসাধারন লাইন থাকাটা অনন্য একটা ব্যাপার।

সারা লেখায় আমার প্রিয় একটা লাইন। চোখ মেলে নয়, চোখ বুজে দেখ।
এই এক লাইনের জন্যই এই গল্প আমার প্রিয় হয়ে থাকবে।
১০ ই আগস্ট, ২০০৮ রাত ১:০০

লেখক বলেছেন: রন্টি ভাই, আপনার মন্তব্যে খুশি হয়েছি। 'কুউউ' পড়তে বসব একটু পরেই।

২৭. ১১ ই আগস্ট, ২০০৮ সকাল ১০:৩৪
comment by: প্রণব আচার্য বলেছেন: কেমন আছেন?
১১ ই আগস্ট, ২০০৮ সকাল ১১:০৩

লেখক বলেছেন: প্রণব, ভাল আছি। মাঝে মাঝে অবাক হই, বেশরমের মতো এত ভাল থাকি কী করে!

২৮. ১১ ই আগস্ট, ২০০৮ রাত ১১:১৫
comment by: মাজহারুলইসলাম বলেছেন: রিপন ভাই গল্পটি পড়লাম । ভালো লাগলো ।
১২ ই আগস্ট, ২০০৮ রাত ১২:৪৬

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ মিন্টু। কেমন আছো তোমরা?

২৯. ১২ ই আগস্ট, ২০০৮ রাত ২:০২
comment by: আহমাদ মোস্তফা কামাল বলেছেন: গল্প হয় প্রধানত দু-ধরনের। আখ্যানপ্রধান ও কাহিনীপ্রধান। এটা আমার নিজস্ব মত।

[পত্রপত্রিকায় গল্প নিয়ে এত অসংখ্য প্রবন্ধ লিখেছি, যে, এইসব কথাবার্তা এখন পূণরুক্তি বলে মনে হতে পারে। তবু, বলা তো যায়, নাকি?]

আখ্যানপ্রধান গল্পে 'গল্প' বা 'কাহিনী' বা 'আখ্যান' বুননের দিকেই মনোযোগ থাকে লেখকের। আর অনুভূতিপ্রধান গল্পের কাজই হলো-- পাঠকের মনে এক অনির্বচনীয় অনুভূতি ছড়িয়ে দেয়া। সেই অনুভূতি যে কোনো ধরনের হতে পারে। আপনার এই গল্পটি দ্বিতীয় ধরনের। বাংলা কথাসাহিত্যে এই ধারার চর্চা খুব বেশি হয়নি। আপনার পক্ষে সেটি সম্ভব বলে বিশ্বাস করি আমি। এই ধরনের গল্প লিখতে হলে যে ধরনের ভাষাভঙ্গি থাকা দরকার, সেটি আপনার আছে।

আপনার জন্য শুভেচ্ছা রইলো।

এই মুহূর্তে মনে পড়ছে, এমন দুটো গল্পের নাম বলি-- আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের 'নিরুদ্দেশ যাত্রা' এবং শাহাদুজ্জামানের 'কাগজের এরোপ্লেন'। দুটোই 'অনুভূতিপ্রধান' গল্পের চমৎকার উদাহরণ। সময় পেলে পড়ে নেবেন।

[শেষ লাইনে 'বারণ' শব্দটি গল্পের সঙ্গে যায়নি বলে মনে হয়েছে। বিকল্প কোনো শব্দ হলে ভালো হতো। মাস্টারি নয়, মতামত জানালাম। ;) ]
১২ ই আগস্ট, ২০০৮ রাত ৩:১০

লেখক বলেছেন: ভাইয়া, আপনার মন্তব্য সব সময়ই আমার ভালো লাগে এ কারনে যে, আমি এ থেকে আশান্বিত হই, নিজেকে যাচাই করতে পারি সুপাঠকের দৃষ্টিকোণ থেকে। পাঠক হিসেবে আমি যা চাই, লেখার সময় তা কতটুকু ধরে রাখতে পারি- অনেক সময়ই তা বুঝি উঠিনা। হয়ত নিজের লেখার প্রতি মমতা থেকেই এটি তৈরী হয়।

লেখার সময় শেষ লাইনের 'বারণ' শব্দটি নিয়ে তেমন একটা ভাবিনি। আপনার পর্যবেক্ষন থেকে ভাবনার একটি বিষয় তৈরী হল। আমি অবশ্যই কাজ করব এটি নিয়ে।

গল্পের নানান ধারা বা এ সংক্রান্ত আপনার কোন লেখা পোষ্ট করলে উপকৃত হব। যদি কখনো ইচ্ছে হয়, এধরনের লেখা পোষ্ট করবেন, প্লিজ।

আপনার মঙ্গল কামনা করছি।

৩০. ১৩ ই আগস্ট, ২০০৮ রাত ৩:১৭
comment by: রাশেদ বলেছেন: হা হা! এইটা খালি আমার মত ছিলো! :P

একবার আকাশ্চুরি ভাইয়ের এক গল্পের সমালোচনা করে দেখি সবাই ভালো বলতেছে ঐটারে! খালি আমি একাই ভালো লাগে নাই বইলা আসছিলাম! :((


আসলে কিছুটা পড়ালেখা আর কিছুটা ভিন্ন এক ব্লগ সাইটে সময় দেয়া, সেই কারনে এইদিকে কম কম আসি। :(
১৫ ই আগস্ট, ২০০৮ রাত ২:১৯

লেখক বলেছেন: রাশেদ ভাই, নেমেসিস চলে গেল, আপনিও কম আসেন... কি হবে বলুনতো!

৩১. ১৩ ই আগস্ট, ২০০৮ রাত ৮:৩২
comment by: আশরাফ মাহমুদ বলেছেন: কিছুটা পড়লাম। ভালো লাগল। পরে সময় করে পড়বো। এখন দৌড়ের উপর আছি। :)
১৫ ই আগস্ট, ২০০৮ রাত ২:২০

লেখক বলেছেন: আশরাফ ভাই, দৌড় কি শেষ হয়েছে? ;)

৩২. ১৫ ই আগস্ট, ২০০৮ রাত ২:২১
comment by: ফারহান দাউদ বলেছেন: আরো ২-১ টা লেখা দেন:)
১৫ ই আগস্ট, ২০০৮ সকাল ১০:৫৫

লেখক বলেছেন: আজকে একটা গল্প লিখেছি। আগের গল্পগুলোর ঢং থেকে একটু আলাদা। আপনার মন্তব্য জানালে খুশি হব।

৩৩. ১৮ ই আগস্ট, ২০০৮ ভোর ৪:৫৪
comment by: রাশেদ বলেছেন: কে বলছে চলে গেছি, আছি তো! :P
১৮ ই আগস্ট, ২০০৮ ভোর ৬:২৫

লেখক বলেছেন: কবিগুরু এই কারনেই গাইছে-
এসেছিলে তবু আসো নাই, জানায়ে গেলে...
:(

৩৪. ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ২:২৩
comment by: ফাহমিম বলেছেন: ডুবে গেলাম।অনেকদূর,অনেক গভীর।নাম-না-জানা লতা পা পেঁচিয়ে ধরে বললো, থেকে যা।দেখে যা,জল এখানে অনেক রঙিন।আমি নিশ্চুপ ডুবেই রইলাম।জলের রঙ দেখলাম বসে বসে।ভুলে গেলাম কোত্থেকে আসা হয়েছিলো।

প্রিয়তে থাকলো।বারবার এভাবেই ডূবে যাওয়ার লোভ সামলাতে পারছি না।
১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সকাল ৭:৪০

লেখক বলেছেন: বাহ! আপনার মন্তব্যের স্টাইলটি চমৎকারতো! খুব খুশি হলাম।

৩৫. ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সকাল ৭:৫৭
comment by: নুশেরা বলেছেন: আকাশের তুলো-মেঘ বর্ণমালার বইয়ে হাশেম খান হয়ে উঠলে... ... ...
এই একটা লাইনেই আমি নি