আমার প্রিয় পোস্ট
- কিছু দেশের গান (রিঃপোষ্ট) - একলা একজন
- চার পাঁচ হাজার পিঁপড়ার দুঃখ - সরকার আমিন ১৯৬৭
- বিদ্যাকূটে যাওয়া না-যাওয়া নিয়ে একটা গল্পের ভণিতা - সুমন রহমান
- ক্রমশ নির্মীয়মান দৃশ্য কিংবা চরিত্রের গল্প - ছন্নছাড়ার পেন্সিল
- নেশা অথবা নিশির টান; বাইসন... এইসব - মাজুল হাসান
- 'আমরা দুজনে মিলে শূন্য করে চলে যাব জীবনের প্রচুর ভাঁড়ার' - আহমাদ মোস্তফা কামাল
- জীবনানন্দ দাশ : কবিতায় খুঁজি বাংলার রূপ - একরামুল হক শামীম
- চিলেকোঠার সানাই - আজহার ফরহাদ
- শুয়ে থাকার কাল - মানস চৌধুরী
- আরিফুল হোসেন তুহিনের অসামান্য উদ্যোগে সামান্য ভূমিকা রাখতে চাচ্ছি - রিয়াজ শাহেদ
- আজ রাতে কোথায় ঘুমাবো? - মাহবুব মোর্শেদ
- `রবীন্দ্রচর্চার জন্য সবার আগে প্রেমিক হতে হবে'- আবদুল মান্নান সৈয়দ - েফরদৌস মাহমুদ
- আমি পান্ডিত্যের কাঁফনে মোড়া এক শাস্ত্রীয় শকুন - সামী মিয়াদাদ
- খেরোখাতার আসন্ন পৃষ্ঠাটি - রহমান হেনরী
- মুক্তিযুদ্ধের কিছু প্রামান্য বইয়ের তালিকা - ফারহান দাউদ
- মনে হয় যেন লেখার সময় অন্য কারো করতলে ছিলাম-- মাহমুদুল হক - আহমাদ মোস্তফা কামাল
- ভিনদেশী কবিতা : হাহাকার, তবু এক অচিন-আনন্দময় যাত্রা-১ - মাজুল হাসান
- আমার ছবি কইবে কথা যখন আমি থাকবো না---- (উৎসর্গ : প্রথম আর দ্বিতীয় হওয়া সকল পরীক্ষার্থী) - মেহরাব শাহরিয়ার
- নবীনদের জন্য - নাদান
- কেন লেখেন? - আহমাদ মোস্তফা কামাল
- আস্তিক-নাস্তিক-সংশয়ী এবং তাদের ঈশ্বর - আহমাদ মোস্তফা কামাল
- "গণহত্যা": এ্যান্থনি মাসকারেনহাসের অবশ্যপাঠ্য প্রতিবেদন, ৩য় অংশ (বিদেশী পত্রিকায় মুক্তিযুদ্ধ, পর্ব ৩২) - ফাহমিদুল হক
- সিদ্ধার্থ, নির্বাণের পথ (সিরাতুল মোস্তাকিম) নিজেকেই খুঁজে নিতে হয়। - নাজিম উদদীন
- জল প্রিজমের গান - মৃদুল মাহবুব
- এসো ৭১ এর গল্প শোনাই সবাই মিলে - জ্বিনের বাদশা
- আমাদের টমি আর শের আলীর গল্প - এস্কিমো
- পাকিস্থানি কুলাংগারদের বর্বরতা-একটি ঐতিহাসিক ভিডিও ক্লিপ - না বলা কথা
- না এলেই ভালো হতো...! - আহমাদ মোস্তফা কামাল
- "চলচ্চিত্র সমাজ পরিবর্তন করতে পারে না, কখনো করেও নি" -- সত্যজিৎ রায়ের সাক্ষাৎকার - ফাহমিদুল হক
- বীভৎস যৌন নির্যাতন, কিন্তু এড়িয়ে গেছেন সবাই - শেরিফ আল সায়ার
- "পুরনো পাকিস্তানের সমাপ্তি": বিদেশী পত্রিকায় মুক্তিযুদ্ধ, পর্ব ১৩ - ফাহমিদুল হক
- জীবন একটা গম্ভীর বিদ্রুপ! - আহমাদ মোস্তফা কামাল
- আমার নিরন্তর মুসলমান হয়ে ওঠা - সামী মিয়াদাদ
গল্পঃ দুপুর পুড়িয়ে বাড়ী ফেরার দিন
২০ শে আগস্ট, ২০০৮ রাত ১:৪৫
![]()
এক
রাজকুমারীরা ছুঁয়ে ছিল বলেই আমাদের ব্যাঙাচী জীবনের সমাপ্তি ঘটে যায়। আমরা রাজকুমার না হলেও সোনাব্যাঙ হয়ে উঠি; আর তাতেই খুশিতে আটখানা হই। অনেকদিন পরে, ছাত্রসখা বইয়ের মলাট খসে পড়লে আমাদের মনে পড়ে ত্রিভুজ বালিকাদের, যারা ফ্রক পড়ে ক্লাসে আসতো, আর নাক দিয়ে সিকনী গড়ালেও ছেলেদের মতোই লজ্জা পেত না।
সেকেলে বলেই ত্রিভুজ বালিকারা, বা বালিকাদের মায়েরা তাদের কন্যাদের নাকছাবি পরতে দিতনা। নাকে নাকফুল, আর কানে দুল ঝুলিয়ে তারা স্কুলে আসতো, নামতা পড়ত। তখনো জানিনি, আমরা ত্রিভুজ বালিকা নই; ত্রিভুজরাও যেমন জানতো না যে, তারা ব্যাঙাচী নয়। যেদিন মেয়েগুলো ছেলেদের সাথে ঝগড়া করলো, আর নিজেরা একা একা চালতার আঁচাড় খেল- সেদিনই আমাদের বয়স বাড়ল। সেদিনই আমরা কেউ কেউ নিজেদের পুরুষ-মানুষ ভাবতে শুরু করলাম।
পৌরষত্ব প্রমান করতে আমরা চিঁ-বুড়ী ছেড়ে ফুটবল খেলা শুরু করেছিলাম। দুপুর-রোদে নিজেদের পুড়িয়ে, বেপাড়ার ছেলেদের হাতে পিটুনি খেয়ে বাড়ী ফিরলে- মায়ের হাতে আমাদের নব্য পুরুষ-জীবন হেনস্থা হতো। সেসব ইতিহাস প্রতিবেশী ত্রিভুজকন্যাদের কাছ থেকে স্কুলে পৌঁছালে আত্মহত্যার সাধ জাগতো।
যখন জীবন বুঝিনা, প্রয়াণে বিচলিত হই- তেমন এক বিকেলে অংক-আপা উড়ে আসেন আমাদের খেলার মাঠে, মৃত্যু সংবাদ হয়ে। আমাদের ত্রিভুজ আর ব্যাঙাচী জীবন অর্থহীন উপবৃত্ত হয়ে খেলার মাঠে পড়ে থাকে। একটা খালি রিক্সা-ভ্যানের পেছনে আমরা ছুটি আসন্ন সন্ধ্যাকে সামনে রেখে। অনন্তের শবযাত্রী হয়ে আমরা অকিঞ্চিৎকর জীবনকে দেখি সহপাঠীর চোখে। সেদিন জেনেছিলাম, আমরা ছেলেমানুষ নই, মেয়েছেলেও নই। অনভিজ্ঞ দশ আঙ্গুলের করতলে মৃত্যুকে ছুঁয়ে বুঝেছিলাম- কত সহজেই না 'চলে যাওয়া শিখেছে মানুষ!'
দুই
ত্রিভুজ বালিকারা ঐকিক-নিয়ম শেখার আগেই আয়তকার হয়ে ওঠেছিল। সেসব আয়তক্ষেত্রের জন্য কাজলদানী, রেশমীচুড়ি আর লালফিতে বিক্রি করতো গন্ধবণিকেরা। আমরা সেসব মনোহারী দোকানের সামনে দিয়ে যেতাম ঘুড়ির সুতো কিনতে। যারা পায়রা ওড়ায়নি জীবনে, কিন্তু ভোকাট্টা ঘুড়ির পেছনে আকৈশোর দৌড়েছে, তারা কোনদিন ভাবেনি- অমল বিকেলগুলোতে পঁয়ত্রিশটা বালিহাঁস কেন ঋ-কার চিহ্নের মতো দিগন্তে ভেসে যায়।
বছরখানেক আগেও আমাদের যাদের নামে কোন পয়সা বরাদ্দ হয়নি, চায়ের দোকানের বাকির খাতায় তাদের নাম তোলা হয়। কিছু বোঝার আগেই, আমরা বুঝে যাই- আমাদের ছ্যামড়া জীবন শুরু হয়েছে। রিক্সায় যেকোন জ্যামিতিক নারী দেখলেই মন কেমন করত! মন অমন কেন করে, তখনো জানা হয়নি আমাদের। সে সময়ে, কোন কোন সন্ধ্যাবেলা, মেহগনীর বীজগুলো হেলিকপ্টারের পাখা হয়ে আকাশ থেকে নেমে আসলে- জীবনটাকে অর্থহীন মনে হতো আমাদের। সেইসব অর্থহীন জীবন নিয়ে এপাড়া-ওপাড়া ঘুরে বেড়াতাম আমরা।
লসাগু, গসাগু শেখার পাশাপাশি আমাদের বাড়ন্ত দেহের রসায়ন পাঠ করে শরীর। আমাদের সেয়ানা হয়ে ওঠার মরিয়া চেষ্টায়- গোঁফ না-ওঠা মুখও লুকিয়ে রাখতে পারেনা বলাকা ব্লেডে অপটু চোরা-চাষ। আমাদের মধ্যে যারা দুঃসাহসী ছিল, তারা তখনই সিগারেটের ধোঁয়ায় রিং বানাত। সাদা বৃত্তগুলো টাল সামলাতে সামলাতে বাতাসে মিলিয়ে গেলেও, গন্ধ শুকে পাড়াতুতো বড় ভাইয়েরা আমাদের কান মলতো। বাড়ী ফিরলে আরো কয়েক দফা 'কান টানলে মাথা আসে'র প্রামান্য অভিজ্ঞতা বরাদ্দ ছিল যথারীতি। তবে, সেই বিকট শাস্তির পরেও আমরা কেউ টমাস আলভা এডিসন হতে পারিনি। কারন, আমরা কানে খাটো হইনি, কানের লতিটা সামান্য ঝুলে পড়েছিল মাত্র।
আমাদের কারো কারো পকেটে তখন আমলোকীর বদলে ক্ষুর ঢুকেছে। কারো কারো সাধারণ বিজ্ঞান বইয়ে রবীন্দ্রনাথের কবিতার সুড়কি। যারা হারিয়ে যাওয়া ব্যাঙাচী-লেজের শোকে কাতর ছিল, জীবন শুরু হওয়ার আগেই একজীবনের দীর্ঘশ্বাস নিয়ে তারা স্কুল পালাতো। সেইসব গেরিলা ছ্যামড়াদের রুলটানা খাতায় ভুল মাত্রায় সনেট লিখে যেতেন মধুসুদন দত্ত। মাঝে মাঝে কারো গাছের গাব কিংবা ডাব খোয়া গেলে স্কুলে নালিশ আসতো; আর মধুসুদন দত্তদের পিঠে জাদু দেখাতেন কোন শিক্ষক। বাবা-মায়েরা মাষ্টারদের কাছে 'শুধু হাড্ডি' ফেরত চেয়েছিলেন বলেই, আমাদের পিঠের চামড়া ফুলে থাকতো। এসময় ফোস্কা পিঠে, আর ক্ষুর পকেটে রেখে, আমরা কেউ কেউ শিক্ষক হত্যার দায়ে ফাঁসিতে ঝোলার স্বপ্ন দেখতাম।
সেইসব বিকেলে আয়তক্ষেত্র-কিশোরীরা চুলে লক্ষ্মীবিলাস তেল মাখতো; আর চেহারায় ওলো-সই ভাব আনতো এবং তাদের আম কি তেঁতুল গাছে লটকানো ঘুড়ি পাড়তে গেলে আমাদের চিনতো না। প্রতিশোধ নিতেই স্কুলের দেয়ালে কারা যেন অমুক যোগ তমুক লিখে রাখত, আর হেড-স্যার বেত ভাঙতো সোনাব্যাঙের পিঠে। সেই সব দেয়াল লিখন আমাদের কপাল-লিখন হয়নি বলা-ই বাহুল্য।
তিন
চিঠি দেবো বলে আমরা যারা স্কুল ছেড়ে ছিলাম, তারা কোনদিন চিঠি লিখিনি। আমরা তখনই বুঝে নিয়েছিলাম- আহ্নিক গতির পৃথিবীতে সবকিছু ধ্রুব নয়; এইসব রাত্রি-দিন কথার কথা মাত্র।
এমন দারুন কষ্টের দিনেই পালকি, কিংবা প্রজাপতির ছবি আঁকা কার্ডে বিয়ের দাওয়াত পেতাম কেউ কেউ। আয়াতকার বালিকারা বিয়ের পিঁড়িতে বসলে, আমরা চুপ করে কি যেন ভাবতাম। আর একটু পরে নিজের করা কোন অশ্লীল রসিকতায় নিজেই লাল হয়ে উঠলে বুঝতে পারতাম, বুকের বা-দিকে ঈর্ষার-কাঁটা জমতে শুরু করেছে।
আমরা খুশি হব বলেই হয়তো, বিয়ের পর আয়তকার তরুণীরা বর্গাকার নারী হয়ে উঠেছিল। চেহারায় দেমাগী-ভাব প্রকট হওয়ার আগেই তাদের কোলে শিশু ত্রিভুজ কিংবা ব্যাঙাচী ঝুলতো। আমরা- পাড়াতুতো মামারা, সেসব সুখী মানুষদের দেখে ছোট ছোট দীর্ঘশ্বাস ফেলতাম। আর মনে মনে ভাবতাম, এইসব ত্রিভুজেরা আমাদের 'কি-না হইতে পারিত!' কখনো পথে কি বাজারে দেখা হলে, বর্গাকার নারীরা খালাম্মা-খালুজানের খবর নিত। আমাদের শরীর খারাপ হতোনা বলেই বুঝি- সেসব সংবাদ-সমাচারে বড় অভিমান হতো।
শাড়ীর ভাঁজে ন্যাপথলিন, আর পাঁচফোড়নের মিশ্রজীবন আমাদের নাকে বিলিয়ে বর্গাকার নারীরা মা হয়ে উঠেছিল।
চার
কোন কোন ঝিমধরা দুপুর কেন যে পায়ের তলায় ক্ষয় করে দিতাম, এখনো বুঝিনা। পথ হাঁটার নেশায় বাটার স্যাণ্ডেলের এমন মরন কেন যে ডেকে আনতাম আমরা! আজো জানা হয়নি- কিসের কষ্ট নিয়ে তিনটি বাই-সাইকেলের অমল চাকা দেবদারুর ঋজু শরীরে বিশ্রাম নিত।
দুপুর পুড়িয়ে বাড়ী ফেরা জীবনে কে জানত, বালিহাঁসেরা কেন ঋ-কার চিহ্ন হয়ে আকাশে ভেসে বেড়ায়? জীবনানন্দ দাশ ছাড়া এ সংবাদ কে আর তালাশ করেছে জীবনে?
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): ছোটগল্প, দুপুর পুড়িয়ে বাড়ী ফেরার দিন, মোস্তাফিজ রিপন ;
প্রকাশ করা হয়েছে: গল্প বিভাগে ।
মরিযাদ হারুন বলেছেন:
হুম.. ভালো তো
লেখক বলেছেন: পড়ার জন্য ধন্যবাদ।
নির্বাসিত বলেছেন:
কিছু মনে করবেন না। এ লেখাটিকে আপনি গল্প হিসেবে ক্ল্যাসিফাই করলেন কিভাবে? কাহিনীটা কি সেটাই আমি ঠিক ধরতে পারলাম না।যথারীতি আপনার বর্ণনার তুলনা নেই। আগে একবার বলেছিলাম যে আপনার লেখা সবসময় আমার কাছে একটি প্রাণ-জুড়ানো শর্টফিল্মের মত মনে হয়। এবারেও তাই।
আপনি সিরিয়াসলি ছবি বানানোর কথা চিন্তা করতে পারেন।
লেখক বলেছেন: কঠিন প্রশ্ন, এটিকে গল্প বলেছি কেন? আসলে এটি স্মৃতিচারণ না হলেও, হয়ত এমন একটা গল্পের ভেতর দিয়েই আমাদের কৈশোর কাটে। কোন নির্দিষ্ট গল্প নেই, কিন্তু প্রবহমান সেলুলয়েডের ফিতেতে গল্প তৈরী করুক না পাঠক!
ছবি বানাবো! বাপরে! এ ব্যাপারে আমি ক-অক্ষর গো-মাংশ।
আপনার মন্তব্য ভাল লেগেছে।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ সলিল। আপনার নামটি সুন্দর। খুব ভাল লেগেছে আপনার প্রশংসা পেয়ে।
একরামুল হক শামীম বলেছেন:
দুপুর পুড়িয়ে বাড়ী ফেরা জীবনে কে জানত, বালিহাঁসেরা কেন ঋ-কার চিহ্ন হয়ে আকাশে ভেসে বেড়ায়? জীবনানন্দ দাশ ছাড়া এ সংবাদ কে আর তালাশ করেছে জীবনে?
কথাগুলো চমৎকার।
লেখক বলেছেন: শামীম ভাই, গল্পটি পাঠের জন্য ধন্যবাদ। কেমন আছেন?
রিফাত হাসান বলেছেন:
একটা কথা বলি রিপন, আপনার গদ্যের ভাষা খুবই ভাল, মুগ্ধ হবার মতো।
লেখক বলেছেন: প্রীত হলাম রিফাত ভাই।
আহসান হাবিব শিমুল বলেছেন:
পুরো গল্পটাই যেন একটা কবিতা।++++++
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ শিমুল।
লেখক বলেছেন: প্লান করেছি, একদিন সারাদিন কাটাব আপনার ব্লগে, আর কোথাও যাবনা। আপনার মন্তব্য পেলে খুব ভাল লাগে।
লেখক বলেছেন: বড় লেখা লিখবার জন্য যে ধরনের ধৈর্য দরকার, আমার তা নেই। আলসে টাইপের লোক আমি। ইদানিং ছোট গল্পে মজা পাচ্ছি বেশ। ভাল লাগা থাকতে থাকতে আরো কিছু গল্প লিখতে চাই।
আপনার মন্তব্য পেলে খুব উৎসাহিত হই; বাড়িয়ে বলছি না।
|জনারন্যে নিসংঙগ পথিক| বলেছেন:
চমৎকার গদ্য , ঝরঝরে। ছোট ছোট গল্পগুলো একধরণের মগ্নচিত্র নির্মাণ করেছে।
আবারও বলি চমৎকার।
++
লেখক বলেছেন: প্রাণিত হলাম। শুভাশিষ রইল আপনার জন্য।
স্তব্ধবাক...
অনুভূতিপ্রকাশে অক্ষমের এই আদুরে "অনুভূতি-চিহ্নক"-ই ভরসা!
লেখক বলেছেন: জটিল। সা.ইনের ইমোটিকনগুলো বেশ।
লাল দরজা বলেছেন:
আপ্নার কোন লেখা আগে পড়ি নাই, এই লেখাটার নামটি দেখে আগ্রহ হলো এসে পড়ে নিলাম একটানে। অসম্ভব ভালো লাগল। আপনারব্লগ লেখার পিরমান চট করে দেখে নিলাম। তেমন বেশী লেখেন নি এখানে এখনো। পরিমান এখনো আয়ত্বের মধ্যেই আছে লেখা গুলো সুযোগ নিয়ে পড়ে ফেলতে হবে। আপনার লেখার সাথে পরিচিত হতে পেরে আনন্দ বোধ করছি। শুভেচ্ছা জানবেন।
লেখক বলেছেন: লেখাটি পাঠ করেছেন জেনে আনন্দিত হলাম। আরো ভালো লাগল এ কথা জেনে যে, আপনি এটি পছন্দ করেছেন। আমি আপনার লেখা পড়েছি, আপনি ভাল লিখেন।
আপনার জন্যও শুভেচ্ছা রইল।
লেখক বলেছেন: আবুল হাসানের 'ক্লান্ত কিশোর' কবিতাটি পড়েছেন?
দুপুর ঘুরে কিশোর তুমি বিকেল বেলায়
বাড়ী ফিরলে তোমাকে ভীষন ক্লান্ত দেখায়
ক্লান্ত হাতটি ক্লান্ত দেখায়, ক্লান্ত মুখটি ক্লান্ত দেখায়...
পড়েছেন কবিতাটি?
শফিউল আলম ইমন বলেছেন:
সেদিন জেনেছিলাম, আমরা ছেলেমানুষ নই, মেয়েছেলেও নই। অনভিজ্ঞ দশ আঙ্গুলের করতলে মৃত্যুকে ছুঁয়ে বুঝেছিলাম- কত সহজেই না 'চলে যাওয়া শিখেছে মানুষ ......অসাধারণ উপলব্ধি।রিপন ভাই, ক্ষণিকের জন্য হলেও আপনি নষ্টালজিক করে দিলেন।
হাত খুলে লিখে যান।
(অফটপিক: দুঃখিত, আমি ব্যস্ততার মধ্যে ছিলাম তাই আপনাকে মেইল করা হয় নি। আপনি কি গুগলটক কিংবা কোন মেসেন্জারে আসেন না??)
লেখক বলেছেন: ইমন ভাই, আপনার মন্তব্য পড়ে বরাবরের মতোই ভাল লাগল। মেসেঞ্জারে আসা হয়না। ওহ, এটি কিন্তু স্মৃতিচারণ নয়, আরেক জীবনের গল্প।
মাজহারুলইসলাম বলেছেন:
রিপন ভাই গল্পটি পড়লাম। অ.........................সাধারণ। এখানে ফজরের আযান দিচ্ছে। এখন ঘুমতে যাচ্ছি। শুভ সকাল...............
লেখক বলেছেন: শুভ সকাল।
মার্চেন্ট অফ ড্রিম বলেছেন:
ভাল।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।
গল্প কিনা জানি না,তবে একজীবনের কথা শুনিয়ে দিলেন।
লেখক বলেছেন: উঁহু, ব্লগ থেকে ডুব দেয়া যাবেনা। দিনের চব্বিশ ঘণ্টা থেকে খুচরো কয়েকটা মিনিট আমাদের জন্য তুলে রাখুন- প্রীত হব। তবে ব্লগগ্রস্তদের ডুব দেবার নমুনা আমার চেয়ে ভাল কে জানে!
লেখক বলেছেন: ভাল আছি প্রণব। আমার মতো অকিঞ্চিৎকর মানুষের পেছনে কাগজ-কালি নষ্ট করছেন জেনে আহ্লাদিত হলাম।
কেমন লাগল জানালে খুশি হবো।
সুলতানা শিরীন সাজি বলেছেন:
কি যে ভালো লাগলো..............ঘুমাতে যাবার সময় অনেকক্ষ আগে পার হয়ে গেছে।
লেখাটা পড়ে বসে আছি...............
খুব ভালো লাগলো বললে মন ভরছে না.......।অনেক অনেক ভালো লাগলো।
"অনভিজ্ঞ দশ আঙ্গুলের করতলে মৃত্যুকে ছুঁয়ে বুঝেছিলাম- কত সহজেই না 'চলে যাওয়া শিখেছে মানুষ!' "............দারুণ.......।
"দুপুর পুড়িয়ে বাড়ী ফেরা জীবনে কে জানত, বালিহাঁসেরা কেন ঋ-কার চিহ্ন হয়ে আকাশে ভেসে বেড়ায়? জীবনানন্দ দাশ ছাড়া এ সংবাদ কে আর তালাশ করেছে জীবনে? "..................
পাখীদের জ্যামিতিক উড়ে চলে ভীষণ টানে।
অনেক ভেবেছি, কারণ খুঁজে পাইনি........বিকালে আকাশের দিকে তাকিয়ে পাখীদের ঘরে ফেরা দেখি.......
আর ভাবি পাখীদের মত সুখী আর বুঝি কেউ নেই।
অনেক সুন্দর লেখার জন্য অনেক অনেক শুভেচ্ছা আর শুভকামনা।
ভালো থাকবেন।
লেখক বলেছেন: সাজি আপা, আপনার মন্তব্য বরাবরই আমাকে উৎসাহিত করে। আমার গল্পে কবিতা ভর করার পেছনে যাঁরা যাঁরা দায়ী- আপনি তাঁদের একজন।
পাখিদের মতো জ্যামিতি বোঝেনা কেউ-
কাউন ঠোঁটে টিয়ার ওড়া-উড়ি
নীল আকাশে সবুজ পক্ষী-ঘুড়ি
মেঘের গায়ে কোমল পালক-ঢেউ।
শুভাশিষ জানবেন।
প্রণব আচার্য বলেছেন:
বাক্য নির্মানে এক ধরনের এক্সপেরিমেন্টাল চিন্তা করছেন বোধ হয়?
লেখক বলেছেন: কথা সত্য। জানিনা, শেষ পর্যন্ত বিষয়টি কি দাঁড়াচ্ছে, তবুও কাজটি করে যাব ঠিক করেছি। কেমন লাগল জানালে ভাল আনন্দিত হব।
আশরাফ মাহমুদ বলেছেন:
সময় নিয়ে আবার পড়তে হবে........ ভালো লেগেছে....।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আশরাফ ভাই। আপনার পর্যবেক্ষনগুলো জানালে খুশি হব।
লেখক বলেছেন: ভাবলাম, যেহেতু বালিকা বিষয়ক লেখা
, তাই ক্ষীণ হলেও আপনার চিত্ত ব্যাকুল হবে ভেবেছিলাম। কি আশায় বাঁধি খেলাঘর...
শান্তির দেবদূত বলেছেন:
অসম্ভব ভালো লাগলো বিশ্বাস করেন, পড়ে শেষ করার পরে মিনিট খানেক অন্যভুবনে ছিলাম, অনেকটা মাতালের মত ...... ঠিক, কিসের অনুভুতি তা আমি লিখে বুঝাতে পারবো না ( আমি যেহেতু আপনি নই ) ....... তা ভাষাহীন অনুভুতিই জানিয়ে গেলাম .........
শেষ করার পর ভেবেছিলাম, ১৫/২০ মিনিট চোখ বন্ধ করে ঝিম মেরে বসে অতীতে ফিরে যাবো, কিন্তু এই ১৫/২০ মিনিট সময় নষ্ট করার মত বিলাসিতাটা আর করতে পারলাম না .......... জীবন কেমন যেন রবোটিক হয়ে যাচ্ছে দিন দিন
আহঃ ......... মনের গহীনের চাপা দেওয়া অনেক অতীত স্মরন করিয়ে দিলেন .............
লেখক বলেছেন: দেবদূত, ভাল থাকুন; যতখানি ভাল থাকা যায়।
কঁাকন বলেছেন:
অসাধারন লাগলোকোথায় যেন হারিয়ে গেলাম
হুতো ত্রভুজ বালিকা বা ব্যাঙাচি জীবনের কথা মনে পরে গেলো
প্রিয় পোস্ট
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ কাঁকন।
লেখক বলেছেন: শুভেচ্ছা জানবেন।
ত্রিভুজ বলেছেন:
হ্যাঁ, অসাধারন!
লেখক বলেছেন: ভাল লাগল আপনার মন্তব্য পেয়ে।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ প্রণব। ![]()
রিয়াজ শাহেদ বলেছেন:
হে হে আইসা গেছি!এই যে শক্তিমান লেখক, আমরা আপনার ওপর বড়ই বিরক্ত। আপনি কেনো আপনার এই অনবদ্য সৃষ্টিগুলোকে এক মলাটে নিয়ে আসার কোনো চেষ্টা করছেননা? এগুলো তো রীতিমতো কালজয়ী গল্প। শুধু ব্লগের গল্পকার হয়ে থাকতে দেবোনা আমরা আপনাকে।
লেখক বলেছেন: কয়েকদিন বাড়ীর বাইরে ছিলাম; খুব ঘোরাঘুরি করলাম। কালজয়ী গল্প! হায় হায়! কই যাই!
কংগ্রাচুলেশন। মিষ্টি পাওনা কিন্তু আমার।
রাশেদ বলেছেন:
পরে পড়বো মন দিয়ে। আসলে এক্ট খালি চোখ বুলাইছিলাম। ব্যস্ত আছি খুব।
লেখক বলেছেন: রাশেদ ভাই, সত্যি সত্যি আপনার মন্তব্যের জন্য অপেক্ষা করছি।
এরশাদ বাদশা বলেছেন:
আগাগোড়া চমৎকার ভাষার বুননে অনন্য একটি গল্প। স্ট্রেইটলি বলছি রিপন ভাই- ইউ আর গ্রেট!!! আমি এখন একটু একটু লজ্জাও পেতে শুরু করেছি- শেখার আগেই লিখতে শুরু করেছি বলে।
কবি-সাহিত্যিকরা নারীদের অনেক বিশেষনে বিশেষিত করে থাকেন। কিন্তু জ্যামিতিক ভাষায়(ত্রিভুজ, বর্গাকার) এর আগে কেউ করেছেন কিনা আমার জানা নেই।
এক কথায় অসাধারন!!!
নতুন লেখা দেন।
লেখক বলেছেন: এরশাদ ভাই, আপনার মন্তব্যে অনুপ্রাণিত হলাম।
আপনি বিনয়ী। কিন্তু নিজের প্রতি অবিচার করবেন না। আপনি ভাল লিখেন।
রাশেদ বলেছেন:
ভালো লাগছে। এইটার শুরুতে একদম খারাপ লাগে নাই। আর শব্দচয়নের কথা আর কি বলবো! সব সময়ের মতই এক্সিলেন্ট।
লেখক বলেছেন: রাশেদ ভাই, ভাল লাগল আপনার মন্তব্যে।
রাশেদ বলেছেন:
আর লেখাটা ভালো লাগছে, ছোটবেলা থেকেই আশেপাশের মেয়েদের সাথে তাকানো, লুকোচরি খেলা আর ছোট বেলার অনেক কিশোরের বড় হয়ে ওঠার গতিময় সিস্টেমটা তুলে ধরছেন তাই। সাথে অবহেলে তাকিয়ে থাকা বালিকাদের প্রতি ভুলে থাকা টানটাও আবার মনে পড়ার ব্যাপারটাও জটীল।
লেখক বলেছেন: আপনি চমৎকার করে কথাগুলো বললেন। আর কথাগুলোও বেশ! ছোট কিন্তু শক্তিশালী। আপনার ছেলেবেলা পাঠ করেও আমি আনন্দ পাই। এই গল্পটি লেখার সময় আপনার লেখাগুলোর কথা মনে হয়েছে।
লেখক বলেছেন: ![]()
রাশেদ বলেছেন:
তাই নাকি? থ্যাঙ্কস, অনেক খুশি হইছি শুনে। আপনার মত একজন লেখক আমার লেখাকে পাত্তা দিছেন। থ্যাঙ্কু থ্যাঙ্কু।
লেখক বলেছেন: শরম দেন ক্যান?
লেখক বলেছেন: 'কে কারে কি কয়!'... কতগুলা 'ক'! ![]()
রাশেদ বলেছেন:
কাকার কনিষ্ঠ কন্যা কাকারে কহিলো কাকা কাক কা কা করে কেন! কাকা কহিলো কাকা করাই কাকের কাজ! লেখক বলেছেন: তাইতো কই, আপনার লেখায় এতগুলা 'ক' ক্যান! ![]()
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ জেবীন।
লেখক বলেছেন: কা কা করেন কইছি? ![]()
লেখক বলেছেন: কা কা করাই কাকের কর্ম। ![]()
লেখক বলেছেন: কা কা করা কাকের কোষ্ঠ্য কাকার কাছে কাসুন্দি! ![]()
লেখক বলেছেন: আবার বানান ভুল- 'ঠ' না 'ক' হবে। ![]()
রোবোট বলেছেন:
কাকলির কমল কাকা কাকলির কাছে ককিয়া ককিয়া কহিল কলকাতায় কাচ কারখানার কাজে কত কষ্ট। কাকলি কাশি্তে কাশিতে কহিল, কেমতে কি?লেখক বলেছেন: কয় কি! কঠিন, কটঠিন। ![]()
শান্তির দেবদূত বলেছেন:
রোবটের কমেন্ট পড়ে হাসতেই আছি ... হা হা হা ...... নাম রোবট হলে কি হবে মনে হচ্ছে রসে হাঁড়ী বস্
লেখক বলেছেন: হাঁটি হামাগুড়ি দিয়ে, পদধূলি পাব কোথায়? ![]()
লেখক বলেছেন: বেশ রসিকতো আপনি! চমৎকার।
লেখক বলেছেন: লিখব। খুব তাড়াতাড়ি। কেমন আছেন?
লেখক বলেছেন: 'ঢেউ তোলা দিনকাল' কথাটি দারুনতো!
যীশূ বলেছেন:
দারুন লেখা। দারুন শৈশব!
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ যীশূ।
কোলাহল বলেছেন:
আপনা















