আমার প্রিয় পোস্ট
- কিছু দেশের গান (রিঃপোষ্ট) - একলা একজন
- চার পাঁচ হাজার পিঁপড়ার দুঃখ - সরকার আমিন ১৯৬৭
- বিদ্যাকূটে যাওয়া না-যাওয়া নিয়ে একটা গল্পের ভণিতা - সুমন রহমান
- ক্রমশ নির্মীয়মান দৃশ্য কিংবা চরিত্রের গল্প - ছন্নছাড়ার পেন্সিল
- নেশা অথবা নিশির টান; বাইসন... এইসব - মাজুল হাসান
- 'আমরা দুজনে মিলে শূন্য করে চলে যাব জীবনের প্রচুর ভাঁড়ার' - আহমাদ মোস্তফা কামাল
- জীবনানন্দ দাশ : কবিতায় খুঁজি বাংলার রূপ - একরামুল হক শামীম
- চিলেকোঠার সানাই - আজহার ফরহাদ
- শুয়ে থাকার কাল - মানস চৌধুরী
- আরিফুল হোসেন তুহিনের অসামান্য উদ্যোগে সামান্য ভূমিকা রাখতে চাচ্ছি - রিয়াজ শাহেদ
- আজ রাতে কোথায় ঘুমাবো? - মাহবুব মোর্শেদ
- `রবীন্দ্রচর্চার জন্য সবার আগে প্রেমিক হতে হবে'- আবদুল মান্নান সৈয়দ - েফরদৌস মাহমুদ
- আমি পান্ডিত্যের কাঁফনে মোড়া এক শাস্ত্রীয় শকুন - সামী মিয়াদাদ
- খেরোখাতার আসন্ন পৃষ্ঠাটি - রহমান হেনরী
- মুক্তিযুদ্ধের কিছু প্রামান্য বইয়ের তালিকা - ফারহান দাউদ
- মনে হয় যেন লেখার সময় অন্য কারো করতলে ছিলাম-- মাহমুদুল হক - আহমাদ মোস্তফা কামাল
- ভিনদেশী কবিতা : হাহাকার, তবু এক অচিন-আনন্দময় যাত্রা-১ - মাজুল হাসান
- আমার ছবি কইবে কথা যখন আমি থাকবো না---- (উৎসর্গ : প্রথম আর দ্বিতীয় হওয়া সকল পরীক্ষার্থী) - মেহরাব শাহরিয়ার
- নবীনদের জন্য - নাদান
- কেন লেখেন? - আহমাদ মোস্তফা কামাল
- আস্তিক-নাস্তিক-সংশয়ী এবং তাদের ঈশ্বর - আহমাদ মোস্তফা কামাল
- "গণহত্যা": এ্যান্থনি মাসকারেনহাসের অবশ্যপাঠ্য প্রতিবেদন, ৩য় অংশ (বিদেশী পত্রিকায় মুক্তিযুদ্ধ, পর্ব ৩২) - ফাহমিদুল হক
- সিদ্ধার্থ, নির্বাণের পথ (সিরাতুল মোস্তাকিম) নিজেকেই খুঁজে নিতে হয়। - নাজিম উদদীন
- জল প্রিজমের গান - মৃদুল মাহবুব
- এসো ৭১ এর গল্প শোনাই সবাই মিলে - জ্বিনের বাদশা
- আমাদের টমি আর শের আলীর গল্প - এস্কিমো
- পাকিস্থানি কুলাংগারদের বর্বরতা-একটি ঐতিহাসিক ভিডিও ক্লিপ - না বলা কথা
- না এলেই ভালো হতো...! - আহমাদ মোস্তফা কামাল
- "চলচ্চিত্র সমাজ পরিবর্তন করতে পারে না, কখনো করেও নি" -- সত্যজিৎ রায়ের সাক্ষাৎকার - ফাহমিদুল হক
- বীভৎস যৌন নির্যাতন, কিন্তু এড়িয়ে গেছেন সবাই - শেরিফ আল সায়ার
- "পুরনো পাকিস্তানের সমাপ্তি": বিদেশী পত্রিকায় মুক্তিযুদ্ধ, পর্ব ১৩ - ফাহমিদুল হক
- জীবন একটা গম্ভীর বিদ্রুপ! - আহমাদ মোস্তফা কামাল
- আমার নিরন্তর মুসলমান হয়ে ওঠা - সামী মিয়াদাদ
গল্পঃ বাথরুমে গণতন্ত্রের পতনে শ্যাওড়াপাড়ার মানুষেরা যা করে
১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ১:৫৩
![]()
আপনার নীল শার্টের বগলে ঘাম শুকিয়ে বাংলাদেশের মানচিত্র উৎপন্ন হয় বলেই ভাববেন না- খুব দেশপ্রেমিক হয়ে গেছেন।
আয়নার নিজেকে দেখেছেন, কিন্তু আয়নার সামনের মানুষটিকে লক্ষ্য করেছেন কোনদিন? শ্যাওড়াপাড়া ওভার-ব্রিজের নীচে বাসের হাতলের জন্য খামচা-খামচি করে- যে আপনি আঙ্গুল ক্ষয় করে ফেলেছেন, তাকে চিনতে আপনার কষ্ট হবারই কথা। যখন বা-কান, আর ডান-হাটুর যন্ত্রণায় জাতি কোমর সোজা করতে পারছে না, তখন মেরুদণ্ডের ষোল না-কি ছাব্বিশ নম্বর হাড়ের স্থানচ্যূতির সংবাদে জাতীয়তাবাদী চেতনা খাড়া হয়ে উঠলে- আপনি নিজের মাজা-ব্যথার কথা ভুলে গেছেন; তারপরেও আপনি বাস ধরতে পারেননি।
আপনি যখন প্যাণ্টের পকেটে হাত দিয়ে বে-সাইজ জাঙ্গীয়ার নীচে কুচকি চুলকাচ্ছেন, আর নিজেকে জুয়েল আইচ ভাবছেন, তখনো খেয়াল করেননি- জুলফি বেয়ে চিড়বিড় করে যে ঘাম নামছে, তা আপনার গ্রামের কুমার নদের মতোই দেখতে; যার একপাশে চকবাজারের মুসুল্লিরা ওজু করে, অন্যপাশে হাজি শরিয়তুল্লাহ বাজারের বেশ্যারা গতর ডলে। লাইফ বয় সাবানে মুসুল্লি আর বেশ্যাদের গন্ধ দূর করলেও- সকাল আটটায় শ্যাওড়াপাড়া বাসস্ট্যাণ্ডে আসলেই আপনার পিঠে ঘামের গন্ধে আগরবাতি-টুপি-দাড়ি জন্ম নিবে। আমি নিশ্চিত না- পিঠে টুপি-দাড়ি জন্মে কি-না! তবে আপনার ঘামের ধারায়- ঢাকা ওয়াসা শংকিত হয়ে বহুবার মিরপুর ত্যাগ করেছে, এমন প্রমান আছে। আপনার স্ত্রী শ্যাওলা-জমা ড্রামে ক্ষণিকের জলস্রাব ধরে রাখেন, তাই আপনি হরতালের দিনে দিগম্বর আলমের হাতে ঠিকসময়ে পৌঁছাতে পারেন। আর বিবস্ত্র আপনি, ক্যামেরাবন্দি হন বলেই, বাংলাদেশে গণতন্ত্র বেঁচে যায়।
বাসযাত্রীদের বাড়ন্ত লেজে দাঁড়িয়ে, আপনি স্ফিত মূত্রথলিকে ভুলে থাকার কৌশল রপ্ত করেছেন বলেই জানেন না, ন্যাম-ফ্লাটের বহুমূত্র-রোগীদের কত শর্করা জমেছে শ্যাওড়া পাড়ার ড্রেনে। ম্যানহোলের হা-করা মুখে ভাসমান কনডোমের মিছিল দেখে প্রীত হয়েছেন জেনেই- বিশ্বব্যাংক আপনার পিঠ চাপড়ে দিয়েছে। রাতে ঘুমানোর আগে, বাসের দুর্লভ পাদানির কথা ভুলে গেলে- আপনার স্ত্রী গর্ভবতী হয়ে ওঠেন; এবং ফি-বছর নৌকা আর ধানেরশীষের ভোটার উৎপাদন নিশ্চিত করেন। এতকিছুর পরেও আপনি নিশ্চিত হতে পারেন না, আজ বাথরুমে কেউ আছাড় খাবে কি-না! নৌকা-লাঙ্গল-দাড়িপাল্লা-ধানেরশীষ টাট্টিখানায় পিছলে পড়লে, স্ত্রীর কপাল পুড়বে জেনেও আপনি শ্যাওড়াপাড়া বাসস্ট্যাণ্ডে দাঁড়িয়ে আছেন!
আপনি ইষ্ট-ইণ্ডিয়া কোম্পানির গল্প শুনে ভেবেছেন- রাজনীতির ডিসকোর্স বুঝে গেছেন! আপনি বৈশ্বিক-রাজনীতি বুঝলেও- শ্যাওড়াপাড়া থেকে মতিঝিলে যাওয়ার উপায় জানেন না। কোলগেট টুথপেষ্টে যতো ফেনা তৈরী হয়, আপনার কর্পোরেট, কর্পোরেট জিকিরে তারও বেশী ফেনা উঠেছে। জেনে রাখুন, রাজনীতির নর্দমায়- কর্পোরেট-ভূত আপনার দাম্পত্যক্রিয়ার সময়টাকে সংক্ষিপ্ত করেছে মাত্র।
আপনি কর্পোরেট আতংকে ভুগছেন, কারণ, রাষ্ট্রকে মালিকানাহীন মুদি দোকানের চেয়ে বেশী কিছু ভাবতে পারেননি আজ অব্দি। সত্যি কথা বলতে কি, রাষ্ট্রকে আপনি মুদিদোকানও ভাবেন নি; গনিমতের মাল ভেবেছেন। গনিমতের রাষ্ট্রে চৌর্যবৃত্তিকে ন্যায্য রাজনৈতিক দাবী জেনেছেন বলেই, নিজের আমবাতের কথা ভুলে দেশপ্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছেন; আর আশা করেছেন, সকাল নয়টার আগেই অফিসে পৌঁছাতে পারবেন।
পাইকপাড়ার রিক্সাওয়ালাকে ধমক দিয়ে শ্যাওড়াপাড়ায় আনা যায়, কিন্তু পায়ে ধরেও শ্যাওড়াপাড়ার স্কুটারকে মতিঝিলে নেয়া যায়না, আপনি ভালোই জানেন। আপনি আরো জানেন, পরিবহন মালিক সমিতি আপনার সরকারের চেয়ে শক্তিশালী। আপনি নিজেকে যেমন প্রতারিত ভাবেন, আপনার রাষ্ট্র তেমনি নিজেকে আন্তর্জাতিক চক্রান্তের শিকার মনে করে এবং আপনি তা বিশ্বাস করতে পছন্দ করেন। বাংলাদেশ সরকারকে মাফিয়ার সহযোগী প্রতিষ্ঠান জেনেও আপনি ঘণ্টাখানেক ধরে বাসস্ট্যাণ্ডে দাঁড়িয়ে আছেন এবং গণতন্ত্র ছিঁড়ে আঁটি বাঁধছেন।
আপনার সামনে যে দাঁড়িয়ে আছে, মাঝে মাঝে ঘাড় ঘুরিয়ে ইতিউতি করছে, জানেন কি- মতিঝিল যাওয়ার তার কোন ঠেকা পড়েছে আজ? অন্ততঃ আজকে- টয়লেটে গণতন্ত্রের মাথাঘুরে পড়ে যাওয়ার এই দিনে! লুঙ্গিপরে কারা মতিঝিলের ভীড় বাড়ায়, তা জানেন?
রাস্তার পাশে ঝপ করে বসেই- মূত্রত্যাগে লুঙ্গির কোন বিকল্প পোষাক তৈরী হয়নি দেশে; কার্যকর ব্যবস্থাও নয়। বাংলাদেশে কয়টা পাকা-পায়খানা দরকার, সে হিসাব এডিবি জানলেও- জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল ব্যুরো জানে না। শ্যাওড়াপাড়া বাসস্ট্যাণ্ডে পেটফাটা প্রশ্রাব নিয়ে মানুষ কি করে? ওই লুঙ্গিপরা লোকটা মুখে বিড়ি ঝুলিয়ে ঠিক বুঝে উঠতে পারছে না- বিড়ি ধরাবে কি ধরাবে না, আর তাতেই আপনার উসখুস দ্বিগুন হয়েছে। না-কি একই রকম মধ্যচাপে আপনিও আক্রান্ত?
'ভাই আমার জায়গাটা দেইখেন', বলে লোকটা হাতখানেক দূরে, ড্রেনের পাশে বসে পড়ে। আপনি কিছু শোনেননি ভাব নিয়ে শ্যাওড়াপাড়া মসজিদের দিকে তাকিয়ে থাকলেও, লুঙ্গিপরা লোকটা ঘাড় ঘুরিয়ে নিশ্চিত হতে চায়- তার জায়গাটা বেদখল হয়নি। প্রশ্রাব শেষ করে লোকটা বিড়ি ধরায়, আপনার দিকে তাকিয়ে হাসে। যান না, আপনিও বসে পড়ুন! পৃথিবীর তিনভাগ জলে ক' ফোটা মূত্র যোগ করে, গোল্ডলিফে টান দিন- ভাল লাগবে।
আপনি জানেন, ঢিলা-কুলুপ না করেই লোকটা লাইনে ফিরে আসবে, খাজুরে গল্প শুরু করবে। আরো একটা বিআরটিসি ফোঁস করে বেড়িয়ে গেলে, আপনাকে অব্যর্থ প্রমান করে সে বলে ওঠে, 'যা দিনকাল পরছে!' এইসব লুঙ্গিপরা লোকজন ব্যারেল প্রতি ডিজেলের দাম জানেনা, রাজনীতির জ্যামিতিতে বাংলাদেশ-ভারত-পাকিস্থান চেনেনা, মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি বোঝেনা, বোঝে খালি নাজিরশাইল চালের দাম। এদের সাথে কথা বলা বৃথা জেনেও, আপনি নাক দিয়ে ভোঁশ করেন; আর তাতেই লোকটা আস্কারা পেয়ে যায় এবং বলে, 'কাঁচামরিচেরও দাম ডাবল হয়ে গেছে!' কী মুশকিল! কাঁচামরিচ কী অন্যায় করেছে যে, এর দাম বাড়তে পারবেনা! সকাল পৌনে নয়টায় এসব খুচরা পিরিতের আলাপ আর যার সাথেই হোক, শ্যাওড়াপাড়া বাসস্ট্যাণ্ডে হাটুঅব্দি লুঙ্গি টেনে রাখা লোকের সাথে হয়না। 'আরে মিয়া, সারা দুনিয়াতেই জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে', লাইনের আগা-না-মাথা থেকে কে একজন উত্তর দিলে, আপনি ভাবেন- লুঙ্গিপরার হাত থেকে বেশ মুক্তি পেয়ে গেলেন!
এই শ্যাওড়াপাড়ায় পৌঁছেই আপনি ভুলে যান- যুদ্ধাপরাধীনামক চর্মরোগের কথা। শীতকালে, আর নির্বাচনের আগে এই রোগের প্রকোপ এতোই প্রবল হয় যে, আপনি নিজের পিঠ বাঁচানোর ভুলে- খ্যাস খ্যাস করে দেশের চামড়া তুলে ফেলেন; নিজেকে দেশপ্রেমিক ভাবেন। নৌকা-দাড়িপাল্লার কোলাকুলিকে লুঙ্গিপরা লোকজনের কাছে রাজনৈতিক কৌশল বলে প্রচার করেন বলেই, আপনার পিঠে স্বাধীনতাবিরোধীরা লাথি মেরে মজা পায়।
আপনি জানেন না, ইসলামী-জোশ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট থেকে আপনার ঘরে ঢুকেছে বলেই, জানালা দিয়ে ধর্ম পালিয়ে গেছে। আপনি এখনো বিশ্বাস করেন না, বায়তুল মোকাররম মূলতঃ নিমের মেছওয়াক, আর আতর বেপারীদের জন্য তৈরী করা হয়েছিল, ইদানিং যারা কিস্তিটুপিও বিক্রি করে। আবার আপনার রাজনীতির ডিসকোর্সে টান পরলো, তাইনা? আপনার ধর্ম বিশ্বাস আর রাজনীতি এতো সহজে টান খায় বলেই, শরম ভুলে আপনি ড্রেনের পাশে শিশ্ন ঝুলিয়ে দেন; আর প্রকৃতির ডাক আধা-আধিতে পৌছালে বুঝতে পারেন- এত নির্ভার শান্তি পরস্ত্রীতেও লাভ করেননি। আপনি সিগারেটে টান দিতেই লুঙ্গিওয়ালা ময়লা দাঁতে হাসে এবং আর্কিমিডিসের মতো উল্লম্ফ আনন্দবার্তা ঘোষনা করে, 'ভাইজান, বাস আইছে।' আপনি ক্ষয়ে যাওয়া খাটো আঙ্গুলে বাসের হাতল ধরার আগেই আরো সুসংবাদ শুনতে পান, 'পিছে বাড়েন, সিট খালি।' বাসযুদ্ধে রাজ্য আর রাজকণ্যা লাভের আনন্দ নিয়ে আপনি আর লুঙ্গিপরা পাশাপাশি বসে থাকেন।
'ভাইজানের কোন অফিস?' লুঙ্গিওয়ালার পিতলা খাতির জমানোর চেষ্টায় আপনি বিরক্ত হলেও উত্তর দেন। কেন দেন উত্তর? আপনারা দু'জন একসাথে শ্যাওড়াপাড়া থেকে মতিঝিলে যাচ্ছেন বলে? না-কি কলেজে উঠে কার্ল মার্কস অধ্যয়ন করেছেন, সেজন্যে? মনে রাখবেন, মার্কস-এঙ্গেলস আপনার ফার্মগেটের ট্রাফিক পুলিশ না যে, আপনি না-ফস্কানো ট্রাফিক-জ্যামের আটকা গেঁড়োতে পড়বেন না। অবস্থাটা এমনই যে, কমরেড মণি সিংহ আর ভ্লাদিমির লেনিন বেতিয়েও ঢাকার সড়ক ব্যবস্থাকে মানুষ বানাতে পারবেন না। কোথায় লুকাবে দেঢ় কোটি পাকস্থলিওয়ালা এই শহর? এতকিছু ভাববেন না। শুধু মনে রাখুন, এই যান-সমাবেশ আগারগাঁও থেকে কান্দুপট্টিতে বিস্তৃত। সুতরাং লুঙ্গিপরার সাথে কথা বলুন, সময় কেটে যাবে।
'সিএনজি'র একটা লাইসেন্স বাইর করছি। নগদ ক্যাশ-টাকা দিলে আইজ-ই হাতে পামু।' লুঙ্গিওয়ালার গল্পের দানা পরতে শুরু করেছে মাত্র। আপনিও চালিয়ে যান; জীবনের কোনো অভিজ্ঞতা ফেলনা নয়। এই যে লোকটা কথা বলতে বলতে কোমরে হাত দিল, কি যেন খোঁজার চেষ্টা করল; আর কিছু একটাতে নিশ্চিত হয়ে আইডিবি ভবনের দিকে তাকিয়ে রইল- কি বুঝলেন এই ঘটনায়? যে লোক নগদ টাকা দিয়ে স্কুটার চালানোর লাইসেন্স আনতে যাচ্ছে, তার কোমরে টাকা থাকতেই পারে। লুঙ্গিপরা লোকজন ডঃ ইউনুসের নোবেল প্রাপ্তির খবর না শুনতে পারে, সৌদি যুবরাজ রূপালি ব্যাংক কিনলো কি কিনলো না- তাও না জানতে পারে; কিন্তু ঘুষের টাকা কোমরে বেঁধে মতিঝিলে যেতে পারবেনা, তাতো নয়!
আপনি বুঝে গেছেন, ডারউইনের লেজ-খসা বানরেরা- জনগণের মাথায় বসে কলা ছিলছে। কিন্তু এই লুঙ্গিপরাদের মতোই আপনিও বুঝেননি, রাজনীতিতে কে কার চামড়া ছিলে কতটুকু লবন ঘষছে; আর সে লবন আয়োডিনযুক্ত কি-না! আপনিতো রাজনীতির বাতচিতে হেরে গেলে ঘোষনা করেন, 'আমি কোন দল করি না।' তাহলে কি করেন আপনি? আপনি কি আব্দুল গাফফার চৌধুরী; রাজনীতির বিবেক? জানবেন যে, রাজনীতির বিবেকেরা টাইফয়েড আক্রান্ত, ডায়রিয়াগ্রস্ত এবং বাথরুমে পতনশীল। আপনার সাথে তাদের পার্থক্য এই, আপনার দারা-পুত্র-পরিবার এইসব রোগে ভুগলে দেশের গণতন্ত্রে বিদেশী সাহায্য জোটে এবং ওরা ক্বচিৎ আক্রান্ত হলে- মানুষ খুন হয়, দেশের সার্বভৌমত্ব বিনষ্ট হয়। সেহেতু, সমাধান একটাই বিদেশী সাহায্য নিশ্চিত করুন এবং রাজনীতির বাথরুম অপিচ্ছিল রাখুন।
'ভাইজান কি টিফিন নিয়া অফিসে যান?' রাস্তার পাশে বস্ত্রবালিকাদের স্রোত এবং সাতদিনে মালয়েশিয়ার ভাষা শেখার বিজ্ঞাপন পাঠের চাইতে- লুঙ্গিপরা লোকটির আগ্রহ আপনার টিফিন-বক্সে গেল বলে অবাক হবেন না। দুনিয়ার অনেক মানুষই সকাল সোয়া-নয়টায় ভাত খায়, আর তাদের আগ্রহ ভাতকেন্দ্রিক জীবনযাপনে। আপনি এই কথার উত্তর না-দিন, অন্ততঃ টিফিন-বক্সটিকে লোকটির চোখের আড়াল করুন। খাবারে অন্যের চোখ গেলে পেট-খারাপ হয়, ভুলে যাবেন না। তার ওপর আপনি আমাশয়ের রোগী। শ্যাওড়াপাড়ার কোন মানুষটি আমহীন-প্রাতঃকৃত্য সারে, বলতে পারেন? জেনে আনন্দিত হবেন, দেশের মেজর জেনারেলরাও আপনার মতোই ফ্লাজিল ভক্ত।
বিজয় স্মরণীর মোড়ে মিছিল না-কি! না-কি পশ্চিম নাখালপাড়ার গার্মেণ্টস কর্মীরা দেলোয়ার হোসেন ঝণ্টুর ছবি দেখতে যাচ্ছে? এ শহরে যা-ই হোক, মিছিল জন্ম নেয়। এইসব মিছিল দেখে দেখে অভ্যস্ত বলেই- ধানমণ্ডির বত্রিশ নম্বর বাড়ীতে শেখ মুজিবের লাশ পরে থাকে; চট্টগ্রামের কোন এক টিলায় মেজর জিয়াকে পুতে রাখা হয়। আপনি জানেন, কিন্তু মানতে চান না, নিজের বউয়ের জন্য যে কারণে কেউ জামাই খোঁজেনা, সে কারণেই এদেশে কোন খুনের বিচার হয়না। আবার এটাও ভালোই বোঝেন, এসবের বিচার হলে রাজনীতি করবেন কি নিয়ে? তারচেয়ে বরং বঙ্গবন্ধুর লাশের ওজন জাতির জন্য বহনযোগ্য কি-না, আর শহীদ জিয়ার মাজারে কার কংকাল আছে- তা নিয়ে গবেষণা করুন, বিনোদন পাবেন। কার উঠানে কতো টিন লুকানো, কার ঘোড়া রিলিফের বিস্কুট খেয়ে মানুষ হয়েছে- এসব গল্প আপনি একদিন ভুলে যাবেন; কিন্তু জেলের ভেতরে খুন হওয়া চার নেতা- রম্বস হয়ে ঠিকই ঝুলে থাকবেন হাইকোর্টের দাড়িপাল্লায়।
'ভাইজান মিছিল আসে', লুঙ্গিওয়ালা আপনার চোখকে মিছিলে টেনে আনে বলেই- আপনি শংকিত হন। ইত্তেফাকের আট-কলামের হেডিংয়ে- মিছিলের মুখ ভালোই লাগে আপনার। কিন্তু সংবাদ শিরোনাম হওয়ার আতংক বড় করুণ, বড় দুঃসাহসের। সে সাহস নেই বলেই, আপনিও লুঙ্গিওয়ালার মতো পালাবার পথ হাতড়ান। পালাবেন কোথায় আপনি? সংসদ ভবনতো আপনার জন্য সংরক্ষিত নয়, চন্দ্রিমা উদ্যানো না। বরিশালের মাহবুবের মতো- প্লেনের চাকার খোলে লুকাবেন? সে পথও বন্ধ; ঢাকার উড়োজাহাজ কুর্মিটোলা পরিত্যাগ করেছে। সেহেতু, আজকের দিনের তাজা-খবর হয়ে ওঠার প্রস্তুতি নিন।
দেশের গণতন্ত্র আজো বুঝি বাথরুমে আছাড় খেয়েছে! লুঙ্গিপরা লোকটি আপনার আগেই এ দুঃসংবাদ আন্দাজ করে- জানালা দিয়ে লাফিয়ে নেমেছে রাস্তায়। কারা লুঙ্গিপরে মতিঝিলে যায়, জানেন না-কি? এসব লোকেরা জান হাতে নিয়ে পালিয়ে বাঁচে বলেই, বাসের সিটে হাজার তিনেক টাকা পড়ে থাকে। তুলে নিন না টাকাটা! ধরা পরে গেলে ট্রুথ-কমিশনে ফেরত দিয়ে দেবেন।
শুনুন, সময়মতো সীদ্ধান্ত না নিলে- আধলা ইট আপনার কপালে সুড়কি হবে। পালান। টাকাটা নিয়েছেন তো? আবার কি হলো? টিফিন বক্সটা খুঁজে পাচ্ছেন না! ওটা লুঙ্গির সাথে জানালা গলে পালিয়েছে। অবাক হবেন না, শ্যাওড়াপাড়ার লুঙ্গিওয়ালারা ভাতই চিনেছে শুধু।
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): ছোটগল্প, বাথরুমে গণতন্ত্রের পতনে শ্যাওড়াপাড়ার মানুষেরা যা করে, মোস্তাফিজ রিপন ;
প্রকাশ করা হয়েছে: গল্প বিভাগে ।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ শান্ত।
একরামুল হক শামীম বলেছেন:
আপনার গল্প বরাবরই ভালো লাগে মোস্তাফিজ ভাই।
লেখক বলেছেন: শামীম ভাই, প্রাণিত হই আপনার কমেণ্ট পেলে।
শয়তান বলেছেন:
অসাধারন সময়ের প্রতিবিম্ব ।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: মাঝে মাঝে ছোট বচন লিখি। জমা হোক কিছু, এক সাথে পোষ্ট করবো। গল্পটা কেমন লাগলো ফারহান ভাই?
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ ফারহান।
অরুনাভ বলেছেন:
ভালো.........
লেখক বলেছেন: প্রীত হলাম জেনে।
এরশাদ বাদশা বলেছেন:
ওরেব্বাপস্!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!বস, আমি তো হাবুডুবু খেতে খেতেই লেখাটা পড়লাম!!!!!
সিম্পলি মাইন্ড ব্লোয়িং!!!!!!!!!!!!
লেখক বলেছেন: খুশি হলাম আপনার মন্তব্যে। অনেক খুশি।
ডগরোজ বলেছেন:
আপনার লেখাটা চমৎকার। বিশ্লেষণ অভাবনীয়। সেলাম।
লেখক বলেছেন: আপনার জন্য শুভেচ্ছা রইলো।
জাজাবর পাখি বলেছেন:
চমৎকার
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।
নাজিম উদদীন বলেছেন:
আপনার লেখা বর্তমান সময়ের দর্পণ। টিকিট সিস্টেম থাকার পরেও কি বাসে হাতলে ঝুলতে হয়?
লেখক বলেছেন: টিকেট সিস্টেম বলেইতো, 'পিছে বাড়েন, সীট খালি।' আর এর আগেই বাসের হাতলের জন্য খামচা-খামচি করে আঙ্গুল ক্ষয়ে গেছে যে!
লেখক বলেছেন: আন্দালিব, আমরা রাজনীতির অর্থহীন অপচয়ের মধ্যদিয়ে জীবনপাত করি। একটা ঝাঁকুনি দরকার আমাদের। খুব বড় ঝাঁকুনি। কয়েকদিন আগে Blood Diamond- ছবিটা দেখলাম। আমাদের জীবনও সে ছবি থেকে আলাদা কিছু না। তারপরও আলো খুঁজি আমরা। নিয়ম করেই আলো খুঁজি।
কঁাকন বলেছেন:
অসাধারন
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ, কাঁকন।
এস্কিমো বলেছেন:
অনেক দিন পর একটা সুস্বাদু লেখা পড়লাম। প্রতিটি লাইনই উপভোগ্য। আপনার লেখনীর সাফল্য কামনা করছি। ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ। আপনার শুভকামনায় অনুপ্রাণিত হয়েছি। ভাল থাকবেন।
না বলা কথা বলেছেন:
বেশী প্যাচানো হইছে, অথবা আমার মাথা কাজ করে নাই, ২য় টা হইবার সম্ভাবানই বেশি।
লেখক বলেছেন: আপনার মাথার দোষ নেই; লেখাটাই প্যাচানো। আর বুঝতেই হবে এমন কোন কথাও নেই কিন্তু! (উত্তরেও প্যাচ দিলাম
)
প্রণব আচার্য বলেছেন:
অসাধারন অসাধারন
লেখক বলেছেন: ওহে কবি, ম্যালা ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: ভাল আছি নুশেরা। এই বেশ ভাল আছি!
লেখক বলেছেন: খাইছেরে...
সীমান্ত আহমেদ বলেছেন:
লেখাটা অন্যরকম। ভালো লাগলো হাসি পেল না কষ্ট লাগলো নাকি সবগুলোই বুঝতেসি না। অসম্ভব সুন্দর প্রকাশ।অনেক ভালো লাগলো।
ভালো থাকবেন ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: আপনিও ভালো থাকবেন।
অনিশ্চিত বলেছেন:
বাথরুমে গণতন্ত্রের পতনে শ্যাওড়াপাড়ার মানুষেরা যা করে.. কী আর করবে! শেওড়া গাছের নিচে যায়, ভূত খোঁজে... ওদের মধ্যেও যা হোক একটা গণতন্ত্র আছে... সেটা দেখে আর আফসোস করে...লেখক বলেছেন: আমরা কি সত্যিই কোন কিছু নিয়ে আফসোস করি?
মুনীর উদ্দীন শামীম বলেছেন:
কয়েক লাইন পড়লাম...পড়ার আগ্রহটা বেড়ে গেছে কিন্তু সময়ের অভাব বলে সোজা সোকেসে তুলে রাখলাম এবং প্লাস
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ শামীম। সবটুকু পড়ে কেমন লাগলো জানালে খুশি হব।
পারভেজ বলেছেন:
অনেকগুলি প্রসঙ্গ চলে এসেছে, কিছুটা সময় নিয়ে আবার পড়তে চাই। আপনার লেখার ধরণটা আলাদা করেই ধরা পরে।
লেখক বলেছেন: আসলে প্রসঙ্গ কিন্তু একটাই- এসব আমরা কী করছি! কোথায় দাঁড়িয়ে আছি আমরা?
সব কিছুর পরেও ভাল থাকুন; যতখানি ভাল থাকা যায়।
বিগব্যাং বলেছেন:
আপনার ব্লগ আমি শুরু থেকেই নিয়মিত পড়ি...একটা বিশেষ ভয়ে কখনো কমেন্ট করার সাহস পাইনি (কিছুদিন যাবত কেবল চুপেচাপে প্লাস দ্যায়া শুরু করেছি)...কিন্তু এবার যেভাবে ফাটায়া ফালাইছেন, তাতে আর...আপনার সব লেখাই ভালো...আপনার সব লেখাতে (এইটাতে না) যে শিথিলায়ন / আচ্ছন্নতা সক্রিয় থাকে, তা তৈরি করা ও পাব্লিককে সেই গর্তে ফালায়া দেয়া; দুইটাই কঠিন কাজ (কারণ এই কাজ অতীতে অনেকে সাফল্যের সাথে করে ধরাধাম ছেড়েছেন, ফলে রিপিটেশনের ঝুকি থেকে যায়)...আপনি পুরা দশে দশ...আপনার স্টাইলটা হুবহু মুস্তাফিজ রিপনের স্টাইলের সাথে মিলে যায়...আপনার আগাগোড়া সাফল্য কাম্য...
লেখক বলেছেন:
কমেণ্ট করবার সাহস পাননি কেন? ভয় পেয়ো না, ভয় পেয়োনা তোমায় আমি মারবো না... ![]()
বরাবরই আপনার মন্তব্য আমি উপভোগ করি। আপনারও সফলতা আসুক।
বিগব্যাং বলেছেন:
মুস্তাফিজ=মোস্তাফিজ (বানান ভুলের জন্য দুখিত)
লেখক বলেছেন: এহেরে! আমায় এত 'দুঃখ' দিলি বন্ধুরে...
আরিফ জেবতিক বলেছেন:
আরে দারুণ ! ডাইরেক্ট প্রিয় পোস্ট ।
লেখক বলেছেন: আরিফ ভাই, খুব সম্ভবতঃ আমার ব্লগে এটাই আপনার প্রথম মন্তব্য। খুব খুশি হয়েছি আপনাকে দেখে।
ফাহমিদুল হক বলেছেন:
মোস্তাফিজ রিপন বাংলা কথাসাহিত্যের উদীয়মান কথক।শিরোনামটায় শহিদুল জহিরের প্রভাব আছে কি? ভাষাভঙ্গীতেও? 'আগারগাঁও কলোনীতে নয়নতারা ফুল' বা এরকম একটা গল্প আছে তার।
একেকটি বাক্য খুব কমপ্যাক্ট, এবং এক প্রসঙ্গে স্থির থাকেনা। ফলে মূল 'গল্প'পাঠে ব্যাঘাত ঘটে। তবে মূল গল্প যদি কেবলই 'বাসে একজন লুঙওয়ালার সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং অগোচরে পারস্পরিক সম্পদ বিনিময়'মাত্র হয়, তবে বহুপ্রসঙ্গের অবতারণা হতেই পারে।
প্রসঙ্গের বিক্ষিপ্ততা কম থাকলে আরও ভালো হতো কিনা তাই ভাবছি।
লেখক বলেছেন: ফাহমিদ ভাই, আপনার প্রথম মন্তব্যে কী বলবো! খুশি হয়েছি, আবার নিজেকে ধৃষ্টও মনে হচ্ছে।
'আগারগাঁও কলোনীতে নয়নতারা ফুল' আমার পড়া হয়নি। আসলে আমি এতই কম পড়েছি জীবনে, মাঝে মাঝে লজ্জাও লাগে।
গল্পটিতে অনেক প্রসঙ্গ এসেছে; আর প্রসঙ্গান্তরো ঘটেছে দ্রুত। এতে পাঠকের মনযোগ নষ্ট হতে পারে- আমি লিখতে লিখতে ভাবছিলাম কথাগুলো। কিন্তু এভাবে লিখে মজা পাচ্ছিলাম যে! মজা পাওয়ার লোভ সামলাতে পারিনি। আবার, আমার বাক্যগুলোও কেমন যেন দীর্ঘ হয়ে যায়! তবে, মনোযোগী পাঠকের প্রতি আমার আস্থাও কম নয়।
আপনার আরো কিছু নতুন গল্প পোষ্ট করুন না, প্লিজ।
বিগব্যাং বলেছেন:
মজা হলো; শুধু শহীদুল জহির না...মনে করেন, মামুন হুসাইন বা পারভেজ হোসেন বা আরো কারো কারো কথা মনে আসতে পারে...ব্যাপার না..."বিক্ষিপ্ততা কম থাকলে আরও ভালো হতো কিনা তাই ভাবছি। "
সেক্ষেত্রে বরং আমরা প্রভাব বিষয়ক অভিযোগ জোরেশরে করতে পারতাম...আমি বলতে চাচ্ছি, এর ফলেই এই লেখক শহীদুল জহির থেকে সামান্য ফারাকে...
লেখক বলেছেন: এতই কম পড়েছি জীবনে! থাকিও পাণ্ডব-বর্জিত জঙ্গলে। আপনার কমেণ্ট পড়ে বুঝতে পারছি- গ্রেট মেন থিংক এলাইক
আসলেই অনেক পড়াশুনা করে হবে।
লেখাটি কীভাবে রচিত হলো জানতে খুবই ইচ্ছা হচ্ছে!!
লেখক বলেছেন: 'আয়রনি'!
কিভাবে রচিত হলো? আমি জানিনা। হয়তো, রোজার দিনে সমবয়সী রিক্সাওয়ালার কালো চামড়া দেখে যে যুবক এইসব দিনরাত্রীর অর্থ খোঁজে; যে তরুণের কর্নেলকে কেউ চিঠি লিখেনা, যার কাঁধে বঙ্গবন্ধু ভারী লাশ হয়ে চেপে আছে, তারাই ঢুকিয়ে দিয়েছে বীজটি। কিংবা...; আমি জানিনা; সত্যিই জানিনা।
হোসেইন বলেছেন:
সেইরম ।
লেখক বলেছেন: ![]()
সুলতানা শিরীন সাজি বলেছেন:
রিপন সত্যি অসাধারণ.............ব্লাড ডায়মন্ড ছবিটা খুবই ভাবিয়েছিলো.........
সবাই তো রিপন না যে তাদের লেখায় বেরিয়ে আসবে লাভার মত শব্দাবলী।
শুভকামনা.........সবসময়।
শুভেচ্ছা/
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ সাজি আপা। 'ব্লাড ডায়মণ্ড' যদি ভালো লেগে থাকে, 'হোটেল রুয়াণ্ডা', 'ডেথ ফিল্ড'ও ভালো লাগবে আপনার। দেখেছেন ছবিগুলো?
আপনার শুভকামনা অনুপ্রেরণা হয়ে রইলো।
শুভাশিষ জানবেন।
আরিফ জেবতিক বলেছেন:
ভুল কিংবা অপ্রাসঙ্গিক মন্তব্য মনে হলে অগ্রিম ক্ষমাপ্রার্থী ।.
গল্পভাষার বিষয়ে ফাহমিদুল হক এর সাথে একমত নই । দ্রুত প্রসঙ্গান্তর বরং এই গল্পে আমার কাছে বেশ স্বাভাবিকই মনে হয়েছে ।
হু , গল্পের ভাষা অনেকভাবেই পরিবর্তন করা যেতে পারে ।
খুব ধীরলয়ে শুরু করা যায় , " রোজ সকালে ঘুম থেকে উঠেই যখন সোলেমান দেখে বাথরুমে পানি নেই , তখন তার মেজাজ খারাপ হয় না । দীর্ঘদিনের অভ্যাস তাকে এমনই করে রেখেছে , হঠাৎ যদি বাথরুমের কলে পানির শব্দ শোনা যায় , তাতেই বরং বুকের মাঝে এক ধরনের ভয় কাজ করে । মনে হয় , কী যেন ঠিক হচ্ছে না , কোথায় কী যেন আজকে সর্বনাশ হয়ে যাবে ।''
তারপর সেই সোলেমানকে ধীরে সুস্থে বাসে বসিয়ে পাশে একটা অটোরিক্সা চালককে বসিয়ে দিয়ে আমরা গল্পকে টেনে নিয়ে যেতে পারি ।
সেটাও স্বার্থক গল্প হবে ।
কিন্তু এই গল্পের টুইস্টটা এসেছে এক লাইনে , সেটা শেষ লাইন ।
আর এখানেই গল্পটি শহীদুল জহিরের প্রভাবমুক্ত হয়েছে পরিষ্কারভাবে । এই লাইনটির জন্যই আগে বেশ একটা অগোছালো ভাবে আগানোটাকে আমার কাছে সুন্দরই মনে হচ্ছে ।
আর নামকরনের বিষয়টি ? সেটা শহীদুল জহিরের সাথে মিলে যায় বটে , তবে এরকমতো অনেকেই লিখছেন আজকাল ।
এমন কি শাহনাজ মুন্নীর গল্প পড়েছি - আমি আর আজিম যখন আজিমপুর থাকতাম...এই নামে ।
আমার একটি গল্প একসময় আলোচিত হয়েছিল খানিকটা , তার নাম ছিল - মোহাম্মদ আলী একটু আগুন চেয়েছিল ।
তখন শহীদুল জহিরের গল্পভাষার সাথে আমি পরিচিত ছিলাম না ।
শহীদুল হয়তো এই ধারাটি শুরু করেছেন । তবে অনেকেই অজান্তেও আজকাল গল্প বা বইয়ের নামকরনে এ ধরনের নাম ব্যবহার করছেন । অন্যরা হয়তো সেই দূরবর্তী প্রভাবেরই ছাপ ।
লেখক বলেছেন: আরিফ ভাই, প্রতিটা জীবন আমাকে টানে, প্রত্যেকটা দৃশ্য আমার নিখুঁত মনে হয়। ফাহমিদ ভাই এবং আপনার পর্যবেক্ষণগুলো আলাদা, কিন্তু আকৃষ্ট করবার মতো। গল্পের শরীরে কতটুকে কথার মেদ, কতখানি শব্দের পেশী যোগ হলে সুবিধে হয়- আমি বুঝতে পারিনা। সেবা প্রকাশনী আর বাংলা একাডেমীর 'টমস্যয়ারের দুঃসাহসী অভিযান' একেবারেই আলাদা ফর্মেটে লিখিত হলেও, আমি নিশ্চিত- যে কেউ পাঠ করে দু'টোতেই মজা পাবেন। দু'রকম মজা।
শুরুতে ছোট একটি গল্পের টুকরো; কার লেখা? খুব ভাল লাগলো।
বাংলা গল্পের নামকরনে একটা বদল এসেছে। এক শব্দের ডাকনাম উঠে অনেকের গল্পের নামে পুরো বাক্য ঢুকে গেছে। কবিতায়ও হয়েছে। খুব সম্ভবতঃ কবিতায় বড় নামকরনের প্রবণতা গল্পের আগে ঘটেছে। হুমায়ূন আজাদের অনেক কবিতায় এটি লক্ষ্য করা যায়। সে প্রায় দশক দুই-তিন আগের ঘটনা। গল্পের নামকরনের ক্ষেত্রে লিটল ম্যাগাজিনগুলোতে এটির প্রচলন, প্রবনতা উল্লেখ করার মতো।
মুনীর উদ্দীন শামীম বলেছেন:
একজন সম্ভাবনাময় গল্পকারের ১০০% উপস্থিতি টের পেলাম। অসাধারণ!!!!গল্পের ভাষা হিসেবে আমি ব্যক্তিগতভাবে রবীন্দ্রনাথের 'লিপিকা' র স্টাইল পছন্দ করি। ফিচারেও তাই। কিন্তু আপনার গল্পের যে বিষয় তাতে মনে হয়েছে আপনি যে ভাষা রীতি ব্যবহার করেছেন তা অনেক বেশি উপযোগী, পাঠযোগ্য এবং মনোযোগ আকর্ষন করতে সক্ষম। আমি তো এক নাগাড়ে পড়লাম আজ এবং যতই পড়েছি ততই আগ্রহটা বেড়েছে।.........আগামীতে আরও আরও চাই...
......................................................................................
ভাল থাকবেন...।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ শামীম ভাই। নিজের ভাষা রীতি নিয়ে আমার বলার কিছু নেই। সবারই নিজস্ব ঘরানা থাকে। সব স্টাইলই অনুপম। মাঝে মাঝে হুমায়ূন আহমেদের ভাষা রীতির কথা ভাবি। বাংলা সাহিত্যে এত জনপ্রিয় রীতির খুব বেশী উদাহরণ নেই। তারপরও কেন যেন মনে হয়, বাংলা সাহিত্যে, অন্ততঃ বাংলাদেশের কথা সাহিত্যে- এর ব্যাপক কোনো প্রভাব পরবে, বা পরতে পারে।
রবীন্দ্রনাথের ছোটগল্পের ভাষা রীতি সব সময়ই ঈর্ষনীয়। তাঁর কথনের সরল, সরস এবং সফল ঢং-কে অতিক্রম করা অসম্ভব।
ভাল থাকুন। শুভ কামনা রইল।
যীশূ বলেছেন:
অসাধারণ শক্তিশালী লেখা!
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ যীশূ।
তব্ধা খেয়ে গেলাম!!
আলগোছে একটা লেখা লিখলাম আপনি সেটা এখানে জুড়ে দিয়ে আমাকে কৃতজ্ঞ করে রাখলেন!!
লেখক বলেছেন: আন্দালিব, একটা লিখেই এই অবস্থা আপনার; দশটা লিখুন, দেখুন কী হয়! ![]()
(নতুন গল্পে হাত দিয়েছেন?)

















+