আমার প্রিয় পোস্ট
- নাঈমুলের ছিঁচকে সাংবাদিকতা : ইউনূসকে নিয়ে ইতরামি, এরশাদের পদলেহন, ইজরায়েল প্রেম আর ধারাবাহিক মতলববাজি - ফিউশন ফাইভ
- চৌধুরী মঈনূদ্দীন সহ তিন পলাতক যুদ্ধাপরাধী নিয়ে চ্যানেল ফোরের সেই বিখ্যাত ডকুমেন্টারিটি! - জিন্দা লাশ
- সাম্প্রতিক পাঠ : মোস্তাফিজ রিপনের গল্প 'বিস্রস্ত' - অনুপম হাসান
- স্পর্শবিজ্ঞান - ছন্নছাড়ার পেন্সিল
- ইমরান ব্লগ স্রষ্ট া - দেবরা
- সুকুমার রায়ের ছড়া সমস্টি। - ব্রাইট
- ইন্টারনেট হতে প্রাপ্ত ১৩২ টিপস্!!!! - চিরকালই গাধা
- ছোটগল্প: কালিদহের কূহক - আকাশচুরি
- আমার স্মৃতিতে হুমায়ুন আজাদ: যেভাবে তাকে হাসপাতলে নিয়েছিলাম এবং পরবর্তী ঘটনাগুলো... - হাসান শরিফ
- শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের কবিতা.........Pakhi's Notes - প্রচ্ছদস
- জগৎজ্যোতি! যিনি ছিলেন বাংলার প্রথম বীরশ্রেষ্ঠ/............ভাস্কর চৌধুরী - ভাস্কর চৌধুরী
- বাংলা একাডেমী প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম সম্পূর্ণ (রিপোস্ট) - খলিল মাহমুদ
- শৈশব-ইন্দ্রিয়ের গান - ছন্নছাড়ার পেন্সিল
- তাঁবুঘর - আন্দালীব
- মুক্তিযুদ্ধে ঠাকুরগাঁও, পর্ব ২.১৩ শেষ (একটি কথ্য ইতিহাস-উইং কমান্ডার (অব.) এস. আর. মীর্জা ) - মাহবুব সুমন
- ছন্নছাড়ার পেন্সিল - ছন্নছাড়ার পেন্সিল
- অল্টারনেটিভ মুভি চয়েজ:: ৫ টি মাস্ট ওয়াচ নন-হলিউড মুভি - মেহরাব শাহরিয়ার
- ছোটগল্প: কায়েসের আত্মহত্যা পরবর্তি বিভ্রান্তি সমুহ - আকাশচুরি
- তিল-গপ্পো> বৃত্তে প্রবেশ নিষেধ! - আশরাফ মাহমুদ
- চার পাঁচ হাজার পিঁপড়ার দুঃখ - সরকার আমিন ১৯৬৭
- বিদ্যাকূটে যাওয়া না-যাওয়া নিয়ে একটা গল্পের ভণিতা - সুমন রহমান
- ক্রমশ নির্মীয়মান দৃশ্য কিংবা চরিত্রের গল্প - ছন্নছাড়ার পেন্সিল
- 'আমরা দুজনে মিলে শূন্য করে চলে যাব জীবনের প্রচুর ভাঁড়ার' - আহমাদ মোস্তফা কামাল
- জীবনানন্দ দাশ : কবিতায় খুঁজি বাংলার রূপ - একরামুল হক শামীম
- আরিফুল হোসেন তুহিনের অসামান্য উদ্যোগে সামান্য ভূমিকা রাখতে চাচ্ছি - রিয়াজ শাহেদ
- আজ রাতে কোথায় ঘুমাবো? - মাহবুব মোর্শেদ
- আমি পান্ডিত্যের কাঁফনে মোড়া এক শাস্ত্রীয় শকুন - সামী মিয়াদাদ
- খেরোখাতার আসন্ন পৃষ্ঠাটি - রহমান হেনরী
- মুক্তিযুদ্ধের কিছু প্রামান্য বইয়ের তালিকা - ফারহান দাউদ
- মনে হয় যেন লেখার সময় অন্য কারো করতলে ছিলাম-- মাহমুদুল হক - আহমাদ মোস্তফা কামাল
- আমার ছবি কইবে কথা যখন আমি থাকবো না---- (উৎসর্গ : প্রথম আর দ্বিতীয় হওয়া সকল পরীক্ষার্থী) - মেহরাব শাহরিয়ার
- নবীনদের জন্য - নাদান
- কেন লেখেন? - আহমাদ মোস্তফা কামাল
- আস্তিক-নাস্তিক-সংশয়ী এবং তাদের ঈশ্বর - আহমাদ মোস্তফা কামাল
- "গণহত্যা": এ্যান্থনি মাসকারেনহাসের অবশ্যপাঠ্য প্রতিবেদন, ৩য় অংশ (বিদেশী পত্রিকায় মুক্তিযুদ্ধ, পর্ব ৩২) - ফাহমিদুল হক
- সিদ্ধার্থ, নির্বাণের পথ (সিরাতুল মোস্তাকিম) নিজেকেই খুঁজে নিতে হয়। - নাজিম উদদীন
- জল প্রিজমের গান - মৃদুল মাহবুব
- এসো ৭১ এর গল্প শোনাই সবাই মিলে - জ্বিনের বাদশা
- আমাদের টমি আর শের আলীর গল্প - এস্কিমো
- পাকিস্থানি কুলাংগারদের বর্বরতা-একটি ঐতিহাসিক ভিডিও ক্লিপ - না বলা কথা
- না এলেই ভালো হতো...! - আহমাদ মোস্তফা কামাল
- "চলচ্চিত্র সমাজ পরিবর্তন করতে পারে না, কখনো করেও নি" -- সত্যজিৎ রায়ের সাক্ষাৎকার - ফাহমিদুল হক
- বীভৎস যৌন নির্যাতন, কিন্তু এড়িয়ে গেছেন সবাই - শেরিফ আল সায়ার
- "পুরনো পাকিস্তানের সমাপ্তি": বিদেশী পত্রিকায় মুক্তিযুদ্ধ, পর্ব ১৩ - ফাহমিদুল হক
- জীবন একটা গম্ভীর বিদ্রুপ! - আহমাদ মোস্তফা কামাল
- আমার নিরন্তর মুসলমান হয়ে ওঠা - সামী মিয়াদাদ
গল্পঃ মুখোমুখি, বেড়ালের পাশে বসে
২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সকাল ১১:১৪
![]()
এক
আমাদের একটা পিয়ানো আছে; আর আছে একটা বেড়াল। তবে, রেগে গেলে আমরা পিয়ানো বাজাই না। আমার স্ত্রী রাগে অগ্নিশর্মা হলে, কিংবা প্রচণ্ড রাগে আমি ফোঁস ফোঁস করলেও আমাদের ঘরে পিয়ানো বাজেনা। আমার কন্যা, যিনি পিয়ানোটির মালিক, তিনি রেগে গেলেও পিয়ানোতে হাত দেননা। ফলে, আমাদের রাগ বাড়তে থাকে। রাগ বাড়তে বাড়তে আমাদের হাত স্যাণ্ডেলমুখী হলে বেড়ালটি আমাদের মাঝে এসে বসেন। তারপর তার চোখে-মুখে জাতিসংঘের মহাসচিবের অসহায় ভাব ফুটে উঠলে আমরা শান্তিচুক্তি করি। আমি হাতে ধরে রাখা ফুলদানী নামিয়ে চুক্তিতে প্রথম স্বাক্ষর করি। আমার স্ত্রী ফ্রাইংপ্যানের দিকে তাকিয়ে, চিন্তা-ভাবনা করে সেখানে টিপসই মারেন।
কখনো কখনো আমার কন্যা শান্তিচুক্তিতে হাবিজাবি শর্ত জুড়ে দেন। ফলে, আমাদের গৃহের মধ্যপ্রাচ্য সমস্যায় নতুন মাত্রা তৈরী হয়। কন্যার শর্তে পুতুল কেনার দাবি যোগ হলে আমরা তেলে-বেগুন হই। আমি ছ্যাঁত করে উঠি। আমার স্ত্রী ক্রমাগত ছ্যাঁত ছ্যাঁত করেন। আমাদের কন্যা এইসব ছ্যাঁতযজ্ঞে বিশেষ ভাবিত হননা। তিনি নয়া শর্ত সংযোগে বিশেষ মনোযোগী হয়ে ওঠেন। এবার পুতুলের জন্য লালফিতের দাবী যুক্ত হয়। আমি আতংকিত হই। আমার স্ত্রীর হাতে আবার ফ্রাইংপ্যানটি উঠে আসে। তিনি আমার বিরুদ্ধে কন্যাকে লাই দেয়ার অভিযোগ আনেন। আমি খ্যাক করি। তিনিও খ্যাক করেন। একসময় কন্যাটি ফ্রাইংপ্যানের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ালে আমার দল ভারী হয়। বেড়ালটিও দলভারীর পক্ষে ম্যাও করেন। আমার স্ত্রী ষড়যন্ত্রের আভাস পেয়ে কন্যার পিঠে দুমাদুম ড্রাম পেটান। আমি কন্যার পক্ষে শ্লোগান তুলি। পিটুনি খেয়ে কন্যার দাবী উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পায়। এবার তার পুতুলের জন্য চিরুনীও চাই।
সকল দাবী-দাওয়া পূরনের আশ্বাস নিয়েই কন্যা ফোঁপানী থামান। বেড়ালটি আমাদের কুচি কুচি হওয়া শান্তিচুক্তিতে আঠা লাগান। আমরা তাতে স্বাক্ষর করি। বেড়াল সাক্ষী।
আমি যখন বিয়ে করি, তখন খুব রোগা-পটকা ছিলাম। আমার স্ত্রী যখন নতুন বউ ছিলেন, তখন একদিন আহ্লাদ করে তিনি আমাকে মোটা-তাজাকরনের আশ্বাস দিয়ে বলেছিলেন, 'আমি তোমাকে ভালো ভালো রান্না করে খাওয়াব।' আমিও সেইদিন বেশ আটখানা হয়ে বলেছিলাম, 'তাহলে রোজ বাসমতি কিনব আমি।' যখন কথাগুলো বলেছিলাম, তখনো বাবা হইনি; বাবা-ই শুধু জানতেন- কত চালে কত টিন। একথা অসত্য নয় যে, আমাদের ঘরে ইরি ছাড়া বাসমতি ঢোকেনি। কী এক অজ্ঞাত কারনে সেসব বাসমতি চালের সুবাস ছড়ানোর মতি হতো না বলে, আমার স্ত্রী ভেজাল বিরোধী ম্যাজিস্ট্রেটের মতো আমাকে জেল-হাজতে পাঠাতেন। একবার ফাঁসির আদেশ মওকুফ করে আমাকে বাজারে পাঠিয়েছিলেন তিনি। সে বার সদ্য কেনা বাসমতি দেখেই তিনি বলেছিলেন, 'বিআর টুয়েণ্টিফোর।' তখন আমাদের ঘরে বেড়াল ছিলনা।
আমার স্ত্রী সিংহ রাশির জাতিকা। সিংহ রাশির বলেই আমার স্ত্রীর ভেতর একটি বেড়াল লুকিয়ে থাকে। বাজে ঘরে বিবাহের অভিযোগে তিনি বেড়ালের মতো কিছুদিন ফ্যাচ ফ্যাচ করে কেঁদেছিলেন। স্ত্রীর এ হেন অশ্রু-প্রপাতে আমি বিচলিত ছিলাম। কারন তিনি সয়ম্বরা হয়েছিলেন। তিনি আমার সাথে খাতির করে সংসার পেতেছিলেন বলে- আমার শ্বশুরকূলের ইজ্জতহানী ঘটেছিল। তারা আমাদের থেকে নিরাপদ দূরুত্ব বাজায় রাখতেন। আমার কন্যার জন্মগ্রহণে এই ঠাণ্ডাযুদ্ধের অবসান ঘটেছে। তবু আমার শ্বশুরকূলের ন্যাটো বাহিনী- আমাদের ইরি চাল খাওয়া ওয়ারসো জোটকে সুযোগ পেলেই ঠ্যাঙানী দেয়। আমার সিংহ রাশির স্ত্রী কৌশলগত কারণে যুদ্ধে লিপ্ত হন না। আমি মীন রাশির জাতক; তুচ্ছ মানবিক বিপর্যয়ে মাথা ঠাণ্ডা রেখে, আমি কন্যাকে দুইয়ের ঘরের নামতা শেখাই। আমাদের বেড়ালটি একের ঘরের নামতাও জানেন না। বেড়ালের নিরক্ষতায় আমার কন্যা ব্যাপক হতাশ। কিন্তু বেড়ালটি আমার মতোই নির্বিকার। তিনিও সম্ভবতঃ আমার মতোই মীন রাশির লোক।
আমার পিতা-মাতাও লাইন করে বিবাহের অনুযোগে আমাকে ত্যাজ্য করেছিলেন। কিন্তু বছর তিনেক পরে, কোন এক মারফতে তারা জেনেছিলেন, তাদের পুত্রটি বংশের মুখে চুন-কালি না মেখে- পকেটে ভ্যানেশিং ক্রীম নিয়ে ঘুরছে। আমার শ্বশুর গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ডাক-তার ও যোগাযোগ মন্ত্রীর মতোই ক্ষমতাবান ব্যক্তি- এ তথ্য আমার পিতার কানে পৌঁছে ছিল। তিনি টেলিফোনের লাইন-ম্যান ছিলেন। তার লাইন-ঘাটও ছিল উচ্চস্তরের। প্রধানমন্ত্রীর সাথে ইফতার পার্টিতে তিনি চুয়াত্তরের দুর্ভিক্ষ নিয়ে গরম বত্তৃতা দিতেন।
আমার পিতা তার টিনশেড ঘরটিতে একটি রঙীন টিভির আশা নিয়ে নাতনীর মুখ দেখতে এসেছিলেন। পিতা-মাতার আগমনে, আমরা- মীন এবং সিংহ, তাদের পায়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম। শুধু তাই নয়, আমার স্ত্রী- শ্বাশুড়ীর আয়াতুল কুরসী পাঠের চ্যালেঞ্জ গ্রহন করে একশতে একশ' পেয়েছিলেন। এমনকি চুল-দাঁত-নখের পরীক্ষায়ও তিনি কৃতকার্য হয়েছিলেন। তবে, সুচিকর্মের মৌখিক পরীক্ষাতেই তার শূণ্য জুটেছিল। আমার বাবা এ ঘটনায় বিরক্ত হলেও, মা পুত্রবধুর অকৃতকার্যতায় উপদেশ দানের সুযোগ লাভ করে প্রীত হয়েছিলেন এবং সুই-কর্মের মতো অত্যাবশ্যক গুণের ওপর নাতিদীর্ঘ বত্তৃতার এক ফাঁকে রঙীন টেলিভিশনের দাবী তুলেছিলেন। মায়ের কুটনৈতিক বুদ্ধিতে আমার পিতারও মনোবল বৃদ্ধি পেয়েছিল বোধ করি। তিনি দোতলা টিনশেড ঘরের ছাদ পাকা করার মনোবাঞ্ছা যুক্ত করেছিলেন দাবীনামায়।
আমার স্ত্রী শ্বশুর-শ্বাশুড়ীর গীধরপনায় তুমুল উত্তেজিত ছিলেন দিনকয়েক। আমি পিতা-মাতার দাবীদাওয়া এবং স্ত্রীর উত্তেজনাকে- ক্ষমা-সুন্দর জ্ঞান করেছিলাম। কোন পক্ষ না নেওয়ায়- নিজের বাড়ীতে মেরুদণ্ডহীন, আর বাপের বাড়ীতে ম্যানা উপাধী জুটেছিল আমার।
আমি মাঝে মাঝে বেড়ালেটির মুখোমুখি বসে থাকি। বেড়ালের লেজ দেখি। বড় বাহারী লেজ। এমন লেজের উপাসনায় এক জনম কাটিয়ে দেয়া যায়। আমার স্ত্রী অসতর্ক পায়ে বেড়ালের লেজ মাড়ালে আমার ধ্যানভঙ্গ হয়।
বেড়ালের মতোই, স্ত্রীর সাথে আমার অনেক মিল। আমরা দুজনই অজনপ্রিয় চায়না বিল্ডিংয়ের গলিতে। আমার স্ত্রী অধিকার সচেতন বলেই- আশেপাশের ভাবীরা কাঁচকলার খোসা বা মুরগীর পৌষ্টিকতন্ত্র রাস্তায় খালাস করে রেহাই পান না। বালিকা-মাতারী-নারীদের এই ক্রুসেডে নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ভূমিকা গ্রহন করে আমি সমালোচিত হয়েছি বহুবার। যুদ্ধ না করে সার্টিফিকেট পাওয়া মুক্তিযোদ্ধার তারকাখ্যাতি আমার ভাগ্যে জুটেছে। নারী কণ্ঠের গালাগালির এক ফাঁকে, এ কথা আমি শুনেছি যে, চায়না বিল্ডিং কেন, সমস্ত আজিমপুরে আমিই নাকি একমাত্র বউ লাই দেওয়া ক্ষণজন্মা পুরুষ। কোন প্রকার দুষ্ট উপাধীতে আমি বিচলিত হইনা। আমার বেড়ালটিও হন না। মানসিক ভাবে আমরা যেন জমজ প্রাণী। আমাদের চিন্তার তরঙ্গ- তুচ্ছ মানবিক ত্রুটিতে বিক্ষিপ্ত হয়না।
বেড়ালটি আমাদের স্বামী-স্ত্রীর মান রেখেছেন। তিনিও আমাদের মতোই অজনপ্রিয় অত্র মহল্লায়। আমি সম্যক জ্ঞাত নই, তবে ধারনা করি, তিনি হয়তো সূক্ষ্ম-চৌর্যবৃত্তিতে আসক্ত। মাঝে মাঝে বাংলাদেশ টেলিভিশনে- ভিত্তিপ্রস্থ স্থাপনের সংবাদ দর্শনের কোন এক ফাঁকে আমার প্রতিবেশীদের বিলাপ শুনতে পাই। সেসব আর্তনাদে চোর বিড়াল, চুন্নী বিলাই ইত্যাদি কথাগুলো সংযুক্ত থাকে। বেড়ালটি বাড়ী ফিরলে- জেনারেলদের হাতে ধরা খাওয়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীদের মতো মাজা বাঁকা করে হাঁটেন এবং মেরুদণ্ডের সমস্যায় ভোগেন। নানাবিধ তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষন করে- আমি তার চরিত্রে মৃদু-নৈতিক-স্খলন আন্দাজ করেছি মাত্র; তবে নিশ্চিত হতে পারিনি। আমি ট্রান্সপারেন্সি ইণ্টারন্যাশনালের লোক নই। চৌর্যবৃত্তিতে কার রোল নম্বর কত হবে, তা নির্ধারনে আমি অপারগ। আর ব্যুরো হওয়া দুর্নীতি দমন কমিশনের সাথে আমার কোন সংস্রব নেই, তাই কোন বাড়ীর খোলা মিটসেফে- কার ভাজা মাছ কে উলটে খাবে- তা নিয়ে না ভাবলেও আমার চলে।
আমার কন্যা জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের সুযোগ এখনো পাননি। উচ্চতায় তিনি জানালার গ্রীলেও পৌঁছাবেন কি-না সন্দেহ আছে।
আমি যে চাকরিটি করি, তা আমাকে সংসার খরচের পয়সা না দিলেও পদবি দিয়েছে। আঞ্চলিক বিক্রয় ব্যবস্থাপকের ভিজিটিং কার্ডে আমার মানিব্যাগ স্ফিত হয়ে থাকে। আমার বুকও। শুধু স্ত্রী, অফিসের বস, আর পড়শিদের কাছেই আমার দাম নেই। সকালে, কাজে যাওয়ার সময়- আমার স্ত্রী, কন্যা এবং বেড়ালটি জানালা দিয়ে আমাকে টা টা জানান। পারিবারিক গর্বের গোড়ায় জমে থাকা পানি সাবধানে পার হয়ে- আমি ইডেন কলেজের সামনে এসে দাঁড়াই। একটু পরেই পেটে আটা-ময়দা-সুজি পুরে তিনটি রিক্সাভ্যান সেখানে আসে। সকালবেলার এই খাদ্য-কাফেলায় নিজেকে সৌদি বাদশাহ মনে হয় আমার। যেন আমি আটরশি হুজুরের দরবারে উট নিয়ে চলেছি, যেখানে একটু পরেই বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধান তসরিফ আনবেন।
খাজাবাবার ভেজাল উটের মতোই আমাদের আটা-ময়দায় পোকা দৌঁড়ালে, পাওনা আদায় নিয়ে কিঞ্চিত কসরত করতে হয় আমাকে। 'সাধারণ মানবিক ত্রুটি' তত্ত্বটি প্রতিষ্ঠিত করতে কোক-ফাণ্টা কিনতে হয়। এরপরেও মুলামুলি চললে- খচ্চর দোকানীদের কার্টন দুই সুজি সদকা দিতে হয়। সদকা আছে বলেই ময়দায় পোকা আছে। আর পোকা আছে বলেই আটা চালুনীর ব্যবসা টিকে আছে। আমি নিজের চিন্তার ব্যাপকতায় নিজেই বিমোহিত। এসব সময়ে নিজেকে তোফাজ্জেল হোসেন মানিক মিয়া মনে হয়। এখন বেড়ালটি থাকলে খুব খুশি হতো। আমি নিশ্চয় একা একা মানিক মিয়া পদক নিয়ে বেড়ালটিকে বঞ্চিত করতাম না! ওকেও কিছু দিতাম। অর্থমন্ত্রীর পদটা কি তাকে দেয়া যেত না! অবশ্যই যেত। আমার বেড়ালকে আমি মাছের কাটা খেতে দেব, মহাসচিবের পদ দেব, লাথি দেব, চুমো দেব- কার কী!
আহারে! বেড়ালটি পাশে নেই বলে নিউমার্কেটের ভীড়ে নিজেকে কেমন অকিঞ্চিতকর লাগে।
দুই
কাজ শেষে আমি যখন ঘরে ফিরি, তখন ইরাকি কবরস্থানে বেড়ে ওঠা যুবকরা- আজিমপুর গোরস্থানের মুর্দাদের শিহরিত করে অমুক ভবন, তমুক ভবনের রোল কলে যায়। একটা মিশুক পট পট শব্দ তুলে দক্ষিণে পেখম মেলে। হুড-তোলা রিক্সায় একটি শিশু মায়ের কোলে বসে থাকে। রাস্তায় সীনা-টান করে রাখা স্পীড ব্রেকারে তারাও উড়াল দেয়। এই আলোহীন মুখস্থ পথে, ম্যানহোলের হা-য়ে বয়ে চলা বুড়িগঙ্গায়- আমি নৌবিহার করি। আমি চিন্তার মধ্যাকর্ষ শক্তিতে নাড়া দেয়ার আগেই রাস্তায় কারা যেন ঝাঁকুনি খায়। উড়ন্ত মিশুকের পাখায় রিক্সা যাত্রীদের পালক জমে। তারপর অব্যর্থ নিউটনের আপেল মাটিতে আছড়ে পড়লে চিৎকার ওঠে। অ্যাক্সিডেণ্ট। আমার কী! তবু, আপেলের পতনেই সব শেষ হয়ে যায়না। বিজ্ঞান ছেড়ে শিল্প কলায় চোখ যায় আমার। দুর্ঘটনার জটে তিনটে মানুষ। একটি শিশুও জ্যামিতিক বিন্যাসের শোভা বাড়িয়েছে। আমার পায়ের কাছেই। বাজারের ব্যাগ থেকে রাস্তায় লাফিয়ে নামা আলু, মরিচ; এমন চিত্র সালভাদর ডালি কবে এঁকেছিলেন? আমার বেড়ালটি জানেন হয়তো। কথা জানলে তিনিও খই ফোটাতেন আমার কন্যার মতো।
আমি ইউরেকা ইউরেকা করে উঠি। বুকের ভেতর ধরাস শব্দে দিগম্বর আর্কিমিডিস চৌবাচ্চা ছেড়ে উঠে পড়েন। এত সহজ আবিষ্কার! দুর্ঘটনার পরাবাস্তব বিন্যাসে শিশুটির হাতে বেমানান ওটা কী! পুতুল! আমি ত্বড়িৎ পর্যবেক্ষণে বুঝে যাই, হাতের বায়ে মৃত, আর ডানে জীবিতদের মিছিলে আমিই পুতুলটির ন্যায্য দাবীদার। মৃতদের কখনোই পুতুল প্রয়োজন পড়েনি।
আমার কন্যা পুতুলের প্রতীক্ষায় বসে আছেন। পিয়ানোটির জন্যও তিনি অনেক রাত অব্দি বসেছিলেন। বেড়াল সাক্ষী।
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): ছোটগল্প, মুখোমুখি, বেড়ালের পাশে বসে, মোস্তাফিজ রিপন ;
প্রকাশ করা হয়েছে: গল্প বিভাগে । বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আসিফ। অনেকদিন পরে লিখলাম। ভাল লাগছে আপনার মন্তব্য পেয়ে।
আসিফ আহমেদ বলেছেন:
গল্পের শুরুর দিকটায় কেন যেন একটু বিদেশি গন্ধ মেলে, জানিনা হয়তো পিয়ানো শব্দটার জন্যই।
লেখক বলেছেন: বিদেশি!! হা হা।
'জলতরঙ্গ' নামে একটা কবিতা আছে। কবির নাম ভুলে গেছি। গল্পের শুরুতে সেই কবিতাটির রেশ খুঁজে পাওয়া যেতে পারে।
রক্তাক্ত যোদ্ধা বলেছেন:
অনেক জটির লিখা.................
লেখক বলেছেন: জটিল! ![]()
ছন্নছাড়ার পেন্সিল বলেছেন:
আজকে সকালটা দারুন লাগছিলো, দপ্তরে আসার পথে। সেখানে গাড়ি, গাড়ির পাশে রিকশার জট সবকিছু ছাপিয়ে আকাশ দেখছিলাম। সেটাই মুগ্ধ করে টানছিলো। এসে আপনার গল্প পেলাম। শেষের তিন লাইনের মোড় ঘুরানোয় আপাতত মুগ্ধ হয়ে আছি। যদিও শুরুতে মনে করেছিলাম আগের মতো- শ্যাওড়াপাড়ার গল্পের মত একটা আভাস পাবো, তবে ধীরে ধীরে দেখলাম গল্পের শরীরে ওটা শুধুই অবগুন্ঠন। ভিতরে অন্য রসদ। সেখানে গিয়েই মনে হচ্ছিলো টোন্-টা একটু কেমন জানি। মানে উপমার নির্দেশগুলো একইদিকের। আপনি এত শক্তিশালী লেখক যে সারাক্ষণ চতুর বৈচিত্র্যের অপেক্ষায় থাকে পাঠক।
তবে গল্প পড়ার মজা হলো পরের পাঠে হয়তো মূলসুরের টান অন্যরকম লাগবে।
লেখক বলেছেন: আন্দালিব ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি- সময় মতো মন্তব্যের জবাব না দেয়ার জন্য। ক্লাস শুরু হয়েছে। বুড়োকালের অধ্যয়নে ঝামেলা মেলা, টের পাচ্ছি। তারপর কেমন আছেন? শুধু আকাশ দেখলেই চলবে? ঈদের বাজার সদাই দেখতে হবে না!
এই গল্পটা লিখতে এত সময় নিয়েছি যে, ভাবতেই বিরক্ত লাগছে। গল্পটা যখন লেখা শুরু করেছিলাম, তখন অন্য একভাবে এগুচ্ছিলো। বার বার বিরতীতে গল্পের মোড় পাল্টে গেছে।
মাজুল হাসান বলেছেন:
প্রিয়তে রাখি।
লেখক বলেছেন: অনেক অনেক অনেক দিন পরে আপনার মন্তব্য পেলাম। দারুন খুশি হয়েছি।
যীশূ বলেছেন:
আপনার গল্প যে পুরাটা খুব ভাল বুঝি তা দাবি করি না। কিন্তু যতক্ষণ পড়েছি, ভালো লেগেছে খুব। আর পড়া শেষেও তার স্বাদ খানিকটা মুখে লেগেই আছে।
লেখক বলেছেন: হায় হায়! গল্প মুখে মেখে ঘুরছেন? ভ্যানেশিং ক্রীমওয়ালাদের ব্যবসা মাটি করবেন দেখা যাচ্ছে।
অনিশ্চিত বলেছেন:
প্রচলিত গল্পগুলোর চাইতে খানিকটা অন্যরকম লাগে; এক নিঃশ্বাসে পড়া যায় না, নিঃশ্বাস ফেলার ফাঁকে গ্রহণেরও সময়টা পাওয়া যায়; ফলে পড়ার জন্য যে নিঃশ্বাস ফেলা এবং নেওয়া দুটোর স্বস্তিকর ও স্বাস্থ্যপ্রদ আবহটা দরকার, আপনার গল্পগুলো সেগুলো যোগান দেয়। ফলে আগ্রহ বাড়তেই থাকে...
লেখক বলেছেন: দারুন আপনার মন্তব্যের স্টাইল। প্রীত হলাম।
ওমর হাসান আল জাহিদ বলেছেন:
আপনাকে প্রশংসা করার ভাষা আমার জানা নেই। এত চমৎকার লেখেন কীভাবে?প্রিয়তে রাখলাম।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ জাহিদ।
রিপন, ম্যাজিশিয়ানরা কলম হাতে নিলে বোধহয় এরকমের ব্যপারগুলো ঘটে। আমি যে বাড়িয়ে বলছি না - জনতা জানেন।
টুপি বিয়োজন!
লেখক বলেছেন: আন্দালীব ভাই, কী বলবো! শুধু এটুকু বলি, আপনার মন্তব্যে অনেক খুশি হয়েছি। দুঃসাহসীদের মতো খুশি।
সোনালীডানা বলেছেন:
অনেক সুন্দর লেখা.... +
লেখক বলেছেন: অনেক শুভেচ্ছা।
লেখক বলেছেন: আপনিও ভালো থাকুন।
লেখক বলেছেন: তব্ধা গেছে?
লেখক বলেছেন: মেন্যুতে মনের ময়ানের কথাটা বাদ গেছে ফারহান ভাই। ![]()
লেখক বলেছেন: পয়সা ছাড়া ব্যাঙ্কোয়েটতো কাঙ্গালী ভোজ। ![]()
লেখক বলেছেন: ফাহমিম, আপনার জন্য শুভেচ্ছা।
বিগব্যাং বলেছেন:
আপনি তো মিয়াভাই ঠান্ডা মাথায় আমাগো কলিজা উপড়াইয়া হাটা দিলেন...
লেখক বলেছেন: (এমন মন্তব্যের উত্তরে কি কইতে হয়, সেইটা যদি জানায় দিতেন...)
মজা পাইছি। ![]()
একরামুল হক শামীম বলেছেন:
আপনার লেখা আমাকে যথারিতী মুগ্ধ করলো। অনেক ভালো লাগছে।
"আমার স্ত্রী সিংহ রাশির জাতিকা। সিংহ রাশির বলেই আমার স্ত্রীর ভেতর একটি বেড়াল লুকিয়ে থাকে। "
কন কি!! সিংহ রাশির মানুষদের ভিতর বিড়াল লুকিয়ে থাকে নাকি!!

আমিও তো সিংহ রাশির
লেখক বলেছেন: আমাদের সবার ভেতরই একটি করে বেড়াল লুকিয়ে আছে। এই বেড়ালটা কখনো শান্তিবাদী, কখনো ছ্যাচ্চোর, কখনো মিনমিনে, কখনো দর্শক, কখনো সবকিছুর সাক্ষী। সিংহতো একটা বড়সড় বেড়ালই। গল্পের কথিত 'স্ত্রী' মাঝে মাঝেই হালুম করেন। আবার ফ্যাচ ফ্যাচ করেও কাঁদেন।
(খোঁজ নিয়ে দেখুন, আমি নিশ্চিত- আপনি যতবার হালুম করেছেন, ঠিক ততোবারই চোখ ভিজিয়েছেন। সিংহ রাশির পুরুষরা না-কি একটু বেশীই আবেগী হয়ে থাকেন। অবশ্য আপনিই ভালো বলতে বলতে পারবেন।
)
কোলাহল বলেছেন:
বরাবরের মতই লেখা। পড়লাম, মুগ্ধ হলাম।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ কোলাহল।
রিয়াজ শাহেদ বলেছেন:
হায় হায় এইটা আমি এতো পরে দেখতাছি? আতকা এইখানে ঢুইকা তো বিপদ হইলো, এখন তো পড়ার টাইম নাই, পরে পড়তাছি রিপন ভাই।
লেখক বলেছেন: ইকরা! ![]()
(কোথায় কোথায় ট্যুর করলেন? মজার অভিজ্ঞতাগুলো শেয়ার করুন না, প্লিজ।)
লেখক বলেছেন: ঈদ মোবারক। গল্প পাঠে কেমন লাগলো জানাবেন?
লেখক বলেছেন: ঈদ মোবারক।
লেখক বলেছেন: ঈদ মোবারক রাশেদ ভাই।
লেখক বলেছেন: ঈদের শুভেচ্ছা।
রিয়াজ শাহেদ বলেছেন:
হাহ পড়লাম। শেওড়াপাড়া থেকে একেবারে উল্টোদিকে আজিমপুর চলে আসলেন রিপন ভাই?
উপমা প্রয়োগে আপনি দেখছি ধীরে ধীরে কিংবদন্তি হয়ে উঠছেন।
{ নাহ এখনো ট্যুর করতে ঢাকার বাইরে যাওয়া হয়ে ওঠেনি, এই তো সেদিন ঢাকাতেই সেলস কনফারেন্স হলো; আপনার বন্ধুর পাশেই বসে ছিলাম মঞ্চে! }
লেখক বলেছেন: এ্যারিস্টোতে আটকে যাবেন না যেন! দুনিয়াটা কিন্তু আরেকটু বড়। ম্যালা ম্যালা ঈদ মোবারক।
রন্টি চৌধুরী বলেছেন:
ঈদের শুভেচ্ছা রিপনভাই।অনেকদিন ব্লগে আসিনা, তাই আপনার গল্পগুলো পড়া হল না।
এবার পড়ে ফেলব। এগুলো মিস করার জিনিস না।
লেখক বলেছেন: রন্টি ভাই, ঈদ মোবারক। কেমন আছেন?
শফিউল আলম ইমন বলেছেন:
এটা কখন মিস হয়ে গেলোএকটানে পড়ে ফেললাম।
আপনার লেখা যত পড়ছি ততই মুগ্ধ হচ্ছি।
ভাল লাগা রেখে গেলাম।
ঈদের শুভেচ্ছা।
ভালো থাকুন।
লেখক বলেছেন: ঈদ মোবারক ইমন।
সুলতানা শিরীন সাজি বলেছেন:
কি যে ভালো লাগলো....অনেক সুন্দর গল্প রিপন। মুগ্ধতা রেখে গেলাম।
"আমার কন্যা পুতুলের প্রতীক্ষায় বসে আছেন। পিয়ানোটির জন্যও তিনি অনেক রাত অব্দি বসেছিলেন। বেড়াল সাক্ষী। "
সত্যিই অসাধারণ.........
শুভেচ্ছা থাকলো
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ সাজি আপা। ঈদের শুভেচ্ছা রইল।
লেখক বলেছেন: কবি, অনেক ধন্যবাদ।
কালপুরুষ বলেছেন:
চমৎকার লেখনী। মুগ্ধতা নিয়ে পড়লাম। কিছু বাক্য ও উপমা লেখার আকর্ষণ বাড়িয়ে দিয়েছে। রম্য হতে হতেও কোথায় যেন বাস্তবতার গাঁ ঘেষে এগিয়ে গেছে আপনার সবলীল বর্ণনা আর অনুপম বাক্যের সহজ অথচ চটুল বিন্যাস।
লেখক বলেছেন: গল্পটা একটানা বসে লিখতে পারিনি। আজ একটু, কাল একটু- এমন করে লেখা। শুরুতে যে ভাবনা থেকে গল্পটি শুরু করেছিলাম, পরে সেটি বদলে গেছে।
গল্পটি আপনার ভাল লেগেছে জেনে আনন্দিত হয়েছি। শুভেচ্ছা রইল।
শান্তির দেবদূত বলেছেন:
বস্, বেশ কয়েকদিন ধরে খুব ব্যস্ত আছি, তাই আপনার গল্ল্পগুলো পড়া হচ্ছে না ১০ তারিখের পর পুরাপুরি ফ্রি হবো, তার পর প্রান ভরে আপনার গল্পগুলো (অপঠিতগুলো) পড়বো
খুব মিস্ করছি আপনার (ও আরও কয়েকজন প্রিয় ব্লগারদের লেখা ) গল্প
লেখক বলেছেন: আয় দশ তারিখ ঝেঁপে...
লেখক বলেছেন: লিখেন না কেন আপনি?
লেখক বলেছেন: দৌড়ের উপ্রে দুনিয়া। ![]()
নুশেরা বলেছেন:
শুরু থেকে অনেকটা পথ গার্হস্থের তুচ্ছতা এলো ঘরোয়া-আন্তর্জাতিক-বৈশ্বিক রাজনীতির পাখায় ভর করে। শেষে এসে দেখা গেল জাদুময় কথনে এ এক মানবিক গল্প।ম্যাজিশিয়ান খেলা দেখানোর আগেই কথা শুরু করেন (এটাকে বোধহয় প্যাটার বলে), প্রস্তুতির বিভিন্ন পর্যায়ে উৎকন্ঠার সঠিক মুডটা তৈরির জন্য তার বকুনি দ্রুত মোড় নেয়। নির্বাক জাদুকরও তার খেলার বিভিন্ন ধাপ অনুযায়ী সাজানো মিউজিকের আশ্রয় নেন। কোনও মন্তব্যে লেখক বলেছেন বিভিন্ন সময়ে লেখা; তবে আমার মনে হয়েছে গল্পের নির্বাক কথক এই চারটি অংশে আবহসঙ্গীতের মেজাজ একটু একটু করে পাল্টে দিয়েছেন।
১ম,-৩য় প্যারা
৪র্থ-৮ম ,,
৯ম-১৫শ ,,
"দুই"
অপরিণত পাঠকের দুর্বল পর্যবেক্ষণ ক্ষমা করবেন। প্রিয় রিপনভাই, আপনার গল্প পাঠ মানেই আচ্ছন্নতার অভিজ্ঞতা। ভাল থাকবেন। শারদীয় শুভেচ্ছা।
লেখক বলেছেন: নুশেরা আপা, আপনি মনোযোগী পাঠক। আপনার মন্তব্যের স্টাইলটিও বেশ স্বতন্ত্র। আমার বেশ লাগে আপনার মন্তব্যগুলো পড়তে।
আপনাকেও শারদীয় শুভেচ্ছা।
এরশাদ বাদশা বলেছেন:
এরকম গল্প পড়ার মধ্যেও এক ধরনের আনন্দ আছে। শুরুতে মনে হয়েছিলো ঠাস বুনটে গড়ার রসে টুইটুম্বুর একটি রম্য বিশেষ। কিন্তু শেষে এসে ঠিকই ধাক্কাটা খেতে হলো। আপনার লেখার স্টাইল, ভাষা একেবারেই অন্যরকম রিপন ভাই। আমার মতো নাদান আপনার লেখার ব্যবচ্ছেদ করতে পারবেনা। শুধু মুগ্ধ হতে পারবে। হয়েছিও তাই। ''ভিত্তিপ্রস্থ'' কি ভিত্তিপ্রস্থর হবে?
ধৃষ্টতা ক্ষমা করবেন রিপন ভাই।
এরকম আরো অসাধারন লেখা চাই।
লেখক বলেছেন: অনেক চেষ্টা করি, তারপরেও আমার বানান ভুল হয়। মন্তব্যে আপনার কোনো ধৃষ্টতা খুঁজে পেলাম না বলে- ক্ষমা করা গেল না।
উল্টো তাতে প্রীত হয়ে- 'হেমিংওয়ের বরশি' পাঠের আবেদন জানাচ্ছি।
শুভেচ্ছা।
(বানানটি 'ভিত্তিপ্রস্তর' হবে।)
লেখক বলেছেন: ভেবে ঠিক করো। তারপর সত্ত্বর জানাও।
প্রণব আচার্য্য বলেছেন:
দুপুর পুড়িয়ে বাড়ী ফেরার দিন, হেমিংওয়ের বড়শি,
যে বছর গ্রামে পাখি বৃষ্টি হয়েছিল গল্পের হে মহানলেখক, আপনার শেষ আদেশ আমি ভুলিনি জনাব;
সূর্যের একচ্ছত্র অথধকার অস্তের পূর্বে নামক একটি গ্রন্থ্যের
কাজ চলিতেছে। যদিও জানি না উহা আলোর মুখ দেখিবে কিনা!
নতুন গল্প পাচ্ছিনা কেন?
লেখক বলেছেন: কবি, বইয়ের কাজ কতদূর?
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...






















ভালো থাকবেন।