আমার প্রিয় পোস্ট
- নাঈমুলের ছিঁচকে সাংবাদিকতা : ইউনূসকে নিয়ে ইতরামি, এরশাদের পদলেহন, ইজরায়েল প্রেম আর ধারাবাহিক মতলববাজি - ফিউশন ফাইভ
- চৌধুরী মঈনূদ্দীন সহ তিন পলাতক যুদ্ধাপরাধী নিয়ে চ্যানেল ফোরের সেই বিখ্যাত ডকুমেন্টারিটি! - জিন্দা লাশ
- সাম্প্রতিক পাঠ : মোস্তাফিজ রিপনের গল্প 'বিস্রস্ত' - অনুপম হাসান
- স্পর্শবিজ্ঞান - ছন্নছাড়ার পেন্সিল
- ইমরান ব্লগ স্রষ্ট া - দেবরা
- সুকুমার রায়ের ছড়া সমস্টি। - ব্রাইট
- ইন্টারনেট হতে প্রাপ্ত ১৩২ টিপস্!!!! - চিরকালই গাধা
- ছোটগল্প: কালিদহের কূহক - আকাশচুরি
- আমার স্মৃতিতে হুমায়ুন আজাদ: যেভাবে তাকে হাসপাতলে নিয়েছিলাম এবং পরবর্তী ঘটনাগুলো... - হাসান শরিফ
- শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের কবিতা.........Pakhi's Notes - প্রচ্ছদস
- জগৎজ্যোতি! যিনি ছিলেন বাংলার প্রথম বীরশ্রেষ্ঠ/............ভাস্কর চৌধুরী - ভাস্কর চৌধুরী
- বাংলা একাডেমী প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম সম্পূর্ণ (রিপোস্ট) - খলিল মাহমুদ
- শৈশব-ইন্দ্রিয়ের গান - ছন্নছাড়ার পেন্সিল
- তাঁবুঘর - আন্দালীব
- মুক্তিযুদ্ধে ঠাকুরগাঁও, পর্ব ২.১৩ শেষ (একটি কথ্য ইতিহাস-উইং কমান্ডার (অব.) এস. আর. মীর্জা ) - মাহবুব সুমন
- ছন্নছাড়ার পেন্সিল - ছন্নছাড়ার পেন্সিল
- অল্টারনেটিভ মুভি চয়েজ:: ৫ টি মাস্ট ওয়াচ নন-হলিউড মুভি - মেহরাব শাহরিয়ার
- ছোটগল্প: কায়েসের আত্মহত্যা পরবর্তি বিভ্রান্তি সমুহ - আকাশচুরি
- তিল-গপ্পো> বৃত্তে প্রবেশ নিষেধ! - আশরাফ মাহমুদ
- চার পাঁচ হাজার পিঁপড়ার দুঃখ - সরকার আমিন ১৯৬৭
- বিদ্যাকূটে যাওয়া না-যাওয়া নিয়ে একটা গল্পের ভণিতা - সুমন রহমান
- ক্রমশ নির্মীয়মান দৃশ্য কিংবা চরিত্রের গল্প - ছন্নছাড়ার পেন্সিল
- 'আমরা দুজনে মিলে শূন্য করে চলে যাব জীবনের প্রচুর ভাঁড়ার' - আহমাদ মোস্তফা কামাল
- জীবনানন্দ দাশ : কবিতায় খুঁজি বাংলার রূপ - একরামুল হক শামীম
- আরিফুল হোসেন তুহিনের অসামান্য উদ্যোগে সামান্য ভূমিকা রাখতে চাচ্ছি - রিয়াজ শাহেদ
- আজ রাতে কোথায় ঘুমাবো? - মাহবুব মোর্শেদ
- আমি পান্ডিত্যের কাঁফনে মোড়া এক শাস্ত্রীয় শকুন - সামী মিয়াদাদ
- খেরোখাতার আসন্ন পৃষ্ঠাটি - রহমান হেনরী
- মুক্তিযুদ্ধের কিছু প্রামান্য বইয়ের তালিকা - ফারহান দাউদ
- মনে হয় যেন লেখার সময় অন্য কারো করতলে ছিলাম-- মাহমুদুল হক - আহমাদ মোস্তফা কামাল
- আমার ছবি কইবে কথা যখন আমি থাকবো না---- (উৎসর্গ : প্রথম আর দ্বিতীয় হওয়া সকল পরীক্ষার্থী) - মেহরাব শাহরিয়ার
- নবীনদের জন্য - নাদান
- কেন লেখেন? - আহমাদ মোস্তফা কামাল
- আস্তিক-নাস্তিক-সংশয়ী এবং তাদের ঈশ্বর - আহমাদ মোস্তফা কামাল
- "গণহত্যা": এ্যান্থনি মাসকারেনহাসের অবশ্যপাঠ্য প্রতিবেদন, ৩য় অংশ (বিদেশী পত্রিকায় মুক্তিযুদ্ধ, পর্ব ৩২) - ফাহমিদুল হক
- সিদ্ধার্থ, নির্বাণের পথ (সিরাতুল মোস্তাকিম) নিজেকেই খুঁজে নিতে হয়। - নাজিম উদদীন
- জল প্রিজমের গান - মৃদুল মাহবুব
- এসো ৭১ এর গল্প শোনাই সবাই মিলে - জ্বিনের বাদশা
- আমাদের টমি আর শের আলীর গল্প - এস্কিমো
- পাকিস্থানি কুলাংগারদের বর্বরতা-একটি ঐতিহাসিক ভিডিও ক্লিপ - না বলা কথা
- না এলেই ভালো হতো...! - আহমাদ মোস্তফা কামাল
- "চলচ্চিত্র সমাজ পরিবর্তন করতে পারে না, কখনো করেও নি" -- সত্যজিৎ রায়ের সাক্ষাৎকার - ফাহমিদুল হক
- বীভৎস যৌন নির্যাতন, কিন্তু এড়িয়ে গেছেন সবাই - শেরিফ আল সায়ার
- "পুরনো পাকিস্তানের সমাপ্তি": বিদেশী পত্রিকায় মুক্তিযুদ্ধ, পর্ব ১৩ - ফাহমিদুল হক
- জীবন একটা গম্ভীর বিদ্রুপ! - আহমাদ মোস্তফা কামাল
- আমার নিরন্তর মুসলমান হয়ে ওঠা - সামী মিয়াদাদ
ছোটগল্পঃ বিস্রস্ত
১৭ ই নভেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১২:২৮
![]()
এক
বারান্দার টবের নীচে কয়েকটা তেলাপোকা লুকিয়ে ছিল। শারমিন নাহারকে দেখেই ওগুলো ছুটল, যে যেখানে পারে। এতক্ষণে শারমিন নাহারের দাপাদাপি শুরু করার কথা। কিন্তু আজ তিনি বেশ আগ্রহ নিয়ে দেখতে লাগলেন পোকাগুলোকে। পেঁয়াজের খোঁসার মতো, কালচে লাল- কাফকার তেলাপোকা।
সফুরার মা ঝাড়ু হাতে ছুটে এল। শারমিন নাহার বললেন, ‘বুয়া, উল্টো হয়ে যেটা পড়ে আছে- তাকে মারবে না, প্লিজ।’ সফুরার মা হুঙ্কার ছাড়ল, ‘আইজ খাইছি।’ শারমিন নাহার তার ঝিয়ের পোকানিধন দেখছিলেন। তিনি বললেন, ‘বুয়া, বাজে কথা বল কেন?’ সফুরার মা চট করে কথাটির মানে বুঝতে পারল না, গৃহকর্ত্রীকে খুশী করার ইচ্ছে ছিল তার, সে সবেগে মেঝেতে বাড়ি দিতে দিতে বলল, ‘এক্কেরে পাড়ায়া মারা উচিত।’ শারমিন নাহার নাকে আঁচল চেপে চিৎকার করে উঠলেন, ‘দূর হও!’ সফুরার মা ‘দূর হও’- কথাটির সাথে পরিচিত। এই বাড়ীর আম্মাজান খুব রেগে গেল তাকে দূর হয়ে যেতে বলেন। শুরুতে সফুরার মা ভয় পেত; ভাবত এই বুঝি চাকরী শেষ, সন্ধ্যায় সদরঘাট থেকে বাড়ী ফেরার লঞ্চ ধরতে হবে তার! এখন আর ভয় করেনা, দিনে বেশ কয়েকবার কথাটি তাকে শুনতে হয়।
- ‘তোমার নোংরা হাত কোনো খাবারে দেবেনা, মনে থাকবে?’
- ‘আইচ্ছা।’
- ‘ইউ আর সো ডিসগাস্টিং বুয়া!’
- ‘তেলাচুরা মারা সোয়াবের কাজ।’
- ‘তেলাপোকা মারলে কী হয়? ইউ ক্যান নট এলিমিনেট দেম, ক্যান ইউ? বুয়া, ইউ আর সো মিন। ইউ আর সো-’
- ‘ঠিক আছে।’
- ‘বুয়া, ইউ আর সো ব্যাড। ইউ আর সো-’
শারমিন নাহার সফুরার মায়ের উপযুক্ত কোনো বিশেষণ খুঁজে না পেয়ে ‘ইউ আর সো’তে এসে আটকে গেলেন। সফুরার মা ভাবল, ইংরেজীর মতো তেরি-মেরি কিছু জানলে আজ খুব ভাল হতো, এই বাড়ীর আম্মাজানের এত কষ্ট হতো না। শারমিন নাহারকে ‘ইউ আর সো’ বাক্যটি শেষ করার সুযোগ দিতেই সফুরার মা মাছ কুটতে বসে গেল। তিনি রাগী গলায় বললেন, ‘বুয়া, সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নাও।’ সফুরার মা বলল, ‘ধুইছি, আম্মা। তেলাচুরা মারার পর- সবসময় আমি হাত কচলায়ে ধোই।’ শারমিন নাহার অবিশ্বাস নিয়ে সফুরার মায়ের দিকে তাকিয়ে রইলেন; কাউকেই বিশ্বাস করেন না তিনি। তিনি কড়াগলায় বললেন, ‘বুয়া কাপড় ঠিক করে বসো।’ সফুরার মা সবকিছু সহ্য করতে পারে, কিন্তু তার শালীনতা নিয়ে কেউ প্রশ্ন তুললেই মেজাজ খারাপ হয়ে যায়। মুনকার নাকিরকে হাজির-নাজির জেনেই সে আব্রু করে, ইংরেজী জানা কোনো আম্মাজানের জন্য নয়। শারমিন নাহারের কথা শেষ না হতেই- সে ‘এই রইল আপনের মির্কামাছ’, বলে উঠে দাঁড়াল এবং আঁশটে মাখানো হাতে কোমরে আঁচল গুঁজতে গুঁজতে বলল, ‘পাগলের সংসারে আমি আর নাই।’ শারমিন নাহার বললেন, ‘আগে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নাও।’
- ‘রাখেন আপনের সাবান! যেই ঘরে ইজ্জত নাই, সেইখানে আমিও নাই। লাখ টাকা দিলেও নাই।’
- ‘সেদিন ঘর মোছার সময় তোমার বুকের কাপড় কোথায় ছিল, জানতে পারি?’
- ‘বুকের কাপড় আমি আসমানে শুকাইতে দিছিলাম।’
- ‘বাজে কথা বলবে না!’
- ‘আমি বুইড়া মানুষ; আমার নাতী-নাতনীর বিয়ার বয়স হইছে-’
- ‘বুয়া, শালীনতার জন্য বয়স কোনো অজুহাত নয়। সেদিন আসাদ ঐ ঘরে বসে পেপার পড়ছিল। ইউ ডিড ইট ইন্টেনশনালি; ডিডিন্ট ইউ?’
- ‘ছিঃ ছিঃ, বয়সকালে মানুষ আমারে যে অপবাদ দেয় নাই-’
- ‘ঠিক আছে, এরপর থেকে আসদের সামনে যাবে না, মনে থাকবে?’
- ‘মনে থাকব না আর! পাগলের সংসারে আমি আর নাই! আমার সাধ মিটা গেছে! ছিঃ! ছিঃ!’
- ‘বুয়া, সাবান দিয়ে ভাল করে হাত ধুয়ে নাও; তোমার হাতে মৃগেলমাছের আঁশ লেগে আছে। ছিঃ ছিঃ করলেই নোংরা পরিষ্কার হয়ে যায়না।’
- ‘মাথায় বেইজ্জতি নিয়া হাতে সাবান ঘষলে কোনো ফয়দা নাই। ইয়া মাবুদ! তুমার কাছে বিচার দিলাম।’
সফুরার মা না খেয়ে মরে যাবে, তবুও চরিত্র নিয়ে খোঁটা সহ্য করবে না। সে ‘ছিঃ! ছিঃ!’ করতে করতে ব্যাগ গোছাতে লাগল। শারমিন নাহার বললেন, ‘কোথায় যাচ্ছ?’ সফুরার মা এ কথার কোনো জবাব দিল না। পাগলের সব কথা উত্তর দিতে নাই। শারমিন নাহার অধৈর্য গলায় বললেন, ‘তাহলে মাছ কুটবে কে?’ সফুরার মা বলল, ‘সৌদি থিকা একজন পর্দানশীন আইনা লন!’ শারমিন নাহার বললেন, ‘বাজে কথা বলবে না।’
সফুরার মা আরো বারকয়েক ছিঃছিঃ বলে বাড়ী থেকে বেড়িয়ে গেল। রান্না ঘরে আঁশ ছাড়ানো একটি মৃগেলমাছ, তার পাশে কাত হয়ে পড়ে থাকা বটি এবং মাথার ওপর সিলিংফ্যানের একটানা ঘড়ঘড় শব্দ নিয়ে শারমিন নাহার চুপ করে বসে রইলেন। তার একবার মনে হল, সফুরার মাকে কথাটি না বললেই ভাল হতো। কাউকে বিশ্বাস নেই-ভাবলেন আরেকবার।
কিছুক্ষণ পরে তিনি আসাদ সাহেবের অফিসে ফোন দিলেন। ওপাশ থেকে কেউ একজন জানালো, স্যার মিটিংয়ে আছেন।
সারাদিন কিসের এত মিটিং থাকে আসাদের, শারমিন নাহার ভেবে পায়না। বোয়াল মাছের মতো বিশ্রী মহিলারা আশেপাশে ঘুরঘুর না করলে বুঝি ভাল লাগেনা! আসাদের ওপর তার খুব রাগ হল, ‘আই হেইট ইউ, আসাদ!’ রাস্তায় দু’টি মেয়ে রিক্সার খোঁজে দাঁড়িয়েছিল। শারমিন নাহার বারান্দা থেকে তাদের দেখেই রেগে গেলেন। তিনি বিড়বিড় করে বললেন, ‘আই ডোন্ট বিলিভ ইউ বিচ।’ মেয়ে দু’টো চলে গেলে- তার রাগ সফুরার মায়ের ওপর জমল, তিনি গলা ফাটিয়ে চিৎকার করে উঠলেন, ‘আসাদকে দেখলেই বুকের আঁচল আসমানে শুকাতে দাও বুড়ি?’ শারমিন নাহারের চিৎকার শুনে সানশেডে রোদ পোহাতে থাকা কয়েকটা পাখি ভয় পেয়ে উড়াল দিল। তিনি মনে মনে বললেন, ‘তোরা যাসনে পাখি। প্লিজ।’
আসাদ সাহেব দুপুরের পর শারমিন নাহারকে ফোন করলেন, ‘কী ব্যাপার বলতো, তুমি নাকি বেশ ক’বার কল করেছ?’ শারমিন নাহার চুপ করে রইলেন। ওপাশ থেকে আসাদ সাহেব বললেন, ‘হ্যালো, শুনতে পাচ্ছো?’ শারমিন নাহার তখনো চুপ।
- ‘কী হয়েছে? কিছু বলার না থাকলে অফিসে ফোন কর কেন?’
- ‘একা একা ভাল লাগেনা।’
- ‘ওষুধ খেয়েছো?’
- ‘কী এত কাজ তোমার!’
- ‘আমার কী কাজ তুমি জাননা? শোন, ওষুধ খেয়ে নাও, মাথা ঠাণ্ডা হবে।’
- ‘বুয়া চলে গেছে!’
- ‘কোথায় চলে গেছে?’
- ‘জানিনা!’
- ‘আবার কী বলেছ তাকে?’
- ‘তুমি বাসায় চলে এসো।’
- ‘ইদ্রিসকে বল বুয়াকে খুঁজে আনতে।’
- ‘তুমি আসনা!’
- ‘বুয়া খোঁজার সময় নেই আমার। আই অ্যাম ইন দ্য মিডল অব অ্যা মিটিং।’
- ‘আমার একা একা ভয় করে।’
- ‘বললাম তো, পারব না! আর ভয়ের কী আছে?’
- ‘ইজ দ্যাট বিচ উইথ ইউ নাও?’
- ‘শারমিন, বাজে কথা বল না!’
- ‘ইজ দ্যাট ডার্টি হোর সিটিং বিসাইড ইউ?’
শারমিন নাহারের কথা শেষ হওয়ার আগেই আসাদ সাহেব ফোন নামিয়ে রাখলেন।
দুই
বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা হল; সন্ধ্যা ঝুলে রইল রাতের গায়ে। আর শারমিন নাহার বসে রইলেন আঁশ ছাড়ানো একটা মৃত মাছের পাশে। দু’টো আরশোলা ঘুরে বেড়ালো মিটসেফের গায়ে।
শারমিন নাহার পোকাগুলোর সাথে কথা বললেন, ‘তোদের ছানাপোনা আছেরে? সফুরার মায়ের মতো! সফুরা, তফুরা, হনুফা, মদিনা বিবি, এলাচী খাতুন, আর শুক্কুর আলী। আরো নাকি তিনজন ছিল। আতুর ঘরে মারা গেছে। আমার বাচ্চাকাচ্চা নেই। ইনফার্টাইল। বেশ মজার না! একটু বেশী বয়সে বিয়ে হয়েছেতো, তাই। এই ব্যাটা আরশোলা, বউয়ের যত্ন নিবি কিন্তু! নিবি তো?’
আরশোলাদের সাথে কথা শেষ করে শারমিন নাহার খুব ব্যস্ত হয়ে পড়লেন। অনেক কাজ তার। তিনি ডাইনিং টেবিলের ছ’খনা চেয়ারের বিয়ে দিয়ে দিলেন। গণবিবাহ। খুব উপদেশ দিলেন ছেলে চেয়ারদের, বউদের যত্ন নিতে বললেন। আর মেয়ে চেয়ারদের কানে কানে বললেন- তাড়াতাড়ি ছেলেপুলে নিয়ে নিতে। বয়স বাড়লে বাচ্চা নিতে নাকি নানান সমস্যা তৈরী হয়। ইনভোল্যুশন! তারপর কী একটা অশ্লীল রসিকতা মনে পড়ায়- একটা মেয়ে চেয়ারের গায়ে চিমটি কেটে হাসতে লাগলেন। হাসতে হাসতে শারমিন নাহারের গলার কাছে কান্না জমে উঠল। তিনি মেয়ে চেয়ারগুলোকে একদিকে টেনে আনলেন, তারপর ওদের গায়ে হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বললেন, ‘তোরা পারবি, পারবি না?’ চেয়ারগুলোকে শ্বশুড়বাড়ী পাঠিয়ে তিনি কাঁদলেন। সফুরার মা যেমন মৃত সন্তানদের কথা মনে করে বিলাপ করে, শারমিন নাহারও তেমন করে কাঁদতে চাইলেন।
ড্রয়িংরুমের ডিভানের সাথে সফুরার মায়ের চৌকির বিয়ে হয়ে রাত আটটা নাগাদ। এরপর শারমিন নাহার ভ্রু নাচিয়ে কথা বলতে লাগলেন সোফা-কুশনের সাথে, ‘বিয়েটা কেমন হলো? একটু বেমানান, কিন্তু সব ঠিক হয়ে যাবে। ওরা সুখী হলেই হল, তাই না!’ তারপর সোফা-কুশনদের জন্য পাত্রের খোঁজে বেরুলেন তিনি। অনেক বলে-কয়ে বালিশদের রাজি করালেন বিয়েতে। শারমিন নাহার বালিশগুলোকে নানান কিছু বোঝালেন; আবার বকলেনও একবার, ‘এত খারাপ তোরা! দেখে কিন্তু ভদ্রলোকই মনে হয়, আসলে তো লোভী! এত লোভ নিয়ে সুখী হওয়া যায় নারে!’ অনেক কথা খরচের পর বালিশ আর সোফা-কুশনের বিয়ে হল। তিনি দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললেন, ‘বিয়েতে ওসব একটু-আধটু হয়ই! এই যে আমার প্রেমকরে বিয়ে, তাতেই কী কম ঝামেলা হয়েছে?’ সোফা-কুশনদের স্বাত্বনা দিলেও তার মনটা কেমন যেন করতে লাগল। বিয়েটা ভাল হয়নি। মেয়েগুলো একদল ইতরের হাতে পড়ল বোধহয়!
শারমিন নাহার আবার আসাদ সাহেবকে ফোন করলেন। ফোন বাজল- একবার, দু’বার, তিনবার, চারবার- বেজেই চলল। ওপাশ থেকে কেউ ফোন ধরল না। তিনি বিড়বিড় করে বললেন, ‘আই শ্যুড কিল দ্যট বিচ।’ তারপর মাছকোটার বটি হাতে নিয়ে সোফায় বসে রইলেন কিছুক্ষণ এবং একসময় ঘরের আসবাবপত্র, সিলিং ফ্যান, রান্নাঘরের আরশোলা আর দেয়ালের টিকটিকিদের চমকে দিয়ে বলে উঠলেন, ‘একদম শেষ করে ফেলব!’
মাঝরাতের কিছু আগে সফুরার মা ফিরে এলো। ইদ্রিস তাকে খুঁজে এনেছে।
- ‘স্যার আমারে ফোন দিয়া সফুরার মায়েরে আনতে কইলেন। সে তো আসব না! পরে বেতন বাড়ানোর কথা কইয়া আনছি।’
- ‘ডু ইউ নো, তোমার স্যার বাড়ীতে ফিরছেনা কেন?’
- ‘নীচে টেক্সি খাঁড়া, ভাড়া দিয়া হয় নাই।’
- ‘ডিড আই আক্স ইউ সামথিং?’
মৃগেল মাছ তখনও রান্নাঘরে পড়েছিল। ঘরের ভেতর আঁশটে গন্ধ। এ-রুমের চেয়ার ও-রুমের কাঁথা-বালিশ এখানে সেখানে ছড়িয়ে পড়ে আছে। ইদ্রিস সেদিকে তাকিয়ে বলল, ‘আম্মা, আইজ মনে হয় অনেক বিয়া-শাদি হইছে বাড়ীতে?’ শারমিন নাহার লজ্জা পেলেন, ভয়ও কিছুটা। ইদ্রিস কি পাগল ভাবছে তাকে? তিনি চান না- কেউ তাকে নিয়ে ঠাট্টা করুক। স্বাভাবিক হতেই বোধহয় তিনি সফুরার মাকে ধমক দিলেন, ‘বুয়া, তোমার মাথায় কাপড় নেই কেন?’ সফুরার মা মাথায় আঁচল টানতে টানতে বলল, ‘এইখানেতো বাইরের কেউ নাই!’
- ‘ইদ্রিসকে তুমি পুরুষ মনে করনা?’
- ‘ইদ্রিস আমার নাতীর বয়সী! ইয়া মাবুদ, আমারে কই নিয়া আসলা?’
- ‘বুয়া, তোমাকে কোনো মাবুদ এখানে টেনে আনেনি, তুমি নিজে এসেছো। এন্ড ইদ্রিস হেল্পড ইউ টু গেট ইওর জব ব্যাক!’
- ‘ও ইদ্রিস, আমি এইখানে থাকলে পাগল হয়া যাব রে! আমারে তুই কই আনলি?’
ইদ্রিস প্রসঙ্গ বদলাতে শারমিন নাহারকে আবার ট্যাক্সির ভাড়ার কথা মনে করিয়ে দেয়, ‘নীচে ট্যাক্সি খাড়া!’ শারমিন নাহার সোফায় চোখ বুজে বসে থাকেন, যেন তিনি কিছু শোনেননি। সফুরার মা শ্যেন চোখে তাকিয়ে থাকে তার দিকে। তিনি ফিসফিস করে বললেন, ‘ইদ্রিস, আর ইউ ম্যারিড? তোমার স্ত্রী কি শেক্সপিয়ার জানেন? ইবসেন? ইজ শি প্রিটিয়ার দ্যান মি?’ সফুরার মা- ‘ইয়া মাবুদ’ বলে দরজার দিকে এগিয়ে যায়; ইদ্রিস বলল, ‘খালা, ছারের সাথে কথা বইলা যাও।’ সফুরার মা বলল, ‘গরীবের ইজ্জত গেলে আর থাকল কী! লাখ টাকা দিলেও এই বাড়ীতে আমি থাকুম না।’ ইদ্রিস সফুরার মাকে হাত জোড় করে, ‘খালি ছার আসা পর্যন্ত থাক। আমারে বেইজ্জত কইরনা।’ শরীরের অযত্ন আর মানসিক চাপে শারমিন নাহার ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন। তবু তার ঘুম নেই। তিনি লাল চোখে সফুরার মায়ের দিকে তাকিয়ে রইলেন। সফুরার মা এলোমেলো ড্রয়িং-রুমের দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলল। শারমিন নাহার প্রায় অস্পষ্ট স্বরে বললেন, ‘ইউ আর সো রুড বুয়া!’
সে রাতে আসাদ সাহেব বাড়ী ফেরেননি।
তিন
ইদ্রিসের পিড়াপিড়িতে সফুরার মা রাতটা এখানে থেকে গেল। কাল আসাদ সাহেব বাড়ী ফিরলে সবকিছুর ফয়সালা হবে। তার চৌকি এখনো ড্রইংরুমে ডিভানের পাশে পড়ে আছে। ‘পাগলের গোবী-আনন্দ’, সফুরার মা ভাবে, ‘নিজের বিয়া টিকাইতে পারনা, খাট-পালঙ্কের বিয়া দেও!’ এই সব বড়লোকি রোগ ঝুল-ঝাড়ুর হাতা দিয়ে পিঠে কয়েকটা দিলেই ভাল হয়ে যায় বলে তার ধারণা। একটু ঝিমুনি আসার আগপর্যন্ত শারমিন নাহারের নামে সে খোদার কাছে বিচার দিল।
শেষরাতে সফুরার মায়ের ঘুম ভাঙল; শারমিন নাহার তাকে ডাকছে, ‘ও বুয়া, ভয় করে।’ সফুরার মা তাড়াতাড়ি উঠে দরজার খিল শক্ত করে এঁটে দিল, পাগল-ছাগলরে কোনো বিশ্বাস নাই। শারমিন নাহার বললেন, ‘বুয়া দরজা খোল। আমার একলা ভয় করে।’ ‘ঢ্যামনামি দেখ! রাইতের বেলায় পাগলরে কোলে নিয়া নাচ-গান কর!’, সফুরার মা চোয়াল শক্ত করে বসে থাকে।
শারমিন নাহার কাঁদলেন। কয়েকটা তেলাপোকা দরজার আড়াল থেকে তাকে দেখল। ‘ও বুয়া, আসাদ বাড়ী ফেরেনি কেন? ও বুয়া, অ্যাম আই দ্যাট ব্যাড?’
- ‘আম্মা, আপনে ঘুমান।’
- ‘আই ডোন্ট ওয়ান্ট টু ডাই, বুয়া!’
- ‘আপনের ঘুম দরকার।’
- ‘ও বুয়া, আসাদ কেন বাড়ী ফেরেনা?’
- ‘আম্মা, এইটা হয়। সংসারে একসাথে থাকতে গেলে এইসব হয়।’
- ‘বুয়া, প্লিজ ওপেন দ্যা ডোর। আই’ম সো স্কেয়ার্ড। ও বুয়া, দরজা খোল। উপেক্ষা সইতে পারিনা!’
- ‘আম্মা, আপনে কিছু খান। সারাদিনে শইলে দানাপানি দ্যান নাই।’
সফুরার মা দরজা খোলেনি। শারমিন নাহার একটানা কথা বলেছে, ‘ছোটবেলায় একবার চড়ুইয়ের বাসা থেকে ডিম চুরি করেছিলাম বলে- কে যেন অভিশাপ দিয়েছিল- তোর কোনোদিন বাচ্চা হবেনা। ও বুয়া, ডাক্তারও বলেছে, আমার বাচ্চা হবেনা। এত অভিশাপ লাগল আমার! তোমার সফুরা কোনোদিন পাখির ডিম চুরি করেনি, তাই না? তুমিও না! বুয়া, বলনা!’ কথা বলতে বলতে তিনি কাঁদলেনও কিছুক্ষণ। হাসলেনও বোধহয়। এলোমেলো কথাও বললেন বার কয়েক। দুর্বিসহ প্রলাপ। তারপর কোনো সারাশব্দ নেই। সফুরার মা দরজায় কান পেতে রইল। তার মনে হল, সব মানুষকেই হয়তো এমন পরীক্ষার ভেতর দিয়ে যেতে হয়। অবহেলার পরীক্ষা, টিকে থাকার পরীক্ষা। এ পরীক্ষা সে নিজে দিয়েছে, সফুরা দিয়েছে, ইদ্রিসের বউ দেবে, শারমিন নাহার দিচ্ছে।
সকালে সফুরার মা দরজা খুলে দেখল শারমিন নাহার মেঝেতে পড়ে আছেন। সে শারমিন নাহারকে দেখেই ভয় পেয়েছে। মাথাখারাপ মানুষেরে বিশ্বাস নাই। শারমিন নাহারের ঘুমানোর ভঙ্গীটি অস্বাভাবিক ছিল বলেই তার মনে হয়, মেয়েটি খুব অভাগা। সে ইদ্রিসকে ডাকল, ‘ও ইদ্রিস, ও ইদ্রিস’; তারপর শারমিন নাহারের গায়ে ধাক্কা দিয়ে বলল, ‘আম্মা, কী হইছে আপনের?’ শারমিন নাহার জড়ানো কণ্ঠে বললেন, ‘আমার খালি ঘুম পায় বুয়া।’ সফুরার মা কী করবে ভেবে পায়না। সে আবার ইদ্রিসকে ডাকে। শারমিন নাহার বলেন, ‘তোমার আঁচল দিয়ে আমাকে ঢেকে দেবে বুয়া? আমার খুব শীত করে।’ ‘আপনের কোনো ভয় নাই আম্মা; আমরা আছি না!’, সফুরার মা শারমিন নাহারকে বুকে চেপে রাখেন।
চার
আসাদ সাহেব আবার বিয়ে করেছিলেন। এই বউটি শারমিন নাহারের মতো খুব বেশী সুন্দরী না হলেও এদের বংশে কারো পাগলামি ছিল না। এই তথ্যটি আসাদ সাহেব বিশেষ আগ্রহ নিয়ে সংগ্রহ করেছেন।
সফুরার মাও এ বাড়ীর নতুন বউকে নিয়ে বেশ খুশী। এই বউটি খুব বুদ্ধিমতি। নিজের হাতে আসাদ সাহেবকে রান্নাবান্না করে খাওয়ান। ঝামেলাও কম করেন। কথায় কথায় ইংরেজী বলেন না। তার ইচ্ছা হনুফার সাথে ইদ্রিসের বিয়ের কথাটা একদিন নতুন বউকে বলবে। নতুন বউ রাজি হইলেই বিয়ের খরচাপাতি নিয়ে আর কোনো চিন্তা করতে হবেনা।
একদিন ফ্রিজ থেকে মৃগেলমাছ বের করতেই নতুন বউ দেখল মাছের গায়ে লাল রঙ লেগে আছে। সফুরার মা তাড়াতাড়ি নতুন বউকে বলল, ‘এইটা আগেরজনের কাজ। ওই যে গল্প করছি না- সেই বেটি বালিশ-তোষকের বিয়া দিত, মুরগীর ঠ্যাং নেল-পালিশ দিয়া সাজাইতো!’
নতুন বউ লিপিস্টিক মাখানো মৃগেলমাছের দিকে তাকিয়ে রইলেন। আঁশ ছাড়ানো মাছের চোখের সাথে মানুষের দৃষ্টির এত মিল!
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): ছোটগল্প, বিস্রস্ত, মোস্তাফিজ রিপন, গল্প ;
প্রকাশ করা হয়েছে: গল্প বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই নভেম্বর, ২০০৯ সকাল ৮:৩১ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
মাহবুব সুমন বলেছেন:
মুগ্ধ হয়ে পড়লাম
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ সুমন ভাই।
ছন্নছাড়ার পেন্সিল বলেছেন:
অসামান্য একটা লেখা পড়ার পরে অনেকটা সময় কিছু বলার থাকে না। এই গল্পের চরিত্রগুলো আমার খুব চেনা। খালি একটা খটকা রয়ে গেলো, কাজের লোক এতো ভালো ইংরেজি বুঝবে কি না সেটা নিয়ে।
লেখক বলেছেন: সফুরার মা কিছু 'তেরি-মেরি' জানলে আম্মাজানের এত কষ্ট হতনা। ![]()
অনেকদিন পরে গল্প লিখলাম। হাতে জং ধরে গেছে।
রাজর্ষী বলেছেন:
যথারীতি ভালো লাগলো
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ রাজর্ষী।
লেখক বলেছেন: বাহ বেশতো! ২য় অংশের মন্তব্য পাওনা থাকল।
এক টানে পড়লাম ।
~~~
দু একটা লাইন আরোপিত মনে হয়েছে -- সেটা চাদের কলংক ।
মৃগেল মাছটা এতদিন ধরে ফ্রিজে !!!
লেখক বলেছেন: এইরে!
(মৃগেল মাছটাকে যে ফেলে দেয়ার ইচ্ছে করছিল না! ভেবেছিলাম ওটি থাকুক ডীপফ্রিজের এককোণায়, নতুন বউয়ের হাতে পড়ুক।)
দেখি, সময় পেলে মাছটাকে নতুন বউ আসার আগেই ফ্রাই করে ফেলব। (টেক্সট বদলালে জানাব আপনাকে।) ![]()
লেখক বলেছেন: বইয়ের আকার হয়তো দেয়া যায়, কিন্তু সাহসে কুলায় না। আরেকটু সাহস বাড়ুক, 'দুঃসাহসে তখন কিনে ফেলব'...
আমিন আসিফ বলেছেন:
অসাধারন!! হিংসা হওয়ার মত লিখার হাত আপনার!!
লেখক বলেছেন: ইয়া মাবুদ... কী বলি আমি এখন?...
ব্রাকেটে বলি, থ্যাঙ্ক ইউ...
সবাক বলেছেন:
না, না... শেষের দিকে খুব তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে গেলো। মনে হয় বৌ ডাক দিলে মাত্র উঠে গেলেন।
শারমিন নাহার কাঁদলেন। কয়েকটা তেলাপোকা দরজার আড়াল থেকে তাকে দেখল। ‘ও বুয়া, আসাদ বাড়ী ফেরেনি কেন? ও বুয়া, অ্যাম আই দ্যাট ব্যাড?’ - ‘আম্মা, আপনে ঘুমান।’ - ‘আই ডোন্ট ওয়ান্ট টু ডাই, বুয়া!’ - ‘আপনের ঘুম দরকার।’ - ‘ও বুয়া, আসাদ কেন বাড়ী ফেরেনা?’ - ‘আম্মা, এইটা হয়। সংসারে একসাথে থাকতে গেলে এইসব হয়।’ - ‘বুয়া, প্লিজ ওপেন দ্যা ডোর। আই’ম সো স্কেয়ার্ড। ও বুয়া, দরজা খোল। উপেক্ষা সইতে পারিনা!’ - ‘আম্মা, আপনে কিছু খান। সারাদিনে শইলে দানাপানি দ্যান নাই।’
এটা ক্লাসিকাল হয়েছে।
তবে শেষের দিকে খুব দ্রুত শেষ হয়ে গেছে।
লেখক বলেছেন: কথা সত্য, শেষের দিকে আরেকটু সময় নেয়া দরকার ছিল। আমি নিজেই ফিল করছিলাম।
(বউয়ের অনুমোদন ছাড়া গল্প লেখা, আর কম্পিউটারের মাউসে আত্মঘাতী বোমা বেঁধে রাখা একই জিনিস। বসের কথা না শুনলে চলে!?)
আহসান জামান বলেছেন:
অপূর্ব সুন্দর, মুগ্ধতা। না, আপনার হাতে জং ধরে নি।
লেখক বলেছেন: উমম... যাক ভরসা পেলাম।
(ভরসা থাকুক টেলিগ্রাফের তারে বসা ফিঙের ল্যাজে...)
লেখক বলেছেন: মঙ্গল হোক আপনার।
কাক ভুষুন্ডি বলেছেন:
শেষে এসে মৃগেল মাছের অংশটাকে খানিকটা মেলোড্রামাটিক লাগলো। এছাড়া পুরোটা লেখায় মুগ্ধ।
লেখক বলেছেন: শেষটা করলাম প্রোটিন সমৃদ্ধ, আর এই লোক বলে কিনা...
(আমি ঠিক জানিনা, তবে মনে হচ্ছিল- ছোটগল্পের মেজাজ ধরে রেখে আরেকটি নতুন গল্পের হয়তো সূচনা করা যায় শেষের টুইস্টটি দিয়ে। হয়তো সফল হইনি। যদি সফল হতাম,
শেষের অংশটা আপনাকে আরেকটু ভাবাতো হয়তো।)
জেরী বলেছেন:
+++
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ জেরী। প্লাস গৃহীত হলো।
(অ.টঃ টম কি খুব জ্বালায়?)
লেখক বলেছেন: জেরী, পুরোপুরি সংলাপ নির্ভর গল্প এটিই প্রথম আমার।
সফুরার মাকে আপনার কথা জানাব। ![]()
সীমান্ত আহমেদ বলেছেন:
sorry, net er connection er jonno bangla likhte parchi na.golpo ta porechi . details montobbo pore korbo.eto sundor golpo niye comment englishe korte iccha korche na.
valo thakben. suveccha roilo.
লেখক বলেছেন: সীমান্ত, আপনার মন্তব্যের আশায় রইলাম।
শুভাশিষ রইল।
সবাক বলেছেন:
ছোটগল্পের ধরনটা এতোদিনে ধরতে পারলাম। পাঠক হিসেবে আমি সৎ নই। ফাঁকি দিই ভীষণ। পরিচিত কাহিনী নিয়ে নির্মিত হলেও গল্পটির প্রেজেন্টেশন ছিলো স্বকীয়। আমি মূলত ওখানেই চোখ রাখলাম। আমার আগামী দু'একটা গল্পে হয়তো মোস্তাফিজ রিপনের ছাপ থাকতে পারে। ওটা দোষের হবে না। অন্তত তিন- এ গিয়ে অবশ্যই স্বকীয় হবে।
গল্পকার দীর্ঘজীবী হোক (বস সহ
লেখক বলেছেন: সবাক, আপনি চমৎকার লিখেন। আপনার লেখা সবগুলো গদ্য আমি পড়েছি। আপনার লেখনির তীক্ষ্ণতা আপনি নিজে টের পান কি-না জানিনা, তবে আমি টের পাই। কথাটি বাড়িয়ে বলা নয়।
লিখুন। মুঠোয় মুঠোয় পদ্ম ফুটুক আপনার নামে।
সমুদ্র কন্যা বলেছেন:
খুব সুন্দর হয়েছে। মাঝে মাঝে একটু আতঙ্কও লেগেছে। কে জানে, কি আছে কপালে।
লেখক বলেছেন: পূর্ণেন্দুপত্রী তো বলেই গেছেন কী আছে কপালে-
... সোনার পালঙ্কে গা...রূপার পালঙ্কে পা... এগুতে সাতমহল... পিছাতে সাতমহল...
ভাল থাকুন।
যীশূ বলেছেন:
অনেকদিন পর আপনার লেখা পেলাম। অনেক ধীরে ধীরে পরলাম, বরাবরের মতই ভালো লাগলো।
লেখক বলেছেন: যীশূ, কৃতজ্ঞতা জানুন। (আপনাকে দেখলেই মনটা ভাল হয়ে যায়।)
হাসান মাহবুব বলেছেন:
প্রিয়তে
লেখক বলেছেন: মানুষ শখ করেও ময়লা জমায়... ![]()
আকাশ_পাগলা বলেছেন:
দারুণ। আসলেই দারুণ।
লেখক বলেছেন: আকাশ পাগলা- পাগলীদের নিয়ে লেখা গল্পতো দারুণ বলবেই... ![]()
লেখক বলেছেন: আপনার প্রত্যয়নপত্র লাভ করে খুব আহ্লাদ হচ্ছে...। 'আহ্লাদের এক ঢ্যাপের খই' আপনার নামে বরাদ্দ হল। ![]()
ছন্ন, বই বেরুচ্ছে কবে? এই বইমেলায়?
ধূসর মানচিত্র বলেছেন:
অপূর্ব হয়েছে
লেখক বলেছেন: ভাল লাগল আপনার মন্তব্য পেয়ে।
লেখক বলেছেন: ফারহান ভাই, আগে যে কত্ত ভাল লিখতাম- এইটা বোঝানোর জন্যই এই গল্পটা লিখেছি।
(সব ভাল হলে- ভালগুলোর কী হবে!!!) ![]()
কেমন আছেন আপনি?
লেখক বলেছেন:
![]()
প্রতিধ্বনি, তুমিতো বলেছেন:
আবার পড়ি...
লেখক বলেছেন: কবি... কেমন আছেন?
আকাশ অম্বর বলেছেন:
অনবদ্য
লেখক বলেছেন: ভাল থাকুন।
অপরিচিত_আবির বলেছেন:
চমৎকার লেখা, অসাধারণ। অনেক দিন পর আপনার লেখা পড়লাম, অনেক দিন পর সামুতে একটা ভালো লেখা পড়লাম।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আবির। ![]()
হিমালয়৭৭৭ বলেছেন:
গল্পটা আমার ভাল লাগেনি, তবে থিমটা পছন্দ হয়েছে।।। এই কন্ট্রাডিকশনটা পরিষ্কার করা প্রয়োজন বোধ করছি।।। তার আগে একটা বিশেষ শব্দের কথা লিখতে চাইছি, যেটা এই গল্পে ভীষণভাবে চমক ধরিয়েছে- 'কাফকার তেলাপোকা' এই শব্দটাতেই লেখার গতিপ্রকৃতিকে অন্যদিকে টেনে নিয়েছে।।। কিন্তু লেখার পরবর্তী প্রোজেকশনটা মোটেই সেই শব্দের অনুগামী হয়নি, আর এজন্যই বোধহয় না ভাল লাগাটা।।। চেয়ার-টেবিলের বিয়ে দেয়ার আইডিয়াটা ভাল লেগেছে, গল্পে এর মোটিফটাও ভাবনা যুগিয়েছে, তবে গল্পের মূল সমস্যা হল সফুরার মা; এই বুয়াটাই গল্পটাকে বিকর্ষণজনিত সমস্যায় ফেলে দিয়েছে।।। তার সংলাপ- আচরণ বড্ড বেশিরকম বাংলা নাটকের কুটনা বুয়াদের মত; শেষের দিকে এসে সে কিছুটা আকর্ষণ আনতে চাইলেও ততক্ষণে সুযোগ খুব একটা ছিলনা।।। মৃগেল মাছ এতদিন ফ্রিজে রাখার ব্যাপারটাকে আমার কোনর সমস্যা মনে হয়নি।।। আসাদের ব্যভিচারীতার একটা সংকেত গল্পে দেয়া আছে, সেক্ষেত্রে সময়টা খুব একটা প্রশ্ন তুলেনা, এমনও হতে পারে, শারমিনের প্রয়াণের পর নতুন বউ আসতে খুব একটা সময় নেয়নি; এমন ভাবনা কিন্তু গল্পটাকে আরেকটা ভিন্ন প্লাটফরম থেকে দেখার সুযোগ করে দেয়।।।এমনিতে শারমিন ক্যারেক্টারটাকে আলাদাভাবে রাখতেই হবে। শারমিন টাইপ একটা ক্যারেক্টার আমিও সৃষ্টি করেছিলাম প্রায় আড়াইবছর আগে ...র্দাপ নামের একটা গল্পে।।।। Click This Link সময় পেলে পড়ার অনুরোধ রইল, সেখানে বাকি কথা হবে নাহয়।।।
লেখক বলেছেন: 'One morning, when Gregor Samsa woke from troubled dreams, he found himself transformed in his bed into a horrible vermin.'
সকালে ঘুম ভাঙতেই গ্রেগর সামসা দেখলেন- তিনি বিশাল সাইজের এক তেলাপোকায় রূপান্তরিত হয়েছেন। আমাদের এই গল্পটি শুরু হয়েছে একটা দিনের শুরুতে, শারমিন নাহারের তেলাপোকা দেখার ঘটনায়। গল্পটিতে মেটামরফসিস নেই। কিন্তু মেটামরফসিসের এলিয়েনেশন, কিংবা পারস্পরিক সম্পর্ক, কিংবা মানসিক বিপন্নতাকে নিয়ে কেন্দ্র করে এটির বিস্তার ঘটেছে। এই বিষয়টুকুর ইঙ্গিত দিতেই 'কাফকার তেলাপোকা' কথাটি ব্যবহার করেছি গল্পের শুরুতেই।
(লেখার সময়, লক্ষ্য করলাম, কিছু কিছু শব্দ বা কথা ব্যবহারের প্রবণতা আছে আমার মধ্যে। যেমন, 'কাফকার তেলাপোকা', 'হুমায়ূন আহমেদের বটবৃক্ষ', 'হাশেম খানের আকাশ'-- ইত্যাদি কথাগুলো আমি গল্পে ব্যবহার করেছি। খুব চিন্তা করে এগুলো লিখেছি- বলা যাবেনা। শুধু মনে হয়েছে এই কথাগুলো একটি দৃশ্য বা ঘটনাকে দ্রুত বুঝতে সাহয্য করবে।)
সফুরার মায়ের প্রসঙ্গে বলি। এই মহিলাটি চাকরী বাঁচানোর জন্য তেলাপোকা মারে; মনিবকে সে খুশি রাখতে চায়। কিন্তু যখন তাকে শালীনতা নিয়ে খোঁচা দেয়া হয়- সে ক্ষেপে ওঠে। তাৎক্ষণিকভাবে আমাদের 'ইজ্জত' সচেতন হয়ে ওঠার প্রবণতা তার মাঝে আছে। আবার সে বেতন বাড়ানোর প্রস্তাবে কাজে ফিরতে রাজী হয়। যদিও সে বার বার বলে লাখ টাকা দিলেও সে এই বাড়ীতে কাজ করবে না। সে শারমিন নাহারকে অপছন্দ করে। আবার তার কষ্টও সহ্য করতে পারেনা। সফুরার মায়েরও কুটনা স্বভাব ছিল। নতুন বউয়ের কাছে শারমিন নাহারের নামে নালিশ করে, শারমিন নাহারকে 'বেটি' বলে সম্বোধন করে।
তো, সফুরার মায়ের চরিত্রটি শুধু বাড়ীর-কাজের-লোকের চরিত্রের মধ্যে আটকা থাকুক- চাইনি। এটি খুব চেনা একটি মানুষ আমাদের। 'ভাল-মন্দ মিলায়ে সকলি।'
'র্দাপ' পড়তে যাচ্ছি। র্দাপ শব্দটির মানে কী?
সীমান্ত আহমেদ বলেছেন:
গল্পটা ভালো লেগেছে আমার কাছে। এর প্রথম এবং সম্ভবত মূল কারণ এর প্রকাশভঙ্গির অনন্যতা। গল্পের চরিত্রগুলোকে আমাদের আশেপাশের সাধারণ মানুষ্বের মাঝেই রাখা গেল বলেই বোধ আরো বেশি ভালো লাগলো। আপনার অন্যান্য গল্পগুলো যেমন কথকের কথায় তিলে তিলে গড়ে উঠে এর ক্ষেত্রে তার ব্যাতিক্রম ঘটেছে। গল্পের চরিত্রগুলোই গল্পটাকে গড়ে তুলেছে। এই দিকটাই মজার। সফুরার মায়ের চরিত্র নিয়ে অনেকের কাছে খটকা লাগলেও আমার কাছে সেটুকু অসংলগ্নতা দূষণীয় মনে হয় না।শারমিনের চরিত্র টার জন্য মায়ালাগানো বিরক্তি ভর করলো যেটাকে গল্পের সার্থকতা বলা যেতে পারে।
পরিশেষে ফাকিবাজ লেখককে আরো নিয়মিত গল্প লেখার অনুরোধ রইলো।
লেখক বলেছেন: অধিকাংশ বাংলা ছোটগল্প- বক্তব্যে, প্রকাশ ভাঙ্গীতে একধরনের রাশভারী চেহারার। সিরিয়াস টাইপের। খুব সম্ভবতঃ অল্প কথায় বেশী তথ্য দেয়ার ব্যাপারটা থেকে এটি তৈরী হয়েছে।
এই গল্পটিতে কাহিনীর বিস্তার ঘটেছে সংলাপের মাধ্যমে; হালকা, বিক্ষিপ্ত সংলাপ। আমি চাইনি গল্পটি খুব সিরিয়াস হয়ে উঠুক। পাঠক মজা করে গল্পটি পাঠ করবেন- এটি চেয়েছি।
নিয়মিত লিখতে হলে- টেবিলে নিয়ম করে বসতে হয়। এইবার একটা ভাল টেবিল কিনতে হবে। ![]()
আহসান হাবিব শিমুল বলেছেন:
ভালো তবে ঠিক রিপন মোস্তাফিজের সহজাত ক্ষমতার সাথে আপোষ করে।কাফকার তেলাপোকা নিয়ে আপনার ব্যাখাটা ভালো লাগলো হিমলায়ের মতো আমিও গল্পটা অন্যপ্রকৃতির হবে ভেবেছিলাম।তবে উপমাটা বেশি আঁতেলিষ্টিক হয়ে গেছে; আমার সেই সাথে অনেকেরই মাথার উপর দিয়ে গেছে।
গল্পের মাঝে দীর্ঘ কথোপকথন নতুন লাগলো।
শারমীন নাহারের চরিত্রটা খুব চমৎকার করে ফুটে ওঠেছে।
বুয়ার সংলাপের ব্যাপারটা স্টিরিওটাইপ হয়ে গেছে।এইটাকে এভয়েড করা যেতো।
শহরে আমি এমন কোন বুয়া খুজে পাইনি যারা নাটক/সিনেমা/হুমায়ন আহমদের উপন্যাসের মতো করে কথা বলে।
শেষেরটুকু মেলোড্রামা হলেও মানিয়ে গেছে।মেলোড্রামার ব্যবহার দোষের কিছু নই।ঘোটক মশায় তো তাঁর সিনেমাতে মেলোড্রামার ব্যবহার ক্লাসিক পর্যায়ে নিয়ে গেছিলেন
লেখক বলেছেন: শিমুল ভাই, আপনার মন্তব্য পেয়ে ভাল লাগছে।
আঁতলামি বাদ দিয়ে গল্প হয় নাকি?
হা হা হা হা হা...। তবে কাফকার তেলাপোকা কথাটিকে খুব গুরুত্বের সাথে সব পাঠক নেবেন, এমন আশা নেই। ওটি আঁতেল পাঠকদের জন্য। ![]()
লেখক বলেছেন: ![]()
আগাম ধন্যবাদ।
পারভেজ বলেছেন:
বেশ ঝরঝরে টানা লেখা। ধরণটা কিছুটা আটপৌড়ে, আগেরগুলির মতো নয় বলে হয়তো এমনটাই মনে হলো।"তার মনে হল, সব মানুষকেই হয়তো এমন পরীক্ষার ভেতর দিয়ে যেতে হয়। অবহেলার পরীক্ষা, টিকে থাকার পরীক্ষা।"
এরকম কিছু ভাবনায় চরিত্রের গঠন গুলি স্পস্ট হয়ে উঠে, তবে সেটা হয়তো লেখকের ভাবনা নয়।
সমাপ্তিটা একটু গতানুগতিক মনে হলো।
পুরো গল্পের ভেতর শারমিনের 'বিয়ে দেবার' ভাবনাটুকু অনেক অসাধারন লাগলো।
লেখক বলেছেন: বলার মতো আমার নিজের কোনো স্টাইল নেই, ঘরানা নেই। শুধু সংলাপ দিয়ে গল্প সাজানোর কাজ আগে আমি করিনি।
সমাপ্তিটা গতানুগতিক। তবে, শেষ বাক্যটি পাঠককের মনে আরেকটি নতুন গল্প জন্ম দেবে- এমন আশা করেছিলাম। বোঝা যাচ্ছে, অসফল চেষ্টা।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ তারার হাসি।
ফ্রিজে লিপস্টিক লাগানো মৃগেল মাছ খুব একটা দেখা যায়না ইদানিং। ![]()
পারভেজ বলেছেন:
না চেষ্টা অসফল নয়, কিন্তু পাঠক যে শারমিনকে তখনো মাথা থেকে বের করে দিতে পারেনি!
হ্যাঁ, সংলাপের কারণেই হয়তো এটা হয়েছে, অন্য গল্পে বর্ণনা যেভাবে শব্দের সাথে শব্দ জুড়ে, সংলাপের সেটা দেয়া ঠিকও নয় হয়তো।
লেখক বলেছেন: একটা মজার বিষয় হল- সাম্প্রতিক বাংলা উপন্যাসে, মানে বাংলাদেশের লিখিয়েদের উপন্যাসে- বর্ণনার তুলনায় সংলাপ একটি বড় স্থান নিয়ে আছে। সেভাবে ছোটগল্পে এই প্রবণতাটি তেমন ভাবে ঢোকেনি।
গ্রাউন্ড ফ্লোর বলেছেন:
গফ ভালা হৈচে। চাইরজন পিরিওতে লৈসে। পেলাচ।
লেখক বলেছেন: গ্রাউন্ড ফ্লোরের শো'কেসে!! থ্যাঙ্কু!!
আগামি বলেছেন:
কিছু কথা বুক ও বুক পকেটে - বা এরকমই হবে নামটা ঠিক মনে নেই ।আবৃত্তিকারকে জানতাম । এখন অন্য রিপনকে জানলাম ।
লেখক বলেছেন: কিছু ফুল বুক ও বুকপকেটে...
আগামী ভাল থাকুন।
মুক্তি মণ্ডল বলেছেন:
মুগ্ধ। একটানে পড়ে শেষ করলাম। ভাল থাকবেন।
লেখক বলেছেন: মুক্তি দা, অনেক খুশি হয়েছি আপনার মন্তব্য পেয়ে।
আকাশচুরি বলেছেন:
অসামান্য!!
লেখক বলেছেন: তারেক ভাই, নতুন লেখা কই?
লেখক বলেছেন: দারুণ!!!!
শান্তির দেবদূত বলেছেন:
গল্পটা পড়ে কিছুক্ষণ নির্বাক হয়ে বসে ছিলাম ...... খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ না করলে এমন লেখা লেখা অসম্ভব! আর যদি কেউ লেখেই তার কল্পনাশক্তি রীতিমত ঈর্ষনীয় ...... লাখে একটা এমন গল্প পড়া হয়।
আমার পড়া আপনার সেরা গল্প আরও সঠিক মূল্যায়ন করলে সামহোয়ারের সেরা এটা.......
লেখক বলেছেন: এতক্ষণ ফুলছিলাম... এইবার ফাটার সময় হলো বোধ হয়! হায় হায়!
মুক্তি মণ্ডল বলেছেন:
আমি আপনার গল্প্ এই ব্লগেই প্রথম পড়ি। অনেকটা লুকিয়ে লুকিয়ে বলতে পারেন। কখনও মন্তব্য করা হয়নি। ভাল লাগা না লাগাও জানানো হয়নি। তো, মনে হলো জানানো দরকার। যোগাযোগও দরকার। ভাল থাকবেন।
লেখক বলেছেন: মুক্তিদা, অনেকদিন পরে মন্তব্যের জাবাব দিচ্ছি। ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। আলসেমী করে লেখা হয়নি।
আপনার মন্তব্য আমাকে প্রাণিত করবে। জোনাক রোডের পরবর্তী প্রকাশনার কাজ শুরু হয়েছে?
লেখক বলেছেন: (ফারহান ভাই, ঈদের দিন আপনার লেখাটা পড়লাম। পড়া শেষ হলে কী বলব ভেবে পাচ্ছিলাম না। ... আমাদের ঈদের শুভেচ্ছাগুলো অনেক শোকের সাথে গলাগলি করে থাকে। অনেক কান্নায় মিলেমিশে থাকে।)
ভাল থাকুন; যতটুকু ভাল থাকা যায়।
মনজুরুল হক বলেছেন:
আশপাশের ববস্তুগুলোও যে গল্পের চরিত্র হয়ে উঠতে পারে সেটা আগেও দেখেছি, কিন্তু তার নিখুঁত বর্ণনা এখানে দেখলাম। এটুকুই অসাধারণ বুয়া-শারমিন-আসাদ-নতুন বউ, সব মিলে যে টান টান অভিঘাত হওয়ার কথা ছিল তা যেন হলো না। এই পর্যায়ে হিমালয়৭৭৭
এর সাথে সহমত।
শারমিনের কেন এমন মনোবিকলন সেটা উহ্য রয়ে গেছে। তার পরও একটি অসাধারণ গল্প পড়ে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।
লেখক বলেছেন: আরে মনজুর ভাই! কী সৌভাগ্য আমার!
(সত্যি খুব ভাল লাগছে আপনার মন্তব্য পেয়ে।)
যীশূ বলেছেন:
আচ্ছা, আপনি কি মাসে একটার বেশি গল্প দিবেন না বলে ঠিক করেছেন? গত কয়েকমাসে ১টার বেশি পোস্ট নাই। তো, ডিসেম্বর মাস তো চলে এলো। এ মাসের গল্পটা দেন।লেখক বলেছেন:
বটে!
আমার কী এত বুদ্ধি ঘটে?
একজন সৈকত বলেছেন:
অসাধারন\অপূর্ব\মুগ্ধকর----- কোন বিশেষণই এই লেখায় মন্তব্য করার মত সমতুল্য নয়।আধাঁরী ভোরে এক নিঃশ্বাসে পড়লাম... কি করে এত দারূন লিখেন?
প্রিয়তে...
আমার প্রিয় কয়েকটি লাইন...
"সফুরার মা দরজায় কান পেতে রইল। তার মনে হল, সব মানুষকেই হয়তো এমন পরীক্ষার ভেতর দিয়ে যেতে হয়। অবহেলার পরীক্ষা, টিকে থাকার পরীক্ষা। এ পরীক্ষা সে নিজে দিয়েছে, সফুরা দিয়েছে, ইদ্রিসের বউ দেবে, শারমিন নাহার দিচ্ছে।"
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ সৈকত। আপনার মন্তব্য পেয়ে ভাল লাগছে।
নীল ভোমরা বলেছেন:
এক কথায়.... চমৎকার!
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: ![]()
সুলতানা শিরীন সাজি বলেছেন:
রিপনের গল্পের অদ্ভত দিক হলো টান।,,,,,,,,,,,,,,,
এই টানে গল্প শেষ না হ্ওয়া পর্যন্ত্য ছুটতে থাকি শেষের দিকে.........
অনেকদিন পর।
ভালো জিনিস অবশ্য কমই ভালো।
অনেক শুভকামনা রইলো।
লেখক বলেছেন: সাজি আপা, অনেক খুশি হয়েছি আপনাকে দেখে।
এই বইমেলায় নতুন বই আসছে?
েজবীন বলেছেন:
দারুন! ... আপনার গল্প শুরু করে মাঝপথে ছেড়ে উঠেছি এমনটা কখনোই হয়নি, দেবদূতর সাথে একমত আসলেই আপনার কল্পনাশক্তির ঈর্ষনীয় ব্যবহার ভাল লাগায় অনেক....
লেখক বলেছেন: আপনার মন্তব্যে অনেক খুশি হয়েছি।
নতুন বউ লিপিস্টিক মাখানো মৃগেলমাছের দিকে তাকিয়ে রইলেন। আঁশ ছাড়ানো মাছের চোখের সাথে মানুষের দৃষ্টির এত মিল!
এইখানে দারুন একটা মোচর দেয়া হইলো।
লেখক বলেছেন: আরে বাপ্পী ভাই যে! অনেক খুশি হয়েছি আপনাকে দেখে।
আশরাফ মাহমুদ বলেছেন:
অফলাইনে পড়েছিলাম। যেহেতু দেরীতে উপস্থিতি এবঙ আমার পূর্বেই অনেকে আলোচনা করে গেছেন- ভাললাগা জানানো ছাড়া বিশেষ কিছু নেই। নিয়মিত লিখবেন।
লেখক বলেছেন: আশরাফ ভাই, শুভেচ্ছা রইল আপনার জন্য।
প্রণব আচার্য্য বলেছেন:
নতুন পাবো কবে?
লেখক বলেছেন:
কবি, কেমনে কব কবে? চেষ্টা চালাই, হয়না...
(আমার ডেল কোম্পানীর কি-বোর্ডে মরচে ধরে গেছে। দশ আঙ্গুলেও।)
লেখক বলেছেন: সাজি আপা, লিখব। কিন্তু, কী যে লিখি?
যীশূ বলেছেন:
নতুন গল্প কই?
লেখক বলেছেন:
কাঠকয়লায় আঁকা
(কেমন আছেন যীশূ?)
লেখক বলেছেন: গল্পের শেষে হয়তো শারমিন নাহারকে আর দরকার নেই আমাদের। বেচারী!
অনেকদিন পরে মন্তব্যের জবাব দিলাম, ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।
আপনার শান্তিনিকেতনের ডায়েরী ভাল লাগছে।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ চতুষ্কোণ। শুভাশিষ রইল আপনার জন্য।
যীশূ বলেছেন:
লেখক বলেছেন: যীশূ, কৃতজ্ঞতা জানুন। (আপনাকে দেখলেই মনটা ভাল হয়ে যায়।)_____________________________________________
ব্রাকেটের কথাটা ঠিক বলেননি মনেহয়। কেননা, আপনি কিন্তু আমাকে কখনো দেখতে যান না, আমিই আপনাকে খুঁজতে আসি।
লেখক বলেছেন: হায় হায়... এমন কইরা কেউ কাউরে শরম দেয়!?
(মন ভাল হওয়ার কথাটা কিন্তু মিছা না। বিদ্যার কিরা...)
শরিফ নজমুল বলেছেন:
ভালো লাগলো।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ শরিফ।
অনুপম হাসান বলেছেন:
বেশ বিলম্ব হলো, তারপরও গল্পটি ভালো করে পড়ে, অতঃপর দুটি কথা সবিনয়ে নিবেদন করলাম ...শারমিন নাহারের বিয়ে হলেও সন্তান হয় নি, সম্ভবত এজন্য তার বিলম্বে বিয়ের ব্যাপারটিই দায়ী ছিল। সন্তানহীনতা কিংবা স্বামী আসাদের উপেক্ষায় এই শিক্ষিতা মহিলা মানসিক ভারসাম্য হারিয়েছিল, সেসব তথ্য জানা না গেলেও কাজের মেয়ে সফুরার সাথে তার কথোপকথন থেকে বুঝতে অসুবিধা হয় না যে, মানসিক ভারসাম্যহীন শারমিন নাহার তার স্বামী আসাদকে বিশ্বাস করতো না। এজন্য সে বাড়ির বয়স্ক ঝি সফুরার মাকেও সন্দেহের তালিকা থেকে বাদ দেয় নি। এমন কি তার শালীনতা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করায়, কর্ত্রীর পাগলামির কথা জানা সত্ত্বেও কাজ ছেড়ে দিতে প্রস্তুত ছিল সফুরার মা। যদিও কর্তার নির্দেশে ইদ্রিসের সাথে পুনরায় সফুরার মা ফিরে আসে, তারপরও মানসিক ভারসাম্যহীন শারমিন তার শালীনতা নিয়ে কথা বলে।
অথচ গল্প যেখানে শুরু হয়েছিল-- সেখানে ছিল কাফকার তেলাপোকা; যা পাঠকের প্রত্যাশাকে ভীষণ বাড়িয়ে দেয়। কিন্তু এর পরিণামে যখন আসাদ পুনরায় বিয়ে করে এবং প্রথম স্ত্রী শারমিনের কোন তথ্যই থাকে না গল্পে তখন এর অঙ্গহানি ঘটে। এভাবে গল্পটির সূচনায় যে প্রত্যাশা জাগে পাঠকের মনে তা দ্রুত গল্পের ভেতরে প্রবেশ করার পর স্তিমিত হয়ে পড়ে। অর্থাৎ সার্বিক বিচারে গল্পটি ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। মানব জীবনে কার্যকারণের যে অবিচ্ছেদ্য গ্রন্থন তা থেকে সরে যাওয়ার কারণেই গল্পকারের অপরিণামদর্শিতা ফুটে উঠেছে।
লেখক বলেছেন: কৃতজ্ঞতা জানুন হাসান ভাই... অনেক অনেক...
Click This Link
তাশমিয়া বলেছেন:
অসাধারণ একটি গল্প।
আমি উঠে এসেছি সৎকারবিহীন বলেছেন:
মাইন্ডব্লোয়িং! শারমিন নামের এই সাইকোটিক ক্যারাক্টারটা ভাবাইল অনেক; যদিও খালি কিনার দিয়েই ঘুরপাক খাইলাম, তল পাওয়ার ক্ষমতা নাই।
কবি ও কবিতা বলেছেন:
মুগ্ধ হয়ে পড়লাম
সে যাই হোক - পাঠক কিন্তু মুগ্ধ । পাঠকের মুগ্ধতায় ভর করে আপনার গল্প উঠুক সমালোচকের দেখানো উচ্চতায় -সেই কামনা থাকলো ।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...


















