প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপুমনি গত বুধবার পাকিস্তানে বিমান দুর্ঘটনায় শোক প্রকাশ করে বার্তা পাঠিয়েছেন সে দেশের সরকারের কাছে।
ওই বার্তায় তারা বলেন, "ইসলামাবাদের কাছে সংঘটিত বিমান দুর্ঘটনায় আমরা গভীরভাবে দুঃখিত ও মর্মাহত।" অনাকাঙ্খিত ওই দুর্ঘটনায় নিহতদের আত্মীয় ও পাক সরকারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন এবং নিহতদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়াও করেছেন তারা।
স্বাভাবিকভাবে পৃথিবীতে একটি দেশের দুঃখ-দুর্দশা ও হঠাৎ নেমে আসা বিপর্যয়ে আরেকটি দেশের সমবেদনা জানিয়ে বার্তা পাঠানো একটি সাধারণ রেওয়াজ। আর দেশটি যদি বন্ধুদেশ হয় তো সেটি অবশ্য কর্তব্য ব্যাপার।
কিন্তু আমার প্রশ্ন, পাকিস্তান আমাদের বন্ধুদেশ কিনা! বাংলাদেশে ১৯৭১ সালে বর্বরোচিত গণহত্যা চালিয়ে যে দেশ আমার দেশের ৩০ লাখ সাধারণ জনগণকে হত্যা করলো, ৪ লাখ অসহায় নারীকে ধর্ষণ করলো, দেশের সব সম্পদ লুট করলো, এবং পরবর্তীতে কেউই তার বিচার করলো না, অন্যায়ের ক্ষমাও চাইলো না - তাদের প্রতি কীসের এতো সমবেদনা, কীসের এতো মায়া-মহব্বত থাকতে পারে? এখনো বাংলাদেশের আপামর জনগোষ্ঠী মনে-প্রাণে পাকিস্তানিদের ঘৃনা করে। তাদের প্রতি এদেশের কারোই কোনো বন্ধুত্ব বা ভালবাসা নেই। কিন্তু সরকারী তরফে এই ভালবাসার কোনো ঘাটতি নেই। ওদের সঙ্গে সুসম্পর্ক না রাখলে বাংলাদেশের কোনো ক্ষতি হবার সম্ভাবনাও নেই।
এখনো পাকিস্তান বিশ্বের সবচেয়ে ঘুনিত সন্ত্রাসী রাষ্ট্র। ওখানে সন্ত্রাসী তৈরি ও বহির্বিশ্বে রফতানী হয়। আমাদের দেশের সব জঙ্গী ও তালেবানদের মূলঘাটি হচ্ছে পাকিস্তান। স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত ওই দেশটি নানাভাবে আমাদের যত ক্ষতি করে চলেছে সেরূপ অন্য কোনো দেশ করছে না বা করেনি। কাজেই পাকিস্তানের সঙ্গে সকল কুটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করলে আমার মনে হয় বাঙালি জাতি হিসেবে আমাদের ব্যক্তিত্ব ও মান-সম্মান দুনিয়াব্যাপী কিছু বাড়বে বৈ কমবে না। বর্তমান সরকার জামায়াত, বিএনপি, জাতীয় পার্টির মত নতজানু পররাষ্ট্রনীতির উপর ভর করে এখনো দেশ পরিচালনা করতে চাইছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বলে আওয়ামী লীগের কি কিছুই আর অবশিষ্ট নেই?
তথাকথিত এই সম্পর্কের মধ্যে কোথায় যেন একটা ঘাপলা লুকিয়ে আছে - যেটি জাতির কাছে পরিস্কার হওয়া দরকার।
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:৩৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



