somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আজ ২১ জুলাই কর্নেল তাহের এঁর মৃত্যুদিবস

২১ শে জুলাই, ২০১০ সকাল ৭:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

খুনী জিয়া জানতো , তিনি বেঁচে থাকলে জিয়ার ক্ষমতায় থাকা কঠিন হবে। তাই তাঁকে হত্যার জন্য জিয়া ছিল মরিয়া।
এক প্রহসনের বিচারের মাধ্যমে হত্যা করেছিল বীর মুক্তিযোদ্ধা তাহের কে।

'আমি ওদের সময় আমার মতো দিঘি খুঁড়েছিলাম বলে/আমার দিঘিতে পানি ওঠেনি। আমি ওদের সময়ে আমার মতো করে চাষ করেছিলাম বলে/আমার জমিতে শস্য জন্মেনি।'
এ কবিতায় ব্যক্তির স্বাতন্ত্র্যবোধের মতো ছিল কর্নেল তাহেরের ভিন্নমাত্রার স্বকীয়তা। বাংলাদেশের রাজনীতির সমসাময়িক ধারা থেকে স্পষ্ট ও ভিন্ন ছিল তাঁর রাজনৈতিক ভাবনা। তিনি ভেবেছিলেন সমাজতন্ত্রের কথা। সুর মেলাননি কারো বেঁধে দেওয়া সুরে। আপস করেননি নিজের বিশ্বাসের সঙ্গে, আর তাই ফাঁসির মঞ্চে উঠেও উদাত্ত স্বরে আবৃত্তি করেছিলেন 'জন্মেছি মৃত্যুকে পরাজিত করব বলে।'
স্বাধীনতা-পরবর্তী ইতিহাসে অন্যতম উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক পদক্ষেপ ৭ নভেম্বরের সিপাহি অভ্যুত্থানের নায়ক কর্নেল মো. আবু তাহের। ১৯৩৮ সালের ১৪ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন তিনি। ১৯৬০ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। ১৯৭১ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনী থেকে পালিয়ে এসে অংশ নেন মুক্তিযুদ্ধে। দায়িত্ব নেন ১১ নম্বর সেক্টরের। একটি বিষয় উল্লেখ করা প্রয়োজন, কর্নেল তাহেরের সব ভাই-বোন একই সঙ্গে তাঁর নেতৃত্বে অংশ নিয়েছিলেন মুক্তিযুদ্ধ ও সিপাহি অভ্যুত্থানসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ সংকটে। কর্নেল তাহের অনেকভাবেই ইতিহাসে অন্যতম, তিনিই প্রথম বাঙালি অফিসার হিসেবে পাকিস্তান আর্মির কমান্ডো দলে অন্তর্ভুক্ত হয়ে প্যারাসুট জাম্পিংয়ের নেতৃত্ব দেন।

আইয়ুব খানের সামরিক শাসনের ফলে তৎকালীন পাকিস্তানের কমিউনিস্ট আন্দোলনের নাজেহাল অবস্থায় সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন সামরিক প্রশিক্ষণ নিয়ে সমাজতন্ত্রের বীজ বপনের। তাই পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ভেতরে থেকেও সম্পর্ক রেখেছিলেন সশস্ত্র সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত হতে থাকা মানুষের সঙ্গে। ১৯৬৯ সালে সিরাজ শিকদারের সঙ্গে টেকনাফে ঘাঁটি গড়ে প্রস্তুতি নিয়েছিলেন সংগ্রামের। ছুটি নিয়ে গোপনে তরুণদের আর্মস্ ট্রেনিং দিতেন, কী গভীর প্রত্যয় থাকলে সেনাকর্মকর্তা হয়েও এত বড় ঝুঁকি নেওয়া যায়, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। ১১ নম্বর সেক্টরে দায়িত্ব পালনের সময় প্রচলিত ব্রিগেড গড়ার বদলে মনোযোগ দিয়েছিলেন গেরিলা যোদ্ধা তৈরিতে। নিজস্ব সেক্টরের কম্পানিগুলোয় পলিটিক্যাল কমিশনার হিসেবে বাম আদর্শের তরুণদের নিয়োগ দেওয়া নিয়ে জেনারেল ওসমানীর সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়তেও পিছপা হননি। ১৪ নভেম্বর কামালপুর অপারেশনে একটি শেল উড়িয়ে দিয়েছিল তাঁর পা।
থেমে যাননি, মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ক্র্যাচে ভর করে নিজের আদর্শ বাস্তবায়নের লড়াই করে গেছেন কর্নেল তাহের। স্বাধীনতার পরই বুঝতে পেরেছিলেন দেশের আসন্ন সংকট। সেনাবাহিনী পরিবর্তন করে চেষ্টা করেছেন পিপলস আর্মি তৈরির। খুঁজতে থাকেন স্বকীয় একটি বাম দলের। কিন্তু আপসহীন মনোভাবের কারণে কর্নেল তাহের সুর মেলাতে পারছিলেন না কারো সঙ্গে। ১৯৭২ সালে গঠিত জাসদের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন। বঙ্গবন্ধু হত্যার ঘটনায় স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন, পটপরিবর্তন চেয়েছেন ঠিকই, কিন্তু এমন নির্মম উপায়ে নয়। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহি অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেন। এরপর ঘটে রাজনৈতিক ইতিহাসে অন্যতম ফাঁসির প্রহসনের ঘটনা। কর্নেল তাহেরকে সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ও রাষ্ট্রদ্রোহের মিথ্যা মামলায় ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে অবস্থিত বিশেষ ট্রাইব্যুনাল ফাঁসির আদেশ দেন। ১৯৭৬ সালের ২১ জুলাই ফাঁসি হয় কর্নেল তাহেরের।

আপাতদৃষ্টিতে ব্যর্থ এই কর্নেলের প্রসঙ্গ এখনো অমীমাংসিত। তাঁর লক্ষ্য অর্জনের উপায় নিরূপণ অস্পষ্ট হলেও তাঁর একটি উক্তিই বুঝিয়ে দেয় তাঁর ব্যাপ্তি। কর্নেল তাহেরই বলে গেছেন, Nothing is greater than possession of a fearless mind.

নিঃশংক চিত্তের চেয়ে বড় কিছু নেই ।

তাঁর চেতনা বাঙালীর পাথেয় হবে যুগে যুগে ।

সর্বশেষ এডিট : ২১ শে জুলাই, ২০১০ সকাল ৭:৫৯
১৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×