ঘর জামাই সাঈদী ছিলেন মুদি দোকানদার
ওপেনিং স্টেটমেন্টে প্রসিকিউশন
.
.
.
জেসমিন পাপড়ি: / দৈনিক আমাদের সময় ২১ নভেম্বর ২০১১
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিচারের মূল কার্যক্রম আরম্ভ হয়েছে। গতকাল তার বিরুদ্ধে ওপেনিং স্টেটমেন্টে বলা হয়, মুক্তিযুদ্ধের আগে সাঈদী ছিলেন পিরোজপুরের পাড়ের হাটের এক বাড়ির ঘর জামাই। একটি মুদি দোকান চালাতেন তিনি। একাত্তরের সময় লুটপাট করে কোটি কোটি টাকার মালিক হন।
বিচারপতি নিজামুল হক নাসিমের নের্তৃত্বে ৩ সদস্যের ট্রাইবুনালে ওপেনিং স্টেটমেন্টে প্রসিকিউশনের বক্তব্যে আরও বলা হয়, যুদ্ধ শুরু হলে শান্তি কমিটির সদস্য হয়ে সেখানকার ফকির দাসের ভবনে তিনি রাজাকার ক্যাম্প তৈরি করেন। সাঈদী ও তার রাজাকার বাহিনী নির্মমভাবে হত্যা, লুণ্ঠন, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত করতে পাক বাহিনীকে সহায়তা করেন। তার আসল নাম আবু নাঈম মোহাম্মদ এবং তিনি মাওলানা নন বলে সেফ হোমে স্বীকার করেছেন। দীর্ঘ ৮৭ পৃষ্ঠার ওপেনিং স্টেটমেন্টের ৬১ পৃষ্ঠা গতকাল পড়ে শোনানো হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান আইনজীবী গোলাম আরিফ টিপু বলেন, এ বিচার কোনও রাজনৈতিক অভিলাষ বা ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্য নয়। আইনের শাসন, গণতন্ত্র, মানবাধিকারকে বাংলার মাটিতে পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য। তিনি তার বক্তব্যে বাঙালি জাতির সূচনাকাল থেকে মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত দীর্ঘ ইতিহাস তুলে ধরেন। তাকে সহযোগিতা করেন আরেক প্রসিকিউটর সৈয়দ রেজাউর রহমান। এর আগে এক আদেশে প্রসিকিউশনকে আগামী ৭ ডিসেম্বর সাক্ষি হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়। একইদিন মামলার প্রয়োজনীয় নথিসহ আসামিপক্ষের সাক্ষিদের তালিকা ট্রাইবুনালে জমা দেওয়ার জন্য বলা হয়। অন্য এটি আদেশে বলা হয়Ñ ট্রাইবুনালের চেয়ারম্যানের প্রতি অনাস্থা জানিয়ে সাঈদীর আইনজীবীদের করা আবেদনের আদেশ দেওয়া হবে আগামী ২৩ নভেম্বর। অন্যদের মধ্যে সাঈদীর পক্ষে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, খন্দকার মাহবুব হোসেন, ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক এবং রাষ্ট্রপক্ষের অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বক্তব্য রাখেন।
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে নভেম্বর, ২০১১ দুপুর ১২:০৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

