somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কতদিন বিএসএফ নৃশংসতা চালিয়ে যাবে **/ রতন বসু মজুমদার

০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০১২ সকাল ৯:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কতদিন বিএসএফ নৃশংসতা চালিয়ে যাবে
রতন বসু মজুমদার

'এখানে বনগাঁর কাছে আগুনের লেলিহান শিখা
গিলে খায় শিশুদের কাঁথাকানি; যমের দোসর
জওয়ানেরা বাচ্চা নিয়ে লোফালুফি খেলে; যত পিতা
হেঁটমু- বসে, মাথা অর্ধেক কামানো; রমণীরা
ধর্ষিতা হওয়ার আগে, গুটিসুটি, শেষবারের মতো
ঠিকঠাক করে নেয় যার যার বুকের কাপড়।
ভেবেছিল কাঁটাতার, ভাবেনি যে শাঁখের করাত
পোড়া পেট, সেকি আর দেশ বোঝে, অনন্ত বসুধা
আজ এই গল্পের শেষ ছড় টেনে অগি্নদৃষ্টি হেনে
ঢুকে যায় অন্য গল্পে_ ভয় নেই, সন্দেহের আবিলতা নেই,
তাদের মুখের রূপে বুঝি কবরেরও বুকে জাগে বিস্ময়।'
_শৈবাল দত্ত
১১ সেপ্টেম্বর, ১৯৯২ বনগাঁ সীমান্তে যে নারকীয় ঘটনা ঘটেছিল, কবি তার চালচিত্র এঁকেছেন তার কবিতায়। ঘটনাটি পরদিন, তার পরের দিন এবং তারও পরের দিন সংবাদপত্রে ছাপা হয়েছিল। এই মানুষদের বাংলাদেশে পুশব্যাক করার উদ্দেশে দিলি্ল থেকে ট্রেনে নিয়ে এসে বনগাঁর নোম্যানস-ল্যান্ডে ঠেলে দেয়া হয়েছিল বর্ণনাতীত অত্যাচারের পর। বাংলাদেশ রক্ষীবাহিনী অর্থাৎ বিডিআর তাদের 'বাংলাদেশের নাগরিক নয়' এই অজুহাতে ঢুকতে দিতে চায়নি। পরপর তিন দিন শিশু, বৃদ্ধ, মহিলারা ওইভাবে পড়েছিল আশ্রয়হীন, খাদ্যহীন, এমনকি তৃষ্ণার জল পর্যন্ত অমিল অবস্থায়। চতুর্থ দিন রাতের অন্ধকারে বিডিআর শেষ পর্যন্ত তাদের নিয়ে চলে যায়।
পাঠকের হয়তো স্মরণে থাকবে, একটি ট্রেনবোঝাই করে তথাকথিত বাংলাদেশি নাগরিকদের শিয়ালদা হয়ে বনগাঁ সীমান্তে পুশব্যাকের উদ্দেশে দিলি্লর পুলিশকর্তারা শিয়ালদার উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন। ট্রেনের প্রায় সব যাত্রীই ছিলেন হাওড়া এবং মেদিনীপুর জেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা। তারা দিলি্ল এবং হরিয়ানায় জরিবুটির কাজ এবং গয়না তৈরির কাজে গিয়েছিলেন খিদের জালায়। তারা তাদের পরিচিতিপত্র দেখিয়ে পুলিশকর্তাদের বারবার বোঝানোর চেষ্টা করেছিলেন যে, তারা বাংলাদেশি নন, তারা পশ্চিমবঙ্গের অধিবাসী। আসলে তাদের নাম শুনলেই বোঝা যায়, তারা মুসলমান, তার উপর তারা বাংলায় কথা বলেন। অতএব পুলিশকর্তাদের সিদ্ধান্ত নিতে সময় লাগেনি যে, তারা সব বাংলাদেশি। উলুবেড়িয়া স্টেশনে যখন ট্রেনটি এসে দাঁড়ায়, তখন তৎকালীন ফরওয়ার্ড বস্নকের এমএলএ প্রয়াত রবীন্দ্রনাথ ঘোষ কয়েক হাজার মানুষ নিয়ে ট্রেনটি ঘিরে ফেলেছিলেন। উদ্ধার করেছিলেন রাজ্যের সব নাগরিককে। এই ঘটনায় রবীন্দ্রনাথ ঘোষকে দেশদ্রোহী হিসেবেও চিহ্নিত করার চেষ্টা হয়েছিল। বস্তুত, 'বাংলাদেশি' এই অভিধায় বাংলাভাষী মুসলমানদের প্রতিনিয়তই সংকটে পড়তে হয়, আর এই ট্র্যাডিশন সমানে চলেছে।
গরু পাচারের অভিযোগে এক বাংলাদেশি যুবককে সম্পূর্ণ নগ্ন করে বীভৎস অত্যাচারের ঘটনাটি ঘটেছে অতি সম্প্রতি। বাংলাদেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার মতিঝিল গ্রামের বাসিন্দা ওই যুবক ভারত থেকে গরু নিয়ে যাচ্ছিল বলে অভিযোগ। বিএসএফের বীর পুঙ্গবদের হাতে ধরা পড়ার পর একে একে তার লুঙ্গি, জামা, সোয়েটার, টুপি অর্থাৎ পরিধেয় সব বস্ত্র খুলে নেয়া হয়। লুঙ্গিটি ছিঁড়ে দু'টুকরো করে দুটি হাতকে বাঁধা হয় পিছমোড়া করে একটি ছোট লাঠির সঙ্গে। তারপর চলতে থাকে, চলতেই থাকে পাঁচ ছ'জন রক্ষীর অমানবিক মার। এ রকম ঘটনা প্রতিনিয়তই ঘটে থাকে সীমান্তবর্তী অঞ্চলে, কিন্তু খবর হয় না। এই ঘটনাটি খবরের শিরোনামে চলে আসে, কারণ বিএসএফ জওয়ানদেরই একজন এই অত্যাচার দেখে মোবাইলে গোটা দৃশ্য রেকর্ড করেন এবং সংবাদমাধ্যমে পাঠিয়ে দেন।
গার্ডিয়ান পত্রিকায় ২৩ জানুয়ারি ২০১১, হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া ডাইরেক্টর ব্রাড আডামস এক দীর্ঘ নিবন্ধে লেখেন, 'গত দশ বছরের বেশ সময় ধরে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী প্রায় ১০০০ মানুষকে খুন করে, যাদের বেশিরভাগই বাংলাদেশি। তারা সীমান্ত এলাকাকে দক্ষিণ এশিয়ার হত্যাভূমিতে পরিণত করেছে। এ কারণে কাউকে কোন শাস্তিত্মভোগ করতে হয়নি, যদিও প্রমাণপত্রসহ বহু মামলা দায়ের করা হয়েছে। হত্যাকা-গুলো হয়েছে পরিকল্পিতভাবে এবং ঠা-া মাথায়।' আতঙ্কের বিষয় হলো, কিছু ভারতীয় কর্তাব্যক্তি মনে করেন, কোন বাংলাদেশি সীমান্ত পেরিয়ে ভারতীয় সীমায় ঢুকলে তাদের হত্যা করার অধিকার নিরাপত্তারক্ষীদের রয়েছে। অথচ হত্যার শিকার এই মানুষরা সবাই নিরস্ত্র এবং খিদের জ্বালায় ঢুকতে বাধ্য হন। মেক্সিকো আমেরিকান সীমান্তে একটি হত্যাকা- ঘটলেই তার বিরুদ্ধে সব গণমাধ্যম ঝাঁপিয়ে পড়ে।
অথচ, এত বিপুলসংখ্যক গ্রামবাসী ভারতীয় জওয়ানদের হাতে নিহত হলেও তাকে উপেক্ষা করা হয়।' সীমান্তে নিয়ন্ত্রণের পূর্ণ অধিকার রয়েছে ভারতের, কিন্তু ভারতীয় বাহিনীর এই অধিকার নেই যে, তারা তুচ্ছ কারণেও এ রকম বীভৎস বলপ্রয়োগ করতে পারে। বিএসএফের প্রধান রমন শ্রীবাস্তব বলেছেন, কারোরই এই নিহত মানুষদের জন্য দুঃখ পাওয়া উচিত নয়। কারণ, এরা সব অনুপ্রবেশকারী এবং সাধারণত রাতের অন্ধকারে সীমান্ত পেরিয়ে আসে। তারা কেউই সাধারণ নয় এবং তার ফলেই তাদের এই শাস্তি পেতে হয়।'
মানবাধিকার সুরক্ষা মঞ্চের সম্পাদক কিরিটি রায় জানান, তার সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত অঞ্চল মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে এবং নারী পাচারের বিরুদ্ধে কাজ করে চলেছে। 'মাসুম' সম্প্রতি জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে সদস্য সত্যব্রত পালকে এক চিঠিতে জানায়, ২৯ নভেম্বর, ২০১১, রাত ১২টায় মুর্শিদাবাদ জেলার হরিহরপাড়ার পুলিশ স্টেশনে একদল হিংস্র পুলিশ লতিফা বিবির বাড়িতে হানা দেয়। শুধু অশ্রাব্য গালাগালিই নয়, তার সঙ্গে আপত্তিকর অশালীন আচরণ করে, বাড়ির সব জিনিসপত্র ভেঙে চুরমার করে। তারপর লতিফা বিবিকে টেনেহিঁচড়ে পুলিশের গাড়িতে তুলে গাড়ির মধ্যে ধর্ষণ করে। হরিহরপাড়া থানায় নিয়ে গেলে দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক তাকে ভয় দেখায়, ঘটনাটি কারও কাছে প্রকাশ করলে প্রাণে মেরে দেয়া হবে। সাদা কাগজে ভুল তথ্য দিয়ে একটি মামলা রুজু করে। ৩০ তারিখ রাত সাড়ে ১০টায় তাকে হরিহরপাড়া বস্নক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসার পর রাত সাড়ে ১১টায় বাড়িতে ফেলে যায়। লতিফার রক্তক্ষরণ চলতেই থাকে। ২ ডিসেম্বর, ২০১১, লতিফাকে পাড়ার লোকেরা বহরমপুর নিউ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। আসলে লতিফার স্বামী কুতুবউদ্দিনের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বেই থানায় একটি মামলা রুজু হয়, যার নম্বর ৮৭১ এবং যা জামিনযোগ্য অপরাধ। কুতুবউদ্দিন ৩০ নভেম্বর রাত ১১টায় থানায় আত্মসমর্পণ করে এবং পুলিশ আধিকারিকদের কাতর আবেদন জানায়, স্ত্রীকে ছেড়ে দেয়ার জন্য। কিন্তু ইতোমধ্যেই লতিফা বীভৎস অত্যাচারের শিকার হয়েছে। ১ ডিসেম্বর কুতুবউদ্দিন কোর্ট থেকে জামিন পায় লতিফা পুলিশ সুপার এবং জেলাশাসকের কাছে ৫ ডিসেম্বর, ২০১১, তারিখে অভিযোগ লিপিবদ্ধ করে এবং এও জানায়, সে তখনো বহরমপুর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। লতিফা তার অভিযোগপত্রে ধর্ষণসহ যা যা অপরাধ পুলিশ বাহিনী করেছে, তার সব বিবরণ লিপিবদ্ধ করে। শেষ পর্যন্ত লতিফা ১৮ ডিসেম্বর, ২০১১, হাসপাতাল থেকে ছাড়া পায়।
উত্তর চবি্বশ পরগনা জেলার বাদুরিয়া থানায় এক নাবালিকাকে অপহরণ করার অভিযোগ দায়ের করে তার বাড়ির লোকরা। এলাকাটি সীমান্তসংলগ্ন। নাবালিকা মেয়েটির বিয়ে হয়েছিল আবদুল্লা ম-লের ছেলে ফকির আহমেদ ম-লের সঙ্গে। একই গ্রামের বাসিন্দা তারা। ২০১১ সালের ৩০ মে, মেয়েটিকে তুলে নিয়ে যায় আবদুল হোসেন সরদারের ছেলে মহসিন সরদার ওরফে খোকন এবং মোসলেম ম-লের ছেলে মনিরুল ম-ল। এরা দু'জনই গোকুলপুর গ্রামের বাসিন্দা, যে গ্রামটি স্বরূপনগর থানার অন্তর্ভুক্ত। মেয়েটির বাবা বাদুরিয়া পুলিশ স্টেশনে এফআইআর দাখিল করে, যার কেস নম্বর ১৫.০৮.২০১১'র ৩৬৩/৩৬৬ ভারতীয় দ-বিধির ধারায়। অত্যন্ত আশঙ্কার বিষয়, অপহরণকারীরা এখনো অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছে। পুলিশ নির্বিকার। মেয়েটি সম্প্রতি বেঙ্গালুরুর একটি টেলিফোন নম্বর (০৮০৫০৫৫২১৫৪) থেকে ফোন করে বাবাকে জানায় যে, তাকে বেঙ্গালুরুতে একটি পতিতা পল্লীতে বিক্রি করে দেয়া হয়েছে। এই ধরনের অবৈধ নারী পাচারকারীরা সীমান্ত অঞ্চলজুড়ে অবাধে তাদের ঘৃণ্যতম কাজ করে চলেছে। অথচ, রাজ্য পুলিশ বা বিএসএফের ভূমিকা দেখে এটা মনে করার যথেষ্ট কারণ আছে যে, পাচাকারীদের সঙ্গে তারা সরাসরি যুক্ত।
সীমান্তজুড়ে এই তা-ব চলতে থাকায় চ্যাংরাবান্ধা সীমান্তে প্রায় এক হাজার কৃষক ১৮ জানুয়ারি, ২০১২, তাদের চাষের কাজ বন্ধ রাখেন। চ্যাংরাবান্ধায় তিন বিঘা করিডর রয়েছে। রয়েছে অনেক ছিটমহল। সেখানে অনেক কৃষিজমি এবং চা-বাগান আছে। বাংলাদেশও ভারতের নাগরিকদের সেখানে গভীর সখ্য রয়েছে। কিন্তু বিএসএফের তা-ব দু'দেশের নাগরিকদের এই প্রীতির সম্পর্ক নষ্ট করে দিচ্ছে। আতঙ্কিত কৃষকরা কাঁটাতারের বেড়া টপকে ওপারে ভারতীয় ছিটমহলে যেতে ভয় পাচ্ছেন। তিনবিঘায় চাষিরা ভয় পাচ্ছেন বিডিআরের ভূমিকাকে। স্বভাবতই সীমান্তরক্ষী বাহিনীর আচরণ দু'দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।
২০০৩ সালের ঘটনা। নদীয়ার করিমপুরের কাছে সীমান্তবর্তী একটি গ্রামের শেখ ইয়াসিন নামে একটি ছেলে চাষের কাজে ব্যস্ত ছিল। সাধারণত বিএসএফের ভয়ে চাষিরা দলবদ্ধভাবে চাষের কাজ করে থাকেন। কিন্তু সেদিন ইয়াসিন হঠাৎই একা হয়ে গিয়েছিল। চারজনের এক বিএসএফ বাহিনী দ্রুত পায়ে ইয়াসিনের দিকে আসতে থাকে। চিৎকার করতে থাকে, হল্ট হল্ট। ইয়াসিন তার মৃত্যুকালে জবানবন্দিতে পুলিশকে জানিয়েছিল, বন্দুক উঁচিয়ে তাকে হল হল বলে তাড়া করছিল। সে বাঁচার জন্যই ছুটছিল। পেছন থেকে তার পিঠে গুলি করে এবং গুলি বুক ফুটো করে বেরিয়ে যায়। এই হল্ট এবং হলের যে মারাত্মক তামাশা সীমান্তজুড়ে চলছে, তা চলার কথা নয়। ইন্দো-টিবেট বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের জওয়ানদের টিবেটান এবং চাইনিজ ভাষা জানা বাধ্যতামূলক। ভারত পাকিস্তান সীমান্তেও যে বাহিনী রক্ষীর কাজ করে তারা মুখ্যত এপার-ওপার দু'পারেরই সাধারণ ভাষায় কথা বলে। ফলে সেখানে ভাষাগত সমস্যা কখনোই হয় না। বেদনার বিষয় হলো, ভারতের বৃহত্তম সীমান্ত ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত রক্ষার দায়িত্বে যারা আছে, তাদের বাংলা ভাষা জানার কোন বাধ্যবাধকতা নেই। মূলত উত্তর এবং পশ্চিম ভারত থেকে এই রক্ষীবাহিনী আসে এবং বছরের পর বছর পশ্চিমবঙ্গে ও ত্রিপুরায় সীমান্তরক্ষার দায়িত্ব পালন করে। এখানকার ভাষা ও সংস্কৃতির সম্পর্কে তাদের কোন ধারণা না থাকায় তারা সীমান্ত অঞ্চলের দরিদ্র খেটে খাওয়া মানুষদের ঠিক মানুষ বলে মনে করে না। দু'বছর আগে বনগাঁ সীমান্তের কাছে একটি গ্রামে এক বাড়িতে হঠাৎই তিন জওয়ান ঢুকে পড়ে। সাধারণত দুপুর বেলা পুরুষরা সবাই চাষের কাজে চলে যান। জওয়ানরা ওই ঘরের মহিলার উপর পাশবিক অত্যাচার করে। হঠাৎই সেখানে আরেক মহিলা পাশের বাড়ি থেকে কান্নার আওয়াজ পেয়ে ছুটে আসেন। দুর্বৃত্তদের কা-কারখানা স্বচক্ষে দেখেন এবং ছুটে ঘরে ঘরে ঘটনাটি জানাতে থাকেন। গোটা গ্রামের মহিলারা এবং ৮-১০ জন পুরুষ, যারা ছিলেন, দ্রুতই ওই ঘরটিকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলেন। তিন জওয়ানের উপর যথেষ্ট মারধরের ঘটনা ঘটে এবং তারপর তাদের নিয়ে থানায় জমা করেন। ওই তিন জওয়ান তাদের নিজেদের গ্রাম হলে কাকিমা বা মাসিমার বয়সী এক মহিলার উপর কখনোই এই বলাৎকার করতে পারত না। এখানে করতে পারে। করতে পারে, কারণ গুরুত্ব অনুযায়ী অপরাধের শাস্তি হয় না।
অবিলম্বে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী গঠন করতে হবে, যে বাহিনীর প্রত্যেক সদস্যই বাংলা ভাষা জানবেন এবং বাংলার সংস্কৃতি সম্পর্কে ওয়াকিফহাল হবেন। এই বাহিনীতে নিয়োগের জন্য যে পরীক্ষা হবে, সেই পরীক্ষার মাধ্যম হিসেবে অবশ্যই বাংলাকে অন্যতম ভাষা হিসেবে রাখতে হবে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রেলমন্ত্রী থাকাকালে রেলে নিযুক্তির জন্য ১৮টি ভাষার পরীক্ষা দেয়ার সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছেন। সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ক্ষেত্রেও একই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে এবং এ ব্যাপারে মূল উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে রাজ্য সরকারকে। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী বনগাঁয় দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে একযোগে ঘোষণা করেছেন, শুধু ট্রেড ডেফিসিট কমিয়ে আনা নয়, অন্য সব ক্ষেত্রে সম্পর্ককে আরও নিবিড় করতে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করতে সরকার বদ্ধপরিকর। প্রণববাবু সীমান্তরক্ষী বাহিনীর খোলনলচে বদলের মধ্য দিয়েই সেই উদ্যোগ শুরু হোক।
[ লেখক : কলকাতা থেকে প্রকাশিত প্রাত্যহিক খবর-এর সম্পাদক ]
লেখাটি ২৮ জানুয়ারি প্রাত্যহিক খবরে প্রকাশিত এবং অঙ্গীকার বাংলাদেশ-এর সৌজন্যে প্রাপ্ত।






৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলা সাহিত্যে জায়গা পাচ্ছেন ওসমান হাদী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:১৭


সংবাদপত্র যা বলছে
জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০ জুন ২০২৬ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যবই পরিমার্জন-সংক্রান্ত কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকসহ... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, ক্রাউড ফান্ডিং-এর সুযোগ তৈরি করে সরকারী লাভজনক প্রজেক্টে জনগণের বিনিয়োগ নিন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:৩১

বাংলাদেশের বর্তমান সরকার বিনিয়োগ পরিস্থিতি নিয়ে চিন্তিত, তা বুঝা যাচ্ছে। নাহলে, খোদ প্রধানমন্ত্রী দেশে বিনিয়োগ নিয়ে আসতে জনগণকে অনুরোধ করতেন না। আমার মন হয়, দেশের মানুষের কাছেই অনেক সম্পদ আছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপির আবালীপনা।

লিখেছেন তানভির জুমার, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮

বিএনপি ৫০ হাজার নাচের শিক্ষক নিয়োগ দিতে যাচ্ছে। যার পেছনে ১০ বছরে ব্যায় হবে ১৫ হাজার কোটি টাকা। যা দিয়ে ফুল প্যাকেজ ৩০ টি জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

×