"বাংলাদেশে প্রায় ৯৮% মানুষ প্রতক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে তাদের সবকিছু দিয়ে স্বাধিনতা যুদ্ধু করেছিল অথবা যুদ্ধের সাথে জড়িত ছিল শুধুমাত্র মুষ্টিময় কিছু মানুষ ছাড়া। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সময় হাতে গোনা কিছু রাজাকার আলবদর ছাড়া এ দেশের সবাই ছিল এক একজন মুক্তিযোদ্ধা। কাজেই আওয়ামী লীগ না করলে রাজাকার ট্যাগ লাগানো কতটা যৌক্তিক?
উপরের এই মন্তব্যের বিপরীতে আমার অনুসন্ধানে নিম্নের বিষয়টি বেড়িয়ে এসেছে। এটি দলীয় মনোভাব মুক্ত একটি পর্যবেক্ষন।
আমার জানামতে সারাদেশেই বিস্তীর্ণ অঞ্চল ছিল যেখানে যুদ্ধের কোন প্রভাবই পড়ে নাই। এক দুইজন সক্রিয় ব্যক্তি ছিল যারা হয়ত প্রভাবিত হয়েছেন, বাকীদের জীবন যাত্রায় নয় মাসের যুদ্ধের কোন প্রভাবই পড়ে নাই -- এ বিষয়ে প্রত্যক্ষ পর্যবেক্ষন রয়েছে। কাজেই ৯৮% ই মুক্তিযোদ্ধা ছিল -- এটি বাড়িয়ে বলা, বিশেষ জন গোষ্ঠি, বিশেষ করে স্বাধীনতা বিরোধীদের কে সুবিধা দেয়ার জন্য। ৭০ এ ভোট দিয়েছিল ৬৩% পুরো পাকিস্তানের হিসাবে। সারাদেশে তৎকালীন আওয়ামী লীগ পেয়েছিল মোট উপস্থিত ভোটারের 38.3%। আর পূর্ব পাকিস্তানের মোট ভোটার উপস্থিতির 74.9% ভোট পেয়েছিল আওয়ামী লীগ। বাকী ভোট গুলো পেয়েছিল পাকিস্তান পন্থী দল গুলো। (উইকি দেখুন)
কাজেই আনুমানিক ২৫% লোক পাকিস্তান পক্ষে, বাংলাদেশের বিপক্ষে ছিল ধরে নেয়া যায়। এই ২৫% এখনও কট্টর পাকিস্তান পন্থী বা ভারত বিরোধী এবং আওয়ামীলীগ বিরোধী রয়ে গেছে। আর তাছাড়া আরো অনেক লোক পরবর্তীতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হারিয়েছে, কিন্তু উল্টোটি তেমন ঘটে নাই। এই ২৫-৩০% লোকই মুলত বিএনপি/জামাতের নির্ভেজাল ভোট ব্যাংক। এটি সাম্প্রতিক কালের নির্বাচন সমুহের (৯০, ৯৬, ০১, ০৮) ফলাফল থেকেও স্পষ্ট প্রতীয়মান হয়।
লক্ষ করুন, ২৫-৩০% পাকিস্তান পন্থী লোক দেশের চার/তিন ভাগের একভাগ। কাজেই (ভাবার্থে) রাজাকার বলা এদের সবাইকে সম্ভব। যারা ৯৮% মুক্তিযোদ্ধার হিসাব দেয় তারা ২৩-২৮% রাজাকার কে বাঁচাতে চায়। কাজেই আওয়ামীলীগ রাজাকার লেবেল সেঁটে দেয় এটি ঠিক না বেঠিক ভেবে দেখা দরকার। ভোটের হিসাব অনুযায়ী আমি খুব বেশি বেঠিক দেখছি না।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



