জাতীয়তাবাদী ঘরানার রাজনীতিতে আদর্শবাদী রাজনৈতিক তেমন নাই। এ দল বা ও দল থেকে সুবিধা করতে না পেরে বা বঞ্চিত হয়ে হঠাৎ পল্টি দিয়ে এসে বিএনপির রাজনীতির একেবারে পুরোধা বনে যাওয়ার নজির অনেক বেশী। বামধারার নেতারা সারাজীবনে কিছু না পাওয়ার হতাশা থেকে কিছু পাওয়ার সর্টকাট হিসাবে বিএনপিকে বেছে নিতেন। হালে আওয়ামী লীগ জোটের মাধ্যমে তাদের কিছু পাওয়ার ব্যবস্থা করায় পরবর্তীতে এধারা কোনদিকে যায় বলা মুশকিল। যাহোক বিএনপিতে রাজনৈতিক নেতাদের বুদ্ধিবৃত্তিক মানের তুলনামুলক দুর্বল অবস্থানের কারনে যে কোন বুদ্ধিমানের জাতীয়তাবাদী বুদ্ধিজীবি হিসাবে খ্যাতি পাওয়া যথেষ্ট সহজ। তারপরও যারা বিএনপিতে বুদ্ধিজীবি হতে যান তারা আবার অতি সহজে লেজেগোবরে করে ফেলেন।
এমনি একজন জাতীয়তাবাদী বুদ্ধিজীবি হওয়ার সুযোগ হয়েছিল আমাদের মাহমুদুর রহমানের। প্রকৌশলী হিসাবে তিনি যথেষ্ট বুদ্ধি রাখেন। তর তর করে বুদ্ধির পরিচয় দিয়ে তিনি দলকে এগিয়ে নিতে পারতেন। কিন্তু তিনি সেই বুদ্ধি প্রয়োগ করা শুরু করলেন অপকৌশলের জাল বুনতে। জ্বালানী উপদেষ্টা হিসাবে দেশের গ্যাসের মজুতের খারাপ অবস্থা দেখেও টাটাকে গ্যাস দিয়ে দেয়ার সব ব্যবস্থা প্রায় করে ফেলেছিলেন। বৈদেশিক বিনিয়োগের প্রায়-বাস্তবায়িত এমন সাফল্য বর্ণনার সময় তার চেহারায় একধরনের উজ্জ্বল্য দেখা যেত। অবশ্য উজ্জ্বল্যের পিছনে তার ব্যক্তিগত লাভের কোন বিষয় ছিল কিনা জানিনা।
সিকান্দার আবু জাফরের সিরাজউদ্দৌলা নাটকে রাজবল্লভ, উমিচাঁদ, মীরজাফর ও ক্লাইভ গংদের ষড়যন্ত্র মিটিংএ হঠাৎ উপস্থিত হয় সিরাজউদ্দৌলা। আমাদের উমিঁচাদ মাহমুদুর রহমানের উত্তরার বাসায় নির্বাচন জিতানোর ষড়যন্ত্রের এইরকম মিটিংএ হঠাৎ উপস্থিত হলেন সাংবাদিকেরা। আমরা দেখতে পেলাম একজন বুদ্ধিজীবির সুবুদ্ধির খেলায় বিএনপি কিভাবে নাস্তানাবুদ হয়ে গেল।
এরপর মাহমুদুর রহমান ২০০৮ নির্বাচনে মনিরুজ্জামান মিয়ার ভাষায় অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে জরিপ সম্পাদন করে ঘোষনা করলেন বিএনপি ১৮০ আসনে জয়ী হবে। একজন প্রকৌশলী প্রযুক্তি ব্যবহার করে জরিপে যা দেখায় তার গুনগত মান যদি এরকম হয় তাহলে প্রকৌশল শিক্ষার মান সম্মান থাকে কোথায়। বুদ্ধিজীবির বুদ্ধিলোপই বরং ফুটে উঠে।
খেলা এতে শেষ নয়। এরপর মাহমুদুর রহমান ঠিক করলেন। তিনি বুদ্ধির খেলা খেলবেন না। নিজেই নিজের পা দিয়ে ল্যাং মারার চেষ্টা করবেন। সংবাদ পত্র যোগাড় করে নিজেই সব করা শুরু করলেন। বুদ্ধির খেলা বাদ দিয়ে হয়ে গেলেন অভিযোগ কারী বা রটনাকারী। এবার মাহমুদুর নিজেই ল্যাং খেতে শুরু করেছেন। দেখা যাক তিনি এভাবে কতখানি উঠেন নাকি নামেন। আর দলকে ইতিমধ্যে নামিয়েছেন, আরও কতখানি নামান দেখার বিষয়।
আমাদের আর একজন প্রকৌশলী ব্লগার অফেন্ডিং ডিফেন্ডিং খেলায় নেমেছেন। তিনি দেখানোর চেষ্টা করছেন গোলাগুলি আক্রান্ত শেখ মুজিব কেন ব্যক্তিগত ভাবে গুলি না খেয়ে জীবন বাঁচিয়ে নেতা হিসাবে বরং নিজেকে গ্রেফতার দেখানোর জন্য চেষ্টা করেছিলেন। এভাবে কি আসলে জাতীয়তাবাদী দলের ডিফেন্স গড়ে উঠে? এগুলোতে বরং ফুটে উঠে নোংরা খেলায় অংশগ্রহনের বিকৃত মজা পাওয়ার বিষয়টি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



