শুরু করি একটা গল্প দিয়ে। ছোটকালে পড়েছিলাম, সম্ভবত কোন এক ক্লাসের চয়নিকা বইতে। গল্পে কিছু এদিক সেদিক হতে পারে, সেটা মার্জনীয়, তবে শিক্ষনীয় বিষয়টা ঠিক রাখার চেষ্টা করব। শিক্ষক ছাত্রকে স্বাধীনতা কী বুঝাচ্ছেন? সে অনেক গুরুগম্ভীর কথা। ছাত্রের মাথায় ঢুকে না। ছাত্র স্কুলের ঘন্টা পড়লে বাড়ি ছুটে গেল। খাওয়া শেষে খেলতে যাবে, মায়ের ডাক। বাবা ওখানে দুটো পাকা অাম অাছে। একটা নিজে খাও আরেকটা ছোটভাইকে দাও। ছেলেটা দেখল দুটো আম, কিন্তু একটা ভাল, আরেকটু একটু খানি পঁচে যাওয়ার উপক্রম। সে এখন কী করবে? কোনটা সে নিবে, আর কোনটা ছোটভাইকে দিবে? সে তো স্বাধীন! যেটা ইচ্ছা সে নিতে পারে, আর ছোটভাই তো বুঝে না, যেটা পাবে সে সেটাই নিবে! ভাল অামটা কে ছাড়তে চায়! কিন্তু ছোটভাই, তাকে কি সে ঠকাতে পারে! মনের মধ্যে দোনোমনো চলছে। হঠাৎ মনে পড়ে গেল স্কুলে স্যারের স্বাধীনতার বিষয়ক কথাবার্তা। মূহুর্তে বুঝে গেল স্বাধীনতার মানে কী? স্যার আসলে কি বুঝিয়েছেন অতক্ষন ধরে। ছোটভাইকে ভাল অামটা দিয়ে অন্য অামটা হাতে সে পড়িমড়ি করে ছুটল স্যারের বাড়ির দিকে। স্যার, পেয়েছি পেয়েছি, স্বাধীনতার অর্থ আমি খুঁজে পেয়েছি।
ছেলেটি সেদিন স্বাধীনতার অর্থ খুঁজে পেলেও, আমি পাইনাই, পেয়েছিলাম সম্ভত বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে। অাপনারা পেরেছেন কী?
আরেকটি একই রকম বিষয়। স্পাইডার ম্যান ছবি বা কার্টুন দেখেন নাই এরকম লোক খুঁজে পাওয়া কঠিনই। স্পাইডার ম্যান পেয়েছে এক অতিমানবীয় শক্তি। কী করবে সে? ভাল কাজে লাগাবে নাকি মন্দ কাজে। মনে পড়ে তার অাংকলের কথা, গ্রেট পাওয়ার কামস উইথ গ্রেট রেসপনসিবিলিটি।
ফেসবুক আমাদের দিয়েছে অবাধ স্বাধীনতা! বাক স্বাধীনতা। যা ইচ্ছা তাই বলতে পারি। স্ট্যাটাস দিতে পারি। মনের মধ্যে কত কথা আকুলি বিকুলী করে। অনেক কথাই তো আছে যা লোক লজ্জায় বলতে পারিনা, তাও কত সহজে ফেসবুকে মেরে দিতে পারি। আহ বাথরুমে ঢুকে যতটা আনন্দ পেলে হেড়ে গলায়ও গান বের হয়ে আসে, ফেসবুক আমাদের ঠিক ততটা আনন্দই দিয়েছে। ফেসবুক আমাদের দিয়েছে যৌবনের শক্তিও। দেশে দেশে বিপ্লবে ফেসবুকের জয়গান।
অাদালত কি পারে আমাদের ফেসবুক ব্যবহারের স্বাধীনতা হরণ করতে! না পারে না কোন ভাবেই। ফেসবুকে মন্তব্য করার স্বাধীনতা কোন ভাবেই কোন সরকার কেড়ে নিতে পারে না। কোন সরকার ফেসবুক বন্ধ করলেও আদালত সরকারের বিরুদ্ধে গিয়ে তা রদ করতে পারে। বাক স্বাধীনতা ও মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা সেখানে প্রযোজ্য।
এবার আসি আরেকটু গভীরতর বিষয়ে। আদালত কি পারে ফেসবুকে যে কোন মন্তব্য করার অধিকারের বিষয়ে তদারকী করতে? হ্যাঁ পারে, অবশ্যই পারে। ফেসবুক, ইমেল, বা ব্লগ কোন ব্যক্তিগত গোপন বিষয় নয়, অন্তত কারো পয়নিস্কাসন কক্ষ, প্রসাধনী কক্ষ, বা শয়ন কক্ষ নয়। অনলাইন যে কোন কিছু লিখিত দলিল হিসাবে আইনের চোখে বিবেচিত। এটা শুধু দেশীয় না আন্তর্জাতিক বিষয়। আপনি অনলাইনে যা কিছু করেন তা মুহুর্তে সারা দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে, শত শত স্থানের তার কপি তৈরী হয়। যত প্রাইভেসীই যে কেউ অফার করুক না কেন, রাষ্ট্র বা আদালত বা যে কেউ যে কোন মুহুর্তে তা দেখে ফেলতে পারে। সমাজের বা সামষ্টিক ভালত্ব যদি বিবেচনায় টিকে যায়, তাহলে সেখানে আপনার ব্যক্তিগত গোপনীয়তা কোন পাত্তা পাবেনা। কাজেই যত গোপন ভাবেই করুন না কেন অন্য কাউকে প্রভাবিত করে এ রকম যে কোন বিষয়ে আপনি মন্তব্য করার জন্য অবশ্যই দায়ী থাকবেন। কাজেই রাষ্ট্র বা সরকার চাইলে আপনার বিচারের মুখোমুখী করতে পারে, আদালত গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে শাস্তি দিয়ে দিতে পারে।
অনলাইন কালচার খুব বেশী নতুন নয়। এ সব বিষয়ে অনেক নীতি নৈতিকতা গড়ে উঠছে, দেশে বিদেশে। আমাদের দেশে ঝাঁকে ঝাঁকে যুবক সম্প্রদায় এসবের প্রতি ঝুঁকছে। অবাধে পাওয়া স্বাধীনতা যে আনন্দ সেখানে নিয়ন্ত্রন আরোপিত হলে তারা ক্ষেপবে বই কি! কিন্তু অবাধ স্বাধীনতার সাথে যে নৈতিকতা ও দায়িত্বশীলতাও বর্তায় তাও আমাদের যুবক সম্প্রদায়ের মধ্যে জাগরিত হতে হবে। প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া যাহাই হোক, এ সব বিষয়ে সুবোধ জাগ্রত হবে বলে আমি আশাবাদী।
পুনশ্চ: জনৈক জাবি শিক্ষকের সরকার প্রধানের প্রতি ঐ নির্দিষ্ট মন্তব্যটি কোন মাত্রার তা এখানে বিবেচ্য নয়, সেটি বিচারের ভার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। ফেস বুক বা অনলাইন মিডিয়া সম্পর্কে নীতি কৌশল কেমন হবে সাধারণ ভাবে তাই এখানে বিবেচ্য।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



