কী চিঠি চালাচালি হল খালেদা ও মনোমোহনের মধ্যে। পাত্তা লাগানোর চেষ্টা করলাম অন্দর মহলে। যা খবর পেলাম তা খানিকটা অপ্রত্যাশিত, আবার প্রত্যাশিতও। বিএনপি সবসময় ক্ষমতা মুখী দল। অাওয়ামী লীগকে ছলে বলে কৌশলে হটিয়ে তারা ক্ষমতায় যেতে চায়। স্বাভাবিক বিষয়। ২০০১ নির্বাচনের আগে দেশের ভিতরে জামায়াতের সাথে জোট করে বিএনপি। আর দেশের বাইরে তারেক দিল্লী গিয়ে গ্যাস বিক্রির ও টাটাকে ভর্তুকীতে গ্যাস সরবরাহের ওয়াদা করে আসে। তাতে ভারত তুষ্ট হয়।
কিন্তু ক্ষমতায় গিয়ে উলফা সংক্রান্তে বিষয়ে ও জনগণের চাপের মুখে ভারতকে খুশী করা সম্ভব হয় নাই। এমতাবস্থায় সামনের বার ক্ষমতায় যেতে চাইলে ভারতের সমর্থন বিএনপির অপরিহার্য। খালেদা তাই চিঠিতে ভারতকে সবরকম সাহায্যের প্রতিশ্রুতি ও বিনিময়ে সমর্থন পাওয়ার অাশা ব্যক্ত করেছিলেন। মনোমোহন জানিয়েছেন সেই একই কথা বাংলাদেশের স্বার্থের পরিপন্থী কিছু হবে না ইত্যাদি। সাথে যোগ করেছেন বিএনপি যদি ভারতের এই অবস্থানকে সমর্থন দেয়, পাশাপাশি উলফা ইস্যুতে নিষ্ক্রিয় হয় তাহলে ভারত ভেবে দেখবে।
চিঠি চালাচালিতে বিএনপি ও ভারতের মধ্যে একরকমের বোঝাপড়ার সম্পর্ক তৈরী হতে যাচ্ছে বলে অাশা করা হচ্ছে বিএনপির অন্দর মহলে। ভারত সার্ক তৈরীর মাধ্যমে এই এলাকায় ভারতের স্বার্থ সংরক্ষনে জিয়ার সাহায্যের কথা কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করে। এছাড়া বিএনপি ক্ষমতায় আসলে ভারতের সাথে ভাল সম্পর্ক নেই বলে প্রচার দিয়ে ভারতকে বাংলাদেশের বিভিন্ন দাবী দাওয়ার মুখোমুখী হতে হয় না। দাবী না পুরনের সমলোচনাও সইতে হয় না। অাওয়ামীলীগকে ২০০৮ এ সমর্থন দিয়ে ভারত এখন বিভিন্ন রকম দাবী মিটানোর প্রশ্নের সম্মুখীন। তাছাড়া ট্রানজিট পুরোপুরি দিবে কিনা অাওয়ামীলীগ সেই বিষয়েও নিশ্চয়তা পাওয়া যাচ্ছে না। অাওয়ামী ভোটও কমে যাচ্ছে। এমতাবস্থায় পরীক্ষামুলক যতটুকু ট্রানজিট আছে সেটা বজায় রাখার জন্যেও ভারতের বিএনপির সমর্থন দরকার। সব মিলিয়ে দুইপক্ষের জন্যেই উইন-উইন সিচুয়েশন বলে উভয় পক্ষ আশা প্রকাশ করছেন।
এ সবের ফলশ্রুতিতে বিএনপি অতি নরম ভাবে ভারত হতে পাওয়া চিঠির উত্তর জনগণের কাছে পরিবেশন করে। ধারণা দেয়ার চেষ্টা করা হয় বিএনপি দেশের স্বার্থ সচেতন বলেই ভারতের কাছে চিঠি পর্যন্ত লিখেছেন। এখন পাওয়া জবাবের উপরে আস্থা রাখাই শ্রেয়। কাজেই আসছে দিন গুলো বিএনপি টিপাইমুখ বা তিস্তা ইস্যুতে তেমন গরম ভুমিকা রাখবে না। তবে ভারত বিরোধী জনগণকে খানিকটা শান্ত রাখতে নুন্যতম যতটুকু করা দরকার কেবল ততটুকুই করবে। ভারত ও বিএনপির সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে আরো সুদৃঢ় করার সময় হয়তো এসেছে। দুপক্ষই সেটা অধিকতর আন্তরিকতার সাথে চেষ্টা করে দেখতে চায়।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


