লং মার্চ কর্মসুচী এদেশে বা এই উপমহাদেশে একটা বেশ পুরনো রাজনৈতিক কর্মসুচী। সুনির্দিষ্ট উদাহরণ মনে না থাকলেও গান্ধীজী ব্রিটিশ ভারতে পায়ে হাঁটা কর্মসুচী চালিয়ে গেছেন বলে জানা যায়। ভারতে এখনও নেতারা মাঝে মাঝে হেঁটে থাকেন। বাংলাদেশেও ফারাক্কা নিয়ে লংমার্চ কর্মসুচী করেছিলেন ভাসানী। এছাড়া ছোটছোট বাম ঘরানার দলগুলো এরকম মার্চ কর্মসুচী করে থাকে বিভিন্ন ইস্যুতে যেমন তেল, গ্যাস রক্ষা ইত্যাদি।
বাংলাদেশের গ্রামে গঞ্জেও লংমার্চ কর্মসুচী পালিত হয় স্থানীয় নেতাদের মাধ্যমে। বিশেষ করে স্থানীয় পরিষদের নির্বাচনে সারা ইউনিয়নে মিছিল নিয়ে হেঁটে বেড়ানোর কর্মসুচীতে অংশগ্রহনের অভিজ্ঞতা অর্জনের সৌভাগ্য একবার আমার হয়েছিল। পদব্রজের সে যাত্রা বেশ ভালই লেগেছিল। দলবল বন্ধুবান্ধব সহ হেঁটে বেড়ানো, ধুলো পথে নাক বন্ধ হয়ে আসা, গ্রামের মধ্যে দিয়ে যাবার সময় সাধারণ মানুষকে সাধারণ অবস্থায় দেখতে পাওয়া, দুপুরের বিরতিতে মুড়ি মুড়কি খাওয়ার আমোদ ভুলবার নয়। তবে সেই সব মিছিলে খরচ বলতে মুলত দেখা যেত কয়েক গাড়ি ভর্তি মুড়ি ও মুড়কি। আর তেমন কোন খরচ আমার চোখে পড়ে নি।
জিয়া হাঁটতে পারতেন বিস্তর। তিনি ও তার পরামর্শকরা সেটাকে কাজে লাগাতে চেয়েছিলেন গণসংযোগে। তিনি তাই বিভিন্ন স্থানে হাঁটতেন মাইলের পর মাইল। বলা বাহুল্য কোন রাজপথে নয়, গ্রামের পথে। ১৯৮০ বা ৮১ সালের দিকে তিনি বগুড়ায় একটা হাঁটা কর্মসুচীতে অংশ নিয়েছিলেন। বগুড়া শহরের উপকন্ঠ থেকে মোটামুটি কম ব্যস্ত সড়কে কয়েক মাইল হয়েছিল সেই হাঁটা। প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যন্ত হাঁটা। জনগণের সাথে মিশে যাওয়ার চেষ্টা। বেশ ভাল কর্মসুচী। তবে সেই কর্মসুচী ছিল উন্নয়নের কর্মসুচী। গ্রামের উন্নয়ন। খাল কাটা, কাজের বিনিময়ে খাদ্যকর্মসুচী। ইত্যাদি। ঐ সব কর্মসুচী নিয়ে নানা অালোচনা থাকলেও মোটা দাগে ওগুলো যে উন্নয়ন কর্মসুচী তা বলা যায়। জিয়া করতেন নিম্নবিত্তের রাজনীতি।
মধ্যবিত্তের বাতের ব্যাথা থাকে। তারা হাঁটতে পারেন না। জিয়ার মিছিলেও মুসলিম লীগ থেকে আগত মধ্যবিত্ত নেতারা কিছু দুর হেঁটেই আঁতিপাঁতি করতেন আর মনে মনে শাপ শাপান্ত করতেন জিয়াকে। টাকায় যেখানে কাজ হয় সেখানে পায়ে হাঁটার কি দরকার! খালেদা মধ্যবিত্তের সেই ভন্ড চরিত্রটি ধারণ করেছেন। আর কি ভাগ্য একেবারে আক্ষরিক অর্থেই। কাজেই ভন্ড নেতাদেরও সুবিধা। গাড়িতে করে লংড্রাইভ মধ্যবিত্তের বিলাস। একে রাজনৈতিক কর্মসুচী বানালে তো মন্দ নয়। টাকা অাছে, তেল পুড়ো, গাড়ি বহরে হৈহুল্লোড়, মচ্ছব হল, সাধারণ জনগণের সাথে নয়, গাড়িওয়ালা আর দশজন ইয়ার দোস্তদের সাথে। পথে পথে বিরানী খাও, কোল ড্রিংকস খাও। এক ঘেঁয়ে মধ্যবিত্ত জীবনে একটা ভ্রমন যোগ পিকনিক মন্দ নয়।
বিএনপির রোড মার্চ কর্ম সুচী একটা নতুন কালচার, বলেছেন শফিক রেহমান। খালেদা তার আগের বিরোধীদলে থাকার আমলেও রোড মার্চ করেছিলেন। এবারে পত্রিকা গুলো খবর দিয়েছে প্রতিটি রোড মার্চে খরচ প্রায় ১৫-২০ কোটি টাকা। চারটি রোড মার্চে খরচ প্রায় ৬৫-৮০ কোটি টাকা। দেশে জ্বালানী সংকট। কত গাড়ির তেল পুড়ল। দেশে তীব্র শীত পড়েছে। কত জন শীতের কাপড় পাচ্ছে না। জনসভার কর্মসুচী তাও সেদিক থেকে ভাল। ১০০ টাকা করে জনগণ ভাড়া করে আনলেও গরীব মানুষের অন্তত একবেলা করে খাবার জোটে। জনসভার লোকজন ভাড়া করার বিষয়ে শুধু বিএনপিকে বলছিনা, এটা আমাদের সব দলেরই কালচার। কাঙালী ভোজের কর্মসুচীর আমার দৃষ্টিতে ভাল। না খেয়ে থাকা লোক গুলো কিছু খেতে পায়। গাড়ি মার্চ কোন দিক থেকে ভাল!
আমাদের রাজনৈতিক কর্মসুচীগুলো গরীব মানুষের দিকে তাকিয়ে করা হউক। কাঙালী ভোজ, শীত বস্ত বিতরণ, বা ঐ ৮০ কোটি টাকা যদি মাথা প্রতি ২ লাখ করেও দেয়া হয় ৪০০০ জনকে দেয়া সম্ভব। ঐ ৪০০০ লোক হয়তো জীবনে সচ্ছলতা ফিরে পাবে!
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই জানুয়ারি, ২০১২ ভোর ৫:৪৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



