somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

কাল্পনিক_ভালোবাসা
বহুদিন আগে কোন এক বারান্দায় শেষ বিকেলের আলোয় আলোকিত উড়ন্ত খোলা চুলের এক তীক্ষ্ণ হৃদয়হরনকারী দৃষ্টি সম্পন্ন তরুনীকে দেখে ভেবেছিলাম, আমি যাদুকর হব। মানুষ বশীকরণের যাদু শিখে, তাকে বশ করে নিশ্চিন্তে কাটিয়ে দিব সারাটি জীবন।

ইচ্ছে খাতায় কিছু অর্থহীন প্রলাপ, আহবান এবং আক্ষেপ!

২০ শে জুন, ২০১৩ রাত ১১:০৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


প্রলাপ
গভীর রাত- আমার ভীষন পছন্দ ও কাছের সময়। রাতের এই সময়টা আমাকে বিশুদ্ধ করে এবং জোগান দেয় বেঁচে থাকার এক মাত্র রসদ- স্বপ্ন। সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে যখন গভীরতায় প্রবেশ করে রাত, তখন ব্যস্তানুপাতিক হারে বৃদ্ধি পায় আমার ভালোবাসার আকুলতা, বেঁচে থাকার উম্মাদনা এবং হ্রাস পায় আমার দীর্ঘশ্বাসের উষ্ণতা। হ্যাঁ, বেঁচে থাকার জন্য স্বপ্ন-ই দেখি আমি, আঁকড়ে ধরি তা খড়কুটোর মত- যেন ডুবে যাচ্ছি নির্মম বাস্তবতার কোন এক ঝঞ্ঝা বিক্ষুব্ধ সাগরে।

এই নির্জনতা আমাকে শিল্পীর জীবন দেয়- পিকাসো, রেমব্রান্ডট, কিংবা ক্লড মন্ট এর মত নয়, একান্তই আমার নিজের মত। মনের ক্যানভাসে, ইচ্ছার তুলিতে আমি ক্রমাগত আঁকতে থাকি আমার স্বপ্নগুলোকে। সাদা কালো নয় এখানে তা বড্ড রঙ্গিন। আমি দুচোখ বুঝে মুগ্ধ হয়ে ক্যানভাস দেখি আর বলি, আহা! কি চমৎকারই না হয়েছে।

ভোরের আলোর প্রথম আভার সাথে সাথে যখন আমার ক্যানভাস সমানুপাতিক হারে ধূসর হতে থাকে, তখন বাড়ে আমার দীর্ঘশ্বাস আর বিদীর্ণ হয় নীরবতা। শুরু হয় এক অসম যুদ্ধ। দীর্ঘশ্বাসের সাথে গাছের ডালপালাদের টিকে থাকার যুদ্ধ। আমি চমকে উঠি কোথাও এক তীব্র ঝড়ের পূর্বাভাসে। আটকে ফেলি নিজের দীর্ঘশ্বাস। আমার মত মানুষের দীর্ঘশ্বাস ফেলতে নেই কারন প্রতারিত প্রেমিকের দীর্ঘশ্বাস কালবৈশাখীর চেয়েও ভয়ংকর।


আহবান
ক্লান্ত পথিক যেভাবে অপেক্ষা করে পথ ফুরানোর, ইউথোনেশিয়ার ক্রান্ত একজন মানুষ যেভাবে প্রহন গুনে মৃত্যুর অথবা একগোছা ফুল হাতে প্রথম দেখা হওয়ার দিন, যেভাবে প্রেমিক অপেক্ষা করে তার প্রিয়তমার জন্য -ঠিক সেইভাবে আমি তোমার জন্য অপেক্ষা করছি। অপেক্ষা কখনই ভালো নয় হোক সে মৃত্যু কিংবা প্রিয়তমার। বৃষ্টির অপেক্ষা সে তো আরও ভয়ংকর! ইদানিং অক্সিজেন আর বৃষ্টি হয়ে গিয়েছে সমার্থক এক শব্দ। বিশুদ্ধ বৃষ্টির অভাবে প্রানের শ্বাসকষ্ট, হৃদয়ের হাঁপানি। ফুসফুসের নিকোটিন গ্রাস করেছে গাছের পাতাগুলোকে। কালো পাতাগুলো ফুসফুসেরই এর প্রতিচ্ছবি। হঠাৎ দমকা হাওয়া। মেঘ গুড় গুড় আর উষ্ণতার দানবের সাথে বৃষ্টি দেবীর প্রবল যুদ্ধ। আকাশের প্রেক্ষাগৃহে মহা সমারোহে চলছে বিজলীর চমকময় উদ্দাম নৃত্য। উত্তেজনা এবং শিহরন মাঝে মাঝে হয়ে দাঁড়ায় কামের প্রতিরুপ। বিজলীর ঝাকানাকা সেই নৃত্য আর লোভাতুর মানুষগুলোর সমস্বরে উর্দ্ধগগনমুখী চিৎকার, 'ও বিজলী চলে যেও না'। হঠাৎ উর্দ্ধপানে চেয়ে থাকা কোন এক ললাটে এক বিন্দু তাজা অক্সিজেনের ফোঁটা। কালো পাতাগুলোর প্রবল চিৎকার! ধুলো মাখা হৃদয়ের উইন্ডশীল্ডে সতেজতার ওয়াইপারের খুব দ্রুত নাড়ানাড়ি। প্রথম স্পর্শ, প্রথম অনুভুতি এবং প্রথম মিলনের সেই চরম যাতনার পূনরাবৃত্তি। আমি উপভোগ করছি -বিন্দু বিন্দু সুখানুভূতির সাথে প্রবল প্রতীক্ষা-কষ্টের এক দারুন সঙ্গম। বৃষ্টি বিলাসের এই দিনে এখন প্রয়োজন শুধু তোমার শীতল আলিঙ্গন।


আক্ষেপ
আমি কঠিন কোন শব্দ-জাল বুনতে পারি না, তাই পারি না তোমার প্রশংসা করতে। আমি কবিতা লিখতে পারি না, তাইতো বলতে পারি না তুমি সুন্দর। কবিদের কঠিন সব শব্দ জালে প্রিয় অশ্লীল শব্দগুলো হয়ে যায় সব দূর্দান্ত মেটাফোর। চারিদিকে বাহ বাহ ধ্বনি। আমি প্রশংসা করি তোমার আর হয়ে যাই অশ্লীল, লুল কিংবা লুটেরা। কবিরা তোমার প্রশংসা করে, আর হয়ে যায় শব্দ জালে বোনা কোন কবিতামালা। আমার খুব কবি হতে ইচ্ছে করে, আমার খুব তোমাকে প্রশংসা করতে ইচ্ছে করে, আমার একটা কবিতা লিখতে ইচ্ছে করে, শুধু তোমাকে নিয়ে।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই মে, ২০১৪ ভোর ৬:৩৩
৫০টি মন্তব্য ৫০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চলে গেছো তাতে কি? নতুন একটা পেয়েছি, তোমার চেয়ে করে বেশী চাঁন্দাবাজিইইই....

লিখেছেন ঋণাত্মক শূণ্য, ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:২৭

আমি কবিতা লিখি না কখনও। চেষ্টাও করি না। আমি মূলত কবিতা অপছন্দ করি। কিন্তু....



আমি যখন ক্লাস ৪/৫ এ পড়ি, তখন স্কুলের বার্ষিক ক্রিড়া প্রতিযোগীতার সময় নিজের লেখা গল্প-কবিতা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজব পোশাক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১:৪৬


এক দেশে ছিল একজন রাজা। রাজার হাতিশালে হাতি, ঘোড়াশালে ঘোড়া। সিপাহী-সামন্ত লোকলস্করে রাজপুরী গমগম। রাজার ধন-দৌলতের শেষ নেই। রাজা ছিল সৌখিন আর খামখেয়ালি। খুব জাঁকজমক পোশাক-পরিচ্ছদ পরা তার শখ। নিত্যনতুন... ...বাকিটুকু পড়ুন

নির্বাচনী অঙ্গীকার চাই ফুটপাথ ফেরাও মানুষের কাছে

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:৪৬


ভোটের মিছিলে কথা হয় অনেক
পোস্টারে ভরা উন্নয়নের ঢাক
কিন্তু বলো তো ক্ষমতাপ্রার্থী দল
ফুটপাথ কার এ প্রশ্নের কি জবাব?

ঢাকা ছোটে না, ঢাকা পায়ে হেটে ঠেলে চলে
শিশু, নারী, বৃদ্ধ সবাই পড়ে কষ্টের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বালুর নিচে সাম্রাজ্য

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৫১


(ডার্ক থ্রিলার | কারুনের আধুনিক রূপক)

ঢাকার রাত কখনো পুরোপুরি ঘুমায় না।
কাঁচের অট্টালিকাগুলো আলো জ্বেলে রাখে—যেন শহর নিজেই নিজের পাপ লুকাতে চায়।

এই আলোর কেন্দ্রেই দাঁড়িয়ে ছিল করিম গ্লোবাল টাওয়ার
আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

গণভোটের ব্যালটটি দেখতে কেমন হবে?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:৫৭



সামনের গণভোট ঘিরে অনেক অপপ্রচার চলছে বলে শোনা যাচ্ছে। অনেকেই জানতে চাঁচ্ছেন, গণভোটের ব্যালটটি দেখতে কি রকম হবে? নির্বাচন কমিশনের ওয়েসবাইট থেকে জানতে পারা গিয়েছে যে, গণভোটের ব্যালটটি উপরের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×