somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ফেলে আসা দিনগুলিঃ পত্র মিতালী

১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১১ সন্ধ্যা ৬:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আশি দশকে আমি ছিলাম টগবগে যুবক।হেন কাজ নেই যা ঢাকা শহরের অলিতে গলিতে ঘুড়ে বেড়িয়ে বাদ রেখে দিয়েছি। পাবলিক লাইব্রেরী/ইন্ডিয়ান এম্ব্যাসী লাইব্রেরীতে বই পড়া, স্টেডিয়ামে ফুটবল দেখা(তখন ক্রিকেট জনপ্রিয় হয়নি), শিল্পকলা একাডেমীতে বিভিন্ন দেশের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বা গ্যালারীতে চিত্রপ্রদর্শনী দেখা আর বিভিন্ন দেশের এম্ব্যাসীর পাস যোগার করে, সেই দেশের সিনেমাগুলি দেখে নিতাম।

যাক একসময় ইন্ডিয়ান এম্ব্যাসীর লাইব্রেরীতে তাদের ক্রীড়া পত্রিকা পড়ে,ফুটবল নিয়ে একটা লেখা দিই।তার এক মাসের মধ্যেই আমার নিকট কলকাতা থেকে প্রচুর চিঠি আসতে থাকে।প্রায় সবাই আমার লেখার প্রশংসা করার সঙ্গে সঙ্গে পত্রমিতালীরও আমন্ত্রণ জানায়।আমি সবাইকে উত্তর না দিয়ে মাত্র তিনজন রেখে অন্যদের ঠিকানা আমার বন্ধু মহলে দিয়ে দিই।
লক্ষ্য করলাম মিতালী করতে গিয়ে আমার কয়েকটা দিক পরিবর্তন হচ্ছে।প্রথমতঃ একটা চিঠির হাতের লেখা সুন্দর দেখানোর জন্য বার কয়েক লিখে লিখে হাতের লেখারও উন্নতি হচ্ছে।বই পড়া বলতে মাসুদ রানার পাগল ছিলাম সেটা বিসৃত হয়ে সমরেস মজুমদার-মৈত্রেয়ী দেবীতে পৌছলো।গান শুনার পছন্দও উপড়ের দিকে গেল!
যাক তিনজন পত্র মিতার একজন ছিল তখনকার ভারতীয় জাতীয় ফুটবল কোচ পিকে ব্যানার্জীর দুই মেয়ের একজন পলা ব্যানার্জী।তার সঙ্গে মিতালী করে কিভাবে সাংবাদিক বনে গেলাম সেই কথা আগে বলি।আমি তখন বিচিত্রা ফোরাম ক্লাবের সদস্য,তাই মাথায় এলো বিচিত্রায় পিকে ব্যানার্জীর সাক্ষাৎকার প্রকাশ করবো।একদিন ডিআইটি রোডের বিচিত্রা ভবনে চলে গেলাম।ক্রীড়া বিভাগে গিয়ে ব্যাপারটা বলতেই তারা আমাকে জনাব শাহরিয়ার কবিরের নিকট পাঠালেন।কথা শুনে তিনি লাফিয়ে উঠলেন,অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন তুমি কিভাবে এই জাতীয় কোচের সাক্ষাৎকার নেবে? যাই হোক আমি উনার পরামর্শ নিয়ে পনের দিনের মধ্যেই তা জমা দিয়ে দিলাম।এবং দ্বিতীয় কভার স্টোরী হিসেবে তা প্রকাশিতও হয়েছিল।তখন বন্ধু মহলসহ আত্মীয়স্বজনের অনেক বাহবাই আমি পেয়েছিলাম।সঙ্গে বিচিত্রা থেকে সন্মানী!!:P
এর কিছুদিন পর আবাহনী মহিলাদল কলকাতায় খেলতে গিয়েছিল।পলা ব্যানার্জী তাদের হাতে অনেক গিফট আমার জন্য পাঠিয়ে লিখে দিলেন সাবের হোসেনের নিকট থেকে নিয়ে নিতে।আমি তার ধানমন্ডির বিশাল ড্রয়িং রুমে ঢুকতেই তিনি হেসে বলেছিলেন “এই ছেলে তুমি তাকে চেন কি করে?”B-)
এভাবে পলা প্রায়ই গিফট পাঠাতো আর তার বড়লোকি কাহিনী শুনাতো।যেমন নাচ শিখতে গিয়ে ক্লান্ত তাই লিখতে পারছিনা, অমুক দেশে বাবার সঙ্গে ঘুড়ে বেড়ালাম,অমিতাভ বচ্চনকে পার্টিতে গিয়ে উইশ করলাম,বাবা আমাকে জন্মদিনে ফিয়াট কার গিফট করলো!
একদিন লিখে জানালো তার বাবা ঢাকা বেড়াতে আসবে, সাহরিয়ার আংকেল ব্যবস্থা করেছেন।থাকবেন হোটেল পূর্বানীতে।
আমি তখন সদ্য দেখা কুমার গৌরব-পুনম ধীলনের “রোমাঞ্চ”

ছবিটার গল্প মনে করলাম।নায়িকা ইংল্যান্ড থেকে পত্র মিতা নায়কের সাথে দেখা করতে আসছে। বেচারা নায়ক মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে হয়ে এই বড়লোক নায়িকাকে হোটেলে রাখতে গিয়ে সারারাত অড জব শুরু করলো।ব্লা ব্লা ব্লা---

আমি তাকে জানিয়ে দিলাম,সরি আমাদের হয়তো দেখা হচ্ছেনা কারন আমি চিটাগাং যাচ্ছি এক মাসের জন্য।;)এরপর পত্রিকায় খবর দেখলাম প্রথমবারের মতো বাঙ্গালী ভারতীয় জাতীয় কোচ ঢাকায় এসেছেন।আর আমি ক্রীড়া পল্লিতে গিয়ে উকি ঝুকি দিয়ে দেখারও সাহস করিনি।আমার ভয় হচ্ছিল মেইল এড্রেস দেখে বাসায় এসে হাজির না হয় আবার! কিন্তু ভিয়াইপি লোকদের যা হয়,বিভিন্ন ক্রীড়া ম্যাগাজিনে তাদের সফর নিয়ে লেখা দেখলাম। সংক্ষিপ্ত সফরে তারা সাংঘাতিক ব্যস্ত ছিল।
কলকাতায় ফিরে গিয়েই পলা চিঠি লিখেছিল আমার সঙ্গে দেখা না করায় বরং সে নিজেই অনুতপ্ত!!:)
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০১১ ভোর ৪:৪৩
১৪টি মন্তব্য ১৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Ai দিয়ে তৈরি করা কিছু বাংলাদেশী টাকার নমুনা নোট

লিখেছেন মরুভূমির জলদস্যু, ২০ শে মে, ২০২৬ দুপুর ২:২২


হঠাত করেই কয়েকদিন ধরে ফেসবুকে Ai দিয়ে তৈরি করা কিছু বাংলাদেশী টাকার নমুনা নোট বার বার সামনে আসতে শুরু করে। তাদের কিছু কিছু নমুনা খুবই সুন্দর, কিছু কিছু আবার... ...বাকিটুকু পড়ুন

যু্ক্তিসংগত ব্যাখ্যা চাই-১

লিখেছেন অপলক , ২০ শে মে, ২০২৬ রাত ৯:২৪




আমরা সবাই জানি ইসলাম ধর্মে, আত্মহত্যাকারীর পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ। সহীহ বুখারীতে এসেছে, আল্লাহ তা'আলা বলেন, "আমার বান্দা নিজের জীবনের ব্যাপারে আমার আগেই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে, তাই আমি তার ওপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোল্লাতন্ত্র ও নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধের সমাধান নয়, বরং তা বৃদ্ধির একটি কারণ

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২১ শে মে, ২০২৬ সকাল ৮:৪২


সাত বছর বয়সের ছোট্ট শিশু রামিসাকে ধর্ষণ করে গলা কেটে হত্যার ঘটনার সমাধান হিসেবে, মোল্লাতন্ত্রের মুখপাত্র আহমাদুল্লাহ হুজুর পুরাতন এক ফতোয়া নিয়ে হাজির হয়েছেন। এইসব নৃশঃসতার মাত্রা কমিয়ে আনার একমাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেজন্মা

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ২১ শে মে, ২০২৬ সকাল ১১:৪১


হু বেজন্মা কথা শুনার পর
আমি বিরক্ত মনে করতাম
কিন্তু বেজন্মা কথাটা সত্যই
স্রোতের মতো প্রমান হচ্ছে-
খুন ধর্ষণ করার পশুত্বকে
বলে ওঠে বেজন্মা ক্যান্সার;
ক্যান্সারের শেষপরিণতি মৃত্যু
তেমনী বেজন্মার হোক মৃত্যু-
চাই না এই বেজন্মাদের বাসস্থান
আসুন রুখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাষ্ট্র কেন রামিসাদের রক্ষা করতে ব্যর্থ?

লিখেছেন ওয়াসিম ফারুক হ্যাভেন, ২১ শে মে, ২০২৬ বিকাল ৩:১০


সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় কাঠামো, আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা এবং সামগ্রিক নাগরিক নিরাপত্তা নিয়ে যে গভীর ও দমবন্ধ করা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তা কোনো কাল্পনিক ভীতি বা বিচ্ছিন্ন অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ নয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×