যাক একসময় ইন্ডিয়ান এম্ব্যাসীর লাইব্রেরীতে তাদের ক্রীড়া পত্রিকা পড়ে,ফুটবল নিয়ে একটা লেখা দিই।তার এক মাসের মধ্যেই আমার নিকট কলকাতা থেকে প্রচুর চিঠি আসতে থাকে।প্রায় সবাই আমার লেখার প্রশংসা করার সঙ্গে সঙ্গে পত্রমিতালীরও আমন্ত্রণ জানায়।আমি সবাইকে উত্তর না দিয়ে মাত্র তিনজন রেখে অন্যদের ঠিকানা আমার বন্ধু মহলে দিয়ে দিই।
লক্ষ্য করলাম মিতালী করতে গিয়ে আমার কয়েকটা দিক পরিবর্তন হচ্ছে।প্রথমতঃ একটা চিঠির হাতের লেখা সুন্দর দেখানোর জন্য বার কয়েক লিখে লিখে হাতের লেখারও উন্নতি হচ্ছে।বই পড়া বলতে মাসুদ রানার পাগল ছিলাম সেটা বিসৃত হয়ে সমরেস মজুমদার-মৈত্রেয়ী দেবীতে পৌছলো।গান শুনার পছন্দও উপড়ের দিকে গেল!
যাক তিনজন পত্র মিতার একজন ছিল তখনকার ভারতীয় জাতীয় ফুটবল কোচ পিকে ব্যানার্জীর দুই মেয়ের একজন পলা ব্যানার্জী।তার সঙ্গে মিতালী করে কিভাবে সাংবাদিক বনে গেলাম সেই কথা আগে বলি।আমি তখন বিচিত্রা ফোরাম ক্লাবের সদস্য,তাই মাথায় এলো বিচিত্রায় পিকে ব্যানার্জীর সাক্ষাৎকার প্রকাশ করবো।একদিন ডিআইটি রোডের বিচিত্রা ভবনে চলে গেলাম।ক্রীড়া বিভাগে গিয়ে ব্যাপারটা বলতেই তারা আমাকে জনাব শাহরিয়ার কবিরের নিকট পাঠালেন।কথা শুনে তিনি লাফিয়ে উঠলেন,অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন তুমি কিভাবে এই জাতীয় কোচের সাক্ষাৎকার নেবে? যাই হোক আমি উনার পরামর্শ নিয়ে পনের দিনের মধ্যেই তা জমা দিয়ে দিলাম।এবং দ্বিতীয় কভার স্টোরী হিসেবে তা প্রকাশিতও হয়েছিল।তখন বন্ধু মহলসহ আত্মীয়স্বজনের অনেক বাহবাই আমি পেয়েছিলাম।সঙ্গে বিচিত্রা থেকে সন্মানী!!
এর কিছুদিন পর আবাহনী মহিলাদল কলকাতায় খেলতে গিয়েছিল।পলা ব্যানার্জী তাদের হাতে অনেক গিফট আমার জন্য পাঠিয়ে লিখে দিলেন সাবের হোসেনের নিকট থেকে নিয়ে নিতে।আমি তার ধানমন্ডির বিশাল ড্রয়িং রুমে ঢুকতেই তিনি হেসে বলেছিলেন “এই ছেলে তুমি তাকে চেন কি করে?”
এভাবে পলা প্রায়ই গিফট পাঠাতো আর তার বড়লোকি কাহিনী শুনাতো।যেমন নাচ শিখতে গিয়ে ক্লান্ত তাই লিখতে পারছিনা, অমুক দেশে বাবার সঙ্গে ঘুড়ে বেড়ালাম,অমিতাভ বচ্চনকে পার্টিতে গিয়ে উইশ করলাম,বাবা আমাকে জন্মদিনে ফিয়াট কার গিফট করলো!
একদিন লিখে জানালো তার বাবা ঢাকা বেড়াতে আসবে, সাহরিয়ার আংকেল ব্যবস্থা করেছেন।থাকবেন হোটেল পূর্বানীতে।
আমি তখন সদ্য দেখা কুমার গৌরব-পুনম ধীলনের “রোমাঞ্চ”
ছবিটার গল্প মনে করলাম।নায়িকা ইংল্যান্ড থেকে পত্র মিতা নায়কের সাথে দেখা করতে আসছে। বেচারা নায়ক মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে হয়ে এই বড়লোক নায়িকাকে হোটেলে রাখতে গিয়ে সারারাত অড জব শুরু করলো।ব্লা ব্লা ব্লা---
আমি তাকে জানিয়ে দিলাম,সরি আমাদের হয়তো দেখা হচ্ছেনা কারন আমি চিটাগাং যাচ্ছি এক মাসের জন্য।
কলকাতায় ফিরে গিয়েই পলা চিঠি লিখেছিল আমার সঙ্গে দেখা না করায় বরং সে নিজেই অনুতপ্ত!!
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০১১ ভোর ৪:৪৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।
.jpg)



