somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ফেলে আসা দিনগুলিঃ একজন সিনেমাখোরের গল্প

০৩ রা অক্টোবর, ২০১১ রাত ১১:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কতোবছর বয়স থেকে সিনেমা দেখছি সঠিক মনে নেই,তবে জ্ঞান হবার পর থেকেই মা’র সঙ্গে সিনেমা হলে গিয়ে ছবি দেখতাম। আমার মা খুব সিনেমা পাগল তাই ছোটকালে তার কোলে করে গিয়ে সিনেমা দেখতাম! জেলা শহরের সিনেমা হলে মহিলাদের আসন থাকতো একদম পেছনে অর্থাৎ রিয়ার ষ্টলের ঠিক পেছনে। প্রায়ই মা আমাকে সঙ্গে নিয়ে সিনেমায় যেতেন কিন্তু একদিন কোন এক মহিলা পেছন থেকে বলে ফেললো এই বড় ছেলেটিকে আমাদের এখানে কে এনেছে? ( মনে হয় আমি হঠাৎ করেই বেশ লম্বা হয়ে গিয়েছিলাম) সেই থেকে লজ্জায় আমি আর মহিলাদের আসনে মায়ের সঙ্গে বসতামনা।/:)

তবে সিনেমা দেখা কিন্তু ছেড়ে দিইনি।মায়ের সঙ্গে সিনেমা দেখা ছেড়ে দেয়ার পর বন্ধুদের নিয়ে দেখা শুরু করলাম।বাংলাদেশী সিনেমার পাশাপাশি পিলখানা গ্যারিসনে কলকাতার বাংলা সিনেমা আর মর্নিংশোতে গিয়ে ইংরেজী ছবিও।আরও পর ভিসিয়ারে পুরানো ঢাকার অলিগলিতে হিন্দি ছবি দেখার অনেক রোমাঞ্চকর কাহিনীও রয়েছে।আর এখনতো সামুর কিছু মুভিখোরদের দেয়া তথ্য ও লিঙ্ক নিয়ে নেট থেকে ডাউনলোড করে কোরিয়ান,তামিল থেকে শুরু করে সব ধরনের সিনেমারই স্বাধ নিচ্ছি।

আজ একটি সিনেমা দেখার কাহিনী বোলবো।আমার বাবার চাকুরীর সুবাদে আমার জীবনের কিছুটা সময় কেটেছিল বনলতা সেনের নাটোর শহরে।তখন রেডিওতে এক একটি সিনেমার বিজ্ঞাপন হতো ১৫/২০ মিনিট ধরে,সেখানে নাজমুল হাসানের ভড়াট গলায় হ্যা ভাই, দেখে নিন--- জাতীয় উচ্চস্বরে বিজ্ঞাপনি কথা বলতো।আমরা শুনলাম ইবনে মিজান পরিচালিত ও ববিতা-জাভেদের অভিনীত নিশান ছবিটি ঢাকার সঙ্গে একযোগে নাটোরের পাশের শহর শান্তাহারে মুক্তি পাচ্ছে।সেই সময় ছবিটির একটি গান ” চুপি চুপি বল কেউ যেনে যাবে” খুবই জনপ্রিয়তা পেয়েছিল।আর যায় কোথায় :)আমরা পাচ বন্ধু মিলে সিদ্ধান্ত নিলাম এই সিনেমাটা শান্তাহারে গিয়েই দেখে নেব।নাটোর থেকে শান্তাহারের দুরত্ব প্রায় ৪০/৫০কিমিঃ হবে, আর একমাত্র যানবাহন হচ্ছে ট্রেন।আমরা যার যার মতো পয়সা কড়ি জমিয়ে একদিন ট্রেনে করে চলে গেলাম শান্তাহার।স্টেশনে নেমেই সিনেমা হলের দিকে দৌড়ালাম। টিকিট না পেয়ে ব্লাকেই বেশী দামে পাচটি ম্যাটিনী শোয়ের টিকিট নিলাম।কারন সন্ধ্যা ৭টায় ফিরতি ট্রেনে নাটোর যেতে হবে না হলে পরদিন ভোর ৬টায় পরবর্তী ট্রেন!

যথা সময়ে সিনেমা শুরু হলো,বয়সের দোষ ছিল:P নাহলে জাভেদের মতো হিরোর ছবি আমরা মুগ্ধ হয়ে দেখছিলাম!! এক পর্যায়ে বিদ্যুৎ চলে গেল, জেনারেটর নেই বলে অনেকক্ষণ অপেক্ষার পর ছবি আবারো শুরু হলো। এভাবে বার কয়েক বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ফলে সিনেমা শেষ হলো প্রায় সাড়ে সাতটার দিকে।হল থেকে বের হয়েই আমরা দৌড়ালাম ট্রেনের দিকে। কিন্তু বিধিবাম সেইদিনই ছিল ট্রেনটা অনটাইমে ছেড়ে যাওয়ার দিন !:D

আমরা যখন স্টেশনে পৌছেছিলাম ট্রেন তখন বেশ দূরে চলে গিয়েছে।আগেই বলেছি ট্রেন ছাড়া নাটোর যাওয়ায় আর কোন রাস্তা নেই। সেই সময় মোবাইল ফোনের যুগ ছিলনা বলে কারো বাড়ীতে এই সংবাদটাও জানাতেও পারিনি।

তখন ছিল শীতের সিজন আর উত্তরবঙ্গের শীতের কথা কে না জানে,তখনো হুডির যুগ শুরু হয়নি তাই হাতে বুনা শোয়েটার ছিল আমার গায়ে!শীতে কান ঠান্ডা হয়ে মরার অবস্থা পেটেও খিদের ডাক দিচ্ছে।হিসেব করে দেখলাম হোটেলে থাকার মতো পয়সা নেই তবে ভাত খাওয়া যাবে।আমরা সবাই মিলে ছোটখাটো একটি রেস্টুরেন্টে গিয়ে আগে ভাত খেয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম।:D

খেয়ে নিয়ে ফিরে আসলাম স্টেশনের সাধারন ওয়েটিং রুমে।কিন্তু পরিবেশ দেখে সেই রুমে না বসে প্রথম শ্রেণীর ওয়েটিং রুমে গিয়ে ঢুকলাম।সেখানে টিকিট দেখিয়ে বসতে হলেও হয়তো ছাত্র দেখে আমাদের কিছুই বললনা।জংশন স্টেশন,তাই হৈ চৈ প্রায় লেগেই ছিল। আমরাও গাল গল্প করে কাটাচ্ছিলাম কিন্তু রাত বারোটার দিকে একদল আর্মী এসে আমাদের রুমে ঢুকলেন।তাদের একজন আবার ডেকে নিয়ে এলো ষ্টেশন মাস্টারকে।আমাদের মাথায় পড়লো বিশাল বাজ!:(( কারন তিনি টিকিট চেক করে প্রথম শ্রেণীর যাত্রীদের রেখে আর সবাইকে বের করে দিচ্ছিলেন,শেষে আমাদেরকেও!X(

আমরা খুঁজে খুঁজে একটা থেমে থাকা বগীতে গিয়ে উঠলাম।ঘন্টা খানেক ভালই কাটলো।অন্ধকার বগিতে চোখ বুঝে ছিলাম,হঠাৎ একটা ধাক্কার দুলুনিতে তাকিয়ে দেখি ওটাতে ইঞ্জিন লাগাচ্ছে অর্থাৎ এটাও এখন অন্য দিকে ছেড়ে যাবে।এরপর প্লাটফর্ম ছাড়া আর কিছু খুজে পেলামনা।সেখানে প্রচন্ড শীতের ঠেলায় আমরা প্রায় পাচ মিনিট পর পর চা খাওয়া শুরু করলাম,সঙ্গে জগিং। অর্থাৎ প্লাটফর্মের চারিদিকে আমরা দৌড়ে শরীর গরম করতে লাগলাম।রেল পুলিশও আমাদের দিকে তাকিয়ে মিটি মিটি হাসে। এইভাবে আমরা সারারাত একটি স্টেশনে বিনা শীত বস্ত্রে কাটিয়ে দিয়েছিলাম।:((

সকালে যখন আমাদের ট্রেনটি এলো তখন চা বিস্কিট খেয়ে খেয়ে আমাদের পকেট ফাকা।তবে আল্লার করুনা ছিল বলেই হয়তো বিনা টিকিটে ট্রেন ভ্রমনের জন্য আর কোন প্রকার ঝামেলা ঘটেনি।

ববিতা জাভেদের সেই জনপ্রিয় গানটি

তবে ঘটনাটি মনে পড়লো মিলার ভিডিও রিমেক “চুপি চুপি বল কেউ যেনে যাবে “ দেখে !
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে অক্টোবর, ২০১১ দুপুর ২:৪৭
৩৮টি মন্তব্য ৩৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

লিখেছেন নতুন নকিব, ১১ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০৩

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

মানুষের জীবন মূলত অসংখ্য ছোট-বড় সিদ্ধান্তের সমষ্টি। প্রতিটি বাঁকে, প্রতিটি মোড়ে আমাদের কোনো না কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

লিখেছেন আঘাত প্রাপ্ত একজন, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

[সম্ভাবনার ক্রমানুসারে নয়ঃ]

আর্জেন্টিনা: আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ তার ডিফেন্স আর ইনজুরি । ৩৮ বছরের তরুণ(!) সেন্টারব্যাক ওতামেন্দি আর কমপক্ষে এক হালি হাফ-ফিট ফুটবলার নিয়ে ১৯ জুলাই পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ শরৎ বন্দনা

লিখেছেন ইসিয়াক, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:৫৯


শরৎ এলেই আকাশ জুড়ে সাদা মেঘের ভেলা
দিনমণি আর মেঘমালার লুকোচুরি খেলা।

রুম ঝুমঝুম নূপুর পায়ে ছুটছে নদীর ঢেউ
ভাটিয়ালি গাইছে গান অচিন সুরে কেউ।

বিলে ঝিলে শাপলা পদ্ম... ...বাকিটুকু পড়ুন

×