তবে সিনেমা দেখা কিন্তু ছেড়ে দিইনি।মায়ের সঙ্গে সিনেমা দেখা ছেড়ে দেয়ার পর বন্ধুদের নিয়ে দেখা শুরু করলাম।বাংলাদেশী সিনেমার পাশাপাশি পিলখানা গ্যারিসনে কলকাতার বাংলা সিনেমা আর মর্নিংশোতে গিয়ে ইংরেজী ছবিও।আরও পর ভিসিয়ারে পুরানো ঢাকার অলিগলিতে হিন্দি ছবি দেখার অনেক রোমাঞ্চকর কাহিনীও রয়েছে।আর এখনতো সামুর কিছু মুভিখোরদের দেয়া তথ্য ও লিঙ্ক নিয়ে নেট থেকে ডাউনলোড করে কোরিয়ান,তামিল থেকে শুরু করে সব ধরনের সিনেমারই স্বাধ নিচ্ছি।
আজ একটি সিনেমা দেখার কাহিনী বোলবো।আমার বাবার চাকুরীর সুবাদে আমার জীবনের কিছুটা সময় কেটেছিল বনলতা সেনের নাটোর শহরে।তখন রেডিওতে এক একটি সিনেমার বিজ্ঞাপন হতো ১৫/২০ মিনিট ধরে,সেখানে নাজমুল হাসানের ভড়াট গলায় হ্যা ভাই, দেখে নিন--- জাতীয় উচ্চস্বরে বিজ্ঞাপনি কথা বলতো।আমরা শুনলাম ইবনে মিজান পরিচালিত ও ববিতা-জাভেদের অভিনীত নিশান ছবিটি ঢাকার সঙ্গে একযোগে নাটোরের পাশের শহর শান্তাহারে মুক্তি পাচ্ছে।সেই সময় ছবিটির একটি গান ” চুপি চুপি বল কেউ যেনে যাবে” খুবই জনপ্রিয়তা পেয়েছিল।আর যায় কোথায়
যথা সময়ে সিনেমা শুরু হলো,বয়সের দোষ ছিল
আমরা যখন স্টেশনে পৌছেছিলাম ট্রেন তখন বেশ দূরে চলে গিয়েছে।আগেই বলেছি ট্রেন ছাড়া নাটোর যাওয়ায় আর কোন রাস্তা নেই। সেই সময় মোবাইল ফোনের যুগ ছিলনা বলে কারো বাড়ীতে এই সংবাদটাও জানাতেও পারিনি।
তখন ছিল শীতের সিজন আর উত্তরবঙ্গের শীতের কথা কে না জানে,তখনো হুডির যুগ শুরু হয়নি তাই হাতে বুনা শোয়েটার ছিল আমার গায়ে!শীতে কান ঠান্ডা হয়ে মরার অবস্থা পেটেও খিদের ডাক দিচ্ছে।হিসেব করে দেখলাম হোটেলে থাকার মতো পয়সা নেই তবে ভাত খাওয়া যাবে।আমরা সবাই মিলে ছোটখাটো একটি রেস্টুরেন্টে গিয়ে আগে ভাত খেয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম।
খেয়ে নিয়ে ফিরে আসলাম স্টেশনের সাধারন ওয়েটিং রুমে।কিন্তু পরিবেশ দেখে সেই রুমে না বসে প্রথম শ্রেণীর ওয়েটিং রুমে গিয়ে ঢুকলাম।সেখানে টিকিট দেখিয়ে বসতে হলেও হয়তো ছাত্র দেখে আমাদের কিছুই বললনা।জংশন স্টেশন,তাই হৈ চৈ প্রায় লেগেই ছিল। আমরাও গাল গল্প করে কাটাচ্ছিলাম কিন্তু রাত বারোটার দিকে একদল আর্মী এসে আমাদের রুমে ঢুকলেন।তাদের একজন আবার ডেকে নিয়ে এলো ষ্টেশন মাস্টারকে।আমাদের মাথায় পড়লো বিশাল বাজ!
আমরা খুঁজে খুঁজে একটা থেমে থাকা বগীতে গিয়ে উঠলাম।ঘন্টা খানেক ভালই কাটলো।অন্ধকার বগিতে চোখ বুঝে ছিলাম,হঠাৎ একটা ধাক্কার দুলুনিতে তাকিয়ে দেখি ওটাতে ইঞ্জিন লাগাচ্ছে অর্থাৎ এটাও এখন অন্য দিকে ছেড়ে যাবে।এরপর প্লাটফর্ম ছাড়া আর কিছু খুজে পেলামনা।সেখানে প্রচন্ড শীতের ঠেলায় আমরা প্রায় পাচ মিনিট পর পর চা খাওয়া শুরু করলাম,সঙ্গে জগিং। অর্থাৎ প্লাটফর্মের চারিদিকে আমরা দৌড়ে শরীর গরম করতে লাগলাম।রেল পুলিশও আমাদের দিকে তাকিয়ে মিটি মিটি হাসে। এইভাবে আমরা সারারাত একটি স্টেশনে বিনা শীত বস্ত্রে কাটিয়ে দিয়েছিলাম।
সকালে যখন আমাদের ট্রেনটি এলো তখন চা বিস্কিট খেয়ে খেয়ে আমাদের পকেট ফাকা।তবে আল্লার করুনা ছিল বলেই হয়তো বিনা টিকিটে ট্রেন ভ্রমনের জন্য আর কোন প্রকার ঝামেলা ঘটেনি।
ববিতা জাভেদের সেই জনপ্রিয় গানটি
তবে ঘটনাটি মনে পড়লো মিলার ভিডিও রিমেক “চুপি চুপি বল কেউ যেনে যাবে “ দেখে !

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


