নিতাকাত কি এবং কেন?
নিতাকাতের সম্পুর্ন অর্থ হচ্ছে Incentive Program for Entities to Nationalize Job।সৌদি জাতীয়তাবাদের অনুপ্রেয়নায় বেসরকারী চাকুরী বাজারে তাদের বেকার নাগরিকদের চাকুরেকরনে বাধ্য করন। কোন দেশ বা জাতি যদি নিজের দেশকে নিজস্ব জনশক্তি দিয়ে চালাতে চায় এবং তার সামর্থ্য তাদের থাকে তবে বিদেশীদের কি করার থাকে? গত দুই বছর যাবত সৌদি আরবে বিশেষজ্ঞদ্বারা গভেষনা করে সৌদি আরবের প্রাইভেট সেক্টরের জন্য এই পরিকল্পনা তৈরী করেছেন,যাহা শিঘ্রিই(মহররম মাস থেকে) প্রয়োগ করতে যাচ্ছে।
বিদেশীদের চাকুরীচুত্যকারী এই পরিকল্পনার ভেতর কি আছে আসুন একটু চোখ বুলিয়ে নিই।
চাকুরীর বাজারে সৌদি জাতীয়করনই হচ্ছে নিকাত প্রোগরাম।
তারা মনে করেন বর্তমানে সৌদি আরবে প্রচুর স্থানীয় বেকার থাকা অবস্থায়ও বিদেশীদের কারনে সৌদি বেকার ছেলেরা চাকুরী না পাওয়ার কারনগুলো নিন্মরুপঃ
১।বিদেশীরা কম বেতনে চাকুরী পায় এবং তাই সৌদিরা তাদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেননা।
২।কাজের পরিবেশ বা পারিপার্শ্বিক অবস্থা অপর্যাপ্ত্য এবং কাজ থেকে ছাটাই প্রক্রিয়ারও সমস্যা আছে।
৩।সৌদিদের সাহস করে কাজ না করার মানষিকতা এবং কম বেতন আর কাজের নিরাপত্তার অভাব।
৪।তাদের (সৌদি) যোগ্যতাও কম এবং অতিমাত্রায় কাজের সময়(ঘন্টা) নিয়ে অনীহা।
৫।এছাড়া চাকুরীর বাজারে বিদেশীদের জন্য ভিসার প্রচুর ছড়াছড়ি তাই সৌদিরা চাকুরীর সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
৬।প্রাইভেট কোম্পানীগুলি ইচ্ছে করেই সৌদিদের চাকুরীতে দেননা আর সরকার এ ব্যাপারে নমনীয়।
২০০৯ সালে সৌদি নাগরিকদের মধ্যে বেকার সংখ্য ছিল ৪৪৮,০০০ জন।প্রতি ৯জন বিদেশী চাকরীজীবির বিপক্ষে মাত্র ১জন সৌদি নাগরীক চাকুরী করেন।আর এর মধ্যে ৩৯’৯% সৌদি বেকারই হচ্ছে ইন্টারমিডিয়েট স্কুল পাশ! অন্যদিকে বিদেশীরা এদেশে কাজ করে তাদের দেশে নিয়ে গিয়েছে বছরে ৭৪বিলিয়ন রিয়াল।
ক্যাটাগরিক বিশ্লেষণ করে তারা চাকুরীরত দেশী/বিদেশীর নিন্মরুপ তালিকা প্রণয়ন করেছেন।
১।কৃষি,বন,মৎস বিষয়ক চাকুরীজিবী--- ৪,৪৪০জন(সৌদি) ৪৮৩,৫৬০জন(বিদেশী)
২।খনি ও তেল-গ্যাস উত্তোলনে---- ৪৩,৪৩৩জন(সৌদি) ২৮,৯৬৬জন(বিদেশী)
৩।শিল্প ও কলকারখানা বিষয়ক--- ৯০,৭৭৬জন(সৌদি) ৬৫৯,২১৩জন(বিদেশী)
৪।বিদ্যুত,গ্যাস ও পানি বিষয়ক--- ১০,০৮১জন(সৌদি) ১৬,৮০০জন(বিদেশী)
৫।বিল্ডিং কনস্ট্রাকশনে--------- ২০২,৩৯২জন(সৌদি) ২,৮১৪,৫০৪জন(বিদেশী)
৬।পাইকারী ও খুচরা বিক্রেতা --- ১৮৯,০৮৫জন(সৌদি) ১,৩১২,৩২৯জন(বিদেশী)
৭।ফিন্যান্স,ইন্সুরেন্স ও রিয়ালএস্টেট ব্যবসা--৩৯,০১৫জন(সৌদি) ৮৬,৩৭২জন(বিদেশী)
ইত্যাদি আরো কিছু প্রতিষ্ঠান মিলিয়ে সর্বমোট চাকুরীজিবীর পরিমান সৌদি—৭২৪,৬৫৫জন(১০’৪%) এবং বিদেশী ৬,২৬৬,৫৪৫জন(৮৯’৬%)।
চাকুরী ক্ষেত্রে এই বৈষম্য কমিয়ে এনে ৩০% সৌদি নাগরীকদের চাকুরী নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই নিতাকাত, যাতে কিছু পরামর্শও দেয়া হয়েছে।
১।স্বল্পস্থায়ী কর্মপন্থাঃ রিপ্লেচমেন্ট পলিসি,লেবার মিনিস্ট্রিকে এব্যপারে বুঝানো,পর্যায়ক্রমে বিদেশীদের পদে সৌদিদের চাকুরী দেয়া।
২।দীর্ঘস্থায়ী পরিকল্পনাঃ স্বল্পস্থায়ী কর্মপন্থার আউটকাম,চাকুরীস্থলের সুযোগসুবিদার উন্নতিকরন,বিভিন্ন মন্ত্রনালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন,আকাঙ্ক্ষিত সেকটরের অর্থনীতির উন্নতিকরন এবং তরুনদেরকে টেকনিক্যাল এডুকেশনে উৎসাহিতকরন।
এছাড়া প্রাইভেট কোম্পানীগুলোর দেশী বিদেশীদের চাকুরীর অনুপাতহারে চারটি লেভেলে ভাগ করা হয়েছে। যেমন রেড,ইয়লো,গ্রীন এবং প্রিমিয়াম।
ছোট কোম্পানী অর্থাৎ দশ জনের কম কর্মচারীর ক্ষেত্রে কোন লেভেল বা বাধা ধরা নিয়ম নেই।কিন্তু অন্যান্য কোম্পানিগুলির ক্ষেত্রে সৌদি জাতীয়করন রেট অনুযায়ী এইভাবে চিহ্নিত করা হয়েছেঃ
রেডঃ ০-৯%
ইয়লোঃ ১০-২৪%
গ্রীনঃ ২৪-৫৪% এবং
প্রিমিয়ামঃ ৩৮%
(লিস্টকে দীর্ঘায়িত না করে গড় অনুপাত দেয়া হলো)
এই চারটি ক্যাটাগড়ির বিদেশী কর্মীদের নুতন ভিসা বের করতে হলে কোম্পানীগুলিকে কি করা হবে ?
রেড মার্ক কোম্পানী হলেঃ ৬ বৎসর যাবৎ যারা কর্মরত তাদের দেশ ত্যাগ করতে হবে,কোন নুতন ভিসা ইস্যু হবেনা এবং মাত্র নভেম্বর ২০১১ সাল পর্যন্ত বিদেশীদের আকামা বা ওয়ার্ক পারমিট রিন্যু হবে!
ইয়লো মার্ক হলেঃ রেড মার্কের মতোই আইন কিন্তু ফেব্রুয়ারী ২০১২ সাল পর্যন্ত আকামা রিন্যু হবে!
গ্রীন এবং প্রিমিয়াম মার্ক হলেঃ ৬ বৎসরের অধিক চাকুরীজিবীদেরও আকামা রিন্যু করা যাবে, নূতন ভিসার জন্য অনুমতি পাবেন এমনকি রেড ও ইয়লো কোম্পানির চাকুরীচুত্য লোকদের ঐ সকল মালিকের বিনা অনুমতিতে নিয়ে গিয়ে কাজ দিতে পারবে। অর্থাৎ এই লেভেলে কোনই অসুবিদা নেই।
এর ফলে লাল ও হলুদ কোম্পানীগুলি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে যার সংখা প্রায় ৩০%- ৪০%। তবে কোম্পানী বন্ধ হলেও তাদের কর্মচারীগন মালিক বদলিয়ে (আকামা ট্রান্সফার) নিতে পারবে কিন্তু যেহেতু বাংলাদেশীরা ট্রান্সফার করতে পারেনা তাই তাদেরকে দেশে ফিরে যেতেই হবে।
অন্যদিকে এখন থেকে সৌদি আরবের কিছু রিক্রুট এজেন্সি লাইসেন্স পাবে যারা বিদেশ থেকে ভিসা দিয়ে লোক এনে এই দেশে বিভিন্ন কোম্পানীতে সাপ্লাই দেবে।ফলে আমাদের দেশের কিছু লোক যারা এই সাপ্লাই ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিল তারাও ব্যবসা হারাবে। এর ফলে ফ্রি ভিসা নামক শব্দটাও প্রায় শেষ হয়ে যাবে।
সর্বপরি অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেরও লক্ষ লক্ষ শ্রমিক যারা ৬ বৎসরের অধিককাল এদেশে কাজ করে যাচ্ছেন আর মাত্র কিছুদিনের মধ্যেই তারা দেশে ফিরতে শুরু করবেন।
সুত্রঃ মিনিস্ট্রি অব লেবার,সৌদি আরব।
পাদটীকাঃ সৌদি আরবে প্রায় দুইযুগে তাদের অনেক পরিকল্পনাই ঘোষিত হতে দেখেছি যা প্রয়োগ না হয়ে ব্যর্থ হয়েছে।আশাকরি এই পরিকল্পনাও সেদিকেই যাবে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



