বহু ক্রোশ দূরে
বহু দেশ ঘুরে
দেখিতে গিয়াছি পর্বত মালা
দেখিতে গিয়াছি সিন্ধু।
দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া
ঘর হতে শুধু দু পা ফেলিয়া
একটি ঘাসের শীষের উপর
একটি শিশির বিন্দু।
প্রকৃতির অপরুপ রুপ কে জানার ইচ্ছা নেই এমন মানুষ বিরল। আর তা যদি হয় বাংলাদেশের রুপ তা হলে ত কথাই নেই। ভ্রমন পিপাসু লোক সব সময় ই সুযোগ খুজে ভ্রমনের। ভ্রমনের মাধ্যমে যেমন জানা হয় অনেক অজানা বিষয়ের তেমনি প্রফুল্ল হয় মন। কর্মময় ব্যস্ত জীবনে ভ্রমনের মাধ্যমে আপনি পেতে পারেন জীবনের এক অন্য স্বাদ।
বর্ষাকালে ভ্রমনের জন্য আদর্শ হচ্ছে নৌকা ভ্রমন। এটি যেমন সাশ্রয়ী, তেমনি আনন্দ দায়ক। কোন এক নদীর মাঝ খান দিয়ে বয়ে যাওয়া নৌকার পাটাতনে( ছই) বসে চারপাশের দৃশ্য দেখা এক অন্যরকম আনন্দ। নদীর বুক চিরে তর তর করে বয় যাওয়া নৌকাটি মনে হতে পারে এক পাগলা ঘোড়ার মত। মাঝারী আকারের ঢেউ গুলো যখন নৌকার গায়ে আছড়ে পড়বে, তখন কিছুটা হলেও শরীরে কাপুনি ধরাবে। স্নিগ্ধ বিকালে সূর্যের আলো যখন নদীর পানি ছুয়ে আপনার চোখে পড়বে তখন আপনি মুগ্ধ না হয়ে পারবেন না। বন্ধু বান্ধব মিলে গান আর আনন্দ উল্লাস যোগ হলে আপনি ভুলে যেতে পারেন স্থান কাল পাত্র। এমনকি সবচেয়ে নির্জীব বন্ধুটি ও গুনগুনিয়ে গান গেয়ে উঠলে অবাক হবেন না। কোন এক নির্জন দ্বীপ (চর) এ নৌকা ভিরান (অবতরন)। রান্না বান্না আর খেলাধুলায় মেতে উঠুন। তার পর নদীর পানিতে ইচ্ছেমত ভিজুন ( গোসল ) । যখন ক্ষুধায় আপনার নাড়ীভুড়ি হরতাল করতে থাকবে তখন খাবার গুলো হবে “অমৃত”। কিছুক্ষন বিশ্রাম নিন কোন গাছের তলায়। ফেরার পথে নিজেরাই করতে পারেন কোন গেম শো / হালকা বিনোদন। পুরষ্কারের ব্যবস্থা রাখুন, যেন এটি আপনার সারা জীবনের নৌকা ভ্রমনের স্মৃতি হয়ে থাকে।
আসলে এতক্ষন যে ঘটনাগুলো বর্ণনা করলাম তা আমার জীবনে সাম্প্রতি ঘটে যাওয়া এক ভ্রমনের বিবরন। আপনারা যারা নৌকা ভ্রমনের সাথে পরিচিত তাদের কে বলার কিছুই নেই। যারা এখন এর স্বাদ নেন নি তাদেরকে বলব “প্লীজ একবার হলেও জীবনে নৌকা ভ্রমন করুন”। আপনি নিজেই পাবেন ভ্রমনের এক বিস্ময়কর অনুভুতি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

