আমার প্রিয় পোস্ট
- জামাতী ইবলিসি সংকলন - হোদল রাজা
- লিঙ্ক ছোট করুন - সাজ্জাদ রহমান
- সুসং দূর্গাপুর/বিরিসিরি যেতে চান? - জুহো.
- শার্ল বোদলেয়ার: অশুভ পুষ্পের উপাসক - ইমন জুবায়ের
- লিওনার্দো দা ভিঞ্চির উপর প্রামাণ্য চিত্র এবং অনলাইনে তার সমগ্র চিত্রকর্মের লিংক - তর্পন
- বিশ্ববিবেককে কাঁপিয়েছিল যে ছবি - জোবাইর
- আর্টস (http://arts.bdnews24.com) -এর দু বছর । কিছু বাছাই লেখা - ব্রাত্য রাইসু
- ব্যতিক্রমী বিষয় নিয়ে অসামান্য ছয়টি ডকুমেন্টারি (ডাউনলোড লিংকসহ) - ফিউশন ফাইভ
- পাহাড়ের কান্না যে আগুন জ্বালিয়েছিলেন শেখ মুজিব, তাতে ঘি ঢেলেছেন জিয়া, ফু দিচ্ছেন খালেদা, ষড়যন্ত্রে পাকা খেলোয়ার আছে একটি বাহিনী, আছে বাঙালি নামে একদল পরগাছা সেটেলার শিখন্ডি। শেখ হাসিনা কি তা নিভাতে পারবেন? আমার দুটো প্রস্তাব - মধুখোর
- শতবর্ষ আগে এলিফ্যান্ট রোড ছিল হাতির চারণভূমি - জুল ভার্ন
- পাকিদের যে জাহাজটা আজ সের দরে বেচে দিচ্ছেন, সেই জাহাজটা দেখেই কৈশোরে আমরা মুক্তিযুদ্ধকে চিনেছিলাম। - তারিক টুকু
- বিবিসির সাথে কুত্তার বাচচা অনুগত শ্রেষ্ঠের সাক্ষাতকার (উতসর্গঃ ব্লগের সকল রাজাকার জামাত বিরোধী আমার ভাই বোনরা) - সিহাব চৌধুরী
- গণহত্যার ছবি : নূরুল উলা - হাসিব
- '৭১ এর বুড়ি : সাধারণ কিছু মানুষের গল্প - ফারহান দাউদ
- ভিডিও : গণহত্যা হয়েছে, বিচার সম্ভব : আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মতামত - অমি রহমান পিয়াল
- আমার গোলাম আযমের আত্মজীবনী পাঠ: আসুন নাগরিকত্ব মামলায় পক্ষে রায় দেওয়া সেই বিচারকের পরিচয় জানি - শওকত হোসেন মাসুম
- শাহ হান্নানের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া ৩ - অপ বাক
- শাহ হান্নানের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া - উপসংহার - অপ বাক
- ফায়ারফক্স এর আকর্ষণীয় কিছু ট্রিকস...... - মানচুমাহারা
- ব্রাউজিং স্পীড বাড়ান, ব্রাউজ করুন স্বাচ্ছন্দে-০১ - পথের মানুষ
- ম্যাথ ট্রিকস্ -৪ - মামুনুর রহমান খাঁন
- সাংবাদিকদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ....! - মানবী
লেসবিয়ানিজমের অ আ ক খ
২৪ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১১:২৪
হোমোফোবিয়া থেকে মুক্তি পান : অধ্যয়ন করুন সহজ প্রণালী : ১৫ মিনিটে আরোগ্য
এই বিশুদ্ধ প্রণালী শিখলে আপনি অচিরেই মুক্তি পাবেন হোমোফোবিয়ার অসুখ থেকে। আজ্ঞে হ্যাঁ এটা অ-সুখ এবং সংকীর্ণতা। যাঁরা শক্ত শক্ত ল্যাটিন শব্দ মনে রাখতে পারেন তাঁদের জিজ্ঞেস করলেই জানতে পারবেন পৃথিবীতে কতশত ’ফোবিয়া’ আছে। ”ফোবিয়া” গুলো সবই একধরনের মানসিক অ-সুখ এবং যেমন আরশোলা কে ভয় পাওয়া, বদ্ধ জায়গায় থাকতে ভয় পাওয়া- সব! তবে কি জানেন আরশোলার সঙ্গে আপনার এ জন্মে যদি বন্ধুত্ব নাও হয় তবে আরশোলা কিন্তু অতো দুঃখ পায় না, পেলেও আপনি জানতে পারেন না। কিন্তু হোমোসেক্সয়াল মানুষকে দেখলেই যদি ভয় পান বা জানতে পারলেই তাঁদের এড়িয়ে চলেন তাহলে তাঁরা কিন্তু যারপরনাই দুঃখ পাবেন, তাঁরা যে দুঃখ পাচ্ছেন এটা বুঝতেও আপনার অসুবিধা হবে না বেশিরভাগ সময়েই। এইটা ভুলবেন না।
আমার আজ একটু উওম্যান টু উওম্যান বাক্যালাপ করবো। আলোচনা হবে মহিলা কেন্দ্রিক। কেমন? অতএব বান্ধবীগণ, আজ থেকে আপনাদের আর লেসবিয়ান দেখলে ভয় পেতে হবে না। আর এই প্রণালী বা ক্র্যাশ কোর্স শুরু করার আগে একটা মন্ত্র শিখিয়ে দিচ্ছি, মনে রাখবেন এই কোর্স নেবার পর প্রথম সাতদিন সকালে এটা তিনবার করে বলবেন। এই মন্ত্রের মন্ত্রগুপ্তি নেই কিন্তু! বিশ্বমাঝে ছড়িয়ে দিলে বিদ্যার মত দানে বাড়বে।
মন্ত্রটা শিখিয়ে দেবার আগে এই পদ্ধতির উপকারিতা একটু বিশদে আলোচনা করা যাক-
১. আপনি চিরদিন আধুনিক, জ্যাঠামশাইয়ের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে কলেজে পড়ার সময় জিনস্ পরতে শুরু করলেন, সালোয়ার কামিজ পরলেও ওড়না নিতেন না।
২. ফার্স্ট ইয়ারে পড়তে পড়তেই আপনি কলেজে সিগারেট খেতেন, এ নিয়ে কম ঝামেলা হয়নি- আপনার কিন্তু এক গোঁ, ছেলেরা যদি খেতে পারে আপনি কেন না? (তবে এখন ছেড়ে দিন। ছেলেরা যদি বিষ খেয়ে মরে তো মরুক!)
৩. আপনার বাবা গত হবার পর আপনি জোর করে মা'কে আমিষ খাইয়েছেন। সাদা শাড়ির বদলে সরু পাড়ের আকাশী, ম্যাজেন্টা রঙের শাড়িগুলোও আপনিই কিনে দিয়েছেন। বলেছেন কেউ কিছু বললে আপনি বুঝে নেবেন।
৪. আপনার বান্ধবী যখন দশবছরের ছোট ছেলেটিকে টপ করে বিয়ে করে সমাজের চক্ষুশূল হলো তখন আপনিই তাদের প্রথম যুগলে নিমন্ত্রণ করলেন। ওরা যদি পরস্পরকে ভালোবেসে সুখী হয় তাহলে অন্যলোকের কি এসে গেলো?
৫. আপনার ভাই যখন শবনম কে বিয়ে করলো তখন বাবা মাকে বুঝিয়ে শান্ত করেছিলেন আপনিই।
৬. আপনি নিজের বিয়ের সময় জানিয়েছিরেন, ছেলেটি কেমন দেখতে, কী করে, কোন জাতের বা ধর্মের এসবে আপনার কিছু এসে যায় না। কেবল মানুষটা কেমন সেটাই আসল!
শুনুন ভাই, আপনি ঠিক। আপনি আধুনিক। আপনার মনটা উদার। কিন্তু লেসবিয়ান দেখলেই আপনার কী হয় বলুন তো? ঐটা না হলেই কিন্তু আপনি এই আধুনিক পৃথিবীতে একজন আধুনিক নারী হিসেবে দশ এ দশ পেতেন। তাই আপনাকে পূর্ণতা দেবার উদ্দেশ্যেই আমার এই বিশুদ্ধ প্রণালী। না হলে আমার নিজের কী এসে যায় বলুন তো? আমি তো মাস্টারমশাই সবই জানি। না শিখলে আপনিই ঠকবেন।
মন্ত্র : লেসবিয়ানরাও মানুষ। লেসবিয়ানরাও মানুষ। লেসবিয়ানরাও মানুষ।
(এটা মনে মনে পড়–ন - ” তাদের হাত আছে, পা আছে, বুদ্ধি আছে, হৃদয় আছে, সুখ দুঃখ আছে।”)
ব্যস্ এইটা যদি হৃদয়ঙ্গম করতে পারেন তাহলে স্টেপ ওয়ান এ আপনি সফল। এইবার কিছু প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে এগোই আমরা-
১. লেসবিয়ান কী (লেসবিয়ান শব্দটির উতপত্তি জানতে চাওয়া হয় নাই। বলিলেই নাম্বার কাটা যাইবে!) কাহাকে বলে? উদাহরণসহ বুঝাইয়া দাও।
উঃ - লেসবিয়ান কথাটির বাংলা অর্থ হইলো মহিলা সমকামী বা সমকামী মহিলা। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের কোনো কোনো ব্যক্তির মত অনুযায়ী ”সমপ্রেমী” শব্দও ব্যবহার করা যাইতে পারে। যদিও ইহাতে বিষয়টি আরো ঘোলাটে হইয়া উঠিবে। তাহাতে কিছু আসিয়া যায় না। পৃথিবীর যাবতীয় বিষয়কে স্ফটিকস্বচ্ছ হইতে হইবে এমন মস্তিষ্কের দিব্যি কেহ কাহাকেও দেয় নাই, দিতে চাহিলেও গস্খহণ করা উচিত হইবে না।
যাহা হউক এ দুইটি শব্দ নিয়া তর্ক বিতর্ক না করিয়া বরং দুটি মেলবন্ধন করিয়া প্রকৃত সংজ্ঞা তৈরী করা যাইতে পারে। অর্থাত, সমস্ত সুস্থ শরীর এবং মনের নারীরা প্রেম বা কামের জন্য আরেকটি নারীকেই বাছিয়া নেন তাহারা হইলেন লেসবিয়ান। ইহারা জীবনসঙ্গীরূপে আরেকজন নারীকেই পছন্দ করিয়া থাকেন।
যেমন- (না প্লিজ মার্টিনা নাভ্রাতিলোভা বা ফায়ারের শাবানা আজমী বা নন্দিতা দাস বা প্রাচীন গ্রীক কবি সাফো নয়। একটু চোখ খুলে এদিক ওদিক দেখুন তো তারপর বুকে হাত দিয়ে বলুন, কাউকে চেনেন না আশেপাশে? সত্যিই চেনেন না! এটাকে বলে ডিনায়েল- এটাও কাটাতে হবে কিন্তু!) ঠিক আছে এই উদাহরণ নয় পরেই দিলেন ব্যাপারটা আগে ভালো করিয়া বুঝিয়া লউন।
২. লেসবিয়ান হওয়াটা মানসিক অসুস্থতা? যদি না হয় তাহা হইলে কার্য কারণ বুঝাইয়া দাও।
উঃ - নাঃ!
বলিলাম তো মানসিক অসুস্থতা নহে! ইহার আবার কার্যকারণ কী? ইহা যে মানসিক অসুস্থতা নহে উপরিউক্ত সংজ্ঞাতেই পরিস্ফূট হইয়াছে। মনোনিবেশ করিয়া পুনরায় পাঠ করুন। ইহা তাহাদের নিজস্ব পছন্দ এবং চাহিদা। ত্রিভুবনে কোনো চিকিতসাবিদ্যার গ্রন্থে ইহার চিকিতসা উল্লেখ নাই। আপনি যদি আপনার সমকামী বান্ধবীকে অসুস্থ বলিয়া ভাবিয়া থাকেন তাহা হইলে তাহারও কিন্তু আপনাকে মানসিক অসুস্থ বরলয়া ভাবিতে কোনো বাধা থাকিবে না।
৩. লেসবিয়ানদের কি সন্তান হইতে পারে?
উঃ- হ্যাঁ পারে। কারণ তাহারা জৈবিকভাবে সন্তান ধারণে সক্ষম ফলতঃ স্পার্ম ব্যাঙ্কের সহায়তা গ্রহণ করিতে পারেন। এয়াড়াও দুজন মহিলা একসঙ্গে বসবাস শুরু করিবার পর যেকোনো একজন সিঙ্গল মাদার হিসেবে সন্তান দত্তক লইতে পারেন তবে যৌথভাবে সন্তানের আইনি মাতৃত্ব পাইতে পারে না কারণ আমাদের সংবিধান ও আইন প্রণেতাদের কাছে এই হ্যান্ডবুক তো এখনও পৌঁছায় নাই তাই একটু ঝামেলা আছে।
৪. লেসবিয়ানরা কি মেযে দেখিলেই ঝাঁপাইয়া পড়েন?
উঃ- আজ্ঞে না। তাহাদেরও পছন্দ অপছন্দ আছে। যেসব লেসবিয়ানরা আপনার উপর সহসা ঝাঁপাইয়া পড়েন তাহাদের দুশ্চরিত্র ও লম্পট লেসবিয়ান বলে। ইহাদের ক্ষেত্রে তাহাই করিতে হয় যাহা দুশ্চরিত্র ও লম্পট পুরুষ বা মহিলার সঙ্গে করা হইয়া থাকে।
৫. লেসবিয়ানরা কি ভালো পুরুষ মানুষের সন্ধান পাইলে তাহাদের বিবাহ করিয়া সুখে শান্তিতে কালাতিপাত করিতে সম্ভব হন? প্রকারান্তে পুরুষ বা ভালো পুরুষের অভাবেই কি ইহারা লেসবিয়ান ধর্ম পালন করিয়া থাকেন?
উঃ- না। একেবারেই নহে। লেসবিয়ান ধর্ম ব্রক্ষ্মচর্য ধর্মের অনুরূপ কিছু নহে। কিছুর অভাবে নারীগণ লেসবিয়ান সম্পর্কে লিপ্ত হন না। ইহা তাহাদের নিজস্ব প্রকৃতি। যেরূপে আপনি পৃথিবীর শেষ্ঠ রমণীর সন্ধান পেলেও রমণে উতসাহী হন না, (নারীদের ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠ পুরুষ পড়তে হবে) সেরূপ ইহারাও পুরুষকূলচূড়ামণির চাইতে তাহাদের হৃদয়ের কাছাকাছি রাখতে পছন্দ করেন নির্দিষ্ট নারীকেই। ইহাদের সঙ্গে পুরুষদের বিবাহ হলে উভয়ের জীবনই ভয়াবহ এবং দুর্বিসহ হইয়া ওঠে।
(যেসব মহানুভব পুরুষমানুষ নারীজাতির বিচিত্রতায় উতসাহী হইয়া বা সামাজিক দায়বদ্ধতার কারণে বা নিছক কৌতূহল নিরসনের উদ্দেশ্যে এই প্রণালী পাঠ করিতেছেন তাঁহারা শ্রবণ করেন এবং শটকার্টে শিখিয়া লউন- আপনাদের প্রতি এই জাতীয় নারীগণের কিন্তু কোনো প্রকার বিরূপতা বা অভক্তি বা অশ্রদ্ধা আছে এমন নহে। ঠিক যেসমস্ত কারণে আপনি বিবাহ করিবার জন্য আপনার স্ত্রীর ভ্রাতাকে না বাছিয়া সেই ভ্রাতার ভগিনীকেই জীবনসঙ্গিনী নির্ধারিত করিয়াছেন বা চিরকালের প্রিয় বান্ধবীকে বেস্ট ফ্রেন্ড রাখিয়া অন্য এক নারীকে বিবাহ করিয়াছেন ঠিক সেই ধরনের ব্যক্তিগত রুচির কারণেই নারীরা আরেকজন নারীকে বাছিয়া লন।)
৬. লেসবিয়ানদের বিষয়ে কী কী করিবেন? এবং কী কী করিবেন না?
উঃ- তালিকা নিম্নে লিখিত হইলো-
ক) কথা বলিবার সময়ে সঠিক শব্দ নির্বাচন করিবেন। হোমোসেক্সুয়াল নারীদের (বা পুরুষকেও) সংক্ষেপে ”হোমো” বলিয়া ডাকিবেন না। কারণ সেক্ষেত্রে আপনিও ”হোমো” কারণ আপনি হোমোসেপিয়েন্স এবং বর্তমানে আপনি ”হোমোজিনাইজড” কালচারে বসবাস করিয়া থাকেন।
আপনি নারী সমকামী বা লেসবিয়ানকে ”লেস” বলিবেন না। কারণ ঐ শব্দের অর্থ অন্য- উহা হইলো যাহা টেবিলক্লথের চারিদিকে বা আপনার ব্লাউজের হাতায় বা আপনার কন্যার জামায় ইত্যাদিতে ব্যবহৃত হইয়া থাকে। আপনি ’লেজ’ ও বলবেন না কারণ উহা একটি ব্যান্ড নেম। ঐ নামের কোম্পানী চমতকার বিভিন্ন ধরনের পট্যাটো চিপস্ প্রস্তুত করিয়া থাকে। ”লেসবো” বলারও কোনো যৌক্তিকতা আপনার কাছে নেই। কারণ ইহা শুনিলেই আমার মত কল্পনাপ্রবণ মনুষ্যগণের কামদেব মদনের পঞ্চবানের কথা মনে পড়িয়া যায়। একমাত্র তাহার ধনুক বা বো তেই লেস্ লাগানো থাকিতে পারে-(”লেস-বো”) যাহাতে ধনুকটিকে সুন্দর দেখায়। এতকিছুর পরে এটাও কি বলিতে হইবে কেন ”লেসবি” বলিবেন না? ঘ্যাঁ বলিবেন না কারণ উহা একটি বাজে কথা, উহার কোনো অর্থ নাই।
খ) আপনি এমন কোনো প্রশ্ন আপনার লেসবিয়ান বান্ধবীকে করিবেন না যাহাতে উহাকে অস্বস্তির মধ্যে পড়িতে হয়। উহার জগতজীবনে এমনিতেই অস্বস্তির সীমা নাই। যেমন-
” তোর কি একটা ছেলেকে বিয়ে করে ’স্বাভাবিক’ জীবনে বাঁচতে ইচ্ছে করে না রে?”
(ইহাই যে উহার পক্ষে স্বাভাবিক তা আপনি এতক্ষণে শিখিয়া ফেলিয়াছেন।)
বা ” তোরা কী করে করিস রে? ”
(আপনি যদি কৌতূহলী হন তাহা হইলে বই পড়িয়া বা ইনআরনেট ঘাটিয়া প্রণালী জানিয়া লউন। কেমন?)
বা ” তুই কি ওর বা ও তোর বৌ?”
(শুনে রাখুন প্রকৃত আদর্শ লেসবিয়ানদের মধ্যে স্বামী স্ত্রী নাই । উহারা যদি স্বামী-স্ত্রী জাতীয় হিসাবে বিশ্বাসীই হইবেন তাহলে কষ্ট করে লেসবিয়ান হইবেন কেন ভাই? উহারা পরস্পরের সঙ্গিনী)
বা ” আমাকে দেখে কি তোর কামনা হয়?”
(এই প্রশ্নটি একেবারেই কেন করিবেন না তাহা পরবর্তী পয়েন্টে পরিষ্কার করা হইলো)
গ) আপনি যদি কনফিউজড (এই ইংরেজি মোক্ষম। বাংলা তর্জমা চাইবেন না প্লিজ। আগের সাধুচলিতের গুরুচন্ডালীর মত ইহা ইঙ্গবঙ্গ গুরুচন্ডালীও অধম করবে কিন্তু। মার্জনা করে নেবেন নিজগুণে) হন তাহা হাইলে সেটা আপনার সমস্যা, বেচারী সমকামী বন্ধুটির নয়। আপনাকে তিনি পছন্দ করেন। এমন একটি প্রশ্ন করিবেন না যাহাতে আপনি তাহার বিরাগ বা কামনাভাজন হইয়া পড়েন। কেমন? ”খ” প্রশ্নের উত্তর যদি আপনার বন্ধু ইতিবাচক দিয়ে ফেলেন তাহা হইলে দয়া করিয়া এই ছেলেখেলায় লিপ্ত হইবেন না অনুগ্রহ করিয়া। ইতিমধ্যে আপনি যদি সৎভাবে মনে করেন যে আপনার নিজের সম্পর্কে জানিবার প্রয়োজন আছে তাহা হইলে প্রথমেই ব্যবহারিক পরীক্ষায় না গিয়া ” থিয়োরী ” দ্বারা দেখিয়া লউন যে আপনার সত্যিই ” সিধে (স্ট্রেট) ” থাকিতে কোনো সমস্যা হইতেছে কি না। সব জানিয়া বুঝিয়া তবেই একটা ঝুঁকি লইবেন কিন্তু। ঠিক আছে? কারণ ঐ মন্ত্রটা শিখায়িাছিলাম না? হ্যাঁ লেসবিয়ানরা কিন্তু মানুষ, গিনিপিগ নহে।
ঘ) আপনার লেসবিয়ান বন্ধুর অনুমতি ছাড়া অন্য বন্ধুদেও তার প্রকৃতির কথা জানাইবেন না।
ঙ) যদি আপনার লেসবিয়ান বন্ধু দুশ্চরিত্র বা লম্পট না হন তাহা হইলে আপনার শিশুকন্যাকে তাহার সহিত মেলামেশাতে বাধা দিবেন না।
চ) আপনার লেসবিয়ান বন্ধূর সঙ্গিনীকে অন্য সিধে বন্ধুদের জীবনসঙ্গী বা সঙ্গিনীদের সমমর্যাদা প্রদান করিতে ভুলিবেন না।
ছ) সত লেসবিয়ান বান্ধবীর সঙ্গে প্রয়োজনে এক বিছানায় শুয়ে ঘুমাইবেন। অযথা উদ্বেগ করিয়া সারারাত জাগিয়া থাকিবেন না (শরীর খারাপ লাগবে সকালবেলায়)। সে কিছু করিবে না।
জ) ইহাদের জন্য অন্য মানুষদের সহিত (যাঁরা এই প্রণালী শেখার সুযোগ পান নি) বচসা করুন। তাহাদের মধ্যে এই বিদ্যে ছড়াইয়া দিন।
এরূপ সহজ, সরল শিক্ষালাভের পরও যদি আপনি অন্ধকারেই থাকিতে চাহেন তাহা হইলে আমার কিছু করিবার নাই ভাই। যেভাবেই বলি না কেন আপনার হইবে না! বুঝিয়াছেন?
আমি আমার এক প্রিয় বাংলাদেশীর ভাষা ধার করতে পারি - মোক্ষম! বন্ধনীর ভিতরে আমার নামের স্থানে নিজের নাম বসাইয়া লউন -
” (শ্রাওস্তী) তোমারে আমি বলসি না? আমার ধারণা আমি বলসি! তুমি কিসুতেই বুসহো নাই। অ্যাতো গোবর হেডেড হইলে ক্যামনে হবে?”
শ্রাবস্তী বসু
ডিসেম্বর ১৫,২০০৮
- লিখাটি বন্ধুর বন্ধুর মাধ্যমে পাই। এবং লেখেকর অনুমিতক্রমে ব্লগে প্রকাশ করা হলো। লেখক কলকাতার, বর্তমানে স্ক্রিপ্ট রাইটিং পেশায় নিযুক্ত
বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
টি_মৃদুল বলেছেন:
- লিখাটি বন্ধুর বন্ধুর মাধ্যমে পাই। এবং লেখকের অনুমতিক্রমে ব্লগে প্রকাশ করা হলো। লেখক কলকাতার, বর্তমানে স্ক্রিপ্ট রাইটিং পেশায় নিযুক্ত
কনফিফউজড বলেছেন:
লেচবিয়ানগো ধইরা ধইরা গনরেপ করন দরকার তাইলে যদি ঠিক হয়।
লেখক বলেছেন: নিকৃষ্ট ভাবনা নিজের মধ্যে রাখুন। তাদের কি করা উচিত তা আপনার মতো নিকৃষ্ট লোকের বয়ান না করলেও চলবে। @ কনফিউজড
দুরের পাখি বলেছেন:
লেসবিয়ানদের ভালা ফাই । মাগার গে দেখলে ডর লাগে । নিজে মেইল বইলা হয়ত , খিক খিক ।
কাক ভুষুন্ডি বলেছেন:
হেডিং দেখে ভেবে ছিলাম হিট প্রত্যাশী অশ্লীল কিছু হবে।পড়ে দেখি জটিল জিনিস। আমার খুবৈ ভাল্লাগছে।
আপনাকে ধন্যবাদ কষ্ট করে টাইপ করার্জন্য।
আসল লেখক্কে লেখার্জন্য ধন্যবাদ পৌছে দেবেন কষ্ট করে।
টি_মৃদুল বলেছেন:
আমাদের যদি মানসিকতা একটু পরিবর্তিত হয়! এই আশায়..........
মদন বলেছেন:
ভালো লেখা...
কলুর বলদ বলেছেন:
মদন বলেছেন: ভালো লেখা...
টি_মৃদুল বলেছেন:
পুনশ্চ : লিখাটি কলকাতার সাফো সংগঠনের "স্বকণ্ঠ" নামক প্রকাশনায় ইতোমধ্যে প্রকাশিত
দাম বলেছেন:
হায়! হায়! কি ভয়ঙ্কর!হেরা সব যদি লেসবিয়ান হইয়া যায় তাইলে আমাগো কি হইব???
ভবিষ্যৎ লইয়া বড়ই চিন্তিত।
অঞ্জন সানি বলেছেন:
ভাল পুস্ট...............কিন্তু আমি পোলা.........।
আরিফুর রহমান বলেছেন:
কাক ভুষুন্ডি বলেছেন: হেডিং দেখে ভেবে ছিলাম হিট প্রত্যাশী অশ্লীল কিছু হবে।পড়ে দেখি জটিল জিনিস। আমার খুবৈ ভাল্লাগছে।
আপনাকে ধন্যবাদ কষ্ট করে টাইপ করার্জন্য।
আসল লেখক্কে লেখার্জন্য ধন্যবাদ পৌছে দেবেন কষ্ট করে।
হাসান মাহবুব বলেছেন:
শোন্দর নেকা।হেহে
ছন্নছাড়ার পেন্সিল বলেছেন:
লেখাটা খুবই চমৎকার। ভাল লাগলো পুরোটাই। একজন মানুষের আইডিন্টেফিকেশন কোনমতেই তার সেক্সুয়াল ওরিয়েন্টেশন হতে পারে না। এটা বুঝার জন্যে আধুনিক হওয়া লাগে না, ঘটে একটু বুদ্ধি-বিবেচনা থাকলেই হয়। অনেকেরই সেটা নাই, জেনেও পোস্ট করেছেন দেখে খুশি হইলাম।পুরো লেখাটাই একইভাবে 'গে'-দের বেলাতেও খাটে। সেভাবে লিখলে মনে হয় আরো ভাল হতো। যেহেতু তারা পছন্দের দিক দিয়ে লিঙ্গের প্রভাব কাটিয়ে উঠেছেন, সেহেতু তাদের মাঝে লিঙ্গভেদ না করাই উত্তম। কথাটি লেখককে জানিয়ে দিতে পারেন, যদি সম্ভব হয়।
তানজু রাহমান বলেছেন:
দারুন লেখা!
পথিক!!!!!!! বলেছেন:
গে বিষয়টি আমি মেনে নিতে পারিনা..লেসবিয়ান মেনে নিতে পারি ..এবং খুব স্বাচ্ছন্দ্যে...
যত পথ তত মত
এও এক ভিন্ন রথ.........
মেহেডি হাসান বলেছেন:
ধন্যবাদ.. লেখকে.. এই ধরনের শিক্ষনীয় পোষ্ট বেশি বেশি.... করা দরকার....
টি_মৃদুল বলেছেন:
আমি যখন পোস্টটা দিলাম তখন মাত্র ৫জনের ভালো লাগেনি। কারণ আমার নিকটা ছেলের "মৃদুল"। আমার দোস্ত মেঘকন্যা যখন এটা রি-পোস্ট দিলো তখন সবাই ঝাঁপিয়ে পড়লো। এই মনোভাবের কারণে আমরা পুরুষরা মানুষ হতে পারলাম না।আফসুসসবাইকে ধন্যবাদ
টি_মৃদুল বলেছেন:
sapho লিখে সার্চ দিলে sapho.org একটা সাইট পাবেন।
দুর্বলতার অমিত বলেছেন:
দারুন লেখা!
লেখক বলেছেন: হুম। পড়ার জন্য ধন্যবাদ
ম্যাক্স পেইন বলেছেন:
পেইন লিখা
অনিকেত নূর বলেছেন:
ভালো লেখা, মানবিক প্রেক্ষিত থেকে। সকল সংখ্যা লঘু এবং স্টিগমাটাইজড গ্রুপ ও ব্যক্তির জন্য প্রযোজ্য...যেমন.. এইচআইভি+, 'হিজড়া', এথনিক গ্রুপ, যৌনকর্মী। তবে আমাদের সমাজ-সংস্কৃতি কোলকাতা থেকে আলাদা।লেখকের কাছে একটা প্রশ্ন আছে: মাদ্রাসা...মসজিদের মওলানা কর্তৃন অনেকসময়ই ছোট বালকেরা এ্যাবিউজড হয়...এইডা কি স্বাভাবিক না মানসিক বিকৃতি। আপনে তো দুইদিন পর তাদেরও বিরক্ত করতে না করবেন মনে হইতে আছে।
লেখক বলেছেন: আপনার প্রশ্নের মাঝেই উত্তর আছে। ছোট বালকের যেহেতু নিজম্ব ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবার মতো মানসিক পরিপক্বতা থাকে না সুতরাং তার উপর মাদ্রাসা/ মসজিদের মাওলানা কর্তৃক যা হয় তা সোজা বাংলায় যৌন নির্যাতন।
দুজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ যদি পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে কোন সম্পর্কে জড়ায় সেখানে হস্তক্ষেপ করার দায়িত্ব আমাদের না। এবং সেটাকে আমরা বিকৃতিও ঢালাওভাবে বলতে পারি না।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...





















