প্রিয়তমেশু
অনেক দিন বাদে আজ তোমাকে লিখতে বসলাম। কেমন আছ তুমি এই প্রশ্ন অবান্তর এখন আমার কাছে। কারণ আমি জানি, আর কেউ না জানুক তুমি কেমন আছ। আর্মাও তোমারই মত প্রায়। প্রায় বলছি এ কারণে যে ভালো আছি শব্দটা অমাবশ্যার চাঁদের মতো অচেনা নয়- আবার আপনও নয়। সে এক মহা সমস্যা। যাকে বলে স্বর্গ ও নরকের মাঝামাঝি। মুরুব্বিদের কাছে শুনেছিলাম, যারা আত্মহত্যা করে তাদের আত্মা নাকি কখনোই স্বর্গ নরকে যেতে পারে না। এই দুইটার মাঝামাঝি একটা অবস্থানে ঝুলে থাকে। আমার অবস্থাও তেমনি।
আমরা বোধ হয় আমাদের একটি সুন্দর জীবনের আত্মহত্যার দিকে ধাবিত করে এসেছি। এখন সেই মৃত আত্মা হাহাকার করছে ভুলে যাওয়া পৃথিবীর দিকে তাকিয়ে। এমন কি কখনো আশা করেছিলাম আমরা? মাঝে মাঝে এই একটি প্রশ্নই মনে আসে আমার। কোনও উত্তর খুঁজে পাই না। তুমি কি চেয়েছিলে আমি এখন আর ভাবতে ভাবতে নষ্টালজিক হই না। কেবল মনে করি আমি কি চেয়েছিলাম! ভাবছ স্বার্থপর? হ্যা, স্বার্থপর তো হতেই পারি, তবে তা কখনোই আমার জন্য নয়। এই স্বার্থপরতার ভাবনাটা কেবল তোমার জন্যই ছিলো। সারাণ ভাবতাম তুমি এই কর, সেই কর। কিন্তু কিছুই করলে না। আফসোস টা এই জায়গায়ই। আরো একটা দুঃখবোধ কাজ করে আমার- যখন যেই বিষয়গুলো আমরা বিভিন্ন অবস্থান থেকে ভেবে ভেবে একটা পথের সন্ধান বের করতাম তার কোনওটাই শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারেনি অথচ নিয়তিতে সিদ্ধান্তটা লেখাই ছিলো। কেবল আলোচনা করার কোনও সুযোগ ছিলো না।
এখনো আমি তোমার সেই শীতের সকালের কথা মনে করি। মনে কড়ি ১৬০ তাপমাত্রার শীতে জড়ানো শহরে ময়মনসিংহ আমাদের গরম চা পানের উৎসবে শামিল হওয়ার জন্য জেগে উঠেছিলো। আর স্বর্গিয় যে সুর ভেসে আসছিলো রাধা সুন্দরীর অন্তরের ভেতর থেকে সেই সুর কোনও কিংবদন্তিতুল্য শিল্পীর কাছেও আর পাবোনা বলেই মনে হয় আমার কাছে। অথবা সেই সকালে শীতের ঘোমটা বোধ হয় তোমার ঠোঁট কাপানো মুখাবয়ব দেখার জন্যই তুলেছিলো যৎ কিঞ্চিৎ রোদ। আমার স্বার্থপর মন কেবল এই রকম সকাল আর গোধুলীর রাঙা আলোয় ভেজা সময়ের স্মৃতি রুমন্থন করে যায়।
এইসব কথা শুনে তোমার বুকের ছাতি ফেটে যাওয়ার কথা। কিন্তু তোমার তো এরচেয়ে বেশি কষ্ট পাবার কথা আমার তোমার কষ্টের কথা ভেবে পাওয়া কষ্টের কথা মনে করে। কি করবো বলো? আমাদের সমাজ, রাষ্ট্র ভূতে পাওয়া নয়িমে চলছ। সেখানে আমরা আমাদরে স্বপ্নরে মতো একটা পৃথিবী নির্মাণ করতে চাইলেই তো আর পারি না বন্ধু! এই র্ব্যথতার দায়ভার আমাকেও কিছুটা নিতে হয়, নিতে হয় তোমাকেও। তবে বন্ধু হাল ছড়ো না, একদনি সেই স্বপ্নের পৃথিবী অবশ্যই গড়বো, হোক সে নিজস্ব ব্যক্তগিত পরসির। সেখান থেকেই দেখাতে পারবো যে এই হচ্ছে সুন্দর মানুষের পৃথিবী!
খুব জানতে ইচ্ছে করে, তোমার মন খারাপ হলে কি কর? কার কথা সবার আগে মনে পড়ে। আমার কথা মনে পড়ুক আমি সটো চাই না।আমি যে এখন পর্যন্ত তোমার চারপাশে তেমন করতে পারি নি। তার মানে এই নয় যে আমি পরাজিতদের দল। এখনো অনকে সময় পরে আছ। এইতো সামনে। সুদনি আসবে। আসছে বলে মনে হচ্ছে। তোমার কি রকম দিন আসুক তুমি চাইছ? তোমার সাথে আরো র্দীঘ কথা আছে। সে কথা বলার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি... ভালো থাকো।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



