somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রিয়তমেশুর কাছে চিঠি

১৫ ই জুন, ২০১০ সকাল ১০:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রিয়তমেশু
অনেক দিন বাদে আজ তোমাকে লিখতে বসলাম। কেমন আছ তুমি এই প্রশ্ন অবান্তর এখন আমার কাছে। কারণ আমি জানি, আর কেউ না জানুক তুমি কেমন আছ। আর্মাও তোমারই মত প্রায়। প্রায় বলছি এ কারণে যে ভালো আছি শব্দটা অমাবশ্যার চাঁদের মতো অচেনা নয়- আবার আপনও নয়। সে এক মহা সমস্যা। যাকে বলে স্বর্গ ও নরকের মাঝামাঝি। মুরুব্বিদের কাছে শুনেছিলাম, যারা আত্মহত্যা করে তাদের আত্মা নাকি কখনোই স্বর্গ নরকে যেতে পারে না। এই দুইটার মাঝামাঝি একটা অবস্থানে ঝুলে থাকে। আমার অবস্থাও তেমনি।
আমরা বোধ হয় আমাদের একটি সুন্দর জীবনের আত্মহত্যার দিকে ধাবিত করে এসেছি। এখন সেই মৃত আত্মা হাহাকার করছে ভুলে যাওয়া পৃথিবীর দিকে তাকিয়ে। এমন কি কখনো আশা করেছিলাম আমরা? মাঝে মাঝে এই একটি প্রশ্নই মনে আসে আমার। কোনও উত্তর খুঁজে পাই না। তুমি কি চেয়েছিলে আমি এখন আর ভাবতে ভাবতে নষ্টালজিক হই না। কেবল মনে করি আমি কি চেয়েছিলাম! ভাবছ স্বার্থপর? হ্যা, স্বার্থপর তো হতেই পারি, তবে তা কখনোই আমার জন্য নয়। এই স্বার্থপরতার ভাবনাটা কেবল তোমার জন্যই ছিলো। সারাণ ভাবতাম তুমি এই কর, সেই কর। কিন্তু কিছুই করলে না। আফসোস টা এই জায়গায়ই। আরো একটা দুঃখবোধ কাজ করে আমার- যখন যেই বিষয়গুলো আমরা বিভিন্ন অবস্থান থেকে ভেবে ভেবে একটা পথের সন্ধান বের করতাম তার কোনওটাই শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারেনি অথচ নিয়তিতে সিদ্ধান্তটা লেখাই ছিলো। কেবল আলোচনা করার কোনও সুযোগ ছিলো না।
এখনো আমি তোমার সেই শীতের সকালের কথা মনে করি। মনে কড়ি ১৬০ তাপমাত্রার শীতে জড়ানো শহরে ময়মনসিংহ আমাদের গরম চা পানের উৎসবে শামিল হওয়ার জন্য জেগে উঠেছিলো। আর স্বর্গিয় যে সুর ভেসে আসছিলো রাধা সুন্দরীর অন্তরের ভেতর থেকে সেই সুর কোনও কিংবদন্তিতুল্য শিল্পীর কাছেও আর পাবোনা বলেই মনে হয় আমার কাছে। অথবা সেই সকালে শীতের ঘোমটা বোধ হয় তোমার ঠোঁট কাপানো মুখাবয়ব দেখার জন্যই তুলেছিলো যৎ কিঞ্চিৎ রোদ। আমার স্বার্থপর মন কেবল এই রকম সকাল আর গোধুলীর রাঙা আলোয় ভেজা সময়ের স্মৃতি রুমন্থন করে যায়।
এইসব কথা শুনে তোমার বুকের ছাতি ফেটে যাওয়ার কথা। কিন্তু তোমার তো এরচেয়ে বেশি কষ্ট পাবার কথা আমার তোমার কষ্টের কথা ভেবে পাওয়া কষ্টের কথা মনে করে। কি করবো বলো? আমাদের সমাজ, রাষ্ট্র ভূতে পাওয়া নয়িমে চলছ। সেখানে আমরা আমাদরে স্বপ্নরে মতো একটা পৃথিবী নির্মাণ করতে চাইলেই তো আর পারি না বন্ধু! এই র্ব্যথতার দায়ভার আমাকেও কিছুটা নিতে হয়, নিতে হয় তোমাকেও। তবে বন্ধু হাল ছড়ো না, একদনি সেই স্বপ্নের পৃথিবী অবশ্যই গড়বো, হোক সে নিজস্ব ব্যক্তগিত পরসির। সেখান থেকেই দেখাতে পারবো যে এই হচ্ছে সুন্দর মানুষের পৃথিবী!
খুব জানতে ইচ্ছে করে, তোমার মন খারাপ হলে কি কর? কার কথা সবার আগে মনে পড়ে। আমার কথা মনে পড়ুক আমি সটো চাই না।আমি যে এখন পর্যন্ত তোমার চারপাশে তেমন করতে পারি নি। তার মানে এই নয় যে আমি পরাজিতদের দল। এখনো অনকে সময় পরে আছ। এইতো সামনে। সুদনি আসবে। আসছে বলে মনে হচ্ছে। তোমার কি রকম দিন আসুক তুমি চাইছ? তোমার সাথে আরো র্দীঘ কথা আছে। সে কথা বলার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি... ভালো থাকো।

০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৬


শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×