somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গল্পঃ রসায়নবিদের প্রেম [পর্ব-৪]

০৯ ই আগস্ট, ২০১৪ ভোর ৬:৫৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আগের পর্ব--->>

যুদ্ধক্ষেত্রে রসায়নবিদের পারদর্শিতা এবং রাজকুমারীর অনবরত শোক এই দুটি বিষয় লক্ষ করে সভাষদদের কেউ কেউ বলতে লাগল, এবার আবার কীসের বাঁধা - রসায়নবিদ আর রাজকুমারীর সম্বন্ধ সাধায়।
রাজাও বুঝতে পারল, রসায়নবিদ তার অগাধ জ্ঞান দিয়ে ঠিকই রাজ্য চালাতে পারবে। তবে বাঁধা যে একটা আছে এটাও বুঝতে পারলেন তিনি। রসায়নবিদের প্রেমই সেই বাঁধা। রাজপ্রাসাদের সবাই বুঝতে পারল রাজার সম্মান রেখেই রসায়নবিদের প্রেমে ভাঙন ধরাতে হবে। রসায়নবিদের বন্ধু-বান্ধব থেকে শুরু করে রাজপ্রাসাদের সবাই রসায়নবিদের প্রেমের বিপরীতে গেল এবার। একে একে সবাই গেল রসায়নবিদকে বোঝাতে।

কেউ বলে, ‘তোর মত এই সুশ্রী চেহারার সাথে মানায় না আনন্দাকে।’

‘বাবা, দেখে আসছি ছোটবেলা থেকে। এরকম প্রেম হবে না সফল।’

‘আনন্দার ভিতর কি পেলেন, সে নয় সুন্দর নয় গুণবতী!’

‘তোমার মাথাটা একেবারেই গেছে দেখছি।’

এই সময় রসায়নবিদ প্রথমবার জানতে পারল, রাজকুমারী তাকে প্রচণ্ড ভালোবাসে। এ সংবাদেও রসায়নবিদের প্রেম টলে না। কোনভাবেই রসায়নবিদকে বোঝানো যায় না। তবু চেষ্টা চলতেই থাকে।

যত দিন যায় রাজকুমারীর চোখের জলই শুধু বাড়তে থাকে। রাজকুমারীর চোখের জল দেখে রাতের আকাশের তারারা খসে পড়ে, জোনাকিরা আলো নিভিয়ে শোক পালন করে।

কিন্তু নিয়তিতে যা থাকে তাই ঘটে, তাই সবকিছু একই রকম রইল না। একদিন সকালে রসায়নবিদ যখন গবেষণাগার থেকে বের হল- বাগানের সব ফোটা ফুল বুজে গেল, আশে-পাশের পাখিরা উড়ে গেল, সূর্য তার মুখ লুকালো আর সবশেষে যে তাকে ছেড়ে গেল সে হল আনন্দা। যে তাকে এতদিন ভালবাসত সেও চলে গেল।

আসল ঘটনা হল- নানা জনে তার আর আনন্দার রূপের পার্থক্য নিয়ে দিনের পর দিন কটাক্ষ করে চলছিল, যা রসায়নবিদকে অস্বস্তিতে ভোগাত। তাই সে গবেষণা শুরু করে একটি রাসায়নিক পদার্থ আবিষ্কারের জন্য। যা দিয়ে সে চিরস্থায়ীভাবে কৃষ্ণবর্ণ ধারন করতে পারে। সে আনন্দাকে সুন্দর করার জন্যও গবেষণা করতে পারত, কিন্তু সে এক ঢিলে দুই পাখি মারতে চেয়েছিল। সে রাজপ্রাসাদের শান্তির কথাও চিন্তা করত। সে ভাবল, সে যদি কৃষ্ণবর্ণ হয় তবে রাজকুমারীও তাকে পছন্দ করবে না।

সেদিন সকালে রসায়নবিদ বের হয়েছিল তার আবিষ্কৃত সেই রাসায়নিক তরল দিয়ে স্নান করে, যা তার ত্বকের ক্ষতি না করেই তাকে বানিয়ে দিয়েছে কৃষ্ণবর্ণ। আর এতেই যত বিড়ম্বনা। কোন বিড়ম্বনা তাকে বিচলিত করত না, যদি না আনন্দা তাকে ছেড়ে যেত। আনন্দা তাকে বিদায় বেলায় বলেছে, ‘যে তোমাকে আমি ভালোবেসেছি, এ তো সেই তুমি নও। তবে কিভাবে তোমাকে ভালোবাসি?’

আসলে আনন্দা তাকে ভালবাসলেও তার প্রেম ছিল সুশ্রী রসায়নবিদের প্রতি, এই কৃষ্ণবর্ণ রসায়নবিদের প্রতি নয়।

রাজা এ সংবাদে স্তম্ভিত হয়ে যায়। রসায়নবিদের বোকামীর জন্য তাকে কেউ কেউ পাগলও বলতে লাগল। আর প্রেমিক-প্রেমিকেরা একে মহান প্রেমিকের করুণ পরিণতি হিসেবেই দেখতে লাগল। আনন্দা এক ছলনাময়ী সুযোগ সন্ধানী নারীর নাম হয়ে গেল।

[চলবে...]

শেষ পর্ব--->>
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই আগস্ট, ২০১৪ দুপুর ১:০৯
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×