somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অনেকদিন পর আজ নির্ঘুম কাটবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের । সরকার , গুরুত্বপূর্ণ মিডিয়া নিরব কিসের ভয়ে ??

২১ শে আগস্ট, ২০০৭ ভোর ৪:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

রাত ৪টা পার হয়ে গেছে অথচ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন থেমে চলছে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ; ইট-পাটকেলের জবাবে টিয়ার শেল । অনেকদিন পর আজ নির্ঘুম কাটবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের । তা কতদিন হবে ?? নিকট অতীতে এমন প্রতিবাদ হয়েছে ২৩ জুলাই শামসুন্নাহার হল আন্দোলন ২০০২ এবং তারপর হুমায়ন আজাদ স্যার জংগীদের দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার পর এমন অবস্থা হয়েছিল । আর আওয়ামী লীগ আমলে নারী নির্য়াতন নিয়ে আন্দোলন হয়েছিল ।

একেবার সাধারণ শিক্ষার্থীরা একাত্ম হয়ে এমন আন্দোলন বহুদিন দেখেনি এ ক্যাম্পাস । ১৯৯০ এ স্বৈরাচারী আন্দোলনের পর এমন একাত্ম হয়নি আনেকদিন । তবু সে আন্দোলন ছিল জাতীয় আন্দোলন । তখন পুলিশ কিংবা নিরাপত্তাকর্মীরা এমন নির্লজ্জভাবে হামলা করেনি ।
তবে অতীতের সকল রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে আজকের পুলিশী হামলার প্রচণ্ডতা-ভয়বহতা-বর্বরতা । সবসময় পুলিশ নিয়ে অভিযোগ ছিল পুলিশকে সবসময় রাজনৈতিক সরকার গুলো ব্যবহার করছে । কিন্তু নির্দলীয় এ সরকারের আমলে তবে পুলিশ কার স্বার্থ রক্ষায় এমন যুদ্ধাংদেহী আচারণ করছে ।
ঘটনার সূত্রপাত একজন ননকমিশনড সৈনিকের উদ্ধত আচারণ এবং সাধারণ শিক্ষার্থীকে ধরে নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে খেলার মাঠে আশ্রয়প্রাপ্ত (!) সেনা ক্যাম্প এ নির্যাতন করে । তার প্রতিবাদ করায় এমন নির্লজ্জ হামলা । শত শত শিক্ষার্থী আহত এবং এদের মাঝ কয়েকজনের অবস্থা আশংকজনক ।
অন্য এক সূত্রে জানা গেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠে লোক প্রশাসন ও সাংবাদিকতা বিভাগের আন্তবিভাগ খেলা দেখের সময় এক সেনা সদসের এক ছাত্রীকে মন্তব্যের জের ধরে ঘটনার সূত্রপাত ।
হায়রে কি বিচিত্র দেশ । অন্যায়ের প্রতিবাদ এর কি প্রতিশোধ । এতদিন দেখা পুলিশকে ব্যবহার করত রাজনৈতিক সরকার গুলো । এবার সেনাসমর্ধিত সরকার সেনাসদস্যদের অন্যায়কে সমর্থন করে নিরীহ শিক্ষার্থীদের উপর কাপুরুষচিত বর্বর হামলা চালালো এবং পুলিশ সেই হাতের পুতুল । তবে রাজনৈতিক এবং নিরপেক্ষ সরকারের মধ্যে কি ব্যবধান রইল ?
সেনাসদস্যদের এমন আচরণ-ব্যবহার নতুন নয় । সম্প্রতি জাতিসংঘের শান্তি মিশনে অংশগ্রহণকারীদের কাছ থেকেও এমন অভিযোগ এসেছে ।
আইয়ুব-ইয়াহিয়ার প্রেতাত্মার প্রতিনিধিতকারী এই বাহিনী স্বাধীনতার পর নাম পাল্টিয়েছে শুধু , সেই নতুন বোতলে পুরোনো মাল । ১৯৭৫ সালে মুক্তিযুদ্ধের স্তম্ভকে আঘাত করার পর একেএকে যে দুই-চার জন মুক্তিযুদ্ধের চেতনাধারী কর্মকর্তা ছিল তাদের নিধন করে একবারে প্রেতাৎমাদের যোগ্য উৎসূরি হয়েছে । তারা সবসময়ই মুক্তিযুদ্ধের চেতনাধারীদের সাথে বিমাতা সূলভ আচারণ করেছে ।
বর্তমান সরকারঃ সাধারণের পেষন এবং সেনাবাহিনী আর জামাতের তোষন ছাড়া আর বাকি যা করছে সব কি আই ওয়াশ ?? অবস্থা দৃষ্টে কিন্তু তাই দাড়ায় ।

পুলিশের এমন বেপওয়ারা আচারণের পিছনে সেনাবাহিনীর কি প্রত্যক্ষ মদদ নেই ?? সেনা চীফ স্টাফ জালালীর হেয়ালি পূর্ণ উদ্ধত মন্তব্য : ছাত্রছাত্রীরা ইমোশনাল হওয়ায় এমন ঘটনা ঘটে । এবং সেনা সদস্যদের অন্যায়কে পাশ কাটানোর চেষ্টা আমাদের হতবাক করে দেয় । বরং পুলিশ-শিক্ষার্থীরা দোষী কি না সে বিষয়ে তদন্তে তার আগ্রহই বেশী ।

নিদর্লীয় সরকার কেন দলীয় সরকারের মতন আচারণ করছে ?? তাহলে এ সরকারের পিছনে কারা ? সেনাবাহিনী?? সেনাবাহিনী কেন একটি বিশেষ দলের প্রতি ভ্রাতা সুলভ আচারণ করছে??আর সেনাবাহিনী তবে কেন জামাতের আজন্মের আক্রোশ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপর ক্ষেপা??


এমন হাজারো প্রশ্নের জন্ম হচ্ছে দিন কে দিন । তবে যাই হোকনা কেন এ সরকারের লক্ষ্য, কোন অশুভ স্বাধীনতার বিপক্ষের শক্তিকে সরকারে বসানোর চেষ্টা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা হতে দেবে না । তেমনি কোন সেনা শাসনো ?
বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিনিধিতমূলক এ সরকারের আর কত জনবিরোধী কার্যকলাপ সহ্য করবে মানুষ ??

তবে সব কিছুর আগে সেনা সদস্যদের বিচার, বিশ্বিদ্যালয় থেকে সেনা ক্যাম্প, পুলিশী পাহাড়া প্রত্যাহার করতে হবে । আর হাটু বাহিনী কে আদবকায়দা শেখার জন্য বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষন দিতে হবে । জনগনের টাকায় হিংস্র মানবতা বিরোধী বর্বর কোন বাহিনী আমাদের দরকার নেই ।

সর্বশেষ এডিট : ২১ শে আগস্ট, ২০০৭ ভোর ৪:৩১
১৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ভ্রমর কুয়াসার রাত....

লিখেছেন আহমেদ জী এস, ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০১৫ সকাল ১১:২৫


ভ্রমর কুয়াসার রাত...

পাকুড় বৃক্ষের ডাল বেয়ে নেমে আসা করুন গিরগিটির মতোন কী ভয়ঙ্কর এক একটা রাত অবলীলাক্রমে হেটে আসে কাছে । ভ্রমর কুয়াসার সে রাত তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের জাফর স্যার আর এরশাদ কাকুর সাথে কোন পার্থক্য দেখছি না

লিখেছেন ব্লগ সার্চম্যান, ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০১৫ সকাল ১১:৩২


কতো বিনোদন যে স্যার আপনি দেখাইলেন । আরো কত যে দেখাইবেন । স্যার আপনি ইউনিভার্সিটি বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া পুলাপাইন গুলারে পিচ্ছি পোলা এরা কিছুই বুঝেনা বললেন । আমার কাছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

সোনালি ও অন্যান্য

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০১৫ সকাল ১১:৪৭

দূরবীক্ষণ

একটা নিহত দিনের সবটুকু মায়া মাটির আধারে গেঁথে রেখে
ক্ষয়িষ্ণু স্মৃতির বুকে লুটিয়ে পড়ে দিশেহারা চোখ;
ক্ষুব্ধবাক পিঁপড়ের রাশি চঞ্চলতা ভুলে গিয়ে খুবলে খায়
দুর্বৃত্ত ঘাস। একজোড়া সংসপ্তক কাক আচানক ডানা ভেঙে
মাটিতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গুলিস্থান না গোরোস্থান

লিখেছেন প্রামানিক, ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০১৫ দুপুর ১২:৩৩


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক

ওই বেটা কই যাস
যাবি নাকি রমনা
দশ টাকা ভাড়া দিমু
ভাড়া কিন্তু কম না?

অন্য কোথাও যামু না
সোজা যামু গুলিস্থান
পানিত নাইমা নাক ডুইবা
রিক্সা ধইরা দিছি টান।

ওই বেটা যাবি কেমনে
রিক্সাটাতো হইছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিয়ের আগে শারীরিক সম্পর্কের কারণে যে সব সমস্যায় পরতে হয়..?

লিখেছেন মুহাম্মদ রেজাউল হাসান, ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০১৫ দুপুর ১:৫০

বিয়ে এমন একটি সামাজিক বন্ধন, যা সামাজিক ও ধর্মীয়ভাবে শারীরিক সম্পর্কের অনুমতি দেয়। পাশ্চাত্যের দেশগুলো লিভ টুগেদার প্রথাটি ব্যাপকভাবে প্রচলিত। আমাদের দেশে আজকাল এ প্রথার উদাহরণ দেখা দিলেও তা সামাজিকভাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

নজরবন্দি বাজিকর

লিখেছেন জেন রসি, ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০১৫ দুপুর ২:০৯



বিধাত্রীর নীলনকশায় নজরবন্দি বাজিকর
চাবুকের লাগামহীন যন্ত্রণা থেকে নিংড়ে
পাওয়া সুখের শেষ সমুদ্রঝড়ে খুন হবে
বলে জানু পেতে বসে আছে-আমরন!
মহাত্মা হৃদয় তবু বেওয়ারিশ লাশেই
অস্ত্রোপচার করে... ...বাকিটুকু পড়ুন