somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জানালা দিয়ে ফেলতে জেনিফার মাথার দু'পাশে কাটা হয়

০৬ ই আগস্ট, ২০১০ রাত ১:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

জানালার গ্রিলে ফাঁক ৬ ইঞ্চি। এ ফাক গলে সাড়ে ৩ বছর বয়সী শিশু তানহা ইসলাম জেনিফার লাশ নিচে ফেলা সহজ ছিলো না। তাই খুন করার পর জেনিফার মাথার দু’পাশে কেটে ও পাঁজরের হাড় ভেঙে ফেলে দেয়া হয়।
তবে সানশেডে আটকে যায় লাশ। প্রাথমিক অনুসন্ধানের পর এ কথা বলেছেন খিলগাঁও থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই আসলাম হোসেন। তিনি অবশ্য বলেছেন, জেনিফাকে খুন করে সানশেডে লাশ ফেলা নিয়ে অসংলগ্ন কথা বলছেন মা হালিমা ইয়াসমিন। একবার বলছেন, তাকে শ্বাসরোধ করে মেরেছে রাজীব। আরেকবার বলেছেন, আমি লাশ দেখিনি। কখনও বা বলেছেন, সারাদিন লাশ নিয়ে বসে ছিলাম, রাতে রাজীব এসে লাশ জানালা দিয়ে ফেলে দেয়। পুলিশের সুরতহাল রিপোর্টে বলা হয়েছে, লাশের মাথার দু’পাশে বঁটি দিয়ে কাটা হয়েছে। পাঁজরের হাড় ভেঙে ছোট করা হয়। গ্রিলে মাথার চুল ও রক্ত জমাট বাঁধা ছিল। গলিত লাশ উদ্ধার করা হয়। সেটি চেনার কোন উপায় ছিল না। সন্তান খুনের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় হালিমাকে ৫ দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। বুধবার মধ্যরাতে পলাতক রাজীবের ভাই সজীবকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়েছে। রাজীবকে খুঁজছে পুলিশ। ওদিকে ময়নাতদন্ত শেষে গতকাল সন্ধ্যায় জেনিফার লাশ মিরপুর-১০ নম্বর এলাকার কবরস্থানে দাফন করা হয়। ২৭শে জুলাই দুপুরে জেনিফাকে সঙ্গে নিয়ে মিরপুরের স্বামীর বাড়ি থেকে পালিয়ে আসে হালিমা। সাড়ে সাত ভরি সোনার গহনা, এক লাখ টাকা ও জমির দলিল নিয়ে ওঠে পরকীয়া প্রেমিক রেজাউল করিম ওরফে রাজীবের উত্তর গোড়ানের ভাড়া বাসায়। পরদিন রাতেই জেনিফাকে খুন করা হয়। বলা হচ্ছে- সারাদিন লাশ রাখার পর ২৯শে জুলাই রাতে জানালা দিয়ে ফেলে পালিয়ে যায় রাজীব। ৪ঠা আগস্ট দুপুরে জেনিফার গলিত লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায় পুলিশ। ওইদিন শেষে রাতে নিহতের পিতা ফারুক গাজী বাদী হয়ে খিলগাঁও থানায় স্ত্রী হালিমা ও রাজীবকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। জেনিফার পিতা ফারুক গাজী বলেন, আমার মেয়ে কী দোষ করেছিল? তাকে কেন খুন করা হলো? হালিমা-রাজীবের বিয়েতে তো আমার মেয়ে বাধা দেয়নি। মেয়েকে আমার কাছে রেখে গেলে তো হারাতে হতো না। তিনি বলেন, আমার মেয়েকে যে-ই খুন করুক, তাদের ফাঁসি চাই। তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেখে যেন আর কোন মায়ের কাছে সন্তান অনিরাপদ না থাকে।
ঘটনাস্থল: রাজধানীর খিলগাঁও থানার উত্তর গোড়ানের সিপাহীবাগ মদনগলির ২৬৯ নম্বর ৫তলা বাড়ির মালিক আবুল বাসার। ৫ম তলার দু’টি ফ্ল্যাট টিনশেড। উত্তরপাশের ফ্ল্যাটে চারটি রুম। বাড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত বশির আহম্মেদ বলেছেন, ২৭শে জুলাই সকালে ১০ হাজার টাকা চুক্তিতে ভাড়া নেয় রাজীব। ৫ হাজার টাকা অগ্রিম দেয়। এরপর দিনই হালিমা ইয়াসমিন ও জেনিফাকে বাসায় নিয়ে আসে।
প্রতিবেশীদের বর্ণনা: তৃতীয় তলার ভাড়াটিয়া বাড়ি মালিকের ভগ্নি জোসনা বিন তেনু বলেন, ২রা আগস্ট ভোরে আমার খালাত ভাই সোহেলের কাছে হালিমা এসে ২০০ টাকা ধার চায়। সে সময় হালিমা অস্বাভাবিক ছিল। সোহেল জানতে চায়, টাকা দিয়ে কি হবে? হালিমা বলেছিল, আমার স্বামী বাসায় নেই। মোবাইলে ফ্লেক্সি করবো। সোহেল টাকা না দিলে চলে যায় হালিমা। বাড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত বশির আহম্মেদ বলেন, মঙ্গলবার পাঁচতলার জানালায় হালিমাকে দেখার পর রাতে তার কাছে ভাড়ার জন্য যাই। হালিমা বলে আমার স্বামী (রাজীব) বাসায় নেই। তিনি এলেই ভাড়া দেয়া হবে। ওই রাতে ১১টার দিকে হালিমা একটি ব্যাগ নিয়ে বের হয়ে যাওয়ার সময় বাড়ির লোকজন তাকে আটকায়। এরপর দিন সকালে ফ্ল্যাটে বৈদ্যুতিক কাজের জন্য গেলে জানালার বাইরে থেকে তীব্র দুর্গন্ধ পাওয়া যায়। বশির বলেন, আমি গ্রিলে উঁকি মেরে একটি বাচ্চার হাত দেখতে পাই। এর পরই পুলিশকে খবর দেয়া হয়। রং মিস্ত্রী আবদুল জলিল বলেন, এখানে রঙের কাজ করছি। ২৭শে জুলাই দুপুরে হালিমাকে আসতে দেখি। ২রা আগস্ট হালিমার ফ্ল্যাটে রান্না ঘরে রং করতে গিয়ে প্রচণ্ড গন্ধ পাই। এ নিয়ে হালিমাকে প্রশ্ন করলে সে বলে ইঁদুর মরেছে। আমরা দুর্গন্ধের জন্য কাজ না করে চলে আসি।
পুলিশের বক্তব্য: খিলগাঁও থানার অপারেশন অফিসার এসআই আসলাম হোসেন বলেন, তানহা ইসলাম জেনিফাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে মনে হয়েছে মা হালিমা ইয়াসমিন ও তার দ্বিতীয় স্বামী রাজীবই জেনিফাকে হত্যা করেছে। ২৯শে জুলাই রাতে বাসার উত্তর পাশের জানালা দিয়ে লাশ ফেলে দেয়ার চেষ্টা করা হয়। জেনিফার দেহ জানালার ফাঁক দিয়ে না ঢোকায় ধারাল বঁটি দিয়ে মাথার পাশে কাটা হয়। দেহ ভেঙে ছোট করে ফেলা হয় জানালা দিয়ে। লাশ উদ্ধারের সময় জানালায় মাথার ছোট চুল লেগে ছিল। একটি ধারাল বঁটিও উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাতে মাথার চুল ও রক্ত জমাট বাঁধা ছিল। হালিমা পুলিশের কাছে বলেছেন, জেনিফাকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে ওই ফ্ল্যাটে শুধু হালিমাকে নিয়ে থাকতে চেয়েছিল রাজীব। সবকিছু নতুন করে সাজাতে চেয়েছিল।
হালিমা ইয়াসমিন যা বললেন: হালিমা ইয়াসমিন খিলগাঁও পুলিশের হাতে ধরা পড়ার পর বলেন, শবেবরাতের পরের দিন ২৮শে জুলাই রাত দু’টার দিকে রাজীব দই খেতে দেয়। রাজীব দইয়ের সঙ্গে ঘুমের বড়ি খাইয়ে দিলে অচেতন হয়ে পড়ি। পরদিন সকালে সংজ্ঞা ফেরার পর দেখি মেয়ে জেনিফা ঘুমিয়ে রয়েছে। মেয়েকে ঘুম থেকে উঠানোর চেষ্টা করি। ঘুম না ভাঙায় সন্দেহ হয়। রাজীবকে বলি, মেয়েকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে। একপর্যায়ে আবার অন্যমনস্ক হয়ে হালিমা বলেন, আমি বুঝতে পারি আমার মেয়ে মারা গেছে। রাজীবকে ফোন দিই। সে আসে সন্ধ্যায়। লাশ কি করবো ভেবে পাইনি। রাতে রাজীব জানালা দিয়ে লাশ ফেলে দেয়। রাজীবই জেনিফাকে খুন করেছে।
ফারুক গাজী যা বললেন: মিরপুর ১১ নম্বর বাজারের মুদি ব্যবসায়ী ফারুক। একই এলাকায় স্ত্রী হালিমা, মেয়ে জেনিফা ও শ্যালক জুয়েলকে নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকেন। ২৭শে জুলাই সকালে তিনি দোকানে যান। বেলা ১২টার দিকে তার স্ত্রী হালিমা তাকে ফোন দিয়ে জানান, বাসার চাবি জানালায় আছে। ফারুক জানতে চান, হালিমা কোথায় যাচ্ছো? এ সময় হালিমার উত্তর ছিল- জাহান্নামে যাচ্ছি। আর ফিরবো না। ফারুক বলেন, বাসায় ফিরে দেখি ১ লাখ টাকা, জমির দলিল ও সাড়ে সাত ভরি সোনার গহনা নেই। এসব নিয়ে সে পালিয়েছে। ২৮শে জুলাই পল্লবী থানায় একটি জিডি করি। ভাবতেও পারিনি হালিমা রাজীবের সঙ্গে চলে গেছে। আমরা খোঁজাখুঁজি করি তাকে। ৩রা আগস্ট হালিমা ফোন দিয়ে বলে, আমি বিপদে পড়েছি। জেনিফা মারা গেছে। আমি রাজীবকে বিয়ে করেছি। ফারুক বলেন, তখনই জানি রাজীবের কথা। এর আগে কখনও এ সম্পর্কের কথা জানতে পারিনি। দেড় বছর আগে রাজীব ও আমরা একই বাসায় ভাড়ায় থাকতাম। তখন থেকেই হয়তো ওদের সম্পর্ক। তবে কখনও বুঝতে পারিনি। তাছাড়া আমি দিনে বাসায় থাকতাম না। শ্যালক জুয়েল ও আমি দোকানদারি করতাম। রাতে বাসায় ফিরতাম।
সুত্রঃ মানবজমিন।
২৯টি মন্তব্য ২৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×