somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রিনা ইব্রাহিমের স্ত্রী নয়, সাক্ষাৎকারে এমপি শাওন

১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০১০ সকাল ১০:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

রিনা আমাকে ব্ল্যাকমেইল করতে চাইছে। সে ইব্রাহিমের স্ত্রী নয়। ইব্রাহিম আমাকে কোনদিন তার স্ত্রী, ছেলেমেয়ে আছে এ বিষয়ে কিছুই বলেনি।
আর যেখানে ইব্রাহিমের বয়স ২৮ বছর আর রিনার বয়স ৫০ সেখানে রিনা কিভাবে তার স্ত্রী হয়- এটা আমার বোধগম্য নয়। এ মন্তব্য বহুল আলোচিত সংসদ সদস্য নুরুন্নবী চৌধুরী শাওনের। ইব্রাহিম হত্যাকাণ্ড নিয়ে শাওনের বক্তব্য- পিস্তল নিয়ে কালা ও ইব্রাহিম কাড়াকাড়ি করার সময়ই গুলি বেরিয়ে যায়। যা ইব্রাহিমের শরীরে বিদ্ধ হয়। আর এটাকে আপনারা খুন বলেন, দুর্ঘটনা বলেন আর যা-ই বলেন বলতে পারেন। তবে আমি যা বলছি তা-ই সত্যি।
ডিএমপি কমিশনার এ কে এম শহিদুল হকের ব্যাপারে শাওন বললেন, তিনি কেন সাফাই গাইছেন তা তিনিই বলতে পারবেন। তবে এতটুকু বলতে পারি ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটিত হোক তা চাই আমি। সে দিনের ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে শাওন বলেন, কালা আমার কাছে অনেক কিছুই গোপন করেছিল। সেদিন আমি সংসদ কার্যালয়ে ছিলাম। সন্ধ্যা ৭টার দিকে নিচে নেমে গাড়ির কাছে যাই। সেখানে কাউকে পাইনি। তখন কালাকে ফোন করি। কালা আমাকে জানায়, ইব্রাহিম অসুস্থ, তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছি। কাছাকাছি থাকা এত হাসপাতাল বাদ দিয়ে ইব্রাহিমকে কেন পুরান ঢাকার সুমনা ক্লিনিকে নেয়া হলো প্রশ্নে বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না।
গতকাল দুপুর ১২টা ৫ মিনিট থেকে ১২টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত ৪০ মিনিট মোবাইল ফোনে সাক্ষাৎকার দেন তিনি। এ সময় শাওনের সঙ্গে সরাসরি দেখা করতে চাইলে তিনি বলেন, ইব্রাহিমকে নিয়ে আমার এতদিন অনেক ব্যস্ত সময় কাটাতে হয়েছে। এ কয়দিন আমি আমার ব্যবসা-বাণিজ্য কিছুই দেখতে পারিনি। আপনি ফোনে যা জানার জেনে নিতে পারেন। এ সময় তিনি উত্তরায় অবস্থান করছিলেন বলে জানান। কল্যাণপুরের একটি বাসায় বসে শাওনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা হয়। এ সময় প্রতিবেদকের সঙ্গে শাওনের মুখপাত্র হাসনাইন উপস্থিত ছিলেন। শাওন বলেন, দলীয় হাইকমান্ড থেকে আমাকে বলা হয়েছে মিডিয়ার সঙ্গে কথা না বলতে। কারণ একেক পত্রিকা একেক কথা লিখছে। ফলে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। আমি চাই ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটিত হোক। এ নিয়ে আমি বা আমার দল থেকে কারও ওপর কোন প্রভাব বিস্তার করা হচ্ছে না। দলে কোন বিভ্রান্তিও নেই। দলীয় নেতারা বিষয়টি জানেন।
আপনার পিস্তলটির লাইসেন্স কি বাতিল করা হয়েছে- জিজ্ঞেস করা হলে শাওন বলেন- না, এখনও লাইসেন্স বাতিল সংক্রান্ত কোন চিঠিপত্র পাইনি। যতদূর জানি পিস্তলটি এখনও পুলিশের হেফাজতেই আছে। ইব্রাহিমের সঙ্গে পরিচয় কিভাবে প্রশ্নে শাওন বলেন, ২০০১ সালে ইব্রাহিমের বাড়িঘর নদীতে ভেঙে যায়। তখন সে বিএনপির কর্মীদের হাতেও নির্যাতিত হয়েছিল। এরপর থেকে আমার সঙ্গে সে আসা-যাওয়া করতে শুরু করে। আমি তাকে বিভিন্ন সময় অর্থনৈতিকভাবে সহায়তা করেছি। ১৩ই আগস্ট ইব্রাহিম আমার কাছে এসেছিল ১৫ই আগস্ট আমার সঙ্গে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া যাবে কি-না এর অনুমতি নিতে। আর সেদিনই এ ঘটনা ঘটে। ইব্রাহিম কি ৫৬ নম্বর ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর নির্বাচন করতে চেয়েছিল? শাওন বলেন, ইব্রাহিম কখনওই আমাকে বলেনি সে কাউন্সিলর নির্বাচন করবে। আর নির্বাচন করতে চাইলে আমি তাকে বাধাও দিতাম না।
শোনা যায়, ইব্রাহিম আপনার পরিবারের সঙ্গে খুবই ঘনিষ্ঠ ছিল?
না, বিষয়টা তেমন নয়। আমি এমপি আর সে আমার কর্মীরও কর্মী। ইব্রাহিম ছিল ওয়ার্ডের নেতা। আমার সঙ্গে তার এত মেলামেশা ছিল না। তবে সক্রিয় কর্মী হিসেবে আমি তাকে স্নেহ করতাম। আমার বাসায় তার যাতায়াত ছিল।
ঈদের ছুটিতে আপনি এলাকায় গেলেন, আপনার নির্বাচনী এলাকার মানুষের প্রতিক্রিয়া কি?
আমার এলাকার মানুষের মনে এতটুকু চিড় ধরেনি। কারণ সবাই জানে আমি এর সঙ্গে জড়িত নই। ইব্রাহিমকে এলাকার মানুষ ভাল করেই চিনতো। তারা জানতো আমার সঙ্গে তার সম্পর্ক কি। ইব্রাহিমের স্ত্রী রিনা ও তার ভাইদের নাকি আপনি ২৫ লাখ টাকা দিতে চেয়েছিলেন?
শাওন বলেন- না, এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা। আমি কেন তাদের টাকা দিতে চাইবো। তবে তারা যেহেতু অসচ্ছল- তাই এলাকার জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাদের সহায়তা করা আমার নৈতিক দায়িত্ব। ঘটনার পর আমি জানতে পারি ইব্রাহিমের স্ত্রী, ছেলেমেয়ে আছে। আমি তাদের সান্ত্বনা দিতে বাসায় গিয়েছিলাম। পরে জানতে পারি রিনা তার স্ত্রী নয়।
আপনি কালাকে অপমৃত্যুর মামলা করতে বলেছিলেন এমনটিই শোনা যাচ্ছে।
না, কালাকে আমি অপমৃত্যুর মামলা করতে বলিনি।
কিন্তু কালা তো ১৬৪ ধারায় বলেছে আপনার নির্দেশেই সে অপমৃত্যুর মামলা করেছে।
শাওন বলেন, কালা ১৬৪ ধারায় কি বলেছে তা জানি না। ১৬৪ ধারায় দেয়া জবানবন্দির কপিও আমি পাইনি। তবে পত্রিকায় পড়ে বিষয়টি জেনেছি। তাছাড়া, রিনার সঙ্গে কথা না বলেই অনেকে অনেক কথা লিখে তার বক্তব্য বলে চালিয়ে দিচ্ছে আমি সেটা জানতে পেরেছি।
আইন প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, অস্ত্র আইনে আপনাকে অভিযুক্ত করা যায়।
শাওন বলেন- না, বিষয়টি তেমন নয়। আমি আইন প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। সংবাদপত্রে তার বক্তব্য খণ্ডিতভাবে এসেছে। আইন প্রতিমন্ত্রীকে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেছিল একজন যদি তার অস্ত্র অন্যকে দেয় এবং সেই ব্যক্তি যদি ওই অস্ত্র দিয়ে কোন অপরাধ করে তাহলে অস্ত্রের মালিক অপরাধী হবে কি-না? এর জবাবে তিনি বলেছিলেন- হ্যাঁ, অপরাধী। কিন্তু আমি তো কাউকে অস্ত্র দিইনি। আমি বেখেয়ালে অস্ত্র আমার গাড়ির ভেতর রেখে গিয়েছিলাম। বাবার অস্ত্র বাবাকে না জানিয়ে যদি ছেলে নিয়ে কোন অপরাধ করে তাহলে কি বাবা দোষী হবে? অতীতে এমন ঘটনা তো অনেক ঘটেছে। ইব্রাহিমের শরীরে গুলি লাগার পর পিস্তল গাড়ির সিটের পকেটে রেখে দেয়া হয়েছিল। এরপর তো পিস্তল আমি হাতে নিইনি।
গুলিবিদ্ধ ইব্রাহিমকে আপনার গাড়িতে করে হাসপাতালে না নিয়ে কেন মিঠুর মাইক্রোবাসে করে নিয়ে যাওয়া হলো?
এটা আমি বলতে পারবো না। আগেই বলেছি কালা আমার কাছে অনেক কিছু গোপন করেছে। যার ফল আমি পোহাচ্ছি।
মিঠু কেন ভাড়া করা মাইক্রোবাস নিয়ে সংসদ ভবনের ৬নং ব্লকে গিয়েছিল? শাওন বলেন, মিঠু তজুমুদ্দীনের ছেলে। তার পিতা এম এ কাশেম ’৮৬ এবং ’৯১ সালে দু’বার এমপি প্রার্থী ছিলেন। মিঠু সেদিন আমার কাছে একটা মাদরাসার অনুদান সংক্রান্ত বিষয়ে সুপারিশের জন্য এসেছিল।
মদ, জুয়া, চাঁদাবাজি ইত্যাদি নিয়ে ইব্রাহিমের সঙ্গে আপনার দ্বন্দ্ব ছিল বলে মিডিয়ায় খবর এসেছে? শাওন বলেন, আমার দুঃখ এখানেই। আমাকে জড়িয়ে উদ্দেশ্যমূলকভাবে অনেক কথা পত্রিকায় লেখা হয়েছে। যেগুলো আদৌ সত্য নয়। আপনারা জানেন, রাজনীতি করতে গেলে মিত্র যেমন থাকে, শত্রুও তেমন থাকে। তাছাড়া, ভোলার নির্বাচনে মনোনয়ন চেয়ে অনেকে না পেয়ে আমার ওপর ক্ষুব্ধ ছিল। তারা এসব অপপ্রচার চালাচ্ছে। মিডিয়াকে দিয়ে মিথ্যা কথা লেখাচ্ছে।
গোয়েন্দারা আপনাকে কি জিজ্ঞাসাবাদ করেছে?
এ বিষয়ে আমি কিছু বলবো না।
আপনার স্ত্রীর সঙ্গে ইব্রাহিমের ঘনিষ্ঠতা ছিল এই কারণেই সে খুন হয়েছে এমন কথা গোয়েন্দাদের একটি সূত্র বলছে। আপনার মন্তব্য কি?
দেখুন আপনি একজন জনপ্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলছেন। আমাকে এমন কোন প্রশ্ন করবেন না যাতে আমি বিব্রত হই। তারপরও বলছি এসব কথা একেবারেই ভিত্তিহীন। যদি কোন গোয়েন্দা কর্মকর্তা এটা বলে থাকে তাহলে তার নাম বলেন। আমি তার কাছে কৈফিয়ৎ চাইবো। আমি এই খুনের সঙ্গে কোনভাবে সংশ্লিষ্ট নই। আমি সব সময় বলে আসছি আমি বা আমার দল এ ঘটনায় কোন প্রভাব বিস্তার করছে না। আমি চাই মামলার সঠিক তদন্ত হোক- যাতে ভবিষ্যতে এ নিয়ে কোন প্রশ্ন না দেখা দেয়।
সুত্রঃ
১৫টি মন্তব্য ১৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলা সাহিত্যে জায়গা পাচ্ছেন ওসমান হাদী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:১৭


সংবাদপত্র যা বলছে
জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০ জুন ২০২৬ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যবই পরিমার্জন-সংক্রান্ত কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকসহ... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুকুলে নয় শেখ হাসিনা (আপা) প্রতিকুল পরিস্থিতিতেই বেশি অকুতোভয়।

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৪




একদিকে তিনি ঘোষণা দিয়েছেন তিনি দেশে ফিরছেন, আরেকদিকে তিনি প্রায় নিশ্চিন্ন করে দেয়া আওয়ামী লীগকে পুনর্গঠন করে ফেলেছেন! এবং সেই সঙ্গে তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের অগণতান্ত্রিক, ভয়ঙ্কর এবং অবৈধ রাজনৈতিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপির আবালীপনা।

লিখেছেন তানভির জুমার, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮

বিএনপি ৫০ হাজার নাচের শিক্ষক নিয়োগ দিতে যাচ্ছে। যার পেছনে ১০ বছরে ব্যায় হবে ১৫ হাজার কোটি টাকা। যা দিয়ে ফুল প্যাকেজ ৩০ টি জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান... ...বাকিটুকু পড়ুন

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

লিখেছেন নতুন নকিব, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২৪

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশ শোকাহত। এতগুলো নিষ্পাপ প্রাণের মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×