আমার প্রিয় পোস্ট
- অভ্রর নতুন ভার্সনে ইউনি-বিজয় লে-আউট সংযুক্তকরণ - shapnobilash_cu
- মিউজিক্যাল সিনেমা, এবং মিউজিসিয়ানদের নিয়ে সিনেমা;কিছু প্রিয় নাম। - হাসান মাহবুব
- মুভি রিভিউ :: অশ্রুর বাঁধ ভেঙে দেয়া ১৩ টি সিনেমা - মেহরাব শাহরিয়ার
- ক্লাউড কম্পিউটিং, এখুনি পরখ করে দেখুন। - ক-খ-গ
- ফ্রীতে নিজের একটা সাইট করুন ডমেইন সহ সবেই ফ্রী... - নিঃসঙ্গ
- এক ঠিকানা থেকে অন্য ঠিকানাতে মেইল ইমপোর্ট করা - এস. এম. মেহেদী আকরাম
- লিওনার্দো দা ভিঞ্চির উপর প্রামাণ্য চিত্র এবং অনলাইনে তার সমগ্র চিত্রকর্মের লিংক - তর্পন
- শান্তনু চৌধুরীর ৫টি কবিতা - সুতরাং
- জীবনানন্দ দাশ : 'বনলতা সেন' কাব্যগ্রন্থ - একরামুল হক শামীম
- বাঁক - সফেদ ফরাজী......
- উইনএক্সপি তে করাপটেড ফাইল যেভাবে ঠিক করবেন। - আহমদ কায়েস
- কেন কিনবেন বই যখন ফ্রী পাচ্ছেন? - তামিম
- শিল্পী এস এম সুলতান ও ভিনসেন্ট ভ্যান গঘঃ জীবন কারিগর - নাস্তিকের ধর্মকথা
- কবিতা যেমন হতে পারে- ৩ - আজহার ফরহাদ
- সতত জনম; মূল: মৃণাল সেন - ফাহমিদুল হক
- সূর্যাস্ত মন্দির - তারিক টুকু
- ফিরে দেখা ইতিহাস : ভাষা আন্দোলনের দিনপন্জী - ৩ - মিরাজ
- বাস্তবতা নয়, কল্পনা নয়, জাদুকল্পের ভুবন নয় বা নয় কাল্পনিক-বাস্তবতার-জাদু মোচড় - মৃদুল মাহবুব
- ডাকবাক্স - মজনু শাহ
- লবণখাদ ও বোবাঠাকুরের গান - তারিক টুকু
- এক্স পি সেটাপ ??? ৪/৫ মিনিটে কমপ্লিট !!! - মশিউর রহমান মেহেদী
- কুড়িগ্রাম - মাসুদ খান
- ফিরি ফিরি গান ডাউনলোড - মইন
- লিখে রাখি - মুয়ীয মাহফুজ
- ভাঙাশ্লেট - আপন মাহমুদ
- গহ্বরের দিনকাল অথবা প্রকৃতিক পরিত্রাণ - মুয়ীয মাহফুজ
- গণশৌচাগারের দেওয়ালে আমিই লিখতে চাই একা - মৃদুল মাহবুব
- প্রার্থণা, চিরবৈশ্বিক অন্ধকার - মৃদুল মাহবুব
- প্রিয় কবিতা - মাঠশালা
বাস্তবতা নয়, কল্পনা নয়, জাদুকল্পের ভুবন নয় বা নয় কাল্পনিক-বাস্তবতার-জাদু মোচড়
১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ দুপুর ২:২৩
কোন কোন দিন জীবনকে অসীম বলে বোধ হতেই পারে। মনে হতে পারে সমস্ত ফুলের জন্ম অন্ধকারে, দেহ থেকে খসিয়ে নেওয়া লাল চামড়ার মত লাল আকাশ থেকে ফুলের সৌরভ ছড়িয়ে পড়ছে বাতাসে বাতাসে, আমাদের লাবণ্য ঘরের কোন রং নেই, কোন পোড়া মাটির দেয়াল নেই; নীল পাখির পালকের দেয়াল দিয়ে আমরা যে যার মত পৃথক হয়ে বসে আছি এঘর ওঘর। তবে কি কোন পাখি শরীরের পালকের অরণ্যে দিনযাপন, দিনমান উড়তে থাকা মহাশূন্যতায় ঐ অসীম ডানায় চড়ে। আর এই নিরীহ ঘরের ভেতর আকাশ থেকে নেমে আসছে ফুল গন্ধ, পাতার সবুজ ঘ্রান, সবুজ পাতার মেঘ বয়ে নিয়ে যাচ্ছে বার্তা পাহাড়ের ওপারের কোন মাঝি পল্লিতে। সিলিন্ডার টাইপ থ্যাবড়ানো সূর্য তার মাছের পুচ্ছের মত একটা সরল যন্ত্র দিয়ে সবুজ সুগন্ধময় মেঘ কেটে কেটে পার হচ্ছে পাখি বিশ্ব। আমাদের এই অসীম পাখি ডানার নিচ দিয়ে বয়ে যাচ্ছে সবুজ মেঘের দেশ আর লক্ষ লক্ষ সিলিন্ডার সূর্য, বোবা পোড়া ঘেয়ো নক্ষত্র, উল্কা। কোথা থেকে ভেসে আসছে রাগ হংসধ্বনি ?
এ কল্পনার থেকে অধিক অতিকল্পনার ভুবন। কথাহীন সুরের মত এর বিস্তারণ। অথবা এ কি প্রতি-কল্পনা নয়?
কবিতা, শিল্প বোধ -- বাস্তবতা নয়, কল্পনা নয়, জাদুকল্পের ভুবন নয় বা নয় কাল্পনিক-বাস্তবতার-জাদু মোচড়।
কবিতা আজ এক ভিন্ন প্রশ্ন হয়ে দেখা দেয় আমার কাছে। বিগত কবিতার সরল রেখার বিপরীতে আমাদের এই 'প্রান্ত-আধুনিক' ত্রিমাত্রিক কবিতা সলিডের জ্যামিতি বেশ ভিন্ন। এরা পরস্পরকে যে বিন্দুতে ছেদ করে তা বোধ হয় দ্বন্দ্ব-বিন্দু। তাহলেতো কমন ফ্যাক্টর থাকার কথা এই দুই ভাষা বিশ্বের দু'জাতীয় কবিতায় যেহেতু তার পরস্পর কে সঙ্গী করে, ছেদ করে। কি এই ভিন্নতা? ভিন্নতা বেশ প্রখর, চৈত্র দিনের সূর্য তাপের মত বা শীত সকালের কুয়াশার মত অনুভূতিময়। সমগ্র ঋতু জ্ঞান দিয়েও একে ঠিক আর বোঝা যায় না। কারণ এখানে নির্মিত হয়েছে প্রতিটা ঋতুর বিপরীতে প্রতি-ঋতু। বাস্তবতা আর কল্পনার বিপরীতে প্রতি-অতি-কল্পনা। আধুনিক কবিতা যেমন রেখার বাইরে এক কদমও এগোয় না তেমনি আমাদের এই কবিতাও কি তার জাদু কল্পনার মায়া বাগান থেকে এই পৃথিবীর দিকে এক পা'ও এগিয়ে আসতে পারে বা পেরেছিলো? এর সম্ভাব্য উত্তরটা পর্যন্ত করা কঠিন। কেননা তাকে সচল রাখার জন্য তত্ত্বে পাওয়ার হাউজ গড়ে উঠেছে দিকে দিকে। তাহলে আধুনিকতার সে সীমাবদ্ধতা তার বিপরীতে যেদিন থেকে আমাদের নবআবিস্কৃত কবিতা দাঁড়ানো শুরু করলো সেদিন আসলেই কি খুব বেশি কিছু ঘটে গিয়েছিলো? আসলে কিছুই ঘটেনি। মাত্র শিল্পবোধের একটা পরিকল্পিত পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। ফলে মনে হয় রুচিই আমাদের শিল্পের মূল শাসক এখন পর্যন্ত। যেকোন স্পর্শই ক্ষয় বয়ে আনে, হোক তা মিহি শীতল বাতাসের শরীর প্রবাহন বা তোমার শরীর স্বচ্ছতার দিকে ছুটে যাওয়া আমার কামনা বা প্রত্যাশার অন্ধত্ব। পাহাড় আর পাগলা গারদের দেয়াল আর আমাদের লজ্জা-বর্ম পোষাকের সুতোয় বাতাসের যে আনাগোনা বা আলোর পতন তাও ক্ষরণ করে, মিঠা রোদ ঝলসে দেয় অনুর জীবনী, একক।
শিল্পের রুচির শাসনহীন কবিতাই আমাদের অবধারিত লক্ষ্য, এপিক যাত্রার পথরেখা।
আলোহীন অন্ধকারহীন বল-বীর্যহীন শাশ্বতের উচ্চাশাহীন বিজ্ঞানহীন শূন্যআরএককহীন মিথহীন সময়হীন আশাহীন ব্যাপ্তিহীন স্পেসহীন মাত্রহীন মুখহীন ভূগোলহীন অতীবর্তভবিষ্যহীন এক দশ দিগন্তের দিকে তার যে নতুন আবাস, বসত বাড়ি সেখানে ভাবি জন্মের পাঠক খুঁজে পাবে শব্দ মুখোস, নতুন ভূবন-দীক্ষা। শব্দকে ঠিক এই এপিক ভুবনে ডেকোরেটিভ মুখোস হিসাবে, বেড শিটের চাদর হিসাবে, সাজানো শো পিচ হিসাবে আমার মা'র হাতের খুন্তির সাধারণতা হিসাবে বাবার স্ক্রু ডাইভার হিসাবে বেখেয়ালের মত তাকে অবহেলায় ব্যবহার করা হয়েছে ঐ পাখি পালকখচিত ডানার ভুবনে। সামগ্রিক প্রয়োজনীয়তা নিয়ে শব্দ হেলায় ফেলায় পড়ে আছে এই প্রদেশে, তার সীমনা শব্দের কাটাতারে ঘোরপ্রস্থ ভাবে ঘেরা। শব্দ মানেই প্রয়োজনীয়তা অনুভব, তৃতীয় কোন দিক নির্দেশনার তাড়া এর নেই। অথবা নেই কেন্দ্রহীন অভিনয় প্রবনতা। অপ্রোয়োজনীতার অধিক্য বর্জিত অর্জনের নিশান উড়িয়ে দেওয়া যেতে পারে। তাহলে একে ঠিক চিনে ফেলা যাবে। যে নিশান দেখে কপোত ফিরে আসে আমাদের ঘরে সন্ধ্যার আগে, মহাপাখির ডানা বন্ধ হবার আগে। এখনই বন্ধ করোনা ডানা।
কল্পনা থেকে কবিতার যাত্রা অতিকল্পনার দিকে, আলাদা এক ভাষা পৃথিবীর দিকে।
কবিতা আর কিছু বোঝানোর দায় রাখে না। আমি একে দেখি এক শব্দ আল্পনায় খচিত বিয়ে বাড়ি হিসাবে। যেখানে লাজুক অতিথি, যাকে কেউ চেনে না তিনি একা একা এই আল্পনা শিল্পের সাথে তার গোপন সময়টা কাটাবেন। খুব সঙ্কোচে তিনি পায়ে পাড়িয়ে পাড় হয়ে যাবেন এই অর্থহীন শব্দচিত্র, গন্তব্যহীন; তারপর তিনি আর সেখানে কোন দিন ফিরে আসবেন না। মাত্র কিছু একটা যেনো উৎসব ঘটে গিয়েছিলো কোন একদিন, তিনি খুব একা লজ্জিত নিঃসঙ্গতা নিয়ে সেই রং আর রূপের পাশে বসে ছিলেন। এভাবে তিনি একের পর এক পার হয়ে যাবেন হাজারো হাসি উৎসব, ঠাট্টা, রস আর একা একা অনুভবের সাথে জড়িয়ে নেবেন সীমাবদ্ধতার দুঃখ সূত্র, ব্যক্তি হাহাকার আর মলিন এক মুখ কালো মানুষ তার বুকের ভেতর কথা বলে উঠবে। বুকের ভেতরের এই মানুষ যেনো তিনি নয়, এ যেনো না হয় ঐ লাজুক অতিথির আপন ভুবন, নিজস্বতা; এই বুকের ভেতরের যুক্তিহীন শুভ্রতা অস্বচ্ছতা বা নীল রঙ আর অসুস্থতাই যেনো হয় তার কাছে কবিতা।
রিয়ালিটি এক ভুলভুলাইয়ার পথ।
কোন বস্তুকে খুব উপর থেকে দেখলে বস্তুর অনুভূত অস্তিত্ত্ব লোপ পায় আর বস্তুর গভীর থেকে তাকে দেখতে গেলে বস্তু তার স্বকীয়তা হারায়। ফলে বস্তু দর্শনের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট দুরত্বে বসে তাকে পর্যাবেক্ষণ প্রয়োজন আমাদের এই তৈরিকৃত বিজ্ঞান ভবনে বসে। এতো গেলো বস্তু সত্য, তবে শিল্প সত্য? এর কোন দৃশ্যমানতা নেই। সে থাকে অসীমে বা অতিগভীর গভীরতায়। এটা বস্তুর সারবত্তা। শিল্পো হলো বস্তুর অদৃশ্য আত্মা, তার মননশীলতা। সে থাকে খুব গভীরে বা অসীমে ধ্রুপদি সংগীতের মত সে থাকে মার্গীয় উচ্চতায়। পৃথিবীর সমস্ত বস্তু নিজ কম্পনে কম্পমান নিজ আত্মা সমেত। তারা একসাথে গাইছে সেই সূচনা শব্দের গুরুগম্ভীরা। আমার সমস্ত শরীরের প্রতিটি কোষ আলাদা আলাদা ভাবে কথা বলছে এক খন্ড পাথরের প্রতিটা কোষের সাথে। এদের একের সাথে অপরের যোগাযোগের ভাষা রিড করতে পারে না আমার সুচেতনা। এ কারণেই কি পাথরের ভাষা, আমার শরীরের প্রতিটা কোষের ভাষা, সমুদ্র ফেনার ভাষা, কাছিম পায়ের ভাষা, পাখি নখের ভাষা বর্জিত হবে আমাদের কাছ থেকে। বস্তুর সাথে বস্তুর এই যে বাস্তব অদেখা সম্পর্ক, ভাষা বোধ, অদৃশ্য আকর্ষণ তা যুক্তির জগত বর্হিভূত, কেননা যুক্তির কোডিং আর ডিকোডিং কৌশল চেতনা নির্ভর। তা অদৃশ্যের পাথরের গান, অনুর উচ্চারণ, বৃক্ষ মজ্জার কাঁপনকে স্বীকৃতি দেয় না। আমাদের যুক্তি ভুয়োদর্শনের বিশ্বকে অর্ধেক উন্মোচিত করে। অদৃশ্যের যুক্তিহীন অপর অর্ধেক বিশ্ব, বাকি অর্ধেক অর্ধজ্ঞান সীমিত প্রযুক্তি আর এক রৈখিক মানব বিদ্যার সোনার স্রোতের নিচে হীরের কাদায় আটকে আছে। এই অযুক্তির পৃথিবীকে ঐ বিয়ে বাড়ির মেজেতে এঁকেছিলো কোন চিত্রী, লাজুক নিঃসঙ্গ অতিথির বুকের ভেতর কথা বলছে যুক্তির সাপেক্ষের অর্থহীনতা। এ কিন্তু অর্থহীনতা নয়, নবআবিস্কৃত অবশিষ্ট অর্ধবিশ্ব, ব্রহ্মাণ্ডকে সে পূর্ণ করছে গোপনে একা; মেঝের আল্পনা মাত্র এর গুপ্ত সংকেত।
আর এই পূর্ণ পৃথিবীর প্রকাশ যখন ধরা পরে কোন এপিক শিল্পে তখন তাকে অচেনা লাগে। মনে হতে পারে সামগ্রিক বিশ্ব বিচ্ছিন্নতা যেনো এর ভরকেন্দ্র। মনে হয় মগজের সাথে তার যেনো গভীর বিরোধ। কিন্তু এর সাথে সমস্ত দেহের অদেখা কথোপোকথন। তাকে যুক্তির ফিলটার বসানো চোখ দেখে দেখতে পায় না। প্রজ্ঞার মিহি সুরের সাথে বস্তু ভুবনের স্বরের ঐকতান ঘটে যায়। এক্ষেত্রে সমস্ত শিল্প রুচিকে বাদ দিয়ে সরাসারি বস্তুর চোখের দিকে, তার প্রাণের দিকে, তার ভাষার দিকে তাকালে এই বিরোধের উলোখগড়ার ময়দানে বসে পাওয়া যেতে পারে আকাশের সবুজ হিমেল গন্ধ যেনো সমস্ত আকাশ মাত্র একটা নীল অপরাজিতা ফুল হয়ে গাঢ় নীল হয়ে ফুটে আছে বাতাসের লতায়।
চাঁদে যাবার পথ অবশ্যই ছিলো উপবৃত্তাকার।
অনন্ত বিয়োগ চিহ্ন থেকে অনন্ত যোগ চিহ্নের দিকে চলে যাওয়া আমাদের সমান্তরাল রুপোর পাতে বসানো রেল পথ দিয়ে সসীমের মেলে যেতে যেতে আমার মনে পড়ছে এখানে শব্দ নামক বস্তু আত্মার মুখোশ ছিলো। আমি এই রেল কামরায় বসে সে মুখোশ পরিনি। মুখোশ আমার মুখের চামড়ার নিচে নিরীহ নির্লিপ্ত চাতুর্য্য নিয়ে ঢুকে যাচ্ছে। আর শব্দের মরা কাঠের উপর, ঐ রঙীন ধাতুর মুখোশের উপর জীবন্ত প্রান, বস্তু আত্মার ভাষা হয়ে ছত্রাকের মত জন্ম নিচ্ছে আমার দেহ; এই আমার পুরোটা দেহ আমার মগজ। আমরা লোকাল ট্রেনে চড়ে উপবৃত্তাকার পথে চলেছি চাঁদের দিকে। শূন্যে উড়ছে আমাদের পথ নিদের্শ, সবুজ সিগনাল।
বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
তারিক টুকু বলেছেন:
শূণ্যদশকের কবিতা নিয়ে যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ চিন্তা এখনও হয়েছে বলে জানি, আমার মকত এই লেখাটা সেসবকে অতিক্রম করার একটা প্রয়াস বলে মনে হয়। এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা পরে করা যাবে, আগে বিষয়টি নিয়ে সবাইকে ভাবতে ও নিজ নিজ বক্তব্য জানাতে অনুরোধ করছি।
লেখক বলেছেন: গুরুত্বপূর্ণ কিনা সেটা আমি জানি না। তবে আলোচনায় সবাই অংশগ্রহন করলে ভালো হয়।
ধন্যবাদ টুকু।
+
হুমম ......
কবিতার ব্যাপারে নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি বলেছেন।
রুচি কখনো কখনো শিল্পের শাসক হয়, সব সময় হয় না।
গম্ভীর ভাষার গাঁথুনি ভালো লাগলো।
লেখক বলেছেন: সারওয়ারচৌধুরী ভাই,
"রুচি কখনো কখনো শিল্পের শাসক হয়, সব সময় হয় না।"
কথা ঠিক। তবে "সব সময় হয় না।"-- এটা বোঝা একটু কঠিন এবং মুস্কিল। আমাদের শিল্পজ্ঞান রুচি নিয়ন্ত্রিত আজ পর্যন্ত। এই ধারণার বিনাশ দরকার।
শিল্পের রুচির শাসনহীন কবিতাই আমাদের অবধারিত লক্ষ্য, এপিক যাত্রার পথরেখা।
লেখক বলেছেন: তিনি নিশ্চয়ই উত্তর দেবেন।
তারিক টুকু বলেছেন:
(আগের পোস্টটা কমপ্লিট হয়নি, ভুলে আপডেট হলে গিয়েিছলো)@সারওয়ার ভাই: রুচি শিল্পের শাসক না হলে শিল্পকে বাঁচায় কে?
আবেগ?
নাকি
বাস্তবতা?
আমার ধারনা রুচি তৈরী করিয়ে নেয়ার মধ্যেই লেখকের ক্ষমতা।
কি জানি বলে না, দি হিস্ট্রি অব লিটারেচার ইজ দ্য হিিস্ট্র অফ ইট পারফেকশন, সেই আর কি।
লেখক বলেছেন: দি হিস্ট্রি অব লিটারেচার ইজ দ্য হিস্ট্রি অফ ইট পারফেকশ।
সবুজ আরেফিন বলেছেন:
যা স্বপ্ন বা কল্পনা তা অজানা, যার নাম আমরা দিয়েছি ভবিষ্যৎ। আর যা রিয়েলিটি বা বাস্তবতা তার নাম দিয়েছি অতীত। অতীত এবং ভবিষ্যতের এই হেয়ালি খেলায় আমরা ছিড়ে যাচ্ছি অথবা বলা যায় পিস্ট হচ্ছি প্রতিনিয়ত। কি হাস্যকরভাবেই আমরা নিজেদেরকে বর্তমান থেকে আলাদা করে ফেললাম। সময়ের আবিষ্কার মানুষের জন্য একটা ব্যর্থতাই বলবো। যদিও আমি জানিনা এর বাইরে মানুষ আর কিইবা জানার চেষ্টা করতে পারে। আমার মনে হয় সময়কে আরো ছোট করে কাটলেও বেঁচে থাকার আনন্দকে এতটুকু বদলানো যাবেনা। ভাবা যায় মৃত্যুর মতন হতাশাও আমাদেরকে ভাবতে বাধ্য করে। আগুন আমাদেরকে পোড়ায় কিন্তু সে নিজে কতটুকু পোড়ে বা আদৌ পোড়ে কিনা তা কি আমরা জানতে পেরেছি?নিলস বোরঃ কোয়ান্টাম মেকানিক্সের বৈচিত্র্য কখনো ব্যাখ্যা করা যায় না। সে শুধু সম্ভাবনার ছড়াছড়ি। একটা কণা কোনো মুহূর্তেই কোনো নির্দিষ্ট বিন্দুতে নেই, রয়েছে শুধু ঐ বিন্দুতে তার থাকবার সম্ভাবনা। কণাদের রাজত্বে নির্দিষ্টের বদলে সম্ভাবনা। কে তার ব্যাখ্যা দেবে? কে তার ব্যাখ্যায় যাবে।
হুইলারঃ কোয়ান্টাম মেকানিক্স অনেককিছুর ব্যাখ্যা করে দ্যায়, কিন্তু ওর নিজের কোনো ব্যাখ্যা নেই। ও মিস্টিরিয়াস, শুধু মিস্টিরিয়াস......
আমিঃ আসুন আমরা ঐ সম্ভাবনাগুলোর চিত্রকল্পে নিজের ছবি দেখি।
আমরা যদি সারাজীবন দশ হাজার মানুষের সাথে মিশি, তাহলে আমরা কি ঐ মানুষগুলোকে চিনলাম নাকি শুধুই নিজেকে চিনলাম আরো বেশী বিমর্ষ অবস্থায়?
চমৎকার চিন্তাভাবনা। ভালো লাগলো মাহবুব। ধন্যবাদ আমাকে উৎসাহিত করার জন্য।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ সবুজ। অনেক কাজের কথা পেলাম। আর আরেকটা লেখা লেখার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছি " থিয়োরী অব আনসার্টেনিটি" নিয়ে। অনেক আগে একবার লিখেছিলাম। ওটার সম্প্রসারণ ঘটানো যাবে এবার।
@তারিক টুকু+ মৃদুল মাহবুব
দি হিস্ট্রি অব লিটারেচার ইজ দ্য হিস্ট্রি অফ ইটস পারফেকশন।
ভাষার মাধ্যমে কিংবা শিল্পের যে কোন মাধ্যমে যে ব্যাপারটি চোখে পড়ে তা হলো চিন্তাকে বোধকে শিল্পী তার নিজস্ব সৌন্দর্যবোধের আলোকে ফুটিয়ে তোলেন। সেখানে তার মজ্জা নিমজ্জিত ট্যাবু থাকতে পারে নাও থাকতে পারে। মিথ, রিলিজিওন প্রতিবেশের প্রভাবও থাকতে পারে।
আর লিটারেচার তো নেরেশন করার মাধ্যম। খুলে খুলে দেখাতে হয়। এক অর্থে পারফেকশনটা ঠিক ঠিক আসে না। ক্রমাগত পথক্রমণ চলতে থাকে।
আপনার সৃষ্ট শিল্প আপনার আবেগের প্রতিনিধিত্ব করে অপরের আবেগ স্পর্শ করে। অপরের আবেগ ধরে রাখতে চায় আপনার শিল্পকে। শেক্সপিয়র, মিল্টনকে আমরা আজো ধরে রাখি। 'প্যারাডাইস লস্ট' 'প্যারাডাইস রিগেইন' ধর্মাশ্রয়ী। কিন্তু তার শৈল্পিক ব্যঞ্জনা অনুপম।
শেষ কথা বলবো, সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছা মুশকিল। শিল্পের ক্ষেত্রে মানুষের বহুবিধ রুচিকে পাশ কাটানো সম্ভব নয়। বৈচিত্র সাথে নিয়ে ভবিষ্যতের দিকে ছুটতে থাকা।
লেখক বলেছেন: হ্যাঁ কোন সিদ্ধান্তে পৌচ্ছানো মুশকিল।
তবে যে ধর্মাশ্রয়ী শিল্পের কথা বলছেন তা ভালো লেগেছে আপনার বা আমার বা অপরের কেননা ধর্মও রুচি তৈরি করে। তবে সে রুচি নীতিশাস্ত্রের রুচি, দেখিয়ে দেওয়া একটা পথ। যে কোন সরু নল বা দূরবীন যাই বলেন না কেন তার মধ্যে দিয়ে মহাকাশের দিকে তাকাল এক খণ্ডিত চিত্রের বেশি কিছু আর দেখা হয় না। আমরা আসলে আকাশের নিচে দাড়াতে চাই। ফলে রুচির যে শাসন তা থেকে মুক্তি দরকার। আর অতীতের ভুল জ্ঞান আর মানব বিদ্যা আমি শুদ্ধ জ্ঞান করি না। মানুষকে তার শিল্পকে একটা সুর্নিষ্টি কাঠামো প্রদানের ভূমিকা সে রেখেই চলেছে। মানব বিদ্যা আর বিজ্ঞানের এই খোজা জন্মের ধ্বংস দরকার। এই ধ্বংসের ভেতর থেকে উঠে দাড়াবে আমাদের নতুন এপিক।
সবুজ আরেফিন বলেছেন:
আমিও আপনার সাথে একমত সারওয়ার ভাই।
লেখক বলেছেন: এই লেখার প্রবেশ মুখ হলো সমকালীন আমাদের কবিতা। শিল্পকে তো আমি গৌন চোখে দেখি। অপ্রয়োজনীয় বোধ করি।
মুজিব মেহদী বলেছেন:
খুব কঠিন কঠিন কথাবার্তা। কবিতা বিষয়ে কথা কবিতার চেয়েও বেশি রহস্যময় হয়ে যাওয়াটা একটা মুশকিলের ব্যাপার বলে মনে হয় আমার।'আলোহীন অন্ধকারহীন বল-বীর্যহীন শাশ্বতের উচ্চাশাহীন বিজ্ঞানহীন শূন্যআরএককহীন মিথহীন সময়হীন আশাহীন ব্যাপ্তিহীন স্পেসহীন মাত্রহীন মুখহীন ভূগোলহীন অতীবর্তভবিষ্যহীন এক দশ দিগন্তের দিকে তার যে নতুন আবাস, বসত বাড়ি সেখানে ভাবি জন্মের পাঠক খুঁজে পাবে শব্দ মুখোস, নতুন ভূবন-দীক্ষা।'
প্রত্যাশা হিসেবে এটা জম্পেশ। এরকম যদি আসলে হতো আমাদের কবিতা, তো সেটা নতুন একটা জিনিস হতো বটে। কিন্তু এ সমস্তহীন কবিতা নামধেয় কোনো রচনা সৃজন করা কি আসলেই কখনো সম্ভব কিনা সে নিয়েই আমার বিস্তর সন্দেহ রয়েছে।
আপনারা যারা শূন্য দশকে কবিতা লিখতে এসেছেন, তাদের অনেকেরই শিল্পপ্রতিভা বিষয়ে আমার উচ্চ ধারণা আছে। শিল্পোত্তীর্ণ ও অনেকাংশে নতুন কবিতাই হচ্ছে আপনাদের হাতে। বাংলা কবিতার জন্য সেটা শুভবার্তা। কিন্তু সত্যি বলতে কি, সেসবে এখানে যা যা বর্জনের স্বপ্ন দেখা হচ্ছে, অনিবার্যভাবেই তা তা জায়গা করে নিয়েছে। কিন্তু এতে ওসব কবিতার কোনো সমস্যা হয়েছে বলে মনে করি না আমি।
আমার বক্তব্য হচ্ছে ভালো জিনিসের ভালোত্ব প্রকাশে বিশেষণের ভার আরোপ করা হলো ভালোর ভালোত্ব খানিকটা প্রশ্নের মুখে পড়ে।
রুচির প্রশ্নে আরেকটা কথা। আপনারা রুচির শাসন থেকে কবিতাকে মুক্ত করতে চাইছেন। অথচ প্যারাডক্স হলো, আপনার এই চাওয়াটাও নিয়ন্ত্রণ করছে ও করবে ইন্ডিভিজুয়ালের রুচি। নয় কি?
লেখক বলেছেন: মুজিব ভাই,
আমার লেখায় কোন লক্ষ্য বা নির্দেশনা নাই। এবং কোন প্রকার ম্যাসেজ দেবার আর্তিও আমার মধ্যে নেই। আমি আসলে উন্মুক্ত কিছু বলতে চেয়েছি যা নানা ভাবে নানা দিকে যেতে পারে এবং নাও যেতে পারে। তবে এটাকে আমি বলবো না সম্ভাবনাময়। কারণ আমার কাছে অনেক কিছুই সমীত সম্ভাবনাময়। আমার লেখাটাও আমার কাছে তাই। ধনাত্মক এবং ঋনাত্মক আর শূন্যের সহঅবস্থান, সোজা কথায় আমার ত্রৈধ্য জ্ঞান লেখাটার মূল চাবি।
"প্রত্যাশা হিসেবে এটা জম্পেশ। এরকম যদি আসলে হতো আমাদের কবিতা, তো সেটা নতুন একটা জিনিস হতো বটে। কিন্তু এ সমস্তহীন কবিতা নামধেয় কোনো রচনা সৃজন করা কি আসলেই কখনো সম্ভব কিনা সে নিয়েই আমার বিস্তর সন্দেহ রয়েছে।"
সন্দেহ করা যেতেই পারে। লেখা যেতেও পারে আবার নাও যেতে পারে। আর যদি যায় তা অবশ্যই কবিতা হবে না। তা অন্য কিছু হবে। এই অন্য কিছুরই আমি প্রত্যাশা করি। আপনি যেমন প্রচুর ভালো কবিতা পড়েছেন আমি তেমন প্রচুর বাজে কবিতা পড়ছি। অনেক সময ক্লান্ত লাগে আমারও।
হ্যাঁ, ভালোত্ব বা মন্দত্ব আর এই প্রসঙ্গে বলতে পারি এটা তো রুচির শাসন, যে কথা আমি বলতে চাচ্ছি; রুচির শাসন ভাঙা জরুরী। আসলে ভালো বা মন্দ বলে কিছু আছে ? যাদের কাছে থাকে তারাতো আমাদের এই অতিপ্রতিকল্পনার কবিতা নিতে পারবে না। পারার কথাও নয়। সব কিছু, সব সংজ্ঞাকে নতুন করে দাড় করাতে হবে। এই অর্ধজ্ঞানের আমার যাতনাময় পৃথিবী অর্ধেক বলে ঘোষিত হোক।
"প্যারাডক্স " এই শব্দ আর এর মানে অর্ধজ্ঞানময় যে জ্ঞানকাণ্ডের পৃথিবীর কথা আমি বলছি সেখানে এর কোন অস্তিত্ত্ব নেই। আবিস্কৃত কোন তত্ত্ব সূত্র মত মতার্দশের বাইরে থেকে একে দেখলে ভালো হয়। আমি নতুন কিছু খুঁজছি, এই অনুসন্ধান যাত্রায় আমার সঙ্গী হয়তো একটা খোড়া পায়ের ঘোড়া তবে তা উড়তে পারে। আমার ভাবনা যেখানে পৌচ্ছায় সেখানে পৃথিবীর মৌল সূত্র অচল, কোন মধ্যাকর্ষণ নেই। সেখানে আলোর গতি বাতাসের গতির মত ধীর এবং আলো ভরে লাল নীল বেলুন ওড়ানো যায় জলডোবা এক ভূগোলকে।
কালপুরুষ বলেছেন:
সময় নিয়ে পড়বো। মনে হলো কঠিন কঠিন কিছু কথাবার্তা আছে, সময় নিয়ে না পড়লে বুঝতে পারবো না।
লেখক বলেছেন: সময় কি হবে?
হলে মতামত জানাইয়েন।
'আমরা আসলে আকাশের নিচে দাঁড়াতে চাই।'
মৃদুল মাহবুব, আপনার এই আকাঙ্খাটা মনে হচ্ছে, 'ট্রাভেলিং ফাসটার দ্যান লাইট স্পিড' এর মতো অসম্ভব একটি আকাঙ্খা।
আকাশের নীচে পৃথিবীর সারফেইসে দাঁড়িয়ে আছেন আপনি। আর এই সারফেইস জুড়ে আছে, মানে আপনি ডুবে আছেন পরিবেশমন্ডলের ভেতর।
লেখক বলেছেন: আমি সীমাবদ্ধতার সীমানা খুঁজছি। কি সম্ভব আর কি সম্ভব না, সে কথা বললেতো আর কোন কথা আগাইতে পারে না।
আমাদের যুক্তি ভুয়োদর্শনের বিশ্বকে অর্ধেক উন্মোচিত করে। অদৃশ্যের যুক্তিহীন অপর অর্ধেক বিশ্ব, বাকি অর্ধেক অর্ধজ্ঞান সীমিত প্রযুক্তি আর এক রৈখিক মানব বিদ্যার সোনার স্রোতের নিচে হীরের কাদায় আটকে আছে।
আপনার উত্তর দেযাই আছে। আর আমি কোথায় আছি তো যেভাবে আপনি বুঝে থাকেন। আমার থাকা না থাকায় কি বা আসে যায়।
'রুচির প্রশ্নে আরেকটা কথা। আপনারা রুচির শাসন থেকে কবিতাকে মুক্ত করতে চাইছেন। অথচ প্যারাডক্স হলো, আপনার এই চাওয়াটাও নিয়ন্ত্রণ করছে ও করবে ইন্ডিভিজুয়ালের রুচি। '
দারুন দারুন দারুন বলেছেন মুজিব মেহেদী ভাই!!!!!!!!!
লেখক বলেছেন: বোধ হয় দারুণ।
"প্যারাডক্স " এই শব্দ আর এর মানে অর্ধজ্ঞানময় যে জ্ঞানকাণ্ডের পৃথিবীর কথা আমি বলছি সেখানে এর কোন অস্তিত্ত্ব নেই। আবিস্কৃত কোন তত্ত্ব সূত্র মত মতার্দশের বাইরে থেকে একে দেখলে ভালো হয়। আমি নতুন কিছু খুঁজছি, এই অনুসন্ধান যাত্রায় আমার সঙ্গী হয়তো একটা খোড়া পায়ের ঘোড়া তবে তা উড়তে পারে। আমার ভাবনা যেখানে পৌচ্ছায় সেখানে পৃথিবীর মৌল সূত্র অচল, কোন মধ্যাকর্ষণ নেই। সেখানে আলোর গতি বাতাসের গতির মত ধীর এবং আলো ভরে লাল নীল বেলুন ওড়ানো যায় জলডোবা এক ভূগোলকে।
আপনার জন্য আরও একটা লেখা। আগে লিখেছিলাম। আর একটু পরিস্কার হবে যে আমি কি বোঝাতে চাই।
প্রার্থনা, চিরবৈশ্বিক অন্ধকার
'আমার থাকা না থাকায় কি বা আসে যায়।'
এই কথায় অনেক বেদনা ঢুকিয়ে দিলেন কবি!!!
আরে এসব আলোচনা করা আর কি। কার সাধ্য এবসলিউট ধরে।
মাইন্ড করলেন মনে হলো? প্লিজ টেক ইট ইজিলি।
ভালো থাকুন। কবিরা সুন্দরের পুজারী। আপনার মতো কবির দরকার আছে।
লেখক বলেছেন: আমি মাইন্ড করি না সহজে। আলোচনা হোক। আমি আমার জায়গা পরিস্কার করার চেষ্টা করেছি। আপনি আপনারটা বলেছেন। সবাই সবার জায়গায় ঠিক হয়তো বা। যাই হোক আমরা কিছু না কিছু তো পেয়েইছি আলোচনা থেকে। এটা কম কি?
ভালো থাকুন।
এই পোস্ট ও কমেন্ট থেকে একটি লেখা তৈরীর প্রেরণা বোধ করছি। লিখে ফেলবো কিছু দিনের মধ্যেই।
লেখক বলেছেন: সেই লেখার অপেক্ষায় রইলাম। আপনাকে সাধুবাদ।
সবুজ আরেফিন বলেছেন:
আর যাই হোক এখন পর্যন্ত পরম কোনো কিছুকে ধরা একজন মানুষের পক্ষে সম্ভব না। অথবা সম্ভবও হতে পারে। সেটা মুলত সম্ভাবনার কথা। কেউ একজন যদি তার শরীরের এবং আত্মার ভিতরে যা যা ঘটছে তার সবই একমুহূর্তে জানতে বা বুঝতে পারে তাহলেই মনে হয় সে তার মৃত্যুকে একটা গন্তব্য দান করতে পারে অথবা বলা যায় মৃত্যুকে ঠেকিয়েও দিতে পারে। এটাও অবশ্য সম্ভাবনার কথা। এর থেকে বেশী কিছুও হতে পারে, যা হয়তো আমরা চিন্তাও করতে পারছি না।
লেখক বলেছেন: সবুজ,
অসীম সম্ভাব্যতা বলে কিছু নেই। সব সম্ভাব্যতার যোগফল মাত্র এক। পথ সীমিত, পথিক অনেক।
তারিক টুকু বলেছেন:
@ মুজিব ভাই: 'আপনারা রুচির শাসন থেকে কবিতাকে মুক্ত করতে চাইছেন। অথচ প্যারাডক্স হলো, আপনার এই চাওয়াটাও নিয়ন্ত্রণ করছে ও করবে ইন্ডিভিজুয়ালের রুচি।'
এই কথাটাই আমি বোঝাতে চেয়েছিলাম; সারোয়ার ভাই- এর 'রুচি কখনো কখনো শিল্পের শাসক হয়, সব সময় হয় না।'- এর উত্তরে। যাক, উনি আপনাকে আপনার মন্তব্য-র জন্য ধন্যবাদ দিলেন মানে প্রকারান্তরে আমাদের কথাই বললেন। তার এ সরে আসার জন্য নয়, তার সৎ মন্তব্য-র জন্য তাঁকে ধন্যবাদ।
আপনি বলছেন:
'আপনারা যারা শূন্য দশকে কবিতা লিখতে এসেছেন, তাদের অনেকেরই শিল্পপ্রতিভা বিষয়ে আমার উচ্চ ধারণা আছে। শিল্পোত্তীর্ণ ও অনেকাংশে নতুন কবিতাই হচ্ছে আপনাদের হাতে। বাংলা কবিতার জন্য সেটা শুভবার্তা। কিন্তু সত্যি বলতে কি, সেসবে এখানে যা যা বর্জনের স্বপ্ন দেখা হচ্ছে, অনিবার্যভাবেই তা তা জায়গা করে নিয়েছে। কিন্তু এতে ওসব কবিতার কোনো সমস্যা হয়েছে বলে মনে করি না আমি।'
আমি আপনাকে সর্বোচ্চ সম্মান করে এ কথার সাথে একটু দ্বিমত করতে চাই। আমার মনে হয়, ওসব কবিতায় 'সমস্যা' হয়। কেননা, বোধহয় আমরা কবিতাকে শুধু টেস্টের জায়গা থেকে দেখি না। এর শাখাপ্রশাখাগত উৎকর্ষ খুঁজি। একটা উদাহরণ দেই, কিছুদিন আগে আমার এক বন্ধু তরুণ কবি জুয়েল মুস্তাফিজ এর একটা পাণ্ডুলিপি পড়া হলো। আমার ভালো ও লাগলো। কিন্তু ঐ ভালো লাগার পাশাপাশি আমি যখন বল্লাম, এতে অনেক অতিকথন আছে, ৮ ইঞ্চি কবিতাকে কেটে, সংহত করে ১.৫ ইঞ্চি করা যায়; তখন অনেকের ভালো লাগলো না। যাক, এই কথা খোদ জুয়েলের ও ভালো না লাগলে আমার কিছু করার নাই। কেননা, আমি যখন বলব অমুকের কবিতা আমার ভালো লেগেছে, তখন আমি টেস্টের জায়গা থেকে বলবো, আর সংহতির কথা যখন বলবো, তখন পারফেকশন এর পয়েন্ট থেকে বলবো। এবং পারফেশন এর পয়েন্ট অব ভিউ থেকে এটা আনকম্প্রোমাইজাবল। তাই বল্লাম আমার 'সমস্যা' আছে।
এবার মৃদুল যেটা বলতে চেয়েছে সে কথায় আসি, মৃদুল বোধহয় কবিতাটাকে ক্লাসিকাল মিউজিক থেকে দেখতে চেয়েছে, যেখানে কথা নেই কিন্তু একটা ম্যামথ জগৎ আছে। আমার মনে হয় এ কারণেই ও সব 'কথা'কে অস্বীকার করতে চায়। ও বোধহয় কথাহীনতার একটা কেমিস্ট্রি তৈরী করতে চায়।
আমরা বহু কিছু জানি না। যেমন জানি না, কবিতার কেমিস্ট্রিটা কীভাবে তৈরী হয়। মৃদুল ও জানে না। কিন্তু ও একটা দিক ধরতে চেয়েছে।
এই আর কী!
লেখক বলেছেন: " জানি না। " এই কথার ভেতর যতটুকু না জানার পরিমাপ, তার থেকেও আরো বেশি না জানা আমার। এই আরো বেশি টাই অর্থপূর্ণ, তাৎপর্যময় আমার কাছে।
ক্লাসিকাল মিউজিক? হতে পারে। এটা ছাড়া আমার জীবন অচল। তাইকি এপিকের কথা বলছি? জানি নারে, বোঝা যায় নারে।
জুয়েল মোস্তাফিজের কবিতা নিয়ে লিখবো। ইচ্ছা আছে। অতি কথনের বাইরে আরো একটা ব্যাপার আছে যা আমাকে ভাবিয়েছিলো, সেটা হয়তো বিশৃঙ্খলার শব্দ শৃঙ্খলা, সোজা কথা ম্যাডনেস। এই অতি কথনের উপরইতো দাড়িয়ে আছে জুয়েলের '' জুয়ার আসরের কোন আঙুলই মিথ্যা নয়''। এটা কে ভিন্নতর একটা স্থান দেওয়া যায় কি? সে উত্তর ব্যক্তিভেদে নানা রকম হতে পারে। তখন না হয় আলোচনা করা যাবে। টেক্সটা মূখ্য, ব্যক্তি জুয়েল কেউ নয় আমার কাছে। তবে তোর মত গ্রহন করার মত এবং ভেবে দেখার মত সক্ষমতা আমার আছে মনে হয়। পরে এ বিষয়ে আলোচনা হবে।
মুয়ীয মাহফুজ বলেছেন:
আপনার আলোচনা সাহিত্য হিসেবে উৎকর্ষ বটে তবে আমি এখানে সাবধানী কিচু পদক্ষেপ দেখি যা আসলে কোনো কিছু বলতে গিয়েও শেষমেষ না বলে শেষ করা হয়।তাই আমীমাংসাকেই চুরান্ত ধরে নিয়ে প্রাত্যহিক নিজের বিষয়কে অস্বীকার করা ও অগ্গেয়বাদকে নিয়তি হিসেবে দেখতে পাই যা মুখরোচক নিঃসন্দেহে।কবিতা আজ এক ভিন্ন প্রশ্ন হয়ে দেখা দেয় আমার কাছে। বিগত কবিতার সরল রেখার বিপরীতে আমাদের এই 'প্রান্ত-আধুনিক' ত্রিমাত্রিক কবিতা সলিডের জ্যামিতি বেশ ভিন্ন। এরা পরস্পরকে যে বিন্দুতে ছেদ করে তা বোধ হয় দ্বন্দ্ব-বিন্দু। তাহলেতো কমন ফ্যাক্টর থাকার কথা এই দুই ভাষা বিশ্বের দু'জাতীয় কবিতায় যেহেতু তার পরস্পর কে সঙ্গী করে, ছেদ করে। কি এই ভিন্নতা? ভিন্নতা বেশ প্রখর, চৈত্র দিনের সূর্য তাপের মত ........।
গাণিতিক হিসেব মোটাবেক বাস্তবের সাথে মিলিত করে পাঠককে ঘাবরে দেয়া ও শেষমেষ শক্তিশালী ভংগিতে কথিত নতুন মতবাদ বা নতুন সাহিত্য সৃস্টির প্রচুর বাসনা করা।অথচ এসব সাহিত্যভিত্তিক আন্দোলন ও বুদ্ধিবৃত্তিক ইজমসমুহ হারিয়ে যা কিছুদিন পরেই কারণ এগুলোর সাথে আমাদের জিবনের কোনো মিল নেই।উত্তর উপনিবেশবাদে প্রভাবিত হয়ে ও না হয়েও আমাদের এখনে নতুন নতুন কত মতবাদের তলানীর আমদানী হয়,হারিয়েও যায় সহজেই।কারণ চর্চিত চর্চা বহন করে কিছুই।
আমার মনে হলো এ লেখাটি আপনার প্রার্থনা,চিরবৈশ্বিক অন্ধকারের কিছু অংশ যেন পুনরায় দিয়ে দিলেন।
তবে এমত সাহিত্য যদি আপনার কাম্য হয়,তবে বলতে হয় যে কিছুদিন পরে কবিতা নামক শব্দটি বিলুপ্ত হয়ে যাবে এবং পাঠকেরা বলবেও না যে কবিতা গল্প বা সাহিত্য পড়লাম।বলবে একটা কিছু পড়লাম যা লেখক শ্রেণীকরণ করা পছন্দ করেন না কিন্তু এও ভাবেন যে সেটা বোধগত জায়গায় কবিতার কাছাকাছি।কেননা একটা নতুন স্টাইল কখনো কারো একার থাকেনা বরং আপনি একাই একটা পথের আবিস্কর্তা এটা কখনো সম্ভব নয়।আমাদের সব আবিস্কারই শেকলের মতো পরস্পর সংযুক্ত।আপনার স্টাইল মানে আপনার সময়কে অস্বিকার করে নয়ই বরং তাকেই ধারণ করে।
তবে আমি আপনার সাথে বিভিন্ন বিষয়ে একমত নই একেবারেই,সেটা আরেকদিন হবে......
লেখক বলেছেন: মুয়ীয,
এতো আপনি আমার লেখার স্টাইলটার সমালোচনা করলেন। লেখাটা আলাদা না গতানুগতিক সে বিষয়ে লেখকের মাথা ব্যথা না থাকাই ভালো। আমারও নেই এই 'মুখরোচক' লেখাটি লিখে।
আর লেখাটা আর একবার পড়বেন প্লিজ, না হলে লেখক হিসাবে আমার আর পাঠক হিসাবে আপনার কিছু অপূর্ণতা এবং অমীমাংসা থেকে যাবে। সাহিত্য আন্দোলন বা ইজম এসমস্তকে আমি কি চোখে দেখি তা একটু ভালো করে দেখবেন। সরাসরি না থাকলেও, এর মধ্যে ওই সমস্ত আবিস্কৃত সত্যভাবকে, তত্ত্ব-সভ্যতাকে নাকচ করেছি আমি। না দেখে থাকলে বা চোখের আড়াল হলে আপনি তা সম্পর্কে, এই লেখার উদ্দেশ্যে এমন কথা বলতেই পারেন। কোন নতুন ইজম ছড়ালোর মত বাসনা নেই ভাই।
,"এমত সাহিত্য যদি আপনার কাম্য হয়,তবে বলতে হয় যে কিছুদিন পরে কবিতা নামক শব্দটি বিলুপ্ত হয়ে যাবে " এই কথা আমার লেখার প্রেক্ষিতে ব্যাখা করলে ভালো হয়। আমি আপনার কথা বুঝতে পারলাম না। ব্যর্থতা আমার । সেই ব্যর্থতাকে আর একটু চোখে আঙুল লাগিয়ে দেখাবেন নিশ্চয়ই। আর কবিতা বিলুপ্ত হলেই বা সমস্যা কোথায়? কবিতার বিবর্তন কে যদি বিলুপ্ত জ্ঞান করেন তাইলে তো মহা সমস্যা হয়ে যাবে। আর একটা কথা কিছু কিছু পাঠকের কাছে কবিতা অলরেডি বিলুপ্ত হয়ে গেছে। এদের কে কিন্তু দোষ দেওয়া যাবে না। কেননা তারা বিবর্তনে বিশ্বাসী না। ফলে আমার আপনার কবিতা একদিন হয়তো কোন কবিতাই থাকবে না। আমি লিখেছি এই কারণে কি গায়ের জোরে তাকে আজীবন কবিতা হিসাবে থেকে যেতে হবে? কবিতার মৃত্যু হয়। হলে কি এমন আসে যায়? মানব সমাজ সৃষ্টির শুরুতে যেমন কবিতা বা শিল্প ছিলো না তেমনি পৃথিবী ধ্বংসের সময় হয়তো কবিতা থাকবে না। এই পৃথিবী যে বিচ্ছিন্নতার দিকে যাচ্ছে দিন দিন সেখানে কবিতা বা শিল্পের কোন মানে থাববে না হয়তো। যুথবদ্ধ সমাজে শিল্পের বিকাশ ঘটে। সমাজ শুরুতে কি শিল্প ছিলো, নাকি এই কবিতা ছিলো? আর পৃথিবীর শেষের দিকে আমাদের এই শিল্প নামক বা কবিতা নামক শব্দ শয়তানি থাকবে না নিশ্চয়ই। এভাবে বলা যায় যেদিন পৃথিবীতে কোন কবি থাকবে না, কবিতা থাকবে না সেদিন পুথিবীর ধ্বংস হবে। তাহলে আদি সমাজ টিকে ছিলো কিভাবে। কবি ছাড়াই তারা বেশ ছিলো, জীবন যাপনে কোন বাধাই দেখা যায় নি। সমস্তের বিকাশ ঘটেছে। কবিতা থাকলেও আমরা আছি না থাকলেও আমরা ছিলাম। বেশ।
আপনার দ্বিমত আমার বরং ভালো লাগবে। আমার লেখার স্টাইলের আলোচরা নির্থক লাগছে। আপনার দ্বিমতের আশায় রইলাম। ভালো থাকবেন।
মিরাজ বলেছেন:
কবি/লেখকের সৃষ্টি শিল্পের রুচি তৈরী করে নাকি শিল্পের রুচি কবি/লেখকের সৃষ্টিকে পথ দেখায়/শাসন করে । আমিতো মনে করি কবি/লেখকের সৃষ্টির স্বাধীনতা সকল সময়েই আছে আর সেই সৃষ্টিই শিল্পের রুচিবোধ তৈরী করে । সংস্কৃতিভেদে, সময়ভেদে এই রুচিবোধে পার্থক্য থাকে কিন্তু শিল্পের রুচিবোধ কবি/লেখকের সৃষ্টিকে খুব কমই শাসন করতে পারে । যদি তাই করতে পারতো তাহলে কবিতার এত বিবর্তন হতোনা বা সংস্কৃতির স্বরূপটা একই থাকতো ।
বিশ্বসাহিত্যের ক্রমবিবর্তন কি তাই বলে?
লেখক বলেছেন: শিল্পীর স্বাধীনতা আছে বই কি। তবে আমাদের আবিস্কৃত শিল্পবোধে, জ্ঞানকাণ্ড, বিজ্ঞান, বাস্তবতা আর কল্পনা সম্পর্কির্ মূল্যায়ন গুলোর পুনঃমূল্যায়ন দরকার। সব কেমন যেনো থেমে আছে মাঝে মাঝে মনে হয়। এই প্রচেষ্টাই লেখাটা। তবে অনেকে ভুল বুঝলো। যে নির্লিপ্ততার কথা বলছি, সেই শীতলতা থেকে লেখাটা পড়তে হবে।
এসময়ে আসলে নতুন কিছু তৈরি থেকে এক্সটেনশন বা রিফর্মেশনের দিকে ঝোক বোধ হয় বেশি। এই রিফর্মেশন আর রেজারেকশন যাই বলেন না কেন এর থেকে জন্ম নবসৃজন প্রত্যাশা করি।
বিশ্বসাহিত্যের ক্রমবিবর্তন ? একটা প্রশ্ন বটে আমার আছে। এই ইতিহাস নতুন করে লিখে দেখালো দরকার কিভাবে আমরা চর্চা করে চলেছি রিফর্মেশনের। আরও একটু পড়ে উঠতে পারলে এবিষয়ে লিখবো। ভালো থাকবেন।
তারিক টুকু বলেছেন:
@মৃদুল: জুয়েলের কবিতাগুলো নিয়ে কথা হচ্ছিল, 'ব্যক্তি জুয়েল' কোত্থোকে এলো বুঝলাম না। আশাকরি এই ধরনের বিভ্রমে আর পড়বি না। ব্যক্তি জুয়েলকে দেখে আমি ওর কবিতাগুলোকে নিয়ে সম্পূর্ণ পজিটিভ বললে বোধহয় আমি লাভবান হতাম সবচেয়ে বেশি। তাই এ ধরনের কথা, দোস্ত, যে কোনো ফোরামে একেবারেই অবান্তর।
'অতি কথনের বাইরে আরো একটা ব্যাপার আছে যা আমাকে ভাবিয়েছিলো, সেটা হয়তো বিশৃঙ্খলার শব্দ শৃঙ্খলা, সোজা কথা ম্যাডনেস। এই অতি কথনের উপরইতো দাড়িয়ে আছে জুয়েলের '' জুয়ার আসরের কোন আঙুলই মিথ্যা নয়''। '- তুই লিখেছিস।
আমার কাছে এটাকে একটা ইম্পসিবল পারসেপশন বলে মনে হয়েছে। হ্যা, এটা সত্য জুয়েলের কবিতায় কিচু কিছু পংক্তি আমাদের স্পর্শ করে যায়। কিন্তু যেটা ম্যাডনেস, তার অব্যশই গভীরতা + সংহতি থাকতে হয়। সে আমাদের জাগ্রত জগতে রেখেও সে জগতের আরেক স্তরে নিয়ে যেতে পারে। আমি দুঃখিত, আমি জুয়েলের পান্ডুলিপি পড়ে এমন একটি উদাহরণও পাইনি যা আমাদের টেনে বোধের আরেক স্তরে নিয়ে যেতে পারে।
ম্যাডনেস ও অতিকথন পরস্পর বিরোধী, মৃদুল। এ দুইটাকে দিয়ে খিচুড়ি পাকানো অসম্ভব। কবিতায় এদের সহাবস্থান অকল্পনীয়। কেননা, ম্যাডনেস এর কাজই হলো চিহ্ন তৈরী করা। এই চিহ্নের মধ্য দিয়ে পাঠককে এমন একটা জার্নি দিয়ে দেয়া, যাতে সে একটা নতুন জগৎ দেখতে পায়। যেমন: পূরী সিরিজ। ম্যাড কিন্তু অতিকথনে ভরপুর, এমন একটা গ্রহণযোগ্য কাব্যগ্রন্থের উদাহরণ তুই নিজেকে দেখাতে পারবি না।
কিন্তু যেটা অতিকথন, সেটায় লেখক পাঠককে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে নিজের অবলোকনবিন্দুতে নিয়ে যান। পাঠকের উপর নিজের দৃষ্টিটা তিনি চাপিয়ে দেবেনই। কিন্তু ভাল লেখক কোনোদিন এটা করেন না, নিজের ডার্কফোর্সটাকে পাঠকের সামনে তুলে দেন না। যেমন করে না একটি গোলাপ; সে তার ফুটে ওঠার কেমিস্ট্রিটা কাউকে দেখায় না। অতিকথন চিহ্ন তৈরী করে না তার বদলে লেখকের নানারকম খায়েশ (লেখার মাধ্যমে) পূরণ করে থাকে।
আশাকরি, অতিকথনকে ম্যাডনেস বলে চালিয়ে দেয়ার যে স্থুল মিডিওক্রিটি চলছে, চলবে; তার প্রচারনার দায় থেকে নিজেকে মুক্ত রাখবি।
তোর মঙ্গল হোক।
লেখক বলেছেন: টুকু
সে যাই হোক আজকের আলোচনার বিষয় নিশ্চয়ই জুয়েলের কবিতা নয়। তুই তুলেছিস যখন দুটো কথা বলেছি। এ বিষয়ে আমি লিখলে আলোচনা হবে। এই আলোচনা এখানে অবান্তর, অপ্রাসঙ্গিক লাগছে। "পুরী সিরিজ'' কে কি কবিতা পরিমিতির একমাত্র স্কেল ধরবি কিনা জানি না? আমাদের বেরিয়ে যাবার দায় থাকা উচিত। যাহোক সে অন্য কথা। আর আমি কাকে কবিতা বলি আর কাকে না সেটা বোধ হয় তোর ভালো জানার কথা। তাহলে যে কোন লেখাকেই কি তুই প্রচারণা বলবি? যদি বলিস তবে আয়নায় নিজের মুখ দেখা ছাড়াতো আর কিছু করার নেই। এই অতিমাত্রায় আত্মমুখ দর্শনকে কি মিডিওক্রিসি বলা য়ায় না টুকু?
তারিক টুকু বলেছেন:
@মৃদুল: তোর উত্তর দেখে আমার খুব হাসি পাচ্ছে। তবু তোকে মনে করিয়ে দেয়ার জন্য কয়েকটা কথা বলা জরুরী:
১.মুজিব মেহদীকে দেয়া উত্তরে জুয়েলের কথা আমি তুলেছিলাম পারফেকশন প্রসঙ্গে, সেখান থেকে তাকে টেনে তুই এনেছিস। আমি নই। তাই যদি অবান্তর লেগে থাকে সেটাতো তুই নিজেকে বলবি, আমাকে নয়।
২.না মৃদুল, তুই কেন রণজিৎ দাশ লিখলেও অন্তত আমার দিক থেকে আলোচনা হবে না। এই সব প্রমোশনাল রাইটিং এর আগে অনেক হয়েছে। যেমন: উৎপল শামীম রেজাকে নিয়ে লিখেছেন, দেবেশ রায় সালমা বানু কে নিয়ে লিখেেছন। মুজিব মেহদীর কথার উত্তর দিতে গিয়ে আমি ওর কথা বলেছিলাম, এর বাইরে কিছু নয়, এর বেশি কিছু নয়।
৩.পুরী সিরিজকে স্কেল ধরলাম তোকে কে বললো? ওটাতো ছিল একটা উদাহরণ। লেখাতো পুরোটা পড়তে হয় দোস্ত।তার আগে মন্তব্য করতে নেই।
৪.আয়নায় যে আমি আত্মমুখ শুধু দর্শন করিনা সেটা তুই জানিস। কাল এক কবির পান্ডুলিপি ১৩০ জনের কাছে পাঠালাম। যার মধ্যে তুই একজন। তাকে নিয়ে কিচুক্ষনের মধ্যে আমার ব্লগে লিখবো। এমন আমি বহু করেছি। শুন্য দশকের কবিতা নিয়ে ৮/১০টা পত্রিকায় লিখেছে আমি, যেটা আর কেউই করেনি। হ্যা, একটা কথা, সেখানে কবিতা নির্বাচনে আমি আমার মতো করে ভেবেছি। এসব যদি আত্মমুখ দর্শণের উদাহরণ হয়, তবে মঙ্গল। আর একটা কথা, আমি সবিনয়ে বলি,কারো কাছ থেকে আমার মিডিওক্রিসি কি জিনিস সেটা শেখার কোনো দরকার আছে বলে মনে করি না। আমি এ শহরে এসে শুধু লিখতে চেয়ে যে পরিমাণ মানুষকে শত্রু বানিয়েছি, যতটা পোড় খেয়েছি শুধু এই মিডিওকারদের সামলাতে গিয়ে তা আমার বয়সের আর কারো অভিজ্ঞতায় ঘটেছে বলে মনে হয় না। তারপরও, নিজেকে আমি রাজহাস বা কুনোব্যাঙ বলিনি।
৫. কোনটা প্রচারণা আর কোনটা প্রচারণা নয়,সেটা তুই না বুঝতে পারলে মিডিওক্রিসি কী সেটাও বুঝবি না। আমাকে জিজ্ঞাসা করার দরকার নেই, আগে তোর বুঝ তৈরী হোক।
তারপর কথা হবে, কেমন?
লেখক বলেছেন: তর্কটা একটা কুতর্কের দিকে চলে গেল। অপ্রয়োজনীয় কথায় তোর পারদর্শিতা বাড়ছে।
১.উৎপল বা দেবেশ কে কার উপর কি লিখলো তাতে আমার কিছু আসে যায় না। এতে বুকের ভেতর ব্যথা অনুভব হবার কিছু নেই। তোরও নিশ্চয়ই ব্যথা লাগে না, অভিমার জন্মে না।
২. আয়নায় মানুষ যখন মুখ দেখে তখন আয়নায় শুধু নিজের ছবি থাকে না তার আশে পাশে আরও মুখ ছাড়াও আরও কিছু থাকে যার প্রেক্ষিতে নিজের অবস্থান বা অপরের অবস্থান বোঝা যায়।
৩. ৮/১০ টা পত্রিকায় তুই লিখেছিস মানি। তবে তাকে চুড়ান্ত বিন্দু হিসাবে মনে করার কিছু নাই। এই জাতীয় আলোচনা করতে হয় তাই সবাই করে থাকে। উদাহরণ হিসাবে উৎপল আর দেবেশ এর নাম তো আগেই করেছিস। অনেকেই এমন লিখছে। নাম শুনবি নাকি? সে লেখা তুই দেখে থাকিস নিশ্চয়ই। এমত সাহিত্য আলোচনা সমালোচনা বহুত হলোরে।
৪. দ্য ট্রুথ ইজ আউট দেয়ার।
তোর উত্তরের পর তো আর উত্তরের দরকার নাই। উত্তরটা দারুন হইছে, সর্বজনীন হইছে। তোর কথা তোকেই দিলাম, ''কোনটা প্রচারণা আর কোনটা প্রচারণা নয়,সেটা তুই না বুঝতে পারলে মিডিওক্রিসি কী সেটাও বুঝবি না। আমাকে জিজ্ঞাসা করার দরকার নেই, আগে তোর বুঝ তৈরী হোক।''
ধন্যবাদ। আর একটা উত্তরের দরকার নাই দোস্ত। সে কথা গোপনেই থাক। আয় আমরা মনে মনে হাসি।
সবুজ আরেফিন বলেছেন:
তোদের মধুর দ্বন্দ্বটা ভালোই উপভোগ করছিলাম। বন্ধ করলি কেন?
লেখক বলেছেন: কুতর্ক আর পোষালো না আমার । তাই অফ গেছি কিছু কিছু বিষয়ে। অফ টপিক নিয়া কথা বলতে চাচ্ছিনা আর। মাত্র কবিতা আর আমাদের রুচির শাসন নিয়া আলাচনা করার বাসনা ছিলো। আমি কে বা তুমি কে বা তোমরা কি এই আলোচনায় এবং এই সম্পর্কিত তত্ত্ব প্রমান উপাত্ত নিয়া টানা হেসড়া করে লাভ নাই, বস।
তোর কি অবস্থা?
মুয়ীয মাহফুজ বলেছেন:
@মৃদুল,আমি আপনার সমালচনা বা আহত করার উদ্দেশ্য নিয়ে এসব বলিনি,আমরা একটা বস্তুনিস্ঠ আলোচনায় না গিয়ে হয় প্রশংশা না হয় অন্য বিষয়ে আলোচনার মোড় ঘুরিয়ে দেই।আমরা আমাদের প্যারালাল জগৎটি আছে একথাটা যেমন জানি তেমনি তাকে নাগালে পেতে ও দেখতে পারি না এ কথাটিও সমান সত্য।
দুর!লেখার স্টাইল নিয়েই তো ইজম বেশি মাথা ঘামায়।সেটা আপনার প্রসংগে নয় ইজমের প্রসংগে বলেছি।যেমন ক্লাসিক রীতিতে যেমন ছন্দরীতি,মডার্ণ পিরিয়ডে গদ্যর উত্থান ইত্যাদি।অথবা প্রতিস্ঠানবিরোধীদের গল্পে সমস্ত রীতি অস্বীকার করার প্রবণতা দেখা যায়।
দেখার বিষয়টি হচ্ছে ইজমের উত্থানের সাথে সাথে পৃথিবীতে কবিতার বিষয় বাড়েও না কমেও না।কি পরিবর্তন হয়?বড়জোড় স্টাইলটা,আর সাথে থাকে একটা গালভরা ইশতেহার।
"উত্তর উপনিবেশবাদে প্রভাবিত হয়ে ও না হয়েও আমাদের এখনে নতুন নতুন কত মতবাদের তলানীর আমদানী হয়,হারিয়েও যায় সহজেই।কারণ চর্চিত চর্চা বহন করে কিছুই।"
বা
"আপনার আলোচনা সাহিত্য হিসেবে উৎকর্ষ বটে তবে আমি এখানে সাবধানী কিচু পদক্ষেপ দেখি যা আসলে কোনো কিছু বলতে গিয়েও শেষমেষ না বলে শেষ করা হয়।তাই আমীমাংসাকেই চুরান্ত ধরে নিয়ে প্রাত্যহিক নিজের বিষয়কে অস্বীকার করা ও অগ্গেয়বাদকে নিয়তি হিসেবে দেখতে পাই যা মুখরোচক নিঃসন্দেহে।"-এখানে আপনার স্টাইলের সমালোচনা কোথায় পেলেন?এখনে আপনার যেসব প্রবণতা ধরা পড়ে সেইটা বললাম।
আমার মতে সকল অস্বীকারই মুখরোচক।আমাদের সরলরৈখিক জগতে আমরা ঢেউ ও ভাংগন ভালোবাসি বলেই অস্বীকারের স্বীকৃতি দেই কিয়ৎকাল পরে,তবে তা সাথে সাথেই নয়।
আচ্ছা একমত নই এমন কিছু বিষয় বলা যাক,
এর কোন দৃশ্যমানতা নেই। সে থাকে অসীমে বা অতিগভীর গভীরতায়। এটা বস্তুর সারবত্তা। শিল্পো হলো বস্তুর অদৃশ্য আত্মা, তার মননশীলতা। সে থাকে খুব গভীরে বা অসীমে ধ্রুপদি সংগীতের মত সে থাকে মার্গীয় উচ্চতায়। পৃথিবীর সমস্ত বস্তু নিজ কম্পনে কম্পমান নিজ আত্মা সমে......আপনি যা এখানে বোঝালেন তা স্পস্ট নয়।আমি এর বিপরীতটিও বলতে পারি।আমি একথা যদি বলি যে শিল্প কোনো মার্গীয় উচ্চতায় তো নয়ই বরং তা মানুষের জৈবিক কাজগুলোর সাথেও সংশ্লিস্ট।আমি শিল্পকে কেবল বুদ্বিবৃত্তক বা আত্বিক জায়গায় রাখি না।আমার মনে হয় বস্তুর অধরা কোনো গুন কবিতা বা শিল্প তো নয়ই বরং তা মানুষের অফিসযাত্রা,শ্রমিকের ক্লান্তি,ক্ষিদে লাগার সাথেও যুক্ত।তবে কি কোনো ভুল হবে?
কবিতা আর কিছু বোঝানোর দায় রাখে না। আমি একে দেখি এক শব্দ আল্পনায় খচিত বিয়ে বাড়ি হিসাবে। যেখানে লাজুক অতিথি, যাকে কেউ চেনে না তিনি একা একা এই আল্পনা শিল্পের সাথে তার গোপন সময়টা কাটাবে........কবির কিছুটা আবেগীয় ছায়া এ উক্তিতে আমি পেয়ে থাকি।
অবোধ্য কবিতা তবে কি কোনো নির্দিস্ট গোস্ঠীর জন্য।সেই কবিতার পাঠকও তবে সীমিত হবে।মজার বিষয় হচ্ছে এ শ্রেণীর পাঠকের পছন্দ পরিবর্তনশীল এবং এরা খুব সহকেই সবকিছু ভুলে যায়।এবং এদের কাছে কবিতা বিলুপ্ত হওয়া সম্ভব।তাই আমি কবিতা বিলুপ্তির কথা বলেছি।যুগযুগ ধরে শ্রমজীবিদের সংস্কৃতিতে প্রাণ তবে এত বেশী কেন।কারণ হাল চষার সময় কৃষক যে গান গায়,কবিয়াল পথ হেটে যে কবিগান গায়,সেখানে ভুয়োমি নেই।কারণ নৌকা চালাতে গিয়ে মাঝির আসলেও গান না গাইলে তার শরীরে প্রাণশক্তি আসে না।
হ্যা কবিতার বিলুপ্তি হলে কি এমন হবে।তখনও রাখাল ছেলে মাটিতে লিখবে ছড়াগান।তখনও সুর্য বিলুপ্তি দেখে কোনো কবিয়াল লিখবে নতন কোনো.....আমি তখন সেই কবিয়াল হতে চাই।
লেখক বলেছেন: যাহোক ভালো কথা। কিছু বিষয় উপেক্ষা করে, সমস্ত ছাওয়াল জবাব বাদ দিয়ে মাত্র নিজের কিছু কথা বলি, তাহলে বোধ হয় আলোচনা অগ্রসর হবে। না হলে মাত্র কয়টা জায়গায় আমরা স্থির হয়ে যাবে।
আপনি যে ভাবে কবিতাকে দেখছেন তাতে কোন সমস্যা নেই। এই অবস্থান থেকে যে কবিতার জন্ম সম্ভব না সে কথা কখনওই বলবো না। সমস্ত কিছু সমস্তের উর্ধে কবি মস্তিস্ক নির্ভর, তার দৃষ্টিভঙ্গি নির্ভর। তবে এই তার দৃষ্টি কবি কোন দিকে ফেরাবে তা ভিন্ন কথা।
তবে আমাদের আবিস্কৃত যে আধুনিকতা যাকে সমকালীনতা হিসাবে দেখলে সুবিধা হয় তা এক বিরাট বুঝা আর না-বুঝা, দেখা আর অদেখা, বাস্তবতা আর কল্পনার যে দায় চাপিয়ে দিয়েছে মাথার ভেতর তা থেকে না বেরুতে পারলে সমস্ত নব সৃষ্টির আকাঙ্খাকে সন্দেহের চোখে দেখা যেতে পারে। তবে এই দায় যে আপনার উপর বর্তায় না সে বিষয়ে নিসন্দেহ থাকবেন। এই প্রডিউস্ট আধুনিকতা এক অর্থে উত্তরাধুনিকাত বা উত্তর-উপনিবেবাদ তাকে যে নামেই আপনি ডাকুন না কেন তা এক চোখা রাক্ষসের চোখের মত। হয় এই রাক্ষসের আধুনিক চোখ আছে, না হয় উত্তরাধুনিক, না হয় উত্তরউপনিবেশিক। আমাদের একটা না একটা চোখ থাকা চাই চাই। এই এক চোখকে আমার মনে হয় রুচির নার্ভার সিস্টেম। কিন্তু এর বাইরে এসে আমাদের অতি সাধারণ ভাবে দাড়ানো টা প্রয়োজন বোধ করি। নির্মিত সাবজেক্ট, অবজেক্ট আর ফ্রিডমকে অস্বীকার করা ছাড়া আমি আর দিশা পাই না।
বিকল্পের উত্থান বড় কথা নয়, কথা টা হলো পূর্ণতার বচনকলা আর তার প্রান প্রতিষ্ঠা হোক। আমিও যে ঠিক এর ব্যাখা দিতে পারবো তা কিন্তু নয়। আমার অনুভবের কথা বললাম। তবে যুক্তির ভুবনে একে অসাড় মনে হতে পারে। বিকল্প খোঁজার কোন মন বাসনা আমার নেই। আমি এই সবুজের ভেতর থেকে আরও কিছু পূর্ণতা খুজে পেতে চাই। সমস্ত সমাধানের সমাধান বোধ হয় শূন্য আর শূন্যতা। এর বাইরে দাড় করানো হোক জীবনের জটিল গনিতকে।
কোন জ্ঞানই নিরপেক্ষ নয়। তবে এর সম্ভাবনা কে মাত্র যাচাই করা যেতে পারে।
যাহোক মুয়ীয,
আমি কিন্তু আপনার কথার প্রেক্ষিতে এ কথা বলি নি। খেয়াল রাখবে আমি কিছু আত্নকথা বলে গেলাম। কেননা আপনার পথ বা মত কে অস্বীকার করি কিভাবে? তবে আপনার কথার সম্ভাবনা কে মাত্র যাচাই করা যেতে পারে। সে চেষ্টা আমর ভেতর আছে। ভালো থাকবেন।
সুতরাং বলেছেন:
অনেকটা দেরী করে এ লেখাটি পড়লাম। অনেক আলোচনা হয়েছে। প্রত্যেকেই যার যার দৃষ্টিভঙ্গি ও উপলব্ধি থেকে অনেক যুক্তিপূর্ণ মতামত দিয়েছেন। মুজিব দা'র মতামতটি ভালো লাগলো। আচ্ছা মৃদুল, রুচির শাসন থেকে শিল্পকে মুক্ত করতে যাওয়া মানে শিল্পকে ভিন্নতর আর একটি রুচির অধীনস্থ করা নয় কি? শিল্পকে তো আমি গৌন চোখে দেখি। অপ্রয়োজনীয় বোধ করি।- আপনার আর একটি মন্তব্য থেকে জানলাম। অপ্রয়োজনীয় এই বিষয়টিকে নিয়ে এত প্রয়োজনীয় সময় নষ্ট করছেন কেন?
লেখক বলেছেন: ১. "রুচির শাসন থেকে শিল্পকে মুক্ত করতে যাওয়া মানে শিল্পকে ভিন্নতর আর একটি রুচির অধীনস্থ করা নয় কি?"
১ নং প্রশ্নের উত্তর
এর উত্তরে বলা যায়, না। আরেকটা রুচির অধীন্থ করা নয়। কারাগার থেকে মুক্তির মানে যদি আপনি বুঝে থাকেন আরও একটা বন্দি দশার মধ্যে এসে পড়লাম তবে কথা ভিন্ন। আপ্রয়োজনীয় আধিক্যের কাছ থেকে মুক্তি চাচ্ছি।
২."অপ্রয়োজনীয় এই বিষয়টিকে নিয়ে এত প্রয়োজনীয় সময় নষ্ট করছেন কেন? "
২ নং প্রশ্নের উত্তর
প্রয়োজন আছে এই কারণে যে কিছু ক্ষয় জীবনে লাগে। না হলে নতুন চামড়া গজায় না। আমার এই অপ্রয়োজনীয় কালক্ষেপন জানি কারো তেমন উপকারে আসবে না। তবে আমার প্রয়োজনে আসবে। আর কবিতা লেখাই আমার কাছে মাঝে মাঝে মনে হয় অপ্রয়োনীয়। সেখানেতো আবার লেখার চেষ্টা করছি আমি নিজেই। কবিতা সম্পর্কিত এই অপ্রয়োজনীয়তা জ্ঞান আমার তৈরি হয়েছে বিখ্যাত বিখ্যাত কবিতা নামক বস্তু পাঠ করে। যা ছিলো আসলে বাহুল্য, অনর্থক। এই যে কবিতার জন্য কাল নষ্ট করছি তাকে তো সার্থক এবং যুক্তিবদ্ধ করা দরকার। না হলে তো ক্ষণে ক্ষণে কষ্ট লাগে, হতাশ লাগে। এই ক্ষয় হয়তো আমাকে অর্থপূর্ণ করে তোলে নিজের কাছে। আমার যুক্তির চোখ নষ্ট হোক এই কামনায় এই লেখা। যে কোন রকম প্রশ্ন আর তার উত্তরকে যুক্তিবদ্ধ করার প্রবণতারও বিনাশ ঘটুক।
আপনার যুক্তিবিদ্যার পরীক্ষায় আমারে অন্তত ৩৩ দিয়েন। নাইলে কিন্তু মরছি, মান থাকে না। ভালো থাকুন। মেলার কি অবস্থা আজ?
কবিতা নামক বস্তুর মৃত্য ঘটুক। নব এপিকের জন্ম হোক। আলোচনা চলবে আশা করি।
মুজিব মেহদী বলেছেন:
ওরে বাপরে! এই আলোচনা এতদূর এগোবে তা আমার ধারণাতেও ছিল না। অনেক ঋদ্ধ হওয়া গেল তরুণ প্রাণের আগুন ছুঁয়ে। আবারও অংশ নেবার একটা ইচ্ছে কাজ করছে, কিন্তু সময়াভাব বড়ো হানছে আমাকে। অবদমিত হতে হতে হতে হতে............কী যে হবে!
আরো আগুন জ্বালান, আলো হোক।
লেখক বলেছেন: মুজিব ভাই,
আলোনায় আসলে সবথেকে ভালো হতো। আপনার মূল্যবান মতামত জানতে পারতাম। আসলে আমার কথা যে শেষ কথা তা নায়। আমাদের সবার কথাই হোক আমাদের কণ্ঠস্বর।
সময় পেলে মতামত জানাবেন আশা রাখি। ভালো থাকুন।
সুতরাং বলেছেন:
এই যে কবিতার জন্য কাল নষ্ট করছি তাকে তো সার্থক এবং যুক্তিবদ্ধ করা দরকার। না হলে তো ক্ষণে ক্ষণে কষ্ট লাগে, হতাশ লাগে। এই ক্ষয় হয়তো আমাকে অর্থপূর্ণ করে তোলে নিজের কাছে। ইত্যাদি বলার পর আপনি আবারও লিখলেন-
আমার যুক্তির চোখ নষ্ট হোক এই কামনায় এই লেখা। যে কোন রকম প্রশ্ন আর তার উত্তরকে যুক্তিবদ্ধ করার প্রবণতারও বিনাশ ঘটুক।
মৃদুল, হালকা স্ববিরোধী বক্তব্য হলো না-কি? আসলে শেষ পর্যন্ত এটাই সত্য যে, শিল্পকে কখনই নির্দিষ্ট করা বা সীমায় বেঁধে ফেলা যায় না। শিল্প কখনই যেমন মীমাংসা বা সিদ্ধান্তে যায় না, তেমনি শিল্পসংশ্লিষ্ট কোনও কথাও শেষ পর্যন্ত প্রায়োগিকমর্যাদা পেয়ে ওঠে না। নব এপিকের জন্ম হোক- এটা আপনার মতো আমারও চাওয়া।
লেখক বলেছেন: শাওন ,
আসলে বলতে কি আমার স্ববিরোধীতা অনেক বেশি। সবার কিছু কিছু থাকে হয়তো। আপনার কথা যে ভুল সে কথা বলবো না। ঠিক আবার ঠিক না।
আসল কথা হলো আমি আমার কবিতা বিষয়ক কিছু কথা উপস্থাপন করেছি। আপনারা নানা জন নানা দিক থেকে দেখেছেন এইটাই প্রাপ্তি। প্রাপ্তি এই অর্থে যে আমি আমার ধারণা গলোর সাথে আরও কিছু নতুন ধারণা লাভ করেছি।
শিল্পে শেষ কথা বলে কিছু নেই। তবে একটা কথা তা হলো প্রচলিত রুচিতে আঘাত না করে কোন সমকালীন শিল্প বা কবিতা মনে হয় দাড়াতে পারে না। এই কথার মধ্যে গভীর কোন কথা বা তত্ত্ব নেই। এটা মাত্র একটা উপলব্ধি। আপনি কি বলেন?
সুতরাং বলেছেন:
আপনার এ কথাটাকে আমি সমর্থন করি। আজ বইমেলায় আপনার সঙ্গে যে কথা হলো, অর্থাৎ বিভিন্ন সময় পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের নতুন কবিতার প্রয়োজনে কবিরা যেসব মেনিফেস্টো প্রদান করেছিল (যেমন: সুররিয়ালিস্ট, বীট, এ্যাংরি, হাংরি জেনারেশন এবং আমাদের দেশে আশির দশকে কবি সাজ্জাদ শরিফ ও কয়েকজন 'সংবেদ' এর মাধ্যমে)- যে সকল মেনিফেস্টো প্রদান করেছিলেন তার কিছু কিছু অংশ ব্লগে প্রকাশ করা যায়। দেখি, দু'একদিনের মধ্যে ব্লগে দেব। নতুন করে সেগুলো নিয়ে আলোচনা হতে পারে। কি বলেন?
লেখক বলেছেন: হ্যা। তা দিতে পারেন। তাহলে আমরা আমাদের পূর্বজদের মতামত গুলো নিয়ে আলোচনা করতে পারবো। আমি চাই না নতুন কোন জন্ম হোক। এতে কবিতার নানাদিকগামীতার জন্য ক্ষতি হয়। মেনিফেস্টো নামক বস্তু থেকে বের হওয়া জরুরী বোধ করি। আচ্ছা দেন। এক সাথে ওগুলো পেলে মন্দ হয় না। তাই আপনার কথায় সায় দিয়েছি পর্বে আলোচিত মোনিফেস্টে গুলো দিতে। মনে হয় সে ক্ষেত্রে আলোচনা ভিন্ন একটা মাত্রা পাবে। ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: সংশোধন: আমি চাই না নতুন কোন মেনিফেস্টের জন্ম হোক।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...














