আমার প্রিয় পোস্ট
- অভ্রর নতুন ভার্সনে ইউনি-বিজয় লে-আউট সংযুক্তকরণ - shapnobilash_cu
- মিউজিক্যাল সিনেমা, এবং মিউজিসিয়ানদের নিয়ে সিনেমা;কিছু প্রিয় নাম। - হাসান মাহবুব
- মুভি রিভিউ :: অশ্রুর বাঁধ ভেঙে দেয়া ১৩ টি সিনেমা - মেহরাব শাহরিয়ার
- ক্লাউড কম্পিউটিং, এখুনি পরখ করে দেখুন। - ক-খ-গ
- ফ্রীতে নিজের একটা সাইট করুন ডমেইন সহ সবেই ফ্রী... - নিঃসঙ্গ
- এক ঠিকানা থেকে অন্য ঠিকানাতে মেইল ইমপোর্ট করা - এস. এম. মেহেদী আকরাম
- লিওনার্দো দা ভিঞ্চির উপর প্রামাণ্য চিত্র এবং অনলাইনে তার সমগ্র চিত্রকর্মের লিংক - তর্পন
- শান্তনু চৌধুরীর ৫টি কবিতা - সুতরাং
- জীবনানন্দ দাশ : 'বনলতা সেন' কাব্যগ্রন্থ - একরামুল হক শামীম
- বাঁক - সফেদ ফরাজী......
- উইনএক্সপি তে করাপটেড ফাইল যেভাবে ঠিক করবেন। - আহমদ কায়েস
- কেন কিনবেন বই যখন ফ্রী পাচ্ছেন? - তামিম
- শিল্পী এস এম সুলতান ও ভিনসেন্ট ভ্যান গঘঃ জীবন কারিগর - নাস্তিকের ধর্মকথা
- কবিতা যেমন হতে পারে- ৩ - আজহার ফরহাদ
- সতত জনম; মূল: মৃণাল সেন - ফাহমিদুল হক
- সূর্যাস্ত মন্দির - তারিক টুকু
- ফিরে দেখা ইতিহাস : ভাষা আন্দোলনের দিনপন্জী - ৩ - মিরাজ
- বাস্তবতা নয়, কল্পনা নয়, জাদুকল্পের ভুবন নয় বা নয় কাল্পনিক-বাস্তবতার-জাদু মোচড় - মৃদুল মাহবুব
- ডাকবাক্স - মজনু শাহ
- লবণখাদ ও বোবাঠাকুরের গান - তারিক টুকু
- এক্স পি সেটাপ ??? ৪/৫ মিনিটে কমপ্লিট !!! - মশিউর রহমান মেহেদী
- কুড়িগ্রাম - মাসুদ খান
- ফিরি ফিরি গান ডাউনলোড - মইন
- লিখে রাখি - মুয়ীয মাহফুজ
- ভাঙাশ্লেট - আপন মাহমুদ
- গহ্বরের দিনকাল অথবা প্রকৃতিক পরিত্রাণ - মুয়ীয মাহফুজ
- গণশৌচাগারের দেওয়ালে আমিই লিখতে চাই একা - মৃদুল মাহবুব
- প্রার্থণা, চিরবৈশ্বিক অন্ধকার - মৃদুল মাহবুব
- প্রিয় কবিতা - মাঠশালা
আমার রবীন্দ্র অভিজ্ঞতা
০৮ ই মে, ২০০৮ রাত ৯:০২
আমার রবীন্দ্র শিক্ষার অভাব ভয়াবহ। ফলে কোন গুনী যদি আমার এই রবীন্দ্র জ্ঞানের পরীক্ষা নেয় এবং তার পাশ নম্বর যদি ৩৩ এর বদলে ২০ ও নির্ধারণ করে তবু আমি পাশ করবো না। বড় জোর ৭ থেকে ১৩ এর মধ্যে কিছু একটা পাবো। খারাপ ছাত্ররা যেমন প্রাইমারি ও উচ্চ বিদ্যালয়ে না-পড়া, না-লেখা দায়ে নানা নিপিড়ন নির্যাতন অবহেলা অবজ্ঞার সম্মুখীন হয় তেমনি রবীন্দ্র বিদ্যালয়ে ছাত্র হিসাবে আমি লাস্ট বেঞ্চির। ফলে রবীন্দ্র শিক্ষালয়ের প্রধান শিক্ষকদের ভালোবাসা আমি তেমন পাইনি। বরং ক্ষেত্র বিশেষে নির্যাতিত হয়েছি। ফলে আমার রবীন্দ্র শিক্ষা তেমন ভালো না, ভয় মিশ্রিত। আমার মনে ভেতর রবীন্দ্রনাথ নামক যে কাল্পনিক বিদ্যালয় সে বিদ্যালয়ের খারাপ ছাত্র আমি। তবে খারাপ ছাত্রদের চোখ থাকে মাঠের দিকে, ব্লাকবোর্ডের কৃষ্ণত্বে তাদের মন ছিলো না কোনদিন। তাই এই বিদ্যালয়ের খোলা যে বিশাল মাঠ সেখানে আমি সন্ধ্যা অব্ধি হৈ চৈ করতে পেরেছি মনের সুখে। আমার মনে ভেতর রবীন্দ্রনাথের খোলা মাঠের কথা কেউ জানে না। রবী বাবুর সাথে আমার খেলাখেলা সম্পর্ক, ফলে কেউ প্রশ্ন তুলবেন না একাডেমিক্যালি আমি তাকে কতটা জানি কতটা বুঝি। কারন আগেই বলেছি আমার মাপ ৭ থেকে ১৩ এর মধ্যে। সৌভাগ্য আর দুর্ভাগ্য এই দৈর্ঘ্য প্রস্থের পরিসীমার মধ্যে আমার রবীন্দ্র আভিজ্ঞতা। তেমন দুএকটি অভিজ্ঞতার কথাই না হয় বলি। ক্ষমা করবেন।
১.
এই জীবনের যত মধুর গানগুলি:
স্কুল জীবনের চরম অত্যাচারের নাম এসেম্বিলি। চৈত্রে এই অত্যাচার ভয়াবহ। আমদের স্কুলের নিয়ম ছিলো জাতীয় সংগীত খুব জোরের সাথে গাইতে হবে। শুধু চলচ্চিত্র নায়িকাদের মত মুখ মিলালেই হবে না। তো আমি ছোট বেলা থেকেই নায়িকাদেও দলে। জাতীয় সংগীত মানেই এসেম্বিলিতে দাড়িয়ে মুখ মিলেয়ে যাওয়া। এই চৈত্রের রোদরে ভেতর আমার গলা দিয়ে স্বর বের হতে চাইতো না। ''আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি'' কিছুতেই আমি বলতে পারতাম না। মাত্র আমার মুখ গান গাওয়ার যে ভঙ্গি ত কে অন্ধ ভাবে অনুকরন করে যেতো। কিন্তু বেশি দিন এভাবে টিকে থাকা যায় নি। একদিন ধরা খেলাম। জোড়া বেতের মারও খেলাম এবং জানলাম গানটির রচয়িতা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। এবং তিনি যাতা কেউ নয়, বিশ্বকবি। এবং এভাবেই জোড়া বেতের মার খাওয়ার ভেতর দিয়ে আমার রবীন্দ্র শিক্ষার শুরু, এবং এই শিক্ষাদান কর্মকান্ডের গুরু ছিলেন বেশ কয়েকজন শিক্ষক। দর্শক হিসাবে ছিলো আমার সহপাঠিরা। আর যারা সেদিন জাতীয় সংগীত না গাওয়ার দায়ে বেঁচে গিয়েছিলো শুনেছি পরবর্তী জীবনে তাদের কাররই আর রবীন্দ্র রচনা পড়ে ওঠা হয় নি। আমি যৎসামান্য পাঠ করেছি পরবর্তী সময়ে। এভাবেই আঘাতের ভেতর দিয়ে রবীন্দ্র ভালবাসার শুরু। সূচনাটা বেদনাদায়ক ছিলো।
আমার জ্বলে নি আলো অন্ধকারে
দাও না সাড়া কি তাই বারে বারে।
তোমার বাঁশি বাজে বুকে কঠিন দুখে, গহীন সুখে,
যে জানে না পথ কাঁদাও তারে।
২.
প্রথম যে গান আজও মনে আছে:
রবীন্দ্রনাথের গান হিসাবে যে গানটিকে প্রথম চিনতে শিখেছিলাম সেটি হেমন্তের কন্ঠে
যখন পড়বে না মোর পায়ের চিহ্ন এই ঘাটে,
আমি বাইবো না মোর খেয়াতরী এই ঘাটে গো
...তখন আমায় নাই বা মনে রাখলে,
তারার পানে চেয়ে চেয়ে নাই বা আমায় ডাকলে।
তখন বিটিভি এর নাটক দেখা হতো। ঘটনাটা বোধ হয় ৯২/৯৩ দিকাকার। আমার বয়স তখন বড়জোর ৮/৯। কিন্তু নাটক থেকে শেষ দৃশ্যে এই গানটিই সবচেয়ে ভালো লেগেছিলো। পুরো নাটকে তৌকিরের বেদনাবোধ থেকে এই গানটির বেদনাই অসীম। আজও এখনও আমাকে ছুঁয়ে আছে। তবে শিল্পীর যে হেমন্ত তা অনেক পরে বুঝতে শিখেছি, অন্তত ৫ বছর পর জানতে পেরেছি যে ঐ গানটি হেমন্তই গেয়েছিলো। কারণ কন্ঠ নাচেনা শিল্পীর কন্ঠ চিনতে সময় লেগেছে। তবে কিন্তু তার সেই কণ্ঠ আর সে গানের বাণী ঠিক চিনে ফেলেছি পরবর্তীতে। এই অসীম বেদনা এখনো কোন গানের বাণীর মধ্যেই খুঁজে পাইনি। এই অসীম হাহাকারের রচয়িতা সেই, আমার রবীন্দ্রনাথ যার গান না গাওয়ার অপরাধে আমাকে মার খেতে হয়েছিলো। সেই আমার ররীন্দ্রনাথ চিনতে শেখার সূচনা।
৩.
যে মেয়েটি সব থেকে ভালো রবীন্দ্র সংগীত গাইতো তাকে কেউ চিলনো না:
নানা সময়ে নানাজনের কন্ঠে রবীন্দ্র সংগীত শুনেছি। অনেকের কন্ঠের রবীন্দ্রনাথের গানকে, গায়কীকে মনে হয়েছে বিড়ালের গোঁফে মত অধিক্য। অযথা টান বেশি, অস্পষ্ট উচ্চারন বিশিষ্ট,গান শুনে মনে হয় কি যে বলে গেলো,গেলো না বুঝা তার কিছু। ছোটবেলায় আমার একটা বিড়াল ছিলো। বিড়ালেরতো আবার গোঁফ থাকে। আমি মেনে নিতে পারি নি আমার বিড়ালের আবার গোঁফ থাকবে। ফলে কেঁচি দিয়ে তার গোঁফ ছাটা আমার একটা অভ্যাস ছিলো, যা আমি অতি প্রয়োজনীয় একটা কাজ মনে করতাম। একবার নেলকাটার দিয়ে হার নখও আমি কাঁটতে চেয়েছিলাম। কিন্তু পারিনি। ফলে সেই বিড়াল দৃষ্টিভঙ্গি আমার ভেতর ছোটকাল থেকেই ছিলো। তাই অতি অভিনয়ে ভরা টান-প্রধান রবীন্দ্র সংগীত আমার ভালো লাগে নি। স্পষ্ট উচ্চারণের গায়কীই আমার পছন্দ। যাক সে কথা।
রুমার সাথে আমার পরিচয়ের গভীরতা ওর রবীন্দ্র সংগীতের জের ধরেই। রুমা রাণী সাহা। সে ছিলো আমার স্কুলের সহপাঠিনী। তার সাথে কত রাস্তায় দেখা হয়েছে, কথা হয়েছে। সেভাবে মনযোগ দিয়ে আকুতি দিয়ে কথা হয়নি বললেই চলে। একদিন দেখি এক অনুষ্ঠানে সে গান গাইছে। আজ আমি ছিলাম দর্শক। আমি জানতামই না যে আমার পুরনো সহপাঠিনী এমন গাইতে পারে। আমি জানলাম না সে একা একা আমার অজান্তেই কবে যে এতো গান শিখে গেলো। আমি ওর গানে মুগ্ধ ছিলাম। রবীন্দ্র ভক্তি যে কি জিনিস তা আমি শিখলাম ওর গানের কাছে। আর কারও কাছে এমন শেখার সুযোগ হয়নি । রবীন্দ্র সংগীত আর এর গায়িকা দুটোই ভক্তি দাবি করে। এটা শিখলাম। শিখলাম এই গানের ভেতর যে কত কানাগলি, অন্ধকার, অন্ধত্ব, প্রেরণা, উচ্ছ্বাস, উৎকন্ঠ, অপেক্ষা, চমৎকারিত্ব। একদিন ওর বাড়ির ছাদে বর্ষা এলো। আকাশ সেদিন অংশত মেঘলা ছিলো। গাছগুলো সবুজ থেকে ঘন সবুজ হয়ে হয়ে অন্ধকারে মিশে যেতে চাইছে। মেঘে ঢাকা গুমোট এক কালচে আকাশের নিচে আমরা সন্ধ্যা অবধি বসে ছিলাম। সেদিন বৃষ্টি এসেছিলো। ঘন নীল বৃষ্টিতে ভিজে গিয়েছিলো দালান , দেবদারু এভ্যিনিউ, পিচ ঢালারাস্তা, দোকান, মাঠ, ঝোপের ভেতর পড়ে থাকা ছেড়া ফুটবল-- এই পৃথিবীর সব ভিজে গিয়েছিলো সেদিন ঘন নীল বৃষ্টিতে, ভেজা কান্নার মত বাতাসে। সেই ভেজা বাতাসের ভেতর বসে সে শুনিয়েছিলো তার শেষ গান:
মনে কী দ্বিধা রেখে গেলে চলে সেদিন ভরা সাঁঝে
যেতে যেতে দুয়ার হতে কি ভেবে ফিরালে মুখখানি
কী কথা ছিলো যে মনে
তুমি সে কি হেসে গেলে আখিঁকোণে
আমি বসে ভাবি নিয়ে কম্পিত হৃদয়খানি,
তুমি আছো দূর ভূবনে।
আকাশে উড়িছে বকপাঁতি
বেদনা আমার তারি সাথি
বারেকো তোমায় শুধাবারে চাই বিদায় কালে কি বলো নাই
সে কি রয়ে গেলো গো সিক্ত যুথীর গন্ধবেদনে।
এরপর সেই মফস্বল ছেড়ে আমকে চলে আসতে হয়। ১৭ বা ১৮ বছরের সেই বালক আর কোনদিন ফিরতে পারেনি নীল বৃষ্টিতে ভেজা সেই আমার গায়িকার শহরে।
আর আজ এখনও যত ছাদে একা উঠেছি, একা দাঁড়িয়েছি ততবারই আমি একটা গানই শুনে চলি '' আকাশে উড়িছে বকপাঁতি/ বেদনা আমার তারি সাথি''। পৃথিবীর সমস্ত অন্ধকার আকাশে, বৃষ্টির দিনে একজন শিল্পীই আমাকে শোনায় '' বেদনা আমার তারি সাথি।'' আর প্রতিটা বৃষ্টিই আমার কাছে ঘন নীল জলের বর্ষা, কান্না ভেজা হাওয়া। আর কোনদিন দেখা হয় নি রুমার সাথে। রুমা রানী সাহা। আরও একটা বেদনাক্রান্ত রবীন্দ্র শিক্ষা এভাবেই ভুলে যেতে চাই। ভোলা কি হলো আজও?
''মন চায় মন চায় ওই বলাকার পথখানি চিনে নিতে''
৫.
এক বিকেলের আড্ডায় আবারও রবীন্দ্রনাথ:
একবার সেলিম আল দীনের সাথে সারা বিকেল হেঁটে সন্ধ্যায় বসে ছিলাম জাহাঙ্গীর নগরের গেটে। রবীন্দ্রনাথ জানা এমন কম লোকের সাথেই আমার মেশার সুযোগ হয়েছে । লাইনের পর লাইন তিনি কোট করলেন। আমাদের আলোচনা নানা দিকে মোড় নিচ্ছিলো। আলোচনার এক পর্যায়ে তিনি বরলেন , '' এই তোরা কবি হতে চাস কিন্তু রবীন্দ্রনাথ ঠিক মত পড়িসনি। রবীন্দ্রনাথের মত বিশাল একটা প্রচেষ্টা যদি তোরা কাজের ভেতর আনার চেষ্টা না করিস তবে হবে না।'' এই কথায় আমার একটু বিরোধ ছিলো। আমি মোটামুটি রবীন্দ্রনাথ যা পড়েছি তার লিস্ট তাকে দেওয়ার পর তিনি বললেন, '' অল্প বিদ্যা তোদের সম্বল। আর এ জন্যই এটা ভয়ংকর।'' আমি বলেছিলাম, ''স্যার আমার অভিজ্ঞতা বলে বেশি বিদ্যা আরও বেশি ভয়ংকর। সে তার গন্ডির বাইরের কিছুকেই নিতে পারে না। এটা কি ভয়াবহ কিছু না?'' সেলিম স্যারের লাল চোখ দেখে আমি অফ যাই সেদিন । আমার আর কথা বলার সাহস হয়নি। অসমাপ্ত রবীন্দ্র আলোচনা রেখে তিনি সেই যে চলে গেলেন আর দেখা হলো না, কথা হলো না। তিনি আমাকে বলেছিলেন এরপর এলে রবীন্দ্রনাথের অন্তত এই এই পড়ে আসবি। না হলে আর কথা নেই তোর সাথে।
তবে আমার সেই অল্প বিদ্যাটাকে বাড়ানোর চেষ্টা চালাচ্ছি। বেশি বিদ্যার ভয়াবহতার দিকে হেঁটে যেতে চাচ্ছি। তবে আমার রুমার প্রতি যত না অন্ধতা, তার থেকে ঢেঢ় বেশি মুগ্ধতা ওর গানের প্রতি। আমার প্রতি দিনের রবীন্দ্র জ্ঞান হেঁটে গেছে রুমার গানের দিকে। কেননা রবীন্দ্র ভাবনার পর কত নব নব ভাবনা এলো, কত কত কবিতা উপন্যাস সৃষ্টি হলো, কিন্তু রবীন্দ্রনাথের গানের যে বেদনা অভিজ্ঞতা, রুমার কন্ঠস্বর, তা আর দ্বিতীয়বার শুনতে পারছি না কারও কাছ থেকে।
৫.
আবারও রবীন্দ্রনাথ :
এই ফেব্রুয়ারীতে রণজিৎ দাশ এসেছিলেন ঢাকায়। তিনি ছিলেন শামীম রেজার বাসায়। জেনেছিলাম রনজিৎ দাশও রবীন্দ্রনাথ দেওয়ানা। শামীম ভাইয়ের ভালোবাসা ও অবিশ্বাস উভয়ই কেন জানি আমার প্রতি বেশি। ফলে তিনি এক রাতের আমাকে ডেকেছিলেন তার বাসায় কবি রণজিৎ দাসের সাথে আড্ডা দেওয়া জন্য। আড্ডা ভালোই জমেছিলো। কিন্তু আড্ডার শেষে কোন এক রবীন্দ্র আলোচনার মহেন্দ্রক্ষণে আমি বলে ফেলেছিলাম , '' রবীন্দ্র উপন্যাস আমার ভালো লাগে নাই। তাঁর উপন্যাস থেকে অনেক ভালো কাজ বাংলা সাহিত্যে আছে। '' পেয়ালা হাতে কবি রণজিৎ দাশ দাঁড়িয়ে গেলেন। তিনি আমার রবীন্দ্র পাঠ নিয়ে প্রশ্ন তুললেন। সত্যি আমার রবীন্দ্র পাঠ নিতান্তই কম, তবে উপলব্ধি বোধহয় কম থেকে একটু বেশি ছিলো। তিনি বললেন,'' আনো দেখি তোমার কবিতা। দেখি কি লিখেছো তুমি?'' শুধু আমি বলেছিলাম, '' আপনি আমাদের মত তরুণদের কবিতা বিচার করার কেউ নন। আমাদের কবিতার বিচার করবে আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম। আপনি বড় কবি কেননা আমরা আপনার পরবর্তীরা আপনার কবিতা নিয়েছি, ভালোবেসেছি, তাই আপনি কবি। আপনার রবীন্দ্র পাঠ আমাদের কবিতা বিচার করার মাপকাঠি হতে পারে না। যেমন অল্প বিস্তর রবীন্দ্রনাথ পাঠ করে আমরা বিচার করতে পারছি আপনার কবিত। ফলে কবিতা বিচারে রবীন্দ্রনাথ ততোটা জরুরীনা। কোন কিছুই এতো শীরোধার্ষ নয় কোন কিছুর জন্য।'' তিনি আর সে রাতে কথাই বলেননি আমাদের সাথে। শুধু সকালে নাস্তার টেবিলে মুচকি একটা হাসি দিয়েছিলেন। আর শামীম ভাই আমাকে ১০০ টাকার দুটো নোট বাড়িয়ে বলেছিলেন আজই 'গীতবিতান' কিনবে। আমার গীতবিতান, ভেতরের রুমা, আগে থেকেই ছিলো। টাকা তাকে ফেরত দিয়ে বের হয়ে যাই পথে। দেখি পথে পথে রুমার গাইছে:
আকাশ ভরা সূর্য তারা, বিশ্ব ভরা প্রাণ
তাহারি মাঝখানে আমি পেয়েছি মোর স্থান।
বিস্ময়ে তাই জাগে আমার গান।
৬.
আমার আমি:
আমার সব রবীন্দ্র অভিজ্ঞতা ব্যথায় ভরা, তিক্ততায় পূর্ণ। অতি ভক্তির হাত থেকে মুক্ত করে আমি আমার রবীন্দ্রনাথ কে জমা রেখেছি রুমার কন্ঠের ভেতর, ওর সহজতার ভেতর।
বেদনার কী ভাষা রে
মর্মে মর্মরি গুঞ্জরি বাজে।
সে বেদনা সমীরে সমীরে সঞ্চারে,
চঞ্চল বেগে বিশ্বে দিলো দোলা
দিবানিশা আছি নিদ্রহারা বিরহে
তব নন্দনবন অঙ্গনদ্বারে,
মনোমোহন বন্ধু
আকুল প্রাণে
পারিজাতমালা সুগন্ধ হানে।
প্রকাশ করা হয়েছে: আত্মজীবনীর অংশ বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই মে, ২০০৮ রাত ২:২১ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
লেখক বলেছেন: আপনাকেও শুভেচ্ছা।
মুনমুন বলেছেন:
আমারো খুউবই ভালো লেগেছে। প্লাস দিলাম। কবিগুরুর জন্মদিনে সমস্ত রবীন্দ্রভক্তদের শুভেচ্ছা। আপনার জন্যও শুভ কামনা।
আগেরটা মুছে দিয়েন, প্লিজ। বানান ভুলের কারণে।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।
ঠিক বলেছেন, কবিগুরুকে মুক্ত করতে হবে।
লেখক বলেছেন: গুনিজনতো আমাদের রবীন্দ্রনাথকে ছাড়তেই চায় না। তারে বন্দি করে রেখেছে তাদের কারাগারে।
ধন্যবাদ।
তারিক টুকু বলেছেন:
কী বলবো। আমাদের প্রত্যেকের মনে হয় রবীন্দ্রনাথ নিয়ে মোটামুটি সমপর্যায়ের অভিজ্ঞতা আছে।ভালো লেখা।
লেখক বলেছেন: আরও আরও তিক্ত অভিজ্ঞতা আছে দোস্ত। সেগুলোতো লেখিই নাই। একটা বই হয়ে যাবে রে লিখলে।
বিবর্তনবাদী বলেছেন:
আপনেতো দেখি বস লোক।
লেখক বলেছেন: আপনিওতো বস দেখি। শেষ মেষ আপনিই বুঝলেন আমারে। হাহাহা..
মাজুল হাসান বলেছেন:
তিনি আমাকে বলেছিলেন এরপর এলে রবীন্দ্রনাথের অন্তত এই এই পড়ে আসবি। না হলে আর কথা নেই তোর সাথে।তবে আমার সেই অল্প বিদ্যাটাকে বাড়ানোর চেষ্টা চালাচ্ছি। বেশি বিদ্যার ভয়াবহতার দিকে হেঁটে যেতে চাচ্ছি। তবে আমার রুমার প্রতি যত না অন্ধতা, তার থেকে ঢেঢ় বেশি মুগ্ধতা ওর গানের প্রতি। আমার প্রতি দিনের রবীন্দ্র জ্ঞান হেঁটে গেছে রুমার গানের দিকে।
সিম্পলি সুন্দর বয়ান।
লেখক বলেছেন: সিম্পলি রুমার দিকেই হাঁটছি।
ধন্যবাদ।
শফিউল আলম ইমন বলেছেন:
চমৎকার লিখেছেন।আমিও রবীন্দ্রনাথ খুব বেশি পাঠ করতে পারিনি তবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
রবীন্দ্রসংগীত বিটিভিতএ দেখলে টিভি অফ করে দিতাম। তারপর যখন ইন্টারে পড়ছি তখন একটা স্যারের বাসায় খালি এই সংগীত শুনতাম। এরপর থেকে শুরু....তবে পুরোপুরি ভাল লাগা শুরু হয় যখন লন্ডনে আসি। এখন রবীন্দ্রসংগীতের দারুণ ভক্ত। কম্পিউটারে কম করে হলে তিনশোর মত আছে।
আপনার লেখাটি খুব ভালো লাগল।
ভালো থাকুন।
লেখক বলেছেন: বিশেষভাবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গানের ভক্ত আমি। কিন্তু ররী ঠাকুর নিয়ে হয়রানির যেনো শেষ নেই। রবীন্দ্রনাথকে দেব দেবী করে তোলার পক্ষে আমি না। আমার ইচ্ছা তিনি আমাদের ডাইনিঙে বসে আমাদের সাথে ভাত খাক। অতি অতিপরিচিত কেউ হোক আমাদের।
ইমরান খান ইমু বলেছেন:
apnar sathe amar oviggota onkta mile jai....shei school shei jatiyo shongit...osomvob valo laga shei gan.....r ei moddhanne ehshe abar robindro protivai mugdhota....valo laglo onk
লেখক বলেছেন: হুমম.......
এই সত্যটা কবে সবাই বলবে? অসাধারণ ১টা লেখা,কারো কণ্ঠে যেভাবে রবীন্দ্রকে পেয়েছেন,সবাই সেভাবেই পেয়ে যাক।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।
সফেদ ফরাজী...... বলেছেন:
পড়লাম। রবীন্দ্রনাথ নিয়ে আমাদের ভেতর দুটো বিষয় কাজ করে, প্রতিনিয়ত দেখা যায়। এক পক্ষে রবীন্দ্রনাথকে এক ও অদ্বিতীয় কোনো মহান প্রভুতুল্য কিছু তৈরি করা, অপর পক্ষে রবীন্দ্রনাথকে অহেতুক অস্বীকার করে খারিজ করার প্রবণতা। আমি এই দুই পক্ষের কোনোটাই না। রবীন্দ্রনাথকে আমিও দেখতে চাই আমার প্রয়োজনের নিরিখে। যতদিন রবীন্দ্রনাথ আমার প্রয়োজন মেটাতে পারে, ততদিন আমি তাঁকে নেব, যদি না পারে নেব না। রবীন্দ্রনাথের গান সম্ভবত অনেকদিন পর্যন্ত টিকে থাকবে আমাদের মাঝে, কেননা রবীন্দ্রনাথ মধ্যবিত্তের আবেগকে অত্যন্ত বিচক্ষণতার সঙ্গে তাঁর গানে ধরতে চেয়েছেন ও পেরেছেন বলে আমার মনে হয়।
মৃদুল, ধন্যবাদ। আমার রবীন্দ্রবিবেচনা শেয়ার করার জন্য। আর রুমাকে আমাদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে আমাদেরও প্রীত করার জন্য। ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: ঠিক বলেছেন। ''রবীন্দ্রনাথকে আমিও দেখতে চাই আমার প্রয়োজনের নিরিখে। যতদিন রবীন্দ্রনাথ আমার প্রয়োজন মেটাতে পারে, ততদিন আমি তাঁকে নেব, যদি না পারে নেব না। '' আমিও এমনই ভাবি।
রুমা রাণী সাহার দেখা কী আর মিলবে!
জীবন মরণের সীমানা ছাড়ায়ে,
বন্ধু হে আমার রয়েছো দাড়ায়ে।
এ মোর হৃদয়ের বিজন আকাশে
তোমার মহাসন আলোতে ঢাকা সে।
গভীর কী আশায় নিবিড় পুলকে
তাহার পানে চাই দু বাহু বাড়ায়ে।
সফেদ ফরাজী...... বলেছেন:
মিললেও মিলতে পারে, অন্যকোথাও, অন্যকোনোখানে..................
লেখক বলেছেন: চূড়ান্ত বিন্দুতে সব মেলে না, দূরে দূরে মেলাই ভালো।
আপনি কোথায়? শুক্রবারে আফিস নাকি আপনার?
লেখক বলেছেন: হুম। ধন্যবাদ।
মুয়ীয মাহফুজ বলেছেন:
ভালো লাগলো খুবই।রবীন্দ্রকণ্যারা এসে এসে ধরা দেয়না।তারা রাবিন্দ্রিক রোমান্টিক কল্পনাই রয়ে যায়।"মনে কী দ্বিধা রেখে গেলে চলে সেদিন ভরা সাঁঝে"
ভালো লাগলো।
লেখক বলেছেন: এরা সুখের লাগি চাহে প্রেম প্রেম মেলে না,
শুধু সুখ চলে যায়,
এমনই মায়ার ছলানা।
আমাদের মত মানেষের জন্য প্রেম না। কবিগুরু আগেই সাবধান করেছে। যারা প্রেমের মধ্যে যাতনা চায় তাদের জন্য তোলা থাক রবীন্দ্র কন্যা। আমার মত অন্ধজনে কবে যে কে আলো দেবে?
ধন্যবাদ।
মাহবুব মোর্শেদ বলেছেন:
ভাল লাগলো।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।
মজনু শাহ বলেছেন:
kotojon koto vabei na robindronathke nen, tar ar songkha nai. sondipon chattyopadhdhayer moto lekhokonar gaan ar chobiguloke follow koren,ebong tar vetorei adhunikotake pan.
kintu sondipon shudu non, tar vetor je kono vabe adhunikota sondhan bretha, kenona, tini chirokaler.
mridul hoyto sei chirokaler somudrer samne ese dariyese, pore, aro pore, ekdin hoyto somudro-obogahoner kotha sona jabe, asa rakhi...
লেখক বলেছেন: সমুদ্র অবগাহনেই যেতে চাই। নিজস্ব এক সাঁতার দিবো ঐ সমুদ্রে।
'মা দিবসে' বাবা হবার শুভেচ্ছা মজনু ভাই। ভাবিকে ও শুভেচ্ছা।
দূরন্ত বলেছেন:
অসম্ভব ভালো একটা লেখা হয়েছে।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: রুমা শুধু আমাকেই আর গান শোনাবে না। রুমা এখন সবার, আমিহীন, বিশেষত্বহীন, সাধারণ।
ধন্যবাদ।
মাঠশালা বলেছেন:
রুমা দীর্ঘজীবি হোন....
লেখক বলেছেন: রুমা দীর্ঘজীবি হোক....
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।
সাঁঝবাতি'র রুপকথা বলেছেন:
রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে কিছু পেলেই পুরা হা করে পড়ে ফেলি...খুব ভালো লেগেছে...
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।
বিজয় আহেমদ বলেছেন:
রুমাকে নিয়ে যে জায়গাটা লিখছিস ও টুকো কবিতা বন্ধু। সত্যিই কবিতা। ঐ অংশটুকো পড়ার সময় খুব দু:খ লাগতেছিল একজন কবি হিসাবে এমন সুন্দর কবিতা লিখতে পারি না বলে। ভালো থাকিস।
লেখক বলেছেন: তুমি কি লিখছো তা জানি। বেশি কইয়া ফালাইলা দোস্ত। ভালো লাগার জন্য ধন্যবাদ।
ঢাকায় আসবি কবে?
লেখক বলেছেন: অসংখ্য ধন্যবাদ।
আল-ইমরান সিদ্দিকী বলেছেন:
mojnu shah o shajbatir rupkotha'r sath a ami ek mot.robindronath to bolsen ''ami tomader e look''-tini devta hoben keno!robindronath kono kisur mapkathi non but amader shahitter boro boro shob kobi k dekha ges a tara rabindro-pagol.so ka k diya hobay r ka k diya hobay na say prosnay tagore ekti maapkatki tay porinoto hoisay.means aapnar robindro bodh hi rokom.... .tar manay ai noy j robindro-pagol hoilay e gol kora shomvob.ha ha ha........aapnar lekha khub valp laaglo
অ রণ্য বলেছেন:
আপনার এই লেখাটা পোষ্টের প্রথম দিকেই পড়েছিলাম, আজ আবারো পড়লাম। মন্তব্যটা অনেক সশয় নিষ্প্রয়োজনীয় হয়ে ওঠে, যখন সেটা বাস্তবিক ভাল।
আব্দুল্লাহ আল মুক্তািদর বলেছেন:
.............সুন্দর.................!
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...

















ভালো লাগা রেখে গেলাম।শুভেচ্ছা।