২২ আগস্ট ২০১০ রবিবার রাত্র ১২:৩০ মধুবাজার, ধানমন্ডি-১৯, ঢাকা
প্রিয় মৃন্ময়ী,
প্রচন্ড মন খারাপ। আমার ল্যাপটপের ব্যাটারি কাজ করছে না। ল্যাপটপ কেনার অন্যতম উদ্দেশ্যই হচ্ছে কারেন্ট না থাকলেও যেন এটি ব্যবহার করতে পারি। তুমি তো জানো এটি আমেরিকা দিয়ে কিনে আনা হয়েছে। এর ওয়ারেন্টিও নেই। ধুর! মেজাজটাই খারাপ হয়ে যাচ্ছে। এতদিন আমার হাতে ল্যাপটপ ছিল; বেশ ভালোই ছিল। যেই বাসায় আসলাম, ওমনি এই সমস্যা দেখা দিল। গতকাল রাত্রেও বেশ চমৎকার সার্ভিস দিয়েছে ল্যাপটপটি। আজ সারাদিন বাসায় ছিলাম না। রাত্রে এসে যখন ল্যাপটপ অন করি, তখন এই বিষয়টি ধরা পড়ে। আমার ধারণা, যিশু ভাইয়া কিংবা বসু ল্যাপটপ ধরেছিল। ঝামেলা বাধিঁয়ে তারা বুদ্ধু সেজে বসে আছে!
আজ অর্থাৎ ২১ আগস্ট চতুর্থ বর্ষের প্রথম ক্লাশ করলাম। অবশ্য ক্লাশ শুরু হয়েছে ১৬ আগস্ট। কিন্তু বরগুনা যাবার কারণে আমি অংশগ্রহণ করতে পারিনি। এখন থেকে ক্লাশে নিয়মিত হবার চেষ্টা করব। ক্লাশ করতে আমার ভালো লাগে না। তবে এটি ভেবেও কষ্ট লাগছে যে দেখতে দেখতে ভার্সিটি-লাইফ পার হয়ে যাচ্ছে। অথচ কিছুই করতে পারলাম না।
আজ সারাদিন ক্যাম্পাসেই ছিলাম। ১২টার দিকে ক্লাশ করলাম। দুপুরবেলা বিক্রমপুর হোটেলে খেলাম। বিকেলবেলা কামালের রুমে ঘুম দিলাম। বেশ ভালোই হয়েছিল ঘুমটা। যদিও মাঝখানে মোহনা, আবু হেনা আর পিয়া ফোন দিয়ে বেশ কয়েকবার ঘুম ভেঙে দিয়েছে।
আজ শিল্পী আমার কাছ থেকে পাঁচ হাজার টাকা ধার নিল। আগামিকালই না-কি দিয়ে দিবে। দেখা যাক। কামাল তো এ কথা শুনে আমাকে 'বিলিনিয়র' উপাধি দিয়ে দিল।
আজ পিয়ার সাথে বেশ ভালোই সময় কাটল। অনেক দুষ্টুমি করেছি ওর সাথে। পিয়াও বেশ ভালো মুডে ছিল। তবে আমার 'মৃত্যু'র পর আজ প্রথম ওকে আমি ধমক দিলাম। সন্ধ্যার সময় ওর জন্য এক কেজি দধি কিনে আনলাম। তিনবার ফোন দিলাম। কোনো রেসপন্স নেই। তারপর ক্ষুদেবার্তা দিলাম। এরপরও রেসপন্স নেই। তারপর কিছুক্ষণ পর আবার ফোন দিলাম। তারপরও প্রায় দশ মিনিট পর আসল। এতক্ষণ দাড়িয়ে থেকেই মেজাজ খারাপ হয়ে যাচ্ছিল। কারণ ওদিকে শিল্পী অপেক্ষা করছিল টাকা নেবার জন্য। পিয়া আসল। কিন্তু ওর হাটার ভঙ্গি দেখে টেম্পার আর ঠিক রাখতে পারিনি। ওর হাটার স্টাইলটা আমার কাছে চরম বাজে লাগে। যদিও অন্য ছেলেরা খুব পছন্দ করবে। কেননা, ওরকম কোমর দুলিয়ে শরীর নাচিয়ে হাটলে যে কেউই 'হা' করে গিলবে! তাকে অনেক বোঝাইছি। কিন্তু কোনো পরিবর্তনই আসেনি। তার মতে, তার হাটার স্টাইল ঠিকই আছে। বরং সবাই প্রশংসা করে। শুধু আমি একাই ওর হাটা নিয়ে প্রশ্ন তুলি।
যাই হোক, আমি আর প্রশ্ন তুলব না। যা খুশি করুক।
শান্তা-কামালের মধ্যে শুধু ঝামেলা চলছেই। আজ কামাল অনেকক্ষণ কান্নাকাটি করল। ওদের নিয়ে একটি পোস্ট পরে লিখব। আজ দু'চোখে ঘুম ভেঙে পড়ছে।
কামাল আজ লিয়ার সাথে দেখা করেছিল। দেখা করার ব্যাপারটি লিয়া না-কি আমার কাছে বলতে নিষেধ করে দিয়েছে। ওরা কিছুদিন আগে একসাথে ইফতারও করেছে। কামাল-শান্তা, লিয়া-মোর্শেদ।
ব্যক্তিগতভাবে শান্তাকে আমি মোটেই পছন্দ করিনা। চরম বাজে একটি মেয়ে। তার মধ্যে কিছু ভালো দিকও আছে। কিন্তু সেগুলোকে ছাপিয়ে যাচ্ছে তার বাজে দিকগুলো। যাই হোক, ওকে নিয়ে লিখে সময় নষ্ট করার ইচ্ছে নেই।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে নভেম্বর, ২০১৪ রাত ২:০৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


