somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

seasonal দেশপ্রেম আর seasonal ধর্মকর্মের দেশ আমাদের এই বাংলাদেশ

১২ ই আগস্ট, ২০১০ রাত ১১:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

(খুব সাধারণ কিছু ভাবনা, আমার মতো অনেকেই হয় তো ভাবে। ভাবনাগুলো সবার সাথে শেয়ার করলাম শুধু।)

ছোটবেলায় পড়তাম- ঋতুবৈচিত্র্যের দেশ বাংলাদেশ। কিন্তু বড় হতে হতে আবিষ্কার করলাম অদ্ভুতভাবে ঋতু বদলের সাথে সাথে প্রকৃতির সাথে বাংলাদেশী জাতির কর্মকান্ডও বদলায় আমুলভাবে। বাঙ্গালী ফেব্রুয়ারীতে ভাষাপ্রেমিক, মার্চ আর ডিসেম্বরে দেশপ্রেমিক, রমযান মাসে ধার্মিক হয়ে যায়। আর কিছু বিশেষ দিন তো সাথে আছেই- ১৪ ফেব্রুয়ারীতে প্রেমের প্রেমিক এমন কি বাবা-মায়ের জন্যে ভালবাসাটাও আজকাল একটি বিশেষ দিনে এসে ঠেকেছে

এহেন বৈচিত্র্যের অধিকারী জাতির নিত্য নতুন বৈচিত্র্যে আমি দিন দিন তাজ্জব থেকে তাজ্জবতর হয়ে যাই। ফেব্রুয়ারীতে ভাষা নিয়ে যারা ভাষণ দেন, তাদের যে আসলে ভাষার প্রতি কতটা দরদ তা মনে হয় বোঝা যায় ইংরেজী মাধ্যমে পড়াশনা করা তাদের ছেলেমেয়েদের বাংরেজী কথার বাহারে। বাঙ্গালী আজ বাংলায় কথা বলাকে ক্ষেতামী মনে করে, যে কয়টা বাংলা শব্দ মুখে চলে আসে সেগুলোকেও ইংরেজী উচ্চারণে বলে যেন বাংলাকে জাতে উঠায়। আর স্মার্টনেস হলো শুধুমাত্র প্রভাতফেরীতে কালো পোষাকে শামিল হয়ে ইংরেজীতে বুলি ছড়িয়ে শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে আসা। আমার মনে বড় প্রশ্নঃ শহীদ মিনারে সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার এর স্মৃতিকে সম্মানিত করতে আমরা যে ফুল দেই, তাই কী চেয়েছিলেন তারা? তারা তো চেয়েছিলেন সর্বস্তরে বাংলা ভাষার ব্যবহার, শুধু সরকারী অফিসে চিঠি চালাচালির ভাষা হিসেবে তো চান নি। প্রতিটি কথায় সালাম-রফিক-বরকত-জব্বারকে পায়ে পিষে আবার ফুল দিয়ে তাদেরকে উপরে উঠানোর চেষ্টা করছি। ভাষার প্রেম বলতে কেন যে বাঙ্গালী শুধু ভাষা দিবসে শহীদ মিনারে ফুল দেওয়া বোঝে! কেন যে তার সত্যিকার মর্মার্থ অনুভব করতে পারে না!

ইদানীংকালে দেখি বাবা-মায়েরা চান তাদের সন্তান সব দেশের বাইরে চলে যাক। দেশ না কি বসবাসের অযোগ্য হয়ে গেছে। হুমম, ঘর থেকে বের হলেই প্রতিদিন আমরা তা বুঝি- এমন কিছু খুঁজে হয় তো পাওয়া যাবে না যা দেখে কেই আশায় বুক বাঁধতে পারে যে এই দেশই আমার সুস্থ-সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার সমস্ত নিশ্চয়তা দেবে। অথচ আমরা বড় দেশপ্রেমিক!! দূর্নীতি, অসততা, কালোবাজারী, ছাত্র রাজনীতির নামে নোংরা কর্মকান্ড আরো যা যা খারাপ আছে তাতে দেশকে নিমগ্ন রেখে মার্চ আর ডিসেম্বরে মুক্তিযুদ্ধের (এক এক সরকারের আমলে এক এক রকম) ইতিহাসে সব কিছু ভাসিয়ে দিয়ে স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে আমরা দেশপ্রেমিক সাজি! কী ভয়ানক ভন্ড আমরা! মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধ করেছিল শুধু দু'টি মাসে আমাদের ফুলের তোড়া পাওয়ার জন্যে!

গত কয়েকদিন দেখছি সামুতে মানুষজন বেশ লেখালেখি করছে- রমযান মাসে কী কী ব্যাপারে সংযম সাধন করতে হবে। রমজান মাসে মিথ্যা বলা যাবে না, অশালীন ছবি দেখা যাবে না বা অশালীন কথা বলা যাবে না, গীবত করা যাবে না, অশালীন পোষাক পরা যাবে না, পানাহারের ব্যাপারেও সংযম সাধন করতে হবে। আমার কাছে আজিব লাগে- এই কাজগুলো কী অন্য মাসগুলোতে করা উচিত? আমার এক কলিগকে দেখি রোজা আসলেই প্রত্যেক ওয়াক্ত নামাজ আদায় করেন, রোজা গেলেই সব শেষ। কেন রে ভাই! হতে পারে রমজান মাস ফযীলতের মাস, কিন্তু আল্লাহ মাবুদ কী বলেছে নাকি যে এই মাসে ধর্ম-কর্ম করলে বাকী সব মাসেরটা মাফ? ধর্ম বলতে আমি তো শুধু কিছু আচার-অনুষ্ঠান পালন করাকেই বুঝি না (আমি নিশ্চিত কোন ধর্মই তা বলে না), অধর্ম (যে কোন অন্যায় কাজ, যেহেতু কোন ধর্মই ন্যায়ের বাইরে যেতে বলে না) থেকে বিরত থাকাকেও বুঝি।কী আজিব বাঙ্গালী জাতি! যার ধর্ম-কর্মও ভয়ানকভাবে সিজনাল!

এতদিনে একটা জিনিসই বুঝেছি- অধর্মটাই হলো বাঙ্গালীর ধর্ম, যা কোন সিজ়ন মেনে চলে না, সারা বছরই চলে স্থান-কাল-পাত্র নির্বিশেষে।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই ডিসেম্বর, ২০১১ বিকাল ৪:২৬
১০টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইরান যুদ্ধ: স্বাধীনতা নাম দিয়ে শুরু, এখন লক্ষ্য ইরানকে প্রস্তরযুগে নিয়ে যাওয়া

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৪ ঠা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৮:২৩


আমার আট বছরের ছেলে ফোনে ফেসবুক পাতার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল, "বাবা, এটা কিসের ছবি"? আমি তার মনোযোগ অন্যদিকে সরানোর বৃথা চেষ্টা করে অবশেষে বললাম, এটা আমেরিকা- ইসরায়েলের ইরানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ১৮৭

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৪ ঠা এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ২:৫০



গতকাল হঠাত খুব গরম পড়লো।
ঢাকার মানুষ ঘেমে অস্থির। আমি নিজে অনুভব করলাম, চামড়া যেন পুড়ে যাচ্ছে। সকাল গেলো, দুপুর গিয়ে সন্ধ্যা এলো কিন্তু গরম কমে না।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপি কেন “গুম সংক্রান্ত অধ্যাদেশ” বাতিল করতে চায় ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৪ ঠা এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৮


"গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশ বাতিলের বিরোধিতা করলাম। এই অধ্যাদেশ বাতিলের সিদ্ধান্ত আমাদের এমন ধারণা দেয় যে বিএনপি গুমের মতো নিকৃষ্ট অপরাধের বিলোপ করতে উৎসাহী নয়। তারা কেন এটা বাতিল করতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিখোঁজ সংবাদ

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৪ ঠা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১১:৫২



কাজকর্ম, রোজা, ঈদ, ছুটি, গ্রামের বাড়ি - সকল কিছুর পরেও আমি মাঝে মাঝেই ব্লগ পড়ি, পড়ার মতো যা লেখা ব্লগে প্রকাশিত হচ্ছে কম বেশি পড়ি। এখন তেমন হয়তো আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

রোগাক্রান্ত সাস্থ্য ব্যাবস্থাপনা

লিখেছেন মোঃ খালিদ সাইফুল্লাহ্‌, ০৫ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১২:১৪

বাংলাদেশে স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ কম—এটা সত্য, কিন্তু শুধু বাজেট বাড়ালেই সমস্যা পুরোপুরি সমাধান হবে না। বরং ব্যবস্থাপনা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা—এই তিনটি জায়গায় শক্তিশালী সংস্কার সবচেয়ে বেশি কার্যকর হতে পারে। নিচে বাস্তবভিত্তিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×