ছোটবেলা থেকেই আমার (অন্য অনেকের মতোই
ডায়রী আমার বন্ধু হল সেই তখন থেকে, সেজন্যেই হয়ত স্কুল-কলেজে এমন কি বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষ পর্যন্ত আমার তেমন বন্ধু ছিল না। কলেজের সেই ভয়ংকর একা ( বাবা-মায়ের কাছ থেকে দূরে প্রাইভেট হোস্টেলে থাকতাম) সময়গুলোতে ডায়রী ছিল আমার অনেক বড় এক আশ্রয়। ডায়রীর সাথে সব ভাগ করতাম বলেই হয়তো বন্ধুদের সাথে সময় কাটানোর জন্য কোন তাগিদ অনুভব করতাম না। ধীরে ধীরে আমার জীবনে সত্যিকারের (রক্ত-মাংসের) বন্ধুদের অনুপ্রবেশ ঘটতে লাগল
ছোট বেলায় একটা ডায়রী পাওয়ার জন্য উন্মুখ হয়ে থাকতাম, নানা প্রতিযোগিতায় ডায়রী পুরস্কার পেতাম, খুব সুন্দর না হলেও কাজ চলে যেত। সুন্দর হস্তাক্ষরে সেগুলোর পাতাগুলো ভরে উঠত। আর এখন নানা জায়গা থেকে কত্ব সুন্দর সব ডায়রী পাই, লিখব ভেবে রেখে দেই, লেখা আর হয়ে উঠে না, শুধু ডায়রীর পর ডায়রী জমে পাহাড় হয়ে উঠে। প্রত্যেক বছর শেষে যখন হিসেব মেলাতে বসি, কী করলাম সারাটা বছর- বার বার আফসোস হয় কেন দিনগুলোর যথাযথ ব্যবহার করি নি, কেন সময় নষ্ট করে জীবনের আর একটি বছরের অপচয় করলাম- মনে হয় রোজনামচা লেখার কথা। বছর শেষে হিসেব না করে যদি প্রতি দিনের শেষে জমা-খরচের কথা ভাবতাম ডায়রীর পাতায়- তাহলে হয়তো সময়গুলোকে ধরে রাখা যেত একটুসখানি করে হলেও। অনুতপ্ত এবং একই সঙ্গে উদ্দীপ্ত হয়ে নতুন বছরের নামাংকিত ডায়রীর পাতায় লিখি বছরের প্রথম কিছু দিন, তার পর যে কে সেই। ফেব্রুয়ারীর পর আর তা এগোয় না।
নতুন বন্ধু পাওয়াই শুধু দায়ী নয় ডায়রী না লেখার পেছনে, সবচেয়ে বড় কারণ হলো ব্যস্ততা (স্থাপত্য বিভাগে পড়ার কারণে অমানবিক পরিশ্রম), ক্লাশ চলাকালীন সময়গুলোতে দুনিয়ায় যে স্থাপত্য বিভাগ ছাড়া আর কোন জায়গা আছে তা ভাবার অবকাশ ছিল না (মাই বাবা-মা- ভাই-বোনই ভুলে থাকতাম) আর পি এল এর সময় তো সীমাহীন মাস্তি
কিছুদিন আগে পা কেটে শয্যাশায়ী হয়ে অনেক দিন পর ফিরে পেলাম নিজেকে, ডায়রীর কাছ থেকে যত দূরে যাচ্ছিলাম তত যেন নিজের সাথেই দূরত্ব বাড়ছিল। মনে হল, net freak হয়ে যেহেতু laptop দূরে থাকতে পারছি না- তাহলে কেন না আমি ভার্চুয়ালীএই ডায়রী লেখাটা চালাই (রথ দেখা আর কলা বেচা দুটোই হবে), সে চিন্তা থেকেই ব্লগীং করা (লেখা পড়েই নিশ্চয় পাঠক বুঝতে পারছেন- এ কোন আনাড়ী লেখকের ডায়রীর পাতা ছাড়া আর কিছু হতে পারে না, টানাটানি করে লম্বা করা এক বিশাল বক-বকানি ছাড়া তো এ আর কিছুই নয়
কিন্তু তারপরেও 'নাই মামার চেয়ে কানা মামা ভালো' এই কনসেপ্ট এ ব্লগিং করে যাই, নিজের মনের ইতস্তত বিক্ষিপ্ত উলটা পালটা চিন্তা ভাবনাকে অগোছালো ভাবেই ছুঁড়ে দেই এই জালে। কেউ পড়ুক বা না পড়ুক, কারো ভালো লাগুক বা না লাগুক আমি লিখে যাই নিজের মতো করে নিজেকে ফিরে পাওয়ার জন্য (ডায়রীর মতো একনিষ্ঠ শ্রোতা তো কখনো পাওয়া যায় না, মনকে এমন করে উন্মুক্তও করা যায় না আর কারো কাছে), আমার সবচেয়ে প্রিয় আর ভাল বন্ধুকে ফিরে পাওয়ার আশায়।
(ব্লগে আমার একদম প্রথম দিককার লেখা এটা, তেমন কেউই পড়ে নি বলা যায়। তাই এক ব্লগার বন্ধুর পরামর্শে আবারো পোস্ট করলাম। যারা আগেই পড়েছেন তাদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।)
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই নভেম্বর, ২০১১ দুপুর ১২:৪৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




