এই লন প্রথম পর্ব
বিয়ার গেইটে গেলাম, গেইট ধরা হইছে । লগের বন্ধু কয় তোর পাগড়ি কই ?? কাম সারাইসে !! পাগড়ি তো কিনা হয় নাই!! আমি কইলাম এইটাই ফ্যাশান , আর পেচগি লাগাইস না
গেইটের পোলাপাইন কয় ৫০০০০ টাকা । আমি লগে লগে পিছন দিকে রওনাদিলাম, এই প্রথম জীবনে পিছু হটলাম। সবাই কয় আয় হায় , পোলা যায় কই ?দোস্ত সুমন কয় , টেকা জমাইতে যাইতেছে , এই টেকা জমাইয়া পরে আইসসা ফিতা কাটব
এও টা হইল খেলা, সবাই বিয়ার দিন জোর কইরা ফিতা কাটে , আর আমরা টেকা জমাইতে পিছনে গেলাম গিয়া ।ময় মুরুব্বিরা আমারে তোয়াজ কইরা ধইরা আনলো , কই কিছু দিয়া ভিতরে ঢুকো । আরেক দোস্ত আট আনা, এক টাকার কয়েন মিলাইয়া টোটাল ২০০০ টেকা বাইর কইরা দিলো ।
আর মুখে কইলো , যদি এর বেশী টেকা আমাগো কাছে খুইজা পান , তাইলে আপ্নাগো জুতা , আমার গাল
যাই হোক , সিনেমা মঞ্চে উইঠা বইলাম, জীবনে এই ফার্ষ্ট। নার্ভাস হইয়া গেলাম।(খালি কান্নি দিয়া চাইয়া দেহি , ০১নং মন উদাস করে অন্য দিকে তাকাইয়া আছে )সবাই আমারে দোয়া দিতে আসে , আর আইসসাই কয় , মাথার পাগড়ি কই ?? এত পাগড়ি পাগড়ি শুইন্না , পাশের থেকে কে জানি , তার বহুল ব্যবহারকৃত রুমাল খানা আমার মাথায় বাইন্ধা দিলো (টুপি একখান ছিলো পিছনের পকেটে , কিন্তু সাইযে ছোট্ট) ।আমার মনে হয় ,রুমাল মাথায় দেওয়া বর-- এই প্রথা আমার থেকেই শুরু হইছে । ফটকা বান্ধবী গুলা আইসা খালি পাস থেকে গুতা দেয় । একজন কয়,'' বিপ্লব ভাই , আপ্নারে জোশ লাগতেছে "। আমি আর পারলাম না কইলাম,আমার বউ র লগে যায়গা চেঞ্জ কইরা বস, তোমারেই বিয়া করমু
কাজী আইলো , কয় সাক্ষর দেন । এই সময় টেনশন হইলো ভীষণ। স্বাক্ষীর যায়গায় স্বাক্ষর দিতে গেলাম, সবাই হায় হায় কইরা উঠলো ।দোস্ত পুলক সবাইরে কয় , কেউ টেনশন নিয়েন না , জীবনে অর প্রথম বিয়া তো, তাই টেনশন হইতেছে , অভ্যাস হইয়া গেলে সব ঠিক হইয়া যাইবো
দোয়া দরুদ পড়া শেষ , শুরু হইলো , জয়েন্ট ফটো সেশন । বউ আমার পাসে , হাসি হাসি মুখ । আমার ও হাসি হাসি মুখ । কিন্তু ভিতরে কাহিনী অন্য । বউ দাতের ফাঁক দিয়া কয় , কোন বেকুব রে বিয়া করলাম , বিয়ার দিন পাগড়ি নাই ! আমি ও হাসি মুখে সবার দিকে হায় হেলো করতে করতে চিকন, শয়তানি স্বরে কইলাম , এক টুপি ভুইল্লা গেছি , মাগার অন্য টুপি আনছি
খাওন-দাওন শেষ। বাসর রাইত হইবো । গিয়া দেখি সেইখানে ও মহা প্যাচাল । কত ফটো সেশন, আর কত নিয়ম কানুন ।দোস্তরা সব চইল্লা গেছে , মাগার আমি তো টেনশনে । এর আগে ও টেনশন হইছে , খালি পায়ে বাসর ঘরে ঢুকছি , বিয়ার আসর থেকে জুতা চোরে লইয়া গেছে ।বেইজ্জুতির এক শেষ
বাকী কাহিনী খুব একটা মনে নাই , আর তাছাড়া এখন চা খামু , সামুতে এতো সময় দিয়া লাভ আছে নাকি কোনো
ভালো কথা , এই লন ফুটূ, ১৯৯৬, ০২রা জুন
.
.
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৪ বিকাল ৫:৫২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


