somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জিয়াউর রহমান; এক মহানায়ক......

১৫ ই আগস্ট, ২০১১ রাত ৯:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

শহিদ পেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নামে ইদানিং কিছু বাজে ধারনা তৈরি হচ্ছে তরুন সমাজের মধ্য। এটা স্রেফ সঠিকভাবে ইতিহাস না জানার ফল । জিয়ার ব্যক্তিত্ব, কর্মস্পৃহা এবং আপোষহীন মনোভাব আজও বিশ্ববাসীর কাছে এক উজ্ঝল দৃষ্টান্ত হয়ে আছে। আমি এই পোস্টে সরাসরি ওনাকে নিয়ে যেসব সমালোচনা হয় তার জবাব দেয়ার চেষ্টা করব।তার আগে শুধু একটা কথা বলে নিই জিয়ার বিচক্ষনতা ও সময়ানুযায়ী পদক্ষেপগুলি আজও তাকে জনগনের মাঝে বাঁচিয়ে রেখেছে। পৃথিবীতে একমাত্র জিয়া ই সামরিক বাহিনী থেকে এসেও এতটা জনপ্রিয় শাসকে পরিনত হয়েছিলেন।
তার ভাল দিক নিয়ে বা তার গুনকীর্তন করে এ পোষ্ট লিখব না। এটা স্রেফ তার সম্পর্কে যে সব ভুল ধারনা আছে তা স্পষ্ট করব। আপনারা শুধু ওনার শাসনামল এবং আবির্ভাবের সময়কালের পরিস্থিতি সম্পর্কে একটু গভীরভাবে অনুধাবন করার চেষ্টা না করলে উনি কোন পরিস্থিতে কি করতে চেয়েছেন তা আমার দ্বারা বোঝানো কঠিন হবে।
অভিযোগসমূহঃ
১। জিয়া হত্যাকারী , প্রচুর সৈনিক এবং বিনা বিচারে হত্যার জন্য সে দায়ী।
বিশ্লেষনঃ এই অভিযোগটি ঢালাও ভাবে তার বিরুদ্ধে করা হয় । মুলত সেনাবাহীনির সাথে যারা সম্পৃক্ত তারা হযত কিছুটা জানেন যে জিয়া এখন পর্যন্ত সেনাবাহিনীর মধ্যে এক কিংবদন্তির নাম। এবং তার জনপ্রিয়তাও আকাশচুম্বি। সাত নভেম্বর ভোরে যখন জিয়াকে সৈনিকরা মুক্ত করে আনে তখন তাহের সাহেব তাকে নিজের স্বার্থে ব্যবহার করতে চেয়েছিলেন। জিয়া ভোর ৫ টায় নিজে ই অধিনায়কের চেয়ারে বসেন। ওদিকে তাহেরের নেতৃত্বে তখনও বিদ্রোহ চলছিল। তাহের সৈনিকদের উত্তেজিত করে তুলেছিলেন। এবং সেনাবাহীনির মধ্যে একমাত্র জিয়াই ছিল যিনি প্রচন্ড সৈনিক বান্ধব বলে পরিচিত ছিলেন। তাই তাহের জিয়ার নাম ব্যবহার করার কোন বিকল্প খুঁজে পাননি।জিয়া দেখলেন সৈনিকরা স্লোগান দিচ্ছে সৈনিক সৈনিক ভাই ভাই অফিসারদের রক্ত চাই। আবার জিয়া জিন্দাবাদ, বাংলাদেশ জিন্দাবাদ ইত্যাদি। সকাল ৬ টায় জিয়া খবর পান যে খালেদ মোশাররফ তাহেরের সৈন্যদের দ্বারা বন্দী অবস্থায় আছেন বর্তমান আসাদ গেটের নিকটে । এ অবস্থা"য় জিয়া তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য হুকুম করেন। কিন্তু কিছুক্ষন পরেই খবর পান যে সেনাপ্রধান খালেদ মোশাররফকে সৈন্যরা গুলি করে মেরে ফেলেছে। এদিকে জিয়া যে ভবনে তখন অবস্থান করছিলেন তার ঠিক পাশের বিল্ডিং এর নীরিহ কিছু অফিসারকে বিনা বিচারে হত্যা করে। প্রত্যেক সৈনিকের হাতে অস্র থাকায় অরাজকতা চরম পর্যায়ে পৌছে। জিয়াকে মুক্ত করার আগেই প্রায় ২০০ অফিসার কে বিপ্লবের নাম করে হত্যা করে তাহের। আর ৭ নভেম্বরেও এই অরাজকতা চালাতে থাকলে জিয়া তা কোনভাবেই সমর্থন করেন নি। সকাল ৮ টায় তাহের নিজে একটি কাগজ হাতে নিয়ে জিযার সাথে দেখা করতে আসে। তখনই সৈন্যদের আত্মসমর্পন করতে বললে জিয়ার সাথে তার কিছুটা তর্ক হয় ।তিনি জিয়াকে ক্ষমতা নিয়ে নিতে বলেন এবং এদেশকে একটি সমাজতান্ত্রিক দেশ হিসেবে ঘোষনা করে বেতারে গিয়ে ভাষন রেকর্ড করতে বলেন। তাহের সৈনিকদের দাবীদাওয়া সম্বলিত একটি কাগজ জিয়ার হাতে তুলে দেন। জিয়া শুধু এ দাবীগুলো বিবেচনা করবেন বলে আশ্বাস দেন। কিন্তু তিনি সমাজতন্ত্র তিনি মেনে নেননি। কারন তাহের ক্ষমতা পাওয়ার পূর্বেই এ হত্যাযজ্ঞ করে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন যে তারা ক্ষমতায় গেলে কি করতে পারেন। যাই হোক, ৭ ও ৮ নভেম্বর ও হত্যাযজ্ঞ অব্যহত থাকায় জিয়া কঠোর হতে বাধ্য হন। তিনি সেনাবাহিনীর মধ্যে চেইন অব কমান্ড ফিরিয়ে আনার উদ্দেশ্যে ঘোষনা দেন যে যারা অস্র সমর্পন করবে না তাদের বিচার করা হবে । এ ঘোষনার পরেও সম্পুর্ন ব্যক্তিগত আক্রোশে তাহের বাহিনী এক ডাক্তার অফিসার ও তার স্বামীকে হত্যা করে । তখন জিয়া বাধ্য হন তাদের মধ্য থেকে প্রায় ৩০০ জনকে গ্রেফতার করে সামরিক আদালতে সোপর্দ করতে। জিয়ার পুরো শাসনামলে বিনা বিচারে কাউকে মেরে ফেলা হয়নি।
আজ আর নয় আমি একে একে তার বিরুদ্ধে যত অভিযোগ করা হয় তার জবাব দেয়ার চেষ্টা করব।
৩৪টি মন্তব্য ২৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রাসূলের (সা.) অনুসারি হবেন শুধুমাত্র সাহাবা (রা.), অন্যরা এবং ওলামা ওলামার অনুসারি হবেন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:৪০




সূরাঃ ৩৫ ফাতির, ২৮ নং আয়াতের অনুবাদ-
২৮। এভাবে রং বেরং- এর মানুষ, জন্তু ও আন’আম রয়েছে। নিশ্চয়ই আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে (ওলামা) আলেমরাই তাঁকে ভয় করে।নিশ্চয়্ই আল্লাহ পরাক্রমশালী ক্ষমাশীল।

সূরা:... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

লিখেছেন নতুন নকিব, ১১ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০৩

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

মানুষের জীবন মূলত অসংখ্য ছোট-বড় সিদ্ধান্তের সমষ্টি। প্রতিটি বাঁকে, প্রতিটি মোড়ে আমাদের কোনো না কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×